কিসঅফবিট্রেয়াল
পর্ব_১৩ [ রহস্য সমাধান -০১]
লামিয়ারহমানমেঘলা
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
“কি বলছেন এসব?”
কায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
“আমি যদি এগুলো না বলতে পারতাম তাহলে বোধ-হয় বেশি ভালো লাগত৷”
এই প্রথম কায়ানের কথার ভেতর অদ্ভুত এক কষ্ট অনুভব করলো সেরিন।
সেরিন, কায়ানের কাঁধে হাত রাখে। কায়ান চোখ তুলে তাকায়,
“আমি বুঝালাম না৷”
কায়ানের চোখে দুঃখ। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে লোকটা কিছু নিয়ে কষ্টে আছে।
সেরিন ফিরে বসে কায়ানের দিকে।
কায়ান, সেরিনের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসে,
“তুমি ঘুমাও আমি পাহারা দেব তোমাকে।”
সেরিনের কথাটা সহ্য হলোনা।
সে এগিয়ে গেলো কায়ানের দিকে। কায়ানের হাত ধরে বলল,
“খুলে বলুন না৷”
কায়ান, সেরিনের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
“এগিয়ে এলে কেন সেরিন? আমার দিকে এগিয়ে এলে ফেরার সকল পথ আমি বন্ধ করে দেব৷”
সেরিন, যেন তাও কথা শুনল না। সে কায়ানের হাতে হাত রাখে,
“বলুন আমাকে। কেন মেহেরীণ ভাবি আমাদের পেছনে গুন্ডা পাঠিয়েছে।”
কায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
“আমি যদি তোমাকে এখন সবটা বলি তবে আমার বলা শেষ শব্দের পর থেকে তোমার নিঃশ্বাস টুকুও আমার হয়ে যাবে সেরিন চাইলেও পালাতে পারবে না। বলো রাজি?”
সেরিন কিছুটা ঘাবড়ে যায়। তবে সে নিজের কন্ঠ স্পষ্ট করে বলে,
“রাজি৷”
কায়ান বাঁকা হাসে। সে হাসি সেরিনের চোখে পড়ে না৷
কায়ান বলতে শুরু করে,
“৭ বছর আগের কথা।
আমার বাবার মৃত্যুর পর সিকদার পরিবারের বড় ছেলে হিসাবে সকল কিছুর দায়িত্ব এসে পড়ে আমার কাঁধে।
সদ্য ভার্সিটিতে ওঠা আমি তখন সবটা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলাম।
কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না আমার আশেপাশে কি ঘটছে।
তবে নিজেকে বাবার মৃত্যু শোক থেকে দুর করার আগেই আমার সামনে ভয়ানক সত্যি উন্মোচন হয়।
যা আমার গোটা পৃথিবী টাকেই আপস এন্ড ডাউন করে দিলো।
অতীত,
সিকদার নিবাসে তখনো পুরোপুরি কাজ শেষ হনি। অর্ধ শেষ হওয়া বাড়িটায় এখনো বহু কাজ বাকি।
দেয়ালে প্লাস্টার করা হলেও রং নেই।
লিভিং রুমে পুরাতন দু’টো সোফা।
সেই সোফায় এক পাশে বসে আছে আফজাল খান এবং তার এক মাত্র মেয়ে মেহেরীণ খান।
সদ্য মেডিকেল শেষ করা মেয়েটা তখন ২ বাচ্চার মা।
বানু মির্জা বসে আছেন তাদের মুখোমুখি,
” জি বলুন কি কথা।”
“আপনার স্বামী আমার থেকে মৃত্যুর আগে ব্যাবসার ৭০ লাখ টাকা নিয়েছিলো। তার কথা ছিলো প্রফিট হলে আমাকে ২০% সুদে ফেরত দেবে।
কিন্তু আপনাদের কোম্পানিকেত এখন ভরা ডুবি করে তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলেন। এখন আমাদের কি করা উচিত সেটা বলুন?”
মানু মির্জা স্তব্ধ হয়ে গেলেন। এগুলো কি বলছেন তিনি। টেনে টুনেইত সংসার টা চলছে তার৷
কায়ান ছেলেটা বড্ড কষ্ট করছে দিন রাত।
তার পর মাস শেষে কিছু টাকা বেঁচে যায় যেটা তিনি রেখে দেন।
সেই সকল টাকা মিলিয়েও কি ৭০ লাখের ২০% সুদ সমেত হওয়া সম্ভব।
বানু মির্জা নড়েচড়ে বসলেন,
“ভাইজান আপনাকে আমি চিনি। আমার স্বামী প্রায় আপনার কথা বলত। আপনি তার বিজনেসে সাহায্য করেছেন। আপনাকে ইনভেস্টর হিসাবে উপস্থাপন করত বারংবার। কিন্তু এত টাকা যে সে নিয়েছে এ বিষয়ে কোন কথাই সে আমাকে জানায় নি৷”
বানু মির্জা অতি ভদ্রতার সাথে উত্তর দিলেন। কিন্তু আফজাল খানের যেন সেটা সহ্য হলোনা।
তিনি ঝরঝরে কন্ঠে বলে উঠলেন,
“আপনাকে বলে যায় নিত কি হয়েছে? আমার কাছে প্রমাণ আছে দেখেন এগুলো কি? আমাকে অস্বীকার করতে চাইলেনা আপনাকে শহ আপনার ছেলে মেয়েদের আমি জেল খাটাব৷”
বানু মির্জা কিছু বলতে যাবেই এমন সময় টেবিলে রাখা কাগজ গুলো হাতে তুলে নেয় কায়ান।
বানু মির্জা ছেলেকে দেখে অবাক হলেন।
কায়ান মাত্রই ফিরেছে বাড়িতে। বাড়ি ফিরেই মায়ের সাথে কাউকে অভদ্র ভাষায় কথা বলতে শুনে মেজাজ বিগড়ে গেলো তার।
কায়ান কাগজ গুলো হাতে নিয়ে মায়ের পাশে বসে পড়লো।
সব গুলো কাগজ সত্যি। এবং ১০০ টাকার স্টাম্পে তার বাবার সিগনেচার।
কায়ানের চোখ বড় বড় হয়ে যায়।
সে ভেবেছিলো কোন প্রতিত্তোর দেবে। কিন্তু কাগজ গুলো দেখে তার নিজেরই পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়েছে।
কায়ান ভেতর থেকে ভয় পেলেও সামনা সামনি নিজেকে অনেক শান্ত দেখায়৷
“টাকা গুলো আপনার কবে নাগাদ প্রয়োজন? “
আফজাল খান একটু হাসলেন,
“তোমার মত ছেলে যে কিনা সবে মাত্র ভার্সিটিতে পড়ছে সে আমাকে কিভাবে টাকা ফেরত দেবে? এই পুরো বাড়ি বিক্রি করলেও যে এত টাকা হবেনা কায়ান।”
কায়ান চোয়াল শক্ত করে বলে,
“কি চান আপনি সোজাসুজি বলুন৷”
“দেখো বাবা কায়ান। আমি যা চাই তা সহজ। আমার মেহেরীণকে তোমাদের দু ভাইয়েড ভেতর একজন বিয়ে করবে ৭ বছরের জন্য।
জারিফ জিনু বড়ো হয়ে গেলে এই কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ থেকে তোমাদের মুক্তি। মেহেরীণের এখন ডিভোর্স হয়েছে আমি তার জন্য একটা জীবন সঙ্গী চাই।”
বানু মির্জা দাঁড়িয়ে পড়লেন।
“আপনি এখানে টাকার বিনিময়ে আমার ছেলেদের আদান প্রদান করতে এসেছেন? বেরিয়ে জান৷”
কায়ান, মাকে ধরে বসে,
“আম্মা বেগম শান্ত হন।”
আফজাল খান উঠে দাঁড়ায়,
“মিসেস সিকদার এত চড়াও হওয়া ঠিক না।
প্রায় ৬ বছর হতে চললো আপনার স্বামী একটা টাকা আমাকে ফেরত দেয়নি। এত টাকার বিনিময়ে একটা ছেলেকে আমাকে দিবেন এটা কিন্তু খারাপ প্রাস্তাব না।
২ দিন সময় দিলাম ভেবে দেখুন। আর টাকা দিতে চাইলে আগামী মাস সময় দিচ্ছি৷”
কথাটা বলে আফজাল খান, মেহেরীনকে নিয়ে বেরিয়ে গেলো।
কায়ান স্তব্ধ হয়ে গেলো। সে কিছু বলবে সেই অবস্থা টুকুন নেই।
বানু মির্জা কাঁদছেন। এটা কেমন ঝড় এলো তাদের পরিবারের দিকে।
এরপর কেটে যায় ২ দিন। কায়ানের পায়ের নিচে জুতাটা পর্যন্ত ছিড়েছে এত দিন দৌড়াতে দৌড়াতে। কোথায় কি হয়েছে। আদও আফজাল খান সত্যি বলছে কিনা। সব কিছু ঘটিয়ে দেখল কায়ান।
গ্রীষ্মের প্রখর রোদে শরীর ভিজে চাপ চুপ হয়ে গিয়েছে। পরনের টি সার্ট খানা শরীরে সাথে লেপ্টে আছে কায়ানের। সে আজ এসেছিলো কুমিল্লা। বাবার এক বন্ধুর বাড়িতে। যে কিনা বাবার বিজনেস পাটনার ছিলো ২ বছর। সেখানে গিয়েও সে একই কথা শুনল।
হ্যা তার বাবা টাকা নিয়েছিলো এই সর্তে।
সেখানে ভদ্রলোক কায়ানকে খেয়ে যেতে বললেও কায়ান খেলো না।
বেরিয়ে এলো। পকেটে কিছু খুচরা টাকা তার। বাস ভাড়া দিয়ে চট্টগ্রাম ফিরতে হবে।
ভীষণ ক্লান্ত সে।
সূর্যটা যেন মাথার উপর এসে পড়েছে।
একটি স্কুল মাঠে আম গাছের নিচে বসে কায়ান।
বড্ড ক্লান্ত সে। ফর্সা মুখশ্রী রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে এই রোদে।
কেমন অসুস্থ অসুস্থ ঠেকছে তার। চোখ বন্ধ করে নেয় কায়ান।
এমন সময় হটাৎ একটা মিষ্টি কন্ঠ ভেসে এলো তার কানে,
“এইযে শুনছেন? আপনি কি অসুস্থ হয়ে গেছেন? আপনার কি খুব খারাপ লাগছে?”
কায়ান চোখ খুলে তাকায়। মেয়েটার পরনে স্কুল ড্রেস।
মেয়েটা হাতের আইসক্রিম টা কায়ানের দিকে এগিয়ে দিলো,
“নিন, আপনাকে দেখে খুব ক্লান্ত মনে হচ্ছে। আমারো স্কুল করতে ইচ্ছে করছে না। আপনি এটা খেয়ে নিন৷”
মেয়েটা, কায়ানের হাতে আইসক্রিম টা ধরিয়ে দিলো। মেয়েটা আর কিছু বলবে তার আগেই পেছন থেকে কেউ ওর নাম ধরে ডাকে,
“সেরিন কোথায় তুই৷”
সেরিন ফিরে তাকায়।
“আসছি৷”
সেরিন দৌড়ে চলে যায় স্কুলের ভেতর। কায়ান তাকিয়ে রয় সেদিকে। হাতের আইসক্রিম খানা মেল্ট হতে লাগে। কায়ান তা দেখে আইসক্রিম টা খেতে শুরু করে। চোখ গড়িয়ে পানি পড়ে কায়ানের টুপটাপ। পুরুষ মানুষের নাকি কাঁদতে নেই। কিন্তু কায়ানত ঠিক থাকতে পারছে না।
সে নিজের কান্না যে চাপিয়ে রাখতে পারছে না।
কি করবে সে। এটা কেমন মোড়ে এসে দাঁড়ালো তার জীবন।
রাতের আধার নেমেছে ধরণী জুড়ে।
সিকদার নিবাসেও পিনপিন নীরবতা।
জেবরান এবং আহি ঘুমিয়ে গিয়েছে ঘুম নেই শুধু কায়ান আর বানু মির্জার চোখে।
দু মা ছেলে জেগে আছে। কায়ান, বানু মির্জার কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে।
বানু মির্জার চোখের পানি কায়ানের মুখের উপর পড়ল। কায়ান চোখ খুলে তাকায়।
মায়ের চোখের পানি মুছিয়ে দেয়।
“কেঁদো না। এই টাকা আমি তাকে ২০% সুদে ফেরত দিব আম্মা বেগম এক দিন। কথা দিলাম আপনাকে।”
“কিন্তু তার আগে যে সর্ত?”
“আমি রাজি। বিয়েইত। পুরুষ মানুষ ৪ বিয়ে করতে পারে আম্মা। সেখানে আমি না হয় একটা মেয়েকে বিয়ে করলাম।”
বানু মির্জা কেঁদে ফেললেন। জেবরানের উপর কোন আচ না আসতে দিয়ে কায়ান কেমন সবটা নিজের উপর নিয়ে নিলো। তার ছেলেটা এতটা ভালোবাসে তাদের।
নিজেকে কুরবানি করে দিলো।
বানু মির্জা সে রাতে অনেক কাঁদলেন। ছেলের আশঙ্কা জনক ভবিষ্যৎ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কাঁদলেন।
এরপর ৩ দিন ৪ রাত পেরিয়ে কায়ান এবং মেহেরীণের বিয়েটা হয়ে যায়৷
কিন্তু কায়ান সে দিন থেকে আজ পর্যন্ত মেহেরীণের শরীরে একটা স্পর্শ পর্যন্ত করেনি৷
বর্তমান।
ফোনের চার্জ আর সায় দিলোনা। নিভে গেলো হুট করেই।
সেরিন ভয় পেয়ে কায়ানকের হাত ধরে বসে।
কায়ান, সেদিনের কোমড় জড়িয়ে ধরে শক্ত করে।
“ভয় নেই আমি আছিত৷”
সেরিন তখন নিশ্চুপ। কিছুতেই সে বুঝতে পারছে না মানুষ এমনও হয়।
কিছুক্ষণ নিস্তব্ধতা থাকল দু’জনের মাঝে।
এরপর সেরিন জিজ্ঞেস করলো,
“সেদিন কুমিল্লাতে আইসক্রিম দেওয়া মেয়েটা কে ছিলো?”
কায়ান বাঁকা হাসে। সেরিনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে,
“কেন?”
“না এমনি জিজ্ঞেস করলাম৷”
“যেই হোক তুমিত ছিলে না৷”
সেরিন মাথা তুলে তাকায়৷
“আমি কি বলেছি আমি ছিলাম?”
“না ভাবতেও পারো। তুমিও কুমিল্লার মেয়ে কিনা৷ “
“ইস মোটেই না।
সেরিন কায়ানের হাতের ঘড়ি খোঁটাখুঁটি করতে করতে বলে,
” আপনি সত্যি অবাক করে দিয়েছেন মিস্টার সিকদার কায়ান মাহাবুব।
পরিবারের জন্য এতটা কেউ করে না। গোটা নিজেকেই সপে দিলেন এমন একজন জঘন্য মহিলাকে।”
কায়ান মৃদু হাসে,
“আমার পৃথিবীতে সে কখনো ছিলোই না সেরিন। আমার পৃথিবী জুড়ে আরেকটা মেয়ের বসবাস ছিলো। এখনো সেই আছে।”
সেরিন মাথা তুলে তাকায়। অন্ধকার কাউকেই বোঝা যাচ্ছে না।
তবে সেরিন অন্য কোন প্রশ্ন করবে তার আগেই বাহির থেকে ঝোপ ঝাড়ের ভেতর কিছুর শব্দ শোনা গেলো।
কায়ান এলার্ট হয়ে যায়।
সেরিনকে শক্ত করে ধরে রাখে। শব্দ টা ক্রমশ গোডাউনের ভেতরেই আসছে।
কায়ান দ্রুত সেরিনকে নিয়ে একটা দেয়ালের পেছনে নিয়ে যায়৷
সেরিনকে জড়িয়ে ধরে রাখে সে।
ওদিকে সেই শব্দ গুলো ক্রমশ নিকটে আসতে থাকে।
কিছুক্ষণের মাথায় গোডাউন রুম আলো আলো হয়ে যায়। ৪-৫ জন ছেলে মিলে চারিদিকে তন্ন তন্ন করে খুঁজে।
সেরিন ভয়ে কায়ানের সার্ট খামচে ধরে।
কায়ানও সেরিনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখে,
কিছুক্ষণ পর ছেলে গুলো কাউকে না পেয়ে বিরক্ত হয়। ওদের ভেতর একটা ছেলে বলে ওঠে,
“কোথাও নেই মেহেরীণ আপাকে কি জবাব দেব?
এতে করেত টাকাও পাব না পুরোটা?”
অন্য দিকে আরেকটা ছেলে উত্তর দেয়,
“কিছু বলা লাগবে না। আপাততঃ চল চলে যাই। পরে দেখব। পেমেন্ট দিতে না চাইলে কল রেকর্ড ফাস করার হুমকি দেব।”
“আচ্ছা তবে তাই হোক।”
ছেলে গুলো বেরিয়ে গেলো।
সেরিন কায়ান হাফ ছেড়ে বাঁচে।
সেরিন যেন ভীষণ ভয় পাচ্ছে। সে শক্ত করে কায়ানকে জড়িয়ে ধরে রাখে।
কায়ানও বুঝতে পারে প্রিয়তমা তার কতটা ভয় পেয়ে আছে। তাই সেও সেরিনকে জড়িয়ে রাখে পরম যত্নে।
চলবে?
[ রহস্য এখানে শেষ না। আরও অনেক রহস্য আছে। রেসপন্স করিও]
Share On:
TAGS: কিস অফ বিট্রেয়াল, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৬
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১০
-
কিস অফ বিট্রেয়াল গল্পের লিংক
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১২
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩৮
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৫
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১২
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৬