অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ৫৩]
লেখিকাফারহানানিঝুম
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
কেটে গিয়েছে একটা দিন, আবারো ধরণীতে নেমে এলো রাত।
কাঁধে দাঁত বসিয়ে চলেছে কেউ একজন। ব্যাথায় অস্ফুট স্বরে একটু পরপর শব্দ তুলছে ন্যান্সি! ব্যথায় হাঁসফাঁস করছে। রুম জুড়ে আলো আঁধারের খেলা চলছে। ডিম লাইটের কৃত্রিম আলোয় ঘরটা একটু একটু আলোকিত হচ্ছে।
শার্ট প্রথম তিনটে বোতাম খুলে রাখা। উদোম বক্ষে এক রমণীকে ঝাপটে আছে।
“এ.. এহসান!”
“হুঁ।”
ঘুম জড়ানো মাতাল করা কন্ঠস্বর। ন্যান্সি চোখ খুলতে পারছেনা। লম্বা নিঃশ্বাস টানছে। এদিকে নষ্ট পুরুষের নষ্ট হাতটি স্পর্শ করে চলেছে কন্যার উদরে। ক্লান্ত ন্যান্সি তার দিকে ফিরতে চাইল। সোজা হতেই সুযোগ লুফে নিল অপ্রিয় পুরুষ। চলে এলো উপরে। ছুঁয়ে দিল লালচে কপোলদ্বয়।
“কেন এমন করছেন এহসান? আপনার কষ্ট হয়না আমার কাছে আসতে? আমি যে সবসময় আপনাকে হেলাফেলা করি।”
আফরিদ মৃদু হাসলো, গালে গাল ছুঁয়ে বলল,
“কিন্তু আমি ভালোবাসি।”
ন্যান্সি পিটপিট চোখ করে তাকালো তার দিকে। ঠোঁট ফুলিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। তার কান্নায় তাল মিলিয়ে হাসলো আফরিদ,
“কেন ভালোবাসেন?’
“ভালো লাগে তাই ভালোবাসি।”
ন্যান্সি নাক টেনে আফরিদের শার্ট খামচে ধরে। চাপা রাগ দেখিয়ে বলল,
“কেন ভালো লাগে?”
আফরিদ কিছুক্ষণ নিষ্পলক চেয়ে রইল প্রাণ প্রিয় পরাণের দিকে। ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়ে নেশাতুর কন্ঠে বলে,
“ভালোবাসা হয় ভালো লাগা থেকে। আমার খারাপ মনটা ভালোবাসার স্বাদ পেয়ে গেছে।”
ন্যান্সি চেয়ে আছে, আফরিদ থেমে নেই।
“প্রথম দেখায় ভালো লেগেছে, দ্বিতীয় দেখায় প্রেমে পড়েছি, তৃতীয় দেখায় ভালোবেসেছি।”
ন্যান্সি শান্ত হয়ে শুয়ে আছে। ঘুম জড়ানো চোখ দুটো মেলে তাকাতে পারছেনা। একবার মনে হচ্ছে সে স্বপ্ন দেখছে আফরিদকে নিয়ে।লোকটাকে নিয়েই পুরোটা দিন ভাবে বলেই এখন ভ্রম হয়ে ধরা দিচ্ছে। হাত বাড়িয়ে ভ্রমকে ছুঁতে চায় ন্যান্সি। ওমনি কর্ণ কুহুরে ভেসে এলো আহ্লাদি কন্ঠ,
“আমি একটু কাছে আসি?”
ন্যান্সি মৃদু হেসে বলল,
“কাছেই তো আছেন।”
আফরিদ কাঁধে হাত রাখে ন্যান্সির। জামার ফিতেতে আঙ্গুল বুলাতে বুলাতে বলল,
“সেদিনের মতো একটু বেশি কাছে আসি? আমার তোর প্রতি লোভ হয়ে গেছে।তোর কাছাকাছি আসলে সুখ পাই।”
ন্যান্সি তাকিয়ে আছে নির্নিমেষ। আফরিদ ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়াতে গেল পাশ ফিরিয়ে নেয়, ফলস্বরূপ গালে ঠেকল তার পুরুষ্ট ঠোঁট জোড়া।চোখ বুজে লম্বা নিঃশ্বাস টেনে অস্ফুট স্বরে বলে,
“এমন করিস কেন তুই? আমি একটু ভালোবাসলে স’হ্য হয়না?”
প্রত্যুত্তরে ন্যান্সি সবসময়ের মতোই চুপ। আফরিদ নিচের দিকে অগ্রসর হয়, একটানে তুলে ফেলে তার বস্ত্র। মেদহীন মসৃন উদরে দৃষ্টি স্থির।গোল বৃত্তাকার অংশে ওষ্ঠো স্পর্শ করতেই কেঁপে উঠলো কন্যার অঙ্গ।
বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ন্যায় কাঁপছে একটু পরপর। আফরিদ উঠে আসে, গালে হাত ছোঁয়ায়।কটাক্ষ করে বলল,
“আমার এক চুমুতে ভালোবাসার অতল গহ্বরে তলিয়ে যাস তুই। আবার সেই ভালোবাসার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিস কোন দুঃসাহসে?”
ন্যান্সি চাঁপাকলির মতো আঙ্গুল গুলো দিয়ে ছুয়ে দেখে আফরিদের শার্টের বোতাম। খোলা বক্ষে ট্যাটুতে আঙ্গুল বুলিয়ে বলল,
“আমি এক বাজে মেয়ে তাই মুখ ফিরিয়ে নেই।”
আফরিদ কপালে কপাল ঠেকিয়ে কিছুক্ষণ ওভাবেই পড়ে রইল। ন্যান্সি অকস্মাৎ গ্রীবায় তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করতেই বাস্তবে ফিরে আসে। ব্যথায় ধড়ফড় করে উঠে বসল তাকে সরিয়ে। আঁতকে উঠে নিজের দিকে তাকালো। না সে ঠিক আছে, আফরিদ তাকে গভীর ভাবে ছুঁয়ে দেখেনি।
নগ্ন পায়ে ফ্লোরে নেমে দাঁড়ালো ন্যান্সি। প্রাণ যায় যায় অবস্থা! আফরিদও উঠে দাঁড়িয়েছে। এলোমেলো চুল গুলোতে ব্যাকব্রাশ করে পূর্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তার দিকে।
“কখন এলেন আপনি? আর ঢুকলেন কীভাবে দরজা তো লক ছিল!”
আফরিদ হাসলো, হেসে হেসেই রুম থেকে বের হলো।
ন্যান্সি তার পিছু পিছু ছুটল।
আফরিদ ডিরেক্ট কিচেনে গেল, কফি না খাওয়া ছেলেটা আজ কড়া করে এককাপ কফি করল। শুধু নিজের জন্য তা নয়, ন্যান্সির জন্যেও কফি বানিয়েছে।
ন্যান্সি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে দেখছে তাকে। কেবিনেটের সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। আচমকা আফরিদ কাপ রেখে ন্যান্সির দিকে এগিয়ে এসে কোমড়র দুপাশে ধরে তুলে বসালো কেবিনেটের উপর। ঘটনার আকস্মিকতায় হকচকিয়ে গেল মেয়েটা।
“টেক ইট।”
ন্যান্সির দিকে কফির কাপ এগিয়ে দিলো আফরিদ। অতঃপর নিজের কাপটা নিয়ে দু’পা পিছিয়ে গিয়ে ফ্রিজের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়ালো।
ন্যান্সি আনমনা হয়ে মুখ ফসকে বলে উঠে,
“আপনি তো কফি খাননা, গ্রিন টি…
মাঝপথে থেমে থমথমে মুখ করে তাকালো।
আফরিদ মুচকি মুচকি হাসছে। ওই হাসিতে হৃদয় জুড়িয়ে যায়।
“আপনি আবার এটাতে কিছু মিশিয়ে দেননি তো?ভরসা করতে পারছি না।”
একপল বিস্মিত নেত্রে চেয়ে রইল আফরিদ, পরক্ষণেই দৃষ্টি সরিয়ে বলল।
“হ্যাঁ,পয়জন মিশিয়ে দিয়েছি।”
ভ্রু বাঁকালো ন্যান্সি। কফির কাপে চুমুক বসালো। আফরিদ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে।
ন্যান্সি অকপটে জিজ্ঞেস করল,
“কি ভেবেছেন?”
“কি নিয়ে?”
“এইযে আমি আপনাকে ধোঁকা দিলাম। বিশ্বাসঘাতকতা করলাম। যতদূর জানি আপনি বিশ্বাসঘাতকদের রেড সাইলেন্ট ম্যানরে নিয়ে গিয়ে নিঃশেষ করে দেন।তা আমাকে নিয়ে কি করবেন ভাবছেন?”
আফরিদ একপেশে হেসে বলল,
“চুমু খাবো।দিন রাত দুবেলা করে চুমু খাবো।”
আফরিদের খামখেয়ালি কথাবার্তায় বরাবরের মতোই হতাশ ন্যান্সি। একসময় অনুভব করল মাথাটা কেমন করছে। পড়ে যাওয়ার পূর্বে শক্ত বক্ষে আশ্রয় মিলল কন্যার। বেইমান পুরুষ সন্তর্পণে কোলে তুলে এগিয়ে গেল কাউচের দিকে। বেডরুমে যাওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই তার। তাকে নিয়েই শুয়ে পড়ল কাউচের উপর।
সে নিচে আর কন্যা উপরে। তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ফিসফিসিয়ে বললো,
“সরি জানকি বাচ্চা।তোকে ড্রাগস দেওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে ছিলোনা। বাট আমি এখন ঘুমোতে চাই, শান্তি প্রয়োজন আমার।”
একটুখানি থামলো আফরিদ। ন্যান্সি চুলগুলো সরিয়ে জামার চেইন খুলে দিল। সামনের দিক থেকে জামাটা ডিলে করে উদোম বক্ষে তার নরম বক্ষভাজ চেপে ধরে চোখ বুজে। আবারো একই কন্ঠে বলে উঠে,
“জেগে থাকলে ছটফট করবি, আমি যে শান্তির ঘুম চাই সোনা। স্লিপ টাইট ওয়াইফি।”
লন্ড্রি থেকে কাপড় চলে এসেছে।
ন্যান্সি ফ্ল্যাটে রয়েছে,আজকে তাদের সাথে ন্যান্সি যাবে। অথচ স্মাইলি জানেই না ন্যান্সি ইদ্রানের একজন পরিচিত। ইদ্রানের উপর শত্রুতা যে কোনো সময় আক্রমণ করতে পারে সেই হিসেবে তার দূর্বলতা খুঁজে বের করবে!আর তার দূর্বলতা হচ্ছে স্মাইলি প্রিন্সেস দ্রিশা। সেই জন্য ন্যান্সি তার কলেজের বন্ধু হিসেবে তার সাথে রয়েছে।
হাস্যকর ব্যাপার স্মাইলিকে গার্ড দিচ্ছে ন্যান্সি । আর ন্যান্সি কে গার্ড দিচ্ছে লুসিফার এলেন ইদ্রান।
লন্ড্রি থেকে আসা কাপড় থেকে একটা ড্রেস নিয়ে নিয়েছে ন্যান্সি।
সারা ঘর খুঁজেও নিজের কাঙ্ক্ষিত ড্রেস টা না পেয়ে মন ক্ষুন্ন হলো স্মাইলি মেয়েটার। পছন্দের জামাটা কোথায় গেল বুঝতেই পারল না।
কিন্তু তার মা মিসেস এনা কোথায় আছে সেটা জানতে অবশ্যই তাকে এখন বের হতে হবে।
স্মাইলি চটপট চেঞ্জ করে দৌড়ে বাইরে এলো।ইদ্রান বের হতেই যাচ্ছিল অকস্মাৎ কেউ তার স্যুট টেনে ধরে। ঘাড় ফিরিয়ে কাঙ্ক্ষিত মানুষটি কে দেখতে পেয়ে কিঞ্চিৎ অবাক হলো।
“লিটল প্রিন্সেস!”
স্মাইলি আশেপাশে তাকালো। এত গুলো গার্ড। সবাই নত মস্তকে দাঁড়িয়ে আছে।
“শুনুন চার্ম প্লিজ আমরা একটু বাইরে ঘুরে আসি।”
কঠিন আবদার।তবে আদুরে চার্ম ডাকটি হৃদয়ে লাগলো ইদ্রানের । দ্রুত হাতটি তার গাল স্পর্শ করলো।
“এখুনি?”
“হ্যা।”
“পরে গেলে হয় না?”
মলিন মুখটা বুকে চিনচিনে ব্যথা অনুভব করায় লুসিফার। স্মাইলি কান্না মিশ্রিত কন্ঠে বলে।
“এখুনি যেতে চাই প্রিন্স চার্ম। আমাকে নিয়ে চলুন,ঘুরে আসি। আমার একা ভালো লাগছে না এখন। প্লিজ।”
লুসিফার চট করে রাজী হয়ে গেল।তার প্রিন্সেস কে একটুও কষ্ট দিতে চায় না।
লুসিফার ড্রাইভার কে গাড়ি বের করতে বললো। স্মাইলি বায়না ধরে ব্যস্ত কন্ঠে বলে।
“না না গাড়িতে নয়।জিপে যাবো।”
ইদ্রান চমকালো।জিপ? এটা তো..
“আমরা গাড়ি করে যাই?”
স্মাইলি শুনলো না।
“না।আমরা জিপে যাবো।”
জিপ গাড়িতে রাখা গুপ্ত জিনিস গুলো আজকে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু এখন কী করবে সে?
“কিন্তু ভাই..
ইভান কে মাঝ পথে থামিয়ে দিল ইংল্যান্ড। স্মাইলির উদ্দেশ্যে বলে।
“রেডি হয়ে এসো।”
স্মাইলি ঝটপট বলল।
“আমি রেডি আছি। আপনি স্যুট চেঞ্জ করে নিন।”
নিজের হাতেই স্যুট নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল স্মাইলি।ইদ্রান বাঁকা হাসলো। ভেতরে ভেতরে অন্য কিছু অনুভব করছে।ইদ্রান ঝু কে পড়ল স্মাইলির মুখ পানে, ফিসফিসিয়ে বললো।
“আমার কাছে নিজে থেকে ধরা দিচ্ছো লিটল প্রিন্সেস,পরে কিন্তু পস্তাতে হবে । আমি কিন্তু এক চুলও ছাড় দেব না।”
দূরে দাঁড়িয়ে আছে ন্যান্সি , আজকে সেও দেখতে চায় এই গাড়ি গুলো ঠিক কোথায় পাঠাবো হবে?
আফরিদ এহসান তো নেই,সে কাল রাতেই বলেছে চলে গেছে। এতক্ষণে নিশ্চয়ই বাংলাদেশ পৌঁছে গেছে?
শুকনো ঢোক গিললো স্মাইলি।
শহর থেকে খানিকটা দূরে গাড়ি ধীর গতিতে এগিয়ে চলেছে। আসলে স্মাইলি চাইছিল শহর থেকে দূরে নিরিবিলি একটা জায়গায় ঘুরতে।বাতাসের তীব্রতা বাড়িয়ে দিচ্ছে প্রকৃতি। কপালে ছড়িয়ে রয়েছে ছোট ছোট চুল গুলো।
Collserola Natural Park যেখানে সূর্যের আলো কষ্ট করে মাটিতে পৌঁছায়। ঘন বৃক্ষরাজি একে ঘিরে রেখেছে, আর তাদের মোটা শিকড় জঙ্গলজুড়ে বিস্তৃত। পাতার ফাঁক গলে একটুকরো আলো যখন মাটিতে পড়ে, তখন সেখানে এক ধরণের রহস্যময় ছায়া নাচতে থাকে। বাতাস ভারী, যেন অনেক পুরোনো গাছের গোপন কথা গুঞ্জন করছে। কেউ যদি কখনো সেখানটায় একলা থাকে তাহলে বোধহয় তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই। রাতবিরেতে জঙ্গলের নাম না জানা পশু গুলো জেগে উঠে।সাথে কিছু বনু পাখিদের হাক ডাক। জঙ্গলের ভেতরে ওক, পাইন, কর্ক গাছের বিশাল সারি দেখা যায়, যা এত ঘন যে দিনের বেলাতেও অনেক জায়গায় অন্ধকার ।
শীতে শরীর কাঁপছে স্মাইলির। দাঁতে দাঁত চেপে চুপচাপ বসে আছে সে, অপেক্ষায় রয়েছে ইস্ক্রিয়াসের আসার। সে ফোন ট্র্যাক করছে স্মাইলির, সময় মতো পৌঁছে যাবে বলেছে।
Collserola Natural Park এর কাছাকাছি আসা মাত্র স্মাইলি চিৎকার করে বলল।
“থামুন থামুন চার্ম।”
কর্কশ শব্দ করে জিপ থামিয়ে দিল লুসিফার।
“হোয়্যাট হ্যাপেন্ড ডিয়ার?”
“নিচে যাই?”
ইদ্রান ক্রূর হাসলো, আকস্মিক টেনে কোলে নিয়ে নিল।
“হেই লিটল প্রিন্সেস আই নিড সামথিং পিস।”
ঘাড়ে মুখ গুজে ইদ্রান, মৃগী রোগীর মতো কেঁপে উঠল স্মাইলির বদনখানি।
“ক…কী করছেন?”
“এখনো কিছুই করিনি।তবে তুমি বললে গাড়িতেই সব করতে পারি।”
মুখ ঘুরিয়ে নিল স্মাইলি,খুব স্মোথলি আবারো নিজের দিকে ফিরে অধরে অধর স্পর্শ করায়।একটি মিষ্টি ঘ্রাণ নাসারন্ধ্রে প্রবেশ করলো।
হাঁসফাঁ’স করছে স্মাইলি। অকস্মাৎ ইদ্রান কে ধাক্কিয়ে বাইরে চলে এলো। সাথে সাথে ইদ্রানও নিচে এলো।
“হেই লিটল প্রিন্সেস কাম হেয়ার।”
হেসে ফেলল স্মাইলি।পিছুতে লাগল সে। কিছুটা ভেতরে গেলে Collserola Natural Park কের ভেতরে চলে যাবে।
ইদ্রান মৃদু স্বরে বলল।
“স্টপ দেয়ার।”
থামলো না স্মাইলি। ইদ্রান সন্দিহান দৃষ্টিতে আশেপাশে তাকালো।এমন মনে হচ্ছে কিছু একটা তাদের দেখছে! আচ্ছা কোনো ভয়ং’কর পশু পাখি নয়তো?
“স্মাইলি জায়গাটা ঠিক নয়।লেটস্ গো।”
স্মাইলি কিছু বলতে যাবে তার পূর্বেই জেনেট নামক প্রাণটি আক্রমণ করে বসে স্মাইলির উপর। ইদ্রান আঁতকে উঠে,বড় কদম পেলে এগিয়ে গিয়ে টেনে তুলল স্মাইলি কে। ব্যথাতুর কন্ঠে চিৎকার করলো স্মাইলি।জেনেট একটি বিড়ালের মতো দেখতে নিশাচর প্রাণী, যা দ্রুত গাছে উঠতে পারে।এক লাফে গাছে উঠে দাঁড়ালো সে, অদ্ভুত ডাক ছাড়লো। স্মাইলি চমকে উঠে, আবারো তার উপর আক্রমণ করতে আসে।লুসিফার টেনে নিজের বুকে নিয়ে পিঠ দিয়ে দিল। ফলস্বরূপ জেনেট তার পিঠের উপর আঁ’চড় কা’টে। ইদ্রান দাঁতে দাঁত পিষে বলে।
“শিট।”
স্মাইলি ইদ্রানকে ধাক্কা দিয়ে প্রাণ বাঁচাতে জঙ্গলের ভেতরের দিকে ছুট লাগালো। ইদ্রান বুঝতে পারছে এটা ভুল হচ্ছে, স্মাইলি উল্টো দৌড়াচ্ছে।
“প্রিন্সেস স্টপ।”
থামাতে পারলো না তাকে, স্মাইলি হাঁপাতে হাঁপাতে চেঁচিয়ে বলল।
“না না চার্ম পালান আমাদের খেয়ে ফেলবে তো।”
“প্লিজ প্লিজ প্রিন্সেস ভেতরে নয়।”
কে বোঝাবে কাকে? স্মাইলি অনেকটাই ভেতরে চলে গিয়েছে। তাকে ওভাবে ভেতরে যেতে দেখে ন্যান্সি আঁতকে উঠে।
তাদের পিছু পিছু বাইক নিয়ে ঠিকই সে চলে এসেছে! আসার পিছনে কারণ রয়েছে। ইদ্রান তাকে বলেনি সে স্মাইলিকে বিয়ে করেছে। ন্যান্সি যে ইদ্রানের উপরেও যে নজর রাখছে তা কি জানে সে? বোধহয় নূর, আবার হতে পারে হ্যাঁ। কিছুক্ষণ আগেই ইদ্রান ফোন করে বলল স্মাইলি আজ কলেজে যাবেনা, তাকে নিয়ে বেরুচ্ছে সে। খটকা লেগেছে ন্যান্সির। ফলস্বরূপ সেও পিছন পিছন চলে এসেছে তাদের।
ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে স্মাইলি , ভয়ে সেঁধিয়ে গেছে মেয়েটা। এদিকে ইদ্রান বুঝে উঠতে পারছে না ঠিক কি করবে?
“চার্ম আমি ম’রতে চাই না, আমার ভয় হচ্ছে!”
দুরু দুরু বুক কাঁপছে ইদ্রানের। এই জঙ্গলটা সুবিধার নয়, ভয়ংকর সব জন্তুর বসবাস!
নাসারন্ধ্রে অদ্ভুত ঘ্রাণ প্রবেশ করতেই আঁতকে উঠে সে।
“শিট শিট।”
সহসা পরণের স্যুট টা খুলে দূরে ছুড়ে ফেলল ইদ্রান।
স্মাইলি লুসিফার কান্ড দেখে অবাক হচ্ছে।
“কি করছেন আপনি এসব?”
ইদ্রান সহসা মুখ চেপে ধরে স্মাইলির।
“চুপ চুপ, কোনো কথা নয়!”
“কেন করছেন এসব?”
ইদ্রান ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল।
“এখন আর কোনো ভয় নেই শুধু চুপ থাকো তুমি।”
স্মাইলি থরথরিয়ে কাঁপছে। মাথাটা ভনভন করে ঘুরছে তার,এই বুঝি জ্ঞান হারাবে!
ইদ্রান দ্রুত হাতে ফোনটা বের করে , তাকে কাজ করতে হবে। যাকে আগে বাঁচানো প্রয়োজন। ভয়ংকর ব্যক্তির উদ্দেশ্যে বার্তা লিখে।
“সেইভ হার ব্রো।”
🌿___🌿
রাতে এই জঙ্গলে ঢুকলে মনে হবে, কেউ যেন দূর থেকে তোমার দিকে তাকিয়ে আছে। শিকড় আর গুল্মের মধ্যে অদ্ভুত সাপের মতো গাছের লতা-পাতা জড়িয়ে আছে। কিছু জায়গায় পুরনো ধ্বং’সপ্রাপ্ত কেল্লার অংশ লুকিয়ে আছে, যেগুলোতে শ্যাওলা জমে গেছে। দূরে কোথাও ঝরনা আছে, তাই তো ঝনঝন শব্দ হচ্ছে।পানি অন্ধকারে রুপালি আলোর মতো চিকচিক করে।
আশেপাশে নে’কেড় বিক’ট শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে। নিশাচর পেঁচার ডাক ফিসফিস করে কর্ণ স্পর্শ করছে তাদের।
বড় গাছের শিকড়ের গোড়ায় গুটিসুটি হয়ে বসে আছে
ন্যান্সি। ভয়ে হাত-পা কাঁপছে তার । নিঃশ্বাসের শব্দ হিসহিস করে শোনা যাচ্ছে।
হু হু শব্দে কেঁদে ফেলল মেয়েটা।
বিড়বিড় করে বারংবার একটা নাম ডাকছে।
“আফরিদ,আফরিদ কোথায় আপনি। আমার ভয় করছে আফরিদ!”
তার কথা গুলো আদতেও কেউ শুনতে পাচ্ছে কিনা জানা নেই। এই মূহুর্তে আফরিদের একটা সতর্ক কথাই মনে পড়ছে এই দেহে যাতে একটা ফুলের টোকাও না লাগে । আফরিদ তো চলে গেছে ! কোথায় পাবে তাকে? সে তো নেই! সে কি করে জানবে তার পরাণ বিপদে আছে?
এই Collserola Natural Park জঙ্গলেই কি তার শেষ দিন?
🌿__🌿
“গাড়ি ঘুরা ঈশান ফাস্ট।”
ঈশান দৌড়ে গেল গাড়িতে। এই মূহুর্তে তাদের Collserola Natural Park যাওয়া উচিত। হ্যাঁ যাওয়া উচিত। তার পরাণ যে সেখানে আটকে আছে।
বার বার বলেছিল নিজের বিপদ না ডাকতে তবুও মেয়েটা শুনে না।
“শা’লীর মাইয়ার জানটা যদি আজ কামড়িয়ে না খাইছি আমি আফরিদ এহসান নই।”
ঈশান আফরিদের রাগের কারণ টা ঠিক বুঝতে পেরেছে।
লুসিফার এলেন ইদ্রান, এল এ বি প্যালেস থেকে বের হওয়ার সময়ই দেখেছিল ন্যান্সি কে।
আর ইদ্রান প্রথম থেকেই জানতো ন্যান্সি তাদের পিছু নিয়েছে। ইদ্রানের একটা ম্যাসেজ পেয়েছে “সেইভ হার ব্রো।”
আফরিদ ঘামছে তার ফুলের মতো পবিত্র জান টা যেনো কোনো আঘা’ত না পায়! নিশ্চয়ই ভয়ে সেঁধিয়ে গেছে মেয়েটা। আফরিদ কোথায় লুকাবে তাকে? কিভাবে বুঝাবে তার আ’ঘাত লাগলে ব্যথাটা আফরিদের বুকে হয়!
“অ্যাঞ্জেলিনা প্লিজ একটু খেয়াল রাখ নিজের। আমি আসছি পরাণ।”
ঈশান যতটা দ্রুত সম্ভব Collserola Natural Park দিকে গাড়ি নিয়ে যাচ্ছে। ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা কিছু হয়ে গেছে তার বস শেষ হয়ে যাবে। সেও শেষ হয়ে যাবে,তার বোনের মতো ইলহাম। মেয়েটা কষ্ট পেলে তারও কষ্ট হয়।
আফরিদ শেষ বারের মতো বিড়বিড় করে আওড়ালো,
“তোর খোদাকে বল তোকে সুরক্ষিত রাখতে বউ। আমি পাপী মানুষ বললে মোটেও কবুল হবেনা।”
চলবে………….।✨
(📌🫣 সবাই রেসপন্স কইরেন কিন্তু!)
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৭
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫০
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৬
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১২
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪১