Golpo romantic golpo কাছে আসার মৌসুম

কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৬৮


কাছেআসারমৌসুম!__(৬৮.১)

নুসরাতসুলতানাসেঁজুতি

রাত তখন শেষ প্রহরের পথে। ঘড়িতে ছুঁইছুঁই করছে সাড়ে তিনটার কাঁটা। হুতুম পেঁচার দলবলেরাও ডেকে ডেকে ক্লান্ত বোধ হয় এখন। ঐ মাঝরাতেই সার্থর ঘুম ছুটে গেল হঠাৎ । চোখ মেলে অন্ধকার ঘরের চারপাশে এক পল চাইল সে। শোয়া থেকে তড়াক করে উঠে বসল অমনি। ঘরের দরজা ভেজানো,ডিমবাতি জ্বলছে। গায়ের ওপর পাতলা- নরম ব্লাঙ্কেট, ঝিমঝিম করছে এয়ারকুলারের শব্দটাও। সার্থ বুঝল,ও তখন মায়ের কোলেই ঘুমিয়ে পড়েছিল হয়ত।
এর মানে তুশি? ওই মেয়ে আসেনি?
ত্রস্ত বিছানা থেকে নামল সে। চোখজোড়া টকটকে লাল। মাথার এক পাশ দপদপ করছে ভীষণ ব্যথার তোড়ে। গোটা সৈয়দ নিবাস নিস্তব্ধ এখন, কোথাও কোনো টু শব্দও নেই। বসার ঘরের সবুজাভ আলো বাদে সমস্ত বাড়ি নাম লিখেছে ঘুমন্তপুরির রাজ্যে।
সার্থ লম্বা লম্বা পা ফেলে সোজা স্টোরের রুমের সামনে এসে থামল। দরজা বন্ধ ভেতর থেকে। ওইপাশটা অন্ধকার। চ সূচক শব্দ করল ও। চোরটা শপথ নিয়েছে ওর সাথে থাকবে না। এরকম আলাদা আলাদা ঘুমোবে? উহুম,বিয়ের পরে তো এই দুরুত্ব সার্থ মানবে না। ও আঙুলের পিঠ দিয়ে টোকা দিলো দরজায়। ডাকল মোলায়েম স্বরে,
“ অ্যাই চোর,ঘুমোচ্ছো?”
সব কিছু একইরকম নীরব। ওদিক থেকেও উত্তর এলো না। তবে সার্থর তীক্ষ্ণ মস্তিস্ক টের পেলো ভেতর থেকে দুটো পা ধড়ফড় করে মেঝেতে এসে ঠেকেছে। নিশ্চয়ই বিছানা থেকে নেমেছে তুশি! সার্থ ঠোঁট কামড়ে সরু চোখ নামিয়ে মেঝের দিকে ফেলল। হালকা আলোয় দেখা গেল,একটা ছায়া এসে থেমেছে সেথায়।
তুরন্ত ঠোঁট একপাশে তুলে হাসল সার্থ। ডাকল গম্ভীর মুখে,
“ তুশি..দরজা খোলো।”
উত্তর নেই। ও নিজেই বলল,
“ আমি জানি তুমি জেগে। খোলো,কিচ্ছু করব না।”
জবাব এলো না। কিছুক্ষণ কাটল! একটা কাগজ মতো কিছু দরজার নিচ হতে বেরিয়ে এলো হঠাৎ। দু আঙুল দিয়ে ঠেলে দিয়েছে তুশি৷ সার্থ কপাল কুঁচকে কাগজ হাতে নেয়। লেখা,
“ কী দকার?”
ও উত্তর দিলো মুখে,
“ দরকার বানান ভুল৷ র দাওনি!”
আবার দু সেকেন্ড কাটল। খুব তাড়াহুড়ো ভাবে একটা কাগজ বেরিয়ে এলো ফের। সার্থ হাতে তুলে ভাঁজ মেলল, লেখা,
“ আপনাকে আমার খুব করতে মন চায়।”
এইবার নিঃশব্দে হেসে ফেলল ও। কপালে দু আঙুল ঘষতে ঘষতে বলল,
“ কথাটা খুন হবে বোধ হয়। হয় বানান শেখো,নাহয় ঠিক করে লেখো। এভাবে উল্টোপাল্টা লিখে আমাকে ভুল ইঙ্গিত দিও না।
আর যদি জেনেবুঝে লিখে থাকো,তাহলে বলব- মি ঠু…”

ওপাশে থাকা তুশি প্রথমে বুঝতে পারল না। নাক-চোখ গুটিয়ে চুপ করে রইল। সার্থ নিজেই জানাল,
“ খুনকে খুব লিখেছ।”
তুশির জিভ বেরিয়ে এলো। টাস করে জোরসে একটা থাপ্পড় মারল কপালে। ইস রে ইস, খুনের জায়গায় খুব লিখে দিলো? মানে কী দাঁড়াল তাহলে ? আপনাকে আমার খুব করতে মন চায়! লজ্জায়,কুণ্ঠায় তুশি পারল না মাটির ভেতর তলিয়ে যেতে। কিংবা ছুট্টে গিয়ে রেললাইনে মাথা দিয়ে মরতে। এখন এই মুখ ও কাকে দেখাবে? কীভাবে দেখাবে?
মেয়েটা হাতে খাতা-কলম নিয়েই অস্থির হয়ে কিছু পল পায়চারি করল এদিক-ওদিক। পরপর থেমে শক্ত হয়ে দাঁড়াল। পিঠ টানটান করে ভাবল,
“ ও ভুল লিখলে লিখেছে,তাতে বিটকেলটার কী? ওর যা ইচ্ছে ও তাই লিখবে!”
মেয়েটা ফের ত্রস্ত হাতে লিখল,
“ আপনাকে এত ভুল ধতে বলা হনি। কী চাইতে এসিছেন?”
তারপর দরজার নিচ থেকে ওটাকে আবার ঠেলে পাঠাল বাইরে। অপেক্ষা করল সার্থ কী জবাব দেয়!
সার্থ দীর্ঘশ্বাস ফেলে কাগজের লেখা পড়ল। বললও ফটাফট,
“ আমি যা চাই,তা মুখে বলা যাবে না। করে দেখাতে হবে!”
তুশির মেজাজ গরম হয়ে যাচ্ছে। নাক ফুঁসছে সাপের মতো। দাঁত চেপে লিখল কটা লাইন। পাঠাতে সময় লাগল একটু।
“ অসাব্ব লোক কোথকার,যান এখান থেকে।”
সার্থ পড়তে পড়তে ভ্রু কুঁচকে বলল,
“ এটা আবার কী শব্দ? তুমি কি আমাকে অসভ্য বলেছ? তুশি প্লিজ যা বলার মুখে বলো। তোমার ভুল ইংরেজি থেকে রেহাই পাওয়ার শাস্তি স্বরূপ কি এখন আবার ভুল বানানের চিঠি পড়তে হবে?”

তুশি আর মুখে কুঁলুপ রাখতে পারল না। বলল কটমটিয়ে,
“ আমার যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে লিখব। আপনার পড়তে মন না চাইলে ছুড়ে ফেলে দিন।”
সার্থ বলল,
“ বাইরে এসো।”
“ কেন? কী জন্য? কী দরকার? নিজের ঘরে যান। এখানে চ্যাঁচাবেন না। বাড়িতে অশান্তি হচ্ছে দেখতে পাচ্ছেন না?”
“ বাডির অশান্তি দেখছো,আর আমারটা? ওটা কে দেখবে? বের হতে বলেছি তোমাকে।”
তুশি কোমরে এক হাত দিয়ে মুখ পাথর করে বলল,
“ বের হয়ে কী হবে?”
“ তুমি আমার ঘরে শোবে।”
“ না। আমি এই ঘরে ঘুমোবো।”
“ বিয়ের পর আলাদা শুতে নেই। সব সময় বরের সাথে সাথে থাকতে হয়।”
তুশি আশ্চর্য না হয়ে পারল না। যার জন্যে বাড়িতে এত কাণ্ড ঘটে গেল! রীতিমতো মারপিট লাগল , ও একটা থাপ্পড় খেল মায়ের, সেই লোক এখন পড়ে আছে ওর আলাদা থাকা নিয়ে? লজ্জাও কি নেই?
তুশি গাল ফুলিয়ে বলল,
“ কচুর বিয়ে,কচুর বর। আপনি যান তো।”
সার্থর কণ্ঠস্বর নিরেট হলো এবার। হুমকি দিলো কঠোর চিবুকে,
“ কী চাইছো? দরজা ভাঙব?”
“ ভা-ভাঙুন পারলে। যা হাঙ্গামা করছেন দুদিন থেকে,এখন শুধু এটাই বাকি আছে।”
সার্থর মাথা সত্যিই বিগড়ে গেল। এক সেকেন্ডও ভাবল না। দরজার মাঝখানে দ্রিম করে লাথি মারল অমনি। শক্ত কাঠের কেঁপে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে, থরথর করে কাঁপল তুশি নিজেও। ত্রাসে ছিটকে সরে গেল। ঢোক গিলে বলল,
“ ভা-ভালো হচ্ছে ন-না না কিন্তু… আপনি..” দরজায় দ্বিতীয় দড় লাথিটা পড়ল তখনই। ছিটকিনি খট করে নামল একটুখানি। আতঙ্কে মুখ শুকিয়ে গেল তুশির। হাত খসে খাতা-কলম পড়ে গেল নিচে। এত শব্দ,যদি কেউ চলে আসে? আবার নতুন ঝামেলা তৈরি হবে না? তুশি চাইল না অশান্তি করতে। তড়িঘড়ি করে ছিটকিনিটা টেনে নামাল। সার্থ তৃতীয় লাথি মারতে গিয়েও ওকে দেখে থামে। সোজা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু তুশির চোখে চোখ পড়তেই পাথরের মতো দৃষ্টি জোড়া থমকে গেল একটু। তুশি জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটা ভীতসন্ত্রস্ত চেহারা! এলোমেলো দৃষ্টি। হাতদুটো কচলাতে কচলাতে চারিপাশে দেখছে। এত ভয় পাচ্ছে কেন মেয়েটা? কীসের এত অস্বস্তি! ও তো তুশির স্বামী। তাও?
প্রস্তররূপী মানুষটা কী ভেবেই যেন ভাসমান মেঘের মতো নরম হয়ে গেল। ফোস করে শ্বাস ফেলল সার্থ। কোমল গলায় বলল,
“ তুমি কি সত্যিই আমার থেকে স্পেস চাইছ, তুশি?”
তুশি চোখ না তুলে ঘাড় নাড়ল শুধু। বোঝাল- হ্যাঁ! সার্থ এক পল থম ধরে থাকে, চোখের মনি নড়ে না,নেত্রপল্লব পড়ে না। শুধু নিশ্চল নয়ন মেলে দেখে যায় তুশিকে। পরপর ঘুরেই হনহনে পায়ে ওপরে রওনা করল। তুশি মুখ তুলে চাইল এবার। ততক্ষণে বাইশটা সিঁড়ি সার্থ খুব জলদি বেয়ে দোতলায় উঠে গেছে। দেখতে দেখতে ওই চওড়া শরীরের মানুষটা নিজের ঘরে ঢুকে গেল। শব্দ করে লাগাল দরজাটা। তুশির সারা মুখ অন্ধকারে ঢেকে গেল অমনি। বড়ো বড়ো চোখগুলো জলের তোড়ে ছলছল করল সাথে।
খুব অদ্ভুত ব্যাপার, যে তুশি মার খেয়ে,গালি খেয়ে এমনকি খিদের জ্বালাতেও কাঁদেনি,সেই তুশি ভালোবাসার পর থেকে কথায় কথায় কাঁদছে। কথায় কথায় জলে ভেসে যাচ্ছে ওর চোখ। আজকাল নিজেকে চিনতে বড্ড কষ্ট হয়! এই যে কেমন নিজেই জেদ করল বিটকেলটার ঘরে যাবে না বলে,অথচ মানুষটা ফিরে যাওয়াতে এমন বুকের ভেতর খচখচ করছে কেন? কেন এত খারাপ লাগছে? কী যেন ঠেলে আসতে চাইছে বাইরে। গলার ভেতর যেন পুষে রাখা অদম্য এক স্রোত। যার তোড়ে তুশির রাঙা ঠোঁট ভেঙে চূড়ায় উঠে এলো। চট করে ঢুকে দোর আটকে পিঠ রাখল তাতে। আচ্ছা,কেন খারাপ লাগবে ওর? কী জন্যে?
আসলে ও কী চাইছিল তাহলে ? সার্থ দরজা ভেঙে ওকে কাঁধে তুলে নিজের ঘরে নিয়ে যাক,এটাই বুঝি!

সেই বিষাক্ত,বিধ্বস্ত রাত পার হলো সেদিন। হাজির হলো নতুন ভোর। এই ভোর অন্যরকম,বাকি সব দিনের থেকে আলাদা যেন। যেখানে কারো বুকে হাহাকার,কারো বুকে অনুতাপ,কারো বুক ভরে গেছে অশান্তির স্রোতে। ঘন্টায় ঘন্টায় সময় কাটলেও,সৈয়দ বাড়ির সদস্যরা রাতে দুচোখের পাতা এক করেছে কিনা সন্দিহান।
এই যে অয়ন, ও যখন ঘর থেকে বের হলো, বাইরে তখন আলো ফোটেনি। সূর্যও ওঠেনি। তবে দূর-দূরান্ত থেকে মাইক্রোফোনের চড়া শব্দে ফজরের আযান শোনা যাচ্ছে। এছাড়া আর কেউ জেগে নেই। হয়ত একটু পর বাড়ির গৃহিনীরা উঠবেন। কাজে মগ্ন হবেন নিজেদের।
তবে অয়ন কোথায় যাচ্ছে জানে না। আপাতত সঠিক গন্তব্য নেই। বাড়িতে ওর দমবন্ধ লাগছে। চারিদিকে যেন ছড়ানো-ছেটানো সাপের বিষ। এই বিষে নীল হয়ে পুড়ে যাচ্ছে সে। তাই ঠিক করেছে রাত ছাড়া আর বাড়িমুখো হবে না । যখন সবাই ঘুমোবে,য়খন ঢুকবে। আবার যখন ঘুমে থাকবে, তখন বেরুবে। বিশেষ করে তুশি,অয়ন ওর সামনে পড়তে চায় না। দেখতে চায় না ভাইয়ের সাথে ওর নতুন সংসার সংসার খেলা। অয়ন সব এড়িয়ে যেতে চায়। সইতে চায় না কোনো হৃদয় পোড়ার জ্বালা। নিচে নামতে নামতেই অয়নের বুকের পাঁজর টনটন করে উঠল। একবার মলিন চোখে সার্থর ঘরের পথটায় দেখল ফিরে। পর্দা মেলে রাখা,দরজাও বন্ধ ! ভেতরে তুশি আছে আজ। সার্থর খুব কাছাকাছি! আচ্ছা, কতটা কাছে গিয়েছে ওরা? যতটা কাছে অয়ন তুশিকে ভাবতো ততটা? না আরো বেশি! অয়নের হাঁসফাঁস লাগতে শুরু করল। গলা বুক শুকিয়ে এলো যন্ত্রনার তোড়ে। এপ্রোনটা মুঠোয় চেপে দ্রুত পায়ে ডায়নিং টেবিলের কাছে এলো সে। গ্লাসে পানি ঢেলে খেতে খেতে হঠাৎ চোখ পড়ল অদূরের স্টোর রুমের দিকে। এটারও দরজা লাগানো!
অমনি ভ্রু কুঁচকে ফেলল অয়ন। গ্লাস নামিয়ে রাখল তাড়াতাড়ি। সতর্ক পায়ে এগিয়ে গেল সে। স্টোর রুমে তো তুশি থাকতো। ও না এখন ভাইয়ার ঘরে? তাহলে এখানে কে? হাসনা দাদি গেস্ট রুমে থাকেন। মাঝেমধ্যে তুশির সাথে ঘুমাতেন,কিন্তু একা একা কী করবেন এই রুমে! অয়ন বুঝল না কিছু। ভেতরে ফ্যানের শো শো আওয়াজটাও পরিষ্কার শোনা যাচ্ছে। ওর কৌতুহল মেটাতে দরজার ছিটকিনিটা নামল তক্ষুনি। হাই তুলতে তুলতে বেরিয়ে এলো তুশি। অমনি মুখোমুখি হয়ে গেল দুজন। অপ্রত্যাশিত ভাবে অয়নকে সামনে দেখে ভূত দেখার মতো চমকে উঠল মেয়েটা। অয়ন নিজেও প্রচণ্ড অবাক হয়ে গেছে। তুশিকে ও এখানে আশা করেনি। তার চোখেমুখেও পড়ল সেই ছাপ। তুশি থতমত খেয়ে গেল। কী করবে না করবে গুলিয়ে ফেলল সব। ধড়ফড়িয়ে দরজা আটকে দিতে গেলেই,বাধ সাধল অয়ন৷ এক হাতে কাঠটা চেপে ধরে করুণ সুরে ডাকল – “তুশিইইই!”
তুশি নিভে যায়,থেমে যায় হাত। তাকায় মায়া মায়া চোখে।
অয়ন বলল,
“ আমায় দেখে পালাচ্ছিলে?”
“ না মানে আমি আসলে…”
অয়ন ওর ঘাড় ডিঙিয়ে ঘরের ভেতেরে তাকাল একবার। বিছানাটা ফাঁকা! তুশির ব্যবহার করা সেই আগের বালিশ-কাঁথাই পড়ে আছে। অয়ন নজর ফিরিয়ে মেয়েটাকে দেখল আবার। বিয়ের আগে যা পরতো,তেমনই একটা চুরিদার পরনে। তফাত কেবল নাকফুলটা! ওটা খুললেই তো আগের তুশি হয়ে যাবে।

তুশি বিব্রত হচ্ছিল। প্রসঙ্গ কাটাতে গলা ঝেরে বলল,
“ আপনি এত ভোরে, এখানে?”
“ বের হচ্ছি। তুমি এত তাড়াতাড়ি উঠলে যে!”
ও জিভে ঠোঁট ভিজিয়ে বলল,
“ ঘুম ভেঙে গেছে। ভাবলাম নামাজ পড়ে ফেলি। দাদিকে ডাকতে যাচ্ছিলাম।”
অয়ন বাঁকা হেসে বলল,
“ ভাইয়ার সাথে বনিবনা হচ্ছে না?”
তুশি হতভম্ব হয়ে বলল,
“ জি?”
“ আলাদা ঘরে থাকছো কেন? তোমার তো ওর ঘরে থাকা কথা।”
তুশির শিরদাঁড়া সোজা হয়ে গেল। এই রে,এবার কী বলবে?
অয়ন নিজেই বলল,
“ এর মানে তুমি কাল আমাকে একটা বাচ্চাদের বুঝ দিয়েছিলে? মানে আমিই ঠিক ছিলাম,ভাইয়াকে আসলে তুমি মন থেকে মেনে নাওনি তুশি। ও নিশ্চয়ই জোর টোর করেছে? এ্যাম আই রাইট?”
তুশির শুকনো চেহারা স্পষ্ট চোখের সামনে। মূহুর্তে কেমন কপাল আর নাকের ডগা ঘেমে গেল ওর। এতেই আরো পেয়ে বসল অয়ন। উদ্বেগে অস্থির হয়ে বলল,
“ সত্যিটা বলো তুশি, কী চলছে তোমাদের? কী লুকোচ্ছো তুমি? কেন তোমরা বিয়ের পরেও আলাদা ঘরে থাকছো? তোমাদের মাঝে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক নেই তাই না! ও নিশ্চয়ই তোমাকে ওয়েল ট্রিট করছে না। করবে নাই তো,ইলম্যানার্ড ও। এখনো সময় আছে,আমার কাছে ফিরে এসো না! আমি…”

তুশি আর বলতে দিলো না, হঠাৎ এক ছুটে উল্টোপথে ঢুকে গেল রুমে। ঝড়ের বেগে অয়নের মুখের ওপর দরজা আটকে দিলো। ছেলেটা ব্যাকুল হয়ে ডাকল,
“ তুশি,শোনো তুশি…”
তুশি শুনল না। নিরূপায়ের ন্যায় স্তম্ভের মতো দাঁড়িয়ে রইল ওপাড়ে। ও চাইলে পারতো অয়নকে কিছু কড়া কথা বলতে। কিন্তু বলল না! কীই বলবে? ও তো মানুষটার অনুভূতি জানে! ওর অপরাধও জানে! লোকটা ওর থেকে যে হাড়ে ঠকেছে এমন করা স্বাভাবিক। তুশি পোড়া শ্বাস ফেলল। অয়ন তখনো ডাকছে,
“ তুশি প্লিজ, বলো না কেন আলাদা থাকছো তুমি? ভাইয়াকে কি তুমি ভালোবাসা না? ও কি তোমাকে জোর করছে?”
তুশি ক্লান্ত হয়ে চোখ বুজে মাথা ঠেসল দেওয়ালে। পরপরই একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল আজ।

চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply