Golpo romantic golpo ওরা মনের গোপন চেনে না

ওরা মনের গোপন চেনে না পর্ব ২০


ওরা মনের গোপন চেনে না

পর্ব সংখ্যা [২০]

মৃত্তিকাকে আচমকা কোলে তুলে নেয় আফিম। ভড়কে যায় মেয়েটা। চেঁচিয়ে বলে,

“- নামান আমাকে, আমি যেতে পারবো”।

আফিম তোয়াক্কা করে না। বলে,
“- ভালোবাসলে যে এত রেগে যায়, তার মুখে ভালোবাসার সংজ্ঞা?”

মৃত্তিকা বিব্রত হয় ভীষণ। নারীর মন কখনো কখনো এত বেহায়া হয়ে ওঠে, কখন কি বলে নিজেরই হুঁশ থাকে না। কিছুক্ষণ আগে আফিমকে বলা কথাগুলো কি আদৌ তার বলা উচিত ছিল? কেন বলল? কেন নির্লজ্জের মতো নিজের আবেগ গুলোকে মেলে ধরল এই গুণ্ডার নিকট? সহসাই রেগে উঠল মেয়েটা। বলল,
“- সারা রাত বাজে আড্ডা দিয়ে এখন নাটক করছেন? দেখি মদ-সিগারেট খেয়েছেন নাকি”?

আফিম সিঁড়ি বেয়ে উঠছে। মৃত্তিকা তার বুকের কাছে। মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে আফিমের শার্টের কলার আঁকড়ে ধরে মুখ গুঁজে দেয় আফিমের বুকে। নাক টেনে টেনে শুঁকতে থাকে শার্টের অংশ। পুরো বুক, ঘাড়ের কাছে নাক টেনে বিশ্রী গন্ধ আছে কি না পর্যবেক্ষণ করে। একসময় নাক ঠেকায় আফিমের ঠোঁটে। তেজ দেখিয়ে বলে,

“- হা করুন”।

আফিম মৃদু হেসে কালচে-খয়েরি ঠোঁট জোড়া ফাঁক করে। মৃত্তিকা বেশ কয়েকবার নিঃশ্বাস টেনে টেনে শুকে। সিগারেটের বিশ্রী গন্ধ আসছে। আর কোনো উদ্ভট দুর্গন্ধ নেই। কতগুলো সিগারেট খেয়েছে কে জানে? তার উদ্ভট কাজে মুচকি হাসে আফিম। মৃত্তিকার নাকের ডগায় ছোট্ট চুমু খেয়ে বলে,

“- বউদের মতো কুটনামি করছো মৃত্ত”।

মৃত্তিকার তদন্ত শেষ হলে আফিম ঘরে ফিরে আসে। বিছানায় ধীরে নামিয়ে দেয় মৃত্তিকাকে। মৃত্তিকা বলে ওঠে,

“- আপনি কাজবাজ করবেন না? কতদিন এভাবে ঘুরে বেড়াবেন? বিয়ে করেছেন, এবার তো দায়িত্ব নিতে শিখুন”।

আফিম জ্যাকেট খুলতে খুলতে বলে,
“- আমার বাপের যা আছে, তাতে আমাদের সন্তানদের ও চলে যাবে”।

“- আপনার বাবার আছে তাতে আমার কি? আপনার কি আছে তাই বলুন”?

“- আমার বাবা আছে”।

বিরক্ত হয় মৃত্তিকা। বলে,
“- তাই বলে আপনি কাজবাজ করবেন না? আমি আপনার বাবার থেকে কোনো অর্থ গ্রহণ করবো না। জোয়ান, কর্মক্ষম স্বামী থাকতে অন্যের দয়ায় বাঁচতে হবে আমাকে”?

“- তুমি তো টিউশন করছোই”।

মৃত্তিকার মনে পরে সকালের ঘটনা। তার টিউশনি একটা চলে গেছে। হাতে কেবল একটাই টিউশন। তাতে কিভাবে পোষাবে? ও বাড়িতেও তো টাকা পাঠাতে হবে।

“- আমার টিউশন চলে গেছে”।

আফিম কৌতুহলী চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
“- কেন”?

“-, আগের মাসে অনেক গ্যাপ দিয়েছি সেজন্য”।

আফিম গা ছাড়া ভাবে বলে,”- আচ্ছা ঠিক আছে, আমি আরো টিউশনের ব্যবস্থা করে দেব”।

“- তবুও আপনি রোজগার করবেন না”?

“- না”।

“- সিগারেটের টাকা কোথায় পান”?

“- ছেলেপেলেরা কিনে দেয়”।

মৃত্তিকা কথা বলার রুচিটুকুও হারাল। বিছানায় একপাশে কাত হয়ে শুয়ে পরল। আফিম জিজ্ঞেস করল,
“- খেয়েছো”?

মৃত্তিকা উত্তর দিল,
“- খেয়েছি”।

আফিম কথাটা শোনামাত্রই বেরিয়ে গেল বাইরে। মৃত্তিকা ভ্রু কুচকে ফেলল। আবার কোথায় গেল লোকটা? একটুও শান্তি দেবে না মৃত্তিকাকে?

আফিম মিনিট দুয়েক বাদে ফিরল। তার হাতে একটি প্লেট। প্লেটে সাদা ভাত আর মাংস ভুনা। মৃত্তিকা ভাবল আফিম খাবে খাবারটুকু। কিন্তু তাকে অবাক করে দিয়ে আফিম বিছানায় এসে বসে বলে,

“- ওঠো, খেয়ে নাও”।

মৃত্তিকা বলল,
“- আমি তো বললাম আমি খেয়েছি”।

আফিম মৃদু ধমকে বলল,
-” খেয়েছো তো কি? আবার খাবে”।

“- খাবো না”।

“- খেয়ে শুয়ে পড়ো, ঘুম ভালো হবে”।

আফিম তার দানবীয় হাতের তালুতে বড়সড় ভাতের লোকমা তুলে ধরল মৃত্তিকার সামনে। মৃত্তিকা চমকে হা করল। বড়সড় লোকমাটা মৃত্তিকার মুখে ঢুকিয়ে দিতেই গাল ফুলে উঠল মৃত্তিকার। ধীরে সুস্থে খাবারটা চিবিয়ে নিল সে। ফের আফিম আরো একটি লোকমা মৃত্তিকার মুখে পুড়ে দিতেই মৃত্তিকা চোখ পাকিয়ে তাকাল আফিমের পানে। অনেক কষ্ট করে ভাতের দানা গুলো চিবিয়ে পানি খেয়ে বলল,

“- আমাকে কি রাক্ষসী মনে হয়? এত বড় লোকমা কেউ দেয়?”

আফিম ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে,
“-, আমার কি দোষ? তোমার মুখ ছোট”।

“- আপনারই দোষ, আপনার হাত বড়।”

“- তোমার ওজন কত মৃত্ত”?,

“- পঞ্চাশের কাছাকাছি”।

“- আমার সত্তর প্লাস।”

“- এজন্যই আপনাকে দানব দানব লাগে”।

পুরো খাবার শেষ করে আফিম হাত ধুয়ে মুছে দেয় মৃত্তিকার এঁটো গাল। তীব্র কাঁপুনিতে গা দুলে ওঠে মেয়েটার। আফিম মৃত্তিকার দিকে ফিরে শুয়ে পরে। নিভিয়ে দেয় ঘরের বাতি। টেবিল ল্যাম্প জ্বালিয়ে মৃত্তিকার মুখ পানে চেয়ে থাকে আফিম। মৃত্তিকার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলে,

“- ঘুমাও মৃত্ত, তোমাকে সুরক্ষা দেবার দায়িত্ব আমার”।


শান্ত চাকরিতে জয়েন করেছে দুদিন হলো। আজকে তার অফিসের দ্বিতীয় দিন। গতকাল জয়েন করার পর তার কলিগরা সকলেই এসে হাত মিলিয়েছে শান্তর সাথে, আড্ডাও দিয়েছে। শান্তকে বিভিন্ন উপদেশ দিয়েছে, অফিসের নিয়মকানুন বলেছে। এমনকি দুপুরের লাঞ্চ তাদের সাথে করার জন্য ইনভাইট করেছে। এখানকার কেউ শান্তকে চেনে না। তার বাড়ি থেকে বাইকে চড়ে অফিসে আসতে আধঘন্টা সময় লাগে। দীর্ঘ পথ পারি দিতে হয়। শান্ত বেচারা অন্তর্মুখী স্বভাবের। কেউ প্রশ্ন করলে উত্তর দিয়ে ফিরতি প্রশ্ন করতে খুব সংকোচ বোধ করে সে। কথোপকথন বাড়ানোর কোনো লক্ষণ দেখা যায় না তার মাঝে। আফিম আর তার বন্ধুদের মাঝেই শান্তর গণ্ডি সীমাবদ্ধ। বাইরের মানুষদের সাথে সহজে মিশতে পারে না শান্ত। সবার সামনে সে বড্ড চুপচাপ হয়ে যায়। কিন্তু শান্ত জানে, কোথাও কাজ করতে গেলে সবার সাথে সম্পর্ক ভালো রাখতে হয়, সবার সাথে মিশতে হয়। তবেই কর্মজীবন কিছুটা স্বস্তি কিছুটা আনন্দময় হয়ে ওঠে। নইলে বিরস, পানসে লাগে কর্মজীবন।

এটি একটি আইটি কোম্পানি। কাজ সব ল্যাপটপ দ্বারাই হয়। ল্যাপটপের স্ক্রিণে ফাইল রেডি করছিল শান্ত। সবেই ঢুকেছে অফিসে। ঢুকেই চেয়ার টেনে বসে পড়েছে স্ক্রিনের সামনে। একটু পরই হন্তদন্ত হয়ে একটি মেয়ে তার ডেস্কের পাশ দিয়ে ছুটে যায় বসের রুমে। পিচ্ছিল টাইলসের কারণে মেয়েটির জুতো স্লিপ খায়। তবুও দ্রুত ছুটে যায় বসের কেবিনে। শান্তর পাশের চেয়ারে বসে থাকা ছেলেটি হেসে ফেলে। শান্তর দিকে চেয়ে বলে,

“- বুঝলে শান্ত? এইযে মেয়েটা ছুটে গেল না? রোজ এভাবেই পড়তে পড়তে, গড়াতে গড়াতে অফিসে এসো পৌঁছায়।”

শান্ত মেয়েটির মুখ দেখেনি। এত দ্রুত মেয়েটা পাশ দিয়ে চলে গেল যে স্ক্রিন থেকে চোখ তোলার আগেই উধাও হয়ে গিয়েছে। শান্ত একটু নারাজ কণ্ঠে বলল,

“-, আমার এসব পছন্দ না ভাই। ডিসিপ্লিন মেনে না চললে আমার মনে হয় কারো কাজে না ঢোকাই উচিত”।

ছেলেটির নাম কামরুল। শান্তর সাথে দুদিনে অনেক কথা বলেছে সে। শান্তর এহেন ভঙ্গি দেখে সে বলল,
“- কালকে আসেনি, আজকে নির্ঘাত বকা খাবে”।

কামরুলের পরের চেয়ারে বসে কাজ করা মেয়েটির নাম পূর্বা। কামরুলের কথায় হেসে সে বলে,

“- বকা খাবে বলে তোর মনে হচ্ছে? আমাদের বস যে ওর চাচ্চু লাগে সেটা কি ভুলে গিয়েছিস? বস আমাদের যেভাবে ঝার দেয়, তোর মনে হয় ওকেও ওভাবে ঝারবে? একটু লেকচার দিবে আর ভয় দেখাবে, এর বেশি কিছুই করবে না”।

কামরুল মাথা নেড়ে বলল,
“- হ্যাঁ তাও ঠিক”।

শান্ত শুনে গেল শুধু। একটু পর বসের রুম থেকে মেয়েটি বের হলো। শান্ত মাথা উঁচিয়ে তাকাতেই সামনে রাইমাকে দেখে চমকাল। ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইল রাইমার পানে। রাইমার গলায় আইডি কার্ড ঝুলছে, একটু আগে এই মেয়েটাই বসের রুমে ছুটে গিয়েছিল। তবে ওরা সবাই রাইমার কথাই বলছিল? রাইমা এখানে জব করে?

রাইমার সাথে শান্তর চোখাচোখি হতেই রাইমার পাংশুটে মুখটা উজ্জ্বল হয়ে উঠল। বিস্ময়ে হা করে তাকিয়ে রইল শান্তর দিকে। হাসি ছড়িয়ে পরল পুরো মুখ জুড়ে। সাথে সাথে পা বাড়িয়ে শান্তর ডেস্কের সামনে এলো রাইমা। চটপটে কণ্ঠে বলে উঠল,

“- আরেহ, শান্ত মশাই যে। নতুন? হু হু”?

শান্ত স্রেফ মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিল। রাইমা উৎফুল্ল হয়ে বলল,
“- আমি দু মাস হলো জয়েন করেছি”।

শান্ত স্বাভাবিক স্বরে উত্তর দিল,

“- ও আচ্ছা”।

ভ্রু কুঁচকে ফেলল রাইমা। বলল,
“- ও আচ্ছা কি? আমাকে এখানে দেখে খুশি হননি? অফিসে এসেই একটা পরিচিত মানুষকে পেয়ে গেলেন, আপনার ভাগ্য খুব ভালো”।

শান্ত মৃদু হেসে প্রত্যুত্তরে বলল,
“- হু ভালো লাগছে”।

“- আমার ডেস্ক দু লাইন পরেই। কোনো সমস্যা হলে আমাকে বলবেন ঠিক আছে”?

“- আপনি কোন পদে আছেন”?

“- ট্রেইনি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার”।

শান্ত গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“- আমি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। আপনার কোনো হেল্প লাগলে অবশ্যই আসবেন, কেমন?”

রাইমার হাসিখুশি মুখটা চুপসে গেল। লজ্জা পেল খুব। শান্ত তার চেয়ে সিনিয়র, পদও মর্যাদায় উপরে। বোকা হেসে উঠল মেয়েটা। মাথা চুলকে চলে গেল সেখান থেকে। সে চলে যেতেই শান্ত মিটিমিটি হাসল। মেয়েটা আসলেই পাগল। কোথায় কি বলতে হয়, সে জ্ঞান নেই।


ইদানিং শরীরটা খুব খারাপ যায় রুবির। মন মেজাজ ভালো থাকে না একদমই। রোজ শাশুড়ির সাথে ঝগড়া লাগে কারণে অকারণে। পিরিয়ড মিস হয়েছে। রুবির মনে হচ্ছে সে প্রেগন্যান্ট। দু মাস ধরে পিরিয়ড অফ। ইয়াসিনকে বারবার বলেছে হসপিটালে নিয়ে যেতে। টেস্ট করাও হবে, বাচ্চার কন্ডিশন ও জানা হবে। কিন্তু ইয়াসিন তার কথা আমলেই নিচ্ছে না। কেমন যেন গা ছাড়া ভাব তার। ওইদিন মৃত্তিকার সাথে আফিমকে দেখার পর রুবি মৃত্তিকার ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছে। ঘটনা সত্য, মৃত্তিকার বিয়ে হয়েছে শহরের সবচেয়ে ধনী লোকের একমাত্র ছেলের সাথে। যদিও ছেলেটা গুণ্ডা-বদমাশ, কিন্তু টাকাপয়সার অভাব নেই। বাবার ব্যবসা আছে অনেকগুলো, ঢাকায় প্রাসাদের মতো বাড়ি আছে। রুবি ভেবে পায় না মৃত্তিকার জীবনে কেন এত ধনীদের আবির্ভাব ঘটে। এত যোগ্যতাসম্পন্ন ছেলেগুলো কেন মৃত্তিকার দিকে ঝুঁকে? কি আছে মেয়েটার মধ্যে? সৌন্দর্য? এছাড়া তো কিছু নেই। ঢাকার একটি তিন তলা ভবনে ভাড়া থাকে, ভাইয়ের রোজগারে সংসার চলে। বড্ড সাদামাটা, সাধারন মেয়ে মৃত্তিকা। চাকচিক্যময়, জাঁকজমকপূর্ণ জীবন নেই ওর। কেবল আছে সৌন্দর্য, মায়া। একটি সহজ মন। কেবল এই সৌন্দর্যের কারণেই তাকে সবাই ভালোবেসে ফেলে? এটুকুই কী যথেষ্ট কাউকে ভালোবাসার জন্য?

ইয়াসিন বড় ঘরের ছেলে। মৃত্তিকাকে নিয়ে যখন ইয়াসিন ঘুরে বেড়াত, গল্প করতো, রুবির তখন হিংসে হতো। এত ভালো ছেলে কেন নিম্নবিত্ত মেয়েটাকে এত ভালোবাসবে? তার কাছে এমন ভালোবাসা ধরা দেয় না কেন? ইয়াসিন আর মৃত্তিকার সম্পর্কটা খুব সুন্দর ছিল। ওদের একসাথো হাসিখুশি থাকতে দেখে রুবির ভালো লাগতো না। সাহস করে ইয়াসিনকে নক করত নানা ছুতো ধরে। আস্তে আস্তে কথা বাড়ে, সম্পর্কের উন্নতি ঘটে। মৃত্তিকা যেহেতু টিউশন, পড়াশোনা, বাড়ি-ঘর সামলানোর দায়ে জড়িয়ে পরেছিল, তখন রুবি সঙ্গী হয়েছিল ইয়াসিনের। ওদের সম্পর্কে তখন ফাটল ধরেছিল। রুবি নিজেকে এমন ভাবে জাহির করতো যে ইয়াসিনের কামনারা বেরিয়ে আসতে চাইতো। একটা সময় ইয়াসিন ভালোর খোলস ছেড়ে বেরিয়ে পরে। সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে রুবির সাথে। মৃত্তিকা সময় দেয় না, অধিকার দেয় না, কাঠের মতো শক্ত থাকে, আদিখ্যেতা করে না, সম্পর্কের প্রতি টান নেই এমন শত শত অজুহাত পেয়ে যেত ইয়াসিন। এসবই তখন প্রাধান্য পেত। তখন পাশে থাকা মানুষটাকেই বেশি আন্তরিক, বেশি আকর্ষণীয় মনে হতো। বলতো সংকোচ নেই ইয়াসিনের সাথে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছিল রুবি। তারপর রুবির প্রতি ইয়াসিনের ভালোবাসা বেড়ে গিয়েছিল। পুরুষ মানুষ তো, দেহের কাঙাল। প্রেম না পেলেও ওদের চলে, দেহ না পেলে পাগলা কুত্তা হয়ে যায়।

ভাবতে ভাবতে রুবির মনটা হুট করে খারাপ হয়ে যায়। মৃত্তিকার বিয়ে হয়েছে জানার পর ইয়াসিন বদলে গেছে। আগের মতো কথা বলে না, সমস মতো বাড়ি ফেরে না। মৃত্তিকার বিয়ে যেন সে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। আজকাল ইয়াসিন দেখলে গা জ্বলে রুবির। রুবিকে ও ভালোবাসে না, এটাই মনে হয়।

তার ভাবনার মাঝে ইয়াসিন ঘরে ঢোকে। গোসল করে বেরিয়েছে সে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে গায়ে শার্ট জড়াতেই রুবি বলে ওঠে,
“- হসপিটালে যাবো, তুমি রেডি না? আমি রেডি হই তাহলে”?

ইয়াসিন বোধহয় যেতে আগ্রহী নয়। তবুও বলল,
“- অন্যদিন গেলে হবে না”?

চেতে উঠল রুবি। বলল,
“- দু সপ্তাহ ধরে এটা ওটা বলে যাচ্ছো। আজ যদি না যাও আমি এই বাচ্চা রাখবো না।”

রেগে উঠল ইয়াসিন। বলল,
“- এসব কি ধরণের কথা বলো? মা হয়ে এ কথা বলো কিভাবে? বাচ্চার প্রতি একটুও মায়া নেই তোমার”?

“- আছে বলেই টেস্ট করতে যেতে চাইছি”।

ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে ইয়াসিন বলল,
“- ঠিক আছে, রেডি হও। নিয়ে যাবো”।

__

তন্বীর সাথে গল্প করছিল মৃত্তিকা। বাড়ি থেকে ফোন আসতেই সে বেরিয়ে আসে বাইরে। কলটা তুলতেই ওপাশ থেকে মৃত্তিকার মা মনোয়ারার উদ্বিগ্ন কণ্ঠস্বর ভেসে আসে,

“- মৃত্তি, জাহানারার ব্যথা উঠেছে।”

মৃত্তিকা চমকে বলল,
“- কিন্তু ডেলিভারির ডেট তো অনেক দেরিতে ছিল”।

“- পানি ভাঙছে। তোর আব্বু বাইপাইল গেছে, মেহমেতকে ফোন করেছিলাম। আসতেও তো সময় লাগবে। একা একা আমি কী করবো? ইরহাম জাহানারার কান্নাকাটি শুনে কান্না শুরু করেছে”।

মৃত্তিকা ঠাণ্ডা মাথায় বলল,
“- তুমি চিন্তা করো না মা। ইরহাম আর ভাবিকে নিয়ে এখনই গাড়িতে ওঠো। আমি হাসপাতালের সামনে থাকবো”।

“- তুই আয় বাড়িতে। আমি একা ওকে কিভাবে নিয়ে যাবো”?

মৃত্তিকা বিরক্ত হয়ে বলল,
“- বোকার মতো কথা বলো না। প্রি-ম্যাচিউর বেবি, রিস্ক নেয়া যাবে না। আমি যেতে যেতে দূর্ঘটনা ঘটে গেলে কি করবে? যেভাবে পারো গাড়িতে ওঠো”।

“- আফিম কি বাড়িতে? ওকে নিয়ে আসিস”।

“- উনি তো নেই মা। আমি আসছি”।

আফিম বাড়িতে নেই। হাতে টাকা-পয়সা নেই মৃত্তিকার। তন্বীকে বিষয়টা জানাতেই মেয়েটা মৃত্তিকার হাতে এক হাজার টাকার পাঁচটা নোট গুঁজে দিল। মৃত্তিকা নিতে চাইল না একদমই। জোর করে, হুমকি দিয়ে টাকাটা মৃত্তিকাকে দিল তন্বী। কৃতজ্ঞতায় চোখ ভরে উঠল মৃত্তিকার। মৃত্তিকাকে বাড়ির গাড়িটায় উঠিয়ে দিয়ে তন্বী বলল,
“- দেখেশুনে যেও, টাকা লাগলে আমাকে কল করবে। আর আমাকে আপডেট জানাবে”।

মৃত্তিকা ক্রন্দনরত চোখে চেয়ে বলল,
“- আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু”।

তন্বী হেসে বলল,
“- পাগলী, প্যানিক করো না।”

মৃত্তিকা ছুটে আসে হাসপাতালে। একটু পরই অটোতে চড়ে জাহানারা, মনোয়ারা আর ইরহাম আসে হাসপাতালের সামনে। জাহানারা কাঁদছে। চোখে-মুখে আতঙ্ক। তার পরনে মেক্সি আর চওড়া ওড়না। মৃত্তিকাকে দেখেই সাহস পেল জাহানারা। বলল,
“- নড়া কমিয়ে দিয়েছে মৃত্তিকা, আমার ভয় হচ্ছে”।

মৃত্তিকা জাহানারাকে ধরে স্বাভাবিক কণ্ঠে বলে উঠল,
“- কিচ্ছু হবে না। তুমি ভয় পেও না। আমরা আছি তো। তুমি যত ভয় পাবে বাচ্চার তত ক্ষতি হবে।”

মৃত্তিকা কখনো হাসপাতালে এসে ছোটাছুটি করেনি। সবসময় বাবা আর ভাই তার হয়ে সব দায়িত্ব পালন করেছে। মেহমেতের আসতে আসতেই সব বন্দোবস্ত করতে হবে তাকে। ইরহামকে ধরে ছিল মনোয়ারা। জাহানারাকে ধরে হাসপাতালের ভিতরে ঢুকে মৃত্তিকা। নার্সদের সাথে কথা বলে, রিসেপশনিস্ট এর কাছে গিয়ে কথা বলে ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে নিয়ে যায় জাহানারাকে। ডাক্তার এসে কিছু মেডিসিন আর স্যালাইন দেয়। এর কিছুক্ষণ পরই মেহমেত চলে আসে। মেহমেত আসতেই ইরহামকে নিয়ে বাইরের ওয়ার্ডে এসে বসে মৃত্তিকা। খোলামেলা জায়গাটায় বসেই ঘন ঘন দম নেয় সে। ইরহামকে তার উরুর উপর মাথা দিয়ে শরীর সিটের উপর রেখে শুইয়ে দেয়। ইরহামের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে মৃত্তিকা বলে,

“- তোমার একটা ছোট্ট ভাই বা বোন আসবে। এসে যদি দেখে তুমি কাঁদছো, তাহলে কিন্তু খুব হাসবে তোমাকে দেখে”।

মায়ের কান্নাকাটি দেখে ইরহাম কাঁদছিল এতক্ষণ। ছেলেটা বেজায় ভয় পেয়েছে। কান্না করতে করতে চোখ মুখ লাল বানিয়ে ফেলেছে ইরহাম। তাকে বোঝাতে বোঝাতে আফিমের ফোনে কল দেয় মৃত্তিকা। আফিম কল তোলে না। এই বিপদে তাকে না পেয়ে মৃত্তিকার মেজাজ খারাপ হয়। বেশ কয়েকবার ফোন দেয়ার পর আফিম ফোন তোলে। সাথে সাথে মৃত্তিকা জিজ্ঞেস করে,

“- কোথায় আছেন আপনি? কল করছি, ধরেন না কেন”?

আফিম বাইক চালাচ্ছে। রাস্তার নানান শব্দ শোনা যাচ্ছে। সে এক হাতে ফোন কানে চেপে বলে,

“- আমি সাভারে এসেছি মৃত্ত”।

“- মানে কি? ভাবির লেবার পেইন শুরু হয়েছে। আমি হাসপাতালে আছি। আপনি আসবেন না”?

“- আমি ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে ঢাকায় ফিরছি”।

“- সাভারে কী কাজ আপনার”?

“- একজনকে পেটাতে এসেছি”।

রেগে গেল মৃত্তিকা। বলল,
“-, এসব আবার বলছেন, লজ্জা করে না”?

“- কি বলো? লজ্জা পাবো কেন? নেন্টু হয়ে ঘুরছি নাকি? ফুল প্যান্ট পড়েছি, আন্ডারওয়্যার আছে নিচে”।

লজ্জায় কান দুটো ঝা ঝা করে উঠল মৃত্তিকার। দাঁতে দাঁত পিষে কল কেটে দিল তৎক্ষনাৎ। এই লোকের সাথে কথা বলাই বৃথা।


দুদিন পর,
বাড়িতে বসে পুতুল খেলছিল সাবিহা। গতকাল বাড়ি ফেরার পর একটা ঝড় বয়ে গেছে। সাবিহাকে খোঁজার জন্য এদিক ওদিক লোক পাঠিয়েছিল শিহাব। যেই সাবিহার বাবা কল করে বলল সাবিহা ফিরেছে, অমনি বাড়িতে ছুটে এসেছিল শিহাব। বোনকে না পেয়ে পাগলপ্রায় অবস্থা হয়েছিল শিহাবের। সাবিহাকে পেয়েই সে জেরা শুরু করে দিয়েছিল। কে নিয়ে গিয়েছিল, কোথায় নিয়েছিল? কি বলেছে? কারা কারা ছিল সব প্রশ্ন করেছে সাবিহাকে। সাবিহা মুখ খোলেনি। বোকা, অবুঝ মেয়েটাও বুঝেছিল তার ভাইয়া প্রচণ্ড রেগে আছে। সবুজ চোখের ওই ভাইয়ার কথা বললেই শিহাব যে রেগে যাবে, তাণ্ডব ঘটাবে তা বুঝতে পেরে সাবিহা লুকিয়েছে সব সত্য। ঘুণাক্ষরেও সবুজ চোখের ভাইয়ার কথা বলেনি। চকলেট আর আইসক্রিমের বক্সটাও সবার চোখের আড়াল করেছে। বলেছে তার কিছুই মনে নেই, মুখ দেখেনি কারো, ওর কোনো ক্ষতিও করেনি ছেলেগুলো। শিহাব অবাক হয়েছিল। যদি ক্ষতিই না করবে, ব্ল্যাকমেইল না করবে, তাহলে নিয়ে গিয়েছিল কেন। তবে প্রশ্ন করে বোনের সাথে জোর জবরদস্তি করেনি। নইলে মেয়েটা অসুস্থ হয়ে পড়বে চাপ নিতে না পেরে। নিজে নিজেই বোনের কিডন্যাপারদের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছে শিহাব। আফিমদের সন্দেহ করেনি, ওরা মেয়েবাজ না। ছোট্র একটা মেয়েকে তুলতে যাবে কেন? তুলে নিয়ে গেলেও হুমকি-ধমকি দিত।

বিকেলে বাড়ির বাইরে পুতুল নিয়ে খেলছিল সাবিহা। হঠাৎই তার চোখ পরে মাঠের বাইরে। একটি ছেলে দাঁড়িয়ে আছে রাস্তার ধারে। মাথায় হেলমেট, পরণে কালো শার্ট। বাড়ির বাইরের রাস্তায় এখন মানুষ নেই। চারপাশটা একটু পরই অন্ধকার হয়ে যাবে। গেটের সামনে দারোয়ান নেই, খেতে গিয়েছে। গেটের কাছাকাছি ছিল বলে ছেলেটাকে স্পষ্ট দেখতে পায় সাবিহা। ভালো করে ছেলেটাকে দেখতেই মুখে হাসি ফোটে সাবিহার। সবুজ চোখের সেই ভাইয়াটা। যে গতরাতে সাবিহাকে আইসক্রিম বক্স কিনে দিয়েছিল। ভাইয়াটার নাম জানে না সাবিহা, মুখ ও দেখেনি। তবে ওই সবুজ চোখ চিনতে ভুল করল না সে। ভাইয়ের কথার অবাধ্য হয়ে সে গেট খুলে বেরিয়ে এলো বাইরে। ছেলেটাকে দেখেই হাতের ইশারায় সাবিহা ডাকল,

“- সবুজ চোখের ভাইয়া, তুমি এখানে? আমাকে খুঁজছ”?

ছেলেটি কথা বলে না। চুপচাপ পকেটে দু হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে থাকে। সাবিহা এগিয়ে যেতেই সবুজ চোখের পুরুষটি পা বাড়িয়ে চলে যেতে নেয়। সাবিহা পিছন থেকে ডেকে ওঠে উচ্চস্বরে। তবুও দাঁড়ায় না ছেলেটা। সাবিহা পিছু পিছু ছুটে চলে, বারবার ডাকে লোকটাকে। লোকটার সাথে সাথে পা মেলায় সাবিহা। তাকে থামতে না দেখে রেগে দাঁড়িয়ে পড়ে সাবিহা। ওকে থামতে দেখে ছেলেটা থেমে পিছু ফেরে। মিনমিনে কণ্ঠে বলে,

“- এসো, আমাকে ধরো”।

বলেই দ্রুত হাঁটতে থাকে ছেলেটা। সাবিহা হেসে ওঠে। খেলায় অংশগ্রহণ করতে তার খুব ভালো লাগে। ভাইয়া তার সাথে খেলছে বুঝতে পারে সে। দৌড়ে ধরতে যায় সবুজ চোখের ছেলেটাকে। ছেলেটা হেলমেটের আড়ালে ক্রূর হাসে। তার হাঁটার ভঙ্গি পরিচিত মনে হয় সাবিহার। কিন্তু বুদ্ধি খাটায় না সে। ছুটে ধরতে চায় ছেলেটাকে। অনেকটা পথ আসার পর ছেলেটা থামে। বলে,

“- চলো পার্কে নিয়ে যাই। ওখানে অনেক বন্ধু আছে”।

সাবিহার দুর্বলতা এটা। ছোট বেলা থেকে একা একা মানুষ হয়েছে সে। বন্ধুবান্ধবরা তার সাথে মেশে না। সে অন্যান্য বাচ্চাদের চেয়ে আলাদা বলে সবাই তাকে করুণা করে, তবুও তার সাথে খেলে না। স্কুলে পড়তেও যায় না সে। বাড়িতে এসে এক আপু পড়িয়ে যায় তাকে। একা একা থাকতে সাবিহার মোটেই ভালো লাগে না। বন্ধু আছে শুনলেই সে গলে যায়। তার দূর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ছেলেটি সাবিহার হাত ধরে। নিয়ে যায় কোথাও। বোকা, বাচ্চা সাবিহা ছেলেটার মন পড়তে পারে না, ছল ধরতে পারে না। সে অবুঝের ন্যায় বড় টেডিবিয়ার টা আঁকড়ে ধরে হেলেদুলে চলতে থাকে সবুজ চোখের ভাইয়াটার সাথে। যাকে সে প্রচণ্ড ভরসা করে, বিশ্বাস করে।

পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে নিয়ে ছেলেটা আসে সাবিহাকে। বাড়িটা ভয়ঙ্কর। জমিদার বাড়ির মতো। আশপাশে জঙ্গল, ঝোপঝাড়। জায়গাটা শহরের বাইরে বোধহয়। সবুজ চোখের ছেলেটা সাবিহাকে নিয়ে একটি ঘরে ঢুকে খিল আটকে দেয়। তখনও সাবিহা বোঝেনি সামনের মানুষটি রাক্ষস। তার ছল বড়ই নোংরা। দরজার খিল আটকে ছেলেটি এসে দাঁড়ায় সাবিহার সামনে। মেয়েটির গায়ে থাকা সুতির, পাতলা ফ্রকটার হাতা টেনে নিচে নামায়। উন্মুক্ত করে মেয়েটির কাঁধ। সাবিহা কিছুটা ভড়কে যায়। ব্যাড টাচ সম্পর্কে আপু তাকে শিখিয়েছে। সে ধরতে পারে সামনের ছেলেটির মতলব। সাথে সাথে ধমকে ওঠে মেয়েটা,

“- তুমি এমন করছো কেন”?

সাথে সাথে ছেলেটি আঁকড়ে ধরে সাবিহাকে। সাবিহার কাঁধ জোড়া উন্মুক্ত করে। অধৈর্য হয়ে টেনে ছিঁড়ে ফেলে সাবিহার পরনের কাপড়। চমকে ওঠে মেয়েটা। ভয়াতুর কণ্ঠে বলে,

“- তুমি এমন করো না। আমার ভয় করছে”।

ছেলেটি শোনে না। সাবিহার বক্ষ উন্মুক্ত করে সেথায় কামড় বসায় ছেলেটা। ব্যথায় চিৎকার করে ওঠে সাবিহা। প্রচণ্ড চেঁচিয়ে কাঁদতে আরম্ভ করে সে। হাত-পা ছোঁড়াছুড়ি করতে করতে বলে,

“- ব্যথা দিও না ভাইয়া, তুমি এমন করছো কেন? আমি তো তোমার বোন”।

ছেলেটি শোনে না সাবিহার করুণ আর্তনাদ। সাবিহাকে মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলে মেঝেতে। ব্যথায় কুঁকড়ে ওঠে মেয়েটা। টেডিবিয়ার পড়ে যায় অদূরে। হিংস্র হয়ে ওঠে ছেলেটা। কোমল ত্বকের, সুন্দরী মেয়েটাকে দেখে জিভে জল আসে ছেলেটার। হিংস্র ভঙ্গিতে সাবিহার পাজামা খুলে ফেলে সে। নিজের পরনের কাপড় টাও খুলে ফেলে। আঁকড়ে ধরে সাবিহাকে, একের পর এক কামড় বসায় মেয়েটির গায়ে। ক্ষুধার্ত বাঘের ন্যায় হামলে পড়ে মেয়েটার নাজুক দেহে। কামড়ে, আঁচড়ে ক্ষত বিক্ষত করে নাজুক দেহটা। এক নাগারে কাঁদে সাবিহা। চোখ বেয়ে অঝরে পানি গড়ায়। তার কান্না ছেলেটির হুঁশ ফেরায় না। কামুক হয়ে মেয়েটির শরীর খুবলে খেতে ব্যস্ত হয়ে পরে। সাবিহা অজ্ঞান হলেও ছাড় দেয় না একটুও। নিজের খায়েশ মিটিয়ে তবেই ছেলেটা ক্ষান্ত হয়।

চলবে?
লেখনীতেঃ #বৃষ্টি_শেখ

[নোটঃ রি-চেইক দিইনি। মন্তব্য জানাবেন]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply