Golpo romantic golpo ওরা মনের গোপন চেনে না

ওরা মনের গোপন চেনে না পর্ব ২১


ওরা মনের গোপন চেনে না

পর্ব সংখ্যা [২১]

হাসপাতালের করিডোরে বসে আছে মৃত্তিকা। ফিনাইলের গন্ধ পুরো হাসপাতাল জুড়ে। জাহানারাকে অটিতে নেয়া হয়েছে। সকলেই বেশ চিন্তিত বাচ্চা এবং বাচ্চার মাকে নিয়ে। মেহমেত এক নাগাড়ে পায়চারি করে যাচ্ছে। ভাইয়ের চিন্তিত মলিন মুখ মৃত্তিকাকেও বিষন্ন করে তোলে। সৃষ্টিকর্তাকে সে ডেকে যায় অনবরত। ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে নেয়া হয়েছে জাহানারাকে। আরো কিছু পেশেন্ট আছে জাহানারার সাথে। মনোয়ারা ভীষণ উদ্বিগ্ন। মেহমেতকে বারবার শান্ত হতে বলেও বিশেষ লাভ হচ্ছে না। স্ত্রীর এমন জটিল অবস্থায় মেহমেত স্থির থাকতে পারছে না কোনোমতে। ইরহাম মৃত্তিকার কোলে ঘুমিয়েছে। তার দু পা মৃত্তিকার কোমড়ের পাশ দিয়ে গলিয়ে দিয়েছে। অনেকক্ষণ ধরে একই ভাবে বসে থাকতে থাকতে পিঠ, ঘাড় ব্যথা করছে মৃত্তিকার। সবার জন্য শুকনো খাবার নিয়ে আসতে হবে। বিকেল শেষ হয়ে সন্ধ্যা হতে চলেছে।

মৃত্তিকা ঘুমন্ত শিশুটিকে মনোয়ারার কোলে দিয়ে বেরিয়ে আসে হাসপাতালের বাইরে। সন্ধ্যা নেমেছে। চারদিকে অন্ধকার, তবে বাতি জ্বালিয়ে রাখায় স্বচ্ছ দেখাচ্ছে হাসপাতালের আশপাশ। হাসপাতালের বাইরেই কয়েকটি দোকান আছে। মৃত্তিকা দোকানে গিয়ে পরোটা আর ডিম ভাজা কেনে। সাথে পানির বোতলটাও কিনতে হয় তাকে। খাবার কিনে নিয়ে আসার সময় হাসপাতালের প্রবেশপথে পরিচিত একজন মানুষের সাথে সাক্ষাৎ হয় মৃত্তিকার। যদিও তাকে পরিচিত বলতেও রুচিতে বাঁধে মৃত্তিকার। তবুও সত্য মাঝে মাঝে দরজায় এসে টোকা দেয়, স্মরণ করিয়ে দেয় বিবর্ণ স্মৃতি। ঘোলাটে মুহুর্ত গুলোকে পরিস্কার, প্রাণবন্ত করে তোলে। মৃত্তিকার অতীত যেন টেনে হিঁচড়ে সামনে নিয়ে আসা হয় সবসময়।

ইয়াসিনের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে মৃত্তিকা। ইয়াসিন তাকে দেখেই বোধহয় থমকে দাঁড়িয়েছে। মৃত্তিকা তার পাশ কাটিয়ে চলে নিতে নিলে তাকে আটকায় ইয়াসিন। দ্রুত বলে ওঠে,

“- মৃত্তি, একটু শুনবে”?

মৃত্তিকা না শোনার ভান ধরে। তার সামনে এসে পথ অবরোধ করে দাঁড়ায় ইয়াসিন। তার চোখেমুখে স্পষ্ট অনুতাপের ছাপ। চাহনি ভীষণ দুর্বল, ক্লান্ত। মৃত্তিকা এক নজর দেখে ছেলেটাকে। ইয়াসিনের বয়স মনে হচ্ছে বেড়ে গেছে, চোখের নিচে কালি পরেছে। আগের সেই উচ্ছ্বাস নেই তার চেহারায়। ফ্যাকাসে বদনে মৃত্তিকার দিকে চেয়ে ইয়াসিন পুনরায় বলে ওঠে,

“- আমার তোমার সাথে কথা আছে মৃত্তিকা।”

মৃত্তিকার চাহনি দৃঢ়, শক্ত। মানুষটাকে দেখে একটুও হৃদয় গলেনি মৃত্তিকার। ওলটপালট হয়নি অনুভূতি, তীব্র বাসনায় ব্যাকুল হয়নি হৃদয়। কঠোরতা ভর করেছে মৃত্তিকার চেহারায়। কাটকাট কণ্ঠে সে বলে,

“- আমার আপনার সাথে কোনো কথা নেই”।

ইয়াসিন নিচু স্বরে বলে,
“- আমাকে ক্ষমা করা যায় না মৃত্তিকা”?

মৃত্তিকা তাচ্ছিল্যের সুরে হাসে ঠোঁট বাঁকিয়ে। খুব হাসি পায় ইয়াসিনের কথা শুনে। বলে,

“- আমি ক্ষমা করার কে? সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চান। যে পাপ, যে অন্যায়গুলো করেছেন, সেই পাপের হিসেব একদিন সৃষ্টিকর্তাকেই দিতে হবে”।

“- তুমি ক্ষমা না করলে আমি শান্তি পাবো না”।

“- আমি চাইও না আপনি শান্তি পান। আপনি যা করেছেন তা ভুলের কাতারে পরে না। ভুল হলে ক্ষমা করা যায়, অন্যায়ের কোনো ক্ষমা নেই”।

চোখ বুজে নেয় ইয়াসিন। মৃত্তিকাকে সে কখনো এতটা কঠোর হতে দেখেনি। যে মৃত্তিকা তার কণ্ঠ শুনেই গলে যেত, আজ তার অনুনয় মৃত্তিকার অভিনয় বলে মনে হচ্ছে। সে বেহিসেবী কণ্ঠে বলে,

“- আমি রুবিকে ডিভোর্স দেবো। তুমি আফিমকে ডিভোর্স দাও মৃত্তিকা। আমরা নতুন করে সব শুরু করবো আবার। আমি তোমায় আর কোনোদিন ঠকাবো না”।

দাঁত কটমট করে তাকায় মৃত্তিকা। নাকের পাটা ফুলে ওঠে মেয়েটার। নিচু কিন্তু তেজী কণ্ঠে ইয়াসিনকে শাসায় সে। বলে,
“- ভুলেও এ কথা দ্বিতীয়বার উচ্চারণ করবেন না। নইলে আপনাকে হ্যারাসমেন্টের অভিযোগে জেলে পাঠাতে আমি একটুও সময় নেবো না।”

মৃত্তিকা পা চালিয়ে চলে আসে হাসপাতালের ভিতরে। ইয়াসিন অসহায় চোখে তাকায় মৃত্তিকার যাওয়ার পানে। বুকে চিনচিন ব্যথা অনুভূত হয়। আজকাল ইয়াসিনের কিছুি ভালো লাগে না। শরীর-মন উভয়েই অদ্ভুত বিষণ্ণতা বাঁধা বেঁধেছে।


ইরহামের ভাই হয়েছে রাত দশটা নাগাদ। ইরহামের মতোই মিষ্টি একটা বাচ্চা। তার নাম রাখা হয়েছে ইরফান। ইরফানকে কাঁথা দিয়ে মুড়ে রেখেছে মনোয়ারা। ভাবির পরিবারের লোকজন আসছে, আপাতত বাসে আছে তারা। মৃত্তিকার পরিবারে খুশির অন্ত নেই। মেহমেত খুশিতে পাগলপ্রায়। সদ্যজাত শিশুকে নিয়ে সবার ভেতরই উচ্ছ্বাস বয়ে চলেছে। কতশত আহ্লাদি কথা বলে বাচ্চাটাকে খুশি করতে চাইছে ওরা।

বাচ্চাকে কোলে নেবার প্রায় এক ঘন্টা অর্থাৎ এগারোটার দিকে আফিম এসেছে হাসপাতালে। বরাবরের মতোই কোঁচকানো শার্ট-প্যান্ট তার, উষ্কখুষ্ক চুল, সবুজাভ চোখ ক্লান্তিহীন। হন্তদন্ত পায়ে করিডোর পেরিয়ে পোস্টানাটাল কেবিনের দুই নম্বর বেডে মৃত্তিকাকে বসে থাকতে দেখে থমকায় আফিম। বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে মৃত্তিকা বসে আছে। মেয়পটার ঠোঁটে অনাবিল হাসি। বাচ্চাটার উদ্দেশ্যে অযৌক্তিক, অহেতুক, ভিত্তিহীন কথা বলে যাচ্ছে। ছেলে ভোলানো কথা বলছে আর খিলখিল করে হাসছে মৃত্তিকা। তার হাসির শব্দে তাল হারায় আফিম। মৃত্তিকা বাচ্চাটার দিকে মায়াবী চোখে তাকিয়ে আছে অহর্নিশ। পায়ের শব্দ পেয়ে চোখ উঁচিয়ে আফিমকে দেখেই সে প্রগাঢ় হেসে ওঠে। তার চোখ জোড়ায় স্পষ্ট আনন্দ দেখতে পায় আফিম। আফিমকে দেখেই মৃত্তিকা বলে ওঠে,

“- দেখুন, ভাইয়ার আবার ছেলে বাবু হয়েছে। একদম ভাইয়ার মতো। কি মিষ্টি! আদুরে বাচ্চা”।

আফিমের হাতে কিছু ফলের ব্যাগ ছিল। ফলের ব্যাগ গুলো মেহমেতের হাতে ধরিয়ে সে মৃত্তিকার পাশে এসে বসে। জাহানারা তখনো ঘুমোচ্ছে। আফিম বাচ্চাটাকে দেখে তাকিয়ে রয় কিছুক্ষণ। হাত বাড়িয়ে ছোঁয় বাচ্চার হাত। আদুরে বাচ্চাটা আফিমের হাতের আঙুল মুঠোয় পুড়ে নেয়। ফোকলা দাঁতে খানিক হেসে ওঠে। মৃত্তিকা ফিক করে হেসে ফেলে ইরফানের কাণ্ডে। বলে,

“- দেখেছেন? এখনই হাত ধরতে করতে শিখে গেছে”।

আফিম পকেট থেকে একটি লাল আয়াতাকার বক্স বের করে। রিবন দিয়ে বাঁধা বক্সটা। সেখান থেকে প্লাটিনামের একটি ঝকঝকে চেইন বের করে আফিম পড়িয়ে দেয় ইরফানের গলায়। মৃত্তিকা তব্দা খায়। অবিলম্বে প্রশ্ন করে,

“- আপনি টাকা কোথায় পেলেন”?

আফিম হাই তুলে। দু কাঁধ উঁচু করে অসংকোচে বলে,
“- বাবা দিয়েছে”।

মৃত্তিকা দ্বিরুক্তি জানায় না। সে জানে, আশরাফ মির্জা ভালোবেসেই টাকাটা দিয়েছে, ইরফানকে কিছু কিনে দেয়ার জন্য। ওরা দুজনই বাচ্চাটার সাথে গল্প জুড়ে দেয়। আফিম খানিক রয়েসয়ে বলে,
“- মৃত্ত”।

“- হুহ”?

“- আমার ও বেবি চাই”।

থমকায় মৃত্তিকা। কাছে কেউ নেই। তবুও মৃত্তিকা সতর্ক ভঙিতে চোখ বুলায় কেবিনটায়। আফিমের মুখের লাগামহীন কথায় নতজানু হয় সে। গাল দুটো রক্তিম হয়ে ওঠে। বাচ্চাটাকে বুকে আঁকড়ে ধরে নুইয়ে বলে,
“- এসব কি কথা? কেউ শুনে ফেলবে”।

আফিম ভ্রু কুঁচকে ফেলে। বিরক্ত হয় মৃত্তিকার কথায়। বলে,
“- যখন হবে তখনও তো বুঝি সবাই দেখবে। তখন তোমার লজ্জা লাগবে না”?

“- তাই বলে আপনি এসময় এসব বলবেন”?

“- তুমি লজ্জা পাও কেন মৃত্ত? তুমি লজ্জা না পেলে তোমার পেটেও আমার বাচ্চা থাকতো”।

এবারে লজ্জায় গাল দুটো জ্বলে ওঠে মৃত্তিকার। সে চেপে ধরে আফিমের হাত। অনুরোধ করে বলে,
“- দয়া করে এসব বলবেন না। আমার লজ্জা লাগছে”।

আফিম অত্যাধিক নমনীয় কণ্ঠে প্রত্যুত্তরে বলে,
“- তোমাকে লজ্জা দিতে আমার ভালো লাগছে”।

“- সরুন তো”।

আফিম মৃদু হাসে। বলে,
“- ফিরতে হবে, চলো”।

মৃত্তিকা বিস্মিত কণ্ঠে বলে,
“- কোথায়? আমি আজ কোথাও যাবো না”।

আফিম রেগে ওঠে তৎক্ষনাৎ। বলে,
“- মারবো কিন্তু, রোজ এসব আহ্লাদ করবে না মৃত্ত”।

“- কিসের আহ্লাদ? বাড়িতে নতুন সদস্য এসেছে, এখন আমি কি করে চলে যাবো”?

“- বাচ্চার নানু বাড়ির সবাই আসছে, তুমি না থাকলেও চলবে”।

মৃত্তিকা শোনে না। বলে,
“- আমি থাকবো, আপনার কথা শুনবো না আমি”।

আফিম উঠে দাঁড়ায়। বাচ্চটাকে নিজের কোলে নিয়ে মনোয়ারার কাছে গিয়ে তার হাতে তুলে দেয়। মৃত্তিকা বোকা বনে যায়। ভ্রু কুঁচকে আফিমের পরবর্তী চাল বোঝার চেষ্টা করে। ইরফানকে রেখে এসে আফিম এগিয়ে এসে মৃত্তিকার হাত চেপে ধরে। অতঃপর এক দফায় পাজোকোলে তুলে নেয় মৃত্তিকাকে। চমকায় মৃত্তিকা। বিব্রত হয় প্রচণ্ড। চোটপাট দেখিয়ে বলে,
“- কি করছেন? ছাড়ুন, আফিম।”

আফিম শোনে না মৃত্তিকার অনুরোধ, শাসন। মৃত্তিকাকে কোলে চেপেই সে করিডোর পেরিয়ে যেতে উদ্যত হয়। করিডোরের কাছে মনোয়ারার সাথে দেখা হতেই আফিম হাসিমুখে বলে,

“- মৃত্তিকাকে নিয়ে যাচ্ছি আন্টি, কাল আসবো”।

মনোয়ারা হেসে ফেলে। মৃত্তিকা কাচুমাচু হয়ে আফিমের শার্ট চেপে ধরে। মাথার ওড়না পরে যায় মেয়েটার। মৃত্তিকা বারবার বারণ করে, নেমে যেতে নড়েচড়ে ওঠে বারবার। আফিম রেগে ধমক দেয় এবার। হুংকার ছেড়ে বলে,

“- আর একবার নড়চড় করলে আমি ফেলে দিবো তোমাকে। তখন চাইলেও বারবার বাপের বাড়ি আসতে পারবে না। কি রাজি? ফেলে দিবো? ভেঙে দিবো পা”?

মৃত্তিকা হকচকিয়ে ওঠে। পিঠে বিচরণ করা আফিমের হাতের বন্ধন ঢিলে হয়ে এলেই সে আঁকড়ে ধরে আফিমের কাঁধ। আফিমের গলা পেঁচিয়ে ধরে বলে,

“- ব্যথা পাবো কিন্তু”।

আফিম মিটিমিটি হেসে বলে,
“- ব্যথা দিবো কিন্তু, সহ্য হবে? চুপচাপ লক্ষী বাচ্চার মতো বুকে লেপ্টে থাকো। আমার আরাম লাগছে, ট্রাস্ট মি”।


বাড়ির বিশাল বড় সদর দরজার সামনে এসে আফিমের বাইকটি থামে। হেলমেট খুলে মৃত্তিকা নেমে পরে। তাদের দেখে দারোয়ান চাচা গেট খুলে দেয়। ভিতরে প্রবেশ করতেই মৃত্তিকার চোখ আটকায় বাড়ির সামনের অংশে। কয়েকজন পুলিশের পোশাক পরিহিত লোক দাঁড়িয়ে আছে। তাদের হাতে লাঠি, হ্যান্ডকাফ। প্রায় দশ-বারো জন পুলিশকে নিজেদের বাড়ির সামনে দেখে মৃত্তিকা থমকে যায়। মনটা কু ডেকে ওঠে। পিছু ফিরে আফিমের দিকে তাকিয়ে সন্দেহী চোখে চেয়ে বলে,

“- আপনি আজ কারো সাথে মারপিট করেছিলেন”?

আফিম বাইকের চাবিটা পকেটে ঢুকিয়ে চুলে হাত বুলিয়ে বলে,

“- আজ? না তো, দুদিন আগে করেছিলাম”।

মৃত্তিকা বিরক্তি নিয়ে তাকায় আফিমের দিকে। সামনের দিকে তাকানোর জন্য আফিমকে ইশারা করে। আফিম গেটের দিকে তাকাতেই এক দল পুলিশ ফোর্সকে দেখে কপাল কুঁচকায়। তবে তার মাঝে ভয়ের কোনো রেশ দেখতে পায় না মৃত্তিকা। মানুষটা বড়ই নির্বিকার। কোনো কিছুই তাকে ঘাবড়ে দিতে পারে না। আফিম শার্টের কলার ঝেরে এগিয়ে যেতে যেতে বলে,

“- আসো, দেখি কি বলে ওরা”।

মৃত্তিকা ধীর পায়ে এগিয়ে যায়। আশরাফ মির্জা বাড়ি নেই। গেটের কাছে দাঁড়িয়ে আছে তন্বী। মেয়েটার চোখেমুখে নিদারুণ ভয়। আফিমকে দেখে ভয়টা তরতর করে বাড়ে তন্বীর। মৃত্তিকা খুব দ্রুত বুঝে ফেলে পুলিশের আগমনের কারণ মোটেই সাধারণ নয়। তার মনেও আতঙ্ক নেমে আসে। আফিমকে দেখেই পুলিশগুলো কটমট করে তাকায় আফিমের দিকে। সিনিয়র ইন্সপেক্টর আফিমকে দেখেই কড়া চোখে চেয়ে বলে,
“- আসুন মিস্টার শাফায়াত আফিম মির্জা। আপনাকেই আমরা খুঁজছিলাম”।

আফিম ঠোঁট বাঁকিয়ে ক্রূর হাসে। বলে,

“-, আমাকে তো অনেকেই খোঁজে। আপনি কেন খুঁজছেন সেটাই বলুন।”

‘- আমরা আপনাকে অ্যারেস্ট করতে এসেছি”।

কথাটা বলা মাত্র পিনপিন নীরবতা গ্রাস করে সময়টাকে। থমকায় মৃত্তিকা। তন্বী দৌড়ে এসে আফিমের সামনে দাঁড়িয়ে পরপর প্রশ্ন করে,

“- ওরা কি বলছে জানো? বলছে তুমি রেই*প করেছো। সাবিহা নামের কোনো একটা মেয়েকে তুমি কিডন্যাপ করে…..

আর কিছু বলতে পারে না তন্বী। কণ্ঠ কাঁপছে ওর। জড়তা ঘিরে ধরেছে। তার কথা কর্ণকুহরে পৌঁছানো মাত্র বিস্ময়ে ফেটে পরে আফিম। অবাক নেত্রে তাকিয়ে রয় তন্বীর দিকে। প্রথমবারের মতো আফিমকে ঘাবড়াতে দেখে মৃত্তিকা। উত্তেজিত, অধৈর্য ভঙ্গিতে আফিম জিজ্ঞেস করে,

“- কি বলছো? সাবিহা..সাবিহাকে রে*ইপ করা হয়েছে? কি বলছো? হ্যাভ ইউ লস্ট ইওর মাইন্ড? দুদিন আগে সাবিহা ঠিক ছিল, আমি নিজে ওকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি”।

কোমরে এক হাত রেখে অপর হাত মাথায় ঠেকিয়ে উন্মাদের ন্যায় তড়পায় আফিম। বিস্ময়ে কণ্ঠরোধ হয়ে আসে আফিমের। মুখ চেপে ধরে, মাথায় হাত রেখে এদিক ওদিক হেঁটে বেড়ায়। মৃত্তিকা থ বনে যায়। হৃদপিণ্ড ধক করে ওঠে। আফিমের বিস্মিত স্বর, কিছুই জানে না এমন অভিব্যক্তি দেখে পুলিশ অফিসার হেসে ফেলে। বলে,

“- নাটক কম করবেন আফিম মির্জা। একটা মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়েকে দেখে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মেয়েটিকে ভোগ করতে একটুও বিবেকে বাঁধেনি আপনার? শুনেছি নতুন বিয়ে করেছেন, তারপরেও শরীরের ক্ষুধা মেটেনি”?

মৃত্তিকার কান ঝাঁঝিয়ে ওঠে। কেঁপে ওঠে সর্বাঙ্গ। কি হচ্ছে সে কিছুই বুঝতে পারে না। সাবিহা কে? কার সাথে আফিমের কি সম্পর্ক কিছুই বোধগম্য হয় না মৃত্তিকার। শুধু পুলিশ অফিসারের উগ্র, আক্রমণাত্মক কণ্ঠ শুনতে পায়।

“- মাস্তানি করেন তা তো জানতাম। মেয়েদের ভুলিয়ে-ভালিয়ে রেইপ ও করেন, এ কথা জানতাম না। চলুন, আপনাকে জেলের ভাত খাওয়াই। আপনার বাবা আশরাফ মির্জা চাইলেও আপনাকে ছাড়াতে পারবে না”।

আফিম গর্জে ওঠে। হুংকার ছেড়ে পুলিশের ইউনিফর্মের কলার চেপে ধরে। এতটাই শক্ত করে টেনে ধরে যে আঘাত পায় অফিসার। আফিমের উগ্র আচরণ দেখে ফোর্সের বাকি সদস্য টেনে ধরে আফিমকে। আফিম ক্ষিপ্ত, তেজী কণ্ঠে বলে,

“- জবানে লাগাম টানুন। আমি সাবিহাকে রেই*প করবো? বোন হয় ও আমার। ওর ভাই হই আমি”।

রাগে পুলিশের চোয়ালেতে ঘুষি বসায় আফিম। ক্রোধে চোখ লাল হয়ে উঠেছে ছেলেটার। ঘাড়ের রগ ফুলে উঠছে। প্রচণ্ড হিংস্র দেখাচ্ছে আফিমকে। ফোর্সের সদস্যরা আফিমকে দমাতে না পেরে একের পর এক লোহার লাঠি দিয়ে পেটায় আফিমকে। প্রথম লাঠির প্রহার পরে আফিমের চওড়া পিঠে। থমকে যায় আফিম। কলারে আটকানো আঙুল গুলো ঢিলে হয়ে খসে পরে। পর পর তিনটি বারি দেওয়া হয় আফিমের হাঁটুতে। অসহ্যকর, অসহনীয় ব্যথায় আফিম চোখ বুজে নেয়। সামান্যতম কুঁজো হয় না সে। তন্বী ঝরঝর করে কেঁদে ফেলে। এতটাই শক্তি খাটিয়ে আফিমের পিঠ ও হাঁটুতে আঘাত করে ওরা যে শব্দের দাপটে নেতিয়ে পরে মৃত্তিকা। হঠাই চেঁচিয়ে ওঠে। এগিয়ে এসে আফিমের মোটা বাহু চেপে ধরে। আফিমকে নেয়ার জন্য পুলিশের পুরুষ সদস্যরা এসেছে। লেডি কনস্টেবল ওদের সাথে নেই। মৃত্তিকা আতঙ্কে, ভয়ে জড়িয়ে ধরে আফিমের কাঁধ। ভুলে বসে স্থান, কাল, পাত্র। ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে বলে,

“- ব্যথা পেয়েছেন? আফিম, ওদের থামতে বলুন। মরে যাবেন তো। জেদ দেখাবেন না আফিম। ওরা মারবে”।

আফিমের এক হাত দিয়ে শক্ত করে চেপে ধরে মৃত্তিকার পিঠ। পিষে নেয় নিজের বুকে। দুজন কনস্টেবল মৃত্তিকাকে ধরে টেনে সরায় আফিমের বুক থেকে। চোখ মেলে এ দৃশ্য দেখার সাথে সাথে গর্জে ওঠে আফিম। ক্রোধে একজন সদস্যর হাত মুচড়ে দেয় সে। হাড় ভাঙার শব্দ হয়, কুঁকড়ে ওঠে কনস্টেবল। আফিম উচ্চস্বরে, গগন কাঁপিয়ে বলে ওঠে,

“-, আমার মৃত্তিকাকে ছোঁয়ার সাহস ও করবি না। খোদার কসম, ওর কিছু হলে আমি আমি এখানে রক্তের বন্যা দেবো। কাউকে ছাড়বো না আমি, কার বাপ আমাকে আটকায় আমি দেখে নেবো”।

পরক্ষণেই তন্বীর দিকে চেয়ে বলে,
“- মৃত্তকে ধরো। সামলাও ওকে”।

অফিসার আফিমের পিঠে আরো দুবার আঘাত করে। মৃত্তিকা তন্বীকে জড়িয়ে চোখ বুজে লেপ্টে থাকে। দু হাতে কান চেপে ধরে সে। অফিসার রেগে বলে,

“- এই নাটক বন্ধ কর৷ রেপিস্ট কোথাকার। তোকে রিমান্ডে নিয়ে এমন ধোলাই দেবো, জীবনে সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করতে পারবি না”।

বারোজন সদস্য মিলে আফিমের হাত-পা, শার্টের কলার ধরে আফিমকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায়। আঘাতে জর্জরিত দেহের মানুষটা মৃত্তিকার পানে চেয়ে রয়। মৃত্তিকা ফ্যালফ্যাল করে আফিমের প্রস্থান দেখে। জলধারা বয়ে বুক ভিজে যায় মেয়েটার। চেঁচিয়ে মৃত্তিকা বলে,

“- আপনি কী করেছেন আফিম? কেন করেছেন?”

অফিসার বলে ওঠে,
“- আপনার স্বামী সতেরো বছরের একটি প্রতিবন্ধী মেয়েকে রে*ইপ করেছে। আমাদের কাছে সব প্রমাণ আছে।”

তন্বী বলে,
“- আফিম ভাই ওরকম মানুষ নয়। কোথাও ভুল হচ্ছে”।

“- ভুল নাকি ঠিক তা আদালতেই দেখা যাবে”।

আফিমকে এক প্রকার টেনে, মেরে নিয়ে যায় ওরা। মৃত্তিকা নিস্তব্ধ। শরীরে জোর নেই, হাত-পা অসাড়। শ্বাস নিতে বেগ পেতে হচ্ছে। একটি কথাই মস্তিষ্কে বারবার বাজছে,

“- আপনার স্বামী রেপিস্ট, রেপিস্ট, রেপিস্ট”।


সারাটা রাত ধরে চুপচাপ দেয়ালে ঠেস দিয়ে বসে আছে মৃত্তিকা। অদূরে আজানের সুমধুর আওয়াজ ভেসে আসছে। সূর্যও আলো দিচ্ছে। বিছানায় শুয়ে আছে তন্বী। সারা রাত জেগে সবে চোখটা লেগে গেছে ওর। মৃত্তিকার রাগ নেই, অভিমান নেই। যন্ত্রণাও বুঝি নেই। চুপচাপ বসে আছে সে। ও বাড়ি থেকে একের পর এক ফোন আসছে। ইতোমধ্যে শহরে ছড়িয়ে গেছে আফিমের কুকর্ম। ঘৃণায় সকলে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। ও বাড়ির লোকজন এক নাগাড়ে মৃত্তিকাকে কল করছে। মৃত্তিকা কোন মুখে কল ধরবে? কি করে সব ঘটনার ব্যাখ্যা দেবে? সে তো নিজেই গোলক ধাঁধায় আটকে গেছে। কে ভুল, কে ঠিক মৃত্তিকা কিছুই জানে না। শুধু জানে একটি মেয়ে ধর্ষিত হয়েছে, মেয়েটি মানসিক প্রতিবন্ধী। আফিমকে সন্দেহ করছে পুলিশ। না, সন্দেহ নয়। ওরা নিশ্চিত আফিমই মেয়েটার সাথে অন্যায় করেছে। প্রমাণ ও নাকি আছে ওদের কাছে। তবে তন্বী বলছে অন্য কথা। ওর পূর্ণ বিশ্বাস আফিম এমন কিছু করেনি। থানায় রায়ান, রূপক, শান্ত আছে। ওরা চেষ্টা করছে আফিমকে ছাড়িয়ে আনার। কিন্তু লাভ হচ্ছে না। ভিক্টিম নিজে আফিমের কথা বলেছে। মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়েটা মিথ্যা বলতে পারে না, এ নিয়ে প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী সকলে।

আশরাফ মির্জাও চেষ্টা করছেন ছেলেকে ছাড়িয়ে আনার। উকিল যোগাড় করেছেন, লোক লাগিয়েছেন। আফিমের সব বেয়াদবি মেনে নিলেও এ ধরণের নিকৃষ্ট অন্যায় কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না আশরাফ মির্জা। আফিম এসব কিছুতেই করতে পারে না বলে তার বিশ্বাস। কিন্তু মৃত্তিকার কোনো কূল নেই। কাউকে নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করতে পারে না সে। ভয় হয় প্রচণ্ড। আফিম কি তবে সত্যিইই…?

ভোরের আলো ঠিক ভাবে শহরে ছড়িয়ে যেতেই মৃত্তিকা বাড়ি থেকে বের হয় সবার অগোচরে। শান্তর থেকে জেনেছে সাবিহা মেয়েটি হাসপাতালে ভর্তি। ওর ভাই শিহাব চৌধুরী পুরো শহর তন্ন তন্ন করে খুঁজে সাবিহাকে আহত অবস্থায় পেয়েছে পোড়া জমিদার বাড়ির কাছে। শিহাব মাদকদ্রব্য বিক্রি করে। তাই শহরের সব গোপন আস্তানা তার জানা। কেন যেন সে ওই জায়গা গুলোতেই তল্লাশি চালিয়েছে সে। আহত, কাঁটাছেড়া, রক্তাক্ত শরীর নিয়ে সাবিহা পথ দিয়ে আসছিল খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। রাস্তায় বোনকে এ অবস্থায় দেখে শিহাবের মাথায় আকাশ ভেঙে পরে। সাথে সাথে নিজের গায়ের কাপড় বোনের গায়ে জড়িয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলে সে। অর্ধনগ্ন দেহটাকে আগলে নেয় বুকে। সাবিহা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে দেখে ভাইকে। শিহাবকে কাঁদতে দেখে সেও কাঁদতে আরম্ভ করে। বাচ্চা বাচ্চা কণ্ঠে বলে,

“- ভাইয়া, ওই ভাইয়া আমাকে খুব ব্যথা দিয়েছে। আমায় খামচেছে, কামড়েছে। ভাইয়া আমার খুব কষ্ট হচ্ছে”।

বোনের কণ্ঠে আরো জোরে চিৎকার করে কাঁদে শিহাব। বোনকে সে নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসে। তার দূর্বলতা এই সাবিহা। যাকে সতেরোটি বছর ধরে আগলে রেখেছে। সমাজের হায়নাগুলোর থেকে নিরাপদে রাখতে কষ্ট করে গেছে। আজ তার কলিজার এ অবস্থা কি করে হয়? বোনের কাটাছেঁড়া মুখে হাত বুলিয়ে শিহাব বলে,
“- সাবিহা, আমাকে ক্ষমা করে দে বোন।”

আকাশ পানে তাকিয়ে পরক্ষণেই বলে,
“- আল্লাহ্ আমাকে এত কষ্ট কেন দিল? আমার অসহায় বোনটার এত বড় ক্ষতি কেন করতে দিল? কে করল এমন? একটুও মায়া হলো না জানোয়ারের? আমার বোন যে কিছু বোঝে না। ও যে নিষ্পাপ, পবিত্র”।

সাবিহা ঢুকরে কেঁদে বলে,
“- ওই সবুজ চোখের ভাইয়াটা, যে আমাকে ওইদিন তুলে নিয়ে গিয়েছিল। আর আজ আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে, ব্যাড টাচ করেছে। ওর সবুজ চোখ খুব ভয়ানক ভাইয়া”।

সাবিহার ঘাড় থেকে মাথা উঁচিয়ে ফেলে শিহাব। বিস্ময়ে ফেটে পড়ে ছেলেটা। রাগে মাথা ঘুরে ওঠে। আফিম? আফিম করেছে এসব? এ শহরে সবুজ চোখ তো কেবল আফিমেরই আছে। শিহাবের সবচে বড় শত্রু যে ওই আফিমই। ক্ষমতার লোভে, শত্রুকে ধ্বংস করতে এত নৃশংস চাল চেলেছে আফিম? এতটা নিষ্ঠুর হয়েছে? দপদপ করে জ্বলে শিহাবের মগজ। গাড়িতে করে বোনকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে সে চলে যায় থানায়। পুলিশ সাবিহার জবানবন্দি নেয়, সবটা শোনে ভালোমতো। অতঃপর আফিমকে অ্যারেস্ট করতে যায়।

সবটা জেনে মৃত্তিকা সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে সাবিহার সাথে দেখা করবে। সবটা আরো ভালোমতো জানবে। হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ চালিয়ে মৃত্তিকা জানতে পারে সাবিহা হাসপাতালে নেই। তাকে সকাল হতেই বাড়ি নিয়ে চলে গেছে। মৃত্তিকা আর কিছু না ভেবে সাবিহার বাড়ি চলে যায়। দারোয়ান তাকে আটকাতেই শিহাব নামের ছেলেটা নিজ উদ্যমে মৃত্তিকাকে বাড়িতে ঢোকায়। শিহাবের তির্যক, আক্রমণাত্মক চাহনি দেখে ঘাবড়ে যায় মৃত্তিকা। তবুও নিজেকে শক্ত রাখে সে। শিহাব ক্রূর হেসে মৃত্তিকার আপাদমস্তক পর্যবেক্ষণ করে তাচ্ছিল্যের সুরে বলে,

“- যার স্ত্রী চোখ ধাঁধিয়ে দেয়ার মতো সুন্দরী। সে আমার বোনকে দেখে লোভ সামলাতে পারল না”?

মৃত্তিকার বুকটা ধক করে ওঠে। শিহাব হঠাৎই কেঁদে ফেলে ঝরঝর করে। বুক ভেঙে আসে লোকটার। তাকে কাঁদতে দেখে মৃত্তিকা মুষড়ে ওঠে। মনোবল হারিয়ে ফেলে সে। একটু পরই শিহাবের কান্না ক্রোধে পরিণত হয়। ঝাঁঝ দেখিয়ে সে বলে,

“- আমার বোন বেঁচে আছে কিনা তাই দেখতে এসেছো”?

মৃত্তিকা দৃঢ় স্বরে বলে,
“- না, দেখতে এসেছি জবানবন্দি দেয়ার মতো অবস্থা তার আছে কিনা”।

শিহাব বলে,
“- কোনো সন্দেহ আছে? ভাবছো আফিম নির্দোষ”?

মৃত্তিকা মৃদু হেসে বলে,
“- তা সময় বলবে, আদালতের রায় বলবে। আমার কথা আপনি কেন বিশ্বাস করবেন”?

শিহাব বলে,
“- তোদের মতো মেয়েদের থু থু দিতে হয়। তোরা নারী জাতির কলঙ্ক। ভালোবাসার মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে আরেকটি নিষ্পাপ মেয়ের জীবন নিয়ে খেলছিস। আমার ইচ্ছে করছে তোকে আঘাত করে আফিমকে দেখাতে”।

মৃত্তিতা সহজ কণ্ঠে বলে,
“- তা আপনি করতেই পারেন। বোনের এই দুর্দশায় কোনো ভাই-ই ঠিক থাকতে পারে না। তবে চোখ দেখে কী পুরো মানুষটাকে চেনা যায়? আফিমের চোখ সবুজাভ। এ চোখের মানুষ খুব বিরল, তাই বলে আফিম ব্যতিত এমন চোখের অধিকারী এ শহরে কেউ এমনটা ভাবা অযৌক্তিক। তাছাড়া এখন আধুনিক যুগ, হরেক রঙের লেন্স ব্যবহার করা যায়। এ কথাটা আপনাদের মাথায় ঢুকছে না”?

“- শালী মা*গী। আফিমের হয়ে সাফাই গাইতে আসছোস? এই আফিমের সাথে সপ্তাহে দু বার আমার মারপিট হয়। মরণের হুমকি দেয় আমাকে। ওকে জিজ্ঞেস করিস তো, আমার বোনকে কিডন্যাপ করেছিল কিনা। মারের চোটে কিডন্যাপের কথাটা স্বীকার করেছে আফিম। ও ছাড়া কেউ এমন নোংরা কাজ করতে পারে না”।

মৃত্তিকা থমকে গেল। সাবিহাকে আফিম কিডন্যাপ করেছিল? নিজ মুখে এ কথা স্বীকার করেছে আফিম? কই শান্তরা তো এ কথা জানায়নি ওকে। জানলে মৃত্তিকা এখানে আসতো না। আফিম তার মানে সত্যিই এমন নোংরা খেলায় মেতেছে? সবার ধারণা ভুল? আফিমের ভেতরে অন্য আফিম আছে? মৃত্তিকা রয়েসয়ে জবাব দেয়,

“- মুখ সামলে কথা বলুন। মেয়েদের সাথে ভদ্রভাবে কথা বলতে হয়। এটুকু জানেন না? অন্যায় যে করে, অন্যায় যে সহে, উভয়েই সমান অপরাধী। আফিম যদি রেপিস্ট হয়, আমি মৃত্তিকা নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ওর ফাঁসির টাইম কাউন্ট করবো। আফিমের ছটফট করতে করতে লুটিয়ে পড়া দেহ দেখে উচ্চস্বরে হাসবো। একটুও কাঁদবো না আমি, একটুও যন্ত্রণা হবে না আমার। বরং তার মৃত্যুতেই আমার গুণ্ডার স্ত্রী হওয়ার কলঙ্ক ঘুচবে। আমি তাকে জীবন থেকে চিরতরে মুছে ফেলবো। ভুলে যাবো এ পরিচয়”।

চলবে?
লেখনীতেঃ #বৃষ্টি_শেখ

[নোটঃ ভয় পাবেন না। আগামী পর্বে সব ঠিক হয়ে যাবে। আপনারা একটু রেসপন্স করবেন।]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply