অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ৪৮]{প্রথম অর্ধেক}
লেখিকাফারহানানিঝুম
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
“তুই চাইলেই কিন্তু আমার জন্য একটা মেয়ে ব্যবস্থা করে দিতে পারিস।”
পানির বোতলটা উঁচু করে ধরেছিল আফরিদ। নরখাদক আলিয়াজের কথায় নাকে মুখে উঠে গেল পানি। ভ্রু উঁচিয়ে শুধোয়,
“কী কী?”
আলিয়াজ হামি তুলে বলল,
“অনেকদিন হলো মেয়েদের কাছ থেকে দেখিনা। একটুখানি দেখলে মন্দ হতো না।”
আফরিদ খুক খুক শব্দে কেশে উঠলো। আলিয়াজের শখ দেখে অবিশ্বাস্য নয়নে তাকালো, দাঁত পিষে বলে।
“ওরে বাঙ্গিরনাতি শখ তো কম নয়। মাইয়া চাই?”
আলিয়াজ নাক টানে, দুঃখী দুঃখী কন্ঠে বলে,
“তুই নিজে যে ইলহামের সঙ্গে থাকিস তার বেলা?”
আফরিদ কর্দয হেসে বলল,
“তুই বেডা বহুত খারাপ। জাতে মাতাল তালে ঠিক আছে।”
আলিয়াজ বুঝি লজ্জা পেলো। হাতে বাঁধা শিকলটা একটু নাড়িয়ে নাড়িয়ে বলল,
“আহা কতদিন মেয়ে ছুঁয়ে দেখিনা!”
নাক মুখ কুঁচকে নিল আফরিদ।
“চুপ বেডা খচ্চ’র।”
আলিয়াজ দাঁত কেলিয়ে বলল,
“আসছে মসজিদের মোল্লা।”
আফরিদ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল।এই সবগুলো একরকম কেন? ঈশান যখন তখন বলবে আপনি মসজিদের ইমাম সাহেব।আর আজকে আলিয়াজ বলছে মসজিদের মোল্লা? আশ্চর্য!
হাস্যরসের শেষ আলোটুকুও যেন হঠাৎ নিভে গেল। মুহূর্তেই আলিয়াজের মুখাবয়বে ফিরে এলো সেই পুরোনো ভয়ংকর ছায়া। তার চোখদুটো লালচে আগুনে দীপ্ত, ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত এক কুটিল টান। কর্কশ, ফাঁপা কণ্ঠে সে বলে উঠল,
“তুই ওকে কেন বাঁচিয়ে রেখেছিস? মেরে ফেলার কথা ছিল তো।”
বাতাস যেন জমাট বাঁধল। আফরিদ ভ্রু সামান্য নাচিয়ে ধীর, হিসেবি হাসি হাসল। তার হাসিতে উষ্ণতা নেই আছে কেবল কৌশল। ধারালো স্বরে সে বলল,
“ও আমার ট্রাম্প কার্ড, তোর থেকেও বড়।”
বেসমেন্টের ঘরটা স্যাঁতসেঁতে অন্ধকারে ডুবে আছে। দেওয়ালের চুন খসে পড়ে মেঝেতে ধূসর স্তর তৈরি করেছে। বাতাসে রক্তের গন্ধ ঘন, ভারী, শ্বাসরুদ্ধকর। আলো বলতে মাথার ওপর ঝুলে থাকা একমাত্র ম্লান বাল্ব, যা দুলে দুলে ছায়াগুলোকে আরও বিকৃত করে তুলছে।
ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে নরখাদক আলিয়াজ তার দৃষ্টি ক্ষুধার্ত, ঠোঁটের কোণে শুকনো রক্তের রেখা। সামনে আফরিদ, শান্ত, অদ্ভুত স্থির। কিছুক্ষণ আগেই সে নির্লিপ্ত হাতে মাংস কেটে এনেছে। অর্ধেক ইতিমধ্যেই তুলে দিয়েছে আলিয়াজের হাতে। বাকি অংশ পড়ে আছে লোহার ট্রেতে পিরানহা মাছের জন্য।
লোহার দরজার ওপাশে পানির ট্যাংকে মাঝে মাঝে ছলছল শব্দ উঠছে মনে হচ্ছে মাছগুলোও যেন অপেক্ষায় আছে, রক্তের স্বাদ পেতে উদগ্রীব।
আলিয়াজ হিসহিসিয়ে উঠল, যেন বি’ষধর সাপ ফণা তুলেছে।
“তুই আমাকে বাঁচিয়ে রেখে ভুল করেছিস, আফরিদ। একদিন পস্তাতে হবে।”
আফরিদ চোখ নামাল না। ঠোঁটের কোণে আবার সেই বাঁকা, অচেনা হাসি ফুটল। সেবলল ধীরে, যেন ভবিষ্যৎ তার মুঠোয় বন্দি।
” দেখা যাক।”
বাল্বটা আবার দুলে উঠল। ছায়াগুলো আরও দীর্ঘ হলো। আর সেই ছায়ার ভেতরেই হয়তো আরও বড় কোনো খেলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে দু’টি হিংস্র মন।
পড়ুন আফরিদ ন্যান্সির গল্প ইবুক অ্যাঞ্জেলিনা
https://link.boitoi.com.bd/CypvV
স্নিগ্ধতায় ভরপুর সকাল। ঘাসের উপর বসেছে প্রজাপতি। রঙ বেরঙের এই প্রজাপতি গুলো দেখতেও দারুণ লাগে। মৃদু মন্দ হাওয়া বইছে।সেই হাওয়ায় উড়ছে স্মাইলির চুল গুলো। চুল গুলো কে খোঁপা করে নিল সে। সামনের দিকে পা বাড়াতেই কটেজের দিকে এগিয়ে গেল।পিছন থেকে হর্ন শুনতে পেলো। ওদের গাড়ি এসে গেছে।আপাতত স্মাইলি কোথায় যাচ্ছে না নেই। তবে মিসেস এনা বলেছেন তাকে কোথাও একটা নিয়ে যাচ্ছেন কারো সাথে দেখা করাতে। স্মাইলি চটজলদি উপরের রুমে গেল, নিজেকে তৈরি করে ফের নিচে চলে এলো।
ইতিমধ্যেই গাড়ি গিয়ে উঠেছেন মিসেস এনা। স্মাইলি আর সময় নষ্ট করল না। চুপচাপ গিয়ে গাড়িতে বসলো। কোথায় যাচ্ছে তা এখনো বলেন নি মিসেস এনা।
কটেজ পেরিয়ে রাস্তায় নেমে গেলেন। বার্সেলোনা শহরটা যে এতটা সুন্দর তার আন্দাজ ছিল না স্মাইলির। মানুষের ভিড় আশেপাশে। পার্ক গুলোতেও জোড়ায় জোড়ায় বসে আছে। কিছুটা দূরে ক্যাফেটেরিয়া দেখতে পেলো। অনেক স্টুডেন্ট দাঁড়িয়ে আছে। আজকে স্মাইলির শরীর খারাপ হওয়ার দরুন সে আর কলেজে যায়নি। এরপর হুট করে এই কোথাও একটা যাওয়ার কথা শুনে মানসপটে ভেসে উঠলো লুসিফার কথাটি।
কিয়ৎক্ষণের মধ্যেই বড়সড় একটা প্যালেসের কাছে এসে গাড়ি থামল। সিকিউরিটি গার্ড এগিয়ে এসে মেইন গেট খুলে দিল।
গাড়ি বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে, জানালা দিয়ে মুখ বের করে দৃষ্টি বুলিয়ে নিল স্মাইলি।বড় বড় অক্ষরে লেখা আছে ❝এল এ বি প্যালেস❞প্যালেসের সামনের দুদিকে চলে গেছে গার্ডেন।ফুল আর ফুল , মাঝখান দিয়ে গেছে প্যালেসের ভেতরে যাওয়ার রাস্তা।
গাড়ি থেকে নামা মাত্র একজন গার্ড এগিয়ে এলো। স্মাইলি আর মিসেস এনা কে ভেতরে নিয়ে যেতে লাগল।মেইন ডোর ওপেন হওয়া মাত্র এগিয়ে এলেন মিস্টার রাইয়ান।
“হ্যালো মিস্টার রাইয়ান। কেমন আছেন?”
মিস্টার রাইয়ান অল্প হাসলেন। প্রত্যুত্তরে বলল।
“আমি ঠিক আছি। আপনি কেমন আছেন মিসেস এনা?”
“ঠিক আছি।”
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা স্মাইলির দিকে তাকালেন রাইয়ান। চমৎকার হাসি উপহার দিয়ে বলল।
“কেমন আছো স্মাইলি প্রিন্সেস দ্রিশা।”
স্মাইলি প্রচণ্ড রকম অবাক হলো।এই লোকটাকে তো আজকেই প্রথম দেখেছে স্মাইলি, অথচ লোকটা তার নাম জানে?অবশ্য জানতেই পারে, যতটুকু বুঝতে পারছে লোকটা তার মা কে চিনে তাহলে নিশ্চয়ই তাকেও চিনবে।
“আমি ঠিক আছি আঙ্কেল। আপনি কেমন আছেন?”
স্মাইলির কন্ঠস্বর শুনে মন শান্ত হয়ে গেল মিস্টার রাইয়ানের।
“এসো বসবে।”
মিসেস এনা গিয়ে বসলো, কিন্তু স্মাইলি বসলো না। মিস্টার রাইয়ান স্মাইলি কে উদ্দেশ্য করে বলেন।
“এটা তোমার-ই বাড়ি দ্রিশা। তুমি চাইলে ঘুরে দেখতে পারো।”
মিস্টার রাইয়ান একজন গার্ল সার্ভেন্ট কে ঢেকে বললেন স্মাইলি কে পুরো বাড়ি দেখাতে। স্মাইলি আর অমত করলো না, চুপচাপ উপরের দিকে যেতে লাগল। প্যালেস একটু বেশি বড়। সামনের দিকে চলে গেছে বড় সিঁড়ি। সিঁড়ি বেয়ে উপরের দিকে গেল স্মাইলি।সারি সারি রুম। একের পর এক রুম। করিডোর পার করে ভেতরের দিকে যাওয়া মাত্র আরেকজন গার্ল সার্ভেন্ট এগিয়ে এলো।
“নুমাইয়া তোমাকে ডাকছে।”
নুমাইয়া মেয়েটি স্মাইলির সঙ্গে এসেছিল তাকে ঘুরে দেখাতে। স্মাইলি তার দিকে তাকিয়ে বলল।
“আপনি যান, আমি একা পারব।”
নুমাইয়া চুপচাপ চলে গেল। স্মাইলি আশেপাশে দৃষ্টি বুলিয়ে দেখতে লাগলো চারিদিকে। সত্যি বাড়িটা কত সুন্দর! ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে লাগল স্মাইলি। কিছুটা দূরে যাওয়া মাত্র বি’ক’ট শব্দ কানে এলো স্মাইলির।দিক অনুসরণ করে সেদিকটায় এগিয়ে যেতে লাগলো স্মাইলি।
র’ক্তা’ক্ত মিশ্রিত মুখশ্রী দেখে অন্তর আ’ত্মা কেঁপে উঠলো। পা দু’টো ওখানেই স্থির হলো একই লোক। র’ক্তে রাঙানো মুখশ্রী, হৃদপিন্ড ধুকপুক করছে স্মাইলি। পিঠের শিরদাঁড়া রেখা অনুযায়ী ঘাম গড়িয়ে গেল।
কালো প্যান্ট এবং নেভি ব্লু টিশার্ট পরা ইদ্রান। শরীরের বেশিরভাগ অংশই র’ক্ত লেগে আছে। স্মাইলি পিছুতে লাগল।দু কদম পিছিয়ে গিয়ে থাই গ্লাসের সাথে ধাক্কা খেল।ইদ্রান তাকিয়ে আছে এক দৃষ্টিতে। অতঃপর হেসে মৃদু স্বরে বলল।
“হ্যালো স্মাইলি প্রিন্সেস দ্রিশা।”
নিঃশ্বাস ভারী হয়ে এলো স্মাইলির। হাত পা জমে বরফ হয়ে যাচ্ছে তার।
“আ.. আপনি লু..লুসিফার!”
“হেই লিটল প্রিন্সেস এতটা ভয় পাওয়ার কিছু নেই।ভয় পাওয়া ভালো তবে এতটা নয়!”
স্মাইলি এখনো ঘো’র কা’টাতে পারছে না। এটা লুসিফার? নিজের মনের সন্দেহ টুকু দূর করতে কাঁপা স্বরে শুধোয়।
“আ.. আপনি লুসিফার?”
চমৎকার হাসলো লুসিফার,নীলাভ চোখ জোড়া আলগোছে বুঁজে লম্বা নিঃশ্বাস টেনে ফের তাকালো।
“ছুঁয়ে দেখো!”
স্মাইলি বিশ্বাস করতে পারছে না তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে লুসিফার।
🌿_____🌿
সকাল টা আজ বেশ ফুরফুরে লাগছে ন্যান্সির কাছে। আজকে সে অনেক কিছুই শিখেছে। এই যেমন ইদ্রান তাকে কিভাবে হ্যাকিং করতে হয় এসব শিখিয়ে চলেছে গত দু’দিন যাবত। তারপর তার ট্রেনিং চলেছে। ন্যান্সি ব্যথা পেয়ে পেয়েই শিখে চলেছে। ভীতু মেয়েটা সাহসী হয়ে উঠছে কিন্তু যখনই মানসপটে নষ্ট পুরুষের মুখশ্রী ভেসে উঠে ওমনি নারী কায়া ভয়ে জমে যায়। কিন্তু কেন ভয় পায় ন্যান্সি আফরিদকে?
সকালের এই ফুরফুরে ভাবটা বেশিক্ষণ রইল না। তার এই আনন্দ স’হ্য হচ্ছে না আরেকজনের! ওই যে আফরিদ এহসান সে যে সর্বক্ষণ তার উপর নজর রেখে চলেছে!
ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট করে নিয়েছে ন্যান্সি।
এদিকে এলোমেলো হয়ে বিছানায় লম্বা হয়ে শুয়ে ল্যাপটপে ন্যান্সি কে দেখছে আফরিদ। তার কষ্টটা মেয়েটা বুঝে না কেন? এইযে আফরিদ ঘুমোতে পারেনে এই এই এক সপ্তাহ ধরে, সেটা কী ন্যান্সি বুঝেছে? উঁহু বুঝেনি। যদি বুঝতো তাহলে যেতো না। বিয়ের পাঁচ মাস পর প্রথম বারের মতো ন্যান্সিকে স্পর্শ করেছে আফরিদ। মেয়েটা তাকে ভালোবাসে অথচ স্বীকার করতে নারাজ। এই পাঁচটি মাস কতবার,কত আকুতি,কত ব্যাকুলতা অস্থিরতা সবটাই জুড়ে ছিল ওই ব্রিটিশ রমণী।
আবারো ফোন বেজে উঠল, ন্যান্সি তুললো।
ওপাশ থেকে জড়ানো কন্ঠে বলে উঠে।
“আই লাভ ইউ মাতারি।”
ন্যান্সি শুনলো,কি হলো জানা নেই তবে ফিক করে হেসে ফেলল।
“আই হেইট ইউ।”
আফরিদ ঠোঁট কামড়ে হাসে,তার বোকা বান্দি টা যে কি করছে সেটাই তার মাথায় নেই।
“কী করছিস তুই?”
ন্যান্সি আশেপাশে তাকালো। সে জানে আফরিদ এখানে কোনো না কোনোভাবে হিডেন ক্যামেরা লাগিয়েছে।
ন্যান্সি তপ্ত নিঃশ্বাস ছেড়ে কফির কাপে চুমুক বসিয়ে বলল,
“সব জেনেও ঢঙ করেন কেন?”
আফরিদ কাল রাতে কেটে আনা মাংসগুলো পিরানহা মাছ গুলোকে ছড়িয়ে দিতে লাগল।
“তোকে মিস করছি খ্রিস্টানের বাচ্চা।”
“একদম এসব বলবেন না। আমি মোটেও খ্রিস্টান নই।”
আফরিদ গা দুলিয়ে হেসে বলল,
“জ্বি, মাতাল বলে আমি মাতাল নই। ঠিক তেমনি খ্রিস্টানের বাচ্চা বলে আমি খ্রিস্টান নই।”
ন্যান্সির রাগ লাগল কোন দিক দিয়ে তাকে খ্রিস্টান মনে হয়?
ন্যান্সি কিচেন ছেড়ে বেরুতে বেরুতে বলল,
“আচ্ছা আপনি আমার উপর নজরদারি করছেন তাইনা?”
আফরিদ মুচকি হাসলো, হাতের ফেবারিট ব্রেসলেটটা দেখলো। যেটা দুষ্টুমি করে বউয়ের গোপন জিনিস থেকে ছিঁড়ে নিয়েছে।
“হুঁ।”
ছোট্ট করে জবাব দিলো। ন্যান্সি গিয়ে ল্যাপটপ বের করে আনে, কিছু একটা দেখতে দেখতে বলল,
“আপনার কি মনে হয় আমি মেয়ে বলে কিছু পারিনা? আমি মেয়ে বলেই আপনি আমাকে প্রটেক্ট করছেন তাইনা?”
আফরিদ সরে এলো, পকেট থেকে রক্তাক্ত হাতেই একটা সিগারেট বের করে সেটা ধরিয়ে ঠোঁটে গুঁজে। নিকোটিনের ধোঁয়া ছেড়ে বলল,
“উঁহু মোটেও নয়।”
ললাট জুড়ে চিন্তার ভাঁজ পড়ে ন্যান্সির। সন্দিহান কন্ঠে বলে,
“তাহলে?”
আফরিদ পরণের শার্টটা পিছন দিকে ঠেলে দিলো। ঘাড় ম্যাসাজ করে বলল,
“I’m not protecting you because you’re a woman; I’m protecting you because you’re my woman.”
ন্যান্সি অনুভব করল তার শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত বয়ে গেল, আফরিদ হেসে হেসে বাংলায় আবার বলল,
“আমি তোকে এইজন্য প্রটেক্ট করিনা যে তুই নারী। আমি তোকে এইজন্যই প্রটেক্ট করি কারণ তুই আমার ব্যক্তিগত নারী। আমার জানকি বাচ্চা।”
ন্যান্সি কি ভেবে যেনো তপ্ত নিঃশ্বাস ছাড়লো, বুকের ভেতরটা খা খা করছে মেয়েটার। একবার মনে হচ্ছে সব ছেড়েছুড়ে আবার ছুটে যেতে আফরিদের বুকে। পরক্ষণেই আবার মনে হচ্ছে উঁহু সত্যি জানা প্রয়োজন। পালিত মা বাবার হত্যাকারীদের খোঁজা প্রয়োজন।ওই ডক্টরের সাথে ন্যান্সির ছোটবেলার ছবি কেন সেগুলো জানা প্রয়োজন।
“আপনার আফসোস লাগেনা আফরিদ? একবারও কি মনে হয়না আমি আপনাকে ঠকিয়ে এসেছি। আপনার রাগ হয়না?”কোমল গলায় করা প্রশ্নটি শুনে ঠোঁট বাঁকালো আফরিদ।সে মুহূর্তে আগমন ঘটে ঈশানের। হাতে কিছু ফাইল নিয়ে হন্তদন্ত পায়ে ছুটে আসছে।
“বস…
ওমনি আঙ্গুল তুলে তাকে থামিয়ে দিলো আফরিদ। বুঝিয়ে দিলো “এখন না।” ঈশান নিজেও থেমে গেল।
আফরিদ মাছগুলোর দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। এই সেই নরপিশাচগুলো যা মানুষ থেকে শুরু করে যেকোনো জানো’য়ারকে ছিঁড়ে খায়!
“হয় আফসোস।”
ন্যান্সি থমকালো, শুষ্ক ঢোক গিলে বলল।
“নিশ্চয়ই আমাকে না মা’রতে পারার আফসোস হয় তাইনা?”
আফরিদ শব্দ করে হেসে উঠলো।
“উঁহু সেটা নয়। তোর সাথে দ্বিতীয়বার শুইতে পারলাম না সেটার আফসোস হয়।”
দ্বিতীয় বারের মতো কফির কাপে চুমুক দিতে গিয়ে নাকে মুখে উঠে গেল ন্যান্সির।
ফাইল গুলো নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঈশান আহাম্মক বনে গেল। দ্বিতীয়বার শুতে পারল না বলে আফসোস করছে?
ওদিকে ভীষণ লজ্জা পেলো ন্যান্সি। একটা মানুষ কতটা অস’ভ্য হলে এমন আফসোস করে!
“অসভ্য লোক।”
আফরিদ ঠোঁট কামড়ে হাসলো,
“কিছুমিছু যোজন বিয়োজন করতে ইচ্ছে করছে। চল কিছু করি।”
থতমত খেয়ে গেল ন্যান্সি। কতটা বেহায়া তা বুঝতে বাকি নেই তার।
আফরিদ হাসলো, হাত থেকে গ্লাভস খুলতে খুলতে বলল।
“শোন। শুনলাম তুই নাকি রিভলবার চালানো শিখছিস?”
ন্যান্সি প্রত্যুত্তর করলো না,ফোন কেটে দিলো।
আফরিদ এবারে তাকালো স্থির হয়ে যাওয়া ঈশানের দিকে। ঈশানকে দেখে কাঁধ নাচিয়ে শুধোয়,
“কী?”
ঈশান দু দ্বারে মাথা নাড়ল,কিছুই না।
আফরিদ শিষ বাজিয়ে বাজিয়ে গান ধরলো। সেই গান ফোনে রেকর্ড করে ন্যান্সিকে পাঠায়।
ন্যান্সি রেকর্ডিং অন করতেই শুনতে পেলো আফরিদের বশীভূত করা কন্ঠস্বর।
এ মনে কি আছে
পারো যদি খুঁজে নাও
আমি যে কে তোমার
তুমি তা বুঝে নাও
চলবে………..।
(📌সবাই রেসপন্স করবেন। আর হ্যাঁ কাহিনী স্কিপ করে পড়লে কিছুই বুঝবেন না,তাই ধৈর্য নিয়ে পড়ার অনুরোধ রইল। হ্যাপি রিডিং।)
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১২
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৩
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪২
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৩
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৮