কাজরী-২২
সাবিকুননাহারনিপা
আখতারউজ্জামান কাজরীর স্পর্ধা দেখে হতভম্ব হলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন,
“আল্পনা কী এমন করেছে, ওর গায়ে হাত তোলার মতো দু:সাহস করলে ? “
কাজরী থমথমে মুখে জবাব দিলো,
“সেটা যদি আমি আপনাকে বলি তাহলে আপনি বিশ্বাস করবেন না। আর যদি আল্পনার কর্মকান্ডের প্রমাণ দেই তাহলে আপনার ম*রে যেতে ইচ্ছে করবে। আর একটা পরামর্শ আপনাকে দিতে পারি, তরফদারের প্রস্তাব হাসিমুখে মেনে নিতে পারেন। আল্পনাকে সংবেদনশীল ভাবার দরকার নেই, ও চালাক আছে বেশ। তরফদার রা যত ভয়ংকর ই হোক, আল্পনার চেয়ে কম। “
দুজনের কথোপকথন এর সময় আল্পনা সেখানে উপস্থিত থাকলেও লজ্জায় একবারও মুখ তুলে কারোর দিকে তাকাতে পারলো না। ফুল ভেবে যা স্পর্শ করে আনন্দ অনুভব করেছিল সেখানে লুকায়িত ছিলো বিষাক্ত কাঁটা। যেটা ওর নজরে আসে নি, কিংবা হতে পারে ও এতোটা মোহাচ্ছন্ন ছিলো যে ফুল আর কাঁটার তফাৎ খুঁজে পায় নি।
কাজরী ওর কাজ শেষ করে বেরিয়ে গেল নিজের মতো। ইশান ও’কে কল করেছে অনেকবার। কাজরীর ঠোঁটে লেগে আছে স্মিত হাসি। ওর অনুপস্থিতিতে ইশান তাহলে ইনসিকিউরড হয়!
শিরিন চৌধুরী বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন। তিনি এইমাত্র আরেকটা কাজ করেছেন। সুবর্ননগর থানার ওসিকে বলেছেন তরফদার সাহেবের ছেলের কেস টা নিয়ে যেন এগোয়। তার দৃঢ় বিশ্বাস এই ছেলেটাকে মারার পিছনে ওয়াজেদ চৌধুরীর কোনো হাত নেই, বরং তাকে ফাঁসাতে আখতারউজ্জামান নিজেই এমন জঘন্য অপরাধ করেছেন। সুবর্ননগরে থাকাকালীন সময়ে এই গুঞ্জন তার কানে এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকটা পোস্ট, কিছু মিডিয়া কাভারেজ ছাড়া আর তেমন কিছুই হয় নি। এমনকি পুলিশ, প্রশাসনও বেশ গা ছাড়া। কেন একটা অন্য শহরের ছেলে খু*ন হলো এই নিয়ে তেমন মাথাব্যথা নেই। আখতারউজ্জামানের মাথার উপর পাথরের মতো ভার থাকা উচিত, অথচ তিনিও যেন নির্বিকার। তবে পুরো ঘটনায় আখতারউজ্জামান এর মানুষের অন্ধ বিশ্বাস খানিকটা ফিকে হয়েছে। চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আল্পনারও। বেশ কিছু ফ্রিল্যান্সার সাংবাদিক মশলা মেখে লিখেছে আল্পনার গোপন প্রেমই কী তবে কেড়ে নিলো একটা তরতাজা প্রাণ!
এই ঘটনা নিয়ে যতটা কথা হওয়া প্রয়োজন ছিলো ততটা হয় নি ওয়াজেদ চৌধুরীর হস্তক্ষেপে। তিনি সবার মুখ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করেছেন। হতে পারে তরফদার পরিবারকেও তিনি সামলে নিয়েছেন। তবে ব্যাপার না, ক্ষত এখনো শুকোয় নি পুরোটা। আরেকটু জখম করে ক্ষতটা তাজা করাই যায়!
কাজরীকে প্যালেসে ঢুকতে দেখলেন শিরিন। মনে মনে হাসলেন। নিশান জানিয়েছে আজকের ঘটনা সম্পর্কে। শিরিন তখনও হেসেছেন। পীপিলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে। এই মেয়ে মাথানিচু করেই প্যালেস ছাড়বে। তাকে বেশী কিছু করতে হবে না, যা করার ইশানই করবে, আপাতত ও’কে নিয়ে না ভাবলেও চলবে। যতই তেজ দেখাক, ভেতর টা যে বড্ড ফাপা সেটা আর কেউ না বুঝলেও শিরিন চৌধুরী ঠিকই বুঝতে পেরেছেন।
কাজরী ঘরে এসে ইশানকে পেল না। শবনমের কাছে খোঁজ নিয়ে জানলো ইশান এসেছিল, দাদীর ঘরে কিছু সময় কাটিয়ে আবার চলেও গেছে। কাজরীর মনে হলো একবার মন্যুজান খাতুনের ঘরে যাওয়া যায় এখন। সিন্দুকের চাবির গোছা এখনো ওর কাছে আছে। বৃদ্ধা নিজের ফর্মে ফিরলেই চাবিগোছার খোঁজ নিবেন।
মন্যুজান খাতুন বিছানায় শুয়ে আছেন। তিনি বেশ দূর্বল হয়ে পড়েছেন। তবুও নিজের রুটিনের পরিবর্তন করেন নি। শাকপাতা, ভাত রেঁধে খান ঠিকমতোই। সুপুরি কেটে পানও ছেচে খান। কিন্তু অনেকটা শান্ত হয়ে আছেন। কাজরীকে দেখেই তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন।
“কেমন আছেন দাদী?”
তিনি জবাব দিলেন না। আরও শব্দ করে পান ছেচতে লাগলেন। শব্দটা বিরক্তিকর, কান দিয়ে ঢুকে সরাসরি মস্তিষ্কে প্রবেশ করে। কাজরী বসলো। অনেক দিন এদিকে আসে নি বলে কী বৃদ্ধা অভিমান করেছে!
“কথা বলবেন না আমার সঙ্গে? চলে যাব?”
“তুমিও কী শিরিনের মতো? “
প্রশ্নটা বাঁজখাই গলায় করলেন মন্যুজান খাতুন। কাজরী মৃদু হেসে বলল,
“শিরিন কেমন? “
“লোভী, শ*য়তান । তুমিও তেমন? “
কাজরী সতর্ক হলো। প্রশ্নের পিঠে প্রশ্ন করে কৌশলে কথা বের করে নেয়ার সুযোগ থাকলেও সেটা করলো না। বরং ঠান্ডা গলায় বলল,
“না। আমি আমার মায়ের মতো। “
মন্যুজান খাতুন এর চোখ তীক্ষ্ণ হলো। তার হাত থেমে গেছে। কাজরী ঘরের দরজা বন্ধ করে এসে পাশে বসে বলল,
“আপনার চোখ ভুল করে নি। আমি কোমল নই, তবে কোমলের মেয়ে। আপনার বড় ছেলে জেনে, বুঝেই আমাকে এখানে এনেছেন। “
মন্যুজান খাতুন এর চোখ চকচক করে উঠলো। তিনিও ফিসফিস করে বললেন,
“আমি বুঝছিলাম।
কাজরী সতর্ক গলায় বলল,
“কিন্তু এটা কাউকে বলবেন না। “
মন্যুজান খাতুন হু হু করে কাঁদতে লাগলেন। কাজরীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। এরপর আবারও ফিসফিস করে বললেন,
“আখতার ই তোমার বাপ?”
“না।”
মন্যুজান খাতুন আরও এক দফা চোখের পানি ফেলে কাজরীকে যা বললেন তার সারমর্ম হলো শিরিনই ওর একমাত্র শত্রু। ওর মায়ের সঙ্গেও শত্রুতা ছিলো, রুপ লাবণ্যে সে শিরিনের চেয়ে এগিয়ে ছিলো বলেই চক্ষুশূল হয়ে উঠেছিল। এই বাড়িতে কাজরী যদি শক্ত নাহয় তবে ওর টিকে থাকা মুশকিল হবে। সেই সঙ্গে ইশানের গুনকীর্তন করতেও ভুল করলেন না। ইশান একদম নরম কাঁদামাটির মতো। বয়সের দোষে একটু যা উচ্ছৃঙ্খল তবে মনটা একদম খাঁটি।
কাজরী চুপচাপ শুনলো। উনি যাদের ভালোবাসেন তাদের ব্যাপারে যেমন ভালোটা বাড়িয়ে বলেন তেমনি যাদের দুই চোখের বিষ ভাবেন তাদের মন্দটাও বাড়িয়ে বলেন। কাজরী সব কথা মন দিয়ে শোনার সময় লক্ষ্য করলো কোমলের নাম করে তিনি আবেগে আপ্লুত হলেও ছোট ছেলের স্মৃতিচারণ করলেন না একবারও। বিষয়টা কাজরীকে খুব ভাবালো। পরবর্তী সময়টা ওর মাথার মধ্যে এই ব্যাপার টাই ঘুরপাক খেতে লাগলো। এরমধ্যে শিরিন তার ঘরে ডেকে অনামিকার জন্য শাড়ির ডিজাইন দেখালেন। তার পছন্দের শাড়ি, গয়না পরে অনামিকা বউ হয়ে আসবে। কাজরী নীরব দর্শকের মতো দেখে মতামত দিলো। শিরিন সম্ভবত আশাহত হলেন, কাজরীর অন্যমনস্কতা চান নি, চেয়েছিলেন তর্কযুদ্ধ। তবে সুযোগ পেয়ে বললেন,
“শোনো কাজরী, তোমার কাছে একটা জিনিস আছে। আমার সংকোচ হচ্ছে বলতে তবুও তুমি যদি আমাকে জিনিসটা ফিরিয়ে দাও আমি খুশি হবো। “
“কী জিনিস? “
“তোমার কাছে যে ডায়মন্ডের রিংটা আছে ওটা পারিবারিক। নিয়ম অনুযায়ী ওটা বাড়ির বড় বউ পাবে। আমি পেয়েছিলাম, আমার পরে আমার বড় বউ পাবে। যেহেতু তোমার আগে বিয়ে হয়েছে তাই মিস্টার চৌধুরী ওটা তোমাকে দিয়েছিলেন। কিন্তু ওটা নিশানের বউয়ের। “
কাজরী রুক্ষ গলায় বলল,
“আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে ওটা সচেতন ভাবেই আমাকে দেয়া হয়েছে। আর সরি আমি ওটা আপনাকে দিতে পারব না। বংশ পরম্পরায় ওটা নিশানের হওয়ার কথা থাকলেও ইশানের বউয়ের হাতে যখন উঠেছে তখন তার হাতেই থাকবে। নিশানের বউকে এরচেয়ে বেশী দামের আংটি আপনি কিনে দিন। “
শিরিন বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে ছিলেন। এতোটা রুক্ষতা তিনি আশা করেন নি। কাজরী সচরাচর তর্ক করার সময়ও নরম গলায় কথা বলে। সেই যে একদিন লাগামছাড়া কথা বলেছিল, ওটাকে শিরিন পরিস্থিতির শিকার বলে মেনে নিয়েছিল। কিন্তু আজ একদম জ্বলন্ত আগুন যেন। রোদেলার সঙ্গে যে ভঙ্গিমায় কথা বলতে পারে তার সঙ্গে তো সেভাবে পারে না! তিনি আরও কিছু বলতে যাবেন তার আগেই কাজরী বলল,
“নিশানের জন্য আপনার একপেষে স্নেহ আছে, থাকুক। তার বউয়ের জন্যও থাকবে, ইটস ওকে। আই ডোন্ট কেয়ার। আপনার এটেনশন, এমনকি ফেক ভালোবাসাও আমার প্রয়োজন নেই। কিন্তু ইশানের সবকিছু নিশানকে পাইয়ে দেবার স্বভাবগত আচরণ আপনি আমার সঙ্গে করতে আসবেন না দয়া করে। যা কিছু আমার সেটা আমারই। ওই ডায়মন্ড রিং আমার হাত থেকে এরপর আমার সন্তানের কাছে যাবে। “
কাজরী হনহন করে চলে এলো। শিরিনের প্রতিক্রিয়া দেখার প্রয়োজন মনে করলো না। বহুদিন পর কাজরী যেন ভালোমানুষের খোলস ছেড়ে নিজের রুপে ফিরে এসেছে।
ইশান বেশ কিছুদিন ধরে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ায় নি। আজ দুপুরে বাড়ি ফেরার কয়েক ঘন্টা পর জানতে পারলো কাজরী বাড়িতে নেই। কোথায় গেছে সেটা জানতে পারলো শবনমের থেকে। এরপর আবার বাইরে চলে যায়, কিন্তু অন্য কোনো কাজেই ওর মন বসলো না। পুরোটা সময় কেটে গেল কাজরী। প্যালেসে ঢুকে সোজা চলে গেল আজ নিজের বেডরুমে। রুমটা ফাঁকা, ইশান অপেক্ষা করলো। ফোন করলো কাজরীকে বেশ কয়েকবার। প্যালেসেই তো থাকার কথা। বাবার বাসা থেকে বেরিয়ে যাবার পর আর কোথাও তো যায় নি। ইশান খুঁজতে খুঁজতে করিডোর পেরিয়ে পুলসাইডে গেল। সেখানে কাজরীর বদলে এশনাকে পেল। এশনা ও’কে প্রশ্ন করলো,
“ভাবীকে খুঁজছো?”
ইশান ভাবী শব্দটা শুনে বিস্মিত হলো। বলল,
“হ্যাঁ.. ঘরে নেই। কোথায় আছে জানিস?”
“আমার ঘরে আছে। ও আজ অনেক আপসেট। “
ইশানের কপালে সূক্ষ্ম ভাজ পড়লো। কাজরী আপসেট আর সেটা এশনা বলছে!
“আপসেট? কেন?”
এশনা প্রথমে নিশানের ঘটনা বলল। তারপর মায়ের ব্যাপার। এশনা বলল,
“ভাইয়া মাম্মা কী একটু বেশী বাড়াবাড়ি করছে না?”
ইশান অস্পষ্ট স্বরে বলল,
“হু। “
“তুমি আর কতো ডিপ্রেসড থাকবে? তুমি যদি আবার আগের ফর্মে ফিরে যাও তাহলে মাম্মা ভুল ডিসিশন নিবেন। “
ইশান বোনের দিকে তাকালো। ছোট বোনের সঙ্গে ওর রেষারেষি নেই। সম্ভবত নিশানেরও নেই। তবে এশনাও বোধহয় খানিকটা স্নেহবঞ্চিত, সেজন্য ইশানের প্রতি সিম্প্যাথি কাজ করছে। আর প্যালেসে বোধহয় ও একমাত্র সদস্য যে কাজরীকে সমীহ করছে। এশনা ইশানকে একটা কথা বলেছিল, মাম্মা একটুও দু:খী না বাবার এভাবে চলে যাওয়ায়। ইশান সেই ব্যাপারে নেতিবাচক কিছু ভাবতে পারে নি। মায়ের প্রতি ক্ষোভ আছে ওর কিন্তু তাকে অতোটা অমানুষ মনে হয় নি। বাবা, মায়ের দাম্পত্য সম্পর্ক আলগা ছিলো, সেটা ওদের অজানা নয়। সেই সম্পর্কে মায়া, ভালোবাসাও বোধহয় মরে গিয়েছিল তাই তো মা এতোটা নির্লিপ্ত। কিংবা সত্যিই তিনি কঠিন একজন মানুষ। ইশান কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারেনা যে মা ফ্যামিলি পলিটিক্স এর জন্য এতোটা নিচে নিজেকে নামাতে পারে! তাছাড়া বাবার মৃত্যুতে অস্বাভাবিকতাও কিছু ছিলো না। কিন্তু এখন তিনি নিজেকে জাহির করার জন্য ছেলেমেয়েদের চোখে খানিকটা পিশাচ হয়ে উঠেছেন।
“ভাইয়া, আমি কী বলছি বুঝতে পারছ তুমি? “
ইশান সম্বিৎ ফিরে পায়। বলে,
“পারছি। “
“ভাবীকে কোনঠাসা করা মানে তোমাকে দূর্বল করা। বাবার সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণ এর জন্য মাম্মা অনেক কিছু করবেন। তিনি তোমার এক্সের সাথেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। আমি সব জানি, তিনি ভাবেন আমি এখনো বাচ্চা আছি, এসব ব্যাপার খেয়াল করি না। কিন্তু তিনি জানেন না যে তাকে সবচেয়ে বেশী আমি চিনি। “
এশনার দৃঢ় গলার স্বরে স্পষ্ট মিশে আছে মায়ের প্রতি তীব্র অভিমান। বিদ্রোহী সুরে বলতে চায় যে মা এখন যা করছে সেটা ভুল করছে। কঠিন হওয়া উচিত, তাই বলে এতটা কঠিনও না। যে বাড়িতে এখনো শোকের ছায়া বিদ্যমান সেই বাড়িতে সানাইয়ের সুর বাজাতে এতো তাড়া কিসের!
ইশান বলল,
“এগুলো নিয়ে ভাবিস না। আমি দেখছি। “
“প্লিজ দেখো। আমি তোমাকে ভরসা করি, বাবাও করতেন। “
শেষ কথাটা একদম কানে বাজলো ইশানের।
এশনার সঙ্গেই ইশান ওর ঘরে গেল। কাজরী বসে আছে কঠিন মূর্তির মতো। দেখে আপসেট মনে হচ্ছে না। এশনা কেন এরকম ভাবলো কে জানে! হয়তো কাজরীকে ভালো করে চিনেনা বলেই ভাবলো। ইশানকে দেখে কাজরী বলল,
“ইশান তোমার সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে। তোমার সময় হবে? “
ইশান গম্ভীর গলায় বলল,
“এখন না। এখন আমার অন্য কাজ আছে। “
ইশান কিছুক্ষনের মধ্যেই প্যালেসের সবাইকে করিডোরে জড়ো করে ফেলল। প্রচণ্ড ভাঙচুরের শব্দ পেয়ে সবাই তটস্থ হয়ে ছুটে এলো। নিশান বিরক্ত গলায় প্রশ্ন করলো,
“এসব কী হচ্ছে? “
“যা হচ্ছে সেটা কম ই হচ্ছে। আরও ভয়ংকর কিছু হবে। তার আগে তুমি কৈফিয়ত দাও যে আমার বউ কোথায় যাবে কী যাবে না সেটা তুমি ডিসাইড করার কে?”
ইশানের আচরণে ভরকে না গেলেও সবাই বিরক্ত হলো। শিরিন গম্ভীর গলায় বললেন,
“ইশান, বিহাভ ইউরসেল্ফ। সব ব্যাপারে ওভার রিয়েক্ট কেন করছ? আমার সঙ্গে কথা বলো। “
ইশান সেসবে কান দিলো না। ভাঙচুর এর শব্দ প্রবল হলো। কাজরীও উপভোগ করছে। শিরিন কাজরীর কাছে এসে বললেন,
“এটা তোমার কাজ? তুমি উস্কে দিয়েছ। “
কাজরী স্মিত হেসে বলল,
“না। তবে আমি এমন কিছু চেয়েছিলাম। গত কয়েক মাস ধরে আপনি আমার সঙ্গে রিপিটেড নাটক চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি খুব বিরক্ত হয়ে গেছি। নতুন কিছু ভাবতে না পারলে আপনিও আমাকে ইগ্নোর করুন, আমিও আপনাকে ইগ্নোর করি। আর হ্যাঁ সবাইকে যে বলে বেড়াচ্ছেন আমার সময় ফুরিয়ে আসছে এটার মানে কী? আমাকে মে*রে ফেলবেন?”
শিরিন তাকিয়ে আছে কাজরীর দিকে। বোধহয় তার জীবনে এমন ব*দমায়েশ ধরনের মানুষ প্রথম দেখছেন।
চলবে……
Share On:
TAGS: কাজরী, সাবিকুন নাহার নিপা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কাজরী পর্ব ১
-
কাজরী পর্ব ১৩
-
কাজরী পর্ব ১৯
-
কাজরী পর্ব ১২
-
কাজরী পর্ব ১০
-
কাজরী পর্ব ২০
-
কাজরী পর্ব ২১
-
কাজরী পর্ব ১৫
-
কাজরী পর্ব ১৭
-
কাজরী পর্ব ১১