কাছেআসারমৌসুম!
নুসরাতসুলতানাসেঁজুতি
(৫৫)
রাত আনুমানিক দেড়টা বাজে। সৈয়দ ভবন মোড় নিয়েছে ঘুমন্তপুরিতে। সারা বাড়ির লাইট বন্ধ। কেবল বসার ঘরে একটা নিভু নিভু ডিমবাতি জ্বলছে। তুশি ক্লান্ত শরীরে বিছানায় শুয়েছিল। এই আধঘন্টা মতো হবে ওর ঘর থেকে সবাই বেরিয়ে গেছে। কিন্তু মা, ইউশা, দাদি সবাই খুব করে চাইছিল কেউ একজন এখানে ঘুমোবে। তুশিই রাখল না। অনেক জোরাজোরি করে যার যার ঘরে পাঠিয়ে দিলো তাকে।
আজকের রাতটা যে ওর খুব করে একা থাকা দরকার। একটু মন ভরে বুক ভিজিয়ে কাঁদা দরকার। দরকার ওর বিধ্বস্ত মনে একটু জোর আনা। প্রতিটা রাতের মতো ওর নীরব হাহাকারগুলোকে শুধু মিশিয়ে দেয়া বালিশে। এসবে তুশি আর কাউকে সাক্ষি রাখতে পারে না। কাউকে না! গায়ের কম্বল সরিয়ে অবসন্ন চিত্তে উঠে বসল মেয়েটা। সেই যে পার্টি থেকে ফিরেছে,এখনো ফ্রেশ হয়নি। মা কত বললেন,তাও জেদ করে ড্রেসটা অবধি খোলেনি। গায়েই শুকিয়ে গেছে।
শরীরে জোর নেই,মনের জোর নেই আরো আগে।
একটা বড়ো শ্বাস নিয়ে উঠে দাঁড়াল তুশি। ঘরের আলো বন্ধ, ছোটো জানলা ছাপিয়ে ঠিকড়ে আসা আলোতেই যা বোঝা যায় একটু। কিন্তু তুশির অন্ধকারে হাঁটার অভ্যেস আছে। বস্তিতে কত হাঁটতো,আবার এই ঘরে তো প্রথম দিকে বাল্বই ছিল না।
সুইচবোর্ড দরজার পাশে,তুশির ইচ্ছে হলো না গিয়ে লাইট জ্বালাতে। ওই অন্ধকারেই নরম পায়ে ড্রেসিং টেবিল অবধি এলো। কানের দুল,নেকলেস,ব্রেসলেট সব অর্নামেন্টস একে একে হাতড়ে হাতড়ে খুলে রাখল তার ওপর। যখন গাউনের চেইনটা পিঠ থেকে টেনে কোমর অবধি নামাল,সঙ্গে সঙ্গে ধ্রিম করে ঘরের দরজা ঠেলে ভেতরে এলো কেউ একজন। নিস্তব্ধ ঘরে ঐ হঠাৎ শব্দ শোনাল চিৎকারের মতো। চমকে ফিরল তুশি। কালো মতো একটা বিশাল দীর্ঘদেহী অবয়ব চৌকাঠ মাড়িয়ে ঘরে ঢুকেছে। মেঝেতে কেমন মসমস করে উঠল তার পা ফেলার আওয়াজ। তুশির দৃষ্টি জোড়া ছলকায়। এই হাঁটার ধরণ সে চেনে। উনি এসছেন? কিন্তু উনি কী করে আসবেন! উনি তো বাড়িতেই নেই। আর
দরজা চাপানো ছিল? ও তো মাকে বলেছিল লক টিপে দিতে,দেননি! তুশি ধড়ফড়িয়ে গাউনের চেইন হাতাল। আঙুলে বাঁধল,একটু টানল কিন্তু ওপরে তুলতে পারল না। তক্ষুনি সুইচ টেপার শব্দ হলো। আলোতে আলোতে মেখে গেল গোটা ঘর। সেই পূর্ণ সফেদ প্রভায় সার্থর লাল টকটকে চোখদুটো দেখে ছ্যাৎ করে উঠল তুশির বুক। জড়ের মতো জমে গেল মেয়েটা। নিস্তব্ধ হয়ে বলল,
“ আপনি!”
সার্থ উত্তর দিলো না। উল্টোঘুরে দরজার ছিটকিনি তুলে দিলো। তুশি দ্বিতীয় বার চমকায়, অবাক হয়৷ এগিয়ে আসে দ্রুত।
“ এ কী,দরজা বন্ধ করলেন কে….”
বলতে বলতে দরজা খুলতে এক হাত বাড়াল ,দুম করে সেই হাত কেড়ে নিয়ে মুঠোয় চেপে ধরল সার্থ। তুশি ভড়কে গেল কিছু ।
ঠিক করে তাকানোর আগেই,
ধরে রাখা হাতটা ঘুরিয়েই ওকে দরজার কাঠের সাথে চেপে ধরল ছেলেটা। শীর্ণ পিঠের সাথে শক্ত কাঠের সংঘর্ষ, সঙ্গে এক ঝটকা হিঁসহিঁসে শ্বাস মুখে এসে লাগতেই ভড়কে গেল মেয়েটা। ভয়ার্ত চোখ মেলে সার্থর মুখপানে চেয়ে রইল সে। সার্থর ফরসা চেহারার ক্ষিপ্ত নাজেহাল দশা! কেমন অদ্ভুত হাড়হিম চাউনি। তুশির বুক কেঁপে ওঠে। ভয়ে ভয়ে বলে,
“ এমন, এমন করছেন কেন?”
সার্থ যতটা রুষ্ট চোখে চেয়েছিল, মুখ খুলল ততোধিক শান্ত গলায়,
“ অয়নকে তুমি বিয়ে করবে না।”
অমনি অ্যালকোহলের উৎক গন্ধে তুশির চেহারা কুঁচকে গেল। অবাক হয়ে বলল,
“ আপনি কী মদ খেয়েছেন? এত বাজে গন্ধ কীসের?”
সার্থ চটে গেল। হাতের কব্জিতে আঙুল দাবিয়ে বলল,
“ আমি কী বলেছি তুমি শুনেছ? তুমি অয়নকে বিয়ে করবে না।”
ওই পোক্ত বাঁধনে ব্যথা পেলো তুশি। হাত ছাড়াতে মুচড়াল একটু। তেতে বলল,
“ লাগছে আমার। সব সময় এসব ভালো লাগে না। আপনি কি আমার শরীরটাকে মগের মুল্লুক পেয়েছেন? যখন ইচ্ছে হবে তেড়ে আসবেন,গায়ের জোর দেখাবেন এসব আপনার একটা স্বভাব হয়ে গেছে। হাতটা ছাড়ুন।”
সার্থ দাঁত খিচে বলল,
“ একদম তেজ দেখাবে না। আমি যা বলছি তুমি সেটাই করবে। ইউ হ্যাভ টু ডু ইট! কাল সকালেই বাড়ির সবাইকে বলে দেবে তুমি অন্য কাউকে বিয়ে করবে না।”
“ আপনার কথা মতো হবে নাকি?
আপনি নিজেকে কী ভাবেন!
মদও গিলছেন আজকাল। আর এত রাতে এসব ফালতু জিনিস খেয়ে আমার ঘরে ঢুকেছেন কেন? কোনো লজ্জা নেই আপনার না? ছাড়ুন তো!”
তুশি সজোরে হাত ঝাড়া মারল। সার্থ ছেড়েও দিলো এবার। মেয়েটা ফুঁসতে ফুঁসতে বিড়বিড় করল,
“ কখন কী করে, কী বলে নিজেই জানে না। আপনার মতো মাতালের সাথে এক ঘরে আমি থাকবই না। যত্তসব!”
তুশি উল্টোঘুরে ছিটকিনি নামাতে হাত তুলল, অমনি সরু কোমর প্যাঁচিয়ে ধরেই পাশের সোফার ওপর ছুড়ে মারল সার্থ। একেবারে উড়ন্ত পাতার মতো মেয়েটার ক্ষুদ্র শরীর ছিটকে এসে নরম গদির ভেতর পড়ল। তুশি হকচকাল, ব্যথায় টনটনিয়ে উঠল পিঠের হাড়।
ওপাশ থেকে ক্ষুব্ধ বাঘের মতো তেড়ে এলো সার্থ। তুশির দুইহাত তুলে মাথার দুইপাশে ক্রস করে চেপে ধরল সবেগে। নিজের শক্ত হাঁটুটা তুলে দিলো বসে থাকা মেয়েটার কোমরের পাশে। একটা বলিষ্ঠ দেহের মাঝে আটকা পড়ে তুশির মাথা চক্কর কাটে। ছটফটিয়ে বলে,
“ এসব কোন ধরণের অসভ্যতা! দিন দিন কী শুরু করেছেন আপনি?”
সার্থ চিড়বিড় করে বলল,
“ আমাকে ইগ্নোর করছিস,সৈয়দ সার্থ আবরার কে! এত সাহস কোত্থেকে এলো তুশি? কে দিলো,অয়ন?”
তুশি আশ্চর্য হয়ে গেল। সার্থ তুই তোকারি করছে? ফের হাত ধরে মোচড়াল,শরীর এপাশ ওপাশ করল। খুব করে চাইল নিজেকে ছোটাতে। মেয়েটার এই ব্যর্থতায়, দূর্বলতায় বাঁকা হাসল সার্থ। বিদ্রুপ করে বলল,
“ স্টপ ফাইটিং বেইব,
ইউ কান্ট উইন এনিমোর!”
তুশি চোখ রাঙিয়ে বলল,
“ আমাকে ছাড়ুন,আমি কিন্তু ঘুষি মেরে দেবো।”
ভ্রু নাঁচাল সার্থ,
“ আচ্ছা? তাই নাকি। আগে তো আমার হাত থেকে বাঁচো,তারপর নাহয় গায়ের জোর দেখাবে।”
বলার সাথে আরো দৃঢ় ভাবে হাতদুটো ধরে রাখল সে। পেলব কব্জি জোড়া ওই খসখসে মুঠোয় এত শক্ত ভাবে ধরাতে নিভে গেল তুশি। ব্যথায় কুঁচকে এলো চেহারা। কণ্ঠ মিইয়ে বলল,
“ কেন এমন করছেন? ব্যথা পাচ্ছি আমি।”
“ তাহলে বলো তুমি অয়নকে বিয়ে করবে না।”
“ কেন করব না?”
“ আমি বলেছি তাই। করবে না,মানে করবে না,ব্যস!”
তুশির ধৈর্য গুড়িয়ে গেল এবার। চ্যাঁচিয়ে উঠল মৃদূ স্বরে,
“ আপনি কে? সব সময় আমিই কেন আপনার কথা শুনব? আমি আপনার হাতের পুতুল নই। আপনি আইরিনকে বিয়ে করতে পারলে আমিও বিয়ে করব। যাকে ইচ্ছে হয় তাকে করব।”
“ তর্ক করো না বেইব। তাহলে…”
তুশি কথা টেনে নেয়,পালটা চটে বলে,
“ তাহলে কী? কী করবেন? কী করবেন আপনি?”
সার্থ হুঙ্কার ছুড়ল দাঁত চিবিয়ে,
“ ঠোঁট কেটে ফেলব, বেয়াদব।”
“ তাই নাকি! কাটুন দেখি, কত পারেন কাটতে কাটু….”
বাকিটুকু তুশি শেষ করতে পারল না, গর্জন তুলে ছুটে আসা ঝড়ের মতো নিজের তপ্ত ঠোঁটদুটো তুশির ঠোঁটের ভাঁজে গুজে দিলো সার্থ। আকস্মিক এই ছোঁয়া, এই অপ্রত্যাশিত স্পর্শে থমকে বসল মেয়েটা। এক লহমায় পৃথিবী সুদ্ধ বদলে গেলো তার। রুঢ় চাউনি থামল,থামল তার ছটফটিয়ে ছাড়াতে চাওয়া হাত। উলটে শ্বাসপ্রঃশ্বাস শূন্যের মতো জট পাঁকিয়ে ঘুরল গলার কাছে। পরপর হারানো খেই ফিরল, ঠোঁটের ওপর একটা জোরে কামড় পড়তেই। নিভু চাউনি চমকে উঠল তুশির। ব্যথায় হুশ ফিরল যেন। ততক্ষণে ওই দুটো নরম ওষ্ঠে সার্থ সুনামি বইয়ে দিয়েছে। চুমুর বদলে কামড়ে কামড়ে একাকার করছে সে। একেকটা ক্রুদ্ধ শ্বাসের অদল-বদলে জেদ ক্ষোভের পাহাড় ধ্বসে মেতে উঠল সার্থ।
অথচ এই নিদারুণ নিষ্ঠুরতায়ও তুশি নড়তে ভুলে গেছে। ভুলে গেছে চোখের পাতা ফেলার কথা। একটা পাথুরে মূর্তির মতো ঝিম ধরে রইল সে। কিন্তু সার্থ হাত দুটো ধরল,খুব জোরে ধরল। দন্তপাটির নির্মম প্রহারে ছিঁড়ে ফেলল ঠোঁটের ত্বক। কিছুক্ষণ ইচ্ছেমতো ক্ষোভ মিটিয়ে সরে এলো সে। হিংস্র চোখে দেখল তুশির নিস্তব্ধ মুখ। মেয়েটা হাঁ করে চেয়ে আছে তখনো। সার্থ তাকাল ওর ঠোঁটের দিকে। দু জায়গায় কেটে রক্ত বেরিয়ে এসেছে। এক জায়গায় কালো হয়ে ফুলেছে একটু।
সার্থ দৃষ্টিতে পৈশাচিক দম্ভ নিয়ে বলল,
“ বলেছিলাম কাটব? কেটেছি।”
তুশির সম্বিৎ ফিরল না। জবাবে নিশ্চুপ,ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইল সে।
এই যে ঠোঁটের জ্বলুনি, হাত পায়ের বিবশ ভাব এসবের ভ্রুক্ষেপ আদৌ নেই। মানুষটা ওকে চুমু খেয়েছে? ছুঁয়েছে এভাবে? কেন! কেন ছুঁলো? উনি না ভালোবাসেন না,ওনার না অনুভূতি নেই? উনি না আইরিনকে বিয়ে করবেন? তাহলে ওর কাছে কী?
মেয়েটার এই নির্নিমেষ চেয়ে থাকা দৃষ্টিতে সার্থ খুইয়ে গেল হঠাৎ। কুঁচকে থাকা কপালের নিচে গোটানো ভ্রু-ও টানটান হলো অমনি। দুজনের চোখাচোখির দুরুত্ব মাত্র এক আঙুল । একে অন্যের চোখা নাকের সাথে বোঝাপড়া বাড়ছে।
নিশ্বাসে ঠোকাঠুকি হচ্ছে বারেবার। প্রথমবার,প্রথম বার দুজনের এই মাত্রাতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতায়, তুশির চোখের কাজল থেকে ঠোঁটের লিপস্টিক অবধি খুঁটে খুঁটে দেখল সার্থ। মেয়েটার তিরতির করা পদ্মকুড়ির ন্যায় অধর, তার মাতাল মনের নেশা বাড়িয়ে দিলো আরো৷ ঝুঁপ করে সব রাগ পড়ে গেল, কামুক এক চিহ্ন নেমে এলো চোখে। আচমকা মাথার ওপর চেপে রাখা তুশির হাত দুটো ছেড়ে দিলো সার্থ৷ নিজের ঠান্ডা হাত নামিয়ে এনে গুঁজল মেয়েটার ঘাড়ের ভেতর। খুব আবেশ নিয়ে চুলের ভাঁজে রাখতেই, একটু নড়ে উঠল তুশি। হতভম্ব চোখের দৃষ্টি বদলাল,নিরেট হলো। সার্থ যেই ঠোঁট এগোবে,চট করে নিজের ঠোঁট সরিয়ে নিলো সে। ছেলেটা ফের রেগে গেল তাতে। দাঁতমুখ খিঁচে এক হাত দিয়ে তুশির থুত্নি চেপে ধরে নিজের দিকে ফেরাল। তারপর বেশামাল ঢেউয়ের গতিতে আরেকবার নিজের নিটোল ওষ্ঠ মিশিয়ে দিলো তুশির পুরন্ত ঠোঁটে। এক ফালি অনুভূতিতে তুশির পায়ের তলাসুদ্ধ শিরশির করে উঠল। একটু আগে বিস্ময়ে জমে রইলেও এবার আর তা হলো না। বরং নিজেকে ছাড়ানোর আশায় প্রচণ্ড গতিতে ছটফটিয়ে উঠল সে। চাইল না সার্থর ছোঁয়া। দুহাত দিয়ে জোরসে ঠেলল ওর শরীরটা। এই চমৎকার মূহুর্তে সার্থ বিরক্ত হতে চাইল না। বুকের ওপর থেকে ফের হাত দুটো নিয়ে তুশির মাথার ওপর ক্রস করে বেঁধে রাখল সে। আরেক হাতে শক্ত করে ধরল তুশির এক কাঁধের চুল। মেয়েটার ছোটা তো দূর এক ফোঁটা নড়চড় অবধি দুষ্কর হয়ে পড়ল। পেটানো শরীরের নিচে থরথরিয়ে পড়ে থাকাতে আটকে এলো দম।
সার্থর চুমুতে এবার হিংস্রতা নেই। ভীষণ গভীর তার ছোঁয়া। এত জোরালো সেই রেশ, রীতিমতো চুমু দিতে দিতে মেয়েটাকে আধশোয়া থেকে সোফার ওপর পুরোপুরি শুইয়ে ফেলল সে। সম্পূর্ণ দৈহিক ভার ছেড়ে দিলো তুশির ঐটুকু শরীরের মাঝে। তুশি ছাড়াতে চাইল,চাইল বাঁচতে! কিন্তু একটা জিম করা, ট্রেনিং আর রোদে ঝলসে যাওয়া কর্মঠ শরীরের সাথে কূলোতে পারল না। তার দু বছরের কুস্তির অভিজ্ঞতা অবধি কাজে দিলো না আজ। বরং চুলের ভাঁজে থাকা সার্থর হাতটা হুট করে নেমে এলো কাঁধে। এক টানে ঘাড় থেকে গাউন নামিয়ে ফেলল। উত্তাল সুনামির মতো ঠোঁট গুজে দিলো গলায়। তুশি চোখ খিচে ফেলল গলায় পড়া একেকটি দাঁতের প্রহারে। যেন জোঁকের মতো বসে গেছে সার্থ। ঘাড় থেকে গাউনের মাথা সরাতে সরাতে যখনই বুক অবধি নামাল, নিজের সবটুকু শক্তি দিয়ে মেয়েটা ওকে ধাক্কা মারল জোরে। বিধিবাম,এবারেও ব্যর্থ সে। এক চুলও নড়েনি মানুষটা। তুশি অসহায় হয়ে পড়ল এবার। ঢেড় বুঝল এই লোক নিজের মাঝে নেই। মদ খেয়ে নেশার তোড়ে ছুঁচ্ছে ওকে। নাহলে হুশে থাকলে ওর কাছেও তো ঘিষতো না।
তুশি হাঁপানি রোগীর মতো দ্রুত শ্বাস টানতে টানতে বলল,
“ ছাড়ুন, ছাড়ুন আমায়। আমি,আমি কিন্তু চ্যাঁচাব।”
সার্থ ঘাড়ের ভাঁজ থেকে ঠোঁট দুটো তুলল। উত্তরের বদলে ভীষণ শব্দ করে চুমু খেল গালে। এই অচেনা হাবভাবে বিমুঢ় হয়ে পড়ল তুশি। এক চোট ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল শরীরটা। পরপরই হাত পা চালাল ছোটার তাগিদে। কপট রাগ নিয়ে বলল,
“ আপনি আমাকে ছাড়বেন? না আমি… আমি..
সার্থ ঘাড়ে নাক ঘষতে ঘষতে ডাকল,
“ স্যানোরিটা!”
তুশি বরফের মতো জমে যায়। বুক ধুকপুক করে ওঠে। স্যানোরিটা কে? কাকে ডাকছে? কার নাম এটা? তুশি আর্দ্র স্বরে অনুনয় করল,
“ আপননার মাথা ঠিক নেই। আমাকে ছাড়ুন,আল্লাহর দোহাই।”
সার্থ নিজের মাঝে সত্যিই নেই। এত মিনতি কানে তো নিলোই না,উলটে মাদক দৃষ্টিতে তুশির কপাল থেকে চুল সরিয়ে কানের পিঠে রাখল। বুকের গতিতে নিঃশ্বাস ভিজিয়ে বলল,
“ মাই স্যানোরিটা, হোয়াই ইউ আর সো বিউটিফুল! এতটাও সুন্দর হয়ো না যাতে আমার মাথা ঘুরে যায়।”
তুশি কাঁপল,প্রচণ্ড ঝড়ে ঠকঠক করা চারাগাছের মতো কাঁপল ওর কথায়। বিটকেল ওকে ডাকছে? মেয়েটার
গলার স্বর বুজে গেল আরো,
“ ছা-ছাড়ুন।”
সার্থ ছাড়ল না। তবে নেশা আর তন্দ্রায় ওর চোখ বুজে আসছে। দু একবার চোখদুটো বুজল,মেলল। পরপর মুখটা ফের গুঁজে রাখল তুশির গলায়। মেয়েটা পুরোপুরি হাল ছেড়ে দিলো তাতে। পরপরই টের পেলো সার্থর ধরে রাখা হাতের বাঁধন ঢিলে হয়ে আসছে। কেমন বিড়বিড় করার মতো নড়ছে তার ঠোঁট। নিদ্রায়-নেশায় একাকার হয়ে বলছে,
“ আ-ম সরি,তুশি। আমি সেদিন ওসব বলতে চাইনি। আমার মাথা ঠিক ছিল না। ইউ নো না, তোমাকে আমি কারো পাশে সহ্য করতে পারি না । কেন তুমি অয়নের সাথে অত কথা বলো!”
তারপরই হাতটা ছুটে গেল। তুশির গলার খাঁজে শিথিল হলো গরম ঠোঁট। শরীরটা অবধি সম্পূর্ণ ভার নিয়ে পড়ে রইল ওর শরীরের ওপর। ঢোক গিলল তুশি। হাত ছোটাল। বড়ো শ্বাস নিতে নিতে একবার ঠেলল সার্থকে।
দুম করে সোফা থেকে গড়িয়ে মেঝেতে পড়ে গেল ছেলেটা। তুশি আঁতকে উঠল।
বসল ধড়ফড়িয়ে। সার্থর চোখ বন্ধ,কেমন হাত-পা ছড়িয়ে লেপ্টে গেছে ফ্লোরে।
তুশি হাঁটুমুড়ে বসে। অস্থির চিত্তে ডাকে,
“ শুনছেন, শুনছেন? কী হলো?
” জবাব এলো না। তুশি দিশা হারিয়ে ফেলল। কী করবে বুঝল না। জ্ঞান হারিয়েছে, না ঘুমিয়ে পড়েছে! সার্থর ঠোঁট দুটো নড়ল তক্ষুনি । কিছু বলছে আবারো। তুশি মাথা নুইয়ে কান পাতল ওর বুকের কাছে।
শুনতে পেল গুনগুনে স্বর,
“ স্যানোরিটা, আ-ম সরি! আ-ম সরি মাই স্যানোরিটা। আ-ম সরি ফর এভ্রিথিং!”
তারপর একটু থামল সে। সময় পেরোতেই বিড়বিড় করল আরেকবার,
“ অয়নকে বিয়ে করো না! প্লিজ….”
চলবে…
Share On:
TAGS: কাছে আসার মৌসুম, নুসরাত সুলতানা সেঁজুতি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৩৭
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৫৩(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
হেই সুইটহার্ট পর্ব ৩
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ১
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ১৩
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ১৭খ
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ১৬
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৩৪(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৪৪
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ১২