Golpo romantic golpo কিস অফ বিট্রেয়াল

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ২০


কিস অফ বিট্রেয়াল

পর্ব_২০

লামিয়ারহমানমেঘলা

[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
“আপনি আমার জন্য এসেছেন?”

কথাটা শুনে কায়ান স্তব্ধ বনে যায়। সে অবাক হয়ে সেরিনের তাকায়। সে সেরিনের দিকে ঝুঁকে যায়। হিসহিসিয়ে বলে,

“আই ড্রোভ ফর টু ড্যাম আওয়ার্স জাস্ট টু গেট টু ইউ… অ্যান্ড ইউ আর স্টিল আস্কিং ইফ আই কেইম ফর ইউ? ডোন্ট টেস্ট মি লাইক দ্যাট।”

সেরিন চুপ হয়ে যায়৷
কায়ান সেরিনের ঘাড়ের পেছনে হাত রেখে সেরিনের মুখটা নিজের দিকে ঘোরায়,

“তুমি কি অন্য কারোর কথা ভাবছো সেরিন?”

সেরিন ঘাবড়ে যায়। কাঁপা কন্ঠে জবাবা দেয়,

“ন না৷”

সেরিনের চোখে ভয় দেখে কায়ান সেরিনের কপালে চুমু খায়। সেরিনের কপালে কপাল ঠেকায়,

“তুমি কি ভয় পাচ্ছো সেরিন?”

সেরিনের অনুভুতি সেরিন নিজেই বুঝতে পারছে না। হ্যাঁ সে কায়ানকে মিস করছে। কিন্তু যখন মেহেরীণের কথা মনে পড়ছে তখন সেরিনের মনে মনে বোনা তাসের ঘর ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে।
সেরিন নিজের অনুভুতি সম্পর্কে নিজেই কানফিউস’ড। ফাইট করছে সে সব কিছুর সাথে।

কায়ান, সেরিনের চোখ পড়তে পারে। সেরিনের মনের কথা সে সব বুঝেই গিয়েছে ভালো করে।
কায়ান, পাশে ফিরে চায়।
মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
বজ্রপাত হচ্ছে বিকট শব্দে।
ঘন মেঘে ছেয়ে গেছে চারিদিকে।
সেরিন চুপচাপ বসে আছে কায়ানের পাশের সিটে।
কায়ানও তখনো চুপচাপ বসে। কায়ানকে চুপচাপ দেখে সেরিন মাথা ঘুরিয়ে কায়ানের দিকে, তাকায়৷
কায়ানে ফর্সা মুখশ্রীতে বিরক্তি এবং ক্রোধ স্পষ্ট। ওর হাতের সিরা গুলো জাগ্রত দেখাচ্ছে।
কায়ানের পরনে অলিভ রঙা কলার্ট ওয়ালা, ফুল স্লিভস,টি- সার্ট ।
অফ হোয়াইট প্যান্ট। বাম হাতে ঘড়ি৷
কায়ান কনুই পর্যন্ত স্লিভস ফোল্ড করে রেখেছে।
ওকে দেখলেই প্রেমে পড়ে যাবে যে কোন মেয়ে।
কায়ান জেন্টাল এবং ভায়োলেন্স দু’টো রোল ই প্লে করতে পারে।
তাইত সেরিন চুপচাপ বেড়াল ছানার মত কায়ানের কথা শুনছে। বেশি বলতে গেলে চড় থাপ্পড় খাওয়ার সম্ভবনা আছে।

হটাৎ নীরবতা ভেঙে কায়ান বলে উঠলো,

“মনে আছে সেরিন আমি সেদিন কি বলেছিলাম?”

কায়ানের কন্ঠ শীতল, গম্ভীর।
সেরিন শুধু কায়ানের দিকে তাকিয়ে আছে ভয়ে কোন প্রশ্ন করেনা৷

“তুমি যদি এদিকে একবার পা বাড়াও তবে ফেরার সব পথ আমি নিজের হাতে বন্ধ করব। বলেছিলাম না? “

সেরিন মাথা নামিয়ে নেয়। কায়ান বাম হাতে সেরিনের থুতনি ধরে উঁচু কটায় নিজের দিকে।

” ডোন্ট প্লে দ্য ভিকটিম কার্ড, সেরিন।
দেয়ার’স ওয়ান লাইন ইউ নিড টু রিমেম্বার–
ইউ আর মাইন। নো ওয়ান ডেয়ার টাচ ইউ।
নো ওয়ান ইভেন ডেয়ার লুক অ্যাট ইউ, ইউ বিলং টু মি।”

সেরিন চুপচাপ কায়ানের প্রতিটা কথা শুনে। শেষের কথা গুলো তার ভেতরে অজানা একটা ভয় এবং আশঙ্কা জড়িয়ে দেয়।
হটাৎ করেই পাশেই বিরাট শব্দে বজ্রপাত হয়৷
সেরিন জড়িয়ে ধরে কায়ানকে।
কায়ান,বাম হাতে সেরিনের কোমড় ধরে সেরিনকে নিজের কোলে বসায়।
সেরিনের চুলে মুখ গুঁজে,

“রিলাক্স, আমি আছি৷”

সেরিন চুপচাপ কায়ানের সাথে লেপটে থাকে।
ধিরে ধিরে ধরণীর আলো হারিয়ে যায়।
বৃষ্টির কারনে সময়ের আগেই অন্ধকার নেমে এসেছিলো ধরণী জুড়ে।
এখন সন্ধ্যার আজান টাও পড়ে গেলো।
কায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে। সেরিনকে বাড়িতে দিয়ে আসতে হবে।
নাহলে ওর মা বাবা চিন্তা করবে।
কেন জানিনা সময় দ্রুত চলে গেলো।
কায়ান, সেরিনের কানে চুমু খায়।
সেরিন ফিরে চায়৷
কায়ান সেরিনের চুল কানের পিছে গুঁজে দিতে দিতে বলে,

“অযথা বাড়ি থেকে বের হবেনা সেরিন। ঘুরতে হয় আমি নিয়ে যাব। আমাকে একটু সময় দাও।
তোমাকে আজ যে অবস্থায় দেখেছি এমন ভাবে যেন আমাকে আর কোন দিন না দেখতে হয়।
আমি খুব পজেসিভ সেরিন। ভালোবাসতেও পারি ধ্বংস করতেও পারি।
মনে করো ভালোবাসায় আমি রাক্ষস হয়ে যাই।
এরপর অন্য কোন পুরুষের স্পর্শ তোমার শরীরে দেখলে সেই হাতত থাকবেই না সাথে তোমাকেও কেটে টুকরো করে পানির টেঙ্কিতে ফেলে দেব। এরপর নিজেকে নিজে সুট করব৷”

কায়ানের কন্ঠ শীতল, ভয়ঙ্কর শোনাচ্ছে। সেরিন বুঝতে পারে লোকটা কতটা রেগে আছে।
সেরিন দু হাতে কায়ানকে জড়িয়ে ধরে।
কায়ান অবাক হলেও পরক্ষণেই ঠোঁটের কোণায় ফোটে বাঁকা হাসি।
এটা সেরিনের চেষ্টা কায়ানকে শান্ত করার।


মেহেরীণ তার বাড়িতে পৌঁছায় দুপুরের দিকে।
মাহমুদ তখন গার্ডেন এড়িয়াতে ছিলো। বোনকে এভাবে দেখে সে অবাক হয়।
এগিয়ে যায় মেহেরীণের দিকে,

“আপু কেমন আছিস?”

মেহেরীণ গিয়ে মাহমুদকে জড়িয়ে ধরে।

“ভাই কেমন আছিস?”

“এইত আলহামদুলিল্লাহ। তুই কেমন আছিস?”

মেহেরীণ সরে আসে।

“ভাই আব্বু কোথায়?”

“আব্বুত ভেতরে আছে।”

“ভেতরে আয়৷”

মেহেরীণ ভেতরে চলে যায়।
মাহমুদ মেহেরীণের পেছন পেছন যায়।
আফজাল খান ভেতরে বসে বসে খবরের কাগজ পড়ছিলেন।
অবসর সময় কাটছে তার।
এমন সময় মেহেরীণ ভেতরে গিয়ে বাবার পায়ের সামনে বসে পরে।
মেহেরীণকে দেখে আফজাল খান অবাক হলেন,

“মেহেরীণ কি হয়েছে?”

“আব্বু।”

মেহেরীণের চোখ ছলছল।
চোখ দিয়ে অনবরত পানি গড়িয়ে পড়ছে।
আফজাল খান মেয়ের এমন অবস্থা দেখে উঠে দাঁড়ায়। কাগজ পাশে রাখে।

“মেহেরীণ মা আমার কি হয়েছে তোর?”

“আব্বু। আব্বু কায়ান আমাকে আর চায় না। কায়ান আমাকে ভালোবাসে না। কায়ান এখন অন্য মেয়ে পেয়েছে। আমাকে অবহেলা করে। বাচ্চা দের দেখেনা৷”

আফজাল খান মুহুর্তের ভেতর রাগান্বিত রূপ ধারণ করলেন,

“কি বললি? ও তোকে কষ্ট দেয়? অন্য মেয়েতো আসক্ত? “

“হ্যা অন্য একটা মেয়ে পেয়েছে আব্বু কায়ান। আমার দিকে ফিরে তাকায় না আর৷”

“ওই ছোটলোকের বাচ্চা। ওকেত আমি মেরেই ফেলব।’

আফজাল খান হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে যেতে নিলে মেহেরীণ ধরে বসে বাবাকে,

” আব্বু থামেন। রিলাক্স হন৷”

“আমার মেয়ে তুই আমার সামনে এসে কাঁদছিস আর আমাকে শান্ত হতে বলছিস?”

“আব্বু কায়ানের কোন দোষ নেই ওই মেয়েটা কায়ানকে ফাঁসিয়েছে। ওই মেয়েটাকে সরিয়ে দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে। আমার কায়ান আবার সংসারে মনোযোগ দিবে।”

মাহমুদ, বোনের সব কথা শুনে বুঝতে পেরেছে কাহিনি কি। সে এগিয়ে গিয়ে বলে,

“হ্যা আব্বু আপনাকেত বলেছিলাম। শিমুলের ছোট বোন সেরিন নাম মেয়েটার। মেয়েটা বড্ড গায়ে পড়া সভাবের। আমার মনে হয় ও কায়ানকে ফাসিয়েছে।”

মেহেরীণ ভাইয়ের দিকে তাকায়।
মাহমুদ চোখ ইসারায় বোনকে শান্ত হতে বলে।

“আজ কোথাও যাব না আব্বু। আপনি পুরো কথাটা শুনুন আগে। এরপর সিদ্ধান্ত নিবেন।’

আফজাল খান বসলেন তার চেয়ারে।

” ঠিক আছে।’


জারিফ, জিনু আজ বেশ প্রানবন্ত আছে।
ইচ্ছে মত খেলছে ইচ্ছে মত খাচ্ছে।
যেন নতুন জারিফ জিনু।
শিমুল বেশ লক্ষ করছে সে সব।
মেহেরীণ পাশে থাকলে ছেলে দু’টো সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকে। মায়ের পিছু পিছু ঘুরে একটু এটেনশন পেতে।
কিন্তু মেহেরীণ খুব একটা এটেনশন দেয়না বললেই চলে।
শিমুলকে এমন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে আহি জিজ্ঞেস করে,

“কি দেখছো ভাবি?”

শিমুলের ধ্যান ফিরে সে আহির দিকে ফিরে চায়,

“আহি তোমার মনে হয় না বাচ্চা রা মা ছাড়াই ভালো থাকে?”

আহি মৃদু হাসে,

“ঠিকই বলেছেন ভাবি বাচ্চা রা মেহেরীণ ভাবিকে ছাড়া খুব ভালো থাকে।”

“কিন্তু এটা কেমন কথা। এটা পরিলক্ষিত কিন্তু মানতে খুবই কষ্ট হচ্ছে।”

আহি দীর্ঘশ্বাস ফেলে।

“বড় ভাবি একটা লোভী মহিলা। নিজেকে বাদে পৃথিবীর কাউকে সে খেয়লা করবে বলে আমার মনে হয়না৷”

শিমুল কথাটা শুনে অবাক হয়। তবে আহি এরপর আর কিছু বলেনি। শিমুলও আগ বাড়িতে শুনেনি কিছু।
এমন সময় আকাশটা হুট করেই মেঘে ছেয়ে যায়।
শিমুল দ্রুত বাচ্চা দের নিয়ে ভেতরে চলে যায়।
আহি দীর্ঘশ্বাস ফেলে।


সেরিনকে বাড়ি থেকে কিছু দুর পেছনে নামিয়ে দেয় কায়ান৷
সেরিনকে নামিয়ে দিয়ে ততক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে যতক্ষণ না পর্যন্ত সেরিন ভেতরে যায়৷
সেরিন যখন ভেতরে চলে যায় তখন কায়ান গাড়ি ঘোরায়।
বাহিরে তখনো হালকা বৃষ্টি হচ্ছে।
সেরিন ভেতরে যেতে নূরবানু সিকদার এগিয়ে এলেন গামছা নিয়ে,

“কিরে কোথায় গেছিলি?”

“আমি হাঁটতে গেছিলাম৷”

“ভিজে যাস নি?”

“একটা ছাউনিতে দাঁড়িয়েছিলাম।”

“ওহ। যা পোশাক বদলে নে ঠান্ডা লেগে যাবে।”

“আচ্ছা।”

সেরিন রুমে চলে যায়। তবে তার মনটা ফুরফুরে এখন।
কায়ানের সাথে দেখা হয়ে তার ভীষণ ভালো লাগছে।

চলবে?

[ রেসপন্স করোনা কেন? আমি কি করব বলোত🙂]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply