এক শ্রাবণ মেঘের দিনে পর্ব ৩০+৩১
একশ্রাবণমেঘের_দিনে
neela_rahman
পর্ব ৩০
শ্রাবণ মেঘলার চোয়াল ধরে রাখা হাত টি ধীরে ধীরে হালকা করে দিল ।ধীরে ধীরে ছেড়ে দিল ছেড়ে দিয়েও মেঘলা কে বের হতে দিল না ।বললো,” কে বলেছে বল?”
মেঘলা বললো,” ছাড়ুন যেতে দিন আমাকে ।আমি আর কোন কথা শুনতে চাই না।”
কাঁদো কাঁদো হয়ে গেছে মেঘলা।সবাই কেন ওকে কথা শোনাবে ?কেউ বলবে শ্রাবণের কাছে যাবি না কেউ বলবে রনির কাছে যাবি না আরেকজন আবার বারবার শ্রাবণ এর কাছে পাঠাবে আর শ্রাবণ এরকম জোরজবরদস্তি করবে।
কাঁদো কাঁদো চেহারা দেখে শ্রাবণের মায়া হল ।ভীষণ মায়া হল ।এ বার কণ্ঠ নরম করে খাদে নামিয়ে এনে বললো,” কে কি বলেছে বল ?আমি কখনো বলেছি আমার থেকে দূরে থাকতে?”
মেঘলা তাকালো শ্রাবণের দিকে ।কিন্তু মুখে কোন কথাই বলল না ।কথা বলবে না কোন কথার উত্তর দিবে না মেঘলা ।মনে মনে ঠিক করলো।
শ্রাবণ আবারো বললো,” কথার উত্তর দিচ্ছিস না কেন ?এমনি তো অনেক মুখে মুখে তর্ক করিস এখন?”
মেঘলা বললো,” মুখে মুখে তর্ক করি মানে ?কখন করেছি ?আপনার সাথে কথা বলা কি আপনার কাছে তর্ক মনে হয়?
তাহলে মুখে মুখে কথা পছন্দ না তো কি পছন্দ আপনার ?মুখে মুখে আপনি কি কোন ভাবে?”মেঘলা আর বলতে পারলো না।
শ্রাবণ বললো,” এক মিনিট মুখে মুখে কি পছন্দ আমার ?আমি কি করি মুখে মুখে ?একবারে চাপকে দাঁত ফেলে দিব বেয়াদব? কোত্থেকে আসে এই ধরনের বুদ্ধি মাথায় ?”
মেঘলা বললো,” আমি সব জানি ।আমেরিকা মানুষ কি করে না করে সবকিছুই জানি। ছেলে মেয়েরা কিভাবে মেলামেশা করে তাও জানি।”
শ্রাবণ অবাক হয়ে বললো,” তুই সব কিছু জানিস ?মানে কি জানিস তুই আমার সম্পর্কে ?কিভাবে চলাফেরা করেছি আমি ?”
মেঘলা বললো,” কেন আপনি বিয়ের আগে একজন মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে এসেছেন ?তাহলে সেই মেয়ের সাথে আপনার কেমন ধরনের সম্পর্ক ছিল সেটা নিশ্চয়ই আর বলার অপেক্ষা রাখে না?”
শ্রাবণ বলে ,”এক মিনিট এক মিনিট তুই কি আমার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন করছিস?”
মেঘলা বললো,” আমি কোন কিছু নিয়ে প্রশ্ন করছি না। প্রশ্ন তো আপনি আপনারা করছেন ।আপনি নিজে বিয়ের আগে একটা মেয়েকে নিয়ে ঢ্যাং ঢ্যাং করে বাড়িতে চলে এসেছেন ।খান বাড়ির ছেলে আপনি আপনার তাতে কোন সমস্যা নেই আর আমাকে ছোটবেলার বন্ধু আমার গালে একটু টাচ করেছে তাতে সমস্যা হয়ে গেছে?”
শ্রাবণ বললো,” আমি তানিয়াকে সাথে করে নিয়ে এসেছি কিন্তু তানিয়াকে গালে টাচ করে দেখেছি? দেখেছিস আমার সাথে ওর সাথে কোনভাবে টাচ করতে ওর কাছাকাছি ঘেষতে? আমি জানি আমার সীমা কতটুকু কতটুকু মধ্যে আমার থাকা উচিত সেটা আমি জানি।”
মেঘলা বললো,” টাচ করলে কি আমাকে দেখে দেখিয়ে করবেন?
আপনি একা একা কি করেন না করেন সেটা কি আমি দেখেছি ?আমেরিকা কি করেছেন না করেছেন সেটা কি কেউ দেখেছে?”
শ্রাবনের এবার চোয়াল শক্ত হলো ।এইটুকু এক রত্তি মেয়ে ও চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন করছে ?ও সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করছে ?তাই হিসহিস করে বললো,” এখন আমার রুম থেকে বের হয়ে যায় না হলে চাপকে দাঁতগুলো সব ফেলে দিব।”
মেঘলা আর এক মুহূর্ত দাঁড়ালো না ।সাথে সাথে বের হয়ে গেল ।শ্রাবণ চুপ চাপ নিজে চুল মুঠো ধরে বিছানায় বসে পড়ল ।কিছুক্ষণ রাগে ক্ষোভে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে বসে থাকলেও পরক্ষণে চিন্তা করল ,”মেঘলা ভুল তো কিছু বলেনি ।সবার চোখে তো ব্যাপারটা এরকমই।
কিন্তু শ্রাবণ কি করে বুঝাবে তানিয়া সাথে ওর কোন সম্পর্ক নেই ।জাস্ট বন্ধুত্ব ।তানিয়া ওকে বিয়ে প্রস্তাব দেওয়ায় ও শুধু বলেছে বাড়িতে রাজি হলে বিয়ে হবে আর তাছাড়া তানিয়ার এই মুহূর্তে যাওয়ার জায়গা ছিল না ।বন্ধুত্বের খাতিরে বাড়িতে আসতে বলেছে। বাহ্যিক দিক থেকে দেখলে বুঝা যায় আসলে তানিয়াকে ও বিয়ের জন্য সাথে করে নিয়ে এসেছে ।”
তাই নিজের উপর নিজেরই রাগ হতে লাগলো শ্রাবণের।
পরদিন সকালে সবাই যাওয়ার জন্য রেডি ।আজ ঢাকায় উদ্দেশ্যে ব্যাক করবে ।রনি এসেছে সাথে এসেছে রাহা। সবাইকে বিদায় দেওয়ার জন্য ।রনি এবং রাহার মন খারাপ দেখেই বুঝা যাচ্ছে।
গতকাল রাত থেকে লামিয়া একবারও সিয়ামের মুখোমুখি হয়নি এমনকি কাছে যায়নি পর্যন্ত ।সিয়াম কয়েকবার আর চোখে এদিক ওদিক তাকিয়েছে কিন্তু লামিয়াকে আশেপাশে কোথাও পাইনি।
রাহা সিয়ামের কাছাকাছি এসে বললো,” ভালো থাকবেন আর আমি পরীক্ষা শেষেই ঢাকা আসবো ।আপনাদের সাথে দেখা করব।”
সিয়াম ভদ্রতা সূচক বললো,” হ্যাঁ অবশ্যই ঢাকা আসলে বাড়িতে এসো।”
এদিকে রনি বারবার এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে মেঘলা কে কোথাও দেখতে পারছে না হঠাৎ দেখতে পেল লামিয়ার মেঘলা একসাথে বের হচ্ছে।
তাই দৌড়ে মেঘলা দের কাছে গিয়ে বললো,” ভালোভাবে যেও কেমন ?আর ভালো থেকো ।এসএসসি পরীক্ষার পর আমি ঢাকা ভর্তি হব। আমরাও স্বপরিবারে ঢাকা চলে আসব ।খুব মজা হবে আমরা এক কলেজে পড়বো।”
কথাটা শুনে মেঘলা মুচকি হাসলো ।হেসেই আর চোখে তাকালো শ্রাবণের দিকে ।দেখল শ্রাবণ চুপচাপ এদিকেই তাকিয়ে আছে।
মনে মনে ভাবল আজ আবার না জানি কি কাহিনী করে এই ঢাকা আশা নিয়ে ।মেঘলা জীবনটাই এমন হয়ে গেছে মন্দিরের ঘন্টার মত ।যে কেউ এসে বাজিয়ে চলে যায়।
তানিয়া শ্রাবণের কাছে ঘেঁষে দাঁড়াতেই শ্রাবণের হঠাৎ টনক নড়লো। গতকালের কথা মনে পড়ে গেল ।সবাই কি মনে করে তানিয়া এবং শ্রাবণের সম্পর্ক নিয়ে ।তাই শ্রাবণ একটু দূরে গিয়ে দাঁড়ালো ।তানিয়া তাতে খুব আত্ম অহমিকায় লাগলো।
সাজ্জাদ খান শহিদুল খান জমির কাকাকে সব কিছু বুঝিয়ে দিয়ে বিসমিল্লাহ বললে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করলো।
দীর্ঘ ৬-৭ ঘন্টা জার্নি শেষে ঢাকা বাড়িতে পৌঁছাতেই সবাই একে একে ভেতরে যেতে লাগলো ।হঠাৎ তানিয়া শ্রাবণকে ডেকে বললো,” আগামীকাল বাবা আসবে ।”
শ্রাবণ অবাক হয়ে গেল ।আগামীকাল বাবা আসবে মানে ?মাত্রই তো ঢাকা ব্যাক করল ।এখনো তো কোনো কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো না।
শ্রাবণ বললো ,”মাত্র ঢাকা আসলাম পরিবারের সবার সাথে কথা বলতে হবে ।সবাইকে জানাতে হবে ।তুমি এত তাড়াহুড়া করছ কেন তানিয়া?”
তানিয়া বললো,” তাড়াহুড়া করছে মানে ?তুমি কি মনে করছো আমি তোমাকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছি ?”
শ্রাবণ মুখে কোন রাকঢাক না রেখে বললো,” আমার তো তাই মনে হচ্ছে ।মনে হচ্ছে তোমার ট্রেন ছুটে যাচ্ছে ।তাড়াতাড়ি তোমাকে এট এনি হাউ উঠতেই হবে ।কিসের এত তারা তানিয়া? এমন তো নয় তোমার সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক এমন তো নয় তোমাকে আমি বিয়ে করবো সে কথা দিয়ে নিয়ে এসেছি ?বলেছিলাম বাড়িতে চলো বাড়িতে তোমার বাবা আমার পরিবারের সাথে কথা বলবে যদি তারা রাজি হয় তাহলে বিয়ে হবে? আর তোমাকে আমি বিয়ের কথা দিয়ে নিশ্চয়ই বাড়িতে আনিনি ?তুমি তোমার বাড়িতে বাবা-মা নেই তাই বলেছিলে আমার বাড়িতে দু চারদিন থাকবে সেজন্য আমি তোমাকে থাকার জন্য বলেছি ।একবারও বলেছিলাম বিয়ের কথা?বাড়িতে একবারও পরিচয় করিয়েছি তুমি আমার হবু স্ত্রী আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই?”
তানিয়া অবাক হয়ে গেল কিন্তু কোন কথার প্রতি উত্তর করতে পারছে না ।কারণ শ্রাবণ যা বলছে তা সত্য সাবন তো ওকে কথা দেয়নি ।শুধু বলেছে ওর বাবা বিয়ের প্রস্তাব দিলে যদি শ্রাবণের পরিবার রাজি থাকে তাহলে শ্রাবণের বিয়ে করতে কোন সমস্যা নেই।
শ্রাবণ আবারো বললো,” দেখো তানিয়া বিয়েটা এত তাড়াহুড়া করে হয় না ।হবেও না ।আমি মাত্র ঢাকায় এসেছি ।আমার পরিবারের সাথে কথা বলব তাদের কাছ থেকে শুনবো ।তাদের কি মতামত শুনে তারপর আমি তোমার বাবার সাথে কথা বলব।
আমি তোমাকে এটাও বলেছিলাম আমার বাবার কিছু প্রয়োজনীয় কাজ আছে যা এখনো শেষ হয়নি ।তার আগে বাবা কোন অনুষ্ঠান করতে পারবে না।”
বলেই শ্রাবণ বাড়ির ভিতরে ঢুকে গেল ।শ্রাবণের আজ মেজাজ খুব গরম ।আর রাগ ঢাক রাখতে পারছে না ।বড্ড বেশি বাড়াবাড়ি করছে তানিয়া ।এমন তো নয় ভালোবেসে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওকে নিয়ে এসেছিল।
ওই পুচকি একরত্তি মেয়ে যখন ওকে নিয়ে তানিয়াকে নিয়ে এসব কথা ভাবতে পারে তাহলে বাড়ির সবাই অথবা বাহিরে যে কেউ এসব ভাববে এই কথাটি কখনো মাথায় নেয়নি শ্রাবণ। তবে এখন ভেবে দেখল কথাগুলো আসলে মিথ্যা বা ভুল কিছু ছিল না ।শ্রাবণের তানিয়াকে এভাবে এখানে নিয়ে আসা ঠিক হয়নি।
তানিয়া চুপচাপ বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলো। তানিয়ার মনে সংশয় যদি আগামীকাল সবকিছু ঠিকঠাক না হয় তাহলেই হয়তো শ্রাবনের সাথে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে ।কখনো কিছু ছিল না তারপরও শেষ আশা টুকু শেষ হয়ে যাবে।
না শেষ হতে দেওয়া যাবে না ।এমন কিছু একটা করতে হবে যাতে সবাই ভাবতে বাধ্য হয় ওদের সাথে ভালোবাসা সম্পর্ক আছে তাই যেনো সবাই খুশি খুশি রাজি হয়ে যায়।
রাত বাজে ৯ টা ।মেঘলা খাবারের জন্য নিচে যাচ্ছিল হঠাৎ করে দেখলো শ্রাবণের দরজা ফাঁকা ।তাই কেন যেন অবচেতন মনে হালকা একটু উঁকি মারলো ।উঁকি মেরেই দেখল শ্রাবণ হাফপ্যান্ট পড়ে খালি গায়ে কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছে।
মেঘলা হা হয়ে তাকিয়ে রইল ।স্থান কাল পাত্র সবকিছুই ভুলে গেল ভুলে গেল ।শ্রাবণ ওর বড় চাচাতো ভাই তাও ভুলে গেলো।ও বড় চাচাতো ভাইকে এভাবে হা হয়ে দেখছে আর মনে মনে ভাবছে একটা পুরুষ মানুষ এত সুন্দর কি করে হয়?
কথা বলতে বলতেই হঠাৎ মেঘলা অনুভব করল শ্রাবণ একদম ওর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে ।শ্রাবণের কানে এখনো হেডফোন হয়তো কারো সাথে কথা বলছিল বা ফোন কেটে দিয়েছে ।শ্রাবণ ভ্রু জোড়া নাচিয়ে জিজ্ঞেস করল এখানে কি ?মেঘলা কিছু বুঝে উঠতে পারলো না মেঘলা ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করল কি?
শ্রাবণ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,” এখানে কি করছিস ?এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন ?দরজায় আড়ি পেতে তুই কি কোন ভাবে আমার কথা শোনার চেষ্টা করছিলি?”
শ্রাবণকে এত কাছাকাছি দেখে মেঘলা ঘোর এখনো কাটেনি ।মেঘলা এখনো সে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়েই আছে, ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বললো,” কথা ?কিসের কথা ?আমি তো আপনাকে দেখছিলাম আপনার পুরো শরীরকে দেখছিলাম।”
শ্রাবণ অবাক হয়ে গেল মেঘলার কথা শুনে ।সাথে সাথে নিজের দিকে তাকালো ।দেখলেও ছোট্ট একটা হাফপ্যান্ট পরা কালো রঙের গায়ে আর কিছু নেই।
মেঘলা দৃষ্টি নিজের শরীরের উপর এভাবে পড়তে দেখে শুকনো ঢোক গিলল শ্রাবণ ।তারপর বললো কোন মতে আমতা আমতা করে ,”এক্ষুনি আমার রুমে সামনে থেকে যা। তোর দৃষ্টি এত খারাপ কবে থেকে হয়েছে?”
মেঘলার ঘোর কাটলো । মেঘলা সাথে সাথে আশেপাশে তাকিয়ে দেখল শ্রাবণের রুমের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আর শ্রাবণ ভাইয়ের এই অবস্থা ।সাথে সাথে মেঘলা দুই কদম পিছিয়ে গিয়ে বললো,” আপনি এভাবে খালি গায়ে কেন ঘুরে বেড়াচ্ছেন ?ছোট্ট একটা লেংটি পড়ে? এ বাড়িতে মেয়েরা থাকে সেইভাবে আপনার চলাফেরা করা উচিত ।যখন তখন যেখানে সেখানে খালি গায়ে পা দুটো বের করে আপনি লেংটি একটা হাফপ্যান্ট পড়ে ঘুরতে বের হয়ে যান ।এটা ঠিক না।”
বলেই সাথে সাথে দৌড় লাগালো সিঁড়ির কাছে।
শ্রাবণ হা হয়ে তাকিয়ে রইলো মেঘলা যাওয়ার পানে ।অবিশ্বাস্যভাবে ভাবতে লাগলো এতটা দুঃসাহস সেই মেয়ের ওকে কি বলে গেল সেংটি পড়ে দাঁড়িয়ে আছে ?ফোনের অপর পাশে বন্ধু হা হা করে হেসে উঠলে । বললো,” তুই এই ছোট্ট মেয়েটার সাথে পারিস না ?তোকে যাতা শুনিয়ে গেল তবে কথাটা তো ঠিক ।বাড়িতে মেয়ে মানুষ আছে তুই এভাবে লেংটি পরে কেন ঘুরিস?”
“চুপ কর ।কোথায় ঘুরেছি আমি ?আমার রুমে ছিলাম এই মেয়ে দরজা ফাঁক করে আমার রুমের দিকে আমার দিকে কুদৃষ্টি দিয়েছে। আর এক রত্তি ভেবে আমিও ভুল করেছিলাম এখন দেখি একরত্তি মেয়ে আমাকে ঘোল খাওয়াচ্ছে।এই মেয়ের কথা শুনলে বাঘে মহিষে এখন ঘাটে জল খাবে।”
চলবে__
একশ্রাবণমেঘের_দিনে
neela_rahman পর্ব ৩১
তানিয়া সন্ধ্যায় বাসায় ঢোকার পর থেকেই ভাবছে এমন কি করা যায় যাতে সাপও মরবে লাঠিও ভা*ঙবে না ।পরিবারের কাউকে যেহেতু শ্রাবণ কিছু বলছে না তাই ও যদি কোন ভাবে মিথ্যা হলেও জানিয়ে দেয় শ্রাবণ আর ওর গভীর সম্পর্ক এবং শ্রাবণ ওকে বিয়ে করতে চায় তাহলে হয়তো পরিবারের লোক নিজেরাই ওর বাবার সাথে কথা বলবে।
তাই মনে মনে ভাবলো বাড়ির দুইজন মানুষ যারা এ ব্যাপারে ওকে সবচাইতে সাহায্য করতে পারে তা হচ্ছে আসমা বেগম এবং সাবিহা সুলতানা ।এই দুজন মানুষ যদি কোনো ভাবে কথাটি শুনে ফেলে এবং তাদের স্বামীদের কান পর্যন্ত পৌঁছে দেয় তাহলে হয়তো আর শ্রাবণের মুখ ফুটে বলা লাগবে না ।আগামীকাল তানিয়ার বাবা এলে তারা বিয়ের কথাবার্তা এগিয়ে ফেলবে।
তাই যেই ভাবা সেই কাজ।যখনই দেখলো তানিয়া সাবিহা সুলতানা এবং আসমা বেগম রান্নাঘর থেকে সিঁড়ি বেয়ে উপরের দিকে আসছে অমনি ফোন হাতে নিয়ে মিথ্যা অভিনয় করে কথা বলার ভঙ্গিতে বলতে লাগলো,”বাবা?কাল বিয়ের কথা বলতে আসছো তো? শ্রাবণ বারবার বলছে তোমাকে এসে প্রস্তাব দিতে।ও নাকি সবাই কে বলতে লজ্জা পাচ্ছে। তিন বছরের সম্পর্ক আমাদের আমরা একসাথে আমেরিকা ছিলাম অথচ দেখো এখানে এসে ও বলতে লজ্জা পাচ্ছে ।আমাকে এনে শুধু শুধু বাসায় বসিয়ে রেখেছে। তবে আমি দিনের পর দিন বিয়ে ছাড়াই যদি এ বাড়িতে পড়ে থাকি আশেপাশে মানুষ সমাজ কি বলবে আমাকে বলো ?তুমি আগামীকালকে এসো তো পাপা ! এসে সবার সাথে কথা বল।”
আসমা বেগম ও সাবিহা সুলতানা থমকে দাঁড়ালেন।কি শুনলেন মাত্র। সাবিহা সুলতানা অবাক চোখে তাকালো আসমা বেগমের দিকে। তিন বছর ধরে সম্পর্ক ! আমেরিকা একসাথে থেকেছে ! হ্যাঁ হবে হয়তো ! বাংলাদেশেও যেহেতু নিজের বাড়িতে নিয়ে এসেছে । সাবিহা সুলতানা আর কিছু ভাবতে পারছে না ।এইরকমটা করবে শ্রাবণ তাও নিজের চাচাতো বোনের সাথে ?বিয়ে করবে করুক সমস্যা নেই কিন্তু আইনত এখনো মেঘলার স্বামী ও।ডিভোর্স না দিয়েই বিয়ে-শাদী ঠিক করে ফেলেছে ?এমন কি তিন বছর ধরে এত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক যে বিয়ে ছাড়াই বাড়িতে নিয়ে এসেছে !সাবিহা সুলতানা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন আসমা বেগমের দিকে।যেনো বলতে চাচ্ছেন তালাক তো এখনো হয়নি । যেন এই দৃষ্টিতে কত অভিযোগ কত অভিমান জমা হয়েছে এই মুহূর্তে ।ঠিক কতটা ক্ষোভ জমা হচ্ছে শ্রাবণের প্রতি।
সাবিহা সুলতানা আর এক মুহূর্ত দাঁড়ালেন না ।সাথে সাথে দরজার কাছ থেকে চলে গেলেন নিজের রুমে ।আসমা বেগম ও আর দাঁড়ালেন না ।পা চলছে না তবু পা টেনে টেনে নিজের রুম পর্যন্ত গেলেন। মনকে সান্ত্বনা দিতে পারছেন না আসমা বেগম ।কোনদিকে কমতি পড়ে গিয়েছিল শ্রাবণের লালন পালন এ?কিভাবে ছেলের এইরকম উগ্র মণ মানসিকতা হলো ?আমেরিকায় গেলে বুঝে নিজে সংস্কার সংস্কৃতি সব ভুলে যায় ?কিভাবে বিয়ে ছাড়া ওর সাথে এত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হল যে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে আসলো? বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও স্ত্রী আছে জানা সত্ত্বেও এইরকম একটি পাপাচার করেছে লজ্জা হচ্ছে নিজের ছেলে হিসেবে পরিচয় দিতে।
তানিয়া ফোন কান থেকে নামালো তানিয়া জানে অন্যায় করেছে ভুল করেছে মিথ্যা তথ্য মিথ্যা গুজব রটিয়ে দিয়েছে কিন্তু এছাড়া আর তানিয়ার কোন উপায় নেই। তিন বছর ধরে পা*গলের মত ভালবাসে শ্রাবণকে ।শ্রাবণকে এত সহজে হাতছাড়া হতে দিবে না ।এখন ওর পরিবার সম্পর্কে এই কয়দিন থেকে যা বুঝতে পেরেছে নিজেরাই বিয়ে করিয়ে দিবে।
[কিন্তু বেখেয়াল তানিয়া জানেনা শ্রাবণ আগে থেকেই বিবাহিত]
রাতে শহিদুল খান সাজ্জাদ খান আসতে আসতে দশটা বেজে গিয়েছে ।আজকে তাই কেউ তাড়াহুড়া করে খেতে বসেনি ।তাদের জন্য অপেক্ষা করেছে ।সবাই ডাইনিং টেবিলে একসাথে বসেছে শাবিহা সুলতানা আজ উপর থেকে নামে নি। আসমা বেগম নেমেছে তবে চেহারা দেখে বোঝা যাচ্ছে কিছু একটা হয়েছে ।শহিদুল খান বিচক্ষণ লোক স্ত্রীর দিকে তাকালেন। তাকিয়ে বুঝলেন কিছু একটা হয়েছে তাই জিজ্ঞেস করলেন,” সাবিহা কোথায় ও খাবেনা ?”
আসমা বেগম বললেন ,”খাবে হয়তো ।আমরা দুজন পরে খাবো ।আপনারা খেয়ে নিন ।”
সাজ্জাদ খান বুঝতে পারছে না সাবিহা কেন নামেনি ।ওনারা দুই ভাই এসে উপরে না গিয়ে হাত মুখ ধুয়ে খেতে বসে গিয়েছিল ভাবছিল সবাই অপেক্ষা করছে তাই।”
সবাই কেউ কিছু বুঝতে পারল না চুপচাপ খেয়ে যার যার রুমে চলে গেল । তানিয়া চুপচাপ যেনো ভাজা মাছটা ও উল্টে খেতে জানে না।আসমা বেগম শহিদুল খানের দিকে তাকিয়ে বললেন ,”আপনি রুমে যান আমি আসছি আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে।”
সাজ্জাদ খান কিছুক্ষণ আগে উপরে চলে গিয়েছেন ।রুমে এসে বসতেই সাবিহা সুলতানা সাজ্জাদ খানের পাশে বসে সাথে সাথে বললেন ,”মেঘলার বিয়ের জন্য আয়োজন কর। আমি চাই শ্রাবণের আগে মেঘলার বিয়ে হোক ।তারপর নিজের চোখে মেঘলার বিয়ে হতে দেখুক। আমার মেয়ে শ্রাবনের বিয়ে দেখবে না শ্রাবণ আমার মেয়ের বিয়ে দেখবে ।”
সাজ্জাদ খান কিছুই জানে না কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না ।তবে এতোটুকু বুঝতে পারছে মেঘলা শ্রাবণের বিয়ে কেন্দ্রিক কিছু একটা হয়েছে। অবাক হয়ে সাবিহা সুলতানা দিকে তাকিয়ে বললেন,”সাবিহা কি হয়েছে আমাকে খুলে বল ?”
সাবিহা সুলতানা কান্না করে দিলেন ।বললেন ,”শ্রাবণ শ্রাবণ তিন বছর ধরে তানিয়ার সাথে আমেরিকায় একসাথে থাকছে ।ওদের দুজনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এমন কি বিয়ের কথা বলে এখানে নিয়ে এসেছে। আপনি ভাবতে পারছেন আমার মেয়েকে বিয়ে করে রেখে গিয়ে সেই অবস্থায় তালাক না দিয়ে সে আরেকটি সম্পর্কে জড়িয়েছে ?এটাকে পরকীয়া বলে ।ও পরকীয়া করেছে ।সেই প্রেমিকাকে আমাদের চোখে সামনে আমাদের নাকের ডগার সামনে ঘুরাচ্ছে আর আমরা কিছুই বলতে পারছি না ।কেন এতটা কোথায় আটকে গিয়েছি ?মেয়ের মা বলে মেয়ের বাবা বলে ?আমার মেয়ের বিয়ে এই বাড়ি থেকে ধুমধাম করে হবে। শ্রাবণের চোখের সামনে আমার মেয়ের বিয়ে হবে ।আমার মেয়ে কখনো শ্রাবণের বিদায় দেখবে না শ্রাবণ আমার মেয়ের বিদায় দেখবে ।এবং হাসিখুশি ওর থেকে ভাল দেখে ছেলে দেখে আমার মেয়েকে বিয়ে দিবেন।”
সাজ্জাদ খান জানে সাবিহা সুলতানা এই মুহূর্তে যা বলছে রাগের মাথায় বলছে ।এত ছোট্ট মেয়েকে কি করে বিয়ে দিবে ?যদিও ছয় বছর আগে দিয়েছিল ১০ বছরের মেয়েকে বিয়ে সেটা অন্য হিসাব ছিল ।তবে এখন মেঘলা জানি বিয়ে কি ? তাই এত ছোট বয়সে বিয়ে দিবে না ।মেয়েকে লেখাপড়া করাবে স্বাবলম্বী করাবে।কখনো যেন কারো দ্বারস্থ না হতে হয় ।কিন্তু সাবিহা সুলতানাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বললো,” শ্রাবণ যদি এটা করে থাকে অন্যায় করেছে তার শাস্তিও পাবে ।কিন্তু তার শাস্তি আমরা আমার মেয়েকে কেন দিব ?এই অল্প বয়সে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে সংসারের হাল ওর কাঁধে ঝুলিয়ে দিব ?এটা বলতে চাচ্ছ তুমি ?তুমি কি চাও না তোমার মেয়ে বড় হোক শিক্ষিত হোক ভালো কোন পজিশনে যাক? যাতে আর দ্বিতীয় কোনো শ্রাবণ তোমার মেয়েকে উপেক্ষা করতে না পারে ?ছোট বলে উপেক্ষা করতে না পারে ?অশিক্ষিত বলে উপেক্ষা করতে না পারে ?তুমি চাও না তোমার মেয়ের যোগ্য হোক দশ জনের মধ্যে একজন হোক?”
সাবিহা সুলতানা এবার বুঝতে পারলেন রাগের বশে ঝুকের মাথায় উনি কি কি বলে ফেলেছেন ।মেয়েটা মাত্রই তো ১৬ শেষ হলো ।এত ছোট মেয়েকে বিয়ে দিয়ে সংসারের ঘানি টানাবে শ্রাবণের সাথে রাগ করে ?না মেঘলাকে অবশ্যই যোগ্য হতে হবে ।স্বাবলম্বী হতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ কোনদিন মেঘলা কে উপেক্ষা করতে না পারে ।তাই চোখে পানি মুছে বললো,” ভুল হয়ে গেছে আমার রাগের মাথায় কি বলেছি আমি জানিনা ।তবে আমি চাই আমার মেয়ে যোগ্য হোক ।ওদের তাড়াতাড়ি তালাকের ব্যবস্থা করুন।যে ছেলে আমার মেয়ে থাকা অবস্থায় অন্য কোন নারীতে আসক্ত হয়ে যায় মেয়েকে ডিভোর্স না দিয়ে অন্য কোন নারীর সাথে পরক্রিয়া লিপ্ত হয়ে যায় সেই ধরনের ছেলের জন্য আমি আমার মেয়েকে কোনদিনও কোন আশায় রাখবো না।”
শহিদুল খান রুমে আসতেই আসমা বেগম বললেন ,”আপনি জানতেন তাইনা তানিয়া কে ?”শহিদুল খান ভাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন ।তবে লুকানোর চেষ্টা করলেন না ।আজকে না হলেও কালকে তো বলতেই হবে তাই বললেন,” হ্যাঁ শ্রাবণ আমাকে বলেছিল তানিয়াকে নিয়ে আসবে।”
আসমা বেগম তেতে উঠলেন ।বললেন ,”কেন আমাকে বললেন না ?আর এদিকে আমি মেঘলাকে শ্রাবণের বউ বানানোর জন্য যা যা করার দরকার তা সবকিছু করছি অথচ আপনি তানিয়ার কথা জেনে চুপ করে রইলেন ।আপনি জানেন আপনার ছেলে তিন বছর ধরে আমেরিকা ওর সাথে একসাথে থাকে ?এতটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ওদের ?কি করে পারলো নিজের স্ত্রী তাও নিজের আপন চাচাতো বোন একই বাড়িতে থাকা অবস্থায় ও আরেকটি মেয়ের সাথে এরকম অবৈধ সম্পর্ক করতে? মেঘলার কথা মনে না আসুক ওর কি আল্লাহর ভয় হয়নি ও পরকীয়া করছে ।জানে না এ ধরনের সম্পর্ক কে পরকীয়া বলে এই সমাজে?”
শহিদুল খান অবাক হয়ে গেলেন ।উনি জানতেন তানিয়া আসবে তবে তানিয়া সাথে প্রেমের কোন সম্পর্ক আছে বা একসাথে ওরা আমেরিকায় ছিল এরকম ধরনের কোন কথা শহিদুল খান জানে না ।শ্রাবণ অন্তত এটা বলেনি ।তাহলে এই কথা আসমা বেগম কোত্থেকে শুনলেন?
শ্রাবণ কি তবে মিথ্যা বলল ?শ্রাবন তো বলেছিল একটি মেয়ে ওকে পছন্দ করে বিয়ে করতে চায় ।তাই ওর বাবা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসলে তোমরা তোমাদের ভালো লাগলে বিয়ে করিও না হলে করিও না ।সম্পূর্ণই তোমাদের উপরে ।
হ্যাঁ এটা বলেছে মেঘলা কি ডিভোর্স দিবে। কারণ প্রথমত রাগ ছিল ওর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ওকে বিয়ে দেওয়া সেই রাগ সেই ক্ষোভ এত বছর পুষে রেখেছে শ্রাবণ। শ্রাবণ বলে নি তবে বুঝতে পারছিলেন শহীদুল খান।দ্বিতীয়ত ওর মনে হয়েছে মেঘলা ওর চাইতে অনেক ছোট ।আমেরিকার মত জায়গায় থেকে ওর মনে হয়েছে মেঘলা সাথে ওর আন্ডারস্ট্যান্ডিং হবে না।উনিতো ছেলের সব কথাই মেনে নিয়েছে ।তাহলে ছেলে মেঘলা সাথে ডিভোর্স না করে কি করে তানিয়া সাথে এ ধরনের সম্পর্কে জড়িয়ে গেল ?বা কি কারণে শ্রাবণ তাকে তথ্য গোপন করে এই পর্যন্ত নিয়ে আসলো?
আসমা বেগমের দিকে তাকিয়ে শহিদুল খান শুধু এতটুকুই বললেন ,”আমি শুধু জানি তানিয়ার বাবার সাথে আমরা কথা বলে যদি আমাদের ঠিক মনে হয় তাহলে আমরা বিয়ে করাবো না হলে করাবো না ।কিন্তু ওদের সাথে কোন সম্পর্ক আছে এই ব্যাপারে আমি জানিনা ।আর ওকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাড়িতে এনেছে তাও আমি জানিনা।”
আসমা বেগম বিছানায় বসে পড়লেন কাঁদতে কাঁদতে ।বললেন,” মেঘলা কে নিয়ে সেই আমি ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখছি ও আমার ছেলের বউ হবে ।আমি এবারও শ্রাবণ আসার পর বিভিন্ন ছলে বিভিন্ন অজুহাতে মেঘলা কে এর কাছে পাঠিয়েছি যাতে মেলাকে দেখলে অন্তত ওর ভুলটা বুঝতে পারে ।যদি জানতাম ও পরকীয়ায় লিপ্ত হয়েছে আমার ছেলে হলেও ওর মতো দুশ্চরিত্র একটা ছেলের কাছে কোনদিন আমি মেঘলা পাঠাতাম না।”
শহিদুল খান এবার ভিতরে ভিতরে অনেক অভিমান করলেন ছেলে প্রতি ।তানিয়া কথা বলতে যখন পেরেছে তাহলে সব সত্যিটা কেন বলেনি বা তিন বছর আগে সবকিছু খুলে কেন বলেনি ?তাহলে তিন বছর আগে ডিভোর্স করিয়ে দিত এতদূর পর্যন্ত এই পাপ টেনে নিয়ে আসতো না ।তাই উনি সাথে সাথে সিদ্ধান্ত নিলেন সকাল হলে শ্রাবণের সাথে এই বিষয়ে খোলাসা করে কথা বলবেন ।আর কোন লুকোচুরি করবেন না ।মেঘলা ও কোন ফেলনা মেয়ে নয় ।যদি ওর মনে হয় মেঘলা ওর উপযুক্ত না তাহলে মেঘলাকে এর থেকে ভালো ঘর দেখে বিয়ে দিবে।
চলবে__
Share On:
TAGS: এক শ্রাবণ মেঘের দিনে, নীলা রহমান
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৫+১৬
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ১০৬+১০৭+১০৮
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৫২
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ১৪১+১৪২
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৮২
-
এক শ্রাবণ মেঘের দিনে পর্ব ২৯
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৩৩+৩৪
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৬১
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ১১৪+১১৫
-
এক শ্রাবণ মেঘের দিনে পর্ব ১