Golpo romantic golpo কিস অফ বিট্রেয়াল

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১১


কিস অফ বিট্রেয়াল

পর্ব_১১

লামিয়ারহমানমেঘলা

[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]

কায়ান বেরিয়ে যায় মেহেরীণের রুম থেকে।
মেহেরীণ তাকিয়ে রয় সে দিকেই। গালে হাত দিয়ে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলতে থাকে,

“কায়ান এটা তুমি ঠিক করোনি।
আমি তোমাকে কিছু না করতে পারি, তোমার দুর্বলতা আমার কাছে তোলা আছে কায়ান। তুমি আমার ধ্বংস দোখোনি এখনো। তোমার সেরিনকে মুছে দেব তোমার জীবন থেকে।”

মেহেরীণ ফুঁসতে ফুঁসতে ফোন হাতে নিয়ে কাউকে কল করে।


কায়ান বেরিয়ে সেরিনের রুমে চলে আসে।
সেরিন বেডের এক কোণায় বসে ফুপাচ্ছে।
কায়ান এগিয়ে গিয়ে সেরিনের পাশে বসে।
সেরিন চোখ তুলে তাকায় একবার।

“সেরিন৷”

সেরিন উত্তর দেয়না। কায়ান বিরক্ত হয়ে সেরিনের কনুই ধরে নিজের দিকে টান দেয়।

“ছাড়ুন৷”

কায়ান ধৈর্যশীল হলেও সেরিনের উপর তার প্রচন্ড রাগ হয়। ইচ্ছে করে এলোপাথাড়ি কয়টা চড় মারতে। চড় খেয়ে কাদ তুই। এমনি এমনি আর কত কাঁদবি।
কায়ান এসব ভাবতে ভাবতে সেরিনকে বলে,

“যাও রেডি হও তোমাকে তোমার বাড়িয়ে দিয়ে আসছি।”

সেরিন মাথা তুলে তাকায়। কায়ান তাকায় না সেরিনের দিকে।
সেরিন উাঠে দ্রুত ওয়াসরুমে চলে যায়।
কায়ান তাকিয়ে রয় সে দিকে,

“মাই নাইট লিলি, আমার থেকে দুরত্ব পেতে তুমি এতটাই এক্সাইটেড। একটু অপেক্ষা করো যে দিন বেঁধে ফেলব চাইলেও আমার সীমানা অতিক্রম করতে পারবে না তুমি।”

কায়ান বেরিয়ে যায় রুম থেকে।


দুপুরের খাবারের মেনু ঠিক করছিলেন বানু মির্জা।
এমন সময় হটাৎ কায়ানকে দেখে তিনি সার্ভেন্ট কে ইসারা করে যেতে বললেন।
সার্ভেন্ট স্থান ত্যাগ করে। কায়ানকে বেশ চিন্তিত দেখাচ্ছে। বানু মির্জা ছেলের চোখ পড়তে পারেন। ঠিক বুঝলেন কায়ান কিছু নিয়ে চিন্তিত৷

“কি হয়েছে বাবা?”

“আম্মা বেগম, সেরিনকে ওর বাড়িতে দিয়ে আসি৷”

“আজই? কিন্তু আমিত ওকে বলেছিলাম আজ থাকতে।”

“আম্মা বেগম এখন কোন প্রশ্ন করিয়েন না। মেহেরীণের দিকে খেয়াল রাখিয়েন। আমার মনে হয় ওর মস্তিষ্কে ভয়ানক কিছু চলছে।”

বানু মির্জা ভ্রু কুঁচকে নিলেন।
তিনি ছেলের কাঁধে হাত রাখে।

“শিমুল জানে সেরিন যাবে যে?”

“সেটা সেরিনের বিষয়। ৪ আঙ্গুলের মেয়ের জন্য এত করতে পারব না৷”

কথাটা বলে কায়ান হনহনিয়ে স্থান ত্যাগ করে।
বানু মির্জা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন। কিছু একটা করেছে সেরিন নাহলে কায়ান এত রাগে না।
তার ছেলে যথেষ্ট ধৈর্যশীল।
অনেক রাগ তার খাতায় নেই বললেই চলে।
কায়ান চলে যায় যখন তখন আহিও ভেতরে এসেছিলো। কায়ানকে রেগে মেগে চলে যেতে দেখে আহি এগিয়ে আসে,

“আম্মা বেগম, ভাইয়া কিছু নিয়ে অনেক রেগে আছে?”

“হয়ত। ভীষণ রেগে রেগেই কথা বলল যে।”

“কি হলো ভাইয়ার৷”

“গিয়ে একটু দেখবি?”

আহি ভীমড়ি খেয়ে বলে,

“পাগল তোমার ছেলে যে লোক আমাকে এরপর আর বলতে চাইছি না৷”

বানু মির্জা হাসলেন একটু।


সেরিন ব্যাগ গুছিয়ে শিমুলের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
দরজায় টোকা পড়তে শিমুল বলে,

“কে বাহিরে ভেতরে এসো৷”

সেরিন ভেতরে প্রবেশ করে।

“আপু৷”

“কিরে কি হয়েছে?”

“বাড়িতে যাব৷”

শিমুল ভ্রু কুঁচকে তাকায়।

“তোকে না বললাম কাল যাস৷”

“না আপু এখন যাব৷”

শিমুল আরও অবাক হয়৷

“এখন যাবি মানে? কে নিয়ে যাবে তোকে?”.

” কেউ না নিয়ে গেলেও চলে যাব৷”

শিমুলের রাগ হয় ভারি। সেরিন এমন জিদ ত কখনোই ধরত না৷ শিমুল এগিয়ে গিয়ে সেরিনের হাত ধরে সেরিনকে ভেতরে এনে দরজা বন্ধ করে দেয়।

“কিরে? এমন করছিস কেন? সমস্যা কি?”

“কেমন করছি?”

“সেরিন এটা আমার শ্বশুর বাড়ি বোন। সকালে আম্মা বেগম কত যত্ন করে তোকে থাকতে বলল। সে সবের কোন মূল্য নেই। এমন করছিস কেন?”

সেরিনের চোখে মুখে পানি। সে ফুঁপিয়ে ওঠে। মনে মনে বলে,

“শুধুমাত্র তোর শ্বশুর বাড়ি বলেইত আমি চুপ আছি। আমি কিছু করতে পারছি না। না কিছু বলতে পারছি।”

সেরিনকে চুপ করে কাঁদতে দেখে শিমুলের মায়া হলো। সে দ্রুত বোনকে জড়িয়ে ধরে,

“কাঁদিস না।। আচ্ছা চল আমি দিয়ে আসি তোকে।”

শিমুলের কথা শেষ হতে না হতে সেখানে কায়ান প্রবেশ করে,

“সিকদার বাড়ির বউ তুমি শিমুল। এভাবে তোমাদের দু’জন মেয়েকে একা ছেড়ে দেব? তা কিভাবে হয়৷”

শিমুল, কায়ানের দিকে প্রশ্ন করে,

“তাহলে এই পাগল টাকে কে নিয়ে যাবে বাড়িতে।”

“আমি নিয়ে যাব৷”

শিমুল অবাক হয় কিছুটা৷

“ভাইয়া আপনারত কাজ থাকে। আপনাকে এই ঝামেলায় ফেলব আমি?”

কায়ান, শিমুলের পাশে ফুপাতে থাকা সেরিনের দিকে তাকায়।
কাঁদতে কাঁদতে ফর্সা মুখটা রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে।
নাক ফুলে লাল হয়ে আছে। গাল দু’টোও ফুলেছে।
শিমুলের প্রতিত্তরো কায়ান, কিছুটা হেসে বলে,

“আমার সব এক দিকে, আর গোটা একটা ছোট্ট পৃথিবী আরেক দিকে।
সেই পৃথিবীর জন্য আমি সব ছাড়তে রাজি।”

শিমুল, কায়ানের কথার অর্থ না বুঝে ফের প্রশ্ন করে

“ভাইয়া কি বলছেন? “

কায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে,

“নাথিং ওকে ব্যাগ প্যাক করে নিচে আসতে বলো।”

কায়ান বেরিয়ে যায় রুম থেকে৷
শিমুল, ফিরে চায় সেরিনের দিকে।

“দেখেছিস ভাইয়া কত ভালো।’

সেরিন উত্তরে কিছু বলেনা। সেত খুব ভালো করেই জানে সিকদার কায়ান মাহাবুব কতটদ দয়ালু।


ফাল্গুনের দুপুর,
সূর্যটা ঠিক যেন মাথার উপরে। ফাল্গুনের দুপুরের রোদটা নরম অথচ উজ্জ্বল। শীতের কুয়াশা সরে গিয়ে রোদ মাটিতে সোনালি আলো ছড়িয়ে দেয়। হালকা গরমে বাতাসে বসন্তের মিষ্টি গন্ধ ভেসে আসে। গাছের নতুন পাতায় রোদ পড়ে ঝিকমিক করে, যেন সবুজের ওপর সোনার পরশ লেগেছে। দূরে কোথাও কোকিলের ডাক, আর রোদের উষ্ণতায় চারপাশে একটা অলস, শান্ত অনুভূতি তৈরি হয়। না খুব তীব্র, না একেবারে কোমল, ফাল্গুনের দুপুরের রোদ ঠিক মাঝামাঝি, মনটা নীরবে ভালো করে দেয়।

সিকদার নিবাসের সদর দরজা দাঁড়িয়ে বানু মির্জা, শহ আহি, জারিাফ জিনু, শিমুল।
সেরিনকে বিদায় দিচ্ছে সবাই।
জারিফ, জিনুর মন খারাপ।
সেরিনকে তারা ভীষণ পছন্দ করে।
কায়ানের গাড়িটা মেইন গেটে দাঁড়িয়ে আছে। সেরিন ওদের থেকে বিদায় নিচ্ছে।
সেরিন, বানু মির্জাকে সালাম করে সবাইকে হাগ করে।
জারিফ, জিনু সেরিনের জামা ধরে নিচে টানে। সেরিন তা দেখে নিচু হয় খানিকটা।
জারিফ, জিনু দু পাশ দিয়ে সেরিনের দু গালে চুমু খায়।

” তুমি কি আবার আসবে সেরিন মাম্মা? “

দু’জন ভীষণ আদুরে কন্ঠে প্রশ্ন করলো সেরিনের কাছে। সেরিন মায়া ধরে রাখতে পারলো না। দু ভাইয়ের গালে চুমু খেয়ে বলল।

“হ্যাঁ আসবত৷”

জারিফ, জিনু খুশি হয়ে যায়।
মায়ের সঙ্গ না পেয়ে দু ভাই সত্যি মন মরা হয়ে থাকে। এমন সময় কেউ তাদের সঙ্গ দিলে তারা ভীষণ খুশি হয়৷
সেরিন শেষ বার বোনকে বিদায় জানিয়ে কায়ানের গাড়িতে উঠে বসে।

নিজের রুমের বেলকনি থেকে এসব দৃশ্য দেখছিলো মেহেরীণ।
সে রাগে কটমট করতে করতে বলে,

“যে রাস্তাটা জঙ্গলের সেটায় পৌঁছাতে ওদের সন্ধ্যা হবে। বাকিটা নিশ্চয়ই আমাকে বলতে হবেনা৷”

ওপাশ থেকে প্রতিত্তোর ভেসে আসে,

“কোন চিন্তা করিস না। দুটোকেই দেখে নেব আজ৷”

মেহেরীণ কল কেটে রুমে চলে যায়।


সেরিন গাড়িতে বসলে কায়ান ড্রাইভ শুরু করে।
তবে সেরিনের সাথে কোন কথা সে বলেনা। সেরিন একবার কায়ানের দিকে তাকায়।
নেভি ব্লু রঙা সার্ট তার পরনে। অফ হোয়াইট রঙা প্যান্ট। বাম হাতে একটা ঘড়ি।
কোঁকড়া চুল গুলো ফর্সা মুখের উপর এসে পড়ছে।
চোখে সানগ্লাস।
গাড়ির জানালা ভেদ করে রোদ প্রবেশ করে ভেতরে। কায়ানকে সেই রোদে আরও উজ্জ্বল দেখাচ্ছে।
সেরিন মুখ ফিরিয়ে নেয়।
লোকটা থম মেরে আছে । যখন বাস্ট হবে তখন তারই বিপদ।
সেরিন ওড়নার ভাজে আঙ্গুল ঢুকিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকে।
কায়ান গম্ভীর ভাবেই ড্রাইভ করতে থাকে।

চলবে?

[ এর থেকে বেশি লেখা হলোনা। আজ ভীষণ টায়ার্ড আমি। ছোট ছোট বলে চিল্লাইও না। রেসপন্স করিও]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply