কিস অফ বিট্রেয়াল
পর্ব_০৬
লামিয়ারহমানমেঘলা
[🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ। ]
শিমুল, সেরিনকে গেস্ট রুমে নিয়ে যায়।
বাড়িটা তিন তলা। তবে বাড়িটা কিছুটা জমিদার বাড়ির মত।
সিকদার নিবাস বিশাল জমি জুড়ে বিস্তৃত। পেছনের দিকে বিরাট এক বাগান আছে। বাগানে বানু মির্জার পছন্দ মত নানান ফলের গাছ। আলাদা করে মালি রাখা আছে সে বাগান পরিষ্কার পরিচর্যা করার জন্য।
বাড়িটা স্বপ্নের মত সুন্দর। সেরিন যে দিন প্রথম এখানে এসেছিল সে দিন সে পুরোটা বাড়ি ঘুরে দেখতে দেখতে ৫ ঘন্টা কাটিয়ে দিয়েছিলো।
বানু মির্জার থেকে জানা, বাড়িটা মূলত ডিজাইন করেছিলো কায়ানের দাদা আরিফুল সিকদারের।
তবে তিনি তার সময়ে অর্ধেকটাই তৈরি করেছিলেন। বাকিটা কায়ানের বাবা সিকদার আফতাফ মাহবুব শেষ করেছেন। ভেতরের ডেকোরেশন কায়ানের করা।
তাইত বাড়িটার ডিজাইন পুরাতন হলেও ভেতরটা আধুনিক।
নস্টালজিক ফিল করায়।
সেরিনের রুমের পাশেই কায়ানের রুম। তার পাশে বেবি দের রুম। এই রুম তিনটার সাথে এচাট করে একটা বেলকনি আছে। অর্থাৎ তিন রুম থেকেই যাওয়া যাবে। বেলকনিটাও হিউজ। বেলকনি থেকে সরাসরি পেছনের বাগান দেখা যায়।
এই রুমের পেছনের বাড়ি টুকুন ৩ তলা বিশিষ্ট।
সেরিন ওয়াসরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নেয়।
আজকের দিনটাত এখানেই কাটাতে হবে।
সেরিন ফ্রেশ হয়ে বেলকনিতে চলে আসে। বেলকনিতে চেয়ার পাতা। সেরিন চেয়ারে বসে সামনের বাগানটা পর্যবেক্ষণ করছে।
সেরিনের চোখ আঁটকে গেছে গাছে ঝুলতে থাকা একটা পাকা আমে। এই অসময়ে পাকা আম। সেরিন আরও একটু ঠিকঠাক করে দেখে৷
নাহ ওটা পাকা আমই।
অসময়ের আম হয়তবা৷
সেরিন খুশি হয়ে যায়। পাগলের মত নিজের সাথেই কথা বলতে শুরু করে,
“আরে এত মেঘ না চাইতে জল।
রিলাক্স সেরিন এটা বাড়ি না৷ তাতে কি আমত। টুস করে গিয়ে নিয়ে আসব। কেউ টেরই পাবে না৷”
সেরিন ভাবতে ভাবতে নিজের জায়গা থেকে উঠে রুমে চলে আসে। উদ্দেশ্য নিচে যাওয়া।
সেরিনের এসব কান্ড রুম থেকে কায়ান পর্যবেক্ষণ করেছে।
ঠোঁটের কোণায় তার প্রশান্ত ময় বাঁকা হাসি।
কায়ান নিজের সার্টটা খুলে ফেলেছে। এরপর শরীরে থাকা অবশিষ্ট গেঞ্জি টাও খুলে ফেলে।
কায়ানের উপর শরীরটা উদাম তখন।
হুট করেই কেউ দরজা খুলে ভেতরে আসে। কায়ান ফিরে চায়৷
“ওয়াউ, দিন দিন বয়সটা কমছে তোমার৷”
কায়ানের ঠোঁটে লেগে থাকা হাসিটা মুহুর্তে বিরক্তিতে পরিণত হয়।
“কি চাই মেহেরীণ? “
“নিজের রুমে আসতে আবার কিছু চাওয়া লাগে নাকি?”
“বাট আমিত জানি তোমার রুম পাশের টা রাইট?”
মেহেরীণ বাঁকা হেসে এগিয়ে আসে কায়ানের দিকে,
“নট এট অল। মি.সিকদার ভুলে যাবেন না আপনার ওয়াইফ কিন্তু আমিই৷”
“রাইট। ওয়াইফ। সো কলড ওয়াইফ।’
কথাটা বলে কায়ান ওয়াসরুমে চলে যায়।
মেহেরীণের চোখে অন্ধকার নেমে আসে।
“আমি সব করতে পারলাম কায়া শুধুমাত্র তোমাকেই বস করতে পারলাম না৷”
সেরিন নিচে নেমে দেখে ড্রোইং রুমে শিমুল শহ কিছু আশেপাশের মহিলারা বসে আছে।
শিমুল যেন, বিরাট এক বিচ্ছু বাহিনীর ভেতর চাপা খাচ্ছে। সেরিনের মেজাজ গেল বিগড়ে।
এই জন্য সে বিয়েই করতে চায়না। মহিলাদের কটু কথা যে এত বিশ্রী রকম বিরক্তিকর তা যে ফেস করে সেই জানে।
সেরিনকে দেখে একজন মহিলা বলে ওঠে,
“আরে এটা সেরিন না ছোট বউয়ের বোন৷”
সেরিন জোরপূর্বক হাসি টানে ঠোঁটে,
“জি আসসালামু আলাইকুম।”
“ওয়ালাইকুম সালাম। কেমন আছো? এসো বসো।”
সেরিন গিয়ে বসে শিমুলের পাশে। একজন মহিলা অপর আরেকজন মহিলাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
” দেখ পার্ভিন, সেরিন কি সুন্দরী হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। তুই কথা বলছিস না কেন?”
পার্ভিন, একটু মুখ বাঁকিয়ে ঢং করে বলল,
“কি আর বলব ভাবি। মুখ খুললেই, উচিত কথা বের হয়। তখন বলবে পার্ভিন আপা পঁচা পঁচা কথা বলে।”
সেরিনের রাগত হচ্ছিল প্রচুর। তবে সে নিজেকে কন্ট্রোল করে। শিমুলও সেরিনের হাত ধরে রেখেছে সেরিন যাতে কোন বাজে কথা না বলে।
সেরিন ফের গাল ভরা হাসি টেনে উত্তর দেয়,
“সমস্যা নাই আপু। আমিও আপনার মত পঁচা পঁচা কথা বলি। হয়ে গেলোনা ডাবাল টক্কর।”
কথাটা শুনে পার্ভিন নামক মহিলার মুখশ্রীতে কালো মেঘ নেমে এলো। তিনি আর কিছু বললেন না।
সেরিন নিজের হাত ছাড়িয়ে শিমুলকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“আমি একটু বাইরে যাচ্ছি আপু।”
“কোথায় যাবি?’
” পেছনের বাগানে জাস্ট ৫ মিনিট৷”
“ওকে৷”
সেরিন উঠে চলে যায়।
মহিলা গুলো নিজেদের মধ্যে কানাঘুষা করতে থাকে। শিনুলও অজুহাত দিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যায়।
বাগানের মাঝ বরাবর পাথরের তৈরি একটা রাস্তা চলে গিয়েছে। রাস্তাটা ঠেকেছে সিকদার নিবাসের শেষ সীমানা পর্যন্ত।
সেরিন এত বড় বাগানে এসে, এখন সেই আম গাছটাই খুঁজে পাচ্ছে না।
সেখানে নানান ফলের গাছই ছিল। গাছে নানান ধরনের ফল ঝুলে আছে। কিন্তু সেরিনত সেরিন। তার যেটায় চোখ গিয়েছে তাকে এখন সেটাই খুঁজতে হবে।
খুঁজতে খুঁজতে মাঝের দিকে এসে সেরিন গাছটা পেয়ে গেলো।
অসময়ে ছোট্ট ছোট্ট আমের গুটি শহ আমের মুকুল। এবং এক পাশে একটা পাকা আম ধরে আছে।
সেরিনের খুশির ঠিকানা নেই।
কিন্তু কথা হচ্ছে গাছটা একটু লম্বা হয়ে গেলোনা। সেরিন হাতে আমটা, নাগাল পাবে কিভাবে?
ভাবতে ভাবতে মাথায় আরও এক মারা খাওয়া বুদ্ধি এলো। ছোট গাছ ওঠাই যায়। এমনিতেও সে গাছে উঠতে পারে।
সেরিন ওড়নাটা কোমড়ে বেঁধে আশেপাশে ভালো করে দেখল কিছু আছে কিনা।
এরপর ধিরে গাছে উঠে একটা মোটা ডালে বসল।
ডাল থেকে মাটির দুরত্ব বেশি না।
সেরিন পা ঝুলিয়ে বসে গাছের ডাল থেকে আমটি পেড়ে নিলো।
“ওয়া অবশেষে। গুড জব সেরিন।”
সেরিন নিজেকে শাবাশি দিতে দিতে কষ্টের ফল নিতে শুরু করে। আহা কি মিঠা।
আমটা শেষ করতে করতে সেরিন ভাবছে সে কিভাবে শিমুলকে, কায়ানের কথাটা বলবে।
ভাবতে ভাবতে সেরিন অন্যমনস্ক হয়ে গেছিল।
কিন্তু হটাৎ করেই এই অন্যমনস্ক থাকার মাঝেই কেউ তার পা টেনে ধরে।
টান খেয়ে সেরিন গাছের ডাল ধরাবে তার আগেই কারোর কোলে গিয়ে পড়ে।
সেরিন পড়ে যাবার ভয়ে শক্ত পোক্ত করে জড়িয়ে ধরে সামনের মানুষ টাকে।
সেরিন যখন পরিস্থিতি বুঝতে পারে তখন সে একটু আলগা হয়ে সামনে তাকায়।
কায়ান তাকিয়ে আছে তার দিকে। ঠোঁটে বাঁকা হাসি।
সেরিন ভ্রু কুঁচকে বিরক্তি নিয়ে কায়ানের কাঁধে আঘাত করে।
কায়ান শব্দ করে হেঁসে দেয়।
“বেহায়া বেটা ছেলে নামান আমাকে। এভাবে একটা অন্য মেয়েকে স্পর্শ করার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে? নামান বলছি।”
কায়ান সেরিনের রাগে ফুলে ওঠা গাল দু’টো দেখে আরও শব্দ করে হাসতে শুরু করে। সেরিন বিরক্ত হয়ে দাঁত কিটমিট করছে।
কায়ান সেরিনকে মাটিতে নামায়।
সেরিন ফুঁসছে রাগে। সাপকে বিরক্ত করলে যেমন ফুস ফুস করে সেরিনও তেমনটাই করছে।
কায়ান নিজের হাসি কনট্রোল করে বলে,
“তুমি গাছেও উঠতে জানো? জানতাম না সেরিন তুমি যে একটা গেছো।”
“এহ গেছো। গাছে উঠতে জানলে গেছো হয়ে যায়? অভদ্র, অসভ্য লোক একটা৷ দুরে থাকেন আমার থেকে।’
কথাটা বলে সেরিন সোজা হাঁটা শুরু করে।
কায়ান নিজের লুঙ্গি ধরে সেরিনের পিছে যায়,
” আরে ওয়েট। আমি সেভাবে বলিনি। তুমি এত চেতে গেছো কেন?’
সেরিন উত্তর দেয়না৷
কায়ান ফের হাসতে হাসতে বলে ওঠে,
“গেছো মহিলা দাঁড়াও।”
সেরিন দাঁড়িয়ে যায়। পেছনে ফিরে কায়ানের দিকে ভয়ঙ্কর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে,
“গেছো মহিলা কাকে বললেন আপনি? আপনি গেছো মহিলা, শুধু আপনি নয় আপনার ১৪ গুষ্টি গেছো মহিলা।”
“না না এটা মানা যায় না। আমি একটা পুরুষ সেরিন। বিশ্বাস না হলে এসো তোমারে দেখাই। লুঙ্গি খুললেই বুঝবা৷”
“এউ।”
সেরিন হাতে থাকা আধ খাওয়া আমটা ছুঁড়ে মারে কায়ানের দিকে। কায়ান সেটা ক্যাচ করে সাথে সাথে।
“জঘন্য আপনি।”
সেরিন কথাটা বলে হনহনিয়ে বাড়ির ভেতরে চলে যায়।
কায়ান সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকে। তার প্রচন্ড হাসি পাচ্ছে। সেরিনের আধ খাওয়া আমটার দিকে তাকিয়ে আফসোস করে,
“আহারে আম। আমার গেছো মহিলার ঠোঁটের স্পর্শ তোর কপালে জুটল আমার আগে। এটাকে কি ঠিক কেমন ব্যাড লাক বলে? একটা আমও আমার আগে তার ঠোঁটের স্পর্শ পেয়ে গেলো।”
কায়ান কথা গুলো বলে বড্ড দুঃখী হয়। এরপর আমের কামড় বসানো সাইডে নিজে কামড় বসায়,
“আপাততঃ এত টুকুতে কাজ চালিয়ে নেব।”
রেগে মেগে রুমে এসে বিছনায় বসে পড়ে সেরিন। আসলে তাকে রাগানো খুব সহজ। ভয় পেলে সেটা অন্য বিষয়।
সেরিন বসে আছে রুমে এমন সময় ওর রুমে খেলতে খেলতে জারিফ এবং জিনু আসে।
“সেরিন ম্মাম। সেরিন মাম্মা। আমাদের সাথে খেলবে?'( জারিফ)
” প্লিজ সেরিন মাম্মা খেলো না। খুব মজা হবে।” ( জিনু)
দু ভাই দু পাশ দিয়ে সেরিনের হাত ধরে কি মায়াবী আবদার করছে।
সেরিনের রাগ এক মিনিটে উধাও হয়ে গেলো। সে বাচ্চা দুটোর কপালে চুমু খায়।
“ওকে কি খেলতে চায় জারিফ জিনু?”
“চোখ বেঁধে দৌড় দেয় ওই খেলাটা৷”
বাচ্চারা সঠিক নাম নিতে পারেনা। জরিফ, জিনুর প্রাইভেট ন্যানি আছে। সাথে ওদের প্রাইভেট ট্যাবও আছে। একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তারা ওটা নিয়ে খেলতে পারে। সেখানেই হয়ত খেলাটা দেখেছে। কিন্তু নামটা জানেনা। ওদের মা বাবা দু’জনই বাহিরে থাকে। ফলে স্কুল থেকে ফিরে দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে দাদির সাথে। তাইত দাদির জান দু’জন। তা ছাড়া মেহেরীণ বাচ্চা দের ফ্রি থাকলেও সময় দেয়না। তার টাকা আছে সে ন্যানি রেখে দিয়েছে।
জারিফ, জিনু নিজেরাই বড় হচ্ছে। তাই কোন মানুষ মিশুক হলে জারিফ, জিনু খুব আদুরে হয়ে যায় তাদের সাথে। যেমন ওদের মামার সাথে। মেহেরীণের থেকে ওরা মাহমুদের সাথে বেশি ক্লোজ। জারিফ, জিনু চাইলেও মেহেরীণের সময় পায়না। আর মেহেরীণ একটু স্ট্রিক্ট থাকে সব সময় তাই কোন বাচ্চামি আবদার তারা মায়ের কাছে করতে পারেনা।
“ও আচ্ছা কানামাছি খেলবে?”
“ইয়াহ৷”
সেরিন ভাবে, ফোনটাও নেই। বাচ্চা দু’টো বড় আদুরে আবদার করেছে। ফেলবে কি করে? সেরিন তাই রাজি হয়ে যায়।
সামনের সাইডের বাগানে বেশ অনেকটা ফাঁকা জায়গা আছে। তার চার পাশ দিয়ে ফুলের গাছ লাগানো।
সেরিন, জারিফ, জিনু সেখানেই এসেছে।
যেহেতু দু ভাই ছোট তাই চোখ বেঁধেছে সেরিন নিজে।
বাচ্চা দের সাথে বেশ মজা করেই ফেলছে সেরিন।
এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছে বাচ্চারা।
কায়ান, সেরিন যাবার পর একটা ফোন কল অ্যাটেন্ড করতে গেছিল। ফোনটা কেটে সে সামনের দিকে এসে সেরিনকে খেলতে দেখে দাঁড়িয়ে যায়।
মুগ্ধ নয়নে সেরিন এবং বাচ্চা দের কর্ম কান্ড দেখতে থাকে।
বসন্তের নতুন হাওয়া পরিবেশে প্রবেশ করা শুরু করেছে। কিছুদিনের মধ্যে বসন্তের আগমন ঘটবে। ঝরা পাতা গুলো ঝরে গিয়ে নতুন পাতার আগোমন হবে। আমের মুকুল আসবে। ধরণী সাজবে সম্পূর্ণ নতুন এক রূপে। সেরিন যেন বসন্তের আগমনীর জানান দিচ্ছে। তার এই বাচ্চামি পরিবেশ গ্রহণ করছে আদরে।
কায়ান এসব ভাবতে ভাবতে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে ছিল সেরিনের দিকে। কিন্তু হটাৎ করেই ভাবনায় ছেদ ঘটে কারোর চিৎকার শুনে,
“সেরিন।”
সেরিন হাত হাতড়ে বাচ্চা দের খোঁজার চেষ্টা করছিল। হটাৎ মেহেরীণের চিৎকার শুনে সে দাঁড়িয়ে যায়। চোখ থেকে কাপড় নামিয়ে দেয়। বাচ্চা দু’টোও ভয় পেয়ে সেরিনের পেছনে লুকায়।
মেহেরীণের মুখশ্রীতে ক্রোধ স্পষ্ট৷
“আর ইউ ম্যাড? ওরা না হয় বাচ্চা তুমিত বাচ্চা নও।”
সেরিন অবাক হয়ে প্রশ্ন করে,
“কেন ভাবি কি হয়েছে?”
মেহেরীণ দাঁতে দাঁত চেপে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করে,
“এত দুর জার্নি করে আসার পর বাচ্চা দের অবশ্যই টায়ার্ড লাগবে তাইনা। জারিফ, জিনু গো টু ইয়োর রুম রাইট নাউ৷”
মায়ের এত ধমকে দুই বাচ্চা সেরিনের ড্রেস শক্ত করে চেপে ধরে। তা দেখে মেহেরীণের আরও রাগ উঠে। সে আরও রাগান্বিত কন্ঠে বলে,
“জরিফ, জিনু রাইট নাউ রুমে যাবা।”
সেরিন, পরিস্থিতি বুঝে বাচ্চা দু’টোকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে হাঁটু মুড়ে বসে ওদের সামনে।
“যাও জারিফ, জিনু, পরে খেলব আমরা৷’
দু ভাই সেরিনের কথায় মাথা নুইয়ে চলে যায় সেখান থেকে। বিষয়টা মেহেরীণকে আরও রাগান্বিত করে তুলে। ওর কথা না শুনে সেরিনের কথা শুনল বাচ্চা রা।
মেহেরীণ বিরক্তি নিয়ে সেরিনকে উদ্দেশ্য করে বলে,
” আমি আউট সাইডার দের সাথে আমার বাচ্চা দের মেলামেশা পছন্দ করিনা সেরিন৷’
কথাটা বলে মেহেরীণ হনহনিয়ে ভেতরে চলে যায়। সেরিন চাইলে অনেক উত্তর দিতে পারত। কিন্তু সেরিন জানে বাচ্চা দু’টো তার নয়, মেহেরীণের।
এখানে আসলে চাইলেও কিছু বলার থাকেনা।
সেরিন, হাতের কাপড়টার দিকে তাকায়।
এরপর স্যাড হয়ে সেও ভেতরে চলে যায়।
কায়ান চাইলে সেখানে যেতেই পারত। কিন্তু এতে মেহেরীণ আরও বেশি সিনক্রিয়েট করত৷ এত টুকু সে মেহেরীণকে চিনেছে। সারা বছর সে ভালো আচরণ করে মানুষের সাথে। কিন্তু যখন খারাপ আচরণ করে তখন সে এত বাজে ভাবে আচরণ করে যা সাহ্য করা যায় না। এরপর এক্সকিউজ দেখায়, আমার মাথা ঠিক ছিলনা। কাজের প্রেশার। জানোইত আমি কত সুইট।
কায়ানের ফর্সা মুখশ্রী রাগে রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে।
“ইউ হ্যাভ টু পে ফর দিস বিহেবিয়ার মেহেরীণ৷”
চলবে?
[ দয়া করে এক গল্পের নিচে অন্য গল্পের মন্তব্য করবেন না। এমন হলে গল্প বন্ধ করে একটাই কানটিনিউ করব। আমি ধিরে ধিরে সব গুলোই দিব। ধৈর্য ধরুন]
Share On:
TAGS: কিস অফ বিট্রেয়াল, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৫
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৩
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৪
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৮
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩১
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৫
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১
-
কিস অফ বিট্রেয়াল গল্পের লিংক
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১১