অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ সিজন ২ পর্ব ৭
অবন্তিকা_তৃপ্তি
তিতলি সবেই কলেজ থেকে ফিরেছে। আজ সারাদিন ওর মাথা চিন্তাতে অস্থির ছিলো। শোয়েবের আজ পায়রা এবং আসাদ অর্থাৎ তিতলির বাবা-মায়ের সাথে দেখা করার কথা ছিলো। কখন দেখা করবে এতবার জিজ্ঞেস করার পরেও শোয়েব ফাতরা ওই লোক তিতলিকে টাইম জানায়নি। সেই চিন্তায় কলেজেও ঠিকঠাক মনোযোগ দিতে পারেনি ও।
তিতলি ঘরে ঢুকে সবার আগে ওয়াইফাই কানেক্ট করে শোয়েবের আইডিতে ঢুকে মেসেজ করল—-
~ আসবেন কখন আপনারা? আপনার আমাকে টাইমটা জানানো উচিত।
বেশ খানিকপর শোয়েবের একটা ভয়েজ নোট এলো রিপ্লাইতে, শোয়েব ভীষণ নিচু স্বরে বলছে,
~ হসপিটালে আমি, কথা বলতে পারব না এখন; অন ডিউটি। আর ছোট মানুষের এত টেনশন করার কোনও কারণ নেই। কলেজ থেকে ফিরে ঘুম দাও। বাই!
তিতলির এই ভয়েজ শুনে গেল মেজাজটা গরম হয়ে। মাঝেমধ্যে তিতলির মন চায়- শোয়েবকে গরম কড়াইতে কড়া কড়া ভেজে ফেলতে। তিতলি ওর এক জীবনে শোয়েবের মতো ঘাড় ত্যাড়া লোক দুটো দেখেনি।
তিতলি রাগে ফোনটা অফ করবে: হঠাৎ কি মনে করে ফেসবুকে মেসেঞ্জারে ঢুকলো। সবার আগেই নতুন একটা গ্রুপ চোখে পড়ল; তিতলিকেও এড করা হয়েছে গ্রুপ। গ্রুপের নাম,
‘বলুন কবুল’
এটা আবার কেমন নাম? মেসেঞ্জার গ্রুপটা খুললো কে? তিতলি বিতৃষ্ণা নিয়ে গ্রুপ ঢুকে এড হলো। ইতিমধ্যেই দেখা গেল তিতলির বংশের যত ক্লোজ কাজিনগ্রুপ আছে সবাই এই গ্রুপে আছে। সাথে আসে তিতলির বিশেষ একখান বর; শোয়েব মুনতাসীর।
সারারাত শোয়েবকে তিতলির কাজিন গ্রুপ পচিয়েছে ভীষণ। শোয়েবও বেশ আরাম করে ওদের জবাব দিয়েছে। ওরা অনেক ফাতরামি করলেও শোয়েব সেগুলোর রিপ্লাইও বেশ ভদ্রভাবেই দিচ্ছে। গ্রুপ কতগুলো ছবি দেখা গেল।
তিতলি ঢুকে ফটোতে। আজকে পাঠানো ছবি এগুলো।
তিতলি হা হয়ে যায় একদম। শোয়েব আজ পায়রা-আসাদকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে ব্রেকফাস্ট করিয়েছে। শোয়েব সেগুলির ছবি দিয়েছে গ্রুপে। কাজিনগ্রুপ তো রীতিমত হই-হল্লোর করে শোয়েবের থেকে ট্রিট চাচ্ছে এরপর থেকে। শোয়েব সেগুলোর আর তেমন রিপ্লাই করেনি, হয়তো ডিউটিতে আছে।
তিতলি অবাক হলো ভীষণ। এরমানে কি দাড়াচ্ছে? শোয়েব, ওই ধুরন্দর লোকটা সবাইকে মানিয়েও ফেলেছে ইতিমধ্যে? তিতলিকে জানাল না অব্দি!
তিতলির রাগ বাড়তেই থাকে ক্রমশ! ও শোয়েবকে এবার ইদিতে ডাইরেক্ট মেসেজ করে, ফটোগুলো সেন্ড করে লিখে,
~ বাবা-আম্মুর সাথে দেখা করলেন, আমাকে জানালেন না কেন?
শোয়েব সিন করেছে, লিখল,
~ ব্যস্ত ছিলাম; ছবিটা সেন্ড করেই ডিউটিতে ঢুকেছি।
তিতলি পালটা মেসেজ করে,
~ একটা মেসেজ মাত্র; চাইলেই জানাতে পারতেন। আমি টেনশন করছিলাম।
শোয়েব লিখল,
~ সারপ্রাইজও দেওয়ার ইচ্ছা ছিলো। হয়েছো সারপ্রাইজ?
তিতলি রেগে এবার আগুন হয়ে লিখল,
~ এমন ফালতু সারপ্রাইজ আমার চাইনা। আপনি প্লিজ কখনো আমাকে মেসেজ করবেন না আর।
তিতলি কথাটা বলেই ফোন অফ করে রেখে দিল। শোয়েবও অবাক ওদিকে। মেসেজ করে ও,
~ মানে কি?কাল আমাদের বিয়ে তিতলি। কি বাচ্চামো এসব।
মেসেজ ঢুকলো না শোয়েবের। শোয়েব বুঝে তিতলি অফলাইনে। ও আর ঘাটালো না, বেরিয়ে গেল অনলাইন থেকে নিজেও।
তিতলি ভালোই রেগে ছিলো। ফ্রেশ হয়ে খাওয়া-দাওয়া না করেই দরজা আটকে ঘুম দিল একটা। ঘুম থেকে উঠে যখন তখন প্রায় সন্ধ্যা। তিতলি ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে এসে দেখে পায়রা প্লেটে খাবার নিয়ে বিছানায় বসে আছেন। তিতলি চুল ক্লাচারে আটকে দিতে দিতে বলল——-‘খাইয়ে দিবে নাকি?’
পায়রা গম্ভীর স্বরে ভাত মাখতে মাখতে বললেন——-‘হ্যাঁ। বসো এসে পাশে। সকাল থেকে না খাওয়া: এভাবে থাকলে অসুস্থ হয়ে যাবে। ইদানিং একটু বেশী শরীরের প্রতি গাফলতি করে যাচ্ছ তুমি তিতলি।’
তিতলি কি করবে আর। ওভাবেই এসে পায়রার পাশে বসল। পায়রা ভাতের লোকমা তিতলির মুখে তুলে দিতে দিতে বললেন——‘শোয়েবের সাথে আজ কথা হয়েছিল। রিহাদ-ওর বোনের ব্যাপারটা নিয়ে।’
তিতলি তাকাল এবার মায়ের দিকে। পায়রা বলে গেলেন———-‘রিহাদের আচরণ আমার জানা আছে। সবসময়ই মেজাজি ছিলো; মদ খেতে শুরু করে বিয়ের পর শুনেছিলাম। জুয়াতেও ছিল কদিন। আমি তেমন জানতাম না ওদের ব্যাপারে। ওরা তো বগুড়া থাকত স্বামী-স্ত্রী আর ওর পরিবার নিয়ে। তাই দুরুত্ব থাকায় তেমন জানা-জানি ছিলোনা। ফোনেই শুনেছিলাম ডিভোর্সের কথা। তবে তার আগে বেশ বদনাম শুনেছি রিহাদের। বৌটা নাকি অনেক কষ্ট নিয়ে ডিভোর্স দিয়েছিলো। সেসময় এসব শুনে মনে হয়নি- আজ এভাবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এভাবে সম্পর্কগুলোর দেখা দিবে। সবই কপাল। আর পৃথিবীটাও গোল।’
তিতলি সব শুনে। হঠাৎ করে শোয়েবের বোনের জন্যে বড্ড মায়া লাগতে শুরু করে ওর। আসলেই শোয়েবের ওই রিহাদ মামাকে গা-লি দেওয়া খাটে; মানায়ও।
তিতলি খাচ্ছে। পায়রা বললেন——-‘আগামীকাল আকদ করার কথা বলছে ওরা: তোমার কি মত?’
‘আগামীকাল? একটু বেশি দ্রুত হয়ে গেল না?’ —- তিতলি অবাক হয়ে বলল।
পায়রা তাকালেন তিতলির দিকে——‘কেন? কোনো অসুবিধা আছে তোমার? শোয়েব বা তার পরিবার নিয়ে কোনপ্রকার সন্দেহ থাকলে আমাকে বলো।’
তিতলি দমে গেল, ছোট গলায়——-‘না তেমন কোনো অসুবিধা না।’
‘তাহলে সম্পর্কটা হালাল করো। প্রিপারেশন নাও। পার্লারে যাবে?’ — পায়রা বললেন।
‘হু। পেডিকিউর আর ম্যানিকিউরটা করি?’ —- তিতলি বলল।
পায়রা তিতলির হাত-পা দেখে ভেবে বললেন——‘সাথে ফেশিয়াল করে ফেলো। রুমা আসছে, ও কাল নিয়ে যাবে তোমাকে। টাকা বিকাশ করে দিয়ো, আমি পাঠাচ্ছি তোমার একাউন্টে।’
‘হু।’ — তিতলি ছোট কণ্ঠে বলল।
পায়রা ওকে খাইয়ে দিয়ে চলে গেলেন। তিতলি এতক্ষণে ফোনটা তুলল হাতে। ফোন অন করে ডেকজে শোয়েবের অনেকগুলো কল এসেছে। তিতলি কল ব্যাক করে না। শেষপর্যন্ত শোয়েবের লাস্ট একটা মেসেজ আসলো,
~ কালকে আপনার খবর আছে, মিস তিতলি! সো বি রেডি. .!’
সাথে একটা শয়তানি হাসির ইমোজি.! এক বাক্যের একটা মেসেজ। অথচ তিতলি ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে গেল পুরোটাই। ও চুপচাপ শোয়েবের মেসেজ সিন করে ফোন অফ করে রেখে দিল আবার.
—————-
পায়রানিবাসে,
তিতলিদের ছোট ফ্ল্যাটটা সাজানো হচ্ছে আজ। তিতলি পার্লার থেকে ফিরে গোসল ঢুকেছে। গোসল করলও বেশ সময় নিয়ে। গোসল থেকে বেরিয়ে তিতলি তো পুরো আহাম্মক হয়ে গেল একদম। হা করে নিজের রুমটা একবার দেখে সাথেসাথেই এগিয়ে এলো,
‘এই আমার বেড এ ফুল দিয়ে সাজাচ্ছিস কেন এক্ষুনি? আম্মু দেখলে চিল্লাবে। সরা এগুলা। রুমার বাচ্চা। সরা এসব এক্ষুনি।’
তিতলি ভয়ে আধমরা হয়ে যাচ্ছে এসব দেখে। রুমা বেডের উপর সুন্দর করে ফুল দিয়ে লিখে দিল,
T❤️S
তিতলি লজ্জায় শেষ ওদিকে। রুমা জবাব দিল,—-‘খালামনিই বলেছে তোমার বেড সাজিয়ে দিতে।’
‘আম্মু বলেছে? ‘ — তিতলি অবাক হলো।
পাশ থেকে ইমা বলল——‘তোমার বর বাসর কাটাবে আজ শশুরবাড়ি। তোমাদের প্রথম রাত, তাই বেড তো সাজানো লাগবে।’
তিতলির মাথাতে এতক্ষণে সব ক্যাচ করল। পায়রা ওদিকে ওদের চিৎকার-চেচামেচি শুনে রান্নাঘর থেকে রুমে এলেন—-‘তিতলি কি হচ্ছে?’
তিতলি মায়ের দিকে তাকাল। লজ্জায় শেষ ও তখনও। পায়রা বেড একবার দেখে গম্ভীর চোখে তিতলির দিকে তাকিয়ে বললেন——-‘এই রুমে আর আসবে না আজ তুমি। আমার রুমে রেডি হও, যাও। আর রুমা তোমরা সাজানো শেষ করে রুমটা তালা দিয়ে দিবে। বুঝেছো?’
পায়রা চলে গেলেন নিজের মতো। তিতলি অবাক হয়ে রুমাদের দিকে তাকিয়ে বলল———‘আমার রুমে আমি আসব না? কেন ভাই?’
রুমা জবাব দিল——-‘কারণ বিয়ের আগে নিজের বাসর ঘর বৌরা দেখেনা তাই। এত কথা না বলে বের হও রুম থেকে: আমরা রুমের ফাইনাল টাচ দিব এখন। তোমার এসব দেখা লাগবে না। বের হও তুমি।’
তিতলি মুখ ভেংচাল। পরে ওর প্রয়োজনীয় সবকিছু নিয়ে রুম টুকে বেরিয়ে মায়ের রুমে চলে গেল।
মায়ের রুমে,
তিতলির প্রায় তৈরি হওয়া শেষ। হঠাৎ রুমারা দৌড়ে এলো তিতলির কাছে। তিতলি তখন মাথার টিকলি সেট করেছিল। রুমা তিতলির পাশে এসে বসে বলল,
—-‘ তিতলি, তোর বর এসেছে। পুরো হিরোর মতো দেখতে ভাই সামনা -সামনি। দাদিমা তো তোর বরের মুখের উপরেই বলে দিয়েছে, চান্দের মতো জামাই।’
রুমা কথাগুলো বলতে বলতে হেসে ফেলেছে। ওদিকে তিতলির বুকটা কাঁপছে।
শোয়েব এসেছে. .ওরা আজকে কবুল বলে স্বামী-স্ত্রী হবে। আর আজ ওরা একসাথে এক ঘরে; এক বিছানায় শোবে। শোয়েব . .শোয়েব কি করবে আজ রাতে ওর সাথে? তিতলির বুক কেপে উঠে থরথরিয়ে.. !
চলবে
প্লিজ সবাই একটু মন খুলে রিঅ্যাক্ট-কমেন্ট করবেন আজকে। পেইজের রিচ একদমই নেই।
Share On:
TAGS: অবন্তিকা তৃপ্তি, অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩৯
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ২২
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ২০
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৫০
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ১৮
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩২
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৫১
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৫৩
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৪১
-
ডেনিম জ্যাকেট অন্তিম পর্ব