অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ৫১]
লেখিকাফারহানানিঝুম
(🚫 নিচের নোট অবশ্যই পড়বেন, নয়তো আপনাদের লস।)
“সত্যি করে বলুন সেদিন আপনিই কেন ওখানে সকাল থেকে দুপুর অবধি গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন?”
লোকটার বয়স কম করে পঁয়তাল্লিশ ছুঁয়েছে। ব্যথায় কাতরাচ্ছে রীতিমতো। তার কপালে রিভলবার ঠেকিয়ে রেখেছে ন্যান্সি। এই নির্জন রাস্তায় একমাত্র তাদের অস্তিত্ব ছাড়া কিছুই নেই। ন্যান্সি কিড়মিড়িয়ে বলল,
“সত্যিটা বলুন, নয়তো গু’লি করব।”
লোকটা ইতিমধ্যেই ন্যান্সির হাতে বেশ শক্ত মার খেয়েছে, এখন আর নিতে পারছে না। কাঁপতে কাঁপতে বলে ওঠে,
“বলছি..আমি সব বলছি…
চারিদিকে অস্বাভাবিক নীরবতায় জমাট বেঁধে আছে। রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো অন্ধকারে কেবল কালো ছায়ার মতো দুলছে। দূরে কোথাও হালকা বাতাসে শুকনো পাতার খসখস শব্দ ছাড়া আর কিছুই শোনা যায় না।
লোকটার কপাল বেয়ে ধীরে ধীরে ঘাম গড়িয়ে পড়ছে। ব্যথায় তার বুক ওঠানামা করছে দ্রুত ছন্দে। হাঁটু দুটো কাঁপছে এমনভাবে, যেন আর এক মুহূর্তও দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে না। তার চোখে স্পষ্ট আতঙ্কের ছাপ এক ধরনের মরিয়া ভয়, যা মানুষের মুখোশ ভেঙে সত্যিটাকে টেনে বের করে আনে।
অন্যদিকে ন্যান্সি দাঁড়িয়ে আছে পাথরের মূর্তির মতো দৃঢ় হয়ে। তার চোখ দুটো তীক্ষ্ণ, ঠান্ডা, আর নির্মম। রিভলবারটা সে এমনভাবে ধরে রেখেছে, যেন আঙুলের সামান্য চাপেই ট্রিগার নড়ে উঠতে পারে। ঠোঁটের কোণে জমে থাকা বিরক্তি আর ক্রোধ তাকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে।
নীরবতা ভেঙে আবারও শোনা গেল লোকটার কাঁপা কণ্ঠ
“আমি… আমি মিথ্যা বলিনি। দয়া করে গুলি করবেন না..
ন্যান্সির চোখ সরু হয়ে এলো। অন্ধকারে তার দৃষ্টি যেন ছু’রি হয়ে লোকটার বুক ভেদ করে ঢুকে যাচ্ছে।
সে ধীরে ধীরে বলল, খুব নিচু কিন্তু হিমশীতল স্বরে,
“তাহলে শুরু করুন, সবটা। একটা শব্দও লুকোবেন না।”
লোকটার নাম থমাস শন, স্পেনের একজন বাসিন্দা তিনি। বহু বছর আগে স্ত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থ প্রয়োজন। কিন্তু থমাসের খুব বাজে অভ্যেস আছে, নেশা করার। লোকটার একটা মেয়ে সন্তান রয়েছে অথচ তারপরেও নেশা ছাড়তে পারেনি। যখন জানতে পারল স্ত্রীর ক্যান্সার তখন পুরো পৃথিবী টলে পড়ে থমাসের। সে অনুভব করে সে তার স্ত্রীকে ভীষণ ভালোবাসে। সেই মূহূর্ত থেকে মরিয়া হয়ে ওঠে প্রাণপ্রিয় স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য। থমাস বুঝে উঠতে পারেনা কি করে স্ত্রীর চিকিৎসা করাবে সে?
এমন সময় এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে তার জীবনে। এক লোকের সাথে দেখা হয়, লোকটা তাকে প্রচুর অর্থ দেয় শুধুমাত্র একজন মানুষের বাড়ির উপর নজরদারি করার জন্য।
ন্যান্সি আশ্চর্য হলো, শুধুমাত্র নজরদারির জন্য কেউ কাউকে এত টাকা কেন দেবে?
“আপনি সম্পূর্ণ সত্যি বলছেন না! শুধুমাত্র নজরদারি হলে আপনাকে পুলিশ কেন ধরে নিয়ে গেল?”
ন্যান্সির কথায় কেঁপে উঠলো লোকটা।
“আমি সত্যি বলছি। আমাকে শুধু বলা হয়েছিল বাড়িতে কে আসে যায় সবকিছু জানাতে।”
“কে বলেছিল জানাতে? তাড়াতাড়ি বলুন।”
থমাস কেঁপে কেঁপে বলল,
“একটা লম্বাটে লোক, লোকটার একটা চোখ অদ্ভুত রকমের। হয়তো কেউ চোখে বাজেভাবে আঘাত করেছিল যার দরুন বিশ্রী রকম হয়ে গেছে। আমি চিনি না সত্যি বলছি।”
লোকটার কথায় কপাল কুঁচকে এলো ন্যান্সির। এটা তো আফরিদের সঙ্গে মিলছে না! তাহলে কে ওই লোক? ভাবনার মধ্যে থমাস ফের বলল,
“পুলিশ আমাকে নিয়ে গিয়েছিল, আমাকে বলা হয়েছিল যাই হয়ে যাক যাতে সত্যি মুখ দিয়ে না বের হয়, নয়তো আমার স্ত্রীর সন্তানকে শেষ করে দেবে। তাই আমি শত মা’র খাওয়ার পরেও মিথ্যে বলেছি যে আমি ওই বাড়িতে চুরির উদ্দেশে নজরদারি করেছি।”
ন্যান্সি খুঁজে পেলোনা সে কি বলবে? তাকে কিছুটা অন্যমনস্ক দেখতেই থমাস সজোরে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে উল্টো পথে দৌড় লাগালো। রাস্তায় হুমড়ি খেয়ে পড়ল ন্যান্সি। রিভলবার ছিটকে দূরে পরে। ব্যথায় ককিয়ে উঠলো মেয়েটা।
কংক্রিটের এই শহরে ক্লান্ত পথিক ন্যান্সি! দিকবিদিক খুঁজে না পেয়ে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে সে।
রিসোর্টের রুমে চুপচাপ শুয়ে আছে ন্যান্সি।মাথা ভর্তি তার হাজারো চিন্তা। কিন্তু এই এই মিস্টার আলবার্ট আর কোথায় আছে সে? বালিশের নিচে রাখা মুঠোফোন ভাইব্রেট করা মাত্র শোয়া থেকে উঠে বসলো। হাত গলিয়ে ফোনটা নিল। স্পষ্ট নামটি ভেসে উঠেছে স্ক্রিনে। লিখা আছে “কিং”। ঠোঁট গোল করে নিঃশ্বাস ছাড়লো ন্যান্সি।ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে উঠে।
“পরাণরে তুই একবার আয়, তোকে যদি আমি..
“সংযত হন। এখনো এরকম বিহেভিয়ার?”
ভারী স্বরে বলল ন্যান্সি। ওপাশের আফরিদ চুপ রইল ক্ষণকাল। অতঃপর ফের বলল।
“তোকে দেখতে ইচ্ছে করছে। বিশ্বাস কর একবার যদি পুরো..
ন্যান্সি ক্ষিপ্ত কন্ঠে থামিয়ে দিলো তাকে,
“হিস চুপ করুন।”
অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল আফরিদ। ন্যান্সি মৃদু স্বরে বলল।
“একটা কথা বলুন এহসান, আপনি আমাকে কখনো বলেননি আপনি বাংলাদেশী নন।”
আফরিদের কানে লাগানো ব্লুটুথ ডিভাইস, হাত কাজ করছে ল্যাপটপে। তাকে শীঘ্রই যেতে হবে স্পেন। ঘুরেফিরে সেই দেশে,সেই শহরে আবারো ঘটবে তার প্রবেশ।
“হুঁ, স্পেনের আমি। স্প্যানিশ। খ্রিস্টানের বাচ্চা।”
ন্যান্সি বিছানায় শুয়ে ছিল, কি ভেবে ওঠে বসলো।
“তাহলে এটা আপনি আমাকে কেন বলেন নি?”
আফরিদ সামান্য হাসলো। ঘাড় দুলিয়ে বলল,
“প্রয়োজন পড়েনি তাই।”
নাগিনের মতো ফোঁস করে ওঠে ন্যান্সি। চিড়বিড়িয়ে বলে,
“অসভ্য লোক আর কি কি সত্যি আছে আপনার? হ্যাঁ?”
আফরিদ থমকালো, ল্যাপটপের কিবোর্ডে থাকা আঙ্গুল থেমে গেল। ছেড়ে দিলো মাউস পয়েন্টার! ভাবুক কন্ঠে বলে উঠে।
“একটা সিক্রেট বলি শোন, ছোট বেলায় তোকে একটা চুমু খেয়েছিলাম। এটা আরেকটা সত্যি।”
কথাটা বলেই হো হো শব্দে হেসে উঠলো সে। ন্যান্সি একটুও বিশ্বাস করল না তাকে।
“আপনি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিথ্যুক। সবসময় মিথ্যে বলে, অস’ভ্য লোক।”
অপেক্ষা করলো না ন্যান্সি,ফোন রেখে দিল। বিরক্ত হলো আফরিদ । রাগান্বিত হয়ে নিজের মাথার চুল গুলো টেনে ধরে।
ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে শব্দ বিহিন হাসলো ন্যান্সি। বুকে ছেয়ে গেল এক অদ্ভুত প্রশান্তি। মানুষ কতটা পাগল হয় তা এ কে না দেখলে জানতেই পারতো না। আবারো ফোন বেজে উঠল,একই নাম্বার দেয়া কল এসেছে। দীর্ঘ শ্বাস ফেলে এবারেও রিসিভ করলো ন্যান্সি।
“কী হয়েছে?”
“Nashe si chadh gahi oye
Kudi nashe si chadh gahi
Patang si lad gahi oye
Kudi nashe si chadh gahi
তোকে ঠোঁটে চুমু খাওয়ার জন্য আসছি রেডি থাক।”
নির্বাক হয়ে বসে রইল ন্যান্সি।কথা হারিয়েছে তার,এই লোকটা মস্ত বড় পাগল।
“মাথা খারাপ হয়ে গেছে নাকি?”
“তোর কসম আসছি আমি চুমু খাবো ডিরেক্ট ঠোঁটে। আমি আসছি পিরানহা ফিশ।”
অনেক গুলো দিন পর কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে স্মাইলি।তার সাথে ন্যান্সি ছিল। হঠাৎ স্মাইলি কে চুপচাপ থাকতে দেখে স’হ্য হলো না তার।
“তোমার কী হয়েছে স্মাইলি? হঠাৎ চুপ করে গেলে কেন?”
“কিছু হয়নি গো। ভালো লাগছে না চলো ক্লাসে যাই।”
ন্যান্সি কিছু জিজ্ঞেস করবে তার পূর্বেই স্মাইলি হাঁটা ধরে। অতঃপর সে আর কিছুই জিজ্ঞেস করতে পারলো না।কলেজ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতেই এক অদ্ভুত জিনিস নজরে এলো। জিনিস বললে ভুল হবে একজন মানুষ। হ্যা বড়সড় চাদর জড়িয়ে চুপচাপ এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে। দাঁড়িয়ে থাকতে দোষ নেই কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো লোকটি তাকিয়ে আছে স্মাইলির দিকে। আচ্ছা সে কী ইদ্রানের পাঠানো কোনো গার্ড?তা কী করে হবে? অলরেডি দু তিনজন গার্ড তো কলেজের গেটে দাঁড়িয়ে আছে। তাহলে এভাবে আবার লুকিয়ে পাঠানোর মানে কি? স্মাইলি ভাবনায় পড়ে, হঠাৎ মনে হলো হয়ত ইদ্রান ভাবছে সে কলেজের ভেতর থেকে পালিয়ে যাবে তাই গার্ড পাঠিয়েছে।
ক্লাস শুরু হবে একটু পরেই ক্যান্টিনে বসেছে ন্যান্সি আর স্মাইলি দু’জনে।
“তুমি এক কাজ করো ন্যান্সি আমার ব্যাগটা রাখো।”
ন্যান্সি চকিতে শুধোয়।
“কিন্তু কোথায় যাচ্ছো তুমি?”
“আমি ওয়াশ রুম থেকে আসছি।”
ন্যান্সি মাথা দুলিয়ে সম্মতি প্রকাশ করলো, ব্যাগ রেখে উঠে গেল স্মাইলি। লেডিস ওয়াশ রুমে গিয়ে দরজা ধাক্কা দিতেই কেউ একজন হুড়মুড়িয়ে ভেতরে ঢুকে দরজাটা আটকে দিল।
“কে আপনি?এই ছেলে বের হন.. আমি কিন্তু চিৎকার করব। হেল্প…
স্মাইলি চিৎকার করার পূর্বে লোকটি তার মুখ চেপে ধরে চাদর সরিয়ে দিয়ে অস্থির কন্ঠে বলে।
“চেঁচিয় না আমি ইস্ক্রিয়াস।”
“কে আপনি?”
“তুমি লুসিফার গার্লফ্রেন্ড তাই তো?”
উপর নিচে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল স্মাইলি। আপাতত কাউকে বলবে না বিয়ের কথা।
“তাহলে আমিও সঠিক মানুষের কাছেই এসেছি। তুমি স্মাইলি প্রিন্সেস দ্রিশা?”
“কিন্তু আপনি এত কিছু কী করে জানলেন?”
ভ্রু উঁচিয়ে শুধোয় স্মাইলি। ইস্ক্রিয়াস হেসে ফেললো।
“আমি পুলিশ অফিসার।”
“পুলিশ..
বিড়বিড় করে আওড়াল স্মাইলি। শুকনো ঢোক গিলে বলল।
“কিন্তু আপনি আমার কাছে কী করতে…
“তোমার আমাকে হেল্প করতে হবে।লুসিফার ব্ল্যাক মানি যত খারাপ কাজ করে কালো টাকা পায় সেগুলোর সম্পর্কে ইনফরমেশন দিতে হবে।”
“স্যরি টু সে আমি আপনাকে কোনো রকম সাহায্য করতে পারব না।”
এবারেও হাসলো ইস্ক্রিয়াস। স্মাইলি ওয়াশরুম থেকে বেরোতে যাবে ইস্ক্রিয়াস বলে উঠে।
“নিজের মায়ের জন্যেও না?”
পা জোড়া থামে ওর।কী বলল লোকটা?ঘুরে দাঁড়লো ফের।
“চাও তো তোমার মা কে?”
“আ.. আপনি জানেন আমার মা কোথায়?”
প্রত্যুত্তরে হাসি উপহার দিল ইস্ক্রিয়াস। নিজের কার্ড হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো।
“খবর জানতে পারলে এই নাম্বারে কল করবে।আর তোমার মা ওই বাড়িতেই আছে।”
যেতে নিলে স্মাইলি তাকে থামিয়ে ফের শুধোয়।
“কিন্তু কী করে জানলেন?”
ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো ইস্ক্রিয়াস।
“কিছু কিছু খবর আমরাও রাখি ম্যাডাম।”
🌿___🌿
পুলিশ স্টেশনে হাজির রাইসা। ইস্ক্রিয়াস তার ফোন ধরছে না। এটা কি মানা যায়?মানলো সে ইস্ক্রিয়াস একজন দায়িত্ববান পুলিশ অফিসার তো কী হয়েছে? তাই বলে কী সময় দেবে না?
“দিবাং রাইসা কে দেখেই দৌড় দিল।রাইসা তৎক্ষণাৎ এগিয়ে গিয়ে ধরে ফেলল তাকে।
“এই যে দিবাং ভাইয়া কোথায় পালাচ্ছেন?”
দিবাং দাঁড়িয়ে পড়ল, কাচুমাচু ভঙিমায় বলল।
“ম্যাডাম আপনি?”
“জ্বি আমি।এবার বলুন আপনাদের স্যার কোথায়?”
দিবাং আমতা আমতা করে বলল।
“স্যার?স্যার তো ভেতরেই আছেন!”
রাইসা সুঁচালো চোখ করে তাকালো।
হাঁপাতে হাঁপাতে টেবিলে গেল দিবাং। ইস্ক্রিয়াস পুরো কেইস স্টাডি করতে ব্যস্ত। দিবাং কে হুড়মুড় করে ঢুকতে ব্যস্ত কন্ঠে শুধোয়।
“দিবাং কী হয়েছে তোমার? হাঁপানি রোগীর মতো হাঁপাচ্ছো কেন?”
দিবাং কপালে জমে থাকা ঘাম টুকু মুছে বলল।
“স্যার সাইক্লোন আসছে সাইক্লোন!”
কেবিনে ভেতরে প্রবেশ করল রাইসা।রাইসা কে দেখে ভ্রু কুঁচকে নিল ইস্ক্রিয়াস।ফাইল গুলো বন্ধ করে সাইডে রেখে দিল।
“রাইসা তুমি?”
তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
“তুমি এখানে কখন এলে?আর হঠাৎ স্টেশনে…
পাশে থাকা একটি ফাইল তুলে তার দিকে ছুড়ে দিল রাইসা। ক্যাচ করতে পারলো না ইস্ক্রিয়াস।রাইসা ভঙ্গুর মন নিয়ে চিৎকার করে উঠল।
“তুমি আমার ফোন ধরছো না কেন?এত অস’ভ্য কেন তুমি? আমি আজকে তোমাকে..
একের পর এক ফাইল ছু ড়ে দিচ্ছে রাইসা। ইস্ক্রিয়াস সরে গিয়ে নিজেকে বাঁচালো।
দিবাং হো হো করে হেসে উঠলো।চোখ রাঙালো ইস্ক্রিয়াস।
“ফাজিল দিবাং বের হও এখুনি।”
দিবাং গুটি গুটি পায়ে বেরিয়ে গেল। রাইসা আবারো আ’ক্র’মণ করতে এগিয়ে আসে। ইস্ক্রিয়াস টাল সামলাতে না পেরে রাইসা। ডেস্কের উপর থাকা সব গুলো ফাইল নিয়ে পড়ে গেল।রাইসা তৎক্ষণাৎ ড্রয়ার টেনে খুলে ফেলল। ভেতরে অনেক গুলো ফাইল রয়েছে সাথে রয়েছে একটি পেনড্রাইভ।
“উফ্ কিউটিপাই কি করলে এটা?”
নাকের ডগা ফুলে উঠে রাইসার।বেশ করেছে যা করেছে।
“বেশ করেছি। তুমি আমার ফোন ধরছিলে না কেন? আমি তোমার গার্লফ্রেন্ড ক’দিন পর ওয়াইফ হবো। আদেও আমার খেয়াল কী রাখো?”
একপেশে হাসলো ইস্ক্রিয়াস।নাকে নাক ঘষে দিল রাইসার।উঠে দাঁড়ালো ধীরে ধীরে। রাইসাকেও উঠতে সাহায্য করলো।
“এত্ত পাগলামি?”
মুখখানি মলিন হয়ে উঠে রাইসার। আলগোছে কোমড় টেনে জড়িয়ে ধরে ইস্ক্রিয়াস।
“আমি তো বিজি থাকি কিউটিপাই। দেখছো না কত কাজ করছি? তুমি তো জানো কাল একটা বড়সড় মিশনে যাবো।”
বুক ছিঁড়ে দীর্ঘ শ্বাস বেরিয়ে এলো রাইসার।আলতো করে গালে হাত রাখে সামনের পুরুষটির।
“যে যাই করুক।যার যাই হোক তাতে আমার কিছু যায় আসে না। শুধু তুমি ঠিকঠাক ভাবে ফিরে আসুন। এটা চাই।”
চোখে হাসে ইস্ক্রিয়াস। আদুরে ভাবে গালে গাল ঘষে, ছোট্ট করে চুমু খেয়ে বললো।
“ফিরব তো।প্রে আরো যাতে আমি সফল হতে পারি।”
স্বল্প হাসি ফুটে উঠে অধর কোণে রাইসার। ছোট্ট করে বলল।
“ওই যে বললাম যাই হোক তাতে কিছু আসে যায় না। শুধু তুমি ফিরুন।”
কিছুক্ষণ প্রেমালিঙ্গনের ম’ত্ত হয় দু’জনেই। দীর্ঘক্ষণ প্রেমালিঙ্গন শেষে অস্থির কন্ঠে বলল ইস্ক্রিয়াস।
“চলো বাড়িতে ড্রপ করে আসি।”
রাইসা মাথা দুলিয়ে অসম্মতি প্রকাশ করে।
“উঁহু তুমি কাজ করো।এই যে বললে মিশনে যাবে। আমি পারব যেতে।”
“পাক্কা?”
“হুঁ।”
ইস্ক্রিয়াস আবারো কপালে উষ্ণ ছোঁয়া এঁকে দেয়।রাইসা স্থান ত্যাগ করলো। বেরিয়ে পড়ে পুলিশ স্টেশন থেকে। একটা ক্যাব বুক করে চললো নিজ গন্তব্যে।
পুরো পুলিশ স্টেশন ছানবিন করেও পেনড্রাইভ খুঁজে পেলো না ইস্ক্রিয়াস। রাশিয়ান মাফিয়ার রাইট হ্যান্ড মিকিলাত তাকে এই পেনড্রাইভ টা দিয়েছিল।এখানে ওদের কখন, কবে, কোথায় মাল পাচার করবে তা স্পেনে আসবে।সব কিছুর ডিটেইলস ছিলো। ইস্ক্রিয়াস আশ্চর্যের পর আশ্চর্য হয়েই চলেছে।কার এত বড় সাহস যে তার কেবিন থেকে পেনড্রাইভ নিয়ে যায়?নাকি কাছের কেউ আছে যে কাছাকাছি থেকেই সবটা করছে?
ইস্ক্রিয়াস এতটা পরিশ্রম করছে অথচ ফলাফল শূন্য? হাপিত্যেশ করা ছাড়া উপায় নেই। কেবিনে পায়চারি করতে ব্যস্ত সে। ডুবন্ত সাগরে আকস্মিক যখন সূক্ষ্ম আলোর ন্যায় বেঁচে যাওয়ার পথ খুঁজে পায় ঠিক সেরকমই ইস্ক্রিয়াস পেয়েছে পথ। ফোনের টুং শব্দটি হতেই রিসিভ করলো তা।
“হ্যালো ইস্ক্রিয়াস স্পিকিং।”
“আমি স্মাইলি প্রিন্সেস দ্রিশা বলছি।”
স্মাইলি প্রিন্সেস দ্রিশা, নামটি শুনে চমকালো ইস্ক্রিয়াস।
“তুমি?কী ব্যাপার?”
সিঁড়ির পিলারের পাশে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে স্মাইলি। ড্রয়িং রুমে লুসিফার এবং দু’জন লোক এসেছে তার সঙ্গে দেখা করতে। তাদের কাছে রয়েছে তিনটে ব্রিফকেস। প্রতি ব্রিফকেসে রয়েছে কিছু জিনিস।একটা মধ্যে বোম এবং বাকি দুটোতো রয়েছে কিছু অ’স্ত্র।হয়তো এগুলো একটু অন্যরকম,খুব ছোট সাইজের দেখতে।
“আমি কিছু বলতে চাই আপনাকে।”
হার্ট ফাস্টলি বিট করতে লাগলো। আচ্ছা স্মাইলি কী বলবে তাকে?
“হ্যা বলো।”
“এখানে দু’জন মানুষ এসেছে ব্রিফকেস নিয়ে।ওই ব্রিফকেসে অনেক কিছু আছে।”
স্মাইলি সবটা খুলে বলল তাকে। ইস্ক্রিয়াস চমৎকার হাসলো।তার যতটুকু জানার প্রয়োজন ছিল জেনে গেছে। অকস্মাৎ বসে থাকা লোক গুলো উঠে গেল। ব্রিফকেস গুলো সেখানেই রেখে গেল।লুসিফার ইভান কে ডেকে বলল এগুলো নিয়ে যেতে আরো কিছু বলল সেগুলো শুনতে পেলো না স্মাইলি।ইভান জিনিস গুলো নিয়ে বাইরে বের হয়। তৎক্ষণাৎ ছুটে ছাদের দিকে গেল স্মাইলি,উপর থেকে সবটা দেখার চেষ্টা করছে।জিপ গাড়িটার সিট গুলো টেনে তুলল ভেতর থেকে। স্মাইলি তৎক্ষণাৎ ভিডিও কল করলো ইস্ক্রিয়াস কে।
“আপনাকে কিছু দেখাচ্ছি, আপনি প্লিজ দেখুন।”
ইস্ক্রিয়াস বেশ সূক্ষ্ম ভাবে সবটা দেখতে লাগলো। প্রতিটি সিটের মধ্যে ছোট সাইজের অ’স্ত্র গুলো রাখা হচ্ছে, তারপর উপরে সিটটা বসিয়ে দিচ্ছে। ইস্ক্রিয়াস ফের হাসলো,ফোন অডিও করে বলল।
“যা প্রয়োজন ছিল জেনে গেছি স্মাইলি।তোমাকে থ্যাংকস।”
স্মাইলি মলিন মুখে আওড়ালো।
“আমার শুধু নিজের মা কে চাই। আপনি বলেছিলেন মাম্মা কে খুঁজে দিবেন। আমি পুরো প্যালেস দেখে নিয়েছি, মাম্মা কোথাও নেই।”
ইস্ক্রিয়াস জানে মিসেস এনা এল এ বি প্যালেসের ভেতরে আছেই।
“আমি তোমাকে বলছি উনি ওখানেই আছেন। শুধু খুঁজতে হবে আমাদের।”
স্মাইলি সম্মতি প্রকাশ করলো। ইস্ক্রিয়াস ভারী স্বরে সতর্ক ভাবে বললো।
“আরেকটা কাজ করতে হবে প্রিন্সেস দ্রিশা। তুমি কি পারবে?”
স্মাইলি চুপ রইল, এখন আবার কী করতে হবে তাকে?
পরণে ব্ল্যাক ডেনিম প্যান্ট আর একটা ফুল হাতা শার্ট! তার উপর একটা কালো জ্যাকেট।
অনেকগুলো দিন পর রিসার্চ সেন্টারে এসেছে আফরিদ এহসান। বরাবরের মতো গলা থেকে মুখ অবধি চলে যাওয়া মাস্ক আর চোখ দুটো আড়ালে ডাকা। নাহলে যে নীলাক্ষী জোড়া দেখলেই চেনা যায় তাকে!
“হ্যালো মিস্টার আলবার্ট, হাউ আর ইউ?”
আফরিদের কন্ঠস্বর শুনে দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হয়ে এলো মিস্টার আলবার্ট এবং মিস্টার কামালের। আফরিদ আয়েশ করে একটা চেয়ার টেনে বসলো তাদের সামনে।
“অওও মিস্টার আলবার্ট এত রাগ কেন?”
মিস্টার আলবার্ট তীব্র ক্ষোভ নিয়ে বলল,
“তুমি আমাকে তাকে দেখাও,যার জন্য আমি এত বছর ধরে অপেক্ষা করছি।”
আফরিদ শুনলো, তার পিছনে দাঁড়ানো ঈশানের দিকে ইশারা করতেই ঈশান বড় প্রজেক্টের অন করতেই এক জোড়া চোখ ভেসে এলো। আফরিদ সেই চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
“সে একটু বেশি সুন্দর তাই না, মিস্টার আলবার্ট?”
মিস্টার আলবার্ট এবং কামাল বাকরুদ্ধ, কারো দৃষ্টি এতটা সুন্দর কি করে হতে পারে? তার সরল চাহনি, সবটাই মোহনীয়!
মিস্টার আলবার্টকে হা করে তাকিয়ে থাকতে দেখে বলল,
“জীবনে একটা কাজ ভালো করেছেন। একটা চমৎকার মেয়ে জন্ম দিয়েছেন।”
মিস্টার আলবার্ট ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন। চমৎকার মেয়ে?
“তুমি আমাকে তাকে পুরোটা দেখাওনি। ওর মুখ দেখাও আমাকে। প্লিজ আমি রিকোয়েস্ট করছি।”
“জ্বি না। সেই সৌভাগ্য আপনার হচ্ছে না মিস্টার।”
মিস্টার আলবার্ট হাঁসফাঁস করছেন। তিনি দেখতে চান ওই কন্যাকে।
আফরিদ তাকে আশ্চর্যের আরো একধাপ এগিয়ে দিয়ে বলল
“বাই দ্য ওয়ে মিস্টার আলবার্ট,আমি যাচ্ছি স্পেন। যাবেন নাকি আপনি শ্বশুর বাড়ি?”
“শাটআপ।”
আফরিদ মাস্কের ভেতরে হেসে ফেলল, ঘাড় বাঁকিয়ে বললো।
“Why are you so angry? ভালোর জন্যেই তো বললাম শ্বশুর বাড়ি যেতে চাইলে বলতেই পারেন।”
অগ্নিদগ্ধ নয়নে তাকালো মিস্টার আলবার্ট। আফরিদের ইচ্ছে করল মাস্ক খুলে বলতে,
“আমকে চিনতে পারলেন না মিস্টার আলবার্ট? শেইম অন ইউ।”
চলবে………..।✨
(📌 গল্পটা যখন ২০ পর্বে এসেছে তখন থেকেই প্রকাশনী থেকে বলা হয়েছে পান্ডুলিপি দিতে। বই আনতে। কিন্তু আমি দেখেছি আমার পাঠকমহল ভীষণ আগ্রহ নিয়ে গল্পটা পড়ে। সেই আগ্রহ দেখে আমি প্রকাশকে বলছি না বই আনব না। কিন্তু পাঠকমহল আমার ধারণা ভুল প্রমাণিত করে দিলো। প্রথম দিকে গল্পের রিচ ছিলো ২কে অবধি। তারপর কমতে কমতে ১.৬ বা ৭ কে এসে ঠেকছে।এখন রিচ ১.৪কে । কিছুদিন পর হয়তো ১কে এসে থামবে। তো আমি যতটুকু বুঝলাম আমার পাঠকমহল ফ্রিতে পড়তে পছন্দ করছেনা। এরকম চলতে থাকলে কিছুদিন পর আমি গল্পটা যেকোনো সময় বন্ধ করে পান্ডুলিপি জমা দিয়ে দেব বইয়ের জন্য। যেহেতু পাঠক মহলের ইচ্ছে নেই পড়ার তাহলে যে কজন গল্পটা পড়তে চায় তারা বই কিনেই পড়ুক।
তাই আমি এখনো বলব আপনারা রেসপন্স করুন। আমি চাই গল্পটা ফেসবুকে থাকুক। ফেসবুকে পাঠকমহল পড়ুক। গল্পটা রহস্যময় , সেগুলো এনজয় করুক। এমন নয় যে আমি প্রতি পর্বে চিল্লিয়ে বলব রেসপন্স করার কথা। এত কষ্ট করে লিখি, দু-তিন দিন সময় লাগিয়ে। অথচ আপনারা এক মিনিট সময় নিয়ে গল্প নিয়ে দুই লাইনের মন্তব্য করতে পারেন না?)
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৫
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৭
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২০
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫০
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৭
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৫
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৬
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩১