Golpo romantic golpo কিস অফ বিট্রেয়াল

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৯


কিস অফ বিট্রেয়াল

পর্ব_০৯

লামিয়ারহমানমেঘলা

[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]

“আমিই কেন? কেন আমি?”

কায়ান, সেরিনের কপালে লেপ্টে থাকা চুল গুলো সরিয়ে দেয়৷

“কারণ আমার দৃষ্টি যাকে দেখে আঁটকে গেছে সেই আলোক প্রতিফলনই তুমি।”

সেরিন ফুঁপিয়ে ওঠে। কায়ান, সেরিনের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। সেরিন নিজেকে সরিয়ে আনতে নিলে কায়ান ওর কনুই ধরে বসে শক্ত করে,

“সেরিন, আমি যথেষ্ট ধৈর্য ধরেছি। আর এমন কিছু করোনা যাতে আমার চড়াও হওয়া লাগে।”

সেরিন শান্ত হয়ে যায়। কায়ান তাকে ছাড়ার কেন মনমানসিকতা রাখছে না।
সেরিন হাজার চাইলেও কায়ানকে এখন অন্তত থামাতে পারবে না।
কায়ান কিছুক্ষণ সেরিনের মাথাটা বুকে নিয়ে বসে রয়।
রাতের আকাশটা শূণ্য ঠিক কায়ানের মত।
আধারে ঘেরা এই আকাশে কোন চাঁদ নেই। কায়ানের বুকে সেরিনের মাথা থাকলেও সে জানে তার বুকটা তখনো খালি। আ
কারণ এই মাথাটা সে জোরপূর্বক ঠেকিয়ে রেখেছে।
যে দিন এই বুকে এই মাথাটা নিজ ইচ্ছেতে ঠেকবে সে দিন হবে পূর্ণ পূর্ণিমার রাত।
সেদিন চাঁদটা আকাশে গোল আর উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। তার সাদা নরম আলো ধীরে ধীরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে। চারপাশের অন্ধকারটা মুছে গিয়ে পৃথিবীটা হালকা রুপালি আলোয় ভরে উঠবে।
গাছের পাতা, ঘরের ছাদ, ফাঁকা মাঠ,সবকিছুর উপর চাঁদের আলো নরম করে লেগে থাকবে। নদী বা পুকুরের পানিতে সেই আলো পড়ে পানি চিকচিক করে উঠবে। দূর থেকে মনে হবে, জলের বুকে যেন ঝিকিমিকি করা রুপার দানা ছড়িয়ে আছে।
চারদিক শান্ত থাকবে, বাতাস ধীর হয়ে বইবে। পুরো রাতটা কেমন স্বপ্নের মতো সুন্দর আর নীরব হয়ে থাকবে।
কায়ান এসব ভাবতে ভাবতে অনুভব করে বুকের উপর শুয়ে থাকা ছোট্ট পাখিটা ঘুমিয়ে গিয়েছে।
কায়ান ফিরে চায়৷
সেরিনের মাথাটা পড়ে যেতে নিলে কায়ান শক্ত করে ধরে।
সেরিনকে ধিরে বালিশে শুইয়ে দেয়।
কায়ানের চোখ দু’টো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। চোখের কার্ণিশে পানি চিকচিক করছে।
বুকেও ব্যাথা হচ্ছে।
কায়ান, সেরিনের কপালে চুমু খায়।
এরপর বেরিয়ে যায় রুম থেকে।
কায়ান, সেরিনের রুমের দরজা ঠিকঠাক করে বন্ধ করে নিজের রুমের দিকে যেতে নিলে বানু মির্জাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেন।
কায়ান থেমে যায়৷

“কায়ান, একটু রুমে আয় বাবা৷”

“আসছি আম্মা।”


বানু মির্জা চেয়ারে বসে তাসবী পড়ছেন। কায়ান মায়ের পায়ের কাছে বসে আছে।
বানু মির্জা, ছেলের কোঁকড়া চুলে হাত দিলেন।
কায়ান, মাথা তুলে চায় মায়ের দিকে।
বানু মির্জার চোখেও পানি৷
তিনি নিচু হয়ে ছেলের কপালে চুমু খেলেন। তারই সাথে তার চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল কায়ানের গালে। কায়ান, মায়ের চোখের পানি মুছিয়ে দিলো,

“আম্মা কেন কাঁদছো? “

বানু মির্জা, ছেলের মুখশ্রী আলতো হাতে জাপটে ধরে বলতে লাগলেন,

“আমি মা হিসাবে ব্যার্থ যে। তাই কাঁদছি। তুই এই পরিবারের জন্য নিজেকে বলি দিয়ে দিলি কায়ান। সেখানে মা হিসাবে আমি তোর জন্য কিছু করতে পারিনি। সামান্য সেই নারীকে তোর জীবনে এনে দিতে পারিনি যার জন্য তুই পাগল। কাঁদবো না কেন বলতে পারিস? তোর জীবনে কোন শুখ যে মা হিসাবে আমি দিতে পারলাম না আজও৷”

কায়ান, মায়ের হাত দু’টো ধরে সে হাতে চুমু খায়।

“তুমি কিছু করোনি আম্মা, আমি নিজের ভবিষ্যৎ সে দিন নিজে বেছে নিয়েছিলাম। এবং আল্লাহ আমাকে এখন সেই উপযোগী করে তুলেছে নিজের ভবিষ্যৎ আবার শুধরে নেওয়ার। আম্মা কষ্ট নয় আমার জন্য দোয়া করুন। ইনশাআল্লাহ জীবনের সব থেকে নতুন শুরুটা আমি এবার করব৷”

বানু মির্জা ছেলের কপালে চুমু খায়৷

“আমিও তাই চাই বাপ। আমি মনে প্রাণে দোয়া করি তোর জন্য। কিন্তু কায়ান একটা মনে রাখিড বাবা, জবরদস্তি করে মানুষ আঁটকে রাখা যায় না। ভালোবাসায় আঁটকে রাখা গেলেও জোড়াজুড়ি করে হয়না৷”

কায়ান, মায়ের কোলে মাথা রাখে।
বানু মির্জা, কায়ানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকেন।
কায়ান কিছুক্ষণ সেভাবে থেকে নিজের রুমে চলে যায়।
রাত গভীর হওয়ায় বানু মির্জাও ঘুমিয়ে পড়েন।
রুমে গিয়ে কায়ান ফ্রেশ হয়ে বিছনায় শুয়ে পড়ে। সিলিং এর দিকে তাকিয়ে হটাৎ করেই বাঁকা হাসে,

“ভুল বললেন, আম্মা।
আমি ভালোবাসি না, আমি নিজের করে নেই।
আমার ভালোবাসা নরম কিছু না,
এটা একবার নাম লিখলে আর মুছে না।
যাকে চাই, তাকে পৃথিবী থেকেও ছিনিয়ে আনার ক্ষমতা রাখি।
সে আমার।
আইনের কাগজে না থাকলেও,
তার ভাগ্যে আমার সিল মারা আছে।
স্বাধীন?
সে যতই উড়ুক, আকাশটা আমার নিয়ন্ত্রণে।
বন্দি হোক বা মুক্ত,
শেষে সে আমার কাছেই ফিরে আসবে।
কারণ আমি ভাগাভাগি করতে জানি না।
সেরিন আমার।
না হলে,কারোরও না। “


সকালে বাতাসটা হালকা, ঠান্ডা আর স্নিগ্ধ। সূর্য ধীরে ধীরে আকাশে উঠছে, তার কিরণগুলো মাটির উপর নরম আলো ফেলে দিচ্ছে। গাছের পাতা, ঘাস আর ফুলগুলো যেন জলের ফোঁটার মতো ঝিকমিক করছে।
পাখিরা গান গাইছে আর চারপাশে একটা শান্তি আর সতেজতা ছড়িয়ে আছে। মনে হয়, নতুন দিনের শুরু সবকিছুকে নতুন করে জীবিত করে তুলছে।

উত্তর দিকের জানালার পর্দাটা সরানো ছিলো।
বেলকনিতে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অনেকটা রোদ থাকে। উত্তর দিকের এই জানালাটা বন্ধ না করলে আলো প্রবেশ করে রুম আলোকিত করে দেয়। সকাল সকাল ঘুম হয়না।
সেরিন কাল ভুলে গেছে পর্দা দিতে। নতুবা সে জানতই না পর্দাটা দিয়ে দিতে হয়।
চোখের উপর সোনালী রোদের মিটমিট আলো এসে পড়তে সেরিন নড়েচড়ে ওঠে।
একটু আড়মোড় ভেঙে ঘুম থেকে উঠে।
বেড সাইড টেবিলে নিজের ফোনটা সার্চ করে।
হটাৎ মনে পরে তার ফোনটাত ভেঙে ফেলেছে লোকটা।
সেরিন উঠে বসে।
পাশ থেকে শীতের চাঁদর গায়ে জড়িয়ে নেয়।
তার এখানে একটুও ভালো লাগছে না। তাকে বাড়িতে যেতে হবে। সকাল সকাল ফোন ভাঙার দুঃখটা মনে পড়তে বড্ড বেশি কষ্ট হচ্ছে।
সেরিন নিজের সোজাসুজি দেয়ালে তাকায়। বেশ বড় একটা ঘড়ি টানানো সেখানে।
ঘড়ির কাটায় সকাল ৮ টা বাজে।
হয়তবা কেউ উঠেনি এখনো।
সকাল সকাল সবাই নামাজ পড়ে আবার ঘুমায়। সেরিন যে বার এসেছিলো এটাই দেখেছিলো।
তবে সেরিনের ঘুম ভেঙেছে এই ঘুম আর আসবে না।
সেরিন উঠে ওয়াসরুমে চলে যায়।
ওয়াসরুমের আয়নার সামনে নিজেকে দেখে সেরিন। ঠোঁটের কোণা কেটে গিয়েছে।
সেখানে স্পর্শ করতে কালকে রাতে করা কায়ানের কান্ড মনে পড়ে গেলো তার।
সেরিনের দু চোখে পানি চলে আসে।
সে মাথা নামিয়ে কাঁদতে শুরু করে। ওর চোখের পানি বেসিনের উপর টুপটাপ পড়ছে।

“কেন খোদা? আমিই কেন? কেন আমাকেই এসব সইতে হচ্ছে? ঘৃণা করি সিকদার কায়ান মাহাবুব। ঘৃণা করি আপনাকে।”

সকাল সকাল সেরিনের ইমোশনাল দিকটা একটু বেশিই জাগ্রত হয়েছে।
কোথাও না কোথাও সেরিনও বুঝতে পারছে বিষয়টা। তাই সে ফ্রেশ হয়ে ঠিক করে পেছনের বাগানটায় হাঁটতে যাবে।
কুয়াশার চাদর ভেদ করে সূর্যের আলো পৌঁছে গেছে ধরনী জুড়ে।
এমন মিষ্টি মিষ্টি শীতের সকালে বাগানটায় হাঁটতে বেশ ভালোই লাগবে।
যা ভাবা তাই কাজ।
সেরিন চুল বেঁধে ওড়না পেঁচিয়ে, তার উপর চাদর পেচিয়ে নেয়।
এরপর বেরিয়ে যায় রুম থেকে।
নিচে সব সার্ভেন্ট তাদের সকালের কাজে লেগে গেছে।
সেরিনকে নামতে দেখে একজন সার্ভেন্ট এগিয়ে আসে,

“গুড মর্নিং ম্যাম আপনি চা বা কফি খাবেন?’

সেরিন খুশি হয়ে যায়।

” হুম এক কাপ চা দিবেন!”

“আচ্ছা।”

সার্ভেন্ট গিয়ে সেরিনের জন্য চা বানিয়ে নিয়ে আসে।
সেরিন চা নিয়ে হাঁটতে শুরু করে।
শীতের সকালে এক কাপ চায়ের সাথে বাগানে ঘুরতে তার বেশ মজাই লাগছে। চারিদিকে সবুজের সমাহার।
সেরিন আবহাওয়া এবং সময় দু’টোই উপভোগ করে।
প্রকৃতির উপর তার আলাদা করেই প্রেম আছে। প্রকৃতি তার মনকে ভালো করে দেয় এক নিমিষেই।
সেরিন হাঁটতে হাঁটতে একটা গাছের নিচে বসে।
গত কিছু দিন কি হচ্ছে তার সাথে সব ভাবতে কেমন গা শিউরে উঠছে।
কি করবে সে? আপুকে বলবে আগে? তার জন্য শক্ত প্রমাণ লাগবে। প্রমাণ কিভাবে পাবে সে।
কায়ান অবশ্যই সবার সামনে একটা স্বীকার করবে না। এসব ভাবতে ভাবতে সেরিনের মাথাটা আবার খারাপ হতে শুরু করে। সেরিন হাতের কাপটা পাশে রেখে মাথায় হাত দেয়।

“ধুরউ যা হবার হবে এত চিন্তা নাই। বাড়িতে যাব আজই। এখন রওনা করলে দ্রুতই পৌঁছে যাব। এখানে যত থাকব তত মাথা খারাপ হবে। আর ভালো লাগে না৷”

সেরিন বকবক করতে করতে অনুভব করে কেউ তার পাশে এসে বসেছে। সেরিন ফিরে তাকায়।
সেরিন বিরক্তিতে চোখ ঘোরায়,

“আমাকে একটু শান্তি দেওয়া যায়?”

“অশান্তি দেওয়ার জন্য রাত পড়ে আছে। বাই দ্যা ওয়ে অশান্তি না, এটাকে বলে ভালোবাসা। “

সেরিন, দাঁত কিটমিট করে তাকায়।

“আপনাকে আমি কবে মেরে ফেলব সিকদার কায়ান মাহাবুব।”

“আমি মরলে বিধবা তুমি হবে।”

সেরিন উঠে দাঁড়ায়,

“বিধবা হবে আপনার বউ আমি না৷”

কায়ানও উঠে দাঁড়ায়,

“ফিউচার বউত তুমিই।”

সেরিনের চোখ ছলছল হয়ে ওঠে। সে কাঁদো কন্ঠে প্রশ্ন করে,

“আপনি কি খেলা খেলছেন কায়ান ভাই?”

কায়ান এগিয়ে গিয়ে সেরিনের গাল ধরে আলতো করে,

“তুমি জানোও না তোমার উপস্থিত থাকা প্রতিটা মুহুর্ত আমার কাছে কতটা মূল্যবান। যদি জানতে তাহলে এত অবহেলা করতে না । আমি কেন খেলা খেলছি না। আমি শুধু আমার প্রাপ্য টুকুন চাই।”

“আপনার প্রাপ্য অন্য জনের কাছেও সঠিক হওয়া চাই।”

কায়ান বাঁকা হেঁসে সেরিনের দিকে ঝুঁকে যায় কিছুটা।
সেরিনের কপালে টোকা দেয়,

“অন্য কারোর টা জানিনা সেরিন, আমার যেটা চাই সেটা চাই, বাই হুক ওর বাই ক্রুক।”

“আপনি কি আমাকে নিয়ে খেলতে চাইছেন? “

“আমি পৃথিবীর কোনো মানুষের অধিকার দিই না আমার সেরিনকে নিয়ে খেলার।
যে কেউ অসাধু উপায়ে তাকে কাছে আসার চেষ্টা করবে,
আমি সেই পথটাই মুছে দেব, মুছে দেব নাম, ঠিকানা, সবকিছু।
আমার সেরিন শুধু আমার,
আর যাকে আমি চাই, তাকে কেউ ছোঁওয়ার সাহসও পাবে না।
শেষে, সে আমার হবে, ভয়, শৃঙ্খল, আর আমার অন্ধকারের মধ্যে।”

কথাটা বলে কায়ান, সেরিনের কপালে ওষ্ঠ ছোঁয়ায়। সেরিন ছুটে আসতে চাইলে সেরিনকে চেপে ধরল কায়ান।

“ডোন্ট সেরিন, ডোন্ট ইউ ডেয়ার টু এভোএট মাই টাচ। যতটা কষ্ট তুমি এখন আমাকে দিবে বিয়ের পর তুমি ততটা ফেরত পাবে।”

চলবে?

[ কায়ান সেরিন ময় একটা পর্ব, ব্যক্তিগত ইচ্ছে ছিলো আমার। ধিরে ধিরে সব রহস্য সামনে আসবে। তার আগে একটু খানি কায়ান সেরিন। সবাই রেসপন্স করো। আমার আর সহ্য হচ্ছে না তোমাদের রেসপন্স দেখে ]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply