কিসঅফবিট্রেয়াল
পর্ব_১৭
লামিয়ারহমানমেঘলা
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
সেরিন মনে মনে ভাবে এই ঘটনা বা দৃশ্য সেও কখনো ভুলতে পারবে না৷ সে সত্যি কখনো ভুলতে পারবে না এই ২ টা দিন।
সকালের ব্রেকফাস্ট করার পর ঘন্টা এক কেটে যায়।
এরপর জেবরান এবং কায়ানের বন্ধু হিমেলের টিম চলে আসে মকবুল মিয়ার বাড়িতে।
সেরিন তখন রুমের পেছন দিকের জানালাটা দিয়ে বাহিরের দৃশ্য দেখছিলো। কায়ান ওয়াসরুমে গেছিলো।
জেবরান এসেই কায়ানের নাম ধরে ডাকে।
সেরিন, জেবরানের কন্ঠ শুনে বেরিয়ে আসে।
“ভাই৷”
সেরিনকে দেখে জেবরানের মুখে হাসি ফোটে,
“সেরিন কেমন আছো?”
“আমি আলহামদুলিল্লাহ।”
সেরিনের কথা শেষ হতে না হতে ভেতর থেকে মনিরা বেগম বেরিয়ে এলেন,
“ও মা বউ এইডা কেডা?”
জেবরান ভ্রু কুঁচকে তাকায়। সেরিনত ফেসে গিয়েছে। সে কিছু বলবেই এমন সময় পেছন থেকে কায়ান বলে,
“এটা আমার ভাই চাচি৷”
মনিরা বেগম এক গাল হাসি দিয়ে ওদের স্বাগতম জানায়৷
“ও মা, তাই। মাসআল্লাহ। তোমরা ভেতরে আহো?”
প্রতিত্তোরে জেবরাহ হেসে বলে,
“শুকরিয়া চাচি। তবে এখন নয়, আপনি যে আমার ভাই আর সেরিনকে জায়গা দিয়েছেন এটাই অনেক। চট্টগ্রাম ফিরতে হবে। আমার আম্মা বেগম খুবই চিন্তিত ওদের নিয়ে।
মনিরা বেগম হাসলেন,
” হ বাবা জানি। তোমার আম্মার মনডা নিশ্চিত ছেলে, ছেলের বউরে না পাইয়া খুবই খারাপ।”
কথাটা শোনা মাত্র জেবরান, কায়ানের দিকে তাকায়। কায়ান ইসারা করে চুপ থাকতে বলে।
জেবরান ফের সেরিনের দিকে তাকায়। সেরিনের পরনে সুতি শাড়ি দেখতে পুরাই বউ বউ লাগছে। সেরিনও কোন প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে না যেন কিছুই হয়নি।
জেবরান তাই চুপ থাকে এই বিষয়ে।
মনিরা বেগম তার কথা শেষ করেন,
“সারাডা দিন আমার পিছে পিছে থাকছে সোনা বউ। আমার যে কি ভালো লাগছে। এরাম বউ পাওয়া ভাগ্যের বিষয়৷ শোন কায়ান বাপ, বউরে কিছু নিয়ে কখনো বকবি না। সোনার টুকরো বউ পাইছিস সামলায় রখবি। “
কায়ান মৃদু হেসে সবার থেকে বিদায় নেয়।
এরপর হিমেল আসে কায়ানের সামনে।
“ভাই কেমন আছিস?”
কায়ানকে জড়িয়ে ধরে। কায়ানও জড়িয়ে ধরে,
“ভালো। তোর সাথে আমার কাজ আছে৷ “
হিমেল কায়ানকে থামিয়ে বলে,
“রিলাস্ক ব্রাদার আমি জানি কি কাজ। তোর টেনশন নাই আমি সামলে নিব৷”
কায়ান হাসে।
জেবরান কায়ানকে চাবি দেয়।
কায়ান, সেরিনকে নিয়ে উঠে বসে।
কায়ানের গাড়িটাও জব্দ করেছে হিমেল।
আসলে হিমেল কোন সাধারণ পুলিশ অফিসার নয় সে যদি চায় তবে অনেক দুর পর্যন্ত যেতে পারে।
যে গুন্ডা গুলো ওদের পেছনে পড়েছিলো ইতিমধ্যে তাদের একজনকে ধরেছে হিমেল। আর ৪ জনকে ধরলেই হয়ে যাবে।
সেরিন গাড়িতে উঠে একবার শেষ বাড়িটার দিকে তাকায়৷
কত গুলো স্মৃতি জড়িয়ে গেলো এই বাড়ির সাথে।
সেরিন মৃদু হেসে হাত নাড়িয়ে সবাইকে বিদায় জানায়। মকবুল মিয়া, মনিরা বেগম এবং ওই বাচ্চা কর্মচারী ছেলেটাও ছিলো।
ওরা চলে যাবার সময় অবশ্য কায়ান একটা প্যাকেট দিয়ে গেছিলো মকবুল মিয়াকে৷
মকবুল মিয়া সেই প্যাকেটের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
ওরা দৃষ্টি সীমানা থেকে বেরিয়ে গেলে মকবুল মিয়া প্যাকেট খানা খুললো।
অনেক গুলো টাকা আর একটা চিঠি৷
মকবুল মিয়া অবাক হয়ে গেলেন। চিঠিতে লেখা,
“ছেলে বলেছেন আমাকে। ছেলের ইনকাম থেকে কিছুত নেওয়া যায়। ফেরত দেওয়ার কথা ভাববেন না। বাড়িটা ঠিক করিয়ে নিয়েন। আরও কিছু লাগলে আমার কার্ড দিয়েছি ফোন করবেন অফিসে আসবেন। চট্টগ্রাম এসে সিকদার কায়ান মাহাবুবের নাম বললেই সবাই চিনবে।
আর হ্যা পরের বার আপনার নাতি অথবা নাতনিকে নিয়েই আসব৷
ভালো থাকবেন চাচা। চাচিকে সালাম দিয়েন৷”
মকবুল মিয়ার চোখ দু’টো ছলছল।
মনিরা বেগম স্বামীকে ধরলেন,
“নিজের পোলা যা কোন দিন করলো না, ভাবলো না। পরের একটা পোলা আইসা তা ভাইবা গেলো। যে মায়ের সন্তান ছেলেটা সেই মায়ের কত ভাগ্য।”
পাহাড়ি রাস্তায় প্রবেশ করেছে কায়ান সেরিনের গাড়ি।
সেরিনের মন খারাপ। কেন জানিনা অদ্ভুত এক খারাপ লাগা কাজ করছে তার ভেতর।
এই খারাপ লাগার নাম তার জানা নেই।
তবে মনে হচ্ছে কিছু থেকে সে বঞ্চিত হচ্ছে।
সেরিনের মন খারাপ দেখে কায়ান হুট করেই গাড়ি থামায়৷
সেরিন অবাক হয়। কায়ান ফোন বের করে হিমেল কে কল করে। দু রিং হতে হিমেল ফোন ধরে,
“হ্যালো বল।’
” কোথায় তুই?”
“তোদের গাড়ির পেছনে।’
“ওখানেই থেমে যা। ২০ মিনিট পর গাড়ি স্টার্ট করবি।”
হিমেল ভ্রু কুঁচকে গাড়ি থামিয়ে দেয়। এরপর প্রশ্ন করে,
“কি করতে চাইছিস তুই?”
“কিছু না। জেবরান কে… “
হিমেল বাঁকা হাসে,
“ওকে সামলে নেব৷’
হিমেল কল কেটে দেয়। জেবরান তাকিয়ে আছে তার দিকেই৷
হিমেল হেঁসে বলে,
” অনেকটা পথ এলাম। কিছু খেয়ে নি চলো এখান থেকে৷’
“ভাই দের ডাকলে হতো৷’
” ওরা বেশ দুর এগিয়ে গেছে কিছু খাবার নিয়ে যাব ওদের জন্য।”
“ওকে৷”
জেবরান, হিমেল নেমে পড়ে গাড়ি থেকে।
ওদিকে,
সেরিন ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে ছিলো কায়ানের দিকেই।
কায়ান বাকা হেসে, নিজের সিটবেল্ট খুলে সেরিনের সিট টাকে শুইয়ে দেয়৷
হটাৎ হওয়া কান্ডে সেরিন থতমত খেয়ে যায়।
পলক ফেলতে কায়ানকে নিজের উপরে আবিষ্কার করে সে।
সেরিনের চোখ বড়বড় হয়ে যায়।
কায়ান নিচু হয়ে বিনা বাক্যে সেরিনের ওষ্ঠদ্বয় আঁকড়ে ধরে৷
সেরিন স্তব্ধ হয়ে যায়৷ তবে সে কোন প্রতিক্রিয়া জানায় না। কায়ান এতটা ওয়াইল্ড কিস করতে শুরু করে সেরিনকে। সেরিন, কায়ানের পরনের সার্ট খানা খামচে ধরে শক্ত করে।
কায়ান ধীরে ধীরে তাকে আরও কাছে টেনে আনে। আবেশময় নীরবতায় তার ওষ্ঠদ্বয় আলতো থেকে এবার গভীর ভাবে ছুঁয়ে দেয় প্রেয়সীর অধরে। মুহূর্তটি ক্রমেই গভীর হয়ে ওঠে,মৃদু উষ্ণতায় কায়ান তার অধরদ্বয় শুষে নিতে থাকে, আর নিঃশ্বাসের উষ্ণ স্পর্শে তাদের দুই প্রাণের স্রোত যেন একাকার হয়ে যায়। চারপাশের সব শব্দ মিলিয়ে গিয়ে থাকে কেবল হৃদস্পন্দনের মৃদু সুর আর সেই অন্তরঙ্গ।
কায়ানের হাত, সেরিনের ছুটতে থাকা হাত দু’টোকে গাড়ির সিটের সাথে চেপে ধরে।
সেরিনের পা দুটো কুঁকড়ে আসে।
বেশ কিছুক্ষণ পর কায়ান সরে আসে। সেরিন নিঃশ্বাস নিতে থাকে ঘনঘন।
কায়ান সেরিনের বেহাল দশা দেখে কিনচিৎ বাকা হাসে।
এরপর সে সরে আসে নিজের সিটে।
সেরিন তখনো ঘোরের ভেতরেই ছিলো।
কায়ান ধিরে সেরিনের সিট উঠিয়ে দেয়।
সেরিন তখন, কায়ানের দিকে আড় চোখে তাকায়।
কায়ান নিজের নিচের ঠোঁট লিক করে বলে,
“সেরিন, ফিরে গিয়ে আমায় ভুলতে চাইলেও দিব না। মনে রেখো।”
সেরিন মাথা নামিয়ে নেয়। গাল দু’টো লাল হয়ে গিয়েছে।
কায়ান মৃদু হেসে আবার গাড়ি স্টার্ট করে।
কিছুক্ষণ আরও ড্রাইভিং করে তারা পৌঁছে যায় সিকদার নিবাসে।
বানু মির্জা সদর দরজায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন।
পরপর দু’টো গাড়ি প্রবেশ করতে দেখে তিনি হাফ ছেড়ে বাঁচলেন।
প্রথমটা থেকে জেবরান এবং হিমেল বেরিয়ে আসে। পরের টা থেকে কায়ান এবং সেরিন৷
কায়ান গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে।
মায়ের তৃষ্ণার্ত চোখ দু’টো ছেলেটাকে দেখার জন্য পাগল হয়ে গেছিলো।
কায়ানকে দেখে পেছন থেকে জারিফ, জিনু দৌড়ে আসে,
“পাপা। পাপা কোথায় গেছিলে?”
কায়ান জারিফকে কোলে তুলে জিনুর কপালে চুমু খায়।
সেরিনের হাসিটা উবে গেলো৷
পেছন থেকে শিমুল দৌড়ে বেরিয়ে সেরিনকে জড়িয়ে ধরে।
সেরিনও, শিমুলকে জড়িয়ে ধরে,
“সেরিন আমার জান৷ ঠিক আছিসত?”
“হ্যাঁ ঠিক আছি। চিন্তা করিস না আপু৷”
“তুই জানিস কত ভয় পেয়ে গেছিলাম আমি?”
“রিলাক্স আমি ঠিক আছি।”
“রিলাক্স বলছিস দু’টো দিন আমার ঘুম হয়না৷”
সেরিন, মৃদু হেসে বোনকে বোঝাতে চায় সে ঠিক আছে।
“মা বাবা এসেছে।’
” কখন?”
“সকালে।”
সবাই ভেতরে প্রবেশ করে।
মেহেরীণ শিড়ি বেয়ে নামছিলো নিচে। কায়ানকে দেখে মেহেরীণ দৌড়ে যায়। তবে কায়ানকে হাগ করার আগেই কায়ান মেহেরীণকে ধরে ফেলে। মেহেরীণ অবাক হয়ে তাকায়। আশেপাশে এত মানুষের ভিড়েও কায়ান তাকে স্পর্শ করতে দিলো না।
“মেহেরীণ জাস্ট দুরে থাকো কিছুক্ষণ। প্লিজ।”
কায়ানের রুডনেস দেখে সবাই অবাক হয়।
সেরিন আড় চোখে তাকায় মেহেরীণের দিকে। মেহেরীণের চেহারায় রাগ স্পষ্ট। সেরিনের কেন জানিনা খুব ভালো লাগে বিষয়টা।
সোফায় সেরিন, শিমুলের মা বাবা, আবু সুফিয়ান এবং নূরবানু সিকদার বসে।
সেরিনের মায়ের বংশও সিকদার।
সেরিন মা বাবাকে দেখে এগিয়ে যায়।
নূরবানু সিকদার, মেয়েকে জড়িয়ে ধরেন,
“সেরিন। কেমন আছিস মা?”
“ভালো আম্মু তুমি কেমন আছো?’
” আমিও ভালো।”
সেরিন বাবার কাছে এগিয়ে যায়।
আবু সুফিয়ান মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু খায়।
“আম্মা জান। তাহলে এবার বাড়িতে যেতে হয়৷”
আসলে ওরা কেউ জানেনা সেরিন এবং কায়ানের ঘটনা৷ ওরা জানে সেরিন এডমিশনের কাজে গিয়েছিলো কায়ানের সাথে।
সেরিন মৃদু হেসে মাথা নাড়ায়৷
বানু মির্জা এগিয়ে এলেন,
“এটা বললে হয় ভাইজান। খেয়ে যাবেনত। না খেয়ে আমি কোথাও যেতে দেব না৷”
“আজ আর না। এমনিতেও কুমিল্লা যেতে সময় লাগবে৷”
“কিন্তু।”
“আর কিন্তু না আপা। আজ আসি। এমনিতেও সেরিন অনেক দিন ছিলো।”
শিমুল এগিয়ে যায়।
“আব্বু থাকেন না। খেয়ে জান।”
“না মা আজ না পরে একদিন আসব৷”
শিমুলের মন খারাপ হয়ে যায়। তবে সব থেকে বড় ধাক্কাটা খেয়েছে কায়ান। একটা সেকেন্ডও সেরিন ছাড়া এখন কষ্ট তার কাছে।
তার উপরে সে নিজ হাতে সেরিনের মোবাইলটা নষ্ট করেছে। এবার কি হবে।
ওদিকে মেহেরীণ ভিষণ খুশি। সেরিন যে চলে যাবে এটাই শান্তি তার কাছে।
“আচ্ছা সেরিন তাহলে চল আমার রুম থেকে ফ্রেশ হয়ে পোশাক টা বদলে নিবি।”
শিমুলত জানে সেরিনের অবস্থা তাই সে প্রস্তাবটা রাখে।
সেরিন বোনের সাথে চলে যায়।
কায়ান তাকিয়ে রয় সেদিকে।
সেরিনকে একটা ড্রেস দেয় শিমুল। সেরিন বোনের ড্রেস নিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসে।
এরপর সেরিনের মা বাবা সেরিনকে নিয়ে রওনা করে।
সবার থেকে বিদায় নিয়ে তারা বেরিয়ে যায় কুমিল্লার উদ্দেশ্যে।
যাবার সময় সেরিনের সাথে কায়ানের কোন কথা হয়নি। সুযোগ পায়নি সে।
কায়ানকে প্রচন্ড বিরক্ত লাগছে। একটা সেকেন্ডও একা পেলো না মেয়েটাকে।
হিমেলও বেরিয়ে আসে।
” আচ্ছা এবার আমার যাওয়ার পালা।”
“পেয়েছিস?”
“হ্যাঁ চিন্তা নেই বাকি ৪ জন ধরা পড়ে গিয়েছে। বিকালে থানায় আয়। সব বেরিয়ে যাবে।”
হিমেল মেহেরীণের দিকে তাকিয়ে কথা গুলো বলে। মেহেরীণ চোখ সরিয়ে নেয়।
হিমেল বাঁকা হাসে। ছোট করে কায়ানকে বলে,
“এবার ক্লাস নিতে পারবি। কষ্ট করে ডিভোর্স টাও৷”
কায়ান বাঁকা হাসে,
“অধির আগ্রহে বসে আছি ভাই। জাস্ট এই সাতচুন্নিকে ঘাড় থেকে নামাতে পারলে বাঁচি।”
সবাই বেরিয়ে গেলে সিকদার নিবাস পুনরায় নিস্তব্ধতায় ঘিরে যায়।
সব থেকে বেশি কায়ানের বুকটা ফাঁকা হয়েছে। ভেতরটা হাহাকার করছে।
গাড়ি চলছে আপন গতিতে।
সেরিন গাড়ির সিটে হেলান দিয়ে বসে আছে।
তার ভেতরটা কেমন করছে। সে নিজেও জানেনা কেমন তবে খুবই অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে।
কায়ানের উপর রাগও হচ্ছে। কি দরকার ছিলো ফোনটা ভেঙে ফেলার।
সেরিনের ভেতরে যেন ভীষণ কষ্ট চাপা পড়েছে।
চলবে?
[রেসপন্স করবা ঠিক ঠাক। ]
Share On:
TAGS: কিস অফ বিট্রেয়াল, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১১
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ২
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৮
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩১
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩৮
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৫
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৮
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩৬
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১৬
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১২