Golpo romantic golpo কাছে আসার মৌসুম

কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৬৯


কাছেআসারমৌসুম!_(৬৯)

নুসরাতসুলতানাসেঁজুতি

একটা ফাঁকা বুক,ভাঙা মন, আর অনেক বেশি হাহাকার নিয়ে অয়ন বারান্দায় এসে দাঁড়াল।
রাতের বুক চিড়ে উড়ে যাওয়া অন্ধকার হাতড়ে দেখা গেল ওর কার্নিশ ছুঁয়ে গড়িয়ে পড়া জল। যা আরো বাড়ল তুশির বলা কথায়, সার্থর একটু আগের বিদ্রুপ মনে করতেই। অয়নের হৃদয় খলবলাল এই না পাওয়ার বিষে। সত্যিইতো, আজ তুশি সংসার পেতেছে। কাল ওদের সব মিটে যাবে। পরশু ওদের সংসারে নতুন মানুষ আসবে। তখন সম্পর্কের সুতোতে টান পড়বে না? অয়ন তো সেই টানে আটকে যাবে। পালানোর কোনো পথই থাকবে না সামনে। কিন্তু ওর দুনিয়াটা এমন বিষিয়ে গেল কেন? জীবন তো এমন ছিল না। কেন এলো তুশির প্রতি ভালোবাসা! কেন ওকে ধরেছিল মনে! দূরাকাশ ঢেকে থাকা বড়ো বড়ো গাছের পাতাগুলোকে চোখ ভরে দেখল অয়ন। মেঘের কোল ছুঁয়ে উড়ে বেড়ানো নিঃসঙ্গ গাঙচিলটাও যেন ওকে শুনিয়ে শুনিয়ে গাইল,
“ এত শূন্যতা এ মনে রাখি যে আমি,
দেখে না কেউ তো আর, বলে এ সবই পাগলামি!
কাটে না যামিনী, বিরহ যেন কেটে যায়!
থামে না বরষা, তোমারে ডাকি যে আমি!”

“ অয়ন!”
কোমল নারীকণ্ঠের ডাক শুনে ঝটপট কনুই ভাঁজ করে শার্টের হাতায় চোখ মুছল অয়ন। ফিরল পেছনে। তনিমা এগিয়ে এলেন। ছেলের বিষণ্ণ মুখটা দেখলেন দু পল। মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,
“ এখনো মন খারাপ?”
অয়ন বিদ্রুপ করে হাসল,
“ মন? আমার মন আছে নাকি! আমি তো মানুষ নই।”
তনিমার বুকটা হুহু করে উঠল। দুই সন্তানের মাঝে ফাঁটাবাশে পা আটকে যাওয়ার মতো অবস্থা ওনার। বললেন,
“ এভাবে বলে না, বাবা। আমার ছেলেরা তো খুব বুঝদার, বিচক্ষণ! তাদের মুখে কি এসব মানায়?”
অয়নের কণ্ঠ ভিজে গেল আরো।
“ ভাইয়া আমার সাথে এমন কেন করল, মামুনি?”
“ ওর দোষ দিস না বাবা। সবই ভাগ্য! জন্ম,মৃত্যু বিয়ে সব তো আল্লাহর হাতে বল৷
সার্থর কপালে তুশিই ছিল।”
“ তাহলে আমি মাঝে কেন এলাম? আমি কি যেচে গিয়েছিলাম? তুশিই তো বিয়েতে রাজি হয়ে আমাকে আশা দেখাল। ও কি আমার সাথে অন্যায় করেনি?”
তনিমা
একটু সময় নিয়ে বললেন,
“ বাচ্চা মেয়ে তো, বোধ হয় সার্থর সাথে জেদ করে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল । কিন্তু এখন তো বুঝতে পারছিস বাবা,তুশি সত্যিই তোকে পছন্দ করে না। ওরা ওদের মতো এগিয়ে যাচ্ছে, তুই কেন তাহলে পেছনে পড়ে থাকবি? আমার হাসিখুশি চঞ্চল অয়নটাকে যে আমার এমন দেখতে একদম ভালো লাগছে না!”

অয়ন এবারেও হাসল। উদাস চোখের মলিন হাসি। তনিমা বললেন,
“ খাবি চল। সারাদিন খেয়েছিস কিছু, নাকি তাও হয়নি?”
“ খিদে নেই।”
“ অয়ন,এমন করে না বাবা। তুই কত ভালো ডাক্তার। সবে সবে ঢাকায় তোর নাম ছড়াচ্ছে। এই সময় নিজের ব্রাইট ফিউচারটা অন্য কিছুর জন্যে শেষ করে দিস না। তোকে পেছনের সব কিছু থেকে মুভ অন করতে হবে।”
“ মুভ অন করা এত সহজ না। শুনতে যেমন, শব্দটা তার চেয়ে কয়েক গুণ ভারি। যারা সত্যি সত্যি কাউকে ভালোবাসে,তারা আসলে কোনোদিন মুভ অন করতেই পারে না! কোনো না কোনোভাবে ওই পোড়া দাগ ওদের হৃদয়ে থেকেই যায়।”

তারপর একটু থেমে বলল,
“ আমি তো তুশিকে সত্যিই ভালোবেসেছি। হয়ত সময়টা কম,কিন্তু আমার অনুভূতির কমতি ছিল না। অথচ দেখলে,মেডিকেলের এডমিশান পরীক্ষায় প্রথম সাড়িতে থাকলেও,জীবনের পরীক্ষায় আমি কেমন ফেইল করে গেলাম মামুনি। তুশিও আজ বলল, আমি যেন ওর জীবনে নাক না গলাই। ওকে যেন বড়ো ভাইয়ের স্ত্রী হিসেবে দেখি। এরপরেও কি আর ওর আশায় থাকা আমার উচিত মামুনি?
দিন শেষে আমি একটা জিরো। যার জন্য লড়লাম,এত কিছু করলাম সেই তো আমাকে চাইল না,আমাকে বুঝল না।”
তনিমা নীরস শ্বাস ফেলে বললেন,
“ হুমায়ুন আহমেদ এর একটা কথা আছে জানিস, আমরা সব সময় ভুল মানুষকে ভালোবাসি। তুশি তোর জীবনের সেই ভুল মানুষ ভেবে ওকে ভুলে যা বাবা! নসিবে যে আছে সে এমনিই আসবে।”
অয়ন চুপ করে রইল। বিষণ্ণ চোখদুটো আকাশপথে মেলে রেখে ভাবল,
“ নসিবে থাকা মানুষ হয়ত আসবে,
কিন্তু যে মনে আছে,তাকে কী করব? প্রথম ভালোবাসা কি এত সহজে ভুলে যাওয়া যায়!”

তনিমা ছেলের নীরবতা দেখে বুঝলেন,এভাবে খেতে নেয়া যাবে না। এর চেয়ে ভালো খাবারটা ঘরেই নিয়ে আসুক। বুঝিয়ে-সুঝিয়ে নিজের হাতে খাইয়ে দেবেন নাহয়! উনি তড়িঘড়ি করে আবার বেরিয়ে গেলেন। অয়ন মাথা নুইয়ে রইল কিছু ক্ষণ। হঠাৎ কী ভেবে মুখ শক্ত করল । পরপর ঝড়ের বেগে ঘরের ভেতর এসে বসল কেদারায়। ল্যাপটপটা মেলে ব্যস্ত হলো কাজে।


রান্নাঘর ফাঁকা! সারা বাড়ি ঝিমঝিম করছে ছন্দপতন রাতের শব্দে। তুশি সতর্ক চোখে এদিক ওদিক তাও দেখল ভালো করে। পরপর মশলা দানি থেকে মরিচের গুড়ো তুলে এক খাবলা ঢেলে দিলো কফিতে। সুন্দর করে নেড়েচেড়ে একদম মিশিয়ে,
বুক ফুলিয়ে বলল,
“ ইউ বিটকেল পুলিশ,তুশির সাথে চালাকি! লিপ্স টেস্ট করার খুব শখ না? এইবার ঝাল ঝাল কফি টেস্ট করবেন। উনেক (ইউনিক) তুশির উনেক রেসিপি।”

তুশি এগোতে নিয়েও থামে। ফ্রিজ খুলে একটা বাটিতে ডেজার্ট তুলে নেয়। এত ঝাল খেয়ে সার্থর অবস্থা নিশ্চয়ই খুব খারাপ হবে? তখন সাথে সাথে এটা খেতে দেবে তুশি। যাই করুক, ওর তো মায়াদয়া আছে নাকি!

একটা ছোট গোল বেতের টেবিলের দুপাশে দুটো চেয়ার পাতানো। একটায় বসে টিভিতে নিউজ চ্যানেল ধরেছে সার্থ। ভীষণ মনোযোগ তাতে! মিডিয়া কোন খবর নিয়ে কী কাহিনী বানাচ্ছে সব তো জেনে রাখতে হয়!
এর মাঝে কল এলো। স্ক্রিনে জামিলের নাম দেখে ও ধরল তাড়াতাড়ি,
“ বেঁচে আছিস তাহলে?”
“ আছি মানে? তুই কি চাইছিলি আমি অল্প বয়সে মরি? আচ্ছা বাদ দে, তুই বল বিপুলিশ,খবর কী তোর?”
সার্থ কপাল কুঁচকে বলল,
“ বিপুলিশ!”
“ বিবাহিত পুলিশ, তুই এখন দৈহিক-মানসিক দুই পদে বিবাহিত না?”

“ তুই এ দুদিন কোথায় ছিলি?”
“ ছোটো মামার জন্যে মেয়ে দেখা হচ্ছিল। আমি সাথে গিয়েছিলাম। তোদের দেখে যখনই বুকে ব্যথা পাই,মামাকে দেখে শান্তি লাগে। সে আমার ৫ বছরের বড়ো হয়েও এখনো বিয়ে করতে পারেনি। যাক গে,বাড়ির কী অবস্থা?”
“ খারাপ। ”
“ অয়নের অবস্থা তো তাহলে আরো খারাপ, তাই না?”
“ হ্যাঁ।”
“ আমার এত লজ্জা লাগছে,যেতে। সব জেনেও ওকে নিয়ে যে ঘোরা ঘুরলাম।
এখন মুখোমুখি হব কী করে?”
“ কাল আয়,তারপর দেখছি।”
“ সত্যি আসব?”
“ হ্যাঁ!”
“ শোন না সার্থ…”
“ বল।”
“ বাসরটা……
সার্থ লাইন কেটে দিলো। জামিল বিড়বিড় করে বলল,
“ শালা বলতে দিলি না, করবি তো ঠিকই।”
ঘরের বাইরে নিঝুম পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে। এই হাঁটার গতি সার্থর চেনা। ঠিক দু মিনিটেই কফি হাতে ভেতরে ঢুকল তুশি। উচ্ছ্বল মুখ,ঠোঁটে মিটিমিটি হাসি। নিঃশ্বাসের ওঠানামায় মনে হচ্ছে কিছু নিয়ে উত্তেজিত ভীষণ! সার্থর ভ্রু বেঁকে বসল একটু। পুলিশি তীক্ষ্ণতা মিশিয়ে সরু চোখে চেয়ে রইল সে। তুশি এগিয়ে এলো স্ফূর্তি নিয়ে। একটা মিনি ট্রেতে দুটো বাটি। একটা তে ডেজার্ট,সাথে কফি। ও আগে কফির মগ এগিয়ে দিয়ে বলল,
“ নিন।”
সার্থর খটকা লাগছে। বাইরে যা হলো,তুশির তো মুখে এমন আলো থাকার কথা না। আবার যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে কফি বানাতে গেছিল সেখানেও সন্দেহ থেকে যায়। সার্থ চুপ করে মগটা হাতে নেয়। কফির ধূসর রঙ কিছু লালচে হয়ে আছে। সার্থ চুমুক দেয়ার বাহানায় মুখের কাছে ধরল। অমনি এক ঝটকা ঝাঁঝালো গন্ধ এলো নাকে। চিলি পাউডার! ঠোঁট কামড়ে হাসল সার্থ। তুশি অধৈর্য হয়ে বলল,
“ কী হলো, খান। কত যত্ন নিয়ে বানালাম! ঠান্ডা হয়ে যাবে না? তাড়াতাড়ি খান,তাড়াতাড়ি খান।”
“ মরিচ মিশিয়েছ?”
চমকে উঠল তুশি। ঝুপ করে আকাশ ভেঙে মাটিতে ছিটকে পড়ল।
সার্থ বলল,
“ কফির এত ভ্যারাইটিস ট্রাই করেছি, আজ না-হয় প্রথম বার বউয়ের হাতের মরিচ গোলানো কফিও টেস্ট করলাম।”
ঝট করে কফিটা গলায় ঢেলে দিলো সার্থ। এক ঢোকে প্রায় অর্ধেকটা খেয়ে ফেলল। তুশি থ বনে যায়। খুব বিস্ময়ে চোখ ছিটকে আসে বাইরে। উনি জেনে বুঝেও খেয়ে নিলেন?
সার্থ থামল না। একেরপর এক দ্রুততর চুমুক দিলো ওই মরিচ মেশানো কফিতে। শেষমেশ উদগ্রীব হয়ে হাতটা টেনে ধরল তুশি। উৎকণ্ঠা নিয়ে বলল,
“ কী করছেন? জেনেও খাচ্ছেন কেন?”
“ তুমি খুশি হবে, তাই।”
কথাটায় বুকের ভেতর খোঁচা লাগল তুশির। ফ্যাকাশে হলো মুখটা। ততক্ষণে সার্থর চেহারার রং পালটে গেছে। হলদে ফরসা মুখশ্রী লাল হয়েছে মূহুর্তে। চোখ টলমল করছে, ঘামছে শরীর! সার্থ কব্জির উলটো পিঠের এক ডলায় নাকের ডগা মুছল। ঝালে গলা-জিভ পুড়ছে। যেন জ্বলে যাচ্ছে সব।
মাত্রা পেরোতেই খুকখুক করে কেশে উঠল সে। তুশি তড়িঘড়ি করে ডেজার্টের বাটি এগিয়ে দেয়।
“ মিষ্টি, মিষ্টিটা খা…”.
সার্থ হাত ঠেলে সরিয়ে দিলো। তোড়ে একদম বাটিসুদ্ধ ফ্লোরে গিয়ে ছিটকে পড়ল সেটা। বলল ভীষণ তেজ নিয়ে,
“ খাব না।”
তুশি ভড়কে বলল,
“ কেন?”
“ তুমি চাইছিলে আমাকে ঝাল কফি খাইয়ে আনন্দ পেতে,আনন্দ দিচ্ছি।”
চোখ ভিজে উঠল তুশির। বোজা স্বরে বলল,
“ আমি মজা করছিলাম। ভেবেছিলাম আপনি এক ঢোক খেয়ে আর খেতে পারবেন না। মিষ্টিও তো এনেছিলাম সেজন্যে!”
সার্থ কোনো কথা বলল না। কান-মাথা ধরে গেছে ঝালে। টকটকে চোখ বেয়ে পানি পড়ছে তখনো। তুশি দিশাহারা হয়ে বলল,
“ পানি, পানি..”
ও সেন্টার টেবিলের দিকে ছুটতে নিলেই সার্থ হাত টেনে ধরল,
“ যাবে না।”
“ আপনার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।”
“ পড়ুক।”
মানুষটার এত জেদ! তুশির নিজের জেদই জল হয়ে গেল।
ছলছলে চোখে বলল,
“ এরকম করবেন না! আমার ভুল হয়ে গেছে।”
“ এখন কেঁদে লাভ নেই।”
সার্থর কণ্ঠ শক্ত। তার চেয়েও শক্ত তার চাউনি। খুব বেশি রেগে গেছে হয়ত! কিংবা কষ্ট পেয়েছে কাজটায়। একটু কফিই তো খেতে চেয়েছিল এরকম না করলেই হতো না? শোধ তো অন্যভাবেও নেয়া যেত। প্রচণ্ড এক ঘাড়ত্যাড়াকে বিয়ে করেছে,মনে থাকে না কেন ওর? অনুতাপে
তুশি মরে যায়। অনুনয় করে বলে,
“ পানিটা অন্তত আনতে দিন। আর করব না এসব।”
“ খাব না আমি।”
সার্থ মাথা এলিয়ে দেয় চেয়ারের পেছনে। দেখেই যেন অসুস্থ মনে হলো। তুশির দিকদিশা খুইয়ে গেল ফের। অস্থির হয়ে বলল,
“ আমার ভুল হয়েছে শুনুন, হাতটা ছাড়ুন পানি নিয়ে আসি।”
সার্থ চোখ বুজে পাথর হয়ে বসে রইল।
তুশি অনুরোধ করল কয়েকবার।
এইবার গলল সে, চোখ বন্ধ রেখেই বলল,
“ খাব,এক শর্তে!”
তুশি উদ্বিগ্ন হলো,
“ ক-কী, কী শর্ত বলুন?”
নির্লিপ্ত নয়নজোড়া মেলে সার্থ সোজাসুজি তাকাল। অমন সোজাসাপটা বলল,
“ সকালে দিদুন আসাতে যেটা হয়নি, সেটা এখন আমার চাই।”
তুশি বিস্মিত,স্তব্ধ।
তব্দা খেয়ে বলল,
“ কীহ?
আপনি! আপনার-আপনার কি মাথা খারাপ? এই সময়ে কেউ এসব…”
সার্থ কথা কেড়ে নিলো। পুরু কণ্ঠে বলল,
“ এত কথা বলবে না। যদি দাও,তাহলে পানি খাব। আর না দিতে চাইলে, আমি আজ এইভাবেই থাকব। এমনিতেই বুকে-পিঠের ঘা শুকায়নি তারওপর এত ঝাল খেয়ে যদি কিছু হয়ে যায়, তোমারই ভালো। বেঁচে যাবে তুমি!”

তুশির ভেতরটা টলমল করে উঠল। ঠোঁট ভেঙে আর্দ্র চোখে বলল,
“ এসব কী কথা?”
“ তাহলে করো যা বললাম। ”
তুশি হ্যাঁ -না বলতে পারল না,পূর্বেই ওর হাতে হ্যাচকা টান মেরে কোলে বসিয়ে দিলো সার্থ। সহসা সরু কোমর প্যাঁচিয়ে ধরল নিজের হাতে। ঝালের তীব্রতায় নিঃশ্বাস তপ্ত ওর। সবটুকু গলার ভাঁজে আছড়ে পড়তেই তুশি মুচড়ে উঠল একটু। মিনমিন করে বলল,
“ এরকম ভাবে দিতে হবে? এমনি এমনিও তো দেয়া যায়।”
“ আমি যদি ফিলই না করলাম,নিয়ে কী লাভ?”
হৃদয় জুড়ে এক অন্যরকম শিহরণ বইল তুশির। কুণ্ঠায় চিবুক নুইয়ে রাখল সে। শরীরটা কাঁপছে,ধড়ফড় করছে বুকের পাশ। সার্থ তাগিদ দিলো চড়া স্বরে,
“ তাড়াতাড়ি, কষ্ট হচ্ছে আমার!”
তুশি হাতের আঙুল কচলায়। চেহারায় এক প্রস্থ জড়োতা! সার্থ বলল,
“ বুঝেছি, তোমাকে দিয়ে হবে না। ছাড়ো।”
মেয়েটাকে কোল থেকে উঠিয়ে দিতে একটুখানি ঠেলতে নিলো ও,তুরন্ত ঝোড়ো হাওয়ার বেগে পৌরুষদীপ্ত ঠোঁটের ভাঁজে ক্ষুদ্র চুমুটা বসিয়ে দিলো তুশি। সার্থ থমকায়! ওর সরব চোখের চাউনি থামে। থামে শ্বাস,বলিষ্ঠ শরীর। পরপরই, বাজপাখির ডানার মতো দুইহাতে,দুইপাশ থেকে আরো শক্ত করে মেয়েটার কোমর চেপে ধরল সে। একেবারে তুলতুলে দেহটা নিজের সাথে মিশিয়ে ফেলল। তুশি ভেবেছিল একটা ছোট্ট চুমুতেই সরে আসবে। হলো না তবে! দিলো না সার্থ। এক হাত তুশির চুলের ভাঁজে গলিয়ে দিয়ে,নির্নিমেষ নিজের ঠোঁট দুটো তুশির পেলব ঠোঁটের মাঝে আটকে ফেলল ও। বাড়িয়ে দিলো গভীরতা! ছোঁয়াছুঁয়ির অদম্য তীব্রতা। আরো উন্মাদ হয়ে পড়ল যেন! তুশির আশায় না থেকে এই আদরের ভার নিলো নিজেই। আরো ঘনিষ্ঠতায় সার্থর ঠোঁট আর স্পর্শে থেমে রইল না, বরং শুষে নিলো তুশির অস্তিত্ব, তুশির নিঃশ্বাস নেয়ার ক্ষমতা।
মানুষটার উত্তপ্ত বাতাসের মতো ছোঁয়ায়, পারফিউমের গন্ধে, তুশির প্রাণ যায় যায় হলো। একটা বিস্তর চুমুর পর্ব কাটল কিছুক্ষণ! তুশি যখনই সরতে নেয়,সার্থ আরো ঠেসে রাখে। ঠোঁট ছুঁতে ছুঁতে মেয়েটার শ্বাস-প্রশ্বাস নিজের মাঝে ছিনিয়ে নিতে চায়। শেষ মেশ একটু ফুরসতে বুকে ধাক্কা দিয়ে ওকে সরিয়ে দিলো তুশি। তবে সার্থ নিজেই ছাড়ল বোধ হয়! সুযোগ পেয়ে ধড়ফড়িয়ে উঠে গেল মেয়েটা। সার্থ চওড়া পিঠ ফোমের তৈরি চেয়ারের সাথে এলিয়ে দেয়। গালে জিভ ঠেলে বাঁকা ঠোঁটে হাসে। তুশি লজ্জায় আর তাকাতে পারল না। দেখতে পারল না কোথাও। ছটফট করে এক ছুটে এসেই কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ল খাটে। সার্থর পিপাসা হয়ত মেটেনি। ঠোঁটজোড়া বৃদ্ধাঙ্গুলে মুছতে মুছতে উঠে এলো সে। ঝট করে ঝুঁকে গিয়ে এক টানে সরিয়ে ফেলল ওটা।
তুশি হকচকিয়ে বলল,
“ এ কী!”
“ কী?”
তুশি আবার মুখ ঢাকল,সার্থ আবার সরিয়ে আনল।
“ আরেহ!”
ও ফের মুখ ঢাকতে গেলে,এবারেও বাধ সাধল সার্থ। শক্ত করে পাতলা কম্বল ধরে রাখল মুঠোয়। মেয়েটা অসহায় কণ্ঠে বলল,
“ ছাড়ুন,আমার লজ্জা লাগছে।”
সার্থ উত্তর দেয় না। চেয়ে রইল ঠান্ডা চোখে। তুশি নিরূপায় হয়ে বলল,
“ এমন করছেন কেন?”
“ পানি খাব।”
“ টেবিলেই তো আছে।”
“ নিয়ে এসো।”
“ আপনি এনে খান। আমি পারব না!”
সার্থ সাথে সাথে বলল,
“ ঝাল এখনো কমেনি। হয় পানি, নাহয় আরেকবার….”
নির্বোধ বনে চাইল তুশি।
সার্থ ভ্রু উঁচিয়ে বলল,
“ রাজি? তাহলে…”
এগোতে গেলেই তুশি চোখ প্রকট করে এক লাফে নেমে এলো নিচে।
তার চেয়েও দ্রুত পায়ে পানি আনতে চলল। দুষ্টু হেসে আধশোয়া হয়ে বসল সার্থ। নিষ্পলক দু সেকেন্ড চেয়ে চেয়ে দেখল তুশিকে। একটু আগের অন্তরঙ্গতায় তুশির চুল খুলে গেছে। কোমরের সাথে নড়ছে তা। ওরনা এক পাশে ঝুলছে। শরীরের সাথে কামিজটা মিশে থাকায় বোঝা যাচ্ছে লতানো বাঁকের খাঁজগুলোও। এই মেয়েটা কী করেছে? কী এমন তন্ত্রমন্ত্র ছুড়েছে ওর মনে! নাহলে হঠাৎ করে সার্থর চোখে তুশিকে এমন আগুন সুন্দরী মনে হচ্ছে কেন? যার একটু খানি স্পর্শেই জ্বলছে-পুড়ছে ও। আরো ব্যাকুল হচ্ছে কাছে পাওয়ার নেশায়।
সার্থ বড়ো করে দম নেয়।
কণ্ঠে মাদক মিশিয়ে ডাকে,
“ অ্যাই চোর!”
বেখেয়ালে জবাব দিলো তুশি,
“ হু!”
“ আই লাভ ইউ।”
ছ্যাৎ করে উঠল তুশির বুক। হাত-পা কাঁপল, কাঁপল গোটা শরীর। সদ্য মুঠোয় তোলা পানির গ্লাসটা অবধি ঝুপ করে খসে পড়ল মাটিতে।

চলবে…

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply