এক টুকরো মেঘ
পর্বঃ০৫
লেখনিতেসোনালিকাআইজা
⛔কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ। চাইলে শেয়ার দিয়ে পাশে থাকতে পরেন।⛔
প্রেমের ধমক শুনে হকচকিয়ে গেলো মেঘা। দেহের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়লো একরাশ অভিমান। এমন অকারণ বকার কি মানে? দরকার ছাড়া তো আর ডাকেনি। তাছাড়া, আপনি বলে সম্বোধন না করে কি তুই তুকারি করবে? সেই শিক্ষা কি মেঘার বাবা মা ওকে দিয়েছে? এই পাগল লোকটাকে সেটা বোঝাবে কে? মেঘা মাথা নিচু করে বলল,
—“খুধা লেগেছে খুব। এটা বলতেই ডাকছিলাম।”
সঙ্গে সঙ্গে কঠিন চেহারা স্বাভাবিক হয়ে গেলো প্রেমের। রাগটাও যেনো সেকেন্ডের ব্যবধানে হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো। স্বচ্ছ দৃষ্টি জোড়া স্থির হলো। নির্মিশেষ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকা মেঘার দিকে। বেশ সময় নিয়ে ছোট্ট করে জবাব দিলো,
—“খাবার অর্ডার করে দিয়েছি। চলে আসবে একটু পরেই।”
—“আমি কিন্তু ওই নুডলস ফুডলস খাবো না।”
—“তো?”
—“ভাত চাই আমার। ঝালঝাল ভর্তা দিয়ে সাদা ভাত। যে কোনো ভর্তা হলেই চলবে।”
প্রেম ভ্রু কুঁচকে মেঘার দিকে এগিয়ে এলো দুকদম। মেঘা আবারও খানিকটা পিছিয়ে গেলো। দুই পকেটে হাত গুঁজে মাথা ঝুঁকিয়ে প্রেম বলল,
—“আমাকে দেখে সার্ভেন্ট মনে হয় তোর?”
মেঘা তৎক্ষনাৎ ডানে বামে মাথা নাড়িয়ে না বোঝালো। প্রেম ফের বলল,
—“বাচ্চা এডপ্ট নিয়েছি আমি? তুই হাত পা ছুড়ে যা খুশি আবদার করবি, আর আমি সেটা পূরণও করবো? জানিস না আমি কে? অতীত ভুলে গেছিস?”
মেঘা থমকে গেলো যেনো। সহসাই স্মৃতির কপাটে আঘাত করলো অতীতের কিছু তিক্ত স্মৃতি। বর্তমানের পাতা পেছনের দিকে উল্টে গিয়ে ঠেকলো আজ থেকে ঠিক আট বছর আগের একটা ঘটনায়। মেঘার বয়স তখন সবে নয়ের ঘর পেরিয়ে দশের কোটায় পা রেখেছে। চেহারাতে স্পষ্ট বাচ্চামোর ছাপ। স্বাস্থ্যবান দেহটা সর্বোক্ষন হাঁটু সমান ফ্রকে আবৃত থাকতো।
মেঘাদের এক প্রতিবেশীর ছেলে ছিলো নেহাল। বয়সে আনুমানিক প্রেমের সমবয়সী হবে। ছোট্ট মেঘার সাথে প্রায়সই খেলা করতো সে। প্রেম, তার পরিবার সমেত তখন বাংলাদেশে এসেছিল লম্বা ছুটিতে। প্রেমের নানুও সে’বার প্রথম বাংলাদেশে এসেছিলেন।
একদিন মেঘা নেহালের সাথে খেলতে বাড়ি থেকে বেশ খানিকটা দূরে একটা মাঠে চলে যায়। কথা ছিলো সেখানে নেহালের বন্ধুরা মিলে ফুটবল খেলবে। মেঘাকেও খেলায় সাথে নিবে। খেলার লোভে মেঘাও ওর সাথে চলে যায়। বেশ অনেকটা পথ পেরিয়ে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত স্থানে পৌঁছায় দুজন। অনেকটা পথ হাঁটার ফলে ক্লান্ত মেঘা ঘাসের উপরই বসে পড়ে। ক্লান্ত কন্ঠে জানায়,
—“আমার পা ব্যথা হয়ে গেছে নেহাল ভাই।”
নেহাল ডানে বামে তাকায় একবার। সময়টা সন্ধ্যার পূর্ব লগ্ন। ধরনীতে সবে থোকায় থোকায় আধার নামতে শুরু করেছে। চারিদিকে মানুষের চিহ্ন মাত্র নেই। কিছু একটা ভেবে মেঘাকে সেখানেই শুইয়ে দেয় নেহাল। ওর ফ্রকের পেছনের চেইন খুলতে খুলতে বলে,
—“তুমি তাহলে এখানেই একটু বিশ্রাম করো। আমার বন্ধুরা এলে আমরা ফুটবল খেলবো।”
—“আমার চেইন কেনো খুলছেন?”
—“গরম লাগছে না তোমার? জামা খুলে ফেলো, আরাম পাবে।”
অবুঝ মেঘা নেহালের কথা মতো নির্দিধায় ফ্রকটা খুলে ফেলে। আচমকাই চোখ মুখের ধরন বদলে যায় নেহালের। মেঘার পুতুল সমতুল্য উন্মুক্ত শরীরে হাত বুলাতে বুলাতে বলে,
—“মেঘা, আমার বন্ধুরা আসার আগে চলো অন্য কিছু খেলি। খেলবে?”
মেঘা মাথা দুলালো। এক ঝলক হাসি দেখা গেলো নেহালের ঠোঁটের কোণে। সে ক্রুর হেসে নিজের প্যান্টের চেইনে হাত রাখতেই আচমকা সেখানে ভুতের মতো উদয় হলো প্রেম। এসেই কাউকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে এলোপাতাড়ি মারতে শুরু করলো নেহালকে। হঠাৎ আক্রমণে অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো নেহাল। পাল্টা আক্রমন বা আঘাত প্রতিহত করার সুযোগটাও পেলো না ছেলেটা। প্রেমের সাথে করে আনা মোটা গাছের ডালের আঘাতে নেহালের হাড়গোড় গুড়িয়ে গেলো যেনো। শরীরের চামড়া ফেটে রক্ত বেরিয়ে এলো। প্রেমের চেহারা সেদিন ছিলো মাত্রাতিরিক্ত কঠোর। আঘাত গুলো সহ্য করতে না পেরে মিনিটের মাথায় জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে ঢলে পড়েছিল নেহাল। সেদিন প্রেমের সেই ভয়ানক রুপ আত্মা বের করে দিয়েছিল ছোট্ট মেঘার।
প্রেমের নির্মমতা থেকে রেহাই পায়নি মেঘা নিজেও। শক্ত পোক্ত হাতে কষে এক থাপ্পড় মেরেছিল মেঘার নরম তুলতুলে গালে। থাপ্পড়ের তীব্রতা অত্যাধিক হওয়ায় সেদিন জায়গাতেই জ্ঞান হারিয়েছিল মেঘা। টানা এক সপ্তাহ কঠিন জ্বরে পুড়েছে ছোট্ট দেহটা। পুরো এক সপ্তাহ পর জ্বরের ঘোর থেকে ইহ জগতে ফিরতে পেরেছিল সে। তবে জ্ঞান ফেরার পরে সেখানে আর প্রেমকে পায়নি। কানে কানে খবর পেয়েছে, সেদিনই নাকি প্রেম নিজের ব্যাগপত্র নিয়ে সোজা কোরিয়ার পথে রওনা হয়েছে। তবে যাওয়ার আগে নিজের নানার সাথে একটা ঘরে প্রায় ঘন্টার বেশি সময় ধরে তর্ক বির্তক হয়েছে প্রেমের। দুই নানা নাতির মধ্যে সেদিন এতো লম্বা সময় ধরে কি কথা হয়েছে সেটা মেঘার ধারণার বাইরে। এমনকি, আজ পর্যন্তও জানতে পারেনি সেদিনের সব কথা। অবাক করা বিষয় হলো, সেদিনের পর থেকে নেহাল এবং তার পরিবারকেও আর দেখা যায়নি। যেনো রাতারাতি পুরো পরিবার অদৃশ্য কোনো শক্তিবলে গায়েব হয়ে গেছে।
মেঘার ভাবনায় ছেদ ঘটলো অচেনা একটা মেয়েলী কন্ঠের আওয়াজ শুনে। হুঁশ ফিরতেই হকচকিয়ে আশেপাশে তাকালো মেঘা। পুরো ঘরের কোথাও প্রেম নেই। বরং মেঘার সামনে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে লিজা। মেঘার নজর নিজের দিকে পড়তেই একগাল হেঁসে বললো,
—“নিচে চলো। খাবার চলে এসেছে।”
মেঘা উপর নিচ মাথা দুলিয়ে লিজার সাথে পা বাড়ালো। যেতে যেতে প্রশ্ন করলো,
—“আপনারা কি আমাকে আগে থেকেই চেনেন।”
—“হ্যা, চিনি তো।”
লিজার জবাব শুনে আশ্চর্য হয়ে গেলো মেঘা। অবাক সুরে বললো,
—“কিন্তু কিভাবে? আমি তো আজকেই প্রথম দেখছি আপনাদের।”
বিপরীতে লিজা কিছু বলবে তার আগেই নিচ থেকে হাঁক ছাড়লো এরিনা। আচমকা ডাকে আলোচনায় ব্যঘাত ঘটলো দুজনার। লিজা তড়িঘড়ি করে মেঘার হাত ধরে হাঁটা দিলো ডাইনিংয়ের দিকে।
–
হরেক রকম বিদেশি খাবারে টেবিল পুরো ভরে ফেলেছে প্রেম। এর মধ্যে বেশিরভাগ খাবারের নাম মেঘা জানে না। টেবিল জুড়ে ছড়িয়ে থাকা অর্ধসেদ্ধ মাংস আর নাম না জানা খাবারগুলো দেখে নাক সিটকালো মেঘা। নজর ঘুরাতে ঘুরাতে চোখ আটকালো কোরিয়ান চালের আঠালো ভাতের ওপর। মেঘা হতাশ হলো। নাক মুখ কুঁচকে প্রেমের পাশের চেয়ার টেনে বসলো। আঁড়চোখে একবার তাকিয়ে দেখলো লোকটা বেশ আয়েশ করে ঘাসপাতা চিবুচ্ছে। একদিকে খাচ্ছে, অন্য দিকে কোনো একটা টুর্নামেন্ট নিয়ে আলোচনা করছে। আলোচনার এক পর্যায়ে প্রেম বলে উঠলো,
—“লিও আসবে কবে?”
—“আজকেই ফেরার কথা।”
প্রেমের প্রশ্নের বিপরীতে তৎক্ষনাৎ জবাব দিলো রিক। প্রেম কাটা চামচের মাথায় আবারও কিছু সালাদের অংশ গেঁথে নিয়ে মুখে পুরে বলল,
—“টুর্নামেন্টের ডেট ফিক্সড হয়েছে?”
—“হ্যা, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ।”
—“প্র্যাকটিস শুরু করে দে। আর লিওকে বলে দিস আসার সময় যেনো কিটিকে নিয়ে আসে।”
—“প্র্যাকটিস কি এবার তোর বাড়িতে হবে না?”
আলোচনার এই পর্যায়ে প্রেম একটু থেমে গেলো। আঁড়চোখে একবার তাকালো পাশে বসা মেঘার দিকে। যে বিরস মুখে আঠালো ভাত চিবুচ্ছে আর সবার কথা শুনছে। এক পলক মেঘাকে দেখে সাথে সাথে চোখ সরিয়ে নিলো প্রেম। গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,
—“এখানে আমি কোনো রকম গ্যাদারিং চাই না। আমি রিস্ক নিতে রাজি নই।”
—“তুই আমাদের অবিশ্বাস করিস বন্ধু?”
প্রেমের কথায় বিপরীতে অবাক কন্ঠে প্রশ্নটা করলো শান্ত। ক্ষনে ক্ষনে প্রেমের এই রঙ পরিবর্তন ওদের বেশ অবাক করে দিচ্ছে। সেই অবাকের রেশ বাড়িয়ে দিতে প্রেম কাঠকাঠ কন্ঠে জবাব দিলো,
—“এই একটা জায়গায় নো বিশ্বাস, নো কম্প্রোমাইস এন্ড নো রিস্ক শান্ত।”
—“একটু বিশ্বাস রাখ ভাই। তোর ফুলের পাপড়িও আমরা ছুয়ে দেখবো না। দরকার পড়লে এই ঠান্ডায় পুরো রাত ছাঁদে বসে প্র্যাকটিস করবো। প্রয়োজনে জমে আইসক্রিম হয়ে যাবো। তবুও এখানে থাকতে দে। তোর বাড়ি ছাড়া খেলায় মজা পাই না।”
প্রেম কোনো জবাব দিলো না। নিঃশব্দেই যেনো পুরোপুরি ইগনোর করলো শান্তকে। ওদের কথোপকথন সব যেনো মাথার ওপর দিয়ে গেলো মেঘার। বোঝার জন্য বেশ আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন করলো,
—“আপনি কি করেন প্রেম ভাই? মানে, আপনার পেশা কি?”
—“বেকার।”
প্রেমের তৎক্ষনাৎ জবাব শুনে হকচকিয়ে গেলো মেঘা। থতমত খেয়ে বলল,
—“মানে?”
—“বেকার মানে বেকার। জব লেস। খাই, দাই আর ঘুমাই।”
—“তারমানে আপনি কিছুই করেন না।”
—“কখন বললাম কিছু করি না?”
—“এই যে বললেন, খান, দান আর ঘুমান।”
—“তো খাওয়া ঘুম এগুলো কি কাজ নয়?”
প্রেমের ত্যাড়া জবাব শুনে নাক মুখ কুঁচকে ফেললো মেঘা। বিরক্তিতে মুখটা ঘুরিয়ে নিলো অন্য দিকে। এই ত্যাড়া মানুষের সাথে কেউ কথা বলে? কথা বলার রুচিই চলে গেছে মেয়েটার। বিরস মুখে পাশে তাকাতেই মেঘা দেখলো এরিনা আর লিজা ঠোঁট টিপে হাসছে। ওদের হাসতে দেখে হতাশ চোখে চাইলো মেঘা। এরিনা কোনোমতে হাসি থামিয়ে এগিয়ে এলো মেঘার দিকে। ফিসফিস করে বলল,
—“তুমি এই পাগলের কথা একদম বিশ্বাস করো না মেঘা। মিথ্যা বলছে প্রেম। এখানে উপস্থিত আমরা সবাই ই-স্পোর্টস প্লেয়ার। প্রেমের নানা ভাইয়ের গেমিং কোম্পানি আছে কোরিয়াতে। আমরা সেই কোম্পানিরই প্লেয়ার। আমাদের টিমের নাম “এথার ক্রাউন”। আমি, রিক, লিজা, শান্ত এবং প্রেম মিলে পাঁচজনের টিম আমাদের। সামনে আমাদের ন্যাশনাল টুর্নামেন্ট। সেটা নিয়েই আলোচনা হচ্ছে।”
এরিনার লম্বা বক্তব্য বেশ মনোযোগ দিয়ে শুনলো মেঘা। যদিও ওর কথার আগামাথা কিছুই বুঝতে পারলো না। এসব ই-স্পোর্টসের বিষয়ে মেঘার জ্ঞান শূন্য। একেবারেই শূন্য। শুধু এটুকু বুঝলো ওরা পাঁচজন একটা টিমের গেমিং পার্টনার। প্রেমের নানার কোম্পানির হয়ে গেইম খেলে। কিন্তু চাকরি বাকরি রেখে এসব গেইম খেলে কি লাভ হয়? কথাটা মাথায় ঢুকলো না মেঘার।
এরই মাঝে সবার খাওয়া শেষ। নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে ছাঁদের দিকে পা বাড়ালো প্রেম। বাকি আলোচনা ছাঁদে বসে সেরে নেবে। তবে যাওয়ার আগে মেঘাকে হুকুম দিয়ে গেলো,
—“টেবিল পরিস্কার করে প্লেট বাটি ধুয়ে রাখিস।”
প্রেমের হুকুম শুনে এক ধাপ রাগ উঠে গেলো মেঘার। এভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বলার কি আছে? মেঘা কোমরে হাত রেখে বলল,
—“কেনো? আমি এগুলো করবো কেনো?”
—“বিন বুলায়ে মেহমানের মতো ঘাড়ে এসে চেপেছিস। বিনিময়ে একটু তো কাজ কর। সার্ভেন্ট নেই এই বাড়িতে। যতদিন এখানে আছিস, ঘরের কাজগুলো সব তোর দায়িত্ব।”
অপমানটা বেশ ভালোই গায়ে বিধলো মেঘার। রাগটা হুট করেই তরতরিয়ে বেড়ে গেলো। সবসময় সব জায়গায় অপমান আর মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। রাগে দুঃখে মেঘা হনহনিয়ে চলে গেলো নিজের জন্য বরাদ্দকৃত ঘরে।
মেঘা দোতলায় গিয়ে ঘরের দড়জা না আটকানো পর্যন্ত সেভাবেই দাঁড়িয়ে রইলো প্রেম। স্বচ্ছ দৃষ্টি জোড়া চম্বুকের মতো আটকে রইলো মেঘার ঘরের দড়জায়। ঠিক এমন সময় প্রেমের কাঁধে আলতো করে হাত রাখলো রিক। ধীর কন্ঠে প্রশ্ন করলো,
—“মেয়েটার সাথে এতো খারাপ বিহেব করছিস কেনো?”
—“ওর অপরাধের সীমা নেই তাই।”
—“কি করেছে ও?
—“অনেক কিছু করেছে। ওর কারণে আমি অনেক তড়পেছি রিক। আমার এক একটা নির্ঘুম রাত জানে, ও ঠিক কতটা বাজে ভাবে পুড়িয়েছে আমায়।”
—“সেটা তো আর মেয়েটা জানে না।”
—“ওর অপরাধ এটাই। ও কেনো জানবে না?”
রিক হতাশ হলো। এই ছেলেটা নিখাদ ঘাড়ত্যাড়া। চরম পর্যায়ের ঘাড়ত্যাড়া। একদিকে, এই পুচকে মেয়েটার ওপর ওর ভয়ানক রকমের অবসেশন। কেউ যদি মেঘার দিকে চোখ তুলে তাকায়, সে চোখ উপড়ে ফেলতে দু’বার ভাবে না। আবার অন্যদিকে, এমন একটা মুখোশ পরে ঘোরে, যেন মেঘাকে সে আদৌ পাত্তাই দেয় না। এই দ্বিচারিতা আসলে কী? সাইকোসিস?
হ্যাঁ, প্রেম নিজেই এক ধরনের সাইকো। ঠান্ডা মাথার, ভয়ংকর এক সাইকো। যে নীরবে নীরবে নিজেও পুড়বে, আর সেই দহনে মেয়েটাকেও টেনে নামাবে।
রিক এবার ভয় পাচ্ছে। ভীষণ ভয়। যদি প্রেম কখনো নিজের আগের রূপে ফিরে আসে, তখন মেঘার কী হবে?
এই মেয়েটা কি পারবে সব সামলাতে?
চলবে?
(পেইজে রিচ নেই। যারা গল্পটা পড়বেন, একটু কষ্ট করে লাইক কমেন্ট করে যাবেন।)
Share On:
TAGS: এক টুকরো মেঘ, সোনালিকা আইজা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
এক টুকরো মেঘ পর্ব ৪
-
এক টুকরো মেঘ পর্ব ৩
-
এক টুকরো মেঘ পর্ব ১
-
এক টুকরো মেঘ পর্ব ২
-
এক টুকরো মেঘ গল্পের লিংক