অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
পর্ব ৫২
লেখিকাফারহানানিঝুম
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
স্পেন…….
“প্রিন্সেস,এমন করছো কেন তুমি? আমি তোমাকে ভালোবাসি।”
ইদ্রানের মুখে প্রণয় আলাপ শুনে সর্বাঙ্গে যেন আগুন লেগে গেল স্মাইলির। চোখের কার্নিশ লাল হয়ে আছে মেয়েটার। তীব্র ক্ষোভ নিয়ে বলল,
“ভালোবাসা আর আপনি? হাস্যকর!”
ইদ্রান অনুভব করল স্মাইলি তার এতগুলো বছরের ভালোবাসাকে অপমান করছে। রাগে গজগজ করে প্যালেস ছেড়ে অফিসে চলে এলো ইদ্রান।
অফিস রুমে বসে আছে ইদ্রান, আকস্মিক ইভান ঢুকে বলল।
“বস, হি ইজ কামিং।”
অধর কোণে রহস্যময়ী হাসি ফুটে উঠলো ইদ্রানের ঠোঁটের কোণে। আঙ্গুলের ডগায় নাড়ানো কলমটা সন্তর্পণে রেখে দিয়ে বলল,
“গুড। তাকে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করো।”
💫
বার্সেলোনা শহর। রাস্তায় চলছে অসংখ্য গাড়ি। মাঝখান দিয়ে ছুটে চলেছে একটি নেভি ব্লু কালারের মার্সিডিজ কার।ওর পিছনে রয়েছে দু’টো কালো গাড়ি।সবে স্পেনের মাটিতে পা রেখেছে। গার্ড গুলো নিজের দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত। মিনিট দুয়েক পর আরো দু’টো কালো গাড়ি উদয় হয়। আকস্মিক শুরু হয় ফায়ারিং। প্রথম থেকেই প্রস্তুত ছিল সেই শক্তপোক্ত যুবক। সে আর কেউ নয় আফরিদ এহসান। হেসে হিসহিসিয়ে বলল।
“এবার আসবে মজা।লেটস্ স্টার্ট দ্যা গেইম।”
গাড়ির স্পিড বেড়ে চলেছে, রাস্তায় চলতে থাকা গাড়িদের ভিড় দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে একের পর এক গাড়ি।সব কিছু মূহূর্তের মধ্যে এলোমেলো হয়ে গেল।
কন্ট্রোল রুমে সিসি টিভিতে রাস্তার এই গন্ডগোল দেখে ট্রাফিক পুলিশ আশ্চর্য হলেন।ভালো করে দৃষ্টি বুলিয়ে দেখলেন একটি নেভি ব্লু কালারের মার্সিডিজের পিছনে একের পর এক গাড়ি ছুটে চলেছে। শহরের মানুষজন আতং’কিত হয়ে উঠে। চিৎকার চেঁচামেচি! ট্রাফিক কন্ট্রোল পুলিশ কিছু্ই করতে পারছে না। পুলিশ ফোর্স ইনফর্ম করা মাত্র তিন টে গাড়ি এলো। মানুষ জন কোনো রকমে পালাচ্ছে।
আফরিদ হেসে উল্লাসে মে’তেছে।তার কাছে এটা একটা গেইম।
পর পর গাড়ি ছুটে চলেছে, ট্রাক, বাঁধ কিছু্ই মানছে না। সিটের নিচ থেকে রিভলবার বের করে বাইরের দিকে দৃষ্টি দিয়ে ঠিক নিশানা করে গাড়ির টায়ারে ফায়ার করলো সেই যুবকটি।ধুম করে ব্লাস্ট হয়ে অদূরে ছিটকে পড়ল গাড়ি গুলো।ল
শহরের মধ্যে এরকম গণ্ডো’গোলের কারণ অজানা সবার।পর পর দুটি গাড়ি উড়ে যাওয়ার ফলে আগু’ন ধরে গেল বেশ কয়েক জায়গায়।ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলো চট জলদি।
“ইয়েস ইয়েস ইয়েস।আই ক্যান ডু এভরিথিং।”
অধর প্রসারিত করে হাসলো আফরিদ এহসান।
ফোনে টুং শব্দটি হতেই হাত বাড়িয়ে তুলে নিল ইদ্রান। ম্যাসেজটা পড়ে না চাইতেও হাসলো।রিপ্লাইয়ে লিখলো। সে বোধহয় প্রথম থেকেই জানত এরকম কিছুই হবে।
“কংগ্রাচুলেশন।”
🌿__🌿
রাতের মধ্য প্রহর।ঘড়ির কাঁ’টা টিকটিক শব্দ করে এগিয়ে চলেছে।ওয়াশ রুমে গিয়ে ফ্রেশ হচ্ছে ন্যান্সি।খট করে শব্দ স্পর্শ করলো তার কর্ণ। হাতে থাকা টাওয়েল টা রেলিংয়ে রাখল।কেউ কী এসেছে?ওয়াশ রুম থেকে ধীর গতিতে বেরিয়ে এলো ন্যান্সি। আরেক দফা অবাক হলো সে, এই তো রুমে লাইট জ্বা’লিয়ে গিয়েছিল! তাহলে নিভে গেল কি করে? এবারে শ্যিওর হলো ন্যান্সি,কেউ একটা এসেছে। দ্রুত পায়ে এগিয়ে গিয়ে হাতড়ে ড্রয়ার থেকে রি’ভ’লবার বের করলো।খুব সূক্ষ্মভাবে এক হাতে চেপে ধরে।চারটে আঙ্গুল ধরে আছে নিচের দিকটা,আর একটা আঙ্গুল ট্রিগা’রে রাখা। আবেশে চোখ বুজে এলো ন্যান্সির। পরিচিত কড়া পারফিউমের ঘ্রাণ প্রবেশ করছে নাসারন্ধ্রে।তবে কী তার সন্দেহ টা ঠিক?সেই কাঙ্ক্ষিত মানুষটি এসে গেছে? কিন্তু কী করে? না জানিয়ে এভাবে আসতে পারে না! ভয়ে সর্বাঙ্গ অসাড় হয়ে আসছে মেয়েটার। কাঁপছে ওষ্ঠোদ্বয়।
“কে আছেন?”
তিমিরে ঢাকা রুমে কিছুই দেখতে পাচ্ছে না ন্যান্সি। তারপরেও জিজ্ঞেস করছে। অথচ প্রত্যুত্তর সাড়া পেলো না।বুকের ভেতর ধক করে উঠল মেয়েটার।
“আমি জানি আপনি এসেছেন। কোথায় আপনি? সামনে আসুন।”
মেদহীন উদরে বলিষ্ঠ হাতের স্পর্শ পেয়ে চোখ দুটো খিঁচিয়ে যতটা সম্ভব বুঁজে নিল ন্যান্সি। অপর হাতটি এগিয়ে এনে ন্যান্সির হাতে চেপে রাখা রিভলবার টা ধীরে ধীরে টেনে নিয়ে নিচে ফেলে দিল। আবারো সেই হাতটি তুলে ঘাড়ের উপর ছড়িয়ে থাকা চুল গুলো সরিয়ে ঠোঁট স্পর্শ করায় সেখানটায়। ক্ষীণ কেঁপে উঠে ন্যান্সি। নিঃশ্বাস ভেতরে চাপা পড়েছে। এখুনি না ছাড়লে দম আটকে মা’রা যাবে। ফোঁস করে নিঃশ্বাস টুকু ছেড়ে দিল।ভারী জড়ানো কন্ঠস্বর ভেসে এলো কর্ণ কুহুতে।
“ঘ্রাণ এত মিঠা মিঠা কেন? হায় মেরি বান্দি মিসড ইউ।”
ওষ্ঠাদয় কিঞ্চিৎ ফাঁক হয়ে এলো,গোপনে নিঃশ্বাস টেনে নিচ্ছে। নিজের বন্দি হাতটা ছাড়ানোর চেষ্টায় ছটপট করে উঠে।
“আপনার এখানে পা রাখা মাত্র তো মৃ’ত্যু হওয়ার কথা ছিল!”
অচিরেই হাসলো আফরিদ এহসান, আরেকটা চেপে ধরে ন’গ্ন উদরে।
“আমি ম’রলে বুঝি তুই খুশি হতি?”
“হুঁ.. আহ্..
আকস্মিক দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরে ন্যান্সি কে। তীব্র ব্যথা অনুভব করছে সে।
“ব্যথা পাচ্ছি।”
“ব্যথা দেওয়ার জনেই ধরেছি।”
“কেন এসেছেন?”
“তোকে চুমু খেতে জান-কি বাচ্চা।”
নিম্নাষ্ট কাম’ড়ে ধরে ন্যান্সি। আফরিদ ফিসফিসিয়ে বলে উঠে। নামটা কেমন টেনে টেনে বলছে। ন্যান্সি ভয়ে সেঁধিয়ে যাচ্ছে। সে তো আর ভয় পায়না তাহলে কেন এখন আফরিদের সামনে তার সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে?
আফরিদ কানের পাতায় ঠোঁট ছোঁয়ায়, চোখ বুজে আসে তার। হিসহিসিয়ে বলল।
“ফোনে বলেছিলাম না রেডি থাকতে চুমু খেতে আসবো।”
সেদিন রাতে লোকটা ফোনে স্পষ্টভাবে বলেছিল চুমু খাবে বলেছিল। নিজের দিকে ঘুরিয়ে দেয়ালে চেপে ধরে বলিষ্ঠ হাতের পুরুষটি। কাঁপছে ন্যান্সি।সে মোটেও ভয় পায় না, তবে শুধু এই পুরুষের সামনে এলেই এমনটা হয়।
“দেখুন এসব বাজে কথা বাদ দিন।যদি অস’ভ্যতামো করেন তাহলে ডিরেক্ট বুকে গু’লিটা করব। ছাড়ুন আমায়।”
একপেশে হাসলো আফরিদ। এই কয়েকদিনে তার জানকি বাচ্চা অনেকটা বদলে গেছে।
“ইস্ তাহলে দেরী কিসের কর গু’লি। কিন্তু হ্যা গু’লি খাওয়ার আগে তোর ঠোঁটে চুমুটা খাই? এরপর বাকি কাজ।”
চকিতে দৃষ্টি তুলে তাকায় ন্যান্সি। নীলাভ মনি জোড়া হাসছে যেনো। ঠোঁটের ভাঁজে ঠোঁট গুঁজে দেওয়ার পূর্বে ন্যান্সি সজোরে ধাক্কা দিলো আফরিদের বুকে। আফরিদ দু’পা পিছিয়ে গেল। ন্যান্সি এক ঝটকায় সেন্টার টেবিলের উপর রাখা ফলের প্লেটের দিকে হাত বাড়ালো। নিজের জন্য ফল রেখেছিল কেটে খাবে বলে, কিন্তু এই মূহুর্তে ঐই ছুরি আফরিদের উপর চালাবে সে।
“খুব বেশি চালাক মনে করেন নিজেকে? উঁহু ভুল করেছেন এখানে এসে। আমি আর আগের ন্যান্সি নই, আপনাকে তো আমি দেখে নেব আজ।”
আফরিদ শুনলো, গাল ঠেলে হাসলো। অকস্মাৎ ন্যান্সি ঝাঁপিয়ে পড়ে আফরিদের উপর। আঘাত করতে চায় কিন্তু দক্ষ হাতে তাকে আটকে দেয় আফরিদ।সে সতর্ক, নিজের ব্যক্তিগত নারীর ক্ষেত্রে আরো একধাপ এগিয়ে। ন্যান্সি যতবার চেষ্টা করছে তাকে আঘাত করতে ঠিক ততবার পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে আফরিদ। একসময় তাকে নিয়ে সোফায় ঝাঁপিয়ে পড়ে লোকটা। ওমনি ন্যান্সির দিকে তাকিয়ে লাজুক হেসে দেয়। ন্যান্সি অনুভব করে তার হাত আফরিদের উরু ছুঁয়ে আছে। ওমনি তার পেটে লাথি দিয়ে নিজের উপর থেকে সরিয়ে দেয় ন্যান্সি।
আফরিদ চাইলেই মূহুর্তের মধ্যে এই রমণীকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারে। কিন্তু তা সে যে মাফিয়ার প্রাণ। তাকে কিভাবে আঘাত করবে?
ন্যান্সি ছু’রিটা শক্ত হাতে চেপে ধরল।আফরিদ হাত তুলে স্যারেন্ডার করে বলল,
“ভয় পেয়েছি আমি। অ্যারেস্ট মি।”
চোখ পাকিয়ে তাকালো ন্যান্সি।
“সত্যি সত্যি মে রে দেব কিন্তু।”
“প্লিজ, তাড়াতাড়ি মে রে দে।”
আফরিদের এমন কথায় রাগ হলো ন্যান্সির। আফরিদের হাত বরাবরই দৃষ্টি স্থির রেখে মুঠোয় চেপে রাখা ছুরিটা ছুড়ে দিলো। সেই ছুরিটা মধ্যভাগ ভেদ করে দেয়ালে আটকায়।
ওষ্ঠো ফাঁক হতে অস্ফুট ধ্বনি আফরিদ। হাত থেকে গলগল করে র’ক্ত বেরিয়ে এলো। ন্যান্সি অদ্ভুত হেসে তার দিকে এগুতে এগুতে বলল।
“বলেছিলাম আমাকে আর হালকা ভাবে নেবেন না। দেখলেন তো ফলাফল?”
ন্যান্সি যখন আফরিদের খুব কাছে এসে দাড়ালো, ওমনি ওপর হাতটা দিয়ে ন্যান্সির গ্রীবা চেপে ধরে।
“বান্দির বাচ্চা, আমি তোকে যে কি করব!”
ন্যান্সি নিজেকে ছাড়াতে পারছেনা। আফরিদ ন্যান্সিকে বুকের সাথে চেপে রেখেই হাত দিয়ে ডান হাতের ছুরিটা একটানে বের করে আনে। ব্যথায় চোখ খিঁচে আসে।
ন্যান্সি ঘাবড়ে গেল, আফরিদ এখন তাকে ছাড়বেনা।মোটেও না।
“ছাড়ুন আমাকে। ছাড়ুন বলছি।”
ন্যান্সির ওড়না টেনে তাকে ঠেলে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে আফরিদ। দাঁত দিয়ে একটানে ওড়না ছিঁড়ে নিল।
কেঁপে উঠলো ন্যান্সির অন্তর আত্মা কেঁপে উঠল।
আফরিদ সেই ওড়নার টুকরো দিয়েই নিজের হাতটা বাঁধলো। পরক্ষণেই অগ্নিদগ্ধ নয়নে তাকালো ন্যান্সির দিকে। আচমকা ফুঁপিয়ে উঠলো ন্যান্সি। আফরিদ তাকে নিশ্চিত শেষ করে দেবে। অথচ তার ভাবনায় পানি ফেলে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরে।
ধীরে ধীরে তা প্রবেশ করে খুব সন্তর্পণে। একটু একটু করে চুষে নিচ্ছে সবটুকু অমৃত।হাত বিচরণ করছে চুলের ভাঁজে,অপরটি কোমড়ের নরম অংশটুক আঁ’কড়ে ধরেছে! প্রচন্ড ভালো লাগায় ন্যান্সি আঁকড়ে ধরে তার শার্টের কলার। গভীরতা বাড়ে অধর চুম্বনের ,ধীরে ধীরে প্রবেশ করে একে অন্যের মুখগহ্বরে। মিনিট দশেক পর ছেড়ে দিল আফরিদ। শরীরের ভার টুকু ধরে রাখতে পারলো না ন্যান্সি। আলগোছে তাকে কোলে তুলে এগিয়ে গেল বিছানার দিকে।টিম টিম বাইরে আলো সফেদ পর্দা ভেদ করে রুমে এসে পড়ছে।গলদেশে মুখ ডোবায় সে।
“যাবি আমার সাথে? এবার গিয়ে পাক্কা সংসার করব। লম্বা সফরের একটা সংসার।”
ন্যান্সি নিশ্চুপ রইল কিয়ৎক্ষণ। অতঃপর ফিসফিসিয়ে বললো।
“না। আমি আপনার সাথে যাবো না। আপনি একটা অপরাধী।”
পিনপতন নীরবতা দু’জনের মধ্যে খানে। মিনিট দশেক পর মৃদু স্বরে চিৎকার করে উঠে ন্যান্সি।উঠে বসলো তড়িৎ গতিতে।গলায় ব্যথা পাচ্ছে সে।লালচে দাগ টা স্পষ্ট ভাসছে। দাঁত বসিয়েছে লোকটা। গরম চোখ করে তাকালো ন্যান্সি। আফরিদ হেসে ফেলল সপাটে।
“দাগ বসিয়ে দিলাম তার মানে এখন থেকে তুই আমার।শুন না তাহলে চল আবার বাসর টা করে ফেলি। আমার মারাত্মক তোকে খাওয়ার ক্রেভিংস উঠেছে।”
ন্যান্সি রাগান্বিত স্বরে বলল।
“স্বভাব বদলায় নি আপনার? মুখটা সংযত করেন না কেন? আপনি এত অস’ভ্য কেন? একা ছাড়তে পারেননা আমায়?”
আবারো হাসির শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে রুমটা।
“বদলাবে না পাক্কা।তুই ফিরে আয় তাহলে বদলে যাবো। তোকে আদর করতে দিলে মুখে লাগাম লাগাবো প্রমিজ করছি।”
উঠতে চাইল ন্যান্সি,তা হতে দিল না কাঙ্ক্ষিত মানুষটি। ক্ষত হাতটি দ্বারা খামচে ধরে ন্যান্সির বাহু, রাগান্বিত স্বরে বলে উঠে।
“তুই আমার কী বল?”
ন্যান্সি মুখ বাঁকিয়ে বলে উঠে।
“কেউ না। আমি আপনার কেউ.. আহ্..
আবারো মৃদু স্বরে চিৎকার করে ন্যান্সি। লোকটির বলিষ্ঠ হাতের চেপে ব্যথা অনুভব করছে। দাঁতে দাঁত পিষে বলে উঠে।
“তুই আমার শা’লী। আরেকবার উল্টো পাল্টা বললে খু’ন করে ফেলব।”
ন্যান্সি নিশ্চুপ , আকস্মিক আফরিদ তাকে টেনে নিল নিজের কাছে। বাচ্চাদের মতো ঠোঁট উল্টে বলল।
“খিদে পেয়েছে কিছু খাওয়া।”
আফরিদের শুকনো মুখটা দেখে সামান্য ঢোক গিলে ন্যান্সি। বিছানা ছেড়ে উঠে সবার আগে ফাস্ট এইড বক্স নিয়ে এলো। সেটাই একপ্রকার ছুড়ে ফেলল আফরিদের কোলে। অতঃপর কিচেনের দিকে এগিয়ে গেল। আফরিদ পুরো ফ্ল্যাটে দৃষ্টি বুলায়, তারপর ব্যান্ডেজ করতে লাগলো একা একাই। র’ক্ত চু’ষি ডাইনি এই রাজপ্রাসাদের মতো মঞ্জিল ছেড়ে এখানে রয়েছে।
খাবার প্লেট হাতে বেরিয়ে এলো ন্যান্সি।
অবহেলিত ওড়না টা নিচে পড়ে আছে। চুল দুভাগ করে সামনে নিয়ে এলো ন্যান্সি। নিজেকে ঢেকে নেওয়ার ক্ষীণ প্রয়াস।
“এই নিন খাবার, খেয়ে বিদায় হোন। আমি বুঝিনা ঘুরেফিরে আমার পিছনেই কেন আসেন? সজ্ঞানে ছেড়ে এসেছি, মাথায় ঢুকে না?”
উন্মুক্ত ন্যান্সি কে দেখে ঢোক গিললো আফরিদ। এখন আর পেটে খিদে নেই তার। ন্যান্সির কথা কানে ঢুকছে কিনা জানা নেই আফরিদের। সে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে।
প্লেট টা টেবিলের উপর রাখলো ন্যান্সি , আফরিদের দিকে তাকাতেই সেঁধিয়ে গেল। সেদিনের মতো দৃষ্টি তার শিরদাঁড়ায় ঠান্ডা শিহরণ খেলে যাচ্ছে। আফরিদ সেদিন যেভাবে চোখে চোখেই অনুভূতি প্রকাশ করেছিল ঠিক তেমনি চাহনি।
আকস্মিক তাকে টেনে নিজের নিচে নিয়ে এলো আফরিদ। তুলতুলে বিছানায় ন্যান্সির শরীর টা রয়েছে।
“পেটে খিদে নেই তবে মনে আছে, আমি অনেক দিন ধরে অভুক্ত।”
ব্যস্ত ন্যান্সি কে কাঁপিয়ে দেওয়ার জন্য এটুকু কথাই যথেষ্ট ছিলো আফরিদের।
মুখ নামিয়ে গলদেশে হাম’লে পড়ে আফরিদ।
চুম্বনে চুম্বনে অতিষ্ঠ করে তুলেছে ন্যান্সি কে। দু’হাতে তার কোঁকড়ানো চুল গুলো খামচে ধরে ন্যান্সির। আফরিদ থামে না। ধীরে ধীরে নিচের দিকে অগ্রসর হয়। যতটা রাত গভীর হচ্ছে তার স্পর্শ গুলো ঠিক ততটাই গভীর হয়ে চলেছে। ন্যান্সি পারছে না আফরিদের দুষ্টু মিষ্টি স্পর্শ স’হ্য করতে। অস্থির ভঙ্গিতে জামাটা টেনে খুলে নিল আফরিদ। নগ্ন উদরে ওষ্ঠো ছোঁয়ায় এক বার নয় দুবার নয় বার বার।
“প্লিজ থামুন আফরিদ!”
আফরিদ শুনে না,আরেকটু গভীর হতেই হাত বাড়িয়ে ন্যান্সির মুখটা চেপে ধরে যাতে সে চিৎকার না করতে পারে।
বাইরে গাড়িতে ঈশান বসে বসে ফোন চালাতে ব্যস্ত। সে জানে তার লুই’চ্চা বস নিশ্চয়ই ভেতরে লুচ্চামি করতে ব্যস্ত। আহারে তার জীবনে ওই তিতলি ফিতলি না এলে সেও একটু রঙ তামাশা করতে পারতো।
ত্রস্ত ভঙ্গিতে শার্টের বোতাম খুলে ফেলল আফরিদ , উন্মাদ আফরিদকে দেখে বাকরুদ্ধ ন্যান্সি। আটকানোর কোনো প্রচেষ্টা নেই,নেই কোনো শক্তি।
যখন নিজের উপর সম্পূর্ণ ভার টা ছেড়ে দিল আফরিদ ব্যথায় কঁকিয়ে উঠলো মেয়েটা।
অস্থির ভঙ্গিতে আদরে আদরে ভরিয়ে দিতে গিয়ে শার্টটা যে পাশের মোমবাতির উপর পড়েছে সেটা মোটেও খেয়াল করেনি নষ্ট পুরুষ।
আকস্মিক চোখ দুটো আ’গুনে পড়তেই মস্তিষ্ক তড়াক করে জেগে ওঠে। মনে পড়ে যায় কি নৃশংস ভাবে তার পুরো পরিবারকে আ’গুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। মনে পড়ে যায় আফরিদ একজন মাফিয়া একজন পাপী পুরুষ।
আফরিদ আরো খানিকটা ঘনিষ্ঠ হতে যাবে তার পূর্বেই ছিটকে দূরে সরে গেল ন্যান্সি।
অন্তরঙ্গ মুহূর্তে এমন দূরে যাওয়াতে কপালের রগ গুলো ফুলে উঠেছে আফরিদের।
“আপনি আমাকে ছুঁবেন না, দূরে থাকুন আমার থেকে।”
রাগ হচ্ছে আফরিদের। সে পারে না তার অ্যাঞ্জেলিনা কে কষ্ট দিতে। নয়ত এতক্ষণে! আফরিদ কপাল কুঁচকে বলে উঠে।
“অলরেডি তোকে ছুঁয়ে ফেলেছি।”
ন্যান্সি দ্রুত উঠে গিয়ে ওড়না টা নিচে জড়িয়ে নিল।
বেয়াদব লোকটা জামাটা ছিঁড়ে ফেলেছে তার।
নিজেকে খানিকটা ধাতস্থ করে নিল ন্যান্সি ,আফরিদ কিয়ৎক্ষণ চোখ বুজে লম্বা লম্বা নিঃশ্বাস টেনে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো।
টেবিলের উপর রাখা খাবার গুলো ঠান্ডা হয়ে গেছে।
আফরিদ উদোম গায়েই বেরুতে নিলে ন্যান্সি পিছু ডাকে।
“খাবার খাবেন না?”
আফরিদ যেতে গিয়েও থামে,ধুম ধাম পা ফেলে এগিয়ে এসে ওষ্ঠো জোড়া বসিয়ে দিলো তার কপালে,গাঢ় এক চুম্বন এঁকে ওভাবেই ঠোঁট ছুঁইয়ে রেখে বলল।
“চলে যাচ্ছি কিন্তু এই শরীরে আ’ঘাত যেনো না লাগে আই রিপিট যদি একটাও আঘা’ত লাগে জ্যান্ত পুঁ’তে দেব।
চলবে……….✨
(📌 সবাই বেশি বেশি রেসপন্স করবেন আশাকরি 🙂)
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৩
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৩
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৬
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৭
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১২
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৭
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা গল্পের লিংক
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২২
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৯