অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ০৬]
লেখিকাফারহানানিঝুম
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়)
“ওরে শাউ’য়্যার পোলা ,বা’লের ঘরের আবা’ল আমার মাস্ক নিয়ে আয়।”
আফরিদের চিৎকারে চেঁচামেচি শুনে মাস্ক হাতে দৌড়ে বেরিয়ে এলো ঈশান , হাঁপাতে হাঁপাতে শুধোয়।
“বস , মাস্ক কেন পড়বেন?”
আফরিদ নাটকীয় ভঙ্গিতে লজ্জা পাওয়ার ভান করল।
“মাইয়া মানুষের সামনে যাইতে লজ্জা করে।”
চোয়াল ঝুলে এলো ঈশানের , লজ্জা আর আফরিদ এহসান? এটাই বোধহয় পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য হবে আফরিদ এহসান পাচ্ছে লজ্জা!
সন্ধ্যা নেমে এলে আকাশে লাল কমলা আভা ছড়িয়ে পড়েছে।বাতাসে রয়েছে এক ধরনের মিষ্টি শীতলতা, চারপাশের কোলাহল ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে এসেছে। পাশের গাছ থেকে টুপটাপ করে পাতা ঝরে পড়েছে।
রাস্তার ল্যাম্পপোস্টগুলো একে একে জ্বলে উঠছে, আর নরম আলোয় চারপাশের পরিবেশ হয়ে উঠছে মোহনীয়। তারপরেই ধীরে ধীরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু হলো। আকাশ ঢেকে আছে মেঘে, হালকা ঠান্ডা বাতাস বইছে চারপাশে। ছোট ছোট ফোঁটা মাটিতে পড়ে এক ধরনের স্নিগ্ধ শব্দ তুলছে টুপটাপ, টুপটাপ। গাছের পাতা ভিজে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে, পথঘাট সিক্ত হয়ে চিকচিক করছে। দূরে কোথাও একলা পাখি ডানা ঝাপটাচ্ছে, গাছের পাতার ফাঁকে ফোঁটা ফোঁটা জল জমে মুক্তোর মতো ঝলমল করছে।
কেক বেকারিতে থাকা মানুষজন ধীরে ধীরে বেরিয়ে যাচ্ছে। এই রাতবিরেতে আর কেউই নেই। একটু পরেই বেকারি বন্ধ করে বেরিয়ে যেতে হবে ন্যান্সি। ইতি চলে গেছে আগেই ,কারণ তার ডিউটি শেষ। কিন্তু ন্যান্সি যে রাত পর্যন্ত ডিউটি করে ,ইতি পার্ট টাইম থাকে তার ততটাও প্রয়োজন নেই। কিন্তু ন্যান্সির যে খুব করে টাকার প্রয়োজন! তাই তো নিজের সবটুকু দিয়ে দিচ্ছে এই চাকরির পিছনে। যে পরিবার টা তাকে পেলে পুষে বড় করছে তাদের জন্য যদি কিছু করতে না পারে তাহলে কি হবে এই জীবন রেখে?
কথা গুলো ভাবতেই হতাশার নিঃশ্বাস বেরিয়ে আসে বুক ছিঁড়ে।
হঠাৎ করেই ভেতরে প্রবেশ করলো আফরিদ এহসান তার সাথে আছে ঈশান। দু’জন কে দেখে কিঞ্চিৎ বিচলিত হলো ন্যান্সি। এখুনি তো সে বেকারি বন্ধ করে দেবে। একজন সার্ভেন্ট গিয়ে বলল।
“আমরা কি সাহায্য করতে পারি স্যার? প্লিজ সিট।”
আফরিদ আজকে কালো রঙের হুডি পড়েছে ,মুখে মাস্ক লাগানো। শুধু তার ধূসর রঙা আঁখি জোড়া দেখা যাচ্ছে। ঈশান সার্ভেন্ট কে কিছু একটা বলল,সেটা প্যাডে লিখে নিয়ে ভেতরে চলে গেল।
ন্যান্সি অপেক্ষা করছিল। ছেলেটা ন্যান্সির কাছে এগিয়ে গেলো।
“ওদের এই মূহুর্তে ভ্যানিলা কেক চাই , আছে কি?”
ঠোঁট কামড়ে ভাবুক হলো ন্যান্সি। এই মূহুর্তে ভ্যানিলা ফ্লেভারের কেক নেই। কারণ কিছুক্ষণ আগেই একজন এসে নিজের মেয়ের জন্য শেষ দুটো কেকের পাউন্ড নিয়ে চলে গেছে। আর বানানোর সময় কোথায়?
“শুনো এই মূহুর্তে তো দেওয়া সম্ভব নয় , তুমি বরং ওদের গিয়ে বলো আজকে সম্ভব নয় অন্য কিছু নিতে।”
সার্ভেন্ট ছেলেটা তাই করলো। ঈশানের কাছে গিয়ে দাঁড়ালো।
“স্যার এই মূহুর্তে ভ্যানিলা কেক দেওয়া সম্ভব নয়। আপনারা চাইলে অন্য কিছু নিতে পারেন।”
অ’গ্নিদগ্ধ দৃষ্টিতে তাকালো আফরিদ। ঈশান গম্ভীর স্বরে বলল।
“না মানে? আমাদের এখুনি চাই।”
সার্ভেন্ট ছেলেটা আবার ফিরে গেল ন্যান্সির কাছে। সব টা খুলে বলল। চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলল ন্যান্সি।
“দাঁড়াও আমি গিয়ে কথা বলছি।”
ন্যান্সি কিচেন থেকে বের হতে লাগলো। ততক্ষণে উঠে দাঁড়ালো আফরিদ ,ঘাড় বাঁকালো সে। ন্যান্সি দ্রুত পায়ে আসতে গিয়ে খেয়াল করেনি নিচে পড়ে থাকা পানি গুলো। পিচ্ছিল হয়ে গেছে জায়গাটা। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে সেই পিচ্ছিল জায়গাটায় পা রাখলো সে। মূহুর্তে পিছলে গেল পা জোড়া। উচ্চ স্বরে ভয়ে আতঙ্কে চেঁচিয়ে উঠলো সে।
“আহ্…
মেয়েলি কন্ঠস্বর শুনে চকিতে ঘুরে দাঁড়ালো আফরিদ , নিজেকে সামলাতে না পেরে হুমড়ি খেয়ে আফরিদের উপর পড়ল ন্যান্সি। আফরিদ টাল সামলাতে গ্লাসের দেয়ালে চেপে গেল। এদিকে ন্যান্সির বেহাল অবস্থা! দুরু দুরু বুক কাঁপছে তার।
বক্ষঃস্থলে লেপ্টে থাকা নাজুক রমণী কে দেখে বড্ড বিরক্ত হলো আফরিদ । এই মূহুর্তে আফরিদের মন চাচ্ছে মেয়েটাকে থাপ্পড় দিয়ে বলতে।
“এই শা’লী ব্যাডা মানুষ দেখলেই গায়ে পড়তে মন চায়? ছ্যাঁমড়ি এখন বাসায় গিয়ে আবার আমারে স্যাভলন দিয়ে গোসল করতে হইবো।”
ঈশান হাঁ করে তাকিয়ে আছে ,এই বুঝি মেয়েটাকে মাথায় তুলে আছাড় মা’রবে আফরিদ এহসান।
বিতৃষ্ণা নিয়ে মেয়েটাকে সরিয়ে দিতে চাইলো সে , কিন্তু পারলো কই? তার পূর্বেই তো তার হাতটা থেমে গেল ,চোখ আটকে গেলো লাল গাল ওয়ালি মেয়েটার দিকে। টমেটোর মতো লাল হয়ে আছে মেয়েটার গাল।
চোখ দুটো যেন হরিণের মতো টানা টানা। ওষ্ঠো জোড়ায় গোলাপের সৌন্দর্যে সাজানো হয়েছে। পানপাতার মতো মুখশ্রী মেয়েটার। গাল দুটো টকটকে লাল হয়ে আছে। বিশেষ করে গালের মধ্যভাগে।
হাঁটু ছাড়িয়ে লম্বা সিল্কি চুল বো ক্লিপের সাহায্যে বেঁধে রাখা আছে। লাস্যময়ী নারী সে ,যাকে এক দেখায় যেকোনো পুরুষ মোহিত হবে।
ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে আছে আফরিদের দিকে ন্যান্সি। আফরিদ এক মূহুর্তের জন্য থমকালো। মস্তিষ্কে চাপ প্রয়োগ করলো। লাল গাল,লাল গাল। কোথাও দেখেছে , হ্যাঁ দেখেছে। একজন বয়স্ক মহিলা ,লাল গাল। ইয়েস গট ইট। আফরিদের মনে পড়েছে , ধূর্ত মস্তিষ্ক সবটা ক্যাস করতে পেরেছে।
হুশ ফিরতেই সরে গেল ন্যান্সি। ভয়ার্ত কন্ঠে বলল।
“সরি, অ্যাম রিয়েলি ভেরী সরি স্যার।”
আফরিদ নির্বিকার দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ন্যান্সির দিকে। ন্যান্সি ঈশান কে দেখে কিঞ্চিৎ ভড়কালো।
“আপনি এখানে?”
ঈশান বিভ্রান্তিতে পড়ে গেল। আফরিদের কানে ফিসফিসিয়ে বললো।
“বস এটাই সেই মেয়ে,ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা।”
নামটা শোনা মাত্র চোখ দুটো বুঁজে মাস্কের ভেতরেই নিঃশ্বাস ছাড়লো আফরিদ। আফরিদের মাস্কে লুকানো মুখখানি দেখতে পেলো না ন্যান্সি।
“হ্যাঁ আমি,আর উনি হচ্ছেন আমাদের বস যাকে আপনি সেদিন বানিয়েছিলেন।”
কথাটা শুনে দৃষ্টি ফিরিয়ে আবারো আফরিদের দিকে তাকালো ন্যান্সি।
“ওহ্ আপনিই সেই। কেমন আছেন আপনি?”
আফরিদ নিশ্চুপ রইল কিয়ৎক্ষণ।
“অ্যাম অল রাইট , থ্যাংক ইউ মিস ন্যান্সি। মিস অর মিসেস?”
ন্যান্সি মৃদু স্বরে বলল।
“মিস।”
আফরিদ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো,তার ওই চোখের ভাষা বোঝা ওতটাও সহজ নয়। খুব সহজে তা বোঝা যায় না। নীলাভ রঙা মনি জোড়ার দিকে আরো একবার তাকালো ন্যান্সি ,এর আগে কখনোই সামনাসামনি নীল চোখের মানুষ সামনে থেকে দেখেনি সে। কেমন জানো বাজপাখির দৃষ্টি! ওই মনি জোড়ার দিকে তাকিয়ে তাকে বিলাই চোখের লোক বলে আখ্যায়িত করলো ন্যান্সি। মানছে বিলাই চোখ নয় তবুও ভীষণ মনে ধরেছে নামটা।
আফরিদ নৈঃশব্দ্যে আবারো টেবিলে বসলো।
ন্যান্সি আমতা আমতা করে বলল।
“অ্যাকচুয়ালি স্যার আপনারা যে ভ্যানিলা কেক চাচ্ছেন ওটা এই মূহুর্তে দেওয়া সম্ভব নয়। ওই ফ্লেভারের কেক নেই এখন। আপনারা চাইলে অন্য কিছু ট্রাই করতে পারেন।”
যতক্ষণ ন্যান্সি কথা বলছিল , ততক্ষন পর্যন্ত ন্যান্সির ঠোঁটের দিকেই তাকিয়ে ছিলো আফরিদ। আফরিদ রাশভারী কন্ঠে বলল।
“নো নিড।”
ন্যান্সির কপালে ভাঁজ পড়ল।
“তাহলে?”
“নাথিং।”
কথাটা বলেই বেকারি থেকে বেরিয়ে যেতে লাগল আফরিদ। কি একটা ভেবে আবার থামলো। পিছু ঘুরে দেখে গোল গোল করে তাকাচ্ছে ন্যান্সি। আফরিদের মন চাচ্ছে চিৎকার করে বলতে।
“মা’তারি রেএএ এমনে তাকাইস না আমার সিস্টেমে কারেন্ট বাইরুম বাইরুম করে।”
ঈশান বেরুতেই যাবে তৎক্ষণাৎ ন্যান্সি তড়িঘড়ি করে শুধোয়।
“আপনাদের বসের শরীর কি আদতেও ঠিক আছে?”
ঈশান গম্ভীর স্বরে বলল।
“হ্যাঁ উনি ঠিক আছেন। থ্যাংকস।”
কথাটা বলেই বেরিয়ে গেলো ঈশান। ঈশান আড় চোখে তাকায় আফরিদের দিকে। কি আশ্চর্য ব্যাপার স্যার নাকি মেয়েদের সামনে ইংরেজি মানছে।
গাড়ির কাছে পৌঁছেই ঈশান দ্বিধা নিয়ে শুধোয়।
“বস, মেয়েটা তো ছিলো কথা বললেন না?”
আফরিদ সহসা একটা গাড়ি ছুড়ে দিল।
“চুপ শালা , আমার হার্টবিট কেমন ফার্স্ট চলছিল বুঝলি না?”
ঈশান নাক মুখ কুঁচকে বলল।
“বস আপনি এতক্ষণ ধরে একটাও গালি দেন নাই। কিন্তু এখন…..
আফরিদ একটুখানি ভাব নিয়ে বলল।
“মেয়ে মানুষ বলে কথা , একটু তো জেন্টলম্যান থাকতেই হবে।”
ঈশান ফিক করে হেসে ফেলল , মনে মনে বলল”আইছে রে জেন্টলম্যান। জেন্টলম্যান নাকি গালির বাক্স?”
মেক্সিকো…
মেক্সিকো সিটির আকাশচুম্বী এক ভবনের কাঁচঘেরা প্রান্তে বসে আছে মিস্টার মারকো। বিল্ডিংটা এতটাই উঁচু যে, নিচের শহরটাকে মনে হয় যেন ছোট ছোট আলোয় আঁকা এক জীবন্ত চিত্রপট। সেই থাই গ্লাসের ওপার থেকে তার দু’চোখ দেখে চলেছে রাতের শহর।
রাতের শহর যেন আলোর গহিন এক স্রোত। গাড়িগুলো ছুটে চলে নিচে ধুমধাম করে, কখনো নিয়ম ভেঙে, কখনো নিখুঁত ভাবে। পুরুষটির চোখের সামনে দিয়ে সেই দৃশ্যগুলো হেঁটে যায়, অথচ তার চাহনিতে কোনো উত্তেজনা নেই শ।
তার ডান হাতে ধরা এক জ্বলন্ত সিগারেট। আঙুলের ডগায় তা হালকা নাচে বাতাসের তালে। ধোঁয়ার সরু রেখা উঠে গিয়ে মিশে যায় কাচের ভেতরেই । ধীরে টান দেয়, ক্লান্ত এক অভ্যস্ত ভঙ্গিতে। একেক টানে বুকভরা ভার যেন হালকা করে সে। পরপর এক সিগারেট শেষ করে, নিঃশেষ করে দেয় নিজেকেও একটু একটু করে।
মারকোর ডান পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটার নাম কারলোস।মারকোর ডান হাত সে। নিঃশব্দ পায়ে সে এগিয়ে এলো, চোখে শ্রদ্ধা আর ভয়ে মিশ্র এক অভিব্যক্তি। তার ডান হাতে ধরা ফোনটা সে একটুখানি ঝুঁকে, মাথা নত করে এগিয়ে দিল লোকটার দিকে।
“Señor, your call.”
(বস আপনার কল)
মারকো তখনো জানালার বাইরে তাকিয়ে, শেষ টান দিচ্ছিলো তার জ্বলন্ত সিগারেটে। ধোঁয়াটা যেন শহরের অন্ধকারে মিলিয়ে যেতে যেতে কিছু চিহ্ন রেখে গেল নিজের । মারকো ধীরে সিগারেটটা পায়ের নিচে পিষে ফেললো, তারপর ঘুরে দাঁড়ালো। এ পুরো শহরটাই তার আঙ্গুরের ডগায় চাইলেই নাচাতে পারতো , কিন্তু পারছে না একজনের জন্য ,যাকে যে কোনো ভাবেই নিঃশেষ করে দিতে চায় মারকো। যদি ওই লোকটা না থাকতো তাহলে পুরো শহরটাই তার ইশারায় চলে।
চেয়ারটায় গা এলিয়ে বসল মারকো।
কারলোস ফোনটা বাড়িয়ে দিল তার দিকে।
“হ্যালো,মারকো স্পিকিং।”
ওপর প্রান্তের লোকটা কি বলল তা শুনতে পেলো না কারলোস। তবে এটুকু বুঝতে পারলো কিছু একটা হয়েছে। যার দরুন মুখশ্রী বিবর্ণ হয়ে এসেছে মারকোর
“হোয়াট দ্য ফাক আর ইউ সেয়িং, ইউ মাদারফাকার? আই’ল ফাকিং চপ ইউ আপ এলাইভ, ইউ সান অফ আ বিচ।”
এবারেও অপর প্রান্তের কথা শুনতে পেলো না কারলোস। তবে এবারে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না মারকো। ফোনটা ছুঁড়ে ফেলল সামনের দেয়ালের দিকে। গুড়ো গুড়ো হয়ে গেল ফোন টা। চোয়াল শক্ত হয়ে এলো মারকোর। যাই প্ল্যান করছে সব নষ্ট করে দিচ্ছে ব্লাডিবিস্ট টা। নিজের ক্ষমতা দেখাতে পারছে না। মনে হচ্ছে সেই লোকটা বার বার তার ক্ষমতাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে পুরো বিশ্বে নিজের রাজ্য চালাতে চাইছে।
ভারী চেয়ারের গায়ে হেলান দিয়ে বসে আছে সেই পুরুষ চোখে আগুন, কপালে চিন্তার ভাঁজ। আশপাশের বাতাসেও যেন তীব্র উত্তেজনার গন্ধ।
কারলোস এগিয়ে আসে সতর্ক হয়ে শুধোয়।
“বস, হোয়াট হ্যাপেন্ড?”
মারকো যেন বিস্ফোরিত হলো হঠাৎ। কণ্ঠস্বর বজ্রের মতো ছড়িয়ে পড়লো ঘরের চার দেয়ালে।
“কল দ্য হেলিকপ্টার রাইট নাউ। আই’ম গোইং টু বাংলাদেশ।”
হটকারী সিদ্ধান্তে কিঞ্চিৎ অবাক হলো কারলোস।
কিন্তু আগ বাড়িয়ে মারকো কে কিছু বলার সাহস হলো না তার।
বৃষ্টির মধ্যে মধ্যে রাস্তার পাশে ছাউনীর নিচে দাঁড়িয়ে আছে ন্যান্সি। বাড়িতে যেতে হবে তার , বেকারি থেকে বের হয়ে আসতে আসতে দেরী হয়ে গেছে। আর তার মধ্যেই বৃষ্টি টা বেড়ে গেছে। ন্যান্সি আঁতকে উঠলো ,এই রাতবিরেতে কিভাবে বাড়িতে যাবে সে? হঠাৎ করেই ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ছটা এসে ছুঁয়ে গেল ন্যান্সির মুখশ্রী।
আকাশের মন খারাপ ছিল যেন,টুপটাপ করে বৃষ্টি নামছিল শহরের নীরব কোলজুড়ে। সেই বৃষ্টির শব্দে হঠাৎ করে অন্তঃকরণে এক টুকরো আবেগের আলোড়ন জাগে নাজুক সত্তার মেয়েটার । বুকের ভেতর দুরুদুরু কাঁপন ,যেন বহুদিনের আটকে রাখা অনুভূতি হঠাৎ মুক্তি চাইছে।
ন্যান্সি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলো, কেবল আকাশের দিকে তাকিয়ে। মস্তিষ্ক বলছিল ।ফিরে যাও ছাউনীর নিচে,ভিজে যাবে।
কিন্তু মন? মন তো বলছিল আজ, একটু নিজের মতো বাঁচো। একটু ভিজে নাও এই ভালোবাসার বৃষ্টিতে।
সেই মুহূর্তে সে আর তর্ক করেনি নিজের ভেতরের দ্বন্দ্বের সঙ্গে। হাতের ব্যাগটা ধীরে নামিয়ে রেখে দিল পাশের বেঞ্চে। নিঃশব্দে এগিয়ে গেল সামনের ফাঁকা রাস্তায়।
ধীরে ধীরে বৃষ্টির ফোঁটাগুলো নামতে লাগল তার শরীরজুড়ে। চুল, কপাল, গাল, গলা একের পর এক ছুঁয়ে দিল তাকে। প্রথম স্পর্শেই যেন কেঁপে উঠলো সে । না ঠান্ডায়, না ভয়েতে এটা ছিল এক মোহ, এক আনন্দ, এক আত্মসমর্পণ।
রাত যেন নিস্তব্ধতায় ডুবে গেছে। চারপাশে শুধু বৃষ্টির শব্দ, আর দূরের কোনো গাড়ির হেডলাইটের ঝাপসা আলো। ন্যান্সি হারিয়েছে নিজস্ব এক আবেগঘন জগতে। বৃষ্টি ছুঁয়ে দিচ্ছিল তার আত্মা, ভিজে যাচ্ছিল মন। ঠিক তখনই হঠাৎ। পেছন থেকে ভেসে এল অচেনা কণ্ঠ, আর সাথে কিছু পায়ের শব্দ। একঝাঁক লোক ঘিরে ধরল তাকে।
আঁতকে উঠে এক ধাপে পিছিয়ে গেল ন্যান্সি ,বুকের ভেতর ধুকধুক শব্দ যেন কানে স্পষ্ট শোনা যায়।
একজন ছেলেকে এগিয়ে আসতে দেখে সে গুটিয়ে নেয় নিজেকে, হাত দুটো জড়িয়ে ধরে নিজের শরীর।
ছেলেটির ঠোঁটে কুটিল হাসি, কণ্ঠে অবজ্ঞা মেশানো নোংরা দম্ভে বলে উঠে।
“কি ব্যাপার সুন্দরী? একা একা রাতে ভিজো? আমাদের সাথেও একটু সময় কাটাও না.।”
শব্দগুলো ছিল বিষাক্ত সাপের মতো কানে ঢুকেই বিষ ছড়িয়ে দেয় শরীর জুড়ে। গা গুলিয়ে ওঠে নাজুক মেয়েটার। যেন এই কাদা জল মাখা রাস্তার থেকেও ঘৃণ্য সেই কথাগুলো।
কাঁপা গলায় সে বলে ওঠে।
“দূরে থাকুন। আমাকে যেতে দিন বলছি…
কিন্তু কে শোনে কার কথা? ছেলেগুলোর চোখে এখন লালসা। তাদের দৃষ্টিতে আগুন জ্ব’লছে ভোগের, আধিপত্যের, আর হিং’স্র এক আকাঙ্ক্ষার।
একজন এগিয়ে আসে তার দিকে, হাত বাড়িয়ে ছুঁতে চায় তাকে। সেই মুহূর্তে, যেন প্রাণের সমস্ত জোর একত্র করে ছিটকে সরে যায় ন্যান্সি।
বৃষ্টি ভিজে যাচ্ছে তার মুখ, চোখে জল না বৃষ্টি তা বোঝা যায় না।
দৌড়াতে দৌড়াতে এক সময় থামতে হলো ন্যান্সি কে। দূরে একটা গাড়ির হেডলাইট জ্বলে ওঠে, আলো এসে পড়ে তার ভিজে পড়া মুখে।
সে দু’হাত দিয়ে চোখ চেপে ধরে কিন্তু আলোর বিপরীতে গাড়িতে বসে থাকা লোকটার বিলাই নীলাভ চোখজোড়া হঠাৎ কঠিন হয়ে ওঠে।
চলবে……….।✨
(🥱🤌 আফরিদ এহসান বিদ্যুৎ সংক’টে ভুগছে 🙂)
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৭
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩২(প্রথমাংশ +শেষাংশ +বোনাস)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৯(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৭
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা গল্পের লিংক
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৯