Golpo romantic golpo কিস অফ বিট্রেয়াল

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ২২


কিসঅফবিট্রেয়াল

পর্ব_২২

লামিয়ারহমানমেঘলা

[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
এক রিং হতেই কল তুলে নেয় সেরিন।

“হ্যালো, সেরিন।”

“জি।”

“তুমি ফোন কোথায় পেলে? এটা কার নাম্বার?”

সেরিন চোখ বন্ধ করে নেয়। লোকটাকে সে কত রিস্ক নিয়ে কল করেছে আর লোকটা পজেসিভনেস দেখাচ্ছে।
সেরিনকে উত্তর দিতে না দেখে কায়ান ফের প্রশ্ন করে,

“ড্যাম, হোয়ার আর ইউ? আমাকে বলো না কেন?’

” আমি বাড়িতে।”

“এটা কার ফোন?”

“আম্মুর৷”

“ওহ৷ ওকে বলো। কি হয়েছে?”

সেরিন কিছুক্ষণ চুপ থাকে। তার চোখ বেয়ে টুপটুপ পানি গড়িয়ে পড়ছে কিন্তু মুখে কোন কথা নেই। কায়ান বুঝতে পারে সেরিন কাঁদছে। কায়ান নিজেকে শান্ত করে নরমস্বরে বলে,

“সেরিন মাই কুইন। কি হয়েছে বলো। আমি ভয় পেয়ে গেছিলাম জান।”

“আ আব্বু৷”

“আব্বু কি?”

“আব্বু, বিয়ে ঠিক করছে আমার৷”

কথাটা শোনা মাত্র কায়ানের মাথায় রাগ উঠে গেলো। সে বিছনা থেকে উঠে দাড়ায়,

“কিহ কার সাথে? হুইচ বাস্টার্ড থিংকস হি’স গট দ্য নার্ভ টু ম্যারি মাই ওয়াইফ?
আই’ম অন মাই ওয়ে রাইট নাউ, অ্যান্ড হি’স গোনা রিগ্রেট ইট।”

সেরিনের চোখ বড় বড় হয়ে যায় কায়ানের কথা শুনে। সে কি পাগল চেতিয়ে দিলো নাকি৷

“আরে রিলাক্স কোথায় আসবেন? আপনি কি পাগল?”

“ফর ইউ আই এম৷”

“কায়ান৷”

থেমে যায় কায়ান। এই প্রথম সেরিন তাকে নাম ধরে ডাকলো। কায়ান দাঁড়ানো থেকে বসে।
সেরিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে,

“রিলাক্স হন। আব্বার কি দোষ? আব্বা কি জানে কিছু? সেত চাইবেই তার মেয়ের বিয়ে হোক। ছেলে আর্মির ক্যাপ্টেন। তার উপর আমার স্যারের ভাইয়ের ছেলে। সব কিছু খুবই শক্তপোক্ত। আমি বুঝতে পারছি না কি করব। আব্বা রাজি হয়নি কিন্তু হয়ে যাবে আমি জানি।”

কথা গুলো বলে সেরিন থেমে গেলো। কায়ান ততক্ষণে গাড়িতে বসে চাবি দিচ্ছিলো।
চাবি দিয়ে কায়ান ফোনটা গাড়ির সামনে রেখে কানে হেডফোন লাগায়।

“রিলাক্স সেরিন কিছু হবেনা আমি আছি ত৷”

সেরিন শুয়ে পড়ে। কথাটা তাকে শান্তি দিলো।
সে শান্ত হয়ে বিছনায় গা এলিয়ে দেয়৷
মনে হচ্ছে সারাটা দিন বুকের উপর পাথর ছিলো। সেই পাথরের বোঝাটা কমেছে।

“আমি জানি আপনি আছেন কিন্তু আমার ভয় হয়৷”

কায়ান হাসে,

“তুমি আমার সেরিন। আমার টা আমার থেকে আলাদা করবে এমন কেউ পৃথিবীতে আসার আগেই তার শেষ দিন দেখিয়ে দেব আমি।”

সেরিন হাসে,

“খুব মাফিয়া স্টাইল কথা বার্তা বলেন। মেরেছেন কখনো কাউকে?”

কায়ান বাঁকা হাসে। তার চোখের সামনে ভয়ঙ্কর কিছু দৃশ্য আসে। সে জানে সে কাউকে মেরেছে কি না৷

“না আমি কাউকে মারতে পারি বলো?”

“সেটাইত। “

এরপর দু’জন অনেকটা গল্প করলো।
গল্প করতে করতে কখন সময় কেটে গেলো সেরিন বুঝতে পারলো না।
ঘড়ির কাটায় তখন রাত ২ টা।
সেরিন দেখে তারা পাক্কা ২ ঘন্টা সময় ধরে কথা বলেছে।

“আল্লাহ দেখেছেন আমরা ২ ঘন্টা যাবত কথা বলছি। এখন ঘুমান৷”

কায়ান মৃদু হাসে।

“না ঘুমাব না। রুমের পেছন দিকের জানালাটা খুলো। “

সেরিন ভ্রু কুঁচকে তাকায়,

“কিহ এত রাতে পেছন দিকের জানালা কেন খুলব?”

“খুলোই না।”

সেরিন এগিয়ে যায়। জানালা টা খুলে দিতে সামনে কায়ানকে দেখে চমকে ওঠে সেরিন৷

“আল্লাহ আপনি৷”

কায়ান হাসে,

“হ্যাঁ আমি।”

“ত এতক্ষণ মিথ্যা বলছিলেন যে আপনি ছাদের হাঁটছেন? “

“হুম। এবার সরো আমায় যেতে দাও।”

সেরিন সরে দাঁড়ায়। কায়ান জানালা টপকে ভেতরে আসে।
সেরিনের পুকুর পাড়ের এ দিকের জানালাটা খোলা শুধু পালনা দেওয়া।
বাবা ঠিক করবে বলে বলে আর করা হয়নি৷
কায়ান ভেতরে প্রবেশ করে।
ওর হাতে একটা ব্যাগ।
সেরিন দেখে লোকটা সম্পূর্ণ তৈরি হয়ে এসেছে।
কায়ান গিয়ে সেরিনের বিছনায় বসে।

“ত এটা তোমার বিছনা?”

“হ্যাঁ।”

“হুম। বিয়ের পর একটা বালিশ নিব আমাদের বিছনায়। আমি বালিশে আর তুমি আমার বুকে ঘুমাবে।”

সেরিন তখনো তাকিয়ে আছে কায়ানের দিকে। তার যেন বিশ্বাস হচ্ছে না কায়ান সত্যি এসেছে।
সেরিনকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে কায়ান এগিয়ে যায় সেরিনের দিকে।
সেরিনের গালে হাত রাখে।
সেরিনের চোখ তখনো কায়ানের দিকে স্থির৷

“আপনি এত পাগল কেন?”

কায়ান হাসে,সেরিনের নাকে নাক ঘষে।

“মোটামুটি বলা চলে।”

“এগুলো কি?”

“খালি হাতে আশা যায় না তাই এগুলা আনছি৷”

“এহ খালি হাতে আশা যায় না। আমি কি চাকরি করি এসব আমি কই পাব? আম্মাকে কি বলব?”

“বলিও কিছু একটা আমি কি জানি কি বলবা৷”

সেরিন সরে দাঁড়ায়,

“আপনি মহা পাজিত৷”

কায়ান বাঁকা হেসে সেরিনের কবজি ধরে নিজের কোলে বসায়৷
সেরিনের কথা বন্ধ হয়ে যায়।

“পাজি কেন? বলবা কায়ান এসেছিলো। রাতে আমার রুমে।”

কথাটা বলতে বলতে কায়ান, সেরিনের ঘাড়ে নাক ঘষতে থাকে৷ সেরিন কেঁপে উঠে।

“মিস্টার সিকদার৷”

“হুম।”

কায়ান তখনো সেরিনের ঘাড়ে নাক ঘষছে। সেরিন অন্যমনস্ক হয়ে বলে,

“আপনার আম্মা আমাদের মেনে নিবে? আমার আব্বা, আম্মা। সব বললেও কি মেনে নিবে আমাদের?”

কায়ানের কেন প্রতিক্রিয়া নেই। সে সেরিনের ঘাড়ে নক গুঁজে রেখেই বলে,

“ফা** দ্য ওয়ার্ল্ড, কেউ না মানলে তোমাকে নিয়ে যাব যেখানে কেউ নাই। “

কায়ানের গম্ভীর কন্ঠস্বর। থ্রেট করার মত কথা বলছে। সেরিন চোখ তুলে তাকায়।

“মানে?”

কায়ান বাঁকা হাসে। সেই হাসি দেখে সেরিন একটু ভয় পেয়ে যায়।
কায়ান সেটা বুঝে সেরিনের গালে চুমু খায়।

“রিলাক্স, মজা করেছি। কেউ না মানলে আমি মানিয়ে নিব৷”

সেরিন হাসে।
কায়ান, সেদিনের কোলের উপর শুয়ে পড়ে।

“১ ঘন্টা জান। এরপর ডেকে দিও চলে যাব।”

“ওকে৷”

সেরিন, কায়ানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে।
কায়ানের চোখ লেগো আসে। এতটা ড্রাইভ করে সে ক্লান্ত।
চোখের পলকে ঘন্টা ১ কেটে গেলো।
সেরিন দেয়াল ঘড়িতে দেখে রাত ৩ টা বাজে।
সেরিন, কায়ানের ঘুমন্ত মুখের দিকে চায়। ইচ্ছে করছে না ডাকতে লোকটাকে। কিন্তু কিছু করার নেই ডাকতেত হবে।
সেরিন ডেকে তুলে কায়ানকে।

“উঠুন। যাবেন না? “

কায়ান উঠে বসে।

“ওয়াসরুম কোথায়?”

“ওই যে।”

কায়ান সেরিনের ওয়াসরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে বের হয়৷
এরপর সেরিনের কপালে চুমু খায়।

“রিলাক্স হও। কিছু হবেনা ওকে৷”

কায়ান যেতে নিলে সেরিন, কায়ানের হাত ধরে বসে।কায়ান ফিরে চায়৷

সেরিন মাথা নামিয়ে বলে,

“ফোন নেই আমার কাছে। এরপর কিছু হলে আমি কিভাবে যোগাযোগ করব?”

কায়ান, সেরিনকে জড়িয়ে ধরে।

“আমি দেখে নেব সেরিন। তুমি ফোন পাবে তবে আমার হয়ে এরপর।”

কথাটা বলে কায়ান বেরিয়ে যায়।
সেরিন ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রয়। কি বলে গেলো। কেনইবা বলে গেলো। তবে এত টুকুন সেরিন বুঝলো ফোন আর সে পাচ্ছে না।
বড্ড বরিক্ত লাগলো তার।
কায়ানের দেওয়া প্যাকেট খানা সেরিন আলমারিতে লুকিয়ে রাখে।
এরপর ঘুমিয়ে যায়।


কায়ান গাড়িতে বসে সিটে হেলান দেয়।
গাড়িটা সেরিন দের বাড়ি থেকে অনেকটা দুরে রেখে হেঁটে এসেছিলো সে।
গাড়িতে বসে কায়ান হিমেলকে কল করে।
এত রাতে ফোন বাজে দেখে হিমেল বিরক্ত হয়।
ঘুম ঘুম চোখে ফোনটা তুলে নেয়।

“হ্যালো৷।”

“ঘুম?”

“সালা এত রাতে কি করব?”

“রাতে আরও অনেক কিছুই করে।”

“এই আমার বউ বাপের বাড়ি৷”

কায়ান হাসে,

“আচ্ছা শুন। প্রথমত একটা ছেলের ছবি দিচ্ছি। ছেলেটাকে ট্রান্সফার করিয়ে দিবি।”

“কোথায়?”

“জানিনা তবে আমার সেরিন থেকে অনেক দুরে। আর শোন ছেলের সম্পর্কে সেরিনের বাপ যাতে কোন আসল তথ্য না পায়। সব খারাপ তথ্য দিবি।”

“সেরিনের বাবা কি সেরিনের বিয়ে ঠিক করেছে?”

“কেরনি করবে।”

“আর মেহেরীণের কি করবি?”

“আর কিছুদিন আমি লিগাল ডকুমেন্ট না পাওয়া পর্যন্ত একশন নিলে মেহেরীণের বাপ ওই শুয়োরের বাচ্চা আমার জীবনে আবার হানা দিবে।
এবার আমি চারিদিকে বন্ধ করে এরপর মাঠে নামব৷”

“হ্যাঁ বুঝেছি। আমি আছি তোর পাশে।”

“আই নো ডুড৷ এখন আপাততঃ এটা কর। নাহলে ওই ক্যাপ্টেন কে আমি মেরেই ফেলব বলে দিলাম।”

“রিলাক্স মারতে হবেনা আমি দেখছি।”

“ওকে।”

“ওকে ভাই ঘুমা এখন৷”

“হ্যা ঘুমা।”

কায়ান কল কেটে দেয়। হিমেল কাউকে একটা টেক্সট দিয়ে ঘুমিয়ে যায়।
কায়ানও ড্রাইভ শুরু করে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে।


কায়ান পৌঁছাতে পৌঁছাতে সকাল ৮ টা বাজে।
কায়ান মাঝ রাস্তায় ড্রাইভ থামিয়ে চোখ লাগিয়ে নেয়। কারান তার দ্বারা ড্রাইভ হচ্ছিলো না। তখন আজান দিয়েছিলো ফজরের। কায়ান তাই গাড়ি পার্ক করে নামাজ পড়ে মসজিদে একটু ঘুমিয়ে নেয়৷
এমনটা সে আগে অনেক করেছে। যখন নতুন ব্যাবসা শুরু করেছিলো সে।
দিন যেত কোথা দিয়ে রাত হতো কিভাবে ঠিক ঠাকত না। স্ট্রাগল পিরিয়ড টা এখনো মনে পড়ে কায়ানের।
কথায় আছেনা মানুষ আর যাই হোক ভুলতে পারেনা কষ্টের দিনের কথা।
সকাল ৭ টার দিকে মসজিদের মওলানা আসেন।
তিনি এমন কায়ানকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে যায়৷

“বাবা”

কায়ান ডাক শুনে চোখ খুলে তাকায়।
মওলানাকে দেখে উঠে বসে সে।

“আসসালামু আলাইকুম৷”

“ওয়ালাইকুম সালাম বাপ। তোমারে দেইখাত ভালো মানুষ মনে হচ্ছে। তুমি এইখানে কেন?”

কায়ান হাসে,

“ভালো মানুষ মসজিদে আসতে পারেনা চাচা?”

“তা বলিনি বাপ৷”

কায়ান ফের হাসে,

“আসলে আমি ড্রাইভ করছিলাম। এত রাস্তা আর সম্ভব হচ্ছিলোনা ড্রাইভ তাই৷”

“কই যাবা?”

“চট্রগ্রাম।”

“ও আচ্ছা। “

কায়ান উঠে দাঁড়ায়।

“ঠিক আছে চাচা তাইলে আমি আসি৷”

“আচ্ছা।”

কায়ান বেরিয়ে যায় বাড়ির উদ্দেশ্যে।


সকাল সকাল সেরিনকে ডাকে তার মা। কিন্তু সেরিনেরত রাতে ঘুম হয়নি। সে কি উঠবে এত দ্রুত৷
নূরবানু সিকদার বিরক্ত হয়ে আর ডাকে না সেরিনকে।
সেরিন দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ঘুমায়।
১২ টার দিকে ঘুম থেকে উঠে সেরিন এক বারে গোসল সেরে বের হয়৷
তার আম্মা তখন দুপুরের রান্না করছে।
আজ ভীষণ রোদ।
গরম পড়েছে।
সেরিন তার আম্মার কাছে গিয়ে বসে পিড়িতে।

“আম্মা কি করছো?”

“রান্না।”

“খেতে দাও কিছু৷”

“আমিত ভাত দিয়ে চাল ধুয়ে দিয়েছি। তোকে এত ডাকলাম শুনলি না। একটু অপেক্ষা কর রেধে দিচ্ছি।”

“আচ্ছা।”

নূরবানু সিকদার লাউ ডগা ছিলতে ছিলতে বললেন মেয়েকে।

“কাল রাতে ঘুমাস নি?”

প্রশ্নটা শুনে সেরিনের মনে পড়ে যায় কাল রাতের কথা৷
সেরিন গলা পরিষ্কার করে উত্তর দেয়।

“না একটু গরম লাগছিলো। ফ্যান দিলে আনার শীত করে। তাই ঘুম আসেনি৷”

“আমার ফোনটা কই?”

“বিছনায় ছিলো৷ দেখোনি?”

“না। সময় পাইনি৷”

“ও। এনে দেব?”

“হ্যাঁ নিয়ে আয়ত। একটু শিমুলের সাথে কথা বলি। অনেক দিন হলো মেয়েটার খোঁজ নেওয়া হয়না৷”

“আচ্ছা।”

সেরিন ভেতর থেকে মায়ের ফোন নিয়ে আসে।
দুই রিং হলে শিমুল কল কেটে ব্যাক করে। শিমুল সব সময় মায়ের ফোন কেটে দেয়। এরপর ব্যাক করে।
মায়ের সাথে ভালো মন্দ বলতে থাকে।

চলবে?

[রেসপন্স না করলে হচ্ছে না]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply