Golpo romantic golpo কিস অফ বিট্রেয়াল

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৮


কিস অফ বিট্রেয়াল

পর্ব_০৮

লামিয়ারহমানমেঘলা

[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
রাতের চট্টগ্রাম মুগ্ধ করেছে সেরিনকে।
আর সেরিনের মুগ্ধ নয়ন, মুগ্ধ করেছে কায়ানকে।
সিকদার নিবাসে পৌঁছানোর পর সেরিন খুশি মনে বেরিয়ে হেঁটে আসে ভেতরে।
কায়ান গাড়ি পার্ক করে সেরিনের পেছন পেছন প্রবেশ করে ভেতরে।
মাহমুদ এবং মেহেরীণ লিভিং রুমে বসে ছিলো।
সেরিনকে একা আসতে দেখে মাহমুদ খুশি হয়ে যায়। সে চাইছিলোই সেরিনকে একা।
সেরিন ভেতরে প্রবেশ করতে মাহমুদ সেরিনকে আওয়াজ দেয়,

“সেরিন।”

থেমে যায় সেরিন। ফিরে চায় মাহমুদের দিকে। মনের ভেতর উল্লাসের ঝড়টা কমে আসে সেরিনের।
মাহমুদ উঠে দাঁড়ায় সেরিনের দিকে এগিয়ে যায়৷

“সেরিন আমার তোমার সাথে কিছু কথা আছে।”

সেরিন মিষ্টি হেসে উত্তর দেয়,

“জি বলুন৷”

“সেরিন, তুমি….”

মাহমুদ পুরো কথা শেষ করতেই পারেনা। তার আগেই ওদের দু’জনের মাঝে কায়ান প্রবেশ করে।
মাহমুদ কায়ানকে দেখে খানিকটা ঘাবড়ে যায়। কায়ান, সেরিনকে আড়াল করে নিজের মাহমুদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে,

“আমারো আপনার সাথে কথা আছে সালা বাবু। চলুন ছাঁদে যাই৷”

মাহমুদ একবার সেরিনের দিকে তাকায়। সেরিন নিজেও বুঝতে পারছেনা এখানে কি হচ্ছে।
কায়ানের চোয়াল শক্ত হয়ে আসে। চোখো নেমেছে ভয়ঙ্কর রক্তিমভাব৷
মাহমুদ, কায়ানের এ রূপ দেখে একটা শুঁকনো ঢোক গিলে,

“হ হ্যাঁ। আমি যাচ্ছি আ তুমি আসো।”

মাহমুদ চলে যায় উপরের দিকে।
কায়ান গম্ভীর কন্ঠে সেরিনকে কমান্ড দেয়,

“সেরিন, গো টু ইয়োর রুম৷”

সেরিন, একটু ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
কায়ান ফিরে তাকায়। সেরিনকে নিজের অবস্থানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ধমক স্বরে বলে,

“আই সেইড গো টু ইয়োর রুম ড্যামেড।”

হটাৎ করেই কায়ানের বকুনি শুনে সেরিন কেঁপে ওঠে। কায়ানের চোখের দিকে তাকিয়ে সেরিনও ভয় পেয়ে যায়। তাই সে তড়িঘড়ি করে রুমে চলে যায়৷
মেহেরীণ পেছনে থেকে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। সে মাহমুদ কে বারণ করেছিলো। মাহমুদ বেশি বোঝে সব কিছুতে৷


আমাবস্যার রাত। আকাশে চাঁদ নেই, যেন কালো মখমলের চাদর টাঙানো। ছাদের চারপাশে নীরবতা ঘন হয়ে আছে। দূরের গাছগুলো শুধু ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে, তাদের পাতাও নড়ে না। মাঝে মাঝে হালকা ঠান্ডা হাওয়া এসে গাল ছুঁয়ে যায়, কিন্তু তাতেও অন্ধকার ভাঙে না।
ছাদের এক কোণে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে আকাশের অন্ধকারই প্রতিফলিত হচ্ছে। দূরে কোথাও কুকুরের ডাক শোনা যায়, আবার সব চুপ। পাশের বাড়ির জানালায় ক্ষীণ আলো জ্বলছে, যেন অন্ধকারের মাঝে ছোট্ট এক আশ্বাস।
উপরে অসংখ্য তারা, তবু আলো কম। মনে হয় রাতটা যেন নিজের সব কথা চেপে রেখে গভীর হয়ে বসে আছে। এই ছাদে দাঁড়ালে বুকের ভেতর অদ্ভুত এক শান্ত শূন্যতা নামে, ভয়ও আছে, আবার অকারণ এক টানও আছে এই নীরব, কালো রাতের।

কায়ান দু ঠোঁটের মাঝে সিগারেট দিয়ে লাইটার জ্বালে। মাহমুদ সে দৃশ্য দেখে চোখ সরিয়ে নেয়।
কায়ান পকেট থেকে সিগারেট নিয়ে মাহমুদ কে দেয়। মাহমুদ বিনা বাক্যে তার গ্রহণ করে।
কায়ান সিগারেটে টান দিতে দিতে বলে,

“কি বলতে চাইছিলে সরাসরি বলো।”

মাহমুদ আড় চোখে তাকায় কায়ানের দিকে। তবে ঠোঁটে শয়তানি হাসি,

“বলতে চাইছিলাম, সেরিনকে আমার ভীষণ পছন্দ হয়। জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিলাম তার জীবনে কেউ আছে নাকি। কিন্তু ভাই তুমি থামিয়ে দিলা।”

কায়ানের ভেতরে আগুন জ্বলে গেছে কিন্তু সে এমন ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে যেন তার কিছু আসে যায় না৷
কায়ানকে শান্ত থেকে মাহমুদ আরও বলতে শুরু করে,

“আমি সেরিনের বাবা মায়ের সাথে কথা বলতে চাই।”

“এরপর?”

“এরপর সেরিন রাজি হলে…”

পুরো কথাটা শেষ হবার আগে কায়ান গম্ভীর কন্ঠে ব্যাক্ত করে,

“মেরেই ফেলব রাজি হলে।”

মাহমুদ থেমে যায়। সে একবার ফিরে চায় কায়ানের দিকে। হাতের সিগারেট টা জ্বলতে জ্বলতে এখন শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে। ঠিক কায়ানের ধৈর্যের মত।
মাহমুদ পরিস্থিতি সামলাতে হেসে বলে,

“কাকে ভাই?”

“যাকে বিয়ে করতে চাইছিস তাকে। শোন মাহমুদ।”

কায়ান হাত রাখে মাহমুদের কাঁধে,

“সিকদার কায়ান মাহবুবের সাথে সরাসরি যুদ্ধের আহ্বান জানালে ফল ভালো হবেনা। কাল সকাল ৮ টার পর তোকে সিকদার নিবাসে আমি দেখতে চাইনা।”

কায়ান কথা গুলো বলতে বলতে পেছন থেকে আহি ওদের আওয়াজ দেয়৷

“ভাইয়া, মাহমুদ ভাই আপনারা আসুন না। আমরা ট্রুথ ডেয়ার খেলছি।”

মাহমুদ, আহির ডাক শুনে হাফ ছেড়ে বাঁচে। সে কায়ানের কবল থেকে বাঁচতে বলে,

“আসছি আহি। ধন্যবাদ তোমাকে।”

মাহমুদ চলে গেলো ছাদ থেকে।
কায়ান হাতে শেষ হওয়া সিগারেট টা ফেলে দিলো।

“অনেক দুর চলে গেছো মেহেরীণ। তোমাকে শহ তোমার পরিবার কে সাফার করতে হবে এসবের জন্য। I’m not going to be so easy this time.”


আহির রুমে বসে আছে সবাই। বাচ্চারা ন্যানির সাথে আছে তাই মেহেরীণও এখানে।
শিমুল, জেবরান, মেহেরীণ, মাহমুদ, আহি, সেরিন গোল হয়ে বসে আছে বেডের উপর গোল হয়ে।
কায়ান রুমে প্রবেশ করতে আহি হাত উঠিয়ে ইসারা করে।
কায়ান গিয়ে শিমুল এবং সেরিনের মাঝে বসে।
সেরিন পাথর হয়ে গেছে।
লোকটা তার পাশেই এসে বসল।
কায়ান যখন বসছিলো তখন ওর হাতের স্পর্শ সেরিনের হাতে লাগে। সেরিনের ভেতরে কি কাজ করছে সেরিন নিজেও বুঝতে পারছে না।
আজকের খেলার হোস্ট হলো আহি।

“ওকে ত সবাই চলে এসেছে এখন আমি বোতল স্পিন করব। মনে রাখবে দু বার ট্রুথ এর পর একবার ডেয়ার নেওয়াই লাগবে।”

কথাটা বলে আহি বোতল ঘোরায়।
সেরিনের কপাল খারাপ তার দিকেই বোতল থামে প্রতিবার।
শিমুল তা দেখে খুশি হয়ে যায়৷

“বাহ বাহ সেরিনকে প্রশ্ন আমি করব৷”

“হ্যাঁ হ্যাঁ ছোট ভাবি তার আগে জিজ্ঞেস করুন সে কি নিবে। সেরিন বলো কি নিবে।’

” ট্রুথ।”

“ওকে। তোমার সব সিক্রেটের ভান্ডারত ভাবিই। ভাবি আপনি জিজ্ঞেস করেন।”

“হ্যাঁ। ত সেরিন বল। একটা ছেলেকে দেখতে গেলে তুই প্রথম কোন জিনিসটা লক্ষ করিস৷”

সেরিন, পিট পিট করে তাকায়। সবাই তাকিয়ে আছে সেরিনের জাবাব জনার আগ্রহ নিয়ে। সেরিন চোখ ঘুরিয়ে সবাইকে নিজের দিকে তাকাতে দেখে হাসে,

“হেহে, আমি কি দেখি? এই আপু আমি কি দেখলাম আবার সেভাবে। চেহারাইত দেখে মানুষ।”

শিমুল গালে হাত দিয়ে বলে

“হ সেরিন মিথ্যা কেন বলিস। তুইত ছেলেদের চুল দেখিস। “

সেরিনের চোখ বড়বড় হয়ে যায়।

“এই আপু কই?”

“ও মা জানো আহি ওর কোড়কা চুল পছন্দ। যে ছেলেদের কার্লি হেয়ার ও সেই ছেলেদের পছন্দ করে।”

সেরিনের চোখ বড় বড় হয়ে যায়। ওদিকে কায়ান এ কথা শুনে মনে মনে মহা খুশি। তারও যে কার্লি হেয়ার।

“এই আপু আমি কখন এসব বললাম?”

“আল্লাহ এই মেয়ে তুই না আমাকে বলতি আমার কোকড়া চুল পছন্দ। এই জন্যইত আমার বিয়ের কথা চলার সময় কায়ান ভাইকে তোর পছন্দ ছিলো। তুই বলতি আপু তোর ভাসুর টা কি হ্যান্ডসাম কার্লি হেয়ার। একেবারে মনের মত৷”

সেরিনের গাল লজ্জায় লাল হয়ে গেছে। আগের বিষয় এক রকম ছিলো। কক্সবাজার থেকে অন্য রকম হয়ে গেছে।
সেরিন দাঁতে দাঁত চেপে বলে,

“তুই আমার বোন নাকি শত্রু আপু৷”

শিমুল এবার বুঝতে পারে। ভাসুরের সামনে সে অনেক বলে ফেলেছে। শিমুল আসলে এক্সাইটেড হয়ে গেছিলো। শিমুল, কায়ানের দিকে ফিরে বলে,

“হেহে সরি ভাইয়া।”

কায়ান বাঁকা হেসে উত্তর দেয়,

“না না আমি এনজয় করছি বিষয়টা।”

সেরিন আড় চোখে তাকায়। কায়ানের বাঁকা হাসি দেখে তার মন চাইছে এক ঘুষি দিতে। কিন্তু বিপদে ফেলেছে তাকে তার বোন। আরেকজনকে ঘুষি দিয়ে কি লাভ।
আহি নিজের হাসি কনট্রোল করার যথেষ্ট চেষ্টা করছে। এদিকে এসব কিছু দেখে মুড অফ হয়েছে মেহেরীণের৷
সে কায়ান এবং সেরিনকে দেখে ফুঁসছে রাগে।

“আচ্ছা আচ্ছা এবার আমরা আবার স্পিন করি বোতল।”

এভাবে বেশ কয়েকবার খেলার পর বানু মির্জা সবাইকে ডিনারের জন্য ডাকেন।
ডিনার করে যে যার রুমে চলে যায়।


সেরিন রুমের জানালা গুলো বন্ধ করে বিছনা ঠিক করে বসে পড়ে।

“যাক এবার ঘুম হবে। কাল চলেই যাব। এরপর এসব নিয়ে আর ভাববো না। শিমুলের বিয়ে হয়েছে এ বাড়িতে। আমি চলে গেলে কায়ান ভাইয়ার মোহও কেটে যাবে। সব কিছু সমাধান হয়ে যাবে। আমিও গিয়ে জাবেদ মির্জার সাথে কথা বলা শুরু করব। নিজের জীবনে ফোকাস করলে সব ঠিক হবে আস্তে আস্তে।”

সেরিনের কথাটা শেষ হতে না হতেই চুলে টান অনুভব করল। সেরিন কিছু বুঝে ওঠার আগেই কেউ তার চুলের মুঠি শক্ত করে ধরে বিছনায় ফেলে।
সেরিন সোজা তাকায়৷

“ওই বেয়াদব , জাবেদ মির্জাটা কে হ্যাঁ? কার কথা বলছিস পরিষ্কার করে বল শুনতে পারইনি৷ “

কায়ানের ভয়ঙ্কর চাহনি সাথে রাগে শরীর কাঁপছে। সেরিন কাঁদো কাঁদো হতেই যাবে তার আগেই কায়ানের আরেক দফা আক্রমণ।
কায়ান সেরিনের লম্বা চুলের বেনি আরও শক্ত করে টেনে সেরিনের চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরে,

“আমি জাস্ট উত্তর চাই জাবেদ মির্জা কে!”

“জ জাবেদ মির্জা ও ওই আর্মি অফিসার”

কায়ান, সেরিনের চোয়াল আরও শক্ত করে চেপে বলে,

“সেরিন ধৈর্যের পরিক্ষা নিচ্ছিস তুই আমার? সত্যি করে বল?”

সেরিন নিজের ভেতর সাহস সঞ্চয় করল,

“আপনার লজ্জা করছে না? আমি আপনার ছোট ভাইয়ের বউয়ের বোন। আপনারো বোনই হই। আপনার বউ আছে বাচ্চা আছে৷ আপনি।’

পুরো কথাটা শেষ করতে পারলনা সে। তার আগেই কায়ানের সিগারেটে পোড়া ঠোঁট দু’টো সেরিনের ঠোঁট স্পর্শ করে।
সেরিন কেঁপে ওঠে ভয়ে। কায়ানের রুক্ষতা ধিরে ধিরে সেরিনকে গ্রাস করে ফেলে। সেরিন ছাড়াতে চাইলেও ব্যার্থ হয়।
কিছুক্ষণ পর রক্তের নোনা স্বাদ পেয়ে কায়ান, সেরিনকে ছেড়ে দেয়। ঠোঁটের কোণা থেকে রক্ত মুছে সেরিনের দিকে তাকায়। এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে মেয়েটা।
কায়ান, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে। সে জানে সেরিন বাচ্চা মেয়ে। তার উপর এই সিচুয়েশন সে বুঝবে না এটা সাভাবিক তার পরেও সেরিনের মুখে অন্য কোন ছেলের কথা শুনেই কায়ানের রক্ত গরম হয়ে যায়। কায়ান ভাবে সে হয়ত একটু বেশি টক্সিক হয়ে যাচ্ছে কিন্তু তাও নিজেকে কনট্রোল করতে পারেনা সে।

সেরিনের চুল গুলে সরিয়ে সেরিনের কাপলে চুমু খায় কায়ান।

” সরি জান। তুমি রাগিয়ে দেওত। কি করব বলো।”

সেরিন মুখ ফিরিয়ে নেয়। তাচ্ছিল্য কন্ঠে বলে,

“আপনি জঘন্য।”

কায়ান বাঁকা হেসে সেরিনের চোয়াল ধরে ফের নিজের দিকে ঘোরায়,

“আমি জানি, আমি জঘন্য । তাই এটাকে আমার লাস্ট ওয়ার্নিং ভেবো।
তোমার এই চোখ, এই ঠোঁট, যদি অন্য কোনো পুরুষের দিকে ওঠে,অথবা তুমি যদি অন্য কারও কথা ভাবোও,
তবে সেই মানুষটাকে আমি তোমার পৃথিবী থেকে মুছে ফেলতে দ্বিধা করব না, প্রিয়।
কারণ এতটুকু ক্ষমতা সিকদার কায়ান মাহাবুবের আছে।”

চলবে?

[ এই পর্যায়ে এসে ওয়ার্নিং। সবাই জানো আমার প্রতিটা গল্পের চরিত্রের আলাদা বিশেষত্ব থাকে। যেমন আদ্রিস ভায়োলেন্স পছন্দ করে। আরহাম, খেয়াল রাখলেও হৃদির সামনে ভালোবাসা প্রকাশ করত না। আবার নির্ঝর ফুল অন প্রেমিক পুরুষ। সে কোমল ভাবে বউকে হ্যান্ডেল করত। তেমন কায়ান টক্সিক টাইপের সাইকো লাভার। আবার রহস্য ময়ও হবে। সো মনে হবে কায়ান ভীষণ টক্সিক কিন্তু ওকে ওভাবেই মেনে নিতে হবে।]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply