অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ৫৪]
লেখিকাফারহানানিঝুম
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)
(🚫এই গল্পের কোনো অংশ,প্লট অনুপ্রাণিত হয়ে কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
Collserola Natural Park রাতের গাঢ় অন্ধকার। পাহাড়ি বনভূমির বুক চিরে হিমেল বাতাস বয়ে যাচ্ছে, আর তার সঙ্গে মিশে আছে এক অজানা আতঙ্ক। দূরে বার্সেলোনার ঝলমলে আলো, কিন্তু এখানে সব আলো গিলে খেয়েছে ছায়া। হঠাৎই নিস্তব্ধতা ভেঙে ওঠে কর্কশ চিৎকারে।
“হারিআপ কমান্ড।”
কালো পোশাকধারী গার্ডদের ছায়া গাছের কাণ্ড ছুঁয়ে ছুটে যায়। তাদের বুটের শব্দে শুকনো পাতার স্তূপ কেঁপে ওঠে, যেন বন নিজেই ভয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছে। সঙ্গে থাকা ট্রেনিংপ্রাপ্ত কুকুরগুলো হিংস্র গর্জনে নাক মাটির কাছাকাছি নামিয়ে শুঁকতে শুরু করে এক টুকরো কাপড়, সেই রমণীর গন্ধে ভেজা। গন্ধটা এখনও টাটকা।
সে কাছেই আছে। একটি কুকুর আচমকা থেমে যায়, দাঁত বের করে গর্জে ওঠে। তার চোখে অদ্ভুত উন্মা’দনা শিকার কাছে। গার্ডদের একজন টর্চ জ্বালায়, আলো ছুঁয়ে যায় গাছের কাণ্ড, কাঁটা ঝোপ, আর ছায়ার ভেতরে লুকিয়ে থাকা সম্ভাব্য মৃত্যু।
বনের গভীরে মনে হয় কেউ শ্বাস নিচ্ছে, খুব ধীরে, খুব সতর্কভাবে।
রমণীটি জানে, পালানোর পথ আর বেশি নেই। তার বুক ওঠানামা করছে দ্রুত, কপালে জমেছে ঠান্ডা ঘাম। পায়ের নিচে একটা শুকনো ডাল ভেঙে যায়,
শব্দটা যেন বজ্রপাতের মতো ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।
চিৎকারে আবার ছুটে আসে গার্ডরা। কুকুরগুলো এবার আর থামে না তারা দৌড়াচ্ছে, শিকারকে ছিঁড়ে ফেলার ক্ষুধায় উ’ন্মত্ত।
নিজের সামনে দাঁত বের করে গর্জন করতে থাকা কুকুরগুলোর দিকে তাকিয়ে আতঙ্কে জমে যায় ন্যান্সি। বুকের ভেতরটা যেন ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে চায় ।
দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে উঠে সে দৌড়াতে শুরু করে। কাঁটা ঝোপে কাপড় ছিঁড়ে যায়, তবুও থামে না। কিন্তু আতঙ্ক মানুষকে অন্ধ করে দেয় সে খেয়ালই করে না, সে ক্রমেই অরণ্যের আরও গভীরে ঢুকে পড়ছে।
হঠাৎ ধাপ একটি বিশাল গাছের কাণ্ডে সজোরে ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়ে যায় মাটিতে। মুহূর্তেই চোখে ঝাপসা নেমে আসে। মাথার ভেতর যেন বজ্রপাতের শব্দ গুঞ্জরিত হয়।
ওদিকে, কিছুটা দূরে অন্ধকারের বুক চিরে দাঁড়িয়ে আছে এক পুরুষ। আফরিদ এহসান।
“আমার ওকে চাই।ওর কিছু হলে সব শেষ করে ফেলব।”
“বস বস শান্ত হন,আমরা পেয়ে যাবো ম্যামকে।”
আফরিদ নিজের চুল টেনে ধরে।মাথা কাজ করছে না তার! বিড়বিড়াল,
“জ্বালিয়ে দেব। ওকে না পেলে সবকিছু জ্বা’লিয়ে দেব।”
অকস্মাৎ ঈশান থমকে শুধোয়।
“ম্যামকে না পেলে কি জঙ্গল জ্বালিয়ে দেবেন?”
“হ্যাঁ জ্বালিয়ে দেব।”
ঈশান সাহস জুগিয়ে পাল্টা শুধোয়,
“কতগুলো জঙ্গল জ্বালাবেন বস?”
আফরিদ দগ্ধ হচ্ছে, ভেতরে ভেতরে উন্মাদ হয়ে যাচ্ছে।
“আমার স্ত্রীর সুরক্ষার জন্য একটা কেন? আমি হাজারটা জঙ্গল জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেব।”
চিৎকার করে করে একটা কথাই বলে চলেছে আফরিদ। মস্তিষ্কের নিউরনে নিউরনে ব্যথা অনুভব করছে সে।
ঈশান ইতিমধ্যেই জঙ্গলের অপর প্রান্তে গার্ডদের নিয়ে খুঁজে চলেছে ন্যান্সিকে।
হাতের মুঠোয় রিভলবার চেপে এগিয়ে চলেছে আফরিদ। গার্ডদের রেখে সেও অন্যপাশে খুঁজে চলেছে।
তার দৃষ্টি স্থির, শরীর নিঃশব্দ। চারপাশের প্রতিটি শব্দ যেন সে গিলে নিচ্ছে। হঠাৎ করেই কর্ণগোচরে আসে সেই তীব্র শব্দ গাছের সাথে ধাক্কার প্রতিধ্বনি।
তৎক্ষণাৎ সে তর্জনী তুলে ইশারা করে। কালো পোশাকধারী গার্ডগুলো মুহূর্তেই থেমে যায়। পুরুষটির চোখদুটি কুঁচকে আসে বাজপাখির মতো তীক্ষ্ণ, শিকারি, নির্ভুল। সে চোখ বন্ধ করে।
নিশ্বাস আটকে রাখে। তারপর শুনতে পায়। কারো দ্রুত, অস্থির, ভেঙে পড়া শ্বাসের শব্দ। ভয়ের শব্দ। অধর ধীরে ধীরে বাঁকা হয়ে ওঠে তার একটি শীতল, অদ্ভুত হাসিতে।
এদিকে।
“আমার পরাণ।”
ন্যান্সি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে। হাঁটু জড়িয়ে বসে আছে মাটিতে, যেন নিজেকেই আড়াল করতে চায় পৃথিবী থেকে। বুকের ভেতর ধড়ফড় শব্দটা এখন যেন বাইরেও শোনা যায়। কপাল বেয়ে ঠান্ডা ঘাম গড়িয়ে পড়ছে গাল বেয়ে।
কুকুরগুলো একে একে এগিয়ে আসে আরও কাছে আরও কাছে একটি কুকুর ঠিক তার সামনে এসে দাঁড়ায়। গরম নিশ্বাস পড়ে ন্যান্সির মুখে। দাঁত বের করে গর্জে ওঠে সে—
ঠিক তখনই অদৃশ্য কোথাও থেকে ভেসে আসে এক দৃষ্টি।
তীক্ষ্ণ। আদেশময়। ভয়ঙ্করভাবে নীরব।
কুকুরগুলো আচমকা থেমে যায়। তার গর্জন স্তব্ধ হয়ে আসে। কান দুটো পেছনে নুয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে লেজ গুটিয়ে নেয় সে।
একটির পর একটি সব কুকুরই যেন হঠাৎ ভীত হয়ে পড়ে।
কোনো শব্দ ছাড়াই তারা সরে যায় অন্ধকারের ভেতরে।
ন্যান্সি হতবুদ্ধি হয়ে তাকিয়ে থাকে কি হলো এটা?
সে কিছুই বুঝতে পারে না।
বুকের ভেতর ধুকপুক ধুকপুক করছে ন্যান্সির।
ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে উঠছে একটু পর পর।
“আফরিদ এহসান কোথায় আপনি? আমি ম’রে যাচ্ছি।”
চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আসছে ন্যান্সির। এখনো শেকড়ের নিচে ঘাপটি মে’রে বসে আছে সে। কোমড়ের কাছে আলতো স্পর্শ পেতেই ধড়ফড়িয়ে উঠে মেয়েটা।
কিছু একটা ধীরে ধীরে তাকে পেঁচিয়ে নিচ্ছে সাপের মতো। এক মূহুর্তের জন্য মনে হলো বোধহয় সাপ। ন্যান্সি ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরে, অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে আঁখি হতে।
কানের লতিতে মুখটা আলতো করে ছুঁইয়ে ফিসফিসানি স্বর টা শুনতে পায়।
“জানকি বাচ্চা।”
বুকের ভেতর ধক করে উঠল ন্যান্সির। ভেতরে আটকে রাখা নিঃশ্বাস টা ছেড়ে দিলো সহসা। কোমড়ে রাখা হাতটা টেনে নিজের বুকের মাঝখানে চেপে ধরে। কাঙ্ক্ষিত মানুষটিকে পেয়ে ভেতরের সমস্ত ভয় যেনো উবে গেল। বড় ক্লান্তি মিশ্রিত কন্ঠে বলে উঠে।
“ভয় লাগছে আমার। আমাকে কাছে নিন, প্লিজ।”
জঙ্গলের ঠিক বাইরে দাঁড়িয়ে আছে ঈশান, মূলত বাধ্য হয়েই দাঁড়িয়ে আছে। ইতিমধ্যেই ওয়াকিটকির মাধ্যমে খবর পৌঁছে গেছে তার নিকটে। ন্যান্সি তার কাছে সেইভ আছে।
আফরিদ কড়া ভাবে বলে গেছে প্রয়োজন হলে ডেকে নেবে তার সাথে তো ওয়াকিটকি রয়েছে নেটওয়ার্কের সমস্যা হবে না। আর এটাও বলেছে এ প্রান্তে যেন কারো প্রবেশ না ঘটে,সে চায়না তার বিধ্বস্ত রমনীকে কেউ দেখুক।
পায়ের কাছে ছোট সাপের বাচ্চা দেখে মৃদু স্বরে চিৎকার করে উঠল ন্যান্সি।
“আফরিদ স…সাপ সাপ!”
বলিষ্ঠ হাতে মুখ চেপে ধরে আফরিদ।
“হুস ডোন্ট সাউন্ড।”
ছোট্ট পড়ে থাকা গাছের শুকনো ডাল তুলে সাপটা অদূরে ফেলে দিল আফরিদ। ভয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলল ন্যান্সি।।
“বাড়ি যাবো,ভয় করছে খুব..
ভয়টা স্বাভাবিক। আফরিদ এহসান ভয় পাচ্ছে তবে তা মৃ’ত্যুর নয় তার প্রাণ প্রিয় স্ত্রীর জন্য। হাতের আঁজলায় স্নিগ্ধ মুখশ্রী তুলে নিল উৎকন্ঠা হয়ে।চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে অশ্রু কণা।
“শ্যাল আই? একটা ঠোঁটে চুমু খাই? যদি বেঁচে না থাকি?”
আশ্চর্যের ন্যায় তাকিয়ে রইল ন্যান্সি।কী বলা যায় এই লোকটি কে? ঠোঁটের ভাঁজে ঠোঁট গুঁজে আ’শ্লেষে শুষে নিচ্ছে প্রেম সুধা। ন্যান্সি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল। দীর্ঘ অধর চুম্বন শেষে অধর হতে মুক্ত করলো নিজেকে। তাকিয়ে আছে নির্নিমেষ, কাঁপা গলায় বলে উঠে।
“ফ্ল্যাটে যাবো।”
আফরিদ শুকনো হাসে। তৎক্ষণাৎ কর্ণ স্পর্শ করলো রেড ফক্সের ডাক কাছাকাছি ভেসে এলো। আরো খানিকটা নিজেকে গুটিয়ে নিল সে। আফরিদ পাগলাটে হয়ে ওঠলো। লালচে রঙা গাল দুটোতে চুমু দিতে উদ্যত হয়। অবশ্য তা করেও। চুমুতে চুমুতে ভরিয়ে তুলল। স’হ্য করতে না পেরে তাকে ধাক্কা দিয়ে সরাতেও গিয়েও ব্যর্থ হলো। কাঁধে মুখ ঠেকিয়ে হেসে ফেলল আফরিদ। জড়ানো কন্ঠে বলে উঠে।
“এই পরিবেশে তোর সঙ্গ চাইছি। সত্যি বলছি পরাণ তোকে খুব গভীর আদর করতে ইচ্ছে করছে।”
কথাটা বলেই তার দিকে ঝুঁকে গেল আফরিদ। কাঁধে মাথা রাখায় নাসারন্ধ্রে অদ্ভুত ঘ্রাণ প্রবেশ করলো। ভ্রুদ্বয় কুঁচকে নিল সে। যষ্ট ইন্দ্রিয় সজাগ হয়ে উঠে। এটা কিসের ঘ্রাণ ছিলো?
নিজের সামনে গুহার বাদুর দেখা আঁ’তকে উঠে ন্যান্সি
“আ… আফরিদ
এই মূহুর্তে শান্ত থাকাটা খুব প্রয়োজন।বিশাল ডানার বাদুড়, যারা দিনের বেলা গুহার মধ্যে ঘুমায়, আর রাতে বের হয়ে ভয়ংকর শব্দ করে।সুঁচালো চোখে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। কপাল বেয়ে ঘাম গড়িয়ে গেল আফরিদের।
সময় নিল ত্রিশ সেকেন্ড,ভেবে ফেলল মূহুর্তে। ধূর্ত মস্তিষ্ক সবটা বুঝে নিল, অতঃপর প্ল্যান সাজিয়ে নিল।খুব সাবধানে স্যুট টা খুলে ছুটে মারলো নেকড়ের উপর।খাবলে খাবলে তা ছিঁড়তে লাগল নেকড়ে টা। সুযোগ বুঁজে ন্যান্সি কে নিয়ে দৌড় লাগালো আফরিদ। এই মূহুর্তে তার পরাণ কে বাঁচানো প্রয়োজন। সে মৃ’ত্যুর ভয় পায়না কিন্তু তার পরাণ ভয় পায়।
ফোন ট্র্যাক করে Collserola Natural Park কাছাকাছি চলে এলো ইস্ক্রিয়াস এবং তাদের ট্রিম। অনেক্ষণ ধরে ফোন করা সত্বেও স্মাইলির কোনো খবর পেলো না ইস্ক্রিয়াস। কালো রঙের জিপ গাড়িটা ছাড়া আশেপাশে কিছু নেই,রাতের অন্ধকার এই মূহুর্তে কী জঙ্গলের ভেতরে যাওয়া ঠিক হবে? কনস্টেবল গুলো আশেপাশে খুঁজে দেখলো, তবে কাউকে দেখতে পেলো না। পাবে কি করে ইতিমধ্যেই তো ঈশান ফোর্সদের এলার্ট করে দিয়েছে।
“স্যার কেউ নেই।”
একজন এসে কথাটা বলল। ইস্ক্রিয়াস চিন্তিত হলো, স্মাইলি মেয়েটা কোথায়? ইমারজেন্সি ফোর্স কী ডাকবে? তৎক্ষণাৎ হেড অফিস থেকে ফোন এলো তার।যেতে হবে, বোল্ডোজার ঢেকে জিপ সহ তুলে নিয়ে গেল ইস্ক্রিয়াস। মনে মনে প্রার্থনা করছে যাতে স্মাইলি প্রিন্সেস দ্রিশার কিছু না হয়।সে এতটা বিশ্বাস করে যদি লুসিফার সঙ্গে থাকে তাহলে কিছু হবে না সে যে লুসিফার প্রাণ পাখি।
গাড়ির স্পিড বেড়ে চলেছে,ধীরে ধীরে গাড়িটা এগিয়ে চলেছে সামনের দিকে।দূরে দৃষ্টি সীমার বাইরে চলে যাওয়া মাত্র আড়াল থেকে বেরিয়ে এলো এক মু’খোশধারী মেয়ে। কে এই মেয়ে? গভীর ভাবে জঙ্গলে চোখ বুলিয়ে নিল। খুঁজতে হবে,বের করতে হবে। তাকে যে ভেতরের দু’টো প্রাণকে নিয়েই ফিরতে হবে। উহু ভুল বলল দুটো নয় চারটে প্রাণ রয়েছে ভেতরে।
🌿__🌿
“ড্রেস টা খুলতে হবে!”
অস্বাভাবিক কথাটা শুনে গায়ের লোমকূপ কেঁপে উঠে ন্যান্সির। একরাশ ঘৃণা নিয়ে তার দিকে তাকালো সে। তিরিক্ষি মেজাজে বলে উঠে।
“কী আজেবাজে কথা বলছেন? মাথা খারাপ হয়ে গেছে না কি? এখানেও আপনি এসব বলছেন?সব জায়গায় আপনার এসব করতেই হবে? আপনি এমন কেন? একটু সিরিয়াস হতে পারেন না?”
আফরিদ ফিচলে হাসে। হাসির তালে কেঁপে উঠে তার বক্ষঃস্থল।
“ওরে আমার মাতারি রেএএ ড্রেসে একটা ঘ্রাণ আছে, শুঁকে দেখ শা’লী।”
নাক লাগিয়ে শুঁকে দেখলো স্মাইলি, কেমন একটা ঘ্রাণ ছাড়ছে। অদ্ভুত তো! এটা তো আগে শুঁকে দেখেনি!
“এটা পশু পাখিদের আকৃষ্ট করার এক ধরনের স্প্রে। যা আমাদের ড্রেসে স্প্রে করা হয়েছে।”
ক্ষণিকের জন্য থমকে গেল স্মাইলি।
“কিন্তু এগুলো তো লন্ড্রির লোক এসে দিয়ে গেছে আর এগুলো আমার নয়। আমি তো সেখান থেকে একটা…
ন্যান্সি চমকে উঠে তবে কি স্মাইলি আর ইদ্রান কে শেষ করার জন্য এই ড্রেসে স্প্রে করা হয়েছিল? কিন্তু কে করেছে এটা? ভাগ্যিস ন্যান্সি এটা পরে ফেলেছে নয়তো স্মাইলির কি হতো?
ভাবতেই ভয়ে সেঁধিয়ে গেলো ন্যান্সি। আচ্ছা স্মাইলি ঠিক আছে তো? ইদ্রান কি তাকে পেয়েছে? এত বড় জঙ্গলে কোথায় আছে তারা?
দৃষ্টি হলো তীক্ষ্ণ আফরিদের । ঠিকই খুঁজ নিয়ে নিবে বাকিটা। কার এতবড় সাহস তার ব্যক্তিগত নারীকে আঘা’ত করতে চায়?
“প্লিজ জানকি বাচ্চা খুলে ফেল।”
লজ্জায় কুঁ’ক’ড়ে গেল ন্যান্সি।ঢোক গিললো সে কী করবে?
আমতা আমতা করে বলল,
“কিন্তু আমি..
কন্ঠনালিতে স্পর্শ করলো আফরিদ, ফিসফিসিয়ে বললো।
“প্রমিজ করছি কিচ্ছু দেখব না।”
চিকন নাকের ডগা ফুলে উঠল তার, সব দেখে বসে আছে সামনের পুরুষ। আর বলছে কিচ্ছু দেখবে না।
টপসের বাটন পিছন থেকে খুলে দিল আফরিদ। একটুখানি স্পর্শ পেয়ে কেঁপে উঠলো সে। উন্মুক্ত হলো নষ্ট পুরুষের সামনে, ছোট্ট অন্তর্বাস ছাড়া শরীরে কিচ্ছু নেই। ঠোঁট গোল করে নিচের দিকে তাকিয়ে নিঃশ্বাস ফেলল আফরিদ। আবারো দৃষ্টি তুলে তাকায় সামনের আবেদনময়ী নারীর দিকে। চমৎকার সুন্দরী, আচ্ছা এটা যদি মঞ্জিল হতো তাহলে আফরিদ কী করতো? নিশ্চয়ই নির্লজ্জের শেষ সীমানায় পৌঁছে যেতো।
“আপনি ওভাবে তাকাচ্ছেন কেন?”
উত্তরে শুধু হাসলো আফরিদ। কপাল বেয়ে ঘাম ছুটে গেল। টপস্ টা নিয়ে দূরে ছুড়ে ফেলল। হয়তো পশু গুলো তা নিয়ে টানাটানি করছে। বিকট শব্দ হচ্ছে, ভয়ে কাঁপছে ন্যান্সি। দাঁত দিয়ে ঠোঁট কা’ম’ড়ে কান্না আটকানোর চেষ্টা করছে। আফরিদ,হাত মেলে দিলো,হাসি হাসি চোখে তাকায়।
“কোলে চলে আয়।”
ধীরে ধীরে কাছে টেনে কোলে নিয়ে নিল ন্যান্সি কে। থরথর করে কাঁপতে থাকা দেহটি আলিঙ্গন করে।দু হাতের বাঁধনে বুকে লুকিয়ে ফেলল। হাত দুটো বিচরণ করছে তার পিঠে,তাতে কাঁপুনি বেড়ে চলেছে তার।
“আফরিদ…
“ইশ্ নো মোর ওয়ার্ডস। কিচ্ছু হবে না। শুধু সীমা পর্যন্ত থাকব।”
পিঠের মধ্যবর্তী স্থানে হাত রেখেছে কিছু টা সরিয়ে নিল কাপড়টুকু।ধীরে ধীরে ছুঁয়ে দিল সর্বাঙ্গ। নিঃশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে বুকের উঠানামা বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্পর্শকাতর জায়গায় বলিষ্ঠ হাতের স্পর্শ পেয়ে নেতিয়ে পড়ল ন্যান্সি। আফরিদ হাসলো।কানের লতিতে চুমু খেয়ে বলল।
“❝একটুখানি ছোঁয়া পেয়ে এমন জড়সড় হচ্ছিস তুই।যখন আমার ভালোবাসার গভীর স্পর্শে তোকে আবারো ভেজাবো তখন কী করবি?”❞
চুপটি করে বসে রইল ন্যান্সি। আফরিদ ফের বললো।
❝”আমার পবিত্র ফুল।”❞
ন্যান্সি আফরিদের বুকের সাথে লেপ্টে আছে। আফরিদ ওয়াকিটকি টা বের করলো ঈশানের সাথে কথা বলবে বলে। মাঝপথে থেমে কি একটা ভেবে ফের শুধোয় ন্যান্সি কে।
“এখুনি ফিরতে চাস নাকি আদর চাস?”
ন্যান্সি নির্বাক , মুখ তুলে তাকায় নীলাভ মনি জোড়ার দিকে। আফরিদ গালটা চেপে ধরে ন্যান্সির। গোল হয়ে আসে তার ওষ্ঠো জোড়া। সেই গোল হয়ে আসা ওষ্ঠে ওষ্ঠো ডুবালো আফরিদ। ওয়াকিটকি টা পড়ে গেল নিচে। সাথে সাথে আফরিদ এহসান খৈ হারালো।
শেকড়ের সাথে চেপে থাকা ন্যান্সি ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে উঠে ,আফরিদের অবাধ্য হাত দুটি সর্বাঙ্গে ছুঁয়ে চলেছে। ন্যান্সি যখন গাল ফুলিয়ে তার দিকে তাকালো ওমনি সরে গেল সে। কথা বলল ঈশানের সাথে। কোলে তুলে নিল ন্যান্সিকে। নিজের শার্টটা খুলে পরিহিত দিল তাকে, অবশ্যই তার নারী সুন্দরতম এক ফুল,যার সুবাসে মাতাল হয় এহসান। সেই ফুলকে কাউকে দেখতে দেবে না সে।
“বাড়িতে দিয়ে আসুন, এখুনি।”
আফরিদ ঘাড় কাত করে ডান দিকে তাকালো। ঠোঁট ফুলিয়ে অভিমানী ছেলের মত বলে উঠে,
“জঙ্গলের পরিবেশ কি সুন্দর। চল কিছু করি।”
“অস’ভ্য। বাড়িতে দিয়ে আসবেন কি-না? নয়তো আমি কিছু…
“আচ্ছা আচ্ছা থাম। কিছু করতে না দে অন্তত আরেকটা চুমু খেতে দে।”
ন্যান্সি তেলে বেগুনে জ্ব’লে উঠলো। সহসা উঠে দাঁড়ালো, তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো তার দিকে। গম্ভীর স্বরে বলল,
“খাইতে দিলে শুতে চান, আপনার স্বভাব এমন হয়ে গেছে।”
আফরিদ আগের মতো অভিমানী কন্ঠে অভিযোগ করল,
“এমন করছ কেন তুই? আমি তোর লিগ্যাল ভাতার হওয়া সত্ত্বেও একটা চুম্মা খাইতে পারিনা। খ২০ মহিলা।”
ওষ্ঠো জোড়া অস্বাভাবিকভাবে ফাঁক হয়ে এলো ন্যান্সির। একটু আগেও মনের খায়েশ মিটিয়ে চুমু খাওয়া পাবলিক বলছে তাকে নাকি চুমু খেতে দেয়না? গাদ্দার পুরুষ।
🌿____🌿
ভোর সকাল। পূর্ব দিগন্তে ধীরে ধীরে সূর্য উঠছে। গাছের পাতার ফাঁক ফোকর দিয়ে আলো প্রবেশ করছে।
অচেতন অবস্থায় গাড়ির এক কোণে বসে আছে স্মাইলি। কর্ণে স্পর্শ করছে নানার ধরণের পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ। গাড়ি চলছে, সঙ্গে তার গা দুলছে। আধো আধো চোখ মেলে তাকাল সে। নিজের সামনে পর্দা টানা একটি মেয়ে কে দেখতে পেলো। স্পষ্ট ভাবে চোখ খুলে বুঝতে পারলে সে গাড়িতে আছে।গাড়ি চলছে, ড্রাইভিং সিটে রয়েছে লুসিফার। নিজের শরীরে ইদ্রানরকে শার্ট বিহীন দেখে প্রথম দিকে কিঞ্চিৎ চমকায়। পরক্ষণেই মনে পড়ল শার্টে কি অনুভব করে খুলে ফেলেছিল ইদ্রান। লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে গেল স্মাইলি,পাশে বসে থাকা মেয়েটি তাকিয়ে আছে তার দিকে। হাত এগিয়ে নেভি ব্লু কালারের টপস্ এগিয়ে দিল। স্মাইলি চট করে তা নিয়ে শার্টের উপর দিয়েই পড়ে নিল। লুকিং গ্লাসের দিক দৃষ্টি তাকাতেই চোখাচোখি হয় ইদ্রানের সহিতে। ল’জ্জার কুঁ’ক’ড়ে ছিল প্রথম থেকেই। ইদ্রান দৃষ্টি গভীর,একটু পর পর তাকাচ্ছে তার দিকে।
“আপনি কে?”
মুখ ডাকা মেয়েটা উত্তর করলো না। চুপটি করে রইলো।লুসিফার নিখাদ কন্ঠে বলল।
“তোমার লেডি গার্ড বলতে পারো ডিয়ার।”
চোখ জোড়া বড় বড় করে তাকালো। মেয়েটা কেমন চুপচাপ রয়েছে। এটার আগে তো কখনো দেখেনি,আর এভাবে মাস্ক কেন পড়েছে বুঝল না।
ড্রাইভ করতে করতে ঠোঁট গোল করে লুকিং গ্লাসে চুমু ছু ড়ে দিল। ফাঁকা ঢোক গিলল স্মাইলি। র’ক্ত কনিকা পর্যন্ত হিম হয়ে এসেছিল তার।
ঠোঁট নাড়াতেই লুসিফার বুঝতে পারলো স্মাইলি অস’ভ্য বলছে তাকে। নিম্নাষ্ট কামড়ে হেসে ফেলল লুসিফার।
🌿__🌿
ঘন্টা খানেক পর….
Collserola Natural Park কাছ থেকে নিয়ে আসা জিপ গাড়িটা রয়েছে পুলিশ স্টেশনের বাইরে। কিছুক্ষণের মধেই সার্চ শুরু হবে। ক্লান্তি টুকু সাইডে রেখে এক গ্লাস পানি খেয়ে বাইরে এলো ইস্ক্রিয়াস। আশেপাশে তাকিয়ে গাড়িটা ভালো করে দেখে নিল। এখানেই রয়েছে অ’স্ত্র এবং ড্রা’গস। গাড়ির কাছাকাছি আসা মাত্র টিক টিক শব্দ শুনতে পেলো। হৃদয় স্পন্দন থামলো ইস্ক্রিয়াসের। এটা কিসের শব্দ? দিবাং এগিয়ে গেল গাড়ির দিকে, ইস্ক্রিয়াস চোখ দুটো বুঁজে নিল শব্দটি তীব্র হচ্ছে। এটা শুনেছে সে, কোথাও একটা শুনেছে। দিবাং পা ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে গাড়ির দিকে। আরো কিছুটা এগিয়ে যেতেই চমকায় ইস্ক্রিয়াস। চট করে চোখ মেলে তাকালো, চেঁচিয়ে হাত টানে দিবাংয়ের। তৎক্ষণাৎ বাটন টিপতেই গাড়িটা উড়ে গেল,দূরে ছিটকে পড়ল ইস্ক্রিয়াস আর দিবাং। স্টেশনের ভেতর হৈচৈ পড়ে গেছে রিতিমত। গাড়িতে বো’ম ফিট করা ছিলো? এই জন্য স্মাইলি বলেছিল একটা ব্রিফকেসে বো’ম ছিল। ইস্ক্রিয়াস আ’হত হয়েছে,সাথে দিবাংও।হাত ছিলে গেছে দুজনের। ইস্ক্রিয়াস অবাক হচ্ছে, মাস্টার প্ল্যান। এটা লুসিফার আইডিয়া।তার মানে এগুলো যার কাছে যাচ্ছিল তাকে শেষ করার ফ’ন্দি ছিল ওর। কিন্তু ভাগ্যক্রমে জিপ গাড়িটা এখানে নিয়ে এসেছে সে।শিট! ধূর্ত মস্তিষ্ক জ্ব’লে উঠলো।বাটন ক্লিক করলো কে?
শি’কারী চোখ দুটো চারিদিকে বুলাতেই নজরে এলো ধূসর রঙা পর্দা টানা একটি মেয়ে। ইস্ক্রিয়াস কে দেখা মাত্র ছুট লাগালো। ইস্ক্রিয়াস বাকিটা বুঝতে আর সময় লাগলো না।জিপের চাবি নিয়ে ছুটলো মেয়েটার পিছনে।
বড় হাইওয়ের দিকে থাকা গোড়ায় উঠে বসলো অপরিচিত মেয়েটা।
Monegros Desert , বার্সেলোনা থেকে কিছুটা দূরেই। শুষ্ক বালুময় চারিদিকে।গরমের তীব্রতা বেড়ে চলেছে।গোড়ায় চড়ে ছুটে চলেছে একটি মেয়ে।যতটা সম্ভব তাড়াতাড়ি, তার পিছনে রয়েছে পুলিশ জিপ। ইস্ক্রিয়াস।পর পর অনেক গুলো ফায়ার করেছে, কিন্তু থামাতে পারেনি তাকে। দক্ষ হাতে রিভলবার খুলে ডেস্ক থেকে পর পর কয়েকটা গুলি নিয়ে লোড করে নিল সে। গলায় বেঁধে রাখা কালো রঙের টাই খুলে ফেলল তা বেঁধে দিল ড্রাইভিং হ্যান্ডেলে। অন্য আরেকটা পা সিটে রেখে উঠে দাঁড়ালো সে।ম্যানেজ করে চলেছে দু দিকে, রিভলবার তাক করে ডিরেক্ট শুট করলো মেয়েটার বাহুতে।হুউউ করে গিয়ে গুলিটা ছুঁয়ে বেরিয়ে গেল তার শরীর থেকে।গড়গড় করে রক্ত বেরিয়ে এলো মূহুর্তে। কিন্তু তার থেমে যাওয়াতে অনেক কিছু নষ্ট হয়ে যাবে।
তেজ গতিতে গোড়া ছুটিয়ে এগিয়ে চলেছে অপরিচিত মেয়েটি।
বালুময় চারিদিকে।জিপ ধীরে ধীরে স্লো হয়ে আসছে, সুযোগ বুঝে গতি বাড়ায় মেয়েটা। আপাতত তার কাজ শেষ, গাড়িটা উ’ড়ানো ছিল এক মাত্র লক্ষ্য।
চোখের কার্নিশ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে গেল ইস্ক্রিয়াসের।সে কাঁদছে।আবারো হেরে গেল, আহহহ কে ছিল মেয়েটা?লুসিফার জিতে যাচ্ছে বার বার,কী করে?
🌼🌼
রাতের প্রথম প্রহর। দরোজায় টোকা পড়তেই গিয়ে খুলে দিল রাইসা। হুড়মুড়িয়ে ভেতরে প্রবেশ করলো ইস্ক্রিয়াস। আঁ’ক’ড়ে ধরে প্রিয় রমণী কে।
“আই লাভ ইউ কিউটিপাই।আই লাভ ইউ সো মাচ।”
হাতে ক্ষীণ ব্যথা অনুভব করলো রাইসা। একটু ব্যথা পেয়েছে সে,ব্যথার কথাটা চেপে গেল।মুখ ফুটে টু শব্দটি করলো না।
“আই লাভ ইউ টু ইস্ক্রিয়াস।কী হয়েছে আপনার?”
কাঁধে গরম কিছু অনুভব করলো রাইসা। বুকের ভেতর টা ধক করে উঠল তার। ইস্ক্রিয়াস কী কাঁদছে?
“তুমি কাঁদছো ইস্ক্রিয়াস?”
“আমি পারিনি ইয়ার।এবারো হাত ছাড়া হয়ে গেল এল এ বি। কষ্ট করে সবটা করেছিলাম। আজকে অচেনা, অজানা একটা মেয়ে সব নষ্ট করে দিয়েছে।”
একেক টা অশ্রু কণা বুকে এসে লাগছিল রাইসার। হাতের ব্যথা ভুলে গেল মূহুর্তের মধ্যে।পিঠে হাত বুলিয়ে বলল।
“প্লিজ কেঁদো না ইস্ক্রিয়াস। প্লিজ।”
রাতের গভীরতা বেড়েই চলেছে। ইস্ক্রিয়াস রাইসার কাছেই রইল।বুকের মাঝে শুয়ে আছে সে। পরম শান্তিতে ঘুমাচ্ছে।চোখ মুখে ক্লান্তির ছাপ।রাইসা মুখ উঠিয়ে কপালে চুমু গেল।ধীরে ধীরে বলল।
❝”তোমাকে আমি আমার মতো করে ভালোবাসি প্রিয়। তুমি হেরে গেলেও আমার কাছে জিতে যাওয়া সৈনিক।”❞
চলবে…………..।✨
(📌যারা পর্ব খুঁজে পাননা তাদের বলছি, প্রতিদিন একবার হলেও স্টোরি চেক করার চেষ্টা করবেন। গল্প দিলে আমি সেটা স্টোরিতে জানিয়ে দেই এবং কি শেয়ার করে দেই।)
(📌সবাই রেসপন্স করবেন।)
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম, সুখময় যন্ত্রণা তুমি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ৯৯
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ১৪৩+১৪৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৬
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৫+১৬
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৭৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৫
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪২
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৬৮
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ১৩৭+১৩৮