অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ৫০]
লেখিকাফারহানানিঝুম
(🚫 দুর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
বর্তমান সালে এসে আগেরকার ঘটনা গুলো যে এভাবে সামনে আসবে কল্পনা করেনি সে। অথচ ঘটনা ঘটেছে আজ থেকে বারো বছর আগে! একজন সায়েন্টিস্টের বাড়িতে হামলা করেছে দু’জন, যাদের কোনো খোঁজখবর পাওয়া যায়না! তারা হুট করেই হামলা করেছিল। সেই হামলায় নি’হত হয়েছে একজন, কিন্তু দ্বিতীয়জনের কি হয়েছিল তা কেউ জানেনা। তথাকথিত শুনতে পাওয়া গেছে ফ্যামিলি থেকে নাকি তিনজন সদস্য নিখোঁজ, তাদের পাওয়া যায়নি। অথচ সেই ঘটনা থেকে একটা সন্দেহজনক কথা হচ্ছে সায়েন্টিস্ট মিস্টার আলবার্টের বলা কথা।
প্রেস মিডিয়াদের কাছে তিনি বলেছেন কেউ নিখোঁজ নয়। পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে হাম’লাকারীদের মধ্যে দ্বিতীয়জনকে খোঁজার এবং তারা কিসের জন্য হামলা করেছিল সেটা জানতে।
ঘড়ির কাঁটা টিকটিক করে ঘুরছে! হাতের মুঠোয় থাকা প্রতিটি নিউজ পেপার কাটিং গুলো বারবার দেখে চলেছে ন্যান্সি।
সবকিছু জটপাকানো, মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। এটা কি হলো? মানেটা কি? বারো বছর আগের গল্প এভাবে সামনে কেন আসছে?
নিউজ পেপারের খবর এবং অন্যসব তথ্য থেকে ন্যান্সি এটুকু জানতে পেরেছে সায়েন্টিস্টের পরিবারের কেউই আজ অবধি সামনে আসেনি। কখনো কোথাও তাদের সোশ্যাল মিডিয়ার সামনে আনা হয়নি!
আশ্চর্যের বিষয় ওই হামলার পর সায়েন্টিস্টের ফ্যামিলি হুট করেই বার্সেলোনা থেকে উধাও হয়ে যায়! এরপর নিখোঁজ! একটা মানুষ তার পরিবারের সকলকে নিয়ে উধাও হয়ে গেল, কর্পূরের মতো উবে গেছে অথচ কেউ খুঁজে বের করতেই পারল না?
🌼🌼
“শুন বান্দি জানকি বাচ্চা এই কালার টা ভাল্লাগে না,হ’ট কালার পড়বি ,যাতে আমার খালি তোকে ছুঁতে ইচ্ছে করে। নাইস এন্ড এট্রেক্টিভ ইয়ার।”
আফরিদের কথায় চমকে উঠে ন্যান্সি। ন্যান্সি ঠায় দাঁড়িয়ে আছে,কী বলল আফরিদ? দ্রুত ড্রেসিং টেবিলের কাছে গেল, ওড়নার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছে তার ফিতেটা। চকিতে ঘাড় ফিরিয়ে বাইরের দিকে দৃষ্টি ফেলল। অস’ভ্য লোকটা এটা ইশারা করলো?
ন্যান্সি তিরিক্ষি মেজাজে বলে উঠে।
“নষ্ট পুরুষ একটা আপনি আমার উপর নজর রাখছেন? কোথায় কোথায় হিডেন ক্যামেরা লাগিয়েছেন? কেন এমন করছেন? আপনি এসব করছ
আফরিদ ওভার কোট টা জড়াতে জড়াতে বলল।
“বললাম যে লাইফ তোর রুলস আমার।”
ন্যান্সি হিসহিসিয়ে বলে উঠে।
“আপনাকে আমি ছাড়ব না ট্রাস্ট মি।”
আফরিদ ঠোঁট গোল করে নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল।
“উফ্ মাতারি রেএএ ছাড়িস না আমিও চাই তুই ধরে রাখ।”
ন্যান্সি রাগে ফুঁসছে,আফরিদ ফের বলে উঠে।
“খুব শীঘ্রই স্পেন আসছি ওয়েট কর।”
আঁতকে উঠে ন্যান্সি। আসছে মানে?
“আপনাকে মে রে ফেলবে ইদ্রান ভাইয়া।”
গা দুলিয়ে হেসে ফেলল আফরিদ,ধীরে ধীরে গিয়ে গাড়িতে উঠে বসলো, এদিকে গাড়ি স্টার্ট দিলো ঈশান।
“দেখাই যাক কে কাকে মা রে।”
ন্যান্সি তপ্ত নিঃশ্বাস ছাড়লো, ধরাশায়ী গলায় বলে উঠে।
“আপনি এমন একজনকে ভালোবাসেন,যে আপনার ধ্বংস করতে উঠেপড়ে লেগেছে।”
হালকা হাসলো আফরিদ, সিটে গা এলিয়ে প্রসন্নচিত্তে বলে।
“ধ্বংসকারীর মাঝেই আমার প্রাণ ভোমরা লুকিয়ে আছে।”
ন্যান্সি তাচ্ছিল্যের হাসি টেনে বলল,
“ফিরে এসে আপনার বুকের বাঁ পাশে গুলি চালাব। যেনো বাঁচতে না পারেন।”
আফরিদ লম্বা নিঃশ্বাস টেনে বুকের ডান পাশে হাত চেপে বলল।
“উঁহু, তুই বুকের ডান পাশে শ্যুট করিস। আমার ডান পাশটা তোকে ভালোবাসে।”
🌿_🌿
অ’স্ত্র পা’চারের নতুন ফন্দি বানান হয়েছে। এটা মাস্টার প্ল্যান লুসিফার এলেন ইদ্রানের। এবারে জঙ্গলের রাস্তা ধরবে ওরা। গত বার ধরতে ধরতে গিয়েও পারলো না ইস্ক্রিয়াস। কিন্তু এবারে আর সেই ভুল করা সম্ভব নয়। ফোর্স রেডি আছে ইতিমধ্যেই,স্পেশাল ফোর্স।আপাতত তাদের প্ল্যান সম্পর্কে কাউকে অবগত করানো যাবে না?
ল্যাপটপে কিছু কাজ ফাইল গুলো চেক করে নিল ইস্ক্রিয়াস।এবারের সুযোগ সে কোনো ভাবেই মিস করতে চাইছে না।
পকেটে থাকা ফোনটি ভাইব্রেট করা মাত্র ল্যাপটপের শাটার বন্ধ করে ফোন বের করলো। রাইসা কল করেছে,অধর কোণে অল্প হাসি ফুটে উঠলো।তবে কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। মেয়েটা তার জন্য বি’পদে পড়েছে, ইস্ক্রিয়াস শ্যিওর এই কাজটা ইস্ক্রিয়াসের।ফোনটি ভাইব্রেট করতে করতে বন্ধ হয়ে গেল। ইস্ক্রিয়াস কিছু একটা ভেবে জিপের চাবি নিয়ে উঠে দাঁড়ালো। দিবাং কে ডেকে বলল।
“আমি একটু বের হচ্ছি দিবাং, তুমি থেকো।”
“স্যার কোথায় যাচ্ছেন? আমিও যাবো।”
ফের হাসলো ইস্ক্রিয়াস।
“না দিবাং তুমি থাকো । আমি একটু এল এ বি সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আসি।”
আঁতকে উঠে দিবাং। অস্থির কন্ঠে বলে।
“স্যার আমিও যাবো আপনার সঙ্গে।”
“আরে না দিবাং, আমি চাই না তুমি বি’পদে পড়ো। আপাতত এল এ বি সঙ্গে দেখা করাটা আমার খুব জরুরী। তুমি বরং পুলিশ স্টেশনে থাকো।”
দিবাং আর কথা বাড়ালো না, এদিকে জিপ নিয়ে বেরিয়ে পড়ল ইস্ক্রিয়াস। আপাতত এল এ বি ইন্ডাস্ট্রিতে যাবে।তবে কিঞ্চিৎ সন্দেহ হচ্ছে,আদতেও কি লুসিফার কে ওখানে পাবে?
“আফরিদ এহসান যেকোনো সময় স্পেন আসতে পারে, তার আগেই তোমাকে নিজেকে তৈরি করতে হবে।”
ইদ্রানের কথায় টনক নড়ে ওঠে ন্যান্সির। কপাল কুঞ্চন করে শাণিত কন্ঠে বলল,
“তাতে ভয় কিসের? এটা তো আপনার রাজ্য, আপনার হাতের মুঠোয়। তাকে আসা থেকে আটকান।”
ইদ্রান ঠোঁটে ঠোঁট চেপে কিছু একটা ভেবে বলল,
“উঁহু এটা আমার রাজ্য নয়। এটা আফরিদ এহসানের রাজ্য! স্পেন মাফিয়া কিংয়ের নাম শুনলেই কাঁপে!”
ন্যান্সি থমকালো, চমকালো স্থির হয়ে গেল পুরো।
“কিন্তু সে তো বাংলাদেশে, বাংলাদেশকে কন্ট্রোল করে।”
ইদ্রান চেয়ারে বসিয়ে থুতনিতে আঙ্গুল ঠেকিয়ে বলল,
“ডিয়ার মাউস, একটা কথা বলি আফরিদ এহসান ক্রিমিনাল। এমন কোনো দেশ নেই তাকে খুঁজছে না! সে আন্ডারওয়ার্ল্ডে একাই রাজত্ব করে চলেছে বাংলাদেশে থেকে। সেখানে স্পেন তো ওর জন্মস্থান।”
“জন্মস্থান” কথাটা শুনে মাথার উপর আকাশ ভেঙ্গে পড়লো ন্যান্সির। দপ করে বসে পড়ল সোফায়। বিস্মিত নয়নে তাকিয়ে আছে ইদ্রানের দিকে।
“সে স্পেনের নাগরিক?”
ইদ্রান যেনো কিছুটা আশ্চর্য হলো, অসন্তোষ প্রকাশ পাচ্ছে তার চাহনিতে!
“এতগুলো মাসের সংসার অথচ জানোই না সে স্পেনের নাগরিক? ওয়াও।”
ন্যান্সি কথাগুলো শোনার পর থেকেই ঘোরের মধ্যে আছে। সবকিছু গুলিয়ে যাচ্ছে। আফরিদ তো একটিবার বলেনি সে স্পেনের নাগরিক?
জামা কাপড় গুছিয়ে নিয়েছে সব কিছু। মিসেস এনা স্মাইলি কে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে চলে যাবে বলে। মিস্টার রাইয়ান আটকালেন ওদের।
“কোথায় যাচ্ছো এনা?”
এনা চারিদিকে এক পলক তাকিয়ে বলল।
“আমরা আর এখানে থাকব না মিস্টার রাইয়ান।আমরা যাচ্ছি।”
“কী?”
চমকিত হয়ে শুধোয় মিস্টার রাইয়ান।
“আপনারা যাচ্ছেন মানে?ইদ্রান জানতে পারলে কী হবে বুঝতে পারছেন?”
ফাঁকা ঢোক গিললো মিসেস এনা। মায়ের চিন্তিত মুখখানি দেখে মলিন মুখে তাকায় স্মাইলি।
“আঙ্কেল আমরা চলে গেলে উনার পারমিশন নিতে হবে কেন? আমরা এসেছিলাম নিজের ইচ্ছেয় এবং এখন যাচ্ছি।”মিস্টার রাইয়ান কিছু বলতে চাইলেন, কিন্তু তা বলতে দিলেন না মিসেস এনা।
“প্লিজ মিস্টার রাইয়ান আপনি দয়া করে আমাদের বাধা দিবেন না।”
মিসেস এনা এক প্রকার মিস্টার রাইয়ান কে অগ্রাহ্য করে বেরিয়ে গেলেন।
মিস্টার রাইয়ান ঘাবড়ে গেলেন, দ্রুত হাতে ফোন করলেন ইদ্রান কে।
অন্ধকারে ডু’বে আছে রুম।এক পাশে দাঁড়িয়ে আছে এক রমণী।মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা তার। ইদ্রান চোয়াল শক্ত করে বলে উঠে।
“সমস্যা কী তোমার? আমি কী বলেছি ওস্তাদি করতে?”
শুকনো ঢোক গিললো রমণী,চাপা স্বরে বলল।
“প্রয়োজন ছিল। আপনাকে বিরক্ত করছিল ভাইয়া।”
হাসলো ইদ্রান।
“তোমাকে ভাবতে হবে না। আমি করে বুঝে নেব।আপাতত তুমি ওটুকুই করো যতটুকু আমি বলেছি।”
“ওকে ভাইয়া।”
মেয়েটি অপেক্ষা না করে বাইরের উদ্দেশ্যে প্রস্থান করলো। সামনের দিকে যেতেই তার জন্য রাখা বাইকটি নজরে এলো। সেটায় উঠে ছুট লাগালো নিজের উদ্দেশ্য পূরণে।
ফোনের টুং শব্দটি হওয়া মাত্র বিরক্তিতে ‘চ’ শব্দটি উচ্চারণ করল, অতঃপর দৃষ্টি বুলিয়ে দেখল। গাম্ভীর্য ভাবটা ফুটে উঠে স্পষ্ট, পাগলের ন্যায় ছুটে গেল বাইরের দিকে।ইভান আকস্মিক লুসিফার কে এরকম হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসতে দেখে শুধোয়।
“ভাই কি হয়েছে?”
“প্যালেসে যাবো নো মোর ওয়ার্ডস।”
আর কিছু জিজ্ঞেস করলো না ইভান। গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে ছুটে চলল প্যালেসের দিকে। রাস্তার কাছাকাছি আসা মাত্র হোয়াইট কার দেখতে পেলো।লুসিফার অস্থির কন্ঠে বলল।
“ইভান ফার্স্ট আমাদের ওই গাড়ি ধরতে হবে।”
ইভান তাই করলো, দ্রুত স্পিড বাড়ায়।
“ম্যাম আমাদের কেউ ফলো করছে।”
মিসেস এনা পিছন ফিরে দেখলেন, এটা ইদ্রানের গাড়ি। স্মাইলি অস্থির নয়নে সবটা পর্যবেক্ষণ করে বলল।
“মাম্মা লুসিফার।”
“হুস চুপ করো। আমাদের যে করেই হোক যেতে হবে।”
ধীরে ধীরে দুটো গাড়ির-ই স্পিড বেড়ে চলেছে। আশেপাশে রয়েছে অনেক গুলো গাড়ি। স্পিডের জন্য বিপদসংকুল দেখা যাবে বোধহয়। স্মাইলি বুঝে উঠতে পারছে না সে কী করবে?লুসিফার হঠাৎ ওদের পিছুই বা কেন নিচ্ছে? ব্রিজ পেরিয়ে সমান তালে এগিয়ে চলেছে গাড়ি। ড্রাইভার এতটা স্পিড মেইনটেন করতে না পেরে থেমকে গেল, ফলস্বরূপ একটি গাড়ির সঙ্গে সামনে থেকে আসা আরেকটি গাড়ির সজোরে ধাক্কা লাগলো। উল্টো গেল দু’টো গাড়ি, চিৎকার করে উঠল স্মাইলি।সে বুঝি ম’রে যাবে।
নিস্তব্ধ জোৎস্না স্নাত রাত্রি।রুপালী থালার ন্যায় চাঁদটা আকাশে ঝলঝল করছে। টিমটিম করে তারা গুলো জ্ব’লছে। জানালায় বাধা সফেদ পর্দা গুলো বাতাসে উড়ে বেড়াচ্ছে। মুখে জানালা দিয়ে আসা চাঁদের ঈষৎ আলো পড়া মাত্র চোখ দুটো খিঁচিয়ে বুঁজে নিল স্মাইলি। উঠতে গিয়ে শরীরে তীব্র ব্যথা অনুভব করলো সে।মাথায় অস’হ্য যন্ত্র”না। কপালে হাত রাখতেই বুঝতে পারলো ব্যান্ডেজ করা।
“উফ্!”
ব্যথাতুর কন্ঠে কাতরে উঠে স্মাইলি। দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়, অকস্মাৎ পুরো ঠোঁট দুটো। জীর্ণ শীর্ণ বদন খানি শিরশির করে উঠল, অনাঙ্ক্ষিত এই ঘটনা নারী সত্তা নাড়িয়ে দিচ্ছে স্মাইলি। সামনে বসা পুরুষটি এমন ভাবে মজেছে যেনো বহু দিনের তৃষ্ণার্ত ঠোঁটে একটুখানি পানি পাওয়ার ন্যায় আবেগে ভেসে গেছে। শক্তপোক্ত দেহের ভর সামলাতে না পেরে ঊরুতে পা রাখলো স্মাইলি।চুলের ভাঁজে ভাঁজে বিচরণ করছে কল্পনার পুরুষটির হাতের বিচরণ। মেদহীন উদরে শক্ত হাতের স্পর্শ পাওয়া মাত্র ধড়ফড় করে উঠে স্মাইলি।বক্ষ স্থলে ধাক্কা দেওয়া সত্বেও সরাতে পারছে না। একটা সময় অধর চুম্বন গুলো কা’ম’ড়ে পরিণত হয়। মিনিট পাঁচেক পর সরে গেল লুসিফার।
“প্রথম চুমু ডান।”
ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে স্মাইলি।কিয়ৎক্ষণ পূর্বে তার সাথে কী হলো তা মোটেও খেয়াল নেই। ঠোঁটে হাত রেখেই চোখ বুজলো সে। মস্তিষ্কে চাপ দিতেই মনে পড়ল তাঁদের এক্সিডেন্ট হয়েছে। কিন্তু মিসেস এনা? স্মাইলির মা কোথায়?
“ল..লুসিফার আমার মা? আমার মা কোথায়?”
আরামসে গিয়ে সোফায় বসলো ইদ্রানের দৃষ্টি তার তী’ক্ষ্ণ। স্মাইলি অস্থির হয়ে উঠলো,তার মা কোথায়?সে যদি এখানে থাকে তাহলে তার মায়েরও এখানে থাকা উচিত।
“বলুন না আমার মা কোথায় আছে? বলুন!”
শব্দ করে হেসে উঠলো লুসিফার।সুর তুলে শিস বাজিয়ে বলল।
“পাঠিয়ে দিয়েছি।”
বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠল স্মাইলির।তবে কী বাবার মতো মা কেও হারিয়ে ফেলল? দ্রুত পা হিচড়ে এগিয়ে গিয়ে ইদ্রানের পায়ের কাছে বসলো। কান্নায় ভেঙে পড়ল মূহুর্তের মধ্যে।
“প্লিজ প্লিজ এসব কি বলছেন আপনি? আমার মা কোথায় লুসিফার? বলুন প্লিজ?চুপ থাকবেন না।”
কান্নারত মুখ পানে ঝু কে এলো ইদ্রান।পুরো মুখে আলতো করে ফু দিতেই চোখ খিঁচিয়ে নিল সে। ফিসফিসিয়ে বললো।
“চুমুর টেস্টটা দারুণ ছিল।”
কিংকর্তব্যবিমূঢ় বনে গেল সে।
“আপনি আমার মা কে কোথায় রেখেছেন বলুন না? প্লিজ!”
“আয়না ঘরে রেখে দিয়েছি বলতে পারো। সিক্রেট হুস।”
স্মাইলি কিচ্ছু বুঝতে পারছে না,সবটা তার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।
“আপনি এসব কী করছেন? কেন করছেন? প্লিজ আমার মা কে এনে দিন।”
কান্নার ফলে হেঁচকি উঠে গেল এক প্রকার।
“দেব,পাবে তোমার মা’কে। তবে শর্ত এটাই যে…
থেমে গেল লুসিফার, আবারো অস্থির হয়ে উঠে স্মাইলি।
“কী শর্ত? বলুন আমি সব শুনবো।”
“আমাকে বিয়ে করতে হবে ডিয়ার।”
থমকালো স্মাইলি,বাক্যহারা রিতিমত।
“বিয়ে?”
“ইয়েস । বিয়ে করতে হবে। আমার সাথেই থাকতে হবে, তাহলেই মা কে পাবে আদ্যারওয়াইজ হুসস তোমার মা গেলো!”
আঁতকে শরীরের লোমকূপ কেঁপে উঠছে।
“না না আমি মা কে চাই। আপনি বিয়ে করবেন তো? করব সত্যি বলছি। তবুও আমার মা কে কিছু করবেন না।”
একপেশে হেসে ফেললো লুসিফার।
“উফ্ দ্যাটস মাই লিটল প্রিন্সেস।”
স্মাইলি কাঁপছে,সে জানে লুসিফার সব পারে।যদি মিসেস এনা কে খু’ন করে দেয় তাহলে?
বিয়ের পর মূহুর্তে রুমের এক কোণে গুটিসুটি হয়ে বসে আছে স্মাইলি। অতিরিক্ত কান্নার ফলে হেঁচকি উঠেছে তার।চোখ দুটো ফুলে গেছে। রুমে প্রবেশ করে খট করে দরজা টা বন্ধ করে দিল লুসিফার।
“হেই মাই ডিয়ার।”
সেই ডাক। অদ্ভুত ভাবে কর্ণ স্পর্শ করে স্মাইলির। প্রচন্ড রাগ নিয়ে বলে উঠে।
“আমার মা কোথায়? বিয়ে হয়ে গেছে আমাদের। এবার বলুন কোথায় উনি?”
কন্ঠে তেজ।লুসিফার শব্দ বিহিন হাসলো। এগিয়ে গিয়ে হাতে থাকা ঘড়িটা খুলে ড্রেসিং টেবিলের উপর রাখলো।এবারে স্যুট খুলে ডিভানের উপর ছুড়ে ফেলল। স্মাইলির দিকে দু কদম এগিয়ে এসে হিসহিসিয়ে বলল।
“এখনো তো মেইন কাজটাই করলাম না।চলো বাসর সেরে ফেলি।”
চলবে……….।✨
(📌 ধৈর্য ধরুন আর এক পর্ব পড়েই আমি আফরিদকে স্পেন পাঠিয়ে দেব। আর অপেক্ষা করতে হবেনা।)
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৩
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৮(শেষ অর্ধেক)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৭
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৬(প্রথমাংশ +শেষাংশ +বোনাস)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২২
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩