Golpo romantic golpo কিস অফ বিট্রেয়াল

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১৪


কিসঅফবিট্রেয়াল

পর্ব_১৪

লামিয়ারহমানমেঘলা

[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
কায়ান একটু উকি দিলো।
রাস্তাটা একটু উঁচু জায়গায়। দু পাশে নিচু হয়ে বেশ কিছু বাড়ি ভেতরের দিকে। তবে যেন জঙ্গলে ঘেরা চারিদিকেই।
কায়ান, সেরিনের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়।
সেরিন, কায়ানের হাতের দিকে তাকায়। এরপর কায়ানের দিকে।
কায়ান ইসারা করে ধরতে।
সেরিন, হাত বাড়িয়ে কায়ানের হাত ধরে। কায়ান শক্ত করে সেরিনের হাত ধরে।
সেরিন উঠে দাঁড়ায়।
দু’জন এক সাথে দোকানির বাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। তাদের পেছন পেছন দোকানদার।
বাড়িটা ছোটখাটো। চারিদিকে জঙ্গল। আশেপাশে বাড়ি গুলোও দুরে দুরে।
দোকানদার ভেতরে এসে তার স্ত্রীকে আওয়াজ দেয়

“মনিরা ও মনিরা একটু বাইর হও৷”

ভেতর থেকে একজন মহিলা বেরিয়ে এলো, পরনে সুতি প্রিন্টের শাড়ি। আঁচল মাজায় গোঁজা, হাতে তার খুন্তি হয়ত তিনি রান্না করছিলেন।

“কি হইছে?”

দোকানি এগিয়ে এলেন,

“ওনারা একটু বিপদে পড়ছেন। মাইয়াডা একটু বাথরুমে যাব। নিয়া যাও৷”

মহিলা এরপর পেছনে তাকিয়ে কায়ান এবং সেরিনকে দেখলেন।
ওদের জামা কাপড়ে মাটি কাঁদা লেগে আছে।
তবে দেখেই বোঝা যাচ্ছে ভালো পরিবারের সন্তান।

“এরা কারা?”

“স্বামী স্ত্রী, কোথাও যাচ্ছিলেন ওই ভাইতো ডাঙ্গা না যারে আমার ডাকাত ডাঙ্কা কই। ওইহান থেকে ডাকাতে ধরছে নাকি। ওনারা পলায় আইছে এই দিকে৷”

কায়ান ভ্রু কুঁচকে তাকায়। কই সে এই লোকটাকেত কিছুই বলেনি তাহলে লোকটা জানল কিভাবে।

মহিলা স্বামীর কথা শুনে সেরিনের দিকে তাকায়।

“ভারি খারাপ হইছে। আসো মা আমার সাথে আসো৷”

মহিলা সেরিনকে নিয়ে যেতে লাগলেন। সেরিন একবার কায়ানের দিকে তাকায়।
কায়ান ইসারায় বোঝায় সে এখানেই আছে।
লোকটা কায়ানকে চেয়ার বেরিয়ে দেয়।

“বসেন।”

কায়ান বসে চেয়ারে। লোকটা সামনেই বসে শিড়িতে,

“তা আপনি বউরে নিয়ে এই দিকে কোন হানে যাচ্ছিলেন?”

“আপনার প্রশ্নের উত্তর পরে দেই তার আহে বলুন আপনি কি করে জানলেন এসব?”

“ওই যে জহির ভাই আপনি যে দোকানে প্রথম গেলেন হে আমারে কল করে কইলো সব।”

কায়ান অবাক হয়। জাস্ট ৫ মিনিটে কথা পাছ হয়ে গেলো।
কায়ান একটু পর্যবেক্ষণ করে চারিদিকে। আসলে গ্রামের মানুষ এরা সহজ সরল।
কায়ান কোন ঘোরপ্যাঁচ লক্ষ করলো না।

সেরিন ওয়াসরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে বের হয়৷ মনিরা বেগম তখন বাহিরেই ছিলেন।
সেরিনকে বের হতে দেখে বলেন,

“কাজ শেষ?”

সেরিন জোরপূর্বক হেসে উত্তর দেয়,

“হ্যাঁ।”

“তোমার জামা নোংরা হয়ে আছে আমার একখান শাড়ি পরবা?”

“আহ না না ধন্যবাদ। আসলে আমাদের হয়ত এখনি নিতে আসবে৷”

“কিডা?”

সেরিন নিজের চুল কানের পেছনে গুঁজে বলে,

“আমার হাসবেন্ড এর বন্ধু৷”

“ও। আসো তয়লে বাইরে আসো।”

সেরিন ফিরে এলে কায়ান উঠে দাঁড়ায়।
সেরিন গিয়ে কায়ানের পাশে দাঁড়ায়।
এমন সময় হটাৎ রাস্তা থেকে একটা ছেলে দৌড়ে নেমে আসে বাড়ির দিকে,

“ও মগবুল কাকা দেখো তোমার দোকানে রাখা ফোনডা বাজতেছে।’

ছেলেটার হাতে কায়ানের ফোন।
কায়ান ফোনটা নিয়ে নেয়।
জেবরান কল করেছে।

” হ্যালো জেবরান”

“ভাইয়া কোথায় আছো এখন সেফ আছোত?”

কায়ান চারিদিকে চোখ বুলায়।

“হ্যাঁ সেফ আছি। তুই বল।”

“ভাইয়া ওই চাচুড়িয়া বাজার হচ্ছে XXX ইউনিয়নে। চট্টগ্রাম থেকে ওখানে যেতে একটাই রাস্তা৷ কিন্তু ওই রাস্তাটা পাহাড়ের মাঝে। সমস্যা হচ্ছে হটাৎ করেই পাহাড় থেকে বিরাট এক খন্ড পাথর ভেঙে পড়েছে রাস্তায়। রাস্তা ব্লক হয়ে গেছে। আমারত কোন ভাবেই যেতে পারছি না। সব বন্ধ। ওখানের পুলিশ কে বলেছে হিমেল ভাইয়া। ওরাই তোমাদের কোন ভালো জায়গায় আজকে থাকার ব্যাবস্থা করে দেবে। কাল পর্যন্ত রাস্তা খুললেই আমরা চলে আসব৷”

কায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে। এসবও এখনি হওয়ার ছিলো। কায়ান একবার সেরিনের দিকে তাকায়। সেরিনের মুখটা শুকিয়ে আছে।
কিন্তু এখন কিছু করাও যাবে না।

“আচ্ছা ঠিক আছে।”

“আচ্ছা ভাইয়া। একটু ম্যানেজ করো”

“সমস্যা নাই আম্মা বেগমকে বলবে দোয়া করতে।”

“জি ভাই।”

কায়ান কল কেটে দেয়। সেরিন তাকিয়ে ছিলো তার দিকেই।
কায়ান, সেরিনের গালে হাত রাখে,

“আর একটা রাত কষ্ট করতে হবে সেরিন। রাস্তায় পাহাড় থেকে পাথর পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে রাস্তা। এখন কিছুই করার নেই।’

সেরিন কিছু বলবে তার আগেই পেছন থেকে মনিরা বেগম বলে উঠলেন,

” আইজ রাত আমাগো বাড়িতেই থাকো বাপ। আমারো তোমার মত একটা পোলা ছিলো। পোলাডা অবশ্য অহন আর আমাগো খোঁজ নয় না। তয় তোমার বউডারে দেইখা আমার পরানডা জুড়ায় গেলো।
কাইল তোমার ভাই আসলে চইলা যাইও আজ আমাগো বাড়িতেই থাহো।”

কায়ান কিছুক্ষন ভেবে উত্তর দেয়,

“জি ঠিক আছে৷”

মনিরা বেগম খুশি হয়ে গেলেন। তিনি সেরিনের দিকে এগিয়ে আসেন,

“আসো বউ গোসল করে আমার একখান শাড়ি পইরা নিও৷”

সেরিন, কায়ানের দিকে তাকায়। কায়ান যেতে বলে।
সেরিন চলে যায়৷
মকবুল মিয়া, এগিয়ে এলেন কায়ানের দিকে,

“তুমিও এইসব আর পইরো না। লুঙ্গি আর গেঞ্জি দেই তোমারেও আসো৷”


কিছুক্ষণ পর,
সিকদার নিবাস।
বানু মির্জা এখন একটু শান্ত হলেন। পুলিশ খবর পাঠিয়েছে। কায়ান এবং সেরিন সুস্থ আছে।।তা ছাড়া কায়ানের সাথে এখন কথাও বলা যাচ্ছে।
তবে বাচ্চা দু’টোকে ফিরে না পেলে তিনি পুরোপুরি শান্ত হতে পারছেন না।
কাল রাত থেকে বানু মির্জা কিছু খায় নি। তাই শিমূল শ্বাশুড়ির জন্য লাঞ্চ সাজিয়ে নিয়ে এসেছে।

“আম্মা বেগম আসব?”

বানু মির্জা উঠে বসলেন,

“এসো।”

শিমূল খাবার নিয়ে এগিয়ে এলো,

“আম্মা বেগম আপনার খাবার। কাল থেকে কিছু খান নি। এখনত খেয়ে নিন। এখনত ওদের খোঁজ পাওয়া গেছে। কথা হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ কাল হতে হতে ওরা চলে আসবে।”

বানু মির্জা হাসলেন মৃদু।

“হ্যাঁ , আল্লাহ বাচ্চা দুটোকে আমার বুকে ফেরায় দিক৷”

“আমিন৷”

শিমূল শ্বাশুড়িকে খাইয়ে বেরিয়ে এলো। বাহিরে মেহেরীণ দাঁড়িয়ে ছিলো। মেহেরীণকে দেখে শিমূল অবাক হলো,

“মেহেরীণ ভাবি কি হয়েছে?”

মেহেরীণ চমকে উঠলো,

“ক কই কিছু নাত। কি করছিলে? আম্মা বেগমকে খাবার দিচ্ছিলে?”

“জি ভাবি।”

“ভালো। আমিত শুনতে এসেছিলাম খাবেন কি না।”

কথাটা বলে মেহেরীণ দ্রুত স্থান ত্যাগ করলো। শিমূল তাকিয়ে রইলো সে দিকে। ভারি অবাক কান্ড।


সেরিনকে একটা সুতি শাড়ি পরিয়ে দিয়েছে মনিরা বেগম।
সেরিন শাড়িটা পরে বেরিয়ে আসে। তাকে এখন গ্রামের বউ বউ লাগছে।
কায়ানও একটা লুঙ্গি এবং গেঞ্জি পরেছে।
সেরিন এবং কায়ানের চোখাল হতে দু’জনই থমকে যায়। এ জেন আলাদা কোন সাজ। একেবারে অন্য রকম।
কায়ানের হাতে তার জামা কাপড়।
পেছন থেকে বানু মির্জা দু’জনের মাঝে চলে আসে,

“কই যাও তুমি বেটা মানুষ হইয়া?”

কায়ান কিছুটা অবাক হয়।

“কাপড় ধুয়ে দিতে।”

“ও মাহ বেটা ছোয়াল বউ থাকতে জামা ধোয় নাকি। বউ নেত তোর স্বামীর জামা কেচে দিবি। স্বামীকে দিয়ে এসব করাবি না অমঙ্গল হয়।”

কায়ানের বেশ বিরক্ত লাগে। সে কিছু বলবেই তার আগে সেরিন বলে,

“হ্যাঁ হ্যাঁ আন্টি জানি, বাড়িতে ওনার কাপড় আমিই ধুয়ে দি। আসলে এখানে নতুন ত৷”

সেরিন কায়ানের থেকে সার্ট প্যান্ট নিয়ে নেয়।

“দিন আমিই করে দিচ্ছি।”

মনিরা বেগম হাসলেন গাল ভরে। যেন তিনি ট্রফি জিতলেন,

“ওই দিকে কুয়া আছে দেখো৷”

সেরিন গেলো সে দিকে।
বিরাট এক কুয়া। গভীর অনেক। এখান থেকে পানি তুলে এই জামা কাচতে হবে। সেরিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
এরপর বালতি ফেলে পানিতে।
তবে দড়ি ধরে টানার আগেই কেউ তার হাত ধরে বসে। সেরিন ফিরে চায়। কায়ান একেবারে তার সাথে মিশে দাঁড়িয়ে। সেদিনের কিছু বলার আগেই কায়ান দড়িটা টান দেয়। আর পানির বালতি উঠাতে লাগে। সেরিন লজ্জায় লাল হয়ে গেছে।
কায়ান পানি উঠিয়ে দেয় সেরিনকে।
সেরিন পানি নিয়ে কায়ানের জামা ধুয়ে দিতে লাগে।
কায়ান পাশে দাঁড়িয়ে সেটাই দেখছে।
সেরিনের পরনে সুতি শাড়ি। মাথার চুলে গামছা বাধা। এ যেন রূপকথার কোন রাজকন্যার গ্রাম বাংলা বঁধু সেজেছে।
এরপর কিছু মনে হতে ফোনে সেরিনের কিছু ছবি তুলে নেয়।
সেরিনের কাপড় পরিষ্কার করা হলে সেরিন সেগুলো নিয়ে উঠে দাঁড়ায়।
কায়ান এগিয়ে এসে কাপড় গুলো নিয়ে নেয়।

“আমাকে দেও।”

সেরিন কিছু বলেনা দিয়ে দেয়।
কায়ান সেগুলো নিয়ে মেলে দেয়।
সেরিন দাঁড়িয়ে দেখে কায়ানকে।
এমন সময় ভেতর থেকে মনিরা বেগম বেরিয়ে আসেন।

“বউ, আসো খাবার দিছি। বাপ তুমিও আসো।”

সেরিন কায়ান ভেতরে যায়।
তখন মনিরা বেগম যেটা রান্না করছিলেন সেটা সাজিয়ে দিলো কায়ান সেরিনকে।
ওরা দু’জন শহ, মকবুল মিয়া, মনিরা বেগম আর দোকানের কর্মচারী বাচ্চা টা সবাই মিলে লাঞ্চ করলো।
কায়ান ভাবতেও পারেনি অচেনা মানুষকেও মানুষ এমন জায়গা দিতে পারে। শহর হলে হয়ত এমনটা হতো না।
গ্রামের মানুষ, সহজ সরল হয়। তারা অন্য মানুষের দুঃখ বোঝে।

সেরিন এবং কায়ানকে একটা রুম দেওয়া হয়৷
তাদের বাড়িটা ছিলো ছোট। কিন্তু তিনটা রুম ছিলো। এখানের পানি কষ্ট। কুয়া থেকে পানি তুলতে হয়৷
সেরিন কায়ানের রুমের পেছন দিকে যে জানালা ওটা দিয়ে পেছনের জঙ্গল স্পষ্ট দেখা যায়।
সেরিন ভেতরে গিয়ে একটু সে দিকে দেখে।
এরপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
কোথা থেকে কোথায়। কি থেকে কি হয়ে গেলো।
হটাৎ পাশে কারোর উপস্থিতি টের পেয়ে সেরিন ফিরে চায়৷
কায়ান দাঁড়িয়ে। সেরিন মিষ্টি হেসে বলে,

“ঘুমিয়ে নিন। এখানেত কোন ভয় নেই। সারাটা রাত আপনি ঘুমান নি কাল৷”

কায়ান, তাকিয়ে থাকে সেরিনের দিকে। সেরিনের চোখ, ঠোঁট সব কিছু তাকে বড্ড আকর্ষণ করে।
কায়ানের ভেতরে এক অদ্ভুত বাসনা জাগলো। যা ছিলো বেআইনি আপাততঃ। তাই সে কিছুই করলো না।

“রুম থেকে বের হইও না সেরিন। আমার চিন্তা হয়।”

সেরিন মৃদু হাসে।
সে কায়ানের সাথে বিছনায় বসে। কায়ান শুয়ে পড়ে। লোকটা ক্লান্ত শুয়ে পড়তেই ঘুমিয়ে যায়।
সেরিন তাকিয়ে রয় কায়ানের দিকে।
কোকড়া চুল গুলো চোখের উপর এসে পড়ছে।
সেরিনের ভেতর থেকে পুনরায় দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে।
সে কিছুই বুঝতে পারছে না এই মুহুর্তে তার কি করা উচিত।
কায়ানের জন্য তার মনের ভেতর যে জায়গাটা তৈরি হয়েছে। এটাকি ঠিক।
সেরিন চৌকি খাটের কোণায় মাথা ঠেকায়৷
তার বড্ড মিশ্র অনুভুতি হচ্ছে।

চলবে?

[ তারপর বলো। আজকের ছবিটা কতটা মিলল?]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply