অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ০৭]
লেখিকাফারহানানিঝুম
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়)
নিস্তব্ধ এই রাতে একটুকরো আলোর আশা দেখতে পেয়ে হকচকিয়ে গেল ন্যান্সি। এক মূহুর্তের জন্য মনে হলো হয়তো এ যাত্রায় বেঁচে যাবে। গাড়ির ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো এক পুরুষ , হ্যাঁ তাকে চিনে ন্যান্সি। এ তো সেই পুরুষ যাকে কিছু দিন পূর্বে বাঁচিয়েছিল ন্যান্সি। পরণে কালো রঙের শার্ট আর তার উপরে ওভার কোট রয়েছে। অদ্ভুত সুন্দর লোকটা।কাঁধ ছুঁয়ে নেমে আসা ঢেউখেলানো কোঁকড়ানো চুল, তার চুলগুলো ঠিক মাঝারি লম্বা ,না ছোট, না একেবারে বড় তবে ঘন ও প্রাণবন্ত। মাথার সামনের দিক থেকে পেছন দিকে ঝুলে পড়া চুলগুলো তার কপাল ছুঁয়ে যায়। মুখের গড়ন তীক্ষ্ণ গাল একদম পরিষ্কার , একটুও দাড়ি নেই এবং ভ্রুতে আছে এক অদ্ভুত আকর্ষণ। গালের হালকা ছায়া আর ত্বকের বাদামি আভা তাকে আরও পুরুষালী করে তোলেছে । চোয়াল দৃঢ়, যেন ইস্পাতে গঠিত। চোখজোড়া গভীর, ঘন কালো পল্লব আর সবচেয়ে সুন্দর তার নীলাভ মনি জোড়া। প্রশস্ত বুক, দৃঢ় বাহু আর সুঠাম পেশি ।বুকে পড়ে থাকা গোল সূর্যের মতো ট্যাটু টা উল্কি দিচ্ছে। অদ্ভুত গোল ট্যাটু একদম সূর্যের মতো। মাত্রাতিরিক্ত সুন্দর পুরুষ।
লোকটাকে দেখে পিছুনে আসা লোক গুলোর কথা ভুলে বসেছে ন্যান্সি। মুখের মাস্ক টা ভেতরেই ফেলে এসেছে আফরিদ।
ন্যান্সি কে দেখে কপালে ভাঁজ পড়লো তার। তিরিক্ষি মেজাজে বলে উঠে।
“হোয়্যাট?”
কল্পনা থেকে বেরিয়ে এলো ন্যান্সি ,ঘেমে একাকার মেয়েটা। কাঁপা কাঁপা স্বরে বলে।
“ওই..ওই লোক গুলো আমার পিছু নিয়েছে।”
ন্যান্সির পিছনে উঁকি দিলো আফরিদ , দৌড়ে কিছু লোক এগিয়ে আসছে। আফরিদ কে দেখে থামলো তাদের পা জোড়া।
“ওই ভালো চাইলে মেয়েটাকে রাখ আর এখান থেকে বিদায় হ।”
বিরক্তিতে ‘চ’ শব্দে আওয়াজ করে আফরিদ।
“অ্যাঞ্জেলিনা ক্লোজ ইউর আইস, কাভার ইউর ইয়ার্স।”
আফরিদের কথার অর্থ বোধগম্য হলো না ন্যান্সির।
“উহ…
“অ্যাঞ্জেলিনা ক্লোজ ইউর আইস কাভার ইউর ইয়ার্স রাইট নাউ। আগামী দশ মিনিট এভাবেই থাকবে।”
কেঁপে উঠল ন্যান্সি , খিঁচিয়ে বুঁজে নিল আঁখিদ্বয় আর চেপে ধরে কান দু’টো।
লোক গুলো তখনো তাকিয়ে আছে আফরিদের দিকে। আফরিদ মোটেও চায় না অ্যাঞ্জেলিনা তার মুখের চমৎকার ভাষা গুলো শুনে বেহুঁশ হোক। আফটার অল মাইয়া মানুষ বলে কথা জেন্টলম্যান থাকতেই হবে।আফরিদ দাঁতে দাঁত পিষে বলে উঠে।
“ইউ ব্লাডি মাদারফাকার, তোদের সব গুলোর টুনটুনি কেটে আমি কু’ত্তা কে খাওয়াবো। খা***নকির বাচ্চরা। “
আফরিদ পকেট থেকে রিভলবার টা বার ক্রমেই
ছেলে গুলো আঁতকে উঠে , লোক গুলো আর থামে না, দৌড় লাগালো পিছন দিকে। পকেট থেকে ফোন বের করে কাউকে ম্যাসেজ করে। ফোনটা গাড়ির ভেতর ফেলে নৈঃশব্দ্যে এগিয়ে এলো আফরিদ , তখনো কাঁপছে ন্যান্সি। চোখ দুটো খুলছে না। চাইছে আরো খিঁচিয়ে ভেতরে নিয়ে নিতে। আফরিদ চায় না এই রমণীর সামনে মুখ খারাপ করতে। ভাষা শুনে যেন অজ্ঞান না হয়। ওষ্ঠো বাঁকিয়ে বাঁকা হাসলো আফরিদ , মেয়েটা তার সামনে পিঁপড়ার মতো লাগছে। লম্বাটে আফরিদ একটু ঝুঁকে এলো ন্যান্সির মুখ পানে। কি জানি কি হলো ঠোঁট গোল করে ফু দিয়ে পুরো মুখশ্রী জুড়ে। ফিসফিসিয়ে বললো।
“ওপেন ইউর আইস অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা।”
আঁখি মেলে তাকাল ন্যান্সি , আতঙ্কিত ন্যান্সির ওষ্ঠো কাঁপে। মুখ উঁচিয়ে তাকালো আফরিদের মুখ পানে। পরক্ষণেই পিছন ফিরে তাকালো নেই কেউ। পালিয়েছে লোক গুলো।
আফরিদ দীর্ঘ শ্বাস ফেলে পরণের স্যুট টা খুলতে লাগল। আঁতকে উঠে ন্যান্সি ,লোকটা কি ওদের একজন?
“কি করছেন? দেখুন আমি কিন্তু….
“স্টপ ওভারথিংকিং।”
আরো একবার কেঁপে উঠে ন্যান্সি ,স্যুট টা নিজের গায়ে আবিষ্কার করে চমকে যায়।
“গেট ইন দ্য কার, আই’ল ড্রপ ইউ।”
পিটপিট চোখ করে তাকায় ন্যান্সি। অন্তর কাঁপে তার। কম্পিত চিত্তে বলে উঠে।
“আমি পারব,আ.. আপনি চলে যান।”
“গেট ইন দ্য কার।”
তীব্র অধিকারবোধ আর অস্থিরতায় গলার স্বর কাঁপছে আফরিদের । তার এই আওয়াজে নাজুক সত্তার মেয়েটার শরীরেও এক সন্ত্রস্ত কম্পন ছড়িয়ে পড়লো। ছোট ছোট পা কাঁপতে কাঁপতে গাড়ির আসনে উঠে বসে গেল সে। চোখ ভরা অচেনা ভাব নিয়ে একবার সন্দেহভাজন দৃষ্টিতে তাকালো সেই সুশ্রী মুখাবয়বের দিকে। মৃদু আলোর মাঝে ছায়া খুঁজে পেতে চায়। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই ফিরে নিল তার দৃষ্টি, যেন অচেনা সৌন্দর্যের সম্মুখীন হয়ে বিভ্রান্ত হয়ে গেছে মনের গভীরে।
পুরুষটি, যার রূপের গভীরতা চোখে মেখে ছিল, আড় চোখে তাকিয়ে আছে অ্যাঞ্জেলিনার দিকে। ওপর তার ভঙ্গিমায় বিরক্তির রেশ মাত্র নেই। এক কোমলতা লুকিয়ে আছে। মেয়েটির নীরবতা, তার ভঙ্গুরতা যেন এক সূক্ষ্ম সুরের মতো, যা শুধু তীব্র হৃদয়ই উপলব্ধি করতে পারে। মাথা নত করে চুপচাপ বসে থাকা মেয়েটির মধ্যকার অদ্ভুত স্নিগ্ধতা যেন এক অভিজাত নিঃশব্দ চিত্র। আফরিদ ওষ্ঠো কামড়ে হাসলো। এত লজ্জা লজ্জা লাগে কেন?
ন্যান্সি বারংবার আড় চোখে তাকেই দেখছে । আফরিদের বাজপাখির দৃষ্টিতে এড়াতে পারলো না তা। এই মূহুর্তে আফরিদ ইচ্ছে করছে একটা গান ধরতে।
Aisa na mujhe tum dekho
Seene se laga loonga
Tumko main chura loonga tumse
Dil mein chhupa loonga
লজ্জায় লাল নীল হওয়ার ভান ধরেছে আফরিদ। মনে মনে বলছে।
“কারেন্টের পাওয়ার এত কম কেন ? কিছু দিন পর সিস্টেমে বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিবে।”
“থ্যাংক ইউ সাহায্য করার জন্য।”
আফরিদ ভ্রু নাচিয়ে বলল।
“ওয়েল কাম।”
ন্যান্সি আমতা আমতা করে বলল।
“আমাকে বাড়ির থেকে কিছুটা দূরে নামিয়ে দিবেন প্লিজ।”
“কেনো?”
ন্যান্সি বুঝাতে কি করে রাতবিরেতে কেউ এভাবে দেখলে কি না কি বলবে!
“না এমনি।”
আফরিদের হার্টবিট এত ফাস্ট চলছে যে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছে না সে। তৎক্ষণাৎ এসএম অন করতেই বিশ্রী গানটা বেজে উঠল।
” কারো প্রেমে পড়লাম না রে
মজা কি বুঝলাম না রে
শুনলাম না মোবাইল ফোনে আই লাভ ইউ।”
ঠোঁটে ঠোঁট চেপে হেসে ফেলল ন্যান্সি। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে হাসিটা দেখে আফরিদ।
“ওই ছ্যাঁমড়ি এমনে হাসিস না, না হলে আমার লাইটের সুইচ অন করে দিমু।”
কথাটা কন্ঠনালিতে রয়ে গেল। বলতেই পারলো না আফরিদ এহসান।
ন্যান্সি কে পিছু করা ছেলে গুলো কে আটকে রাখা হয়েছে ,চোখে রুমাল বাঁধা। খালি বড় এক ময়দানে তাদের কে বেঁধে রাখা হয়েছে। কিয়ৎক্ষণের মধ্যেই আফরিদ এহসান প্রবেশ করলো “রেড সাইলেন্স ম্যানর” রে।এই হাউস এমন এক জায়গা, যেখানে মানুষ একবার প্রবেশ করলে আর ফিরে আসে না। ভেতরে শুধু রক্ত, আর্তনাদ আর মৃ’ত্যু।
❝রেড সাইলেন্স ম্যানর❞ কাঁপুনি ধরে যায় হাড়ের গভীরে। এক বিশাল, পরিত্যক্ত জমির উপর দাঁড়িয়ে আছে এই গা ছমছমে প্রাসাদটি। বাইরের দেয়ালগুলো ধূসর, ধূলিমাখা, আর ফাটল ধরা। সময় নিজে হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে গেছে মৃত্যুর ইতিহাস। বাতাসে ভেসে আসছে স্যাঁতসেঁতে দেয়ালের গন্ধ।
প্রাসাদের ঠিক মাঝখানে রয়েছে এক বিরাট ময়দান চারপাশে ইট পাথরের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা, ওপরে খোলা আকাশ, কিন্তু সেই আকাশও যেন এখানে র’ক্তিম হয়ে নামে।
এই ময়দানে রয়েছে লোহার তৈরি বিশাল খাঁচা আর সেলে বন্দী কিছু জঙ্গলী কুকুর। তবে তারা সাধারণ কুকুর নয়। উগ্র, র’ক্তপিপাসু, প্রশিক্ষিত মানুষখেকো। তাদের চোখে অনাহারের ক্ষুধা, আর মুখে লেগে আছে আগের শিকারদের র’ক্ত। যখন প্রাসাদের বাসিন্দারা কাউকে শাস্তি দেয়, তাকে নিয়ে আসা হয় এই ময়দানে। একবার ছেড়ে দিলে, কুকুরগুলো দলবেঁধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই কেবল র’ক্তের ছিটা আর হাড়গোড় পড়ে থাকে মাঠের এক কোণে।
“বস,সব কিছু রেডি।”
উঁচু পাথরের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আছে আফরিদ এহসান। একহাতে দেয়াল ভর করে রাখা, অন্য হাত ধীরে ধীরে বাড়িয়ে দিতেই পাশে থাকা ঈশান মাথা নিচু করে এগিয়ে দেয় জ্ব’লন্ত সিগারেট। নিঃশব্দে এক দীর্ঘ টান নিয়ে ছাড়ে ধোঁয়া ধোঁয়া যেন আকাশ ছুঁয়ে আবার নেমে আসে প্রাসাদের দেয়ালে। চোখে মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই।
নিচে, ময়দানের পাথুরে মাটিতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে কয়েকজন পুরুষ। তাদের চোখের ওপর কাপড় বাঁধা, শরীর রক্তাক্ত। মাফিয়া কিং নিচে একবার দৃষ্টি ফেলতেই গার্ডরা তার আদেশে কাপড় খুলে দেয় বন্দীদের চোখ থেকে। হঠাৎ আলোয় চোখে পড়ে যায় সেই পুরুষ উঁচু থেকে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে সেই ভয়ংকর চোখে। তার চোখে কোন আবেগ নেই, আছে তী’ক্ষ্ণ ঘৃণা আর পৈশাচিক তৃপ্তির ক্ষুধা। বন্দীরা কেঁপে উঠে ।
তাদের সেই ভয় দেখতে দেখতে ঠোঁটের কোণে কিঞ্চিৎ বাঁক নেয় আফরিদের । ঠোঁটে তা কি হাসি? নাকি নিছক পৈশাচিক আনন্দ?
আফরিদ হেসে বলল।
“হ্যালো শাউ’য়্যার নাতিরা কেমন আছো?”
লোক গুলো ভয়ে সেঁটে যাচ্ছে। আফরিদ হাসে , ওদের ভয় পেতে দেখে পৈশাচিক আনন্দ হচ্ছে তার।
তার কণ্ঠে বিষের মতো ঘনীভূত আদেশ ছুড়ে দেয়।
“ঈশান ছেড়ে দে ব্লাডি মাদারফাকার গুলোর উপর আমার আদুরে কুকুর গুলো কে।”
ঈশান, মাথা নোয়ায়ে আদেশ পালন করে। এক ইশারায় গার্ডরা দৌড়ে ময়দান ত্যাগ করে, বন্ধ করে দেয় সমস্ত দরজা। চারদিক আটকে যায় পাথরের দেয়ালে, ওপরে শুধু খোলা আকাশ।
ঈশান বোতামে চাপ দিতেই সেলে বন্দী থাকা কুকুরগুলোর লোহার গেট খুলে যায়। বিকৃত স্বরে গর্জে ওঠে তারা চোখে ক্ষুধা’র উন্মত্ততা, দাঁতে ঝরে পড়া ফেনা আর লালার সঙ্গে মিশে আছে আগের শিকারদের রক্ত।
বন্দীরা আর্তনাদ করে ছুটতে শুরু করে। কেউ কাঁদছে, কেউ সাহায্য চাইছে, কেউ হাঁটু গেড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করছে কিন্তু মাফিয়া কিং তো করুণা বোঝে না।
এক এক করে ছিঁড়ে খায় কুকুরগুলো তাদের হাড় চিবানোর শব্দ । দিগ্বিদিক ছুটোছুটিতে কেউ ধরা পড়ে কয়েক সেকেন্ডে, কেউ একটু সময় পায়, কিন্তু শেষ বাঁচে না কেউই।
উঁচু থেকে দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য দেখে ঠান্ডা দৃষ্টিতে সেই পুরুষ ব্লাডিবিস্ট অপরাধ জগতের নির্মমতম মুখ।
“আমি তৃপ্তি পাই র’ক্ত দেখে, বিশেষ করে তাদের র’ক্ত দেখে যারা অ্যাঞ্জেলিনা কে বাজে নজরে দেখে। মাদারফাকারের দল।”
সিগারেট ফেলে সামনের দিকে এগুতে লাগলো আফরিদ ,চোখে মুখে এক অদ্ভুত তৃপ্তি।
“ঈশান কল দ্য হেলিকপ্টার রাইট নাউ।”
“ওকে বস। কিন্তু যাচ্ছেন কোথায়?”
আফরিদ বত্রিশ পাটি দাঁত দেখিয়ে বলল।
“বিদেশী মা’ল খেতে।”
ঈশান দ্রুত হেলিকপ্টার খবর দিলো। এই মূহুর্তে তার প্যালেসে যাওয়া প্রয়োজন।
বিছানায় এক কোণে বসে আছে ন্যান্সি ,তার ঠিক সামনেই মোড়ায় বসে আছে তন্বী। তন্বীর চুলে তেল লাগিয়ে দিচ্ছে ন্যান্সি। চুল গুলো কেমন রুক্ষ হয়ে আছে।
বড় বিতৃষ্ণা নিয়ে বলল।
“চুল গুলোর কি অবস্থা করে রেখেছিস?”
তন্বী ভাবনায় মগ্ন। আজ দুপুরে একটা লোক এসেছিল বাড়িতে পিছনে। লোকটাকে যেন এর আগেও কোথাও একটা দেখেছে সে।
“কি রে কি ভাবছিস?”
ঘোর কাটলো তন্বীর।
“আচ্ছা আপু রাতে যে ওই তোমাকে কালো গাড়ি করে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে গেলো। লোকটা কে গো?”
ন্যান্সি চমকালো , শুকনো ঠোঁট জোড়া আলতো করে ভিজিয়ে নিলো। রাতের কথাটা এখনো মনে আছে তার। ওই লম্বাটে পুরুষ , সুশ্রী মুখখানি। সবটাই কেমন ঘোর লাগার মতো।
ন্যান্সি কে চুপ থাকতে দেখে তন্বী মাথা ঘুরে তাকালো।
“কি হলো চুপ কেন তুমি?”
ন্যান্সি আনমনা হয়ে বলল।
“একটা বিপদে পড়েছিলাম,ওই লোকটাই হেল্প করেছিল।”তন্বী ছোট্ট করে জবাব দিলো।
“ও আচ্ছা, আমি আরো ভাবলাম তুমি প্রেম টেম করছো নাকি!”
দৃষ্টি জোড়া সুঁচালো হয়ে এলো ন্যান্সির। স্ফীত কন্ঠে বলে।
“তা এটা মনে হওয়ার কারণ?”
ঠোঁট টিপে হেসে ফেললো তন্বী।
“না আমি তো অবাক হয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল ভীতু ন্যান্সি আপুও প্রেম করছে শেষমেষ।”
সহসা তন্বীর কান টেনে ধরলো ন্যান্সি।
“বেশী পাকা পাকা কথা বলছিস আজকাল।”
তন্বী ব্যথাতুর কন্ঠে বলল।
“ছাড়ো লাগছে।”
ন্যান্সি ছেড়ে দিল ,উঠে দাঁড়ালো তৎক্ষণাৎ এগিয়ে গেল জানালার কাছে। বাইরে এখনো ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে।
এই প্রথম মনটা কেমন উসখুশ করছে তার।
চলবে…………।✨
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩০+বোনাস
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩২(প্রথমাংশ +শেষাংশ +বোনাস)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৫
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২২
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫০
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৩