একটুকরোমেঘ
পর্বঃ০৩
কলমেসোনালিকাআইজা
⛔কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ। চাইলে শেয়ার দিয়ে পাশে থাকতে পারেন।⛔
সকাল থেকে প্রেমের কোনো হদিস পাওয়া গেলো না। পুরো বাড়িতে লোকটার ছায়া পর্যন্ত নেই। যেনো, ভোরের আলো ফোঁটার আগেই অশরীরী শক্তিবলে অদৃশ্য হয়ে গেছে। অবশ্য প্রেমের এমন উঁচু নিচু স্বভাবের সাথে এ বাড়ির সকলেই বেশ পরিচিত। পরিচিত নয় কেবলমাত্র মেঘা। এই প্রেম নামক মানুষটাকে মেঘার কাছে অদ্ভুত একটা জন্তু জানোয়ার মনে হয়। যার দেহের প্রতিটি শিরা উপশিরায় রাগ, জেদ, অহংকার আর বেপরোয়া স্বভাবে পরিপূর্ণ।
মেঘার আকাশ পাতাল ভাবনায় ভাটা পড়লো পরশ এহসানের গলার আওয়াজ শুনে। আজ সকাল সকালই বাড়িতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার আসর বসেছে। মেঘার ভার্সিটিতে ভর্তি নিয়ে মূলত এই আলোচনা সভার আয়োজন। শুরু থেকেই ভার্সিটিতে ভর্তি এবং কোরিয়াতে নিজের শক্ত পোক্ত একটা জায়গা তৈরি করা নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত মেঘা।
মেঘার এই আকাশ সমান চিন্তাকে কয়েক ধাপ উপরে উঠিয়ে দিতে, মেঘার ভর্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন পরশ এহসান। আলোচনার এক পর্যায়ে উঠে আসলো গুরুত্বপূর্ণ এক সমস্যার কথা। মেঘার চান্স হয়েছে শিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। কিন্তু সমস্যাটা হলো, পরশ এহসানের বাসা এবং বিজনেস দুটোই বুসানে। বুসান থেকে শিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে যেতে বেশ অনেক্ক্ষণ সময় লেগে যায়। এক্সপ্রেস বাসে গেলে সাধারণত পাঁচ ঘন্টা সময় লাগে। প্রাইভেট কারে গেলে চার থেকে পাঁচ ঘন্টা সময়। রাস্তায় ট্রাফিক থাকলে সময় আরও একটু বেশি লেগে যায়। অথাৎ যাওয়া এবং ফিরে আসা মিলে দিনের দশ ঘন্টা সময় বাসেই কেটে যাবে। প্রতিদিন এতদূরের রাস্তায় যাতায়াত করা সত্যিই সম্ভব নয়। সবদিক বিবেচনা করে পরশ এহসান বললেন,
—“বুসান থেকে শিউল প্রতিদিন যাতায়াত করা সম্ভব নয়। ভার্সিটির আশেপাশে কোথাও থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।”
—“সাথে একটা পার্ট টাইম জবেরও ব্যবস্থা করতে হবে মামা। আমি কারোর ওপর নির্ভর করে চলতে চাই না।”
মেঘার কথা শুনে পৌঢ় কপালে দুই তিনটা ভাজ পড়লো ভদ্রলোকের। পরশ এহসান ভরাট কন্ঠে বললেন,
—“আমি থাকতে তোমার জবের কি প্রয়োজন?”
—“প্রয়োজন আছে মামা। আমি আমার বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। আমি ছাড়া ওনাদের আগে পিছে আর কেউ নেই। বাবার বয়স হয়ে যাচ্ছে। বৃদ্ধ বয়সে ওনাদের একমাত্র সম্বল হবো আমি। তাই আমি চাই আগে থেকেই নিজের পায়ের নিচের মাটি শক্ত করতে। আমি নিজের প্রচেষ্টায় সামনে আগাতে চাই মামা। কারো সাহায্য নিয়ে চলতে চাই না।”
পরশ এহসান সন্তুষ্টির চোখে তাকালেন নিজের ভাগ্নির দিকে। মেয়েটা বড্ড বেশি ভালো। এই কথাগুলোই তার প্রমান। তিনি শান্ত কন্ঠে বললেন,
—“সেটা নাহয় বুঝলাম মামনি। কিন্তু ভর্তি থেকে শুরু করে তোমার থাকার জায়গা এবং জব পেতে পেতে প্রায় সপ্তাহ পার হয়ে যাবে। তার বেশিও সময় লাগতে পারে। ততদিনের জন্য থাকার একটা ব্যবস্থা করতে হবে।”
এই পর্যায়ে মেঘাকেও বেশ চিন্তিত দেখালো। অচেনা জায়গায় সবকিছু সে একা ম্যানেজ করবে কিভাবে?
—“ভাইয়ার বাসায় থাকলে কেমন হয়? ওই ভার্সিটি তো ভাইয়ার বাসার সাথেই।”
আচমকা আয়রার কথায় ঘাড় ঘুরিয়ে পেছন ফিরে চাইলো দুজন। আয়রা উৎসুক কন্ঠে বললো,
—“মাত্র কয়েক দিনেরই তো ব্যপার। আই থিংক ভাইয়া মানা করবে না। তাছাড়া ওই ভার্সিটি থেকে ভাইয়াও লেখাপড়া করেছে। ভাইয়ার ভালো চেনা পরিচিতি আছে সেখানে।”
পরশ এহসান মেয়ের কথার সঙ্গে সহমত পোষণ করলেন। নতুন জায়গায় হুট করেই আলাদা বাসায় একা থাকার চেয়ে প্রেমের কাছে গিয়ে কিছুদিন থাকা ভালো। তাছাড়া ওখানে থাকলে প্রেমের ওপর একটা দায়িত্ব থাকবে। পরশ এহসান নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থাকতে পারবেন। তিনি দ্রুত মাথা ঝাঁকিয়ে বললেন,
—“হ্যা ঠিক। এটাই বেস্ট হবে। এরপর কোনো এপার্টমেন্ট ম্যানেজ হয়ে গেলে তুমি সেখানে শিফট করো। সমস্যা নেই তো। তাছাড়া প্রেম যে বাসায় থাকে সেটা যথেষ্ট বড়ো। আই থিংক কোনো সমস্যা হবে না।”
এই পর্যায়ে একরাশ অস্বস্তি আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরলো মেঘাকে। প্রেম নামটা শুনলেই বুকের ভেতর ধুকপুক করে মেঘার। হয়তো ছোটোবেলার তিক্ত স্মৃতি গুলোর কারণে। কারণে অকারণে ঠাস ঠাস করে মারা থাপ্পড় গুলো এখনও মিউজিকের মতো মেঘার কানে বাজে। সেখানে একই বাড়িতে ওই লোকটার সাথে থাকতে হবে। ভাবতেই বুকের ভেতর হাসফাস করে উঠলো মেঘার। কিন্তু উপায় নেই। এই মুহুর্তে প্রেম ছাড়া মেঘার কোরিয়াতে টিকে থাকা মুশকিল। তাই অগত্যাই, যাওয়ার জন্য রাজি হয়ে গেলো সে।
–
সময়টা তখন মধ্য দুপুর। পরশ এহসানের সাথে বুসান থেকে বেশ খানিকটা দূরে একটা ডুপ্লেক্স বাড়ির সামনে এসে হাজির হলো মেঘা। গাড়ি থেকে নেমে আশেপাশে একবার নজর বুলালো। বাড়িটা চোখ ঝলসে দেওয়ার মতো নিখুঁত সুন্দর। কাঁচের দেয়াল গুলো দিনের আলোয় মূল্যবান হীরার মতো চকচক করছে। এই বিশাল বড়ো ডুপ্লেক্স বাড়িটা একা একটা মানুষের থাকার জন্য একটু বেশিই বড়ো।
পরশ এহসান আগে থেকেই মেইনডোরের পাসওয়ার্ড জানতেন। সুতরাং ব্যাস্ত হাতে টপাটপ পাসওয়ার্ড টাইপ করে ভেতরে চলে গেলেন। পুরো বাড়িটা আপাতত খালি। প্রেম তো দূরের কথা, বাড়িতে একটা সার্ভেন্ট পর্যন্ত নেই। বিষয়টা বেশ ভাবিয়ে তুললো মেঘাকে। লোকটা সম্পুর্ন একাই থাকে নাকি? রান্না বান্নাসহ বাড়ির অন্যান্য কাজ তাহলে কে করে? ভাবনার মাঝেই পরশ এহসান মেঘার লাগেজটা ড্রয়িংরুমে রেখে বললেন,
—“প্রেম এসময় বাড়িতে থাকে না। মানে, দিনের পুরোটা সময়ই ও বাইরে থাকে। বাড়ি ফিরবে সন্ধ্যার পর। তুমি এখানে নিজের মতো করে থাকতে পারো। এখন রেস্ট নাও মামনি। আমার আবার অফিস যেতে হবে। রাতে ফ্রি হয়ে তোমার সাথে কথা বলে নেবো।”
মেঘা উপর নিচ মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালো। বাধ্য ভাগ্নির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে পরশ এহসান দ্রুত কদমে প্রস্থান নিলেন সেখান থেকে। তিনি চলে যেতেই মেঘা গোলগাল চোখে পুরো বাড়িতে একবার নজর বুলালো। বাড়িটা প্রয়োজনের তুলনায় একটু বেশিই বড়ো। তবে বাইরের থেকে বাড়িটা যতটা সুন্দর দেখা যায়, ভেতরের অবস্থা ঠিক ততটাই করুণ। এই যেমন, বিশাল বড়ো ড্রয়িং রুমে একসেট সোফা পড়ে আছে অনাদরে অবহেলায়। অবহেলার কারণ, সোফার কুশন গুলো কোনোটাই জায়গা মতো নেই। তার ওপর সোফা জুড়ে হেডফোন এবং এলোমেলো জামাকাপড় দিয়ে ভর্তি। সোফা থেকে সামনাসামনি দুই তিন হাত দূরে একটা বড়ো মাপের টিভি। টিভির পাশেই দেয়ালের সাথে লাগোয়া একটা বুক শেল্ফ। তাতে অসংখ্য বইয়ের জায়গা মিলেছে বটে, তবে কোনোটাই সাজানো নয়। তার খানিকটা দূরে ডিভান এবং একটা টি-টেবিল রাখা। ডানদিকে বড়ো সড়ো একটা ডিজাইনার টেবিল রয়েছে। তাতে আবার একটা মাত্র মনিটর রাখা । মনিটরের সামনে গেমিং চেয়ার। মেঘার মাথায় ঢুকলো না, এই একটা মাত্র মনিটরের জন্য এতো বড়ো টেবিলের কি প্রয়োজন?
সেদিক থেকে নজর ঘুরিয়ে মনিটর রাখা টেবিলের বিপরীত দিকে তাকালো মেঘা। একটা স্বচ্ছ কাঁচের দেয়াল। ওপাশে সম্ভবত কিচেন হবে। মেঘা এগিয়ে গেলো কিচেনের দিকে। কি আশ্চর্য! পুরো একটা ঘরের সমান কিচেন অথচ সেখানে একটা ফ্রিজ ব্যাতিত অন্য কিছু নেই। রান্নার জিনিসপত্র বলতে কেবল এলোমেলো ভাবে ছড়িয়ে রাখা কিছু ব্ল্যাক কফির কৌটা। এছাড়াও বাড়ির আনাচে কানাচে পড়ে আছে স্কিপিং রোপ, ডাম্বেল সহ আরও কিছু অদরকারী জিনিসপত্র। নাক মুখ কুঁচকে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো মেঘা। বিড়বিড় করে আওড়ালো,
—“হাউ বোরিং। পুরো বাড়িটা এতো অপ্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে ভর্তি কেনো? এখানে কি আদৌ কোনো মানুষ থাকে?”
কোনো উত্তর মিললো না। চোখ মুখ কুঁচকে সবকিছু নিজ হাতে গোছাতে লেগে পড়লো মেঘা। সোফার ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা জামাকাপড় গুলো সুন্দর মতো ভাজ করে একপাশে রাখলো। কুশন গুলো সুন্দর করে সাজিয়ে রাখলো। ওবাড়ি থেকে আসার সময় একটা কাঁচের জারে এ্যাকুরিয়াম থেকে কিছু রঙিন মাছ নিয়ে এসেছিল মেঘা। কাঁচের গোল জারটা সে টি টেবিলের ওপর সাজিয়ে রাখলো। পানির মধ্যে লেজ নাড়িয়ে ভাসতে থাকা রঙিন মাছগুলো দেখতে ভিষণ ভালো লাগে। এই অল্প সময়ের ব্যবধানে মাছগুলো মেঘার বন্ধু হয়ে গেছে। মেঘা ফ্লোরে হাঁটু মুড়ে বসে মাছগুলোর সাথে কথা বলতে শুরু করলো,
—“কি? পছন্দ হয়েছে নতুন বাড়ি? অবশ্য বাড়িটা সুন্দর হলেও বাড়ির মালিকটা সুন্দর নয়। এজন্যই তো এত সুন্দর বাড়িটাকে গার্বেজ বানিয়ে রেখেছে লোকটা। তবে, কোনো ব্যপার না। আমি যখন নিজের একটা নির্দিষ্ট ঘর পেয়ে যাবো, তখন তোদের জন্য সুন্দর একটা থাকার জায়গার ব্যবস্থা করবো। তার আগ পর্যন্ত তোদের এখানেই কিছুক্ষণ থাকতে হবে। বেশি না, এই সন্ধ্যা পর্যন্ত।”
এক তরফা কথা বলে উঠে দাঁড়ালো মেঘা। গোছগাছের বাকি কাজগুলো ঝটপট শেষ করে নিলো। এলোমেলো বাড়িটা ঝটপট গুছিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো মেঘা। পুরো বাড়িতে আরও একবার নজর বুলিয়ে দেখলো। গোছানোর পর এবার অন্তত বসবাস যোগ্য মনে হচ্ছে। এরপর ক্লান্ত ভঙ্গিতে দেহটা সোফায় ছেড়ে দিলো সে। বাড়িতে প্রেম নেই। এবার অন্তত পাকনামি করে ভুলভাল রুমে ঢুকে যাওয়ার রিস্ক নেবে না মেঘা। তাই প্রেম না ফেরা পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলো। সোফার সামনাসামনি রাখা বড়সড় টিভি টার দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভাবলো। এরপর রিমোটটা নিয়ে টিভি অন করে একটা মুভি চালিয়ে দিলো। সোফায় আয়েশী ভঙ্গিতে গা এলিয়ে দিয়ে মুভিতে মনোযোগ স্থির করলো মেঘা। এই বোরিং জায়গায় সময় কাটানোর জন্য একমাত্র টিভি ছাড়া আর কোনো গতি নেই। এটুকু মেঘা বেশ বুঝতে পারছে।
–
প্রেম যখন বাড়ি ফেরে তখন শিউলের বুকে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নামতে শুরু করেছে। আলো আধারির অদৃশ্য লড়াইয়ে আলোকে হারিয়ে আঁধার পুরো ধরণীকে গ্রাস করতে শুরু করেছে। চারিদিকে তখন আবছা অন্ধকারের রাজত্ব। গলার কাছের শার্টের বোতাম এক হাতে খুলতে খুলতে বাড়িতে প্রবেশ করলো প্রেম। পড়নের লেদার জ্যাকেটটা অন্য হাতে ঝোলানো। বাড়িতে ঢুকেই সে গটগট পায়ে হাঁটা দিলো দোতলার পথে। স্বচ্ছ কাঁচের সিঁড়ি গুলোর কয়েক ধাপ এগিয়ে আচমকাই কদম জোড়া থেমে গেলো প্রেমের। ভ্রুদ্বয় কুঁচকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো সোফার দিকে।
মুভি দেখতে দেখতে এক পর্যায়ে ঘুমিয়ে পড়েছে মেঘা। ঘুমে যে এই মেয়ের দিন দুনিয়ার হুঁশ নেই সেটা ওর ছেড়ে রাখা হাত পা দেখেই বোঝা যাচ্ছে। এই অসময়ে নিজের বাড়িতে মেঘাকে দেখে হতভম্ব হয়ে গেলো প্রেম। নিজের বাড়িতে মেঘার দর্শন পাওয়াটা ছিলো প্রেমের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। ঘুমন্ত মেঘার দিকে কয়েক সেকেন্ড এক ধ্যানে তাকিয়ে রইলো প্রেম। পরপরই পকেট হাতড়ে ফোন বের করে ডায়াল করলো নিজের বাবার নাম্বারে। দুই তিন বার রিং বাজতেই রিসিভ করলেন পরশ এহসান। প্রেম সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন করলো,
—“মেঘা এখানে কেনো বাবা?”
—“ন্যাশনালে চান্স হয়েছে মেঘার। আপাতত কিছুদিন ও তোমার ওখানেই থাকবে। তোমাকে জানাতে বেশ কয়েকবার ফোন করেছি বাট, তুমি রিসিভ করোনি।”
—“তো রিসিভ করা পর্যন্ত ওয়েট করা উচিত ছিলো তোমার। আমার পারমিশন ছাড়া ওকে আমার বাসায় কেনো রেখে গেছো?”
—“ডোন্ট বি সেলফিশ প্রেম। মেয়েটার এই শহরে আমরা ছাড়া আর কেউ নেই। ও কোথায় যাবে এই অচেনা জায়গায়? কিছুদিন ওকে তোমার বাসায় থাকতে দাও। আমার অফিসের ব্যস্ততা শেষ হলেই ওর জন্য আলাদা এপার্টমেন্টের ব্যবস্থা করে দেবো। ততদিন পর্যন্ত মেঘা তোমার দায়িত্ব। আশা করি এই দায়িত্বটা অন্তত তুমি পালন করবে।”
প্রেম কিছু বলার জন্য মুখ খুলেও বলতে পারলো না। তার আগেই টুট টুট শব্দে ফোনটা কেটে গেলো। বিরক্তিতে চোয়াল জোড়া শক্ত হয়ে গেলো প্রেমের। কঠোর নজরে তাকালো ঘুমন্ত মেঘার দিকে। তৎক্ষনাৎ মেঘা ঘুমের মাঝেই একপাশ থেকে অন্য পাশে ঘুরতে লাগলো। যেই না সোফা থেকে নিচে পড়ে যাবে, সঙ্গে সঙ্গে ছুটে এসে খপ করে ধরে ফেললো প্রেম। ব্যাকুল চোখ জোড়াতে স্পষ্ট আতঙ্ক। অত্যাধিক ভয় পেয়ে গেছে যেনো। চওড়া বুকের চামড়া ভেদ করে হৃদপিণ্ডটা টিপটিপ শব্দে বাজাতে শুরু করেছে। প্রেম চোখ দুটো বন্ধ করে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো। ফোনটা আবারও হাতে তুলে কোনো একটা নাম্বারে ডায়াল করলো। রিসিভ হতেই ভরাট কন্ঠে বললো,
—“আজ আমার বাসায় কেউ যেনো না আসে। সবাইকে বারন করে দে।”
অপর পাশের ব্যাক্তি এতে সাত আসমান থেকে ঠাস করে জমিনে পড়লো যেনো। অবাক কন্ঠে বললো,
—“বাট হোয়াই ব্রো? আজ রাতে তো আমাদের লেট নাইট পার্টি করার কথা। এরিনা অলরেডি তোর বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়েও পড়েছে হয়তো।”
—“থামতে বল। যতদূর এসেছে সেখান থেকেই ফিরে যেতে বল। আজ কোনো পার্টি হচ্ছে না।”
—“বাট হয়েছেটা কি? এই তুই ঠিক আছিস তো? আর ইউ সিক ব্রো?”
—“ইউ আর ইরিটেটিং মি রিক। ইউজলেস কথা আমার একদম পছন্দ নয়। জাস্ট ফোন রাখ। আজ কেউ যেনো আমার বাড়ির ত্রি সীমানায় না আসে। এরপরেও যে আসবে, তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেবো।”
রাগে কটমট করে কথাগুলো বলেই খট করে ফোনটা কেটে দিলো প্রেম।
চলবে?
(পড়া শেষে সবাই রেসপন্স করবেন। আপনাদের রেসপন্স দেখলে লেখার অনুপ্রেরণা পাই।)
Share On:
TAGS: এক টুকরো মেঘ, সোনালিকা আইজা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE