Golpo romantic golpo আদিল মির্জাস বিলাভড

আদিল মির্জা’স বিলাভড পর্ব ৩৩


আদিল মির্জা’স বিলাভড
— ৩৩

‘আমাকে সবটা খুলে বল, প্লিজ। প্লিজ! আমি বলেছি তো আমি আর ও মুখ হবো না। কিন্তু জেনেশুনে কীভাবে রোযাকে সত র্ক না করি? ওমন একটা ডেঞ্জারাস লোকের কাছে কীভাবে ছেড়ে দিই? এমন ভয়ানক প্ল্যানিং লোকটা কেনো করল, কী উদ্দেশ্য তা তো জানা দরকার। রোযাকে জানানো প্রয়োজন।’

রিধিমা শান্ত চোখে শুধু দেখল কিছু মুহূর্ত। একপর্যায়ে আস্তে করে বলে, ‘তুমি সরে আসবে না তাইতো?’

জিহাদ নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে নিজের শক্ত চোয়ালটা স্বাভাবিক রাখার। এইজন্য নিজের সাথে বেশ সংযম করতে হচ্ছে। খুব ধীরেসুস্থে গিয়ে বসে রিধিমার পাশে। মেয়েটা কিছুদিন ধরে দুর্বল। খুব নাজুক সময় চলছে যে। মাসখানেকের মাথাতেই ডেলিভারির সময়। আজকাল অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠে। আপাতত সোফায় পিঠ এলিয়ে বসে আছে। কিছুক্ষণ আগেই কাজল বেগম মাটির চুলোয় এক কাপ চা করে দিয়ে গিয়েছেন। তারা এখন গ্রামের বাড়িতে আছেন। শহরে তারা নাকি থাকতে পারবে না! মির্জার লোকেরা এসে জানিয়ে গিয়েছে। জিহাদকে ভীষণ বাজেভাবে মা রা হয়েছিল। এখনো ওর পা-টা ভাঙা।
পুরোপুরি ভর দিতে পারছে না ও-পায়ে। তারপরও ছেলেটা থামছে না। এতো মা র, এতো অত্যা চারের পরও শুধু রোযার নাম জপছে। এতে কাজল বেগম শুধু বিরক্র নন, রাগান্বিত! ওই কালনাগিনীর জন্যই তো আজ তাদের এমন অবস্থা! তার ছেলের এই অবস্থা! তাদের স্বাভাবিক জীবনটা তছনছ করে দিয়েছে ওই মেয়ে! কাজল বেগম ছুটে এলেন বসার ঘরে। গর্জে ওঠেন –

‘তোকে আমি জুতোপেটা করব।’

মায়ের কথা কানে তোলে না জিহাদ। তাকিয়ে থাকে রিধিমার চোখের দিকে। ভীষণ স্বাভাবিক ভাবে বলে যায় –

‘আমি খবর রেখেছি। ওরা রাজপুর আছে। আমাদের গ্রাম থেকে দূরের পথ না। আমি শুধু সবটা জানাতে চাই রোযাকে। তারপর যা হবে তা আর আমি দেখব না। দিনশেষে তুইতো মানিস আমি ওকে চিট করেছি? আমি ওকে ঠকিয়েছি। আর কখনো আমাদের মধ্যে কিছু সম্ভব না। আমি জানি। মেনে নিচ্ছি। আমি আশা ছেড়ে দেব। তোর সাথে সংসার করব, বাচ্চার দায়িত্ব নিতে হবে তো।’

রিধিমা ঢোক গিলল। ভয়ার্ত চোখে চেয়ে শুধু চাপা গলায় আওড়াল, ‘তোমাকে মেরে ফেলবে। কেনো বোঝো না?’

কাজল বেগম আঁতকে ওঠেন। চিৎকার করেআঁকড়ে ধরেন ছেলের বাহু –

‘তুই কেনো এখনো একই কথা বলিস বাবা? কেনো পড়ে আছিস? গতবার প্রায় তোকে মে রে ফেলতে চাইছিল। আমি আমার ছেলে হারা তে চাই না। তুই থাম, এসবে আর জড়াস না বাপ। দোহাই লাগে তোর।’

জিহাদ চোখ বুজল। চোখের পাতায় এখনো ভাসছে রোযার হাস্যোজ্জ্বল মুখখানি। এখনো শুনতে পারছে ওই কোকিলা কণ্ঠে ডাকা তার নাম। তার ওমন প্রাণবন্ত, হাস্যোজ্বল রোযা আর তার না, এটা কীভাবে মানবে জিহাদ? কীভাবে সহ্য করবে? বুকের ভেতরটা যে পুড়ে যাচ্ছে। বিষিয়ে উঠছে সবটা! কাতর কণ্ঠে শুরু বলে গেলো –

‘প্লিজ বল! যা জানিস সব বল।’

রিধিমা চোখ ঘোরাল। তাকাল অদূরে। পিনপতন নীরবতা বয়ে গেলো অনেকটা সময় জুড়ে। তা ভাঙল ওর ফ্যাকাসে কণ্ঠের সুরে –

‘তুমি এখনো বেঁচে আছো, শ্বাস নিচ্ছো কেনো জানো?’

জিহাদ চমকে ওঠে। উত্তরের আশায় নেই রিধিমা। নিজেই জবাবে বলে –

‘রোযার জন্য। ওই লোক, ওই লোক…’

রিধিমা চোখ বুজল। আওড়াল, ‘সে পারলে হয়তোবা রোযাকে ছুঁয়ে যাওয়া বাতাসকেও পিষিয়ে ফেলে।’

রিধিমা চোখ তুলে তাকাল। অনুনয় সুরে বলল –

‘খুব ডেঞ্জারাস মানুষ ওরা। খুব ডেঞ্জারাস ওই আদিল মির্জা। এতো চাল, এতো কাহিনী উনি করেছে… এই পর্যায়ে এসেছে শুধুমাত্র যেন রোযা স্বেচ্ছায় সরে যায়। বোঝো এর মানে? বোঝো তুমি? তারপরও বাচ্চামো করে যাচ্ছো! তারপরও!’

জিহাদ অনেকটা সময় থমকে থাকল। একপর্যায়ে আলগোছে উঠে চলে গেলো। দীর্ঘশ্বাস ফেলল রিধিমা। চোখ বুজে মাথাটা এলিয়ে দিলো সোফায়। ওর চোখে যে এখনো ভাসে সেই রাতের দৃশ্য। সেই অন্ধকারে থামা বিশাল গাড়িটা। গাড়ি থেকে ভেসে আসা ওই রাজকীয় কণ্ঠের কথাগুলো আজও ওর অস্তিত্ব নাড়িয়ে দেয় –

‘ইফ আই উইশ্‌ট… আই কুড স্লিট হিজ থ্রোট। দ্য নার্ভ হি হ্যাজ—ডেয়ারিং টু বি ইন মাই বিলাভ্‌ড’স প্রেজেন্স, এখনো পৃথিবীর বুকে শ্বাস নিতে পারছে এটাই ওর সৌভাগ্য। সামলে না রাখতে পারলে ওকে জ বাই করব।’

রিধিমা চোখ মেলে হাহাকার করে ওঠে। আর কীভাবে বোঝাবে মানুষটাকে? আর কী করবে ও?

আদিল মির্জার ওমন থমথমে মুখ দেখে শান্তর গলার ভেতরটা শুকনো মরুভূমির মতো হয়ে এলো। ভেতরের সব বডিগার্ডসদের মুখের র ক্ত সরে গিয়েছে। এলেন লুকিয়ে কনুই দিয়ে গুঁতো মারল শান্তর কোমরে। শান্ত এতে নড়েচড়ে ওঠে। ম রতে বসা রোগীর মতো বড়ো করে শ্বাস টেনে নেয়। পরমুহূর্তেই দ্রুতো কদম বাড়িয়ে জাহানারা বেগমকে সরিয়ে আনতে যায়। ওসময় এক মেয়েলি কণ্ঠের হাসির ধ্বনিতে থমথমে ভাবটা নিভে গেলো যেভাবে আগুনে জল পড়ে ধপ করে নেভে। সকলের চোরা চাহনি গিয়ে পড়ল রোযার ওপরেই। স্বয়ং আদিল মির্জারও। মুখে হাত দিয়ে হাসছে। চোখের কোণ ভিজে আছে।

শান্তর থমকানো শ্বাসপ্রশ্বাসও এতে স্বাভাবিক হয়। কিছু একটা আন্দাজ করে চট করে পুনরায় তাকাল আদিলের মুখের দিকে। দীর্ঘ বছর পাশে, কাছে থাকায় আগাগোড়া না-হলেও অনেকটাই চেনা আছে আদিলকে। সবসময়ের এমন গোমড়া মুখের ক্রোধ, সন্তুষ্টি বুঝে নিতে পারে একপলকেই। এবারেও পারল, অবশেষে আর কদম বাড়াল না। উচ্চারণ করল না একটি শব্দও। জাহানারা বেগমের হাতটা তখনও আদিলের টানটান, ছাঁটা, শক্ত গালে। বৃদ্ধা ফের দুটো টান মে রে এবারে তাকালেন ফিক করে হাসা রোযার দিকেই। আদিলের পাশেইতো বসেছে ও। পরমুহূর্তেই রোযার হাসিটা ধপ করে নিভে গেলো জাহানারা বেগমের কথাতে –

‘এইডা কি আমগো নাতবউ?’

জাহানারা বেগম শান্তর দিকে তাকিয়েই জানতে চাইছেন। শান্ত আড়চোখে আদিলের চোখমুখের দিকে তাকিয়ে রোবটের মতো মাথা দোলায়। জাহানারা বেগম আদিলকে এড়িয়ে খপ করে ধরেন রোযার সুন্দর হাতজোড়া। ওকে টেনে উঠিয়ে এনে বসান নিজের পাশে। এখন বৃদ্ধা মধ্যে, তার দু-পাশে আদিল আর রোযা। রোযার ওমন সুন্দর তবে থমকানো মুখটা দু-হাতে ধরে, টেনে জাহানারা বেগম প্রসন্ন হয়ে বলেন –

‘মেলা সুন্দরী আছো তুমি নাতবউ। চৌখ সরানো যায় না এমন সৌন্দর। নাতির আমার চোখ আছে, মাশাআল্লাহ্। কী সুন্দর চোখ-মুখ, গায়ের রং। তয়, একটু বেশিই শুক্না তুমি। এতো শুক্না হইলে চলে?’

বলতে বলতে তিনি একটু মাথা ফিরিয়ে তাকালেন আদিলের নিত্যদিনের ব্যায়াম করা শক্তপোক্ত, সুবিশাল দেহের দিকে। বসেও যার বাহুর শার্ট ছিঁড়ে মাংশপেশি বেরিয়ে যাবার মতন অবস্থা। শান্তর শ্বাস পুনরায় গলায় আটকাল। ও ভয়ার্ত চোখে চেয়ে আছে। ঠোঁট নড়ল নাসির শিকদারের। কিছু বলতে গিয়েও চুপসে যাচ্ছেন। জাহানারা বেগম ফের রোযার দিকে তাকিয়ে বলে যাচ্ছেন অনবরত –

‘ও নাতবউ…তোমার হাত, গলা, মুখটা ওমন খালি খালি কেন? বিয়াইত্তা মাইয়াগো হাতে চুড়ি, নাকে নাকফুল থাকতেই হয়। ভালো দেহায় না এমন।’

বলতে বলতে তিনি রোযার মুখের থেকে দৃষ্টি না ফিরিয়েই হাঁক ছাড়েন,

‘আয়েশা, যা…আমার আলমারি থেইকা গহনাপত্রের বাকশোটা আন।’

এরপর পুনরায় বলতে থাকেন রোযার ফ্যাকাসে হয়ে আসা মুখে চেয়ে –

‘হুনো নাতবউ, রূপ তো তোমার আছেই। মেলা আছে, এতে সন্দেহ নাই। হুদা রূপে কিন্তু আইজকাল জামাইয়ের মন পাওন যায় না। সোহাগ, ভালোবাসা, মন পাইতে একটু সাজগোজ করতে হয়। সোনার বালা পরবা দু-হাতে, সবসময়। এগুলা রীতি তো। গলায় চেইন পরবা, কানে দুল পরবা, নাকফুল পরবা। নাক ফুডাও নাই, দেহিইইইই। ফুডানোই তো। দাঁড়াও, এক্ষণ পরাইয়া দিতেসি।’

রোযার মুখটা হা হয়ে এসেছে। ও বিহ্বল চোখে দেখল বিনয়ী বৃদ্ধা মুখখানা। যে মিষ্টি করে হাসছেন। তখনো ডান হাতে আলতোভাবে আদর করে দিচ্ছেন রোযার মাথাটা। রোযা অসহায়, অপ্রস্তুত, কিংকর্তব্যবিমুঢ়। একটা শব্দও বেরোয় না মুখ দিয়ে। যখন চোখ তুলে তাকাল, আদিলের গাঢ় ধূসর চোখে দৃষ্টি মিলল। চেয়েই আছে যে, ওই চোখে প্রসন্নতা, সন্তুষ্টির শেষ নেই। কী ভীষণ আগ্রহ নিয়েই চেয়ে আছে। কিছু বলার, আটকানোর বিন্দুমাত্র ইঙ্গিত নেই। রোযা দেখল আয়েশা বেগম ধীরেসুস্থে এসে বাড়িয়ে ধরল একটা কাঠের পুরনো তবে রাজকীয় বাক্স। জাহানারা বেগম সেটা নিয়ে রাখলেন সামনেই। বাক্স খুলতেই চকচকে সব চোখ ধাধানো অলংকার দৃশ্যমান হয়। জাহানারবেগম মাথাটা নুইয়ে এক এক করে দেখে পছন্দ করছেন। একজোড়া মোটা সোনার বালা রোযার চোখের সামনে ধরে জিজ্ঞেস করেন –

‘নাতবউ, এইডা দেহো। কেমন লাগে? এইডার কাজটা সুন্দর। আমার মেলা পছন্দের। দাও হাতটা দাও।’

বলে তিনি নিজেই টেনে ধরেন রোযার হাতটা। রোযা আঁতকে ওঠে। দ্রুতো অন্যহাতে চেপে ধরে বৃদ্ধার হাতটা। চোখ তুলে তাকাল শান্তর দিকে, বাকিদের দিকে। কেউ কিছু বলে না কেনো? ওদিকে থমকান জাহানারা বেগম। রোযা যতবার জাহানারা বেগমের মুখ দেখেন, ততই নিজের মৃ ত দাদির মুখটা ভেসে ওঠে। এই প্রথম কথা বলে। সম্বোধন করতে গিয়ে সামান্য ইতস্ততও করে –

‘দা..দাদিমা, আমার লাগবে না।’

জাহানারা বেগমের নিভে আসা চোখজোড়া চিকচিক করে আনন্দে। উচ্ছ্বাসে কেমন ফেটে পড়েন –

‘মনডা ভইরা গেলো। এম্নে ডাইকা খবরদার আর না কইরো না।’

বৃদ্ধা চটজলদি বালা দুটো পরিয়ে দিলেন রোযার দু-হাতে। বালা পরিহিত হাত দুটো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে আদিলের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করেন –

‘দাদাভাই, কেমন? পছন্দ হইছেনি?’

জবাবের আশায় অবশ্য থাকেননি। প্রশ্ন করে তিনি পুনরায় বাক্স ঘাঁটাতে বস্ত হয়েছেন। আদিল একচিত্তে চেয়ে থাকল রোযার ফর্সা হাতজোড়ায়। ফাঁকা হাত দুটোতে সোনার বালা দুটো কী চমৎকার মানিয়েছে! কী ভালো দেখাচ্ছে! জাহানারা বেগম ভীষণ ছোটো সোনার নাকফুলটা রোযাকে পরাতে উতলা হলেন। ডাকেন পুত্রবধূকে –

‘এইদিকে আয় আয়েশা, আমি চোখে কম দেহি। পরাইয়া দে।’

রোযা পুনরায় ধরল জাহানারা বেগমের হাত দুটো। অসহায় কণ্ঠে আকুতি করল –

‘এটা ঠিক হচ্ছে না। এসব কীভাবে আমি নিতে পারি! আপনি প্লিজ থামুন…’

বলতে বলতে রোযা তাকায় আদিলের দিকে। ওমন নির্বাক হাবভাব দেখে বিরক্তই হয় ও। চোখ রাঙিয়ে চাপা গলায় বলে বসে –

‘এ..এই, কিছু বলছেন না কেনো?’

আদিল ডান ভ্রু তুলতেও পারেনি জাহানারা বেগম বাঁধ সাধেন দ্রুতো –

‘ওমা! দেখো নাতবৌয়ের কাণ্ড। আজকালকার মাইয়াগো কোনো ছোদবোধ নাইগো। এই..এই..এটা আবার কিরকম ডাক? ডাকবা, ওগো হুনছো বা বাচ্চার নাম ধরে ডাকবা। হৃদির আব্বা হুনো। এম্নে! তোমার দাদারে আমি ডাকতাম, হেগো হুনো…নাসিরের আব্বা হুনেন। এম্নে!’

আদিলের শক্তপোক্ত মুখের ঠোঁটজোড়া নড়ে। পরমুহূর্তেই ঠোঁট বেঁকে আসে। শান্ত ও দৃশ্যে আলতোভাবে কপালের ঘাম মুছে নেয়। স্বস্তির শ্বাস ফেলে। রোযা অসহায়ের চূড়ান্তে। ও এইপর্যায়ে তাকায় শান্তর দিকে। শান্ত অন্যদিকে তাকিয়ে থাকে। যেন দেখেইনি। আয়েশা বেগম শাশুড়ির আদেশে খুব নরম স্পর্শে পরিয়ে দিলেন নাকফুলটা। জাহানারা বেগম তখনো থামেন না। খুঁজে খুঁজে ভীষণ সুন্দর একজোড়া ঝুমকো, গলার লম্বা চেইন পরিয়ে দিলেন এক এক করে। পরিয়ে ধরলেন রোযার মুখটা। আলতোভাবে আঁচলটা মাথায় তুলে দিয়ে মুগ্ধ হয়ে বলেন –

‘এইতো লাগতেসে বউমানুষ। এম্নেই থাকবা নাতবউ। বুজছো? যতদিন আছো, তুমি আমার কাছে আইবা। আমি তোমারে শিখাইয়া পড়াইয়া দিমু।’

হৃদি ভীষণ কৌতূহল নিয়ে দেখছিল এতক্ষণ। এযাত্রায় নেমে এলো সোফা থেকে। রোযার সামনে এসে বড়ো বড়ো চোখে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে হাত বাড়িয়ে ধরে নাকটা। বলে –

‘মম, ইউ’র লুকিং সো প্রিটি! মম…ইউ…ইউ লুক চেইনজড।’

রোযা লজ্জায় হাঁসফাঁস করে। ঘর ভরতি মানুষ সব তার দিকেই চেয়ে আছে। ও মাথা তুলে তাকাতে পারে না। জাহানারা বেগম হৃদিকে দেখে এরপর শান্তর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করেন –

‘এই বাবু কোন ভাষায় কথা কয়? বুঝি না ক্যা? কী কয়?’

সিঁড়িগোড়ার সামনে বাড়ির স্ত্রীলোকেরা, মেয়েরা সব জুবুথুবু মে রে বেশ গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পিছু থেকে মাথা বাড়িয়ে উঁকিঝুকি দিচ্ছে। ওখান থেকে সুপ্তি গলা চড়িয়ে জবাবের সুরে বলে –

‘বলতেসে, মা তোমারে সুন্দর লাগছে। পরিবর্তন লাগছে।’

জাহানারা বেগম খুশি হলেন। পুতুলের মতন বাচ্চাটাকে ধরলেন। নিজের সামনে এনে দেখলেন দু-চোখ ভরে। আনন্দিত হয়ে বলেন,

‘পুরাই দাদাভাইয়ের মতো দেখতে। চোখটাও এক। নারে কাকলি? দেখ, দেখ।’

কাকলি বেগম এই বাড়ির বড়ো বউ। নাসির শিকদারের স্ত্রী। দাঁড়িয়ে ছিলেন আয়েশা বেগমের পাশেই। শাশুড়ির মতন তার ওতো সাহস নেই। তাই একই জায়গা থেকে আস্তে করে মাথাটা দোলান শুধু। হৃদি ড্যাবড্যাব করে কিছুক্ষণ দেখল জাহানারা বেগমকে। এরপর তাকাল রোযার দিকে। রোযা স্বাভাবিক হতে চাইল। ভুলেও তাকাল না একজোড়া দৃঢ় ধূসর চোখের দিকে। ওই চাহনি সে এড়াল। মেয়ের মাথা বুলিয়ে বলে –

‘বড়ো মা, তোমার।’

হৃদি পুনরায় তাকায় জাহানারা বেগমের দিকে। বাধ্যভাবে ডাকে, ‘হাই, বড়ো মা।’

জাহানারা বেগমের চোখজোড়া ভিজে ওঠে। তিনি কোনোরকমে কোলে নেন হৃদিকে। মাথায় ঠোঁট ছুঁয়ে দেন। আদর করে দেন। শান্ত যেমন শান্তি অনুভব করছে তেমনি আতঙ্কে আছে। আড়চোখে বারেবারে তাকাচ্ছে আদিল মির্জার দিকে। যার চোখজোড়া রোযার ওপরেই নিবদ্ধ। অনেকটা সময় যাবতই। গোটা বসবার ঘরের লোকই সেই তাকানো লক্ষ্য করছে। বস যে ব্যাপারটায় খুশি তার প্রমাণ এখনো তার বসে থাকাই। কে তাকে এভাবে বসিয়ে রাখতে পারবে? বসে থাকার মানুষ সে? হৃদি দু-চোখ ডলতে ডলতে কোল থেকে নেমে এসে রোযার কোলে মাথা গুঁজল। ওর চোখ বুজে আসছে। ভাসা গলায় আওড়াল –

‘মা, আম সো স্লিপিই। আমি ঘুমাব।’

রোযা ওকে বুকে টেনে নিলো। আড়চোখে তাকাতেই দেখল আদিল উঠে দাঁড়িয়েছে। সাথে সাথে সটান হলেন শিকদার বাড়ির লোকজন। নাসির শিকদার বিনয়ের সাথে বলেন –

‘বস, আমার মা..বুড়ো মানুষ তো…যদি ভুল কিছু করে ফেলে মাফ করে দিয়েন।’

আদিল তাকাল। প্রত্যুত্তরে বলল, ‘ইটস ওকে।’

শান্ত এগিয়ে এসেছে। সিঁড়ির পথ দেখিয়ে বলে, ‘বস, তিন তলায়। আসুন।’

আদিল কদম বাড়াল রোযার দিকে। মেয়েটার মাথায় তখনো আঁচল টানা। দৃষ্টি নোয়ানো। হৃদি ওর বুকের সাথে মিশে আছে। আদিল ঝুঁকতেই রোযা সিটিয়ে যায়। চোখ বুজে নেয়। কাছ থেকে আরও স্পষ্ট হয় অদ্ভুত এই সৌন্দর্য। সাধারণ এক মাথায় ঘোমটা, আর নাকফুল যে এতটা সুন্দর হতে পারে তা কল্পনারও বাইরে। আদিল হাত বাড়াতেই হৃদি কোলে এলো বাবার। দু-হাতে গলা জড়িয়ে ঘুমঘুম গলায় বলল –

‘ড্যাড, দেখো মমকে কেমন বউ-বউ লাগছে। পুতুল বউ। তাই না?’

আদিল নাকমুখে শব্দ করল কেবল, ‘হুমমম…’

স্পষ্ট শুনতে পেলো রোযা। মিইয়ে এলো ওর হৃদয়, শরীর। এতো লজ্জা লাগল! একদমই উঠে যেতে ইচ্ছে করল না। অথচ আদিল হৃদিকে কোলে নিয়ে সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। অর্থ স্পষ্ট। যেতে হবে সাথেই। অগত্যা উঠে দাঁড়াল। তখুনি হাতটা ধরলেন জাহানারা বেগম। হেসে বলেন –

‘চটপট নাইমো নাতবউ। গল্প করমু তোমার লগে।’
রোযা জোরপূর্বক হালকা হেসে মাথা দুলিয়ে বলে, ‘জি আচ্ছা।’

.

তিনতলাটা ফাঁকা। এখানে বেশ কয়েকটাই রুম রয়েছে। পুরোটা আদিলের জন্য বরাদ্দ করেছে শান্ত। পেছনের রুমটা পুরোপুরি আদিলের কাজের জন্য। সামনের বিশাল রুমটা বেডরুম হিসেবে রেখেছে। বেশ পুরনো আমলের এক রাজকীয় ভাব সবটা জুড়ে। প্রাসাদের মতো অনুভূতি পাওয়া যায়। রোযা হাঁটতে হাঁটতে আশপাশটা দেখল। দেখতে পেলো দোতলার পিলারের পেছনে লুকিয়ে থাকা এক যুবতীকেও। আড়ে আড়ে এদিকেই চাইছে। এইমুহূর্তে ওর দৃষ্টিতে দৃষ্টি মিলে গেল। ওমনি মেয়েটার কাজলরঙা চোখজোড়া ভয়ার্ত বিড়ালের মতো বড়ো বড়ো হয়ে এলো। সেঁটে গেল পিলারের পেছনে। তবে নিচ দিয়ে মেয়ে্টার উড়তে থাকা ওড়নার একাংশ দেখা যাচ্ছিল। রোযা আড়চোখে তাকাল পেছনে। শান্ত তখনো সোজা চেয়ে আছে। আগেপাছে কোথাও তাকানোর যেন ফুরসত নেই। অথচ একটু পরেই অন্যদের নিয়ে আর আগ্রহ দেখাতে পারল না রোযা। বিশাল ঘরটার দুয়ারেই দাঁড়িয়ে পড়ল। ভেতরে আর কদম বাড়াচ্ছে না। তার পেছনে শান্ত দাঁড়িয়ে আছে সৈনিকের মতো। শান্তর পাশে এলেন, স্বপণ। আদিল ইতোমধ্যে হৃদিকে শুইয়ে দিয়েছে বিছানায়। আলতোভাবে গায়ে মেলে দিয়েছে কম্ফোর্টার। বাচ্চাটা ঘুমিয়ে গিয়েছে পুরোপুরি। তখুনি দুয়ার থেকে রোযা থমথমে গলায় বলে –

‘এখানে তো আরও ফাঁকা রুম আছে। আমার আর হৃদির জন্য একটা দিন।’

আদিল ফিরে তাকাল। ঘোমটা আর নেই মাথায়। আঁচলটা ঝুলছে। বাতাসে দুলছে। নাকফুলটা চকচক করছে ফর্সা নাকমুখে। একটু নড়লে সামান্য শব্দ করে হাতের বালা দুটো। আদিল নির্বিকার ভঙ্গিতে ইশারা করতেই শান্ত, এলেন স্বপণ ওরা সরে গেলো হাওয়ার গতিতে। তিন তলার সিঁড়িগোড়ায় ধ্রুব, ক্লান্ত দাঁড়িয়ে আছে। বারান্দা জুড়ে বডিগার্ডসদের পোস্টিং তখন। রোযা আড়চোখে পিছু চেয়ে ভেতরে ভেতরে ঘাবড়ে উঠলেও ওপরে বেশ সাবলীল থাকল। তবে ধূসর চোখের দৃষ্টি এড়িয়ে বেড়াল ও। দুয়ারে দাঁড়িয়ে থেকেই বলল –

‘পাশের রুমে যাচ্ছি আমি।’

তখুনি আদিল ভারি কদম বাড়াল। সেই দৃশ্যে বিচলিত হয় রোযা। শ্বাস ফুরিয়ে আসতে চায়। বসবার ঘর থেকেই এক অদ্ভুত অনুভূতি ওকে ভীত করে তুলছে। ও কদম পিছুতেও পারে না। আদিল এসেই থাবা মে রে ধরে ওর পাতলা কোমরটা। বিশ্রীতম এক টানে ভেতরে আনে। টাল সামলাতে না পেরে রোযা পড়তে নিলেই ওকে আষ্ঠেপৃষ্ঠে নিজের সাথে জড়িয়ে নেয় আদিল। দরজাটা ভীষণ জোরালোভাবে লাগাতে গিয়েও শব্দহীন ভঙ্গিতে লাগায়। রোযা আঁতকে ওঠে চাপা গলায়। ধড়ফড়িয়ে তাকায় বিছানার দিকে। ফিসফিসিয়ে ওঠে –

‘ছাড়ুন।’

আদিল বা-হাতে আঁচলটা পুনরায় তুলে দেয় রোযার মাথায়। ঘোমটা দেয়া রোযাকে কাছ থেকে, ওভাবেই মুগ্ধ চোখে দেখে। মুখের খুব কাছে মুখ, শরীরের সাথে শরীর প্রায় যে ছুঁইছুঁই। রোযা দ্রুতো মুখটা ঘুরিয়ে ফেলে। যতবার আদিল মুগ্ধভাবে রোযার শরীরের ঘ্রাণ লুটে নেয়, ওর শরীর ছেড়ে দেয়। অস্থিরতায় দমবন্ধ হয়ে আসে। দু-হাতে সরাতে চাইলে হাতজোড়া নিজের শক্তপোক্ত বুকে স্থির করে একহাতে ধরে রাখল আদিল। মুখ বাড়িয়ে আচমকাই চুমু খেলো নাকে, নাকফুলটার ওপর। ধড়ফড়িয়ে ওঠা রোযার দু-হাতের ওপরেও ঠোঁট ছোঁয়ালো গাঢ়ভাবে। কেমন নেশাগ্রস্ত গলায় বিড়বিড় করে বলল –

‘এভাবেই থাকবে আজ থেকে। আই ওয়ান্ট ইউ জাস্ট লাইক দিস, রোজ-আ। তোমাকে এভাবে দেখে… মনে হচ্ছে, তুমি আমার। এই আদিল মির্জার।’

রোযা শক্ত করে চোখ বুজল। অনুভব করল শক্ত, রুক্ষ হাতটা খামচে ধরে আছে ওর কোমরবন্দির জায়গাটুকু। তখুনি বিছানায় ঘুমানো হৃদি ছটফট করে ওঠে। বিড়বিড়িয়ে ডেকে ওঠে –

‘মম..’

রোযা যেন নিজের জান ফিরে পায়। ঠেলে সরায় আদিলের চওড়া বুক। হৃদির ডাকের ছুঁতোয় বিছানার দিকে ছোটে। হৃদি ঘুমের ঘোরে অন্যপাশ হাতড়ে তখনো রোযাকে খুঁজছে, ডাকছে। রোযা নিজেকে সামলায়। কাঁপতে থাকা হাত হৃদির মাথায় রেখে আওড়ায় –

‘এখানেই আছি, মা। তুমি ঘুমাও।’

হৃদির এ-পাশ ফেরে। ঢুকে পড়ে রোযার বুকে। রোযা আলতোভাবে বুলিয়ে দেয় চুলগুলো। না চেয়েও অনুভব করতে পারছে আদিলের দৃষ্টি। কুণ্ঠিতবোধ করছে এতে। এইমুহূর্তে আর সাহস করতে পারল না অন্য রুমে যাওয়ার কথাটুকু বলার। আদিল অবশ্য ওকে স্বস্তির সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে তখুনি বেরিয়ে গিয়েছে এলেনের ডাকে।

.

ফোনটার মেসেজ রিংটোন বেজে উঠেছে। শান্ত পকেট থেকে ফোন বের করে স্ক্রিনে দৃষ্টি রাখে। বড়ো অংকের টাকা এসেছে তার একাউন্টে। কে পাঠিয়েছে শান্ত জানে। কেনো পাঠিয়েছে তাও। তার দাদির কাণ্ডে বস যে ভীষণ আপ্লূত তা ভালোভাবেই বুঝেছে। অগত্যা আর কোনো নিষেধাজ্ঞা ও দেয়নি। নিচে এসে তা বাবা-চাচাদের ইনিয়েবিনিয়েও বোঝাল। ইতোমধ্যে দুপুরের রান্নাবান্নার বেশ আয়োজন চলছে। নাসির শিকদার, ভাইদের নিয়ে গিয়ে ভরপুর বাজার সেরেছেন ভোর সকালে। মাত্রই পাঁচ কেজি গোরুর দুধ আনানো হয়েছে। ঘন পায়েস করা হবে। শান্ত সেদিন আদিল, হৃদির পছন্দের খাবার-দাবারের লিস্ট পাঠিয়েছে।

জব্বার সাহেব ছেলের ক্লান্ত মুখে চেয়ে বলেন, ‘আব্বা, যাও ঘরে যাও। গোসল কইরা নাও আগে।’

আয়েশা বেগমও মুহূর্তে ছেলের ঘর্মাক্ত কপাল মুছে বলেন, ‘যা, আব্বা। আমি একটু খাওন পাঠাইতেসি।’

সেসবে আপাতত আর মনোযোগ দেবার সময় নেই শান্তর। ও কিছুটা চ্যাঁচিয়েই ওঠে, ‘তোমার গুণধর বোনঝি কই? তারে দেখি না কেনো? সে কী মহারানি? তার সাথে দেখা করতে আমার অ্যাপয়েন্টমেন্ট লাগব?’

ফিক করে হেসে ফেলল সুপ্তি সহ বাড়ির কমবয়সী মেয়েগুলো। সব দলবেঁধে আলাপে মজেছিল বসবার ঘরে। আলাপটা পুরোপুরি নতুন সদস্যদের ঘিরেই ছিলো। এযাত্রায় সুপ্তি মিটিমিটি হেসে বলল –

‘ভাইয়া, ঝুমুর ভয় পাইতেসে।’

শান্তর চোখমুখ আরও গম্ভীর হয়, ‘ভয়? ও কিছুদিন আগে আমারে যেসব বলল ওরে কে শিখাইয়া দিসে? মা, তুমি?’

আয়েশা বেগম দ্রুতো মাথা নাড়ালেন, ‘আরে না রে আব্বা। আমারে জড়াইস না। মেলা কাজ আছে, আমি যাই।’

আয়েশা বেগম ব্যস্ত কদমে রান্নাঘরের দিকে এগুচ্ছেন। শান্ত তাকাল চাচাতো ভাইবোনদের দিকে। সবগুলো চোখমুখ স্বাভাবিক করে রেখেছে। একমাত্র সুপ্তি মিটিমিটি হেসে যাচ্ছে। বরাবরই মেয়েটা সাহসী। কম ভয় পায় শান্তকে। শান্ত গম্ভীরমুখে প্রশ্ন করে –

‘কোথায় ওই মেয়ে? তাড়াতাড়ি বল।’

‘লুকাইছে।’

শান্ত দাঁতে দাঁত পিষল। আঁধার নামল চোখমুখে, ‘তা তো জানি। লুকাইসে কই ও?’

সুপ্তি মুখ ফসকে বলে ফেলল, ‘কুড়েঘরে।’

শান্ত আর দাঁড়াল না। বড়ো কদমে বেরিয়ে এলো বাহিরে। কুড়ে ঘরটা বাড়ির পাশেই, রান্নাঘরের পেছনে। টিনের এই ঘরটায় হাবিজাবি রাখা হয়। এই যেমন শুকনো লাঠি, রান্নাবান্নার সরঞ্জাম, ফেলে দেয়া ঘরের আসবাবপত্র সহ অনেককিছুই।

.

ঝুমুর নড়ে না, ঘাপটি মেরে বসে আছে এককোণে। ওর পেছনেই লাঠির স্তুপ। হাতে নৌকাডুবি বইটা। অর্ধেক পড়া হয়েছে। কদিন ধরে আর মন বসছে না। এইমুহূর্তে তো মোটেও না। অশান্ত, ধড়ফড় মনে শুধুই চোখের সামনে ধরে রেখেছে। ওসময়তেই শব্দ করে খোলা হলো টিনের দরজাটা। কেমন ফ্যাচফ্যাচ শব্দ হলো! আতঙ্কে র ক্ত শূন্য হলো ঝুমুরের সুন্দর মুখখানি। বড়ো বড়ো কাজলরঙা চোখ তুলে যখন তাকাল, থমকে পড়ল ওর দুনিয়া। ওর অস্তিত্ব। শান্ত এসে দাঁড়াতেই ঘরটা অন্ধকার হয়ে এলো যেন। যেমন শব্দ করে খুলল, তারচেয়েও শব্দ করে বন্ধ করল। ঝুমুর জুবুথুবু ভাবে চটজলদি দাঁড়ায়। হাত থেকে ফসকে পড়েছে বইটা। ওড়নাটাও মাথায় নেই। ওর মাথায় ওড়না দেবার সাহসটুকুও করতে পারে না। বিড়ালের মতন একপলক চেয়ে চোখমুখ বুজে দ্রুতো বলে –
‘বিশ্বাস করুন, ওদিন আমি মিথ্যে মিথ্যে বলেছি। সব মিথ্যা…’
মেয়েটা আর কিচ্ছু বলতে পারল না। বাতাসের গতিতে কাছে এসেই ওর চোয়ালটা শক্ত করে ধরল শান্ত। মুখ নামিয়ে জোরেশোরে এক কামড় বসাল গোলাপি ঠোঁট জোড়ায়। ঝুমুরের চোখ ভিজে ওঠে। থরথর করে কেঁপে দু-হাতে খামচে ধরে পরনের স্কার্ট। চোখ বুজে ফেলে। কান্না আটকে আওড়ে যায় –

‘বিয়ের আগে এসব ঠিক না।’

শান্ত ঘেঁষে দাঁড়াল। পুনরায় ছোঁয়াল ঠোঁটে ঠোঁট। সুন্দর মুখাপানে চেয়ে ফিসফাস করে আওড়াল, ‘তুই শেখাবি আমাকে কি ঠিক আর কি ঠিক না?’

সেটার উত্তর দেয় না মেয়েটা। কোনোরকমে বলে, ‘আপনি বলেছিলেন বিয়ের আগে ছোঁবেন না…’

‘একশোবার ছোঁব। হাজার বার ছোঁব। কী করবি তুই! হুম?’
ঝুমুর বলে গেলো, ‘ভালো মেয়েরা বিয়ের আগে এসব করে না।’

শান্ত কপালে, গালে চুমু খেয়ে বলে যায়, ‘তুই খারাপ মেয়ে তবে।’

‘শান্ত ভাইয়..’

মুহুর্তে ওকে বুকের মধ্যে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নিলো শান্ত। তেড়ে গেলো ঠোঁটের কাছে। দূরত্ব ঘুচিয়ে ফেলল। স্বপ্নে হাজারো বার তার ঘুম ভাঙানো ঠোঁটজোড়ায় নিজের পুরু ঠোঁটের দিলমোহর লাগাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।


চলবে ~~~
® নাবিলা ইষ্ক।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply