কিসঅফবিট্রেয়াল
পর্ব_১৮
লামিয়ারহমানমেঘলা
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
কুমিল্লার বেশ বড় এক টুকরো জমিতে আবু সুফিয়ানের বড় একটা বাড়ি। বাড়ির সামনে বিরাট এক উঠান৷ পেছন দিকে একটা পুকুর।
নূরবানু সিকদার, শখ করে অনেক কিছু করেন। গাছ লাগায়, মুরগী পালেন।
আবু সুফিয়ান অসুস্থ থাকেন প্রায়ই।
তাই এখন আর তার আহামরি ইনকাম করার মত কোন সামর্থ নেই।
তবে টেনে টুনে দুই মেয়েকে মানুষ করতে পারাটাই এই দম্পতির লক্ষ।
সেরিন দের বাড়িটা এক তলা৷
চারিদিকে আম গাছে ঘেরা।
বাড়ির পেছনে পুকুর পাড়ে একটা লিচু গাছ আছে। তার নিচে মাচা পাতা।
সেখানে বসলে ফুরফুরা হাওয়া দেয়।
সেরিনের রুমের জানালা দিয়ে সেদিকে দেখা যায়।
সেরিন বাড়িতে পৌঁছে নিজের রুমে চলে যায়। ওয়াসরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নেয়।
সাওয়ার নিতে নিতে মনে পড়ে যায় সেদিন জঙ্গলে কাটানো রাতের কথা৷
সেদিন কায়ানের নিজের অতীত সম্পর্কে সব খুলে বলাটা।
সেরিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
এই সম্পূর্ণ বিষয়টা এখন কায়ানের উপর টিপে করছে। কায়ান কতটা রেসপন্স করবে সেটার উপর।
সেরিন সাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে আসে।
তাদের বাড়িতে ফিরতে বিকাল হয়েছে। এখন ঠিক সন্ধ্যার আগ মুহুর্তে ভীষণ ঝড়ো হাওয়া বইছে।
আম্মা উঠানে কাপড় মেলে দিয়েছিলো সব গুলো তুলছেন তড়িঘড়ি করে।
সেরিনও দ্রুত বেরিয়ে যায় কাপড় তুলতে মাকে সাহায্য করছে।
নূরবানু সিকদার কাপড় গুলো সেরিনকে দিয়ে হাস মুরগীর কাছে যায়।
সব গুলোকে উঠিয়ে দিবে তাদের বাসায়৷
সেরিন কাপড় গুলো নিয়ে ফের ঘরে চলে আসে।
বাড়ির সব গুলো জানালা দিয়ে দেয়।
বছরের প্রথম বৃষ্টি হবে।
ঝড়ের বাতাসে বালু উড়ে আসছে ভেতরে।
সেরিন নিজের রুমে দৌড়ে যায়৷ জানালা দিতে গিয়ে দেখে পেছনের আবহাওয়া এবং দৃশ্য ঠিক যেন সেই গ্রামের মত।
সেরিনের মনটা হটাৎ করেই খারাপ হয়ে গেলো। সেরিন মিস করছে কায়ানকে।
ভীষণ মিস করছে।
“সেরিন জানালা দিয়ে দে মা। ধুলো আসছে ভেতরে।”
মায়ের কন্ঠ শুনে সেরিনের ধ্যান ফিরে।
সে দ্রুত জানালা দিয়ে দেয়।
খানিক্ষনের মাঝে শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। মুষলধারে বৃষ্টি।
বৃষ্টির মোটা মোটা ফোটা মাটিতে পড়ে বিশেষ এক ঘ্রাণ সৃষ্টি করে।
সেরিন বাড়ির সামনের বারান্দায় বসে সামনের বৃষ্টি দেখছে।
বিদ্যুৎ চলে গিয়েছে।
এমন সময় নূরবানু সিকদার চা নিয়ে এসে সেরিনের পাশে বসেন,
“চা৷”
সেরিন মিষ্টি হেসে চা নিয়ে নেয়।
“শুকরিয়া আম্মা। চায়ের কমতি ছিলো৷”
নূরবানু সিকদার মেয়ের কপালে চুমু খায়।
আবু সুফিয়ান তখন রুমে বসে চা খাচ্ছেন।
নূরবানু সিকদার চায়ে চুমুক দিয়ে বললেন,
“কেমন কাটালি ট্যুর।”
সেরিন মায়ের দিকে তাকায়। এই ট্যুর তার জীবনটাকেই বদলে দিয়েছে।
মাকে সে কি বলবে। কতটা বলবে। সেরিনের ভেতরে গত কিছু দিয়ে ঘটে যাওয়া ফ্লাসব্যাক আসতে থাকে।
সেরিন মাথা নাড়ায়৷
এরপর মৃদু হেসে বলে,
“আলহামদুলিল্লাহ ভালো ছিলো আম্মা৷”
“যাক ভালো কাটলে ভালো। কাল একবার কলেজে যাবিত।”
সেরিন ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে,
“কেন?”
“তোর মাস্টার এসেছিলেন এর মাঝে একদিন৷”
“কোন স্যার?”
“আসলাম স্যার৷”
“ও। উনি কেন এলেন?”
“জানিনাতো এসে বললেন তুই ফিরলে তোকে যেন একবার যেতে বলি৷”
“আচ্ছা যাব৷”
“আচ্ছা।’
সিকদার নিবাস৷
কায়ান ফ্রেশ হয়ে নিজের রুমে দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়েছে সেই দুপুরে।
তার ঘুম ভেঙেছে সন্ধ্যার পর।
সন্ধ্যার দিকে কায়ান উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে চলে যায়।
জেবরান, শিমুল, বানু মির্জা শহ মেহেরীণ সবাই লিভিং রুমে বসে।
জেবরান, কায়ানকে দেখে উঠে দাঁড়ায়,
” আরে ভাই এতটা ক্লান্ত ছিলে যে সারাটা দিন ঘুমিয়ে কাটালে।”
কায়ান গিয়ে বানু মির্জার পাশে বসে।
“হুম। অনেক টায়ার্ড ছিলাম।
জেবরান তোর সাথে হিমেলের কথা হয়েছে?”
“হ্যাঁ দুপুরে একবার কল করেছিলো। তোমাকে খুজ ছিলো। বললাম তুমি ঘুমাচ্ছো তাই বলল যে তুমি উঠলে যেন তোমাকে একটু কল করতে বলি।”
“ওকে।”
বানু মির্জা, কায়ানের মাথায় হাত রাখলেন,
“বাবা ঠিক আছিসত?”
কায়ান মিষ্টির হাসে,
“হ্যাঁ, আমি ঠিক আছি আম্মা বেগম রিলাক্স।”
“আমি কত ভয় পেয়েছিলাম। সেরিন মেয়েটার জন্য বেশি চিন্তা ছিলো আমার৷”
কায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
সে শিমুলের দিকে তাকায়,
“শিমুল, কথা হয়েছে আঙ্কেল, আন্টির সাথে? ওরা পৌঁছে গেছে?”
“হ্যাঁ ওরা পৌঁছে গেছে। ওখানে ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে বিদ্যুৎ নেই। একটু কথা হয়েছে আম্মার সাথে।”
“ওকে৷”
মেহেরীণ এতক্ষণ একটা চান্স খুজতেছিলাম। সে বুঝতে পারছে না কায়ান সব জানে নাকি জানেনা।
মেহেরীণের ভেতরটা ডিপ ডিপ করছে।
হটাৎ কায়ান বলে ওঠে,
“মেহেরীণ রুমে এসো তোমার সাথে আমার জরুরি কথা আছে।”
মেহেরীণ মাথা তুলে তাকায়।
কায়ান ততক্ষণে রুমের দিকে চলে গিয়েছে।
মেহেরীণ বসা থেকে উঠে কায়ানের পিছু পিছু যায়৷
কায়ান রুমে এসে বিছনায় বসে পায়ের উপর পা তুলে।
মেহেরীণ এগিয়ে গিয়ে কায়ানের সামনে দাড়ায়।
“হ্যাঁ বলো।”
কায়ান বাঁকা হাসে।
“কি বলবো এটা খুব ভালো করেই জানো হয়ত৷”
মেহেরীণ এদিক ওদিক তাকায়।
“না আমি জানিনা৷”
কায়ান ঘাড়টা কাত করে মেহেরীণের দিকে তাকায়।
“সিকদার নিবাস থেকে বেরিয়ে যাও মেহেরীণ। নিজ থেকে বের না হলে তোমার ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তোমাকে বের করব আমি। খুব বড় বেইজ্জতি হয়ে যাবে।”
মেহেরীণের চোখ বড় বড় হয়ে যায়।
“কোন ভিত্তিতে আমাকে বার করতে দিতে চাইছো তুমি?”
“তুমি কি জনাে না তুমি কি করেছো?”
“ত তুমি এত সিওর কিভাবে? আমিই গুন্ডা পাঠিয়েছি৷ “
কায়ান শব্দ করে হেসে দেয় কথাটা শুনে।
“সিকদার কায়ান মাহাবুব কে এতটা ঠুনকো মনে করেছো মেহেরীণ? আর নিজের কথায় নিজেই ফেসে গেলে। তুমি কি করে জানলে আমি গুন্ডা পাঠানোর কথাই বলেছি? এত বড় কান্ড ঘটিয়েছো মেহেরীণ, পরিণতি ভোগার জন্য প্রস্তুত ত?”
মেহেরীণ থতমত খেয়ে যায়। আসলে ভুল করে ধরা খাওয়ার পর মানুষের মাথা কাজ করেনা এটাই সাভাবিক।
“অফিসিয়ালি এখনো আমি তোমার স্ত্রী কায়ান! “
“নো ম্যাটার হু ইউ আর৷
ইউ ডেয়ার টু টাচ হোয়াট বিলংস টু মি।
আই উইল ডিসট্রয় ইউ আই প্রমিস৷”
“সেরিন কোন জিনিস নয় সেত একটা মানুষ। ত তাহলে তোমার জিনিস হলো কিভাবে? “
কায়ান বাঁকা হাসে।
“সেরিন আমার, ওর মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত আমার। ওর শরীর ওর মন সব কিছু আমার৷”
কথা গুলো বলার সময় কায়ানের এগ্রেসিভনেস দেখে মেহেরীণ ভয় পেয়ে যায়।
ওর মুখশ্রী রক্তিম হয়ে উঠেছে।
মেহেরীণ মাথা নুইয়ে নেয়।
“মিস মেহেরীণ, জাস্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ কি করি আমি।”
কায়ান বেরিয়ে যায় রুম থেকে।
মেহেরীণ ভয়ে কান্না করে দিয়েছে।
সে তড়িঘড়ি করে নিজের রুমে চলে যায়।
ফোন হাতে দ্রুত বাবার নাম্বার ডায়েল করে।
কায়ান সিকদার নিবাস থেকে বেরিয়ে সোজা হিমেলের অফিসে চলে যায়৷
কায়ানকে দেখে হিমেল উঠে দাঁড়ায়,
“হেই কায়ান। কি অবস্থা ভাই?”
কায়ান, হিমেল কে হাগ করে,
“আলহামদুলিল্লাহ খুবই ভালো।
তারপর বলো কোথায়? “
হিমেল বাঁকা হাসে,
“তুই খুবই ডেস্পারেট ভাই?”
“ভীষণ।”
হিমেল এরপর ড্রয়ার থেকে একটা স্টিক বের করে কায়ানের হাতে দেয়৷
“এটা ট্রায় করতে পারিস ভীষণ মজবুত৷”
কায়ান বাঁকা হাসে,
“ইউ অলোএজ নো হোয়াট আই ওয়ান্ট।”
“সাধে কি তোর বেস্টফ্রেন্ড নাকি রে?”
কায়ান হাসে।
এরপর জেলে থাকা একটা সিক্রেট রুমে চলে আসে। এখানে মূলত জাবত জীবন কারাদন্ডিরা থাকে।
এটা মূলত একটা পুরাতন জেল। এখানে এমন কিছু রুম আছে যেখানে আলো পর্যন্ত পৌছায় না।
এবং সেগুলো মানুষকে টর্চার করার জন্য তৈরি করা হয়েছিলো।
হিমেল এবং কায়ান সেখানে এসে দেখে ছেলে গুলোকে বেঁধে রাখা হয়েছে।
ওদের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিলো স্টেটমেন্ট নেওয়ার জন্য।
তবে ইতিহাসে এটা প্রথম রিমান্ড যেটার জন্য কোর্ট কোন আদেশ দেয়নি।
“ত কি করব এগুলোকে চালান করে দেব?”
“ওরা স্টেটমেন্ট দিয়েছে?”
“হ্যাঁ এবং আরও একটা গুড নিউজ৷”
“কি?’
” ওরা মেহেরীণের সাথে কথা বলা কল রেকর্ড গুলোও দিয়েছে।”
“ওয়াউ। গ্রেট।”
“তাহলে এবার তুই কি করবি?”
কায়ান তখন বিনা বাক্যে সামনে থাকা ছেলে গুলোকে উদাম পেটাতে থাকে।
প্রতিটা আঘাতে ছেলে গুলো চিৎকার করে উঠছিলো।
হিমেল কিছুদুরে দাঁড়িয়ে সবটা দেখছিলো।
প্রায় ৩০ মিনিট গরুর মত পেটানোর পর সমস্ত ছেলে গুলো রক্ত রক্ত হয়ে গিয়েছে।
কায়ানের মুখে সার্টেও রক্তের দাগ ছিটে লেগেছে। কায়ানকে ভয়ঙ্কর দেখাচ্ছে।
এটা সে কায়ান নয় যাকে পুরো পৃথিবী চিনে।
কায়ান ফিরে তাকায়। ওর কোঁকড়া চুল বেয়ে রক্ত পড়ছে মুখের উপর।
হিমেল তা দেখে বলে,
“ভাই সেরিন তোর এই রূপ দেখলে জীবনে বিয়ে করবে না।”
কায়ানকে একজন কনস্টেবল টিস্যু এগিয়ে দেয়। কায়ান নিজের ফেস ক্লিন করতে করতে বলে,
“এই জন্য সে কখনো আমার এই দিকটা দেখবেই না।”
“আর যদি দেখে?”
কায়ান মাথা তুলে তাকায়।
“তুইত জানিস যেটা আমার সেটা আমার। এবার আমাকে মেহেরীণকে টাইট করতে সাহায্য কর৷”
“তুইত ডিভোর্স নিয়ে নিতে পারতেছিস সমস্যা কোথায় তাহলে?”
“সমস্যা হলো ওর বাপ। বুইড়া কথা না শুনলে মেরে ফেলব আগে থেকেই বলে রাখলাম।”
“হাহা বড্ড ভয়ঙ্কর হয়ে যাস তুই সেরিনের বিষয়ে।”
“হওয়টা সাভাবিক নয় কি?”
“না এতটা এগ্রেসিভ হওয়াটা সাভাবিক নয় ভাই। রিলাক্স। পালায় যাচ্ছে না কোথাও।”
“পালাতে দিবও না। পা ভেঙে ঘরে রেখে দেব৷”
কথাটা বলে কায়ান বেরিয়ে যায়। এতটা গম্ভীর ভাবে বলেছে যে এক সেকেন্ড এর জন্য হিমেলও ভয় পেয়ে গিয়েছে।
“এটা কি ছিলো?”
হিমেল দ্রুত কায়ানের পিছু পিছু বের হয়৷
“আর যাই করিস মেহেরীণকে মারিস না। এটা ধামাচাপা দেওয়া মুসকিল হয়ে যাবে।”
“রিলাক্স, ওকে ঘৃণা করি কিন্তু জারিফ, জিনুকে আমি ভালোবাসি। ওদের আসল বাবা আমি নই। কিন্তু ওদের বাবার সব দায়িত্ব পালন করেছি আমি। সো ওদের কথা ভেবেই মেহেরীণকে প্রাণে বাঁচিয়ে রাখব। “
“যাক বাবা বাঁচা গেলো।
এখন কোথায় যাবি?”
“বাড়িতে।”
“সেরিনের সাথে যোগাযোগ করেছিস?”
“কোন উপায় নেই৷”
“যাহ বাবা৷ ওর ফোন?”
“আমি ভেঙে ফেলেছিলাম সেদিন৷”
হিমেল বিরক্তিতে চোখ ঘোরায়।
“ডাকাত সালা৷”
“নারে ভাই এখনো পুরোপুরি ডাকাত হয়ে পারিনি৷”
কথাটা বলে কায়ান গাড়িতে উঠে।
হিমেল দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
এরপর ভেতরে থাকা ওই ছেলে গুলোকে হসপিটালে নিয়ে যেতে বলে।
কায়ান গাড়ি চালাতে চালাতে ভাবছে শুধু সেরিনের কথা।
দু’টো চোখের সামনে ভেসে আসে সেরিনের সাথে কাটানো প্রতিটা কাছের মুহুর্তের কথা।
কায়ান এক রাস্তার এক সাইডে গাড়ি থামায়৷
“সেরিন, তুমি আমার উপর এটা কেমন জাদু করলে?
একটা সেকেন্ড আমার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তুমি বিহীন। আবার আশা করো আমার জীবন থেকে দুরে চলে যাবে।
ছ্যা ছোটলোকি চিন্তা ভাবনা৷”
কথা গুলো বলতে কায়ানের ঠোটে ফোটে অদ্ভুত এক হাসি। সেই হাসিতে ভয়ঙ্কর রহস্য লুকিয়ে।
চলবে?
[ গল্প মাত্র ইন্টারেস্টিং হওয়া শুরু করেছে। ]
Share On:
TAGS: কিস অফ বিট্রেয়াল, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৩
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৪৩
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩০
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৯
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৬
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৪
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৫
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৬
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৭
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩৩