Golpo কাজরী

কাজরী পর্ব ১০


কাজরী-১০

সাবিকুননাহারনিপা

কাজরী তাকিয়ে আছে ঘুমন্ত ইশানের দিকে। ঘুমন্ত অবস্থায় কী নিষ্পাপ, নিরীহ লাগছে। ইশানের মাথাভর্তি ঘন কালো চুল, এলোমেলো অবস্থায় যখন থাকে তখনও অন্যরকম সুন্দর লাগে। ভেজা শরীরে চুল মুছতে মুছতে যখন আয়নার সামনে দাঁড়ায় সেই দৃশ্যটা দেখলে যে কারোর হৃদয়ে ঝড় তুলবে। কাজরী না চাইতেও সেই ইশান কে দেখেছে। একটু ফ্যাশনেবল হয়ে যখন সামনে আসে তখনও বেশীক্ষন তাকিয়ে থাকা যায় না৷ কাজরী দৃষ্টি সরিয়ে নিলো। খানিক বাদে আবারও তাকালো। কে বলবে এই ছেলেটা মাঝেমধ্যে কাজরীর প্রচণ্ড বিরক্তির কারণ হয়।

সকাল নয়টায় সবাইকে ব্রেকফাস্ট টেবিলে থাকতে হয়। ওয়াজেদ চৌধুরী সকালে পরিবারের সব সদস্যদের সঙ্গে বসে খাবার খান। দুপুর ও রাতের খাবার টা নিজের ঘরে বসে খান এবং সেই সময় তিনি স্ত্রীর উপস্থিতিও পছন্দ করে না।

কাজরী ইশান কে ডাকতে গিয়েও ডাকলো না। ঘুমন্ত অবস্থায় ওর মায়া হলো, অথচ হওয়া উচিত ছিলো রাগ। ইশান কাল রাতে যা করেছে। রাতে কখন ফিরেছে ও জানেনা, কিন্তু মাঝরাতে ঘুম ভেঙে দেখলো ইশান ওর কাছাকাছি এসে ঘুমিয়েছে। এক হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে রেখেছে ও’কে। ইশানের নি:শ্বাসও অনুভব করলো। কাজরী বিছানা ছেড়ে সোফায় গিয়ে শুয়ে পড়লো। বাকী রাতটুকু ঘুম হলো ছাড়াছাড়া। আর ইশান ঠিকই নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েছে। দৃশ্যটা কল্পনা করলে কাজরীর রাগ হয়, কিন্তু রাগের প্রতিক্রিয়া তেমন দেখাতে পারে না।

ইশান ঠিক নয়টায় এসে টেবিলে বসলো। কাজরীর ঠিক পাশের চেয়ারটায়। খাবার টেবিলে সবাই যার যার মতো খাচ্ছে, সার্ভেন্টরা সাহায্য করছে। ওয়াজেদ চৌধুরী ছাড়া এই সময়ে কেউ অবান্তর কোনো কথা বলে না। কাজরী আজ একটু অন্যমনস্ক ছিলো। হাত থেকে চামচ টা পড়ে গেল। কয়েকজন বিষয় টা তাকিয়ে দেখলো। নিশান, এশনা, আইরিন। স্বাভাবিক একটা ব্যাপার, কিন্তু দ্বিতীয়বার আবারও একই জিনিস ঘটলো অসচেতনতায়। এবার আরও কয়েকজন দেখলো। শিরিন বিরক্তির চোখে তাকালো। আইরিন খালামনির ছেলে আর ছেলের বউ পাশাপাশি বসেছে। ছেলের নাম আশফাক, কাজরীর সঙ্গে অতো বেশী আলাপ কিংবা কথাবার্তা হয় নি। আশফাকের স্ত্রীর নাম রোদেলা। মেয়েটার বয়স কাজরীর সমান ই হবে। রোদেলাকে দেখলে স্পষ্ট বোঝা যায় সে কাজরীকে পছন্দ করে না। সে সারাক্ষণ ঘুরঘুর করে শিরিনের কাছে। শিরিন কাজরীকে পছন্দ করছে না বলে সেও পছন্দ করছে না ব্যাপার টা এমন হতে পারে। তবে এই নিয়ে কাজরীর মাথাব্যথা নেই। বিশাল বড় বাড়িতে সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত। কে ওর সঙ্গে কথা বলল, কে বলল না এসব নিয়ে ভেবে লাভ নেই।

রোদেলা আজ বিরক্তির সুরে কাজরীকে বলল,

“তোমার সমস্যা হলে ঘরে যেতে পারো খাবার নিয়ে। “

কাজরী তাকালো রোদেলার দিকে। মেয়েটা নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে খাবার খাচ্ছে। এই কথা যদি ও’কে এশনা বলতো তবুও মেনে নেয়া যেত, কিন্তু রোদেলার এটিচ্যুড দেখে রাগ হলো।

ইশান চুপচাপ খাচ্ছে। কাজরী ভেবেছিল ইশান এই ব্যাপার নিয়ে কিছু বলবে। কিন্তু ও গুরুত্বই দিলো না। কাজরী রোদেলার দিকে তাকিয়ে আছে দেখে আইরিন খালামনি বললেন,

“তোমার তো এতো মানুষের মধ্যে বসে খাবার অভ্যাস নেই, এজন্য বলছে। তাছাড়া শিরুর তো নয়েজ পছন্দ না, রোদেলা সেটা মনে করে বলছে। মাইন্ড কইরো না।”

রোদেলার ঠোঁটে ব্যাঙ্গাত্মক হাসি। খাওয়া পর্ব শেষ করে যে যার কাজে চলে গেল। রোদেলাকেও বেশ উৎফুল্ল লাগছে। কাজরীকে ডাইনিং টেবিলে সবার সামনে একতরফা অপমান করে খুব খুশি। খালামনি এই কাজের জন্য নিশ্চয়ই সাবাশি দিবেন।


ইশানের সামনে মেয়েটা বসে আছে তার নাম দর্শনা। ইন্টারভিউ বোর্ডে যে কয়জন সিলেক্ট হয়েছে তাদের যথেষ্ট ইম্প্রেসিভ প্রোফাইল, সেই সঙ্গে আত্মবিশ্বাসী বুদ্ধিদীপ্ত চেহারা। ওয়াজেদ চৌধুরী বলেছিলেন ইরফান তোমাকে সাহায্য করবে ইশান। ইশান বাবাকে সরাসরি নেতিবাচক কিছু না বললেও নিজের চারপাশের লোকজন কে ঠিকই খুঁজে নিয়েছে। ইশান পেপারওয়েট ঘোরাতে ঘোরাতে বলল,

“দর্শনা তুমি কী বুঝতে পারছ তোমার কাজ কী?”

“জি স্যার। “

“কী বুঝেছ?”

“আপনার সমস্ত কাজের আপডেট আমাকে দেখতে হবে। “

ইশানের ঠোঁটে সূক্ষ্ম হাসি দেখা গেল। বলল,

“তুমি কিন্তু আমার পার্সোনাল সেক্রেটারি নও। তবে অন্য একজনের পার্সোনাল সেক্রেটারি হয়ে তার সমস্ত আপডেট আমাকে দিতে হবে। “

দর্শনা বুঝতে না পেরেও কোনো প্রশ্ন করলো না। ইশান চৌধুরী আন্তরিক ভাবে কথা বলছেন ঠিকই, তবুও তাকে প্রশ্নটা করা যায় কী না সেটা নিয়ে ভাবলো।

ইশান ভ্রু নাচিয়ে কৌতুক স্বরে বলল,

“এই পদের ভার টা কিন্তু একটু বেশী। “

দর্শনাকে এবার একটু বেশী আত্মবিশ্বাসী দেখা গেল। ইশান সামনের দিকে ওর অ্যাপেল ব্র‍্যান্ডের ট্যাব টা এগিয়ে দিয়ে বলল,

দর্শনা বড় স্ক্রিনের ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইলো। বিয়ের সাজে দেখা মেয়েটি তার অচেনা নয়। জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়ে রইলো ইশানের দিকে। ইশান একটু গম্ভীর গলায় বলল,

“ধরে নাও এটা একটা সিক্রেট প্রোজেক্ট। একটু কেয়ারফুলি হ্যান্ডেল করতে হবে। গট ইট। “

দর্শনা স্মিত হেসে মাথা নাড়লো। বুঝতে অসুবিধা হলো না যে ও ইশান চৌধুরী নয়, কাজরী চৌধুরীর পার্সোনাল সেক্রেটারি।


দর্শনাকে চৌধুরী প্যালেসে দেখে শিরিন বিস্মিত হলেন না। ইশানের পার্সোনাল এসিট্যান্ট হিসেবে তিনি এমন একটি মেয়েকেই আশা করেছিলেন কিন্তু অবাক হলেন যখন শুনলেন মেয়েটা কাজরীর পার্সোনাল এসিট্যান্ট। প্যালেসের একটা দিক স্টাফদের জন্য বরাদ্ধ। সেখানে সব থেকে সুন্দর আর চমৎকার ঘরটা দর্শনা পেল।

তবে শিরিন একটু রোমাঞ্চিত বোধ করলেন। ইশানের মেয়েঘটিত স্ক্যান্ডাল নেই যেমন তেমনি কখনো সে সিঙ্গেলও থাকে না। পার্টিতে তাকে বেশীরভাগ সময় গার্লফ্রেন্ডদের সাথেই দেখা যায়। দর্শনার মধ্যে একটা আলাদা স্পার্ক আছে, ইশানের মতিগতি বোঝা দায়। যদি অন্যকিছু ভেবে থাকে! শিরিন কাজরীর সঙ্গে আরও একটু বেশী নরম হবেন এখন থেকে। গরমে যে পোষ মানে না সে ঠান্ডাতে ঠিকই পোষ মানবে।

দর্শনাকে আর দশ জন স্টাফের মতোই দেখলো কাজরী। বাড়তি টেনশন হিসেবে নিলো না। তবে ওর মনে সন্দেহের বীজ বপনের দায়িত্বটুকু শিরিন অতি যত্নের সাথে করলো। কাজরীর ঘরে সে তেমন একটা যায় না। যদি প্রয়োজন হয় তবে নিজের ঘরে ডেকে নেয়। এই বিষয়টায় আলাদা একটা আনন্দ আছে। আজ এলেন। কাজরী ল্যাপটপে মনোযোগ দিয়ে একটা আর্টিকেল পড়তে ব্যস্ত ছিলো। শিরিন কে দেখে টিভি অফ করে দিলো। শিরিন বললেন,

“তোমাকে বিরক্ত করলাম নাকি?”

কাজরী স্মিত হেসে বলল,

“আপনার আগমনে আমি বিরক্ত হবো! একদম নয়। “

শিরিনও স্মিত হাসলেন। দুজনেই জানে যে এই হাসিটুকু মোটেও আন্তরিকতা থেকে নয়। সহজ ভাবে কথা চালিয়ে যাবার ভান শুধু।

“বিয়ের এতোদিন হলো অথচ হানিমুন প্ল্যান করছ না তোমরা?”

কাজরীর ভ্রু কুঞ্চিত হলো। শিরিন সেটা খেয়াল করলেন না। তার হাতে একটা জুয়েলারির বক্স। সেটা ড্রেসিং টেবিলে রেখে বললেন,

“ইশান নতুন দায়িত্ব পেয়ে তো সব ভুলে গেল! তুমি তো একটু মনে করিয়ে দিতে পারতে।”

কাজরী চুপ করে রইলো। এই বিষয় টা নিয়ে ও ভেবেছে, তবে সেটা অন্যভাবে। ব্যাপার টা কিভাবে এড়ানো যায় সেটা নিয়ে ভেবেছিল। এতোদিনেও কেউ মনে করে নি দেখে স্বস্তি পেয়েছিল।

“তোমাদের হানিমুন ট্রিপ টা আমি স্পন্সর করলাম। দুইমাসেও তোমাদের মধ্যে তেমন আগ্রহ না দেখে, আরও অনেকে করতে চেয়েছিল তবে আমি রাজি হইনি। চেয়েছি এই সুইট জেশ্চার টুকু আমি ইশানকে দেই। “

কাজরীর সামনে একটা এনভেলাপ এগিয়ে দিলো। অনিচ্ছ্বাস্বত্তেও কাজরীকে সেটা নিতে হলো সেই সঙ্গে ঠোঁটে ঝুলিয়ে রাখতে হলো সৌজন্য হাসি। শিরিন আবারও বললেন,

“সুইজারল্যান্ড ইশানের পছন্দের জায়গা। ঘুরেফিরে আনন্দ করে আসো। চৌধুরী সাহেব ছেলেটাকে দায়িত্বের চাপে এখনই ফেললেন! অন্তত একটা বছর যেত বিয়ের! এখন তোমাদের আনন্দ করার সময়…

“আমি ইশান কে বলব আন্টি। যদিও ইশান রাজি হয় কী না!”

শিরিন অতি বিস্ময়ের ভান করে বললেন,

“ইশান রাজী হবে না? তোমাদের মধ্যে সব ঠিকঠাক আছে তো কাজরী? এখন তো তোমাদের গোল্ডেন পিরিয়ড চলছে। প্রতিটি মুহুর্ত একজন আরেকজনের সঙ্গে স্পেন্ড করার জন্য পাগল থাকার কথা! “

কাজরী শাশুড়ীর এই কথায় লজ্জা পাবার বদলে খানিকটা বিরক্ত হলো। উনি নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন ওদের মধ্যে তেমন অন্তরঙ্গ মুহুর্ত তৈরী হয় নি। সেটা বুঝেই এই বিষয়ে কথা বাড়াচ্ছেন।

“তোমার চুপ থাকা, ইশানের ব্যস্ততা আমাকে কিন্তু খুব চিন্তায় ফেলছে কাজরী। এভ্রিথিং ইজ ওকে?”

কাজরী হাসলো। এই হাসিটা লাজুক হাসি ছিলো। শিরিন মনে মনে একটা বিশ্রী গালি দিলেন। তিনি জানেন যে এদের মধ্যে এখনো পর্যন্ত কিছু হয় নি। এটা জানার জন্য তাকে ঘরে আড়ি পাততে হয় নি। বিবাহিত দম্পত্তিদের দেখলেই বোঝা যায়। ইশান এই মেয়েটাকে বিয়ে করেছে চৌধুরী গ্রুপের কলকাঠি নাড়ানোর জন্য। ঠিক যেমন বিজনেস ডিল পেতে হলে ক্লায়েন্ট রিকোয়েরমেন্ট ফুলফিল করতে হয় তেমনই চৌধুরী সাহেব ফাঁসিয়েছে ব্যাপারটায়। আর চৌধুরী সাহেব এর হিসাবও ক্লিয়ার। আখতারউজ্জামান এর সাথে উপরে উপরে শত্রুতা দেখিয়ে গোপনে অন্য পরিকল্পনা করেছেন। শিরিন সব বুঝতে পেরেছেন। এখন শুধু সার্কাস দেখবে। এই বেপরোয়া ঘোড়াকে কিভাবে লাগাম দিয়ে আটকানো হয় সেটাও দেখবেন।

“আপনি কী আমাকে নিয়ে কিছু ভাবছেন? “

শিরিনের ধ্যান ভাঙলো হঠাৎ। কাজরীর কৌতুহলী দৃষ্টিতে অপ্রস্তুত হলেন যেন একটু।

“হ্যাঁ… তোমাদের নিয়েই ভাবছি। সম্পর্কের সুতোটা আলগা রেখো না কাজরী। শক্ত হয়ে বাঁধো। চৌধুরীদের রক্তে কিন্তু অনেক ইতিহাস আছে। “

কাজরী হেসে ফেলল। শিরিনের গা জ্বলে গেল। তিনিও যেন শোধ নেবার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। বললেন,

“ইশানের ম্যানেজার কে দেখেছ? দর্শনা নাম মেয়েটার। মেয়েটা কিন্তু সুন্দরী। “

কাজরীর কপালে সূক্ষ্ম ভাজ পড়লো। শিরিন উপভোগ করলেন ওর ফ্যাকাসে হওয়া মুখটাকে। তবে কাজরীর মনে অন্য কথা এসেছে। এই ভদ্রমহিলা ও’কে ডাউন করার জন্য ইনডাইরেক্টলি ইশান কে ছোট করছেন। অনেক কষ্টে নিজেকে সামলালো। নাহলে হয়তো প্রশ্ন করে ফেলতো, ইশান কে নিয়ে এতো শঙ্কা। মিস্টার চৌধুরীর পাস্ট রেকর্ড কী খারাপ ছিলো! তবুও সংযত হতে হয়, সব প্রশ্ন মনে এলেও সেটা ঠোঁট অবধি আনা যাবে না।

“কাজরী?”

কাজরী তাকালো। বলল,

“ডায়মন্ডের নেকলেস টা পছন্দ না হলে আমাকে জানাবে। পাল্টে আনার ব্যবস্থা করব। তোমার তো অন্যের পছন্দের জিনিস যুতসই না হলে মনমতো হয় না। “

কাজরী আন্তরিকতার মেকি হাসি দিয়ে বলল,

“ডোন্ট ওরি আন্টি, ডায়মন্ড হোক কিংবা গোল্ড আমি পরলে সেটা সুন্দর হয়ে যাবে। “

শিরিন হাসার চেষ্টা করলেন। শরীর জ্বলে যাবার মতো অস্বস্তিটুকুও গিলে ফেলে স্বাভাবিক হবার চেষ্টা করলেন।


আজ ডিনারে ওয়াজেদ চৌধুরী বাদে সবাই ই আছে। ইশানও আজ তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরেছে। এসেই ট্যাব নিয়ে বসে পড়েছিল। কাজরী এসে বলল,

“ডিনার করতে চলো ইশান?”

ইশান ভ্রু নাচিয়ে প্রশ্ন করলো,

“অর্ডার করছ? হঠাৎ? নাকি পারফেক্ট আইডিয়াল ওয়াইফ হবার চেষ্টা? “

কাজরী গলার স্বরে খানিকটা কোমলতা এনে বলল,

“আজ রিকোয়েস্ট করছি। “

ইশান জিজ্ঞাসু চোখে তাকালো। কাজরী আরেকটু নরম হয়ে বলল,

“প্লিজ ইশান। “

কাজরী যেরকম সুরে ইশানকে ডিনারে যেতে আহবান করলো এতে করে কেউ না বলবে না। অবশ্য ইশান চৌধুরীর কথা ভিন্ন। লোকের ইমোশন, সেন্টিমেন্টের তোয়াক্কা সে করে না। তবুও বাধ্য ছেলের মতো নামলো।

কাজরী রোদেলার দিকে তাকালো। ওর মুখোমুখি চেয়ারে বসেছে। রোদেলা প্লেটে একগাদা চিকেন, সালাদ নিয়ে খেতে ব্যস্ত। শিরিন মাত্র প্লেটে খাবার নিয়েছেন। বাকীরা খেতে শুরু করে দিয়েছে। কাজরী সেই সময় রোদেলাকে উদ্দেশ্য করে স্পুন ছুড়ে মারলো। নিশানা এমন ভাবে ছিলো যেন রোদেলার গায়ে না পড়ে। রোদেলা চমকে উঠলো। কাজরীর মুখে স্মিত হাসি। ডাইনিং টেবিলে অন্য যারা ছিলো সবাই তাকিয়ে আছে কাজরীর দিকে। কেউ বুঝতে পারছে না হঠাৎ কী হলো ওর। ইশানের চোখে বিস্ময়ের ছিটেফোঁটা নেই। ও রোমাঞ্চকর এক অনুভূতি নিয়ে নাটকের বাকী অংশটা দেখার অপেক্ষায়। কাজরী ভালো মানুষী গলায় বলল,

“সকালের হাত থেকে চামচ পড়ে যাওয়া টা ইচ্ছেকৃত না হলেও এবারে ইচ্ছেকৃত রোদেলা। আর হ্যাঁ পরগাছা দের আচরণে আরেকটু সাবধান ও সংযত হতে হয়। এটা এরপর থেকে মনে রাখবে। আমি মিসেস কাজরী চৌধুরী, একজন পরগাছার কাছ থেকে চোখ রাঙানি আচরণ সহ্য করার জন্য বসে নেই। আর নেক্সট টাইম আমাকে দেখার পর চেহারার এক্সপ্রেশন টাও ঠিক রাখবে। “

রোদেলাকে দেখে মনে হলো ভয়ে কুঁকড়ে আছে। ঢোক গিলে একবার শাশুড়ী আরেকবার শিরিনের দিকে তাকালো। শিরিন বসে আছেন দমবন্ধ করা অনুভূতি নিয়ে। তার সামনে ডাইনিং টেবিলে এমন আচরণ করছে কেউ! আইরিন খালামনি বারবার বোনের দিকে তাকাচ্ছেন। তিনি চাইছেন বোন প্রতিবাদ করুক, কিন্তু শিরিন এখনো হতভম্ব ভাব কাটিয়ে উঠতে পারছে না৷

কাজরী নিশান ও এশনার দিকে তাকিয়ে বলল,

“সরি গায়েজ! প্লিজ ক্যারি অন। “

কথাটা বলে কাজরী উঠে এলো। ইশান নির্লিপ্ত গলায় বলল,

“নামটা কিন্তু মনে রেখো মিসেস কাজরী চৌধুরী। “

চলবে…..

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply