কাজরী
পর্ব-২
পাথর বাড়িতে আজ ঠিকই বিয়ের সানাই বাজবে, তবে সেটা কাজরীর জন্য, আল্পনার জন্য নয়।
আল্পনা হাতের লালরঙা মেহেদীর নকশাগুলা গভীর দৃষ্টিতে দেখছে, বুলু খালা মেহেদী দেখে বলেছিল রঙ তো ভালোই ফুটছে। স্বামীর সোহাগ বেশী পাবি, অথচ আজ ওর বিয়েই হবে না। কীসব আজগুবি কথা বলে সবাই!
কাজরী ঘরে ঢুকে দরজাটা বন্ধ করে দিলো শব্দ করে। ওর নি:শ্বাসের গতি অস্থির। আল্পনা নরম গলায় ডাকলো,
“কাজরী?”
কাজরী ফ্রিজ খুলে কাঁচের বোতল টা বের করে ঢকঢক করে অনেকখানি পানি খেয়ে বোতল টা মেঝেতে ছুড়ে মারলো।
“কাজরী বসো এখানে। শান্ত হও। “
কাজরী বসলো। ওর পরনে হালকা গোলাপি, সাদা শিফন জর্জেটের শাড়ি। এমন পোশাকে অভ্যস্ত না হলেও ভালোভাবে ক্যারি করতে পারছে।
কাজরী একটু আগে বাবার ঘরে দরজা বন্ধ করে কথা বলেছে সেখানে কী কথাবার্তা হয়েছে কেউ জানে না। তবে দরজা খুলে যখন বেরিয়েছে তখন বোন কে দেখে আল্পনা এটুকু বুঝেছে যে জোর জবরদস্তি করেও ওর বিয়ে দেয়া সম্ভব না। কিন্তু এখন কাজরীকে অসহায়ের মতো লাগছে। আল্পনা আস্তে করে ডাকলো,
“কাজরী?”
কাজরী আল্পনার দিকে তাকালো। চোখ দুটো রক্তবর্ণ ধারণ করেছে ওর। আল্পনা গলা নামিয়ে বলল,
“কী করবে তুমি? পালিয়ে যাবে? আমি সাহায্য করব তোমাকে। “
কাজরী ঈষৎ হেসে বলল,
“তুমিও না! পাগল আছ। সুবর্ন নগর থেকে আখতারউজ্জামান এর নাকের ডগা থেকে পালিয়ে যাওয়া! এতো সহজ! আর পালাব কেন আমি!”
আল্পনা জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়ে রইলো। কাজরী হেসে বলল,
“ইশান চৌধুরীকে দেখেছ তুমি? মোস্ট এলিজেবল ব্যাচেলর! তাকে বিয়ে করার জন্য মেয়েদের লাইন লেগে থাকে নিশ্চয়ই। “
আল্পনা একটুও অবাক হলো না। কাজরী মুখে যতই এই কথা বলুক ওর চোখে স্পষ্ট হতাশা, ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। কাজরী ভাবলেশহীন গলায় বলল,
“আমি পাগলও না, বোকাও না। “
আল্পনা কাজরী কে ভালো করে দেখতে লাগলো। দুই বোন আলাদা হয়ে গেলে ওদের মধ্যে মানসিক দূরত্ব তৈরী হলো। কাজরী নিজে কখনো কল করতো না। আল্পনাও ঠিকঠাক বুঝে উঠতো না কল করে ও কাজরী কে কী বলবে। বাবা মাঝেমধ্যে ফোন ধরিয়ে দিলে এক দেড় মিনিট কথা হতো। একটা পর্যায়ে আল্পনার মনে হলো কাজরী সম্ভবত ও’কে তেমন পছন্দ করে না। মা ও’কে ভালোবাসতেন সেই কারণে হয়তো কাজরীর মনে আল্পনার জন্য একটা ক্ষোভ তৈরী হয়েছিলো কিংবা হতে পারে ওর স্বভাব ই এমন। জেদি, একরোখা, স্পষ্টবাদী, কঠিন।
ময়না চাচী এসে কাজরী কে ডাকতে এলেন। দুই বোন কে এক ঘরে দেখে সরু চোখে তাকালেন। দুইটার যেমন স্বভাবে মিল নাই, তেমনি নিজেদের মধ্যেও মিল মহব্বত নাই। বড়টা ভীতু হলেও শয়তান না, কিন্তু ছোটটা এক নম্বরের শয়তান। মায়া দয়া কম। কাল থেকে দুইবোনের গলায় গলায় মহব্বত দেখা যাচ্ছে আবার।
“কাজরী তোরে তৈরী হতে বলছেন ভাইজান। চৌধুরী সাব আসবেন কিছুক্ষনের মধ্যে।”
ময়না চাচী একবার আল্পনাকে দেখলেন। তার চোখে তাচ্ছিল্যভাব স্পষ্ট। আল্পনা চোখ নামিয়ে নেয় অস্বস্তিতে। কাজরী উঠে যায়। আল্পনা ভাবতে থাকে। কী হবে শেষ পর্যন্ত। শান্তিপূর্ণ ভাবে কোনো কিছু হবার কথা না, হয়তো আবারও কিছু একটা ঝামেলা হবে।
শিরিন অস্থির ভাবে পায়চারী করছেন। তার সামনে বসে আছেন নিশান। নিশান ইশানের চেয়ে তিন বছরের বড়। বত্রিশে পা দিলো গত মাসে। ইশানের মতো উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপন করে না নিশান। উচ্চশিক্ষিত, স্বপ্নবাজ মানুষ। বাবার মতো রাজনীতিতে তার আগ্রহও আছে। বাবার ব্যবসায়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ সে নিজের মতো করে সামলায়। বাবার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিশানের মাথাব্যথা নেই একটুও বরং মনে মনে খুব খুশি যে বলির পাঠা বাবা তাকে বানান নি। আরও একবার ও নিশ্চিত হলো যে বাবা ও’কে একটু বেশী স্নেহের চোখে দেখেন।
“নিশান আমি ভাবতেই পারছি না যে ওই ধরনের একটা মেয়ে আমার ছেলের বউ হবে। এই প্যালেসে এসে থাকবে।”
শিরিন অস্থির গলায় কথাগুলো বলল। নিশান শান্ত গলায় বলল,
“মেয়েটার প্রোফাইল যথেষ্ট ভালো। বিদেশে পড়াশোনা করেছে। তাছাড়া বাবা হয়তো ইশান কে রাইট ট্রাকে আনতে এমন করছেন। “
শিরিন তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললেন,
“এখনো চিনতে পারো নি তোমার বাবাকে। সুবর্ন নগরে তার বাড়ির সামনে লাশটা পাওয়া গেছে। তিনি ঝামেলা এড়াতে ইশান কে বেছে নিয়েছেন।
নিশান চোখ নামিয়ে নেয়। ও জানে ব্যাপার টা। আখতারুজ্জামান এর সঙ্গে বাবার ব্যক্তিগত একটা দ্বন্দ আছে। বহু পুরোনো দ্বন্দ, সেই কারণে বাবা ওই মানুষটাকে পছন্দ করেন না। তার মেয়ের সঙ্গে ইশানের বিয়ে যে তিনি স্বেচ্ছায় দিচ্ছেন তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। হতে পারে এটা তার খেলার অংশ।
শিরিন অস্থির গলায় বললেন,
“ইশান তো রিলেশনশিপে ছিলো.. কী যেন মেয়েটার নাম? ত্বরিতা…
নিশান তীর্যক হেসে বলল,
“সো কলড রিলেশনশিপ আম্মু। তুমি একটু বেশি হাইপার হচ্ছো। আর এতো হাইপার হয়েও কী কোনো লাভ আছে। বাবার ডিসিশন তো চেঞ্জ হবে না। “
শিরিন কঠিন চোখে নিশান কে দেখলো। বলল,
“তোমাকে ইশান কেন সেলফিশ বলে সেটা আজ বুঝতে পারলাম। “
ঠিক সেই সময় ইশান সিড়ি থেকে নামছে। নিশানের সঙ্গে চোখাচোখি হতেই ইশান জিজ্ঞেস করলো,
“কেমন লাগছে? “
নিশান আপদামস্তক ইশান কে দেখলো। অফ হোয়াইট শার্টের উপর ব্ল্যাক লেদার ব্লেজার, জিন্সে হ্যান্ডসাম লাগছে। তবুও ঠোঁট উল্টে বলল,
“এজ ইউজুয়াল। “
ইশানের সঙ্গে যাচ্ছে ওর ছোট বোন এশনা। এশনা লন্ডনের একটা ইউনিভার্সিটি তে পড়ছে। ছুটি কাটাতে দেশে এসেছিল। ইশানের বিয়েতে ও খুশি খুব কারণ ওর উপস্থিতিতে বিয়েটা হচ্ছে।
ওয়াজেদ চৌধুরী নিচে নেমে শিরিন কে বললেন,
“তুমি ইশান কে ডায়মন্ড রিং টা দাও।”
শিরিন বুঝতে না পেরে বলল,
“কোন ডায়মন্ড রিং? “
“যেটা তোমার বিয়ের সময় দেয়া হয়েছিল। আমাদের পারিবারিক বনেদি রিং টা তোমার কাছেই তো আছে তাই না?”
শিরিন এক পলক নিশান কে দেখে বলল,
“ওটা তো বাড়ির বড় বউয়ের….
শিরিন কথা শেষ করতে পারলেন না। ওয়াজেদ চৌধুরীর চোখের দৃষ্টিতে কথা ফুরিয়ে গেল। নিশানের কপালের ভাজ টা স্পষ্ট হলো। শিরিন ডায়মন্ড রিং আনতে গেলেন অনিচ্ছায়। ওয়াজেদ চৌধুরী নিশান কে প্রশ্ন করলেন,
“তুমি আমাদের সাথে যাচ্ছ না তাহলে? “
নিশান আমতা আমতা করে বলল,
“আমি অলমোস্ট রেডি… জাস্ট…!
“সময়জ্ঞান ব্যাপার টা একটু মাথায় রাখার চেষ্টা করো নিশান। “
নিশান উঠে নিজের ঘরের দিকে যাবার সময় কাঁধে একটা হাত টের পেল। ইশান ফিসফিস করে বলল,
“কপালের ভাজ টা ঠিক করে এসো মাই বয়। একটু বেশি হ্যান্ডসাম লাগবে দেখতে। “
নিশান শীতল চোখে ভাইকে দেখলো।
ইশান গেল দাদীর সঙ্গে দেখা করতে। প্যালেসের সবচেয়ে দূরের ঘর টায় দাদী থাকেন। সত্তরের চেয়ে বেশী বয়স হওয়া সত্যেও এখনও বেশ তেজী। ইশানের দাদীর নাম মন্যুজান খাতুন। তিনি নিজের রান্না নিজে করেন। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আদা ভেজানো পানি খেয়ে এক কাপ চাল বসিয়ে দেন। সেই চালের মধ্যে একটা আলু, কিছু লাউপাতা কিংবা এক ফালি কাঁচকলা দিয়ে দেন। ভাত হয়ে গেলে সবকিছু চটকে নিয়ে আয়েশ করে খান। ইশান ছোটবেলায় এই দৃশ্য মুগ্ধ হয়ে দেখতো। দাদী কোনো কারণ ছাড়াই ইশান কে স্নেহ করেন। বাকীদের প্রতি তার মায়া মমতা কদাচিৎ। ইশানের দাদী পান ছেচতে ব্যস্ত। ইশান কে দেখে বসার জায়গা দিলো। পান খাওয়া লাল দাঁত নিয়ে ফিক করে হেসে বললেন,
“বউ আনতে যাও? তোর মায়ের তো ঘুম হারাম। “
ইশান ঘরের দরজায় দাঁড়ানো তাহিরা নামের মেয়েটার দিকে তাকালো। মেয়েটা সারাক্ষণ দাদীর সঙ্গে থাকে। অন্দরমহলের সব খবর দাদীর কানে দেয়ার কাজটাও খুব নিষ্ঠাভরে পালন করে বলে প্যালেসে টিকে আছে অনেক বছর ধরে। ইশানের চাহনী দেখে তাহিরা বেরিয়ে গেল।
“তোমাকে এতো খুশি লাগছে? আমি বিয়ে করছি বলে?”
দাদী আবারও ফিক করে হেসে ফেললেন। বললেন,
“না তোর মায়ের জ্বলন দেখে।”
“তাতে তুমি এতো খুশি কেন?”
“জানিনা। নাচতে মন চায়। “
ইশান হেসে ফেলল। চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী শাশুড়ী বউয়ের সম্পর্ক যেমন হয় ওর মা আর দাদীর সম্পর্ক তেমন ই। তবে ও কখনো দেখেনি মা’কে দাদীর সঙ্গে খারাপ আচরণ কিংবা বেয়াদবি করতে। দাদীও সামনাসামনি মা’কে কিছু বলে না কিন্তু সুযোগ পেলেই বদনাম করে। দিনের পর দিন এই ব্যাপার চলছে বলে শিরিনের মনেও বিতৃষ্ণা চলে এসেছে শাশুড়ীর জন্য।
“দাদী তোমার দোয়া নিতে এসেছি। দোয়া দাও। চলে যাই, নাহলে তোমার ছেলের নাক বড় হয়ে যাবে রাগে।”
“যা যা অনেক দোয়া দিলাম। এইবার তোর মায়ের যা হইবো! হিহিহি…
কাজরী সাদা শাড়ি পরেছে। অনেকগুলো সুন্দর রঙের শাড়ি রেখে সাদা সিল্কের শাড়িটা মনে ধরার কারণ আল্পনা বুঝলো না। আল্পনা সঙ্গে থাকলেও ও’কে কিছু করতে হচ্ছে না। কাজরীর কথাই ঠিক, পৃথিবীর যে প্রান্তেই ও পালিয়ে যাক, বাবা ঠিকই খুঁজে বের করে বিয়ে দিবেন। তার সিদ্ধান্তের নড়চড় হবে না। সেই কারণে বোধহয় ও সবকিছু মেনে নিচ্ছে। আল্পনা গয়নার বাক্স টা কাজরীর সামনে রেখে বলল,
“বাবা দিলেন। বললেন এগুলো তোমাকে দিতে। মায়ের গয়না আছে এখানে। “
কাজরী গয়নার বাক্স টা ছুঁয়ে দেখলো। ওর সাজগোছের মধ্যে বাকী আছে শুধু চোখে কাজল পরা। সেটা বোধহয় ইচ্ছে করেই এড়িয়ে গেল। কাজরী অর্থই কাজলপরা। কাজলপরা চোখ নিয়ে জন্মেছে বলেই তো ওর নাম কাজরী। আল্পনা মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখলো কাজরীকে। ও’কে সবাই সুন্দর বলে। তবে কাজরীর সঙ্গে তুলনা করা হলে ও ধারেকাছেও নেই। কাজরী হঠাৎ চকিতে ঘুরে আল্পনাকে প্রশ্ন করলো,
“আল্পনা তোমার জায়গায় আমার কেন বিয়ে হবে এই প্রশ্ন আসছে না মনে? “
আল্পনা হাসলো। হাসলে ওর গালে টোল পড়ে। বলল,
“যোগ্যতা ও সৌন্দর্যের দিক থেকে তো আমি তোমার ধারে কাছেও নেই। ইশান চৌধুরীর পাশে তোমাকে মানাবে, আমাকে না। “
কাজরী স্মিত হেসে বলল,
“কী বোকা তুমি! চৌধুরী দের সঙ্গে শত্রুতার কথা কে না জানে! অথচ সেই বাড়িতে আমার বিয়ে হচ্ছে। এটা বিয়ে নয় আল্পনা, পুরোনো হিসাব নিকাশ। “
আল্পনা জিজ্ঞাসু চোখে তাকালো। কাজরীর ঠোঁটে মৃদু হাসি। ও আল্পনার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলল,
“একটা গল্প শুনবে আল্পনা। একবার শহর থেকে নবদম্পতি বেড়াতে এলেন সুন্দর এক গ্রামে। তারা গ্রামের পরিবেশে সুন্দর কিছু সময় পাড় করলেন। যেদিন ফিরে যাবেন সেদিন তারা অপ্রত্যাশিত একটি ঘটনার মুখোমুখি হলো। তাদের গাড়িতে কয়েকজন হামলা করলো। স্বামীর সামনে সুন্দরী, রূপবতী স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো। স্বামী বেচারা বুঝতেই পারলেন না যে আসলে ঠিক কী ঘটেছে তার সঙ্গে। তার এমন শত্রু কে থাকতে পারে! কেউ কেউ বলে আক্রমণকারী আসলে ডাকাতদল। তারা স্ত্রীকে তুলে নিয়ে গেলেন তার সঙ্গে থাকা দামীসব গয়নার জন্য। কিন্তু অলংকারের জন্য তো বধূটিকে তুলে নিয়ে যাবার দরকার ছিলো না, তবুও কাজটা কেন করলো বলো তো? “
আল্পনা রক্তশূণ্য ফ্যাকাসে মুখে তাকিয়ে আছে। কাজরী হেসে ফেলল। আল্পনা অস্ফুটস্বরে বলল,
“কার কথা বলছ? “
“গল্প শেষ আল্পনা। “
আল্পনাকে স্তব্ধ, হতভম্ব অবস্থায় রেখে কাজরী বেরিয়ে গেল।
ওয়াজেদ চৌধুরী কে সাদরে গ্রহন করলেন আখতারুজ্জামান। তিনি এই প্রথম পাথর বাড়িতে এসেছেন। বসার ঘরে পা রাখা মাত্রই তার মন টা স্নিগ্ধ হলো। দামী আসবাব, আর ঘরের সাজসজ্জায় রুচির পরিচয় পাওয়া যায়। ইশান কে যখন পরিচয় করালো তখন ও দায়সারা ভাবে হ্যান্ডশেক করলো। ইশানের চেয়ে বেশী আন্তরিকতা নিশান দেখিয়েছিল। আখতারউজ্জামান এর ইচ্ছে ছিলো নিশানের সঙ্গে কাজরীর বিয়ে হোক। ইশানের ট্রাক রেকর্ড যে খুব একটা ভালো নয় সেটা তিনি জানেন। নিশানও সম্ভবত একই রকম তবে যতটুকু জাহির সে সকলের সামনে নিজেকে করে ততটুকুতে বোঝা যায় যে পাব্লিকের সামনে ইমেজ নিট এন্ড ক্লিন। কিন্তু সব চাওয়া তো সম্ভব নয়। আখতারউজ্জামান এর আগেও দুইবার গিয়েছিল কাজরীর বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে। চৌধুরী তাচ্ছিল্যভরে প্রত্যাখান করেছিলেন। এবার তিনি নিজে এসে নত হয়েছেন। সেটাও অনেক বড় ব্যাপার। চৌধুরী কে নোয়ানো এতো সহজ নয়।
ইশানের হাতের মুঠোয় ডায়মন্ডের রিং এর কৌটা। চোখ ঘুরিয়ে আশপাশ দেখছে। আলাদা করে ফিলিংস আসছে না মনে। তবে চৌধুরী গ্রুপের মালিক হতে যাচ্ছে এটা ভেবে মনে অসংখ্য প্রজাপতি উড়ে বেড়াচ্ছে।
বসার ঘরে ক্লিপ ক্লপ হিলের শব্দ শুনে সকলের চোখ সেদিকে গেল। কাজরী আসছে। এক পলক বাবাকে দেখে এগিয়ে গেল সোজা। ইশান হঠাৎই উঠে দাঁড়ালো এবং হাত থেকে রিং এর কৌটা টা পড়ে গেল। আশ্চর্য ব্যাপার হলো ওয়াজেদ চৌধুরী নিজেও উঠে দাঁড়ালেন। কাজরী তার কাছেই আসছেন। একবার দাঁড়িয়ে গেল, রিং এর কৌটা টা ওর পায়ের কাছে এসে ঠেকেছে। হাতে তুলে নিয়ে সেটা ইশানের দিকে বাড়িয়ে দিলো। এতো স্বতস্ফুর্ত, এতো কনফিডেন্ট বিয়ের কনে ওয়াজেদ চৌধুরী খুব কম ই দেখেছেন।
নিশান অনুভব করতে পারলো এই মেয়ের অরা একটু অন্যরকম। নাহয় বাবা এরকম দাঁড়িয়ে পড়তেন না। সামথিং স্পেশাল বলেই বাবা দাঁড়িয়ে গেছেন। গভীর কাজল কালো চোখ, ফর্সা গড়ন, পাতলা ঠোঁটে সাধারণ মেয়েটিকে অলংকার ছাড়াই রানীর মতো লাগছে। যখন হেটে এলো তখন মনে হলো কোনো মহলের রানি এসে যেন উপস্থিত হয়েছে।
ওয়াজেদ চৌধুরী জিজ্ঞেস করলেন,
“কেমন আছ তুমি মা?”
কাজরী স্মিত হাসলো। ইশান তাকিয়ে আছে এখনো। নিশান ও ওয়াজেদ চৌধুরী যে মুগ্ধতা নিয়ে কাজরীকে দেখছে ইশানের চোখে সেই মুগ্ধতা বিরাজমান মনে হলেও এখানে ঘটনা অন্যকিছু। কাজরীর সঙ্গে ইশানের চোখাচোখি হলো। মেয়েটার ঠোঁটের হাসিটা কী বিদ্রুপের। আরও একবার ও ইশানের সামনে এলো।
চলবে…..
সাবিকুন নাহার নিপা
(যারা পড়ছেন নিয়মিত কমেন্ট করুন)
Share On:
TAGS: কাজরী, সাবিকুন নাহার নিপা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কাজরী পর্ব ৮+৯
-
কাজরী পর্ব ১০
-
কাজরী পর্ব ৬
-
কাজরী গল্পের লিংক
-
কাজরী পর্ব ৩
-
কাজরী পর্ব ৫
-
কাজরী পর্ব ৭
-
কাজরী পর্ব ৪
-
কাজরী পর্ব ১