Golpo romantic golpo অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ সিজন ২

অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ সিজন ২ পর্ব ৮


অ্যারেঞ্জম্যারেজ২ — ৮ পর্ব

অবন্তিকা_তৃপ্তি

শোয়েব এসেছে. .ওরা আজকে কবুল বলে স্বামী-স্ত্রী হবে। আর আজ ওরা একসাথে এক ঘরে; এক বিছানায় শোবে। শোয়েব . .শোয়েব কি করবে আজ রাতে ওর সাথে? তিতলির বুক কেপে উঠে থরথরিয়ে.. !

তিতলি ওর মায়ের রুমটাতেই চুপচাপ বসে থাকল বাকিটাক্ষণ। সেখানে বসেই শুনতে পেল- কাজিন গ্রুপের হই-হল্লোর।খুব সম্ভবত ওরা গেট ধরেছে, টাকা নিবে শোয়েবের থেকে। আচ্ছা শোয়েব . .ওই যে যে তিতলির বর হবে, তাকে কেমন দেখাচ্ছে এখন? তিতলির তো খুব দেখতে মন চাইছে। রুমেও কেউ নেই এখন। তিতলি সাদা-লালের জামদানি শাড়িটার সাথে আজ লাল রঙ্গা ওড়না পড়েছে – যা এখন তিতলির খোপাটা ঢেকে রেখছে। তিতলি ওড়নাটা সামলে চুপটি করে এসে দরজার সামনে দাড়ালো। আশেপাশে মা নেই। তাই তিতলি উকি দিয়ে শোয়েবকে দেখার চেষ্টা করলো।

শোয়েব সবেই সোফায় বসেছে। তিতলির একজন দাদা শোয়েবের সাথে পান খেতে খেতে গল্প করছেন। শোয়েব ভদ্র মানুষের মতো চুপচাপ শুনছে, মাথাও দুলাচ্ছে। অথচ তিতলির এই দাদুর গসিপ খুব বোরিং লাগে। অথচ শোয়েব শুনছেও; মাঝেমধ্যে উত্তর দিচ্ছে। ভালোই ধৈর্য তার। তিতলি উকিঝুকি দিচ্ছিল, শোয়েব হঠাৎ এদিকে চোখ যেতেই দুজনের চোখাচোখী হয়ে গেল। বেচারি তিতলি চমকে ছিটকে সরে গেল সাথেসাথেক। শোয়েব ভ্রু কুচকাল,ছাগল একটা। দেখতে চাইলে দেখবে কি হয়েছে তাতে? উকিঝুকি করে দেখার কোনো দরকার আছে?

শোয়েবকে এনে মিষ্টি খাওয়ানো হলো। শোয়েবের বোন সায়মা তিতলির খুঁজে রুমটাতে এলো। তিতলি ওকে দেখে ওড়না সামলে মৃদু হাসল——‘আপু আসো।’

সায়মা আজ বেশ সুন্দর সফ্ট পিঙ্কের উপর জামদানি শাড়ি পড়েছে। ও মুচকি হেসে তিতলির পাশটায় বসল। তিতলিকে একবার দেখে বলল———‘শাড়িটা তোমাকে ভালোই মানিয়ে গেছে। শোয়েবকে বললাম আমি মাপটা নিক তোমার, অন্তত ব্লাউজের নিক। ওর নাকি লজ্জা করে মাপ চাইতে। তাই নিজের আন্দাজেই বানিয়েছে। ভালোই ফিট হয়েছে দেখছি।’

তিতলি লজ্জা পেয়ে গেল পুরোই। শোয়েব ওর মাপ কিভাবে আন্দাজ করে ফেলল? এই লোকটা তো বড্ড অশ্লীল। চোখের আন্দাজেই মেপে ফেলেছে ওকে।

সায়মা কথা তুলে———‘আমি শোয়েবের একটা ব্যাগ রেডি করেছি। তোমার রুমে রেখে দিয়ো। আজ তো থাকবে এখানে। কালকেই তো দৌড়াবে, পরশু হসপিটালও আছে।’

তিতলি জিজ্ঞেস করে—-‘ছুটি নেননি?’

‘না কীসের ছুটি নিবে। শোয়েব ছুটির ব্যাপারে বড্ড স্ট্রিক্ট। নিজেও নেয়না, ওর আন্ডারে কাউকে ছুটি দিতেও চায়না।’

তিতলি মুখটা লটকে শুনল। সায়মা ওর এমন মুখভঙ্গি দেখে হেসে বলল——‘এটা বড় সমস্যা না। কারণ বউ এলে এমন একটা দুটো বদ অভ্যাস ছেলেরা এমনি ছেড়ে দেয়। তুমি কিন্তু ওকে টাইট দিয়ে রাখবে। এখন থেকে রাখলে ভবিষ্যতে তোমাকে মান দিবে। নাহলে তোমাকে পিচ্চি, বাচ্চা আরও হাবিজাবি বলে দূরে রাখবে।’

তিতলি শুনে গেল। সায়মা বলল———‘শোয়েবের আরো একটা বদ অভ্যাস বলি, ও খুব লাজুক। লজ্জা মানে হেব্বি লজ্জা। আর তোমাদের বাসায় এলে এদিকে দেখতে হতে পারে।’

তিতলি মনেমনে হাসে। হাঁহ, শোয়েব নামক অভদ্রের আবার নাকি লজ্জাও আছে। সায়মা আপু একদমই চিনেনা নিজের ভাইটাকে।

সায়মা তিতলির সাথে বসে এসব আজগুবি গল্প করতে থাকে।
যেহেতু শোয়েবের ব্যাপারে বলেছে- তাই তিতলিও ভীষন আগ্রহ নিয়ে গল্প শুনতে থাকে।

পায়রা বেশ খানিকপর এলেন——‘তিতলিকে যেতে হবে, কাজী ডাকছে।’

সায়মা শুনে উঠে দাঁড়াল——‘চলো যাই।’

সায়মা হাত এগিয়ে দিতেই তিতলি মৃদু হেসে ওই হাতটা চেপে ধরলো। সায়মা তিতলিকে নিয়ে এগুলো, অপরপাশে পায়রাও মেয়ের সাথে এগুলেন।

শোয়েব সোফায় বসা ছিলো। একটা মিষ্টি সুঘ্রাণ শোয়েবের নাকে এসে লাগে, শোয়েব মাথাটা তুলে তাকাল। তিতলি এগুচ্ছে ওর দিকে। শোয়েব তাকাল, দেখল, পরপর মাথাটা আবার নামিয়ে নিলো।

তিতলিকে শোয়েবের পাশটায় বসানো হলো। শোয়েব ও বসতেই কিছুটা দূরে সরল। ঢং. . .তিতলি বিরক্তিতে বিড়বিড় করে।

শোয়েবের পাশের সোফায় সায়মা বসে আছে। পায়রা, আসাদ অন্য সোফায়। কাজী নিয়ম শেষ করে বিয়ে পড়ানো শুরু করলেন,

‘মা, তুমি এই বিয়েতে রাজি? রাজি হলে বলো কবুল।’

তিতলি একটু সময় নিলো। ওর গলা কাপছে কেন যেন হঠাৎ। কবুক বলতে নিলেই পারছে না- শুধু আটকে আসছে। অথচ তিতলি ভেবেছে— ও বিন্দাস ভীষণ, আরাম করে কবুল বলে ফেলতে পারবে। অথচ এখন বোঝা যায়- কবুল শব্দটা কতটা ভারি।

তিতলি কবুল বলতে সময় নিচ্ছে। এ পর্যায়ে আসাদ ডাকেন———‘ তিতলি. .বলো? তুমি নিশ্চিন্তে কবুল বলতে পারো, হু?’

তিতলি জোরে একটা শ্বাস নিলো। শোয়েব এ পর্যায়ে অস্থির তিতলির দিকে একটু ঘেঁষে বসলো। শোয়েব নিচু স্বরে শুধু তিতলিকে শুনিয়ে বলল——-‘কবুল বলে ফেলো তিতলি। আমি বোধহয় খুব একটা খারাপ স্বামী হবো না। যা হবো, স্রেফ তোমারই হবো।’

তিতলি শুনে ওই কথাগুলো। ও সময় নিলো। অনেকক্ষণ পর একদম আস্তে নিভু গলায় বলল——-

‘কবুল কবুল কবুল’

শোয়েবও মন দিয়ে শুনে ওই একটা শব্দ তিতলির মুখে।কাজী শোয়েবকে জিজ্ঞেস করলেন। শোয়েবও অল্প সময় নিয়ে বলে দিল,

‘কবুল।’

শেষ. ! বিয়ে পড়ানো শেষ।

আজ থেকে শোয়েব মুনতাসীর এবং রুবায়েত তিতলি বিবাহের বন্ধনে চলে এলো। ওরা নিজেদের লিখে দিল একে অন্যের নামে। সঙ্গে লিখে দিল নিজেদের সুখ-দুঃখ, ভালোবাসা,কিছু গোপন মুহর্ত, এবং একসাথে পথ চলার অঙ্গীকার।

বিয়ে শেষ হলে সবাই মিষ্টি খেলো। ভরপুর খাওয়া দাওয়া শেষ করে। সায়মা চলে যাবে এখন। পায়রা খুব জোর জবরদস্তি করলেও সায়মা থাকল না রাতে। পায়রা তাই আর জোর করতে পারলেন না। শুধু শোয়েব থাকলো, সেও কালকে চলে যাবে আবার।

পায়রা তিতলির কাছে রুমাকে পাঠালেন। রুমা এসে শোয়েবকে ডাকল—-‘ভাইয়া, আপু রুমে চলো, খালামনি রেস্ট নিতে বলেছে আপনাদের।’

শোয়েব তিতলির দিকে তাকাল। তিতলি আড়ষ্ট ভঙ্গিতে শোয়েবের দিকে তাকাতেই রুমা তিতলির কানের কাছে এসে বলল——‘এত নাটক না করে বাসর ঘরে ঢুকো বুঝছ? তোমার জামাইরে রুমে নিয়া যাইতে বলছে খালামনি।’

তিতলি কড়া চোখে তাকাল রুমার দিকে। রুমা দাঁড়িয়েই থাকলো। ওদের রুমে না দিয়ে আসা পর্যন্ত যাওয়া যাবে না। তিতলি এবার কিছু বলার আগে, ওর চাচা এসে শোয়েবকে বললেন——-‘শোয়েব তোমাকে তিতলির রুমটা দেখাচ্ছি, ফ্রেশ হয়ে নাও। আসো আমার সাথে।’

‘জী, আংকেল।’ — শোয়েব উনার সাথে চলে গেল।

তিতলি বসে থাকল একইভাবে। এসময় তিতলির মামি এলেন। তিতলির ছোট মামি তিনি: বেশ স্টাইলিশ; মর্ডার্ন একজন মহিলা। তিতলির পাশে বসে ওর গলার হার ঠিক করে দিয়ে বললেন——-‘রুমে যাবে এখন। শোয়েবকে সালাম করবে। ভদ্রভাবে জিজ্ঞেস করবে তার রুমটাতে অসুবিধা হচ্ছে কিনা। যদি কিছু হলে রুম থেকে আমাকে কল করবে। নিজে বেরুবে না। আর অজু আছে? না থাকলে অজু করে নামাজ আদায় করবে আগে। আল্লাহর কাছে রহমতের দোয়া করবে নিজেদের জন্যে। তারপর সব, বুঝেছো?’

তিতলির ভীষন-ভীষন লজ্জা লাগছিল। ও মাথাটা নামিয়ে দুপাশে মাথা দুলাল শুধু। ছোট মামি উঠে দাড়িয়ে বললেন—‘আসো রুমে দিয়ে আসি তোমাকে।’

তিতলিকে ছোটমামি ওর রুমের সামনে রেখে বললে—-‘রুমে যাও, আল্লাহ রহমত দিন। যাও।’

তিতলি আস্তে করে দরজাটা খুলে রুমে ঢুকে দরজা আটকে দিল। শোয়েব তখন তিতলির রুমের দাড়িয়ে দাড়িয়ে সাজানো বেড দেখছিল। তিতলি কুণ্ঠিত হয়ে ওর পাশটায় দাঁড়াল। শোয়েব তিতলির দিকে চেয়ে দেখল। পরপর বলে——‘বাসর ঘর এভাবে ফুলে না সাজালে কি বর-কনে বাসর করবে না? তোমার কি ধারণা তিতলি?’

তিতলি ভ্যবচ্যাকা খেয়ে গেল: এটা প্রথম রাত হিসেবে কেমন অদ্ভুত প্রশ্ন?

শোয়েব হেসে আবার নিজেই উত্তর দিল—‘ করবে, করবে। কারণ সামনে ইফতারি রেখে কেউ যেমন রোজা রাখবে না সন্ধার পর, তেমনি ঘরে বউ রেখে কেউ বেড সাজানোর অপেক্ষাও করবে না। তাইনা তিতলি?’

তিতলির মনে হলো- ও ঘামছে। শোয়েবও আজ অশ্লীল হচ্ছে ভীষণ। ও ইফতারি? ছি! কি ভাষা!

শোয়েব তিতলিকে এভাবে কুণ্ঠিত হতে দেখে ওর দিকে তাকিয়ে দেখে। বেচারি তিতলি ইও ইতিমধ্যেই ঘেমে একাকার। শোয়েব সেটা দেখে বলল——-‘আরে আমি মজা করছিলাম। এটা ফ্যাক্ট আরকি বললাম। এমনিতে আমি ভদ্রলোক।’

তিতলি শোয়েবের দিকে তাকাল এবার। শান্ত কণ্ঠে বলল——-‘পা এগুন।’

‘পা? কার পা?’ —- শোয়েব অবাক হয়।

তিতলি বিরক্ত হয়ে বলল——-‘ আপনার পা। সালাম করব। মামি শিখিয়ে দিয়েছে।’

শোয়েব উত্তর দিল——‘পা ধরে সালাম করবে না: ইসলামে নাই এটা। এমনিতে মুখে করো। তোমার মুখে সালাম শুনিনাই আমি। বলো দেখি কেমন শোনায়।’

তিতলি হা করে শ্বাস ফেলল। শোয়েবকে গতকালের কাহিনির জন্যে যথেষ্ট শাস্তি দেওয়াও হয়নি। তিতলি ভেবেছে ওটা সে আজ দিবে, এখনই দিবে।

তিতলি মুখে সালাম দিল—-‘আসসালামু আলাইকুম।’

শোয়েবও মজা নিয়ে উত্তর দিল——‘ওয়ালাইকুম আসসালাম, তিতলি।’

তিতলি কিরমির করে উঠে। ও কথা আর একটাই বললোনা। সোজা ওড়না খুলে টেবিলের উপর রেখে ওয়াশরুমে গেল। ওয়াশরুম থেকে শাড়ি পাল্টে আসতেই শটেন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। জিজ্ঞেস করল—-‘শাড়ি পালটালে কেন?’

‘কারণ আমি ছোট মানুষ। ছোট মানুষরা শাড়ি পরে না।’

তিতলির এক রোখা উত্তর। শোয়েবও কম যায়না বলল—-‘তাই? ছোট মানুষরা তাহলে বিয়ে করে বরের সাথে এক রুমে ঘুমায় নাকি? জানতাম না।’

তিতলি শোয়েবের দিকে ফিরল, কঠিন কণ্ঠে বলল—-‘আমার ধারণা. .আপনি আমাকে খুব লাইটলি নিচ্ছেন।’

শোয়েব অবাক——-‘লাইটলি নিচ্ছে? কে বলেছে এটা?’

তিতলি বলল——‘নিচ্ছেন। আপনি আমাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখলে আমাকে আব্বু-আম্মুর সাথে দেখার ব্যাপারটা জানতেন। এন্ড আপনি জানতেন আমি টেনশনে ছিলাম। আর যেহেতু প্ল্যানটা আমার, আপনার উচিত ছিলনা আমাকে বলার? অন্তত একটা মেসেজ হলেও?’

শোয়েব শুনে আহাম্মক হয়ে বলল——‘আরে এগুলো এখনো মনে নিয়ে বসে আছো নাকি? আমিও তো কতকিছু করব তোমার সাথে ভেবেছিলাম, তোমাকে এতটা মিষ্টি, বউ-বউ সাজ দেখে সেগুলো ভুলে গেছি। তাই তোমারও উচিত লক্ষ্মী বাচ্চার মতো এসব ঠুনক রাগ-অভিমান ভুলে যাওয়া।’

তিতলি কিছু বলল না। চুপ করে বিছানায় এসে বসল। শোয়েবও পাশে এসে বসল। তিতলি ভয় পাচ্ছে নাকি? শোয়েব ওর পাশটায় এগিয়ে এসে ধিমে স্বরে বলল,

‘লুক এট মি,‘তিতলি?’

তিতলি তাকাল না। শোয়েব এবার ওর থুতনিতে আঙুল ঠেকিয়ে ওর মুখটার ওর সামন আনল——-‘রাগটা কি শুধুই এটার জন্যে?এই কারণটা নিয়েই?’

তিতলি চোখ নামিয়ে নিলো। শোয়েব আবার বলল নম্র কণ্ঠে,

‘আমার চোখে তাকাও তিতলি। স্বামীর চোখে তাকানো যায়।’

তিতলি তাকাল চোখ তুলে। শোয়েব তিতলির ডাগর ডাগর মায়াবী চোখে চোখ রেখে বলল,

‘তুমি আমার উপর রেগে নেই। রেগে থাকলে উকিঝুকি দিয়ে আমাকে দেখতে না। তোমার রাগ আমাকে কবুল বলার সময়েই শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এখন. .এখন তুমি অভিনয় করছ।’

তিতলি জবাব দিলনা, চোখ নামিয়ে নিলো। শোয়েব আবার বলল; বড্ড নরম কণ্ঠে এবার——-‘ আমি যদি ভুল না আন্দাজ করি: তাহলে তুমি আজকের রাতে আমার থেকে পালানোর বাহানা খুঁজছো। এম আই রাইট?’

তিতলি সাথেসাথে অবাক হয়ে তাকাল শোয়েবের দিকে। শোয়েব মৃদু কণ্ঠে বলল——-‘সাইকিয়াট্রিক আমি।’

তিতলি লজ্জা পেয়ে গেল। মুখ লুকিয়ে নিয়ে বলল——-‘ভুল. . ভুল ভাবছেন। এমন কিছুই না।’

শোয়েব সাথেসাথে ওকে শুধরে দিল——-‘ভুল হলেও তোমার এই পালানোর আইডিয়াটা বেশ ইম্প্রেসিভ। ঝগড়া করে বাসর রাত কাটিয়ে দেওয়ার ধান্দাটা এই ছোট মাথায় এলো কি করে?’

শোয়েব কথাটা বলে তিতলির কপালে একটা খোচা দিল। তিতলি হেসে ফেলল কেন যেন। শোয়েব বলল এইবার—-

‘উই উইল টেইক এনাফ টাইম. . ফিজিকাল সম্পর্কের আগে মেন্টালি অ্যাটাচ হওয়াটা জরুরি। আমি তোমাকে সেই সময়টাও দিব: আর নিজেকেও সময় দিব তোমার জন্যে। চিন্তা করার কারণ নেই।’

তিতলি চুপ, পরপর হালকা হাসল, মাথা দুলাল। ওর সকাল থেকে অনেক মাথায় ঘুরছিল এসব। এখন শান্তি লাগছে।

শোয়েব এবার বলল——‘কিন্তু তিতলি, আমার একটা আফসোস আছে; দুঃখও বলতে পারো।’

তিতলি আগ্রহ দেখায়——‘কি সেটা?’

শোয়েব ভীষণ কাতর কণ্ঠে আফসোস করে বলল——‘শাড়িটা খুললে কেন? আমি তো ভালো করে দেখিইনি তোমায় তিতলি।’

তিতলি লজ্জা পেল; মিনমিন করে বলল——‘পরে আসব আবার?’

শোয়েব—-‘হু?’

‘পরে আসবো আবার?’
‘শাড়ি পড়তে পারো?’ —- শোয়েব জিজ্ঞেস করে।
‘হু, পারি।’

তিতলি ভীষণ গর্ব করে বলল এটা। শোয়েব শুনে কিছুক্ষণ তিতলির দিকে চেয়ে রইল। তিতলি বুঝেনা- ও শাড়ি পড়তে জানে সেটা শুনে শোয়েব কি অখুশি হয়েছে? মুখ লটকে গেল কেন ওর!

চলবে

সবাই মন্তব্য করবেন প্লিজ! জ্বর নিয়ে লেখা এই পর্বটা। আরেকটু স্পেশাল করার ছিলো, আগামী পর্বে শুধু ওদের স্পেশাল মুহূর্ত দিব। আজকে অলরেডি মাথা ঘুরতেসে। এলোমেলো লেখা এটা, হয়তো এত ভালো লাগবে না সবার। সরি আগে থেকেই সেজন্যে।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply