অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ৪৭]
লেখিকাফারহানানিঝুম
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
বাড়ি বলতে আপাতত ন্যান্সির কিছুই নেই, একটা হোটেলে উঠেছে সে।রুম বুক করেছে দুদিনের জন্য। মাঝে মীাঝে ন্যান্সির ভাবতেও অবাক লাগে সে এতকিছু একা কিভাবে করছে? এত সাহসী হলো কবে থেকে? সে তো দুর্বল এক কন্যা! ক্লান্ত শরীরটা টেনে নিয়ে বিছানায় এলিয়ে দিলো ন্যান্সি। খুব করে বেয়াদব, নষ্ট পুরুষকে মনে পড়ছে ন্যান্সির। সে কেমন আছে?কি করছে? কিছুই তো জানেনা ন্যান্সি। ন্যান্সির খুব আফসোস হয় ওই লোকটাকে ভালোবেসে।কেন হয়?ওইযে সে একটা খারাপ মানুষ! মাঝে মধ্যে যখন ন্যান্সি ভাবে সত্যি যদি আফরিদ তার পালিত পরিবারের শেষ করে থাকে তাহলে কি করবে সে? ভাবলেই তো দমবন্ধ হয়ে আসে মেয়েটার!
ন্যান্সি ভয় পায়,খুব ভয় পায় আফরিদ এহসান কে। একমাত্র সে যে কি-না ন্যান্সি কে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে। মাঝে মধ্যে মনে হয় এই বুঝি এসে তাকে গলা চেপে ধরে বলল,
“আমার থেকে পালাস এত সাহস হলো কি করে বা’ন্দির বাচ্চা!’
ভাবতেই ভাবতেই ভাবনায় ছেদ পড়ল, কর্কশ শব্দে বেজে উঠল ফোন। তা রিসিভ করতেই কাঠ কাঠ কন্ঠস্বর ভেসে এলো।
“কোথায় তুই?”
আফরিদের ফোন কলের জ্বা’লায় আর থাকতে পারছে না ন্যান্সি। শুকনো ঢোক গিলে গলা ভিজিয়ে বলল।
“স্পেন!”
“কার বা’ল ফালাইতে গেছোস?”
বিশ্রী এক ভাষা ,মুখ খুললেই গু’লির মতো গালি ছুড়তে থাকে সারাদিন! বহু কষ্টেসৃষ্টে সাহস সঞ্চয় করে বলল,
“মুখ সামলে কথা বলুন! আমি কিন্তু আপনার বউ না আর।”
দাঁতে দাঁত পিষে আফরিদ।
“হ্যাঁ তুই আমার বা’ল এখন।”
নিশ্চুপ ন্যান্সি , আফরিদ ওয়াইনের গ্লাসে চুমুক দিতেই মুখটা কেমন তেতো স্বাদ পেলো। ঠোঁট কে টে গেছে তার। প্রচন্ড অগোছালো সে! হবেই তো আদরের বউটা যে কাছে নেই! যতই সে নজরদারি করুন,কাছে থেকে ছোঁয়া জড়িয়ে ধরা এগুলো তো আর করতে পারছেনা!
এটা সেই ভয়ংকর আফরিদ নয় যে এক কোপে শেষ করতো শত্রু কে।এটা অ্যাঞ্জেলিনা নামক রমণীকে ভালোবাসা এক মাসুম সত্তা।
তিতলি সবে কফি বানিয়ে নিয়ে এসেছে আর আফরিদের জন্য গ্রিন টি।
“ভাইয়া আপনার চা।”
আফরিদ হাত বাড়িয়ে চা টা নিয়ে নিল।ফোনের ওপাশে থাকা ন্যান্সি মৃদু স্বরে বলল।
“আমি আপনাকে ডিভোর্স দেব।”
আফরিদ মেজাজ হারাচ্ছে। এমনিতেই সে কাছে না থাকায় দিনকে দিন উন্মাদ হয়ে উঠছে এখন আবার এই ছ্যামড়ি ডিভোর্সের কথা বলে? রাগান্বিত স্বরে বলল আফরিদ,
“হ্যাঁ তুই আমাকে বা’ল দিবি ,আমিও তোকে বা’ল দেব। বা’লে বা’লে বা’ল স্কয়ার বানাবো, বান্দির বাচ্চা।”
ন্যান্সি আর পারছে না,টুক করে কলটা রেখে দিলো।
আফরিদ প্রচন্ড বিরক্ত ,চা টা খেলো না উল্টো হন্তদন্ত পায়ে সিঁড়ি বেয়ে রুমের দিকে এগুতে লাগলো। আকস্মিক কল্পনা এসে দাঁড়ালো তার সামনে।
“আর ভাইয়া ইলহাম কে আনা খুব জরুরী কি? সে তো আপনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।”
আফরিদ বাঁকা হেসে বলল।
“তোমাকেও তো এ বাড়িতে পেলে পুষে শুধু শুধু টাকা নষ্ট, কারো কাজে আসছো না। মে রে গুম করে ফেলি?”
শরীরের লোমকূপ অব্দি কেঁপে উঠলো কল্পনার। এই লোককে কিছুবলা যমানেই পাপ।
আফরিদ ধুমধাম পা ফেলে উপরে রুমের দিকে এগিয়ে গেল।
কফি কাপ টা ঈশানের দিকে দিতে দিতে তিতলি বলে উঠে।
“আপনার কি কফি লাগবে ভাই?”
দাঁতে দাঁত পিষে ঈশান , কতবড় বেয়াদব এই মেয়ে।
“এই বেয়াদব আমি তোমার ভাই?”
তিতলি বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে হেসে উঠলো।
“তাইলে কী জামাই লাগেন?”
“থাপ্পড় দিয়ে সব গুলো দাঁত ফেলে দেব বেয়াদব বেশী বাড়াবাড়ি করছো।”
মুখ বাঁকিয়ে কফিটা নিয়ে চলে গেল তিতলি। লোকটা পাষণ্ড,বড় মায়া দেখিয়ে কফি টা এনেছিল কিন্তু এখন আর দেবেই না। এই মূহুর্তে সে ইলহাম আপু কে ভীষণ মিস করছে। সে থাকলে ইচ্ছে মতো দুটো বসিয়ে দিতো তাকে!
নীলাদ্রি বেশ আয়েশ করেই কাটচ্ছে। নিজের মতো গোডাউন সামলে নিচ্ছে। আফরিদ যেভাবে মর্গ থেকে লাশ এনে সেগুলোর মধ্যে ছোট ছোট অস্ত্র, ড্রাগ পাচার করতো সেও সেগুলো এখন করছে। ইদানিং আফরিদ ন্যান্সিকে নিয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকে যে গোডাউনে আসার সময় অবধি পায়না! তাতে অবশ্য নীলাদ্রির জন্য ভালোই হয়েছে।
এদিকে সাব্বির আবার ভার্সিটিতে যাওয়া শুরু করেছে। অবশ্য তারও সেই আগের দশা হয়েছে, ভার্সিটিতে যায় ড্রাগস নেয়। এগুলোই চলছে। কিন্তু এহসান ফ্যামিলির কেউ যে এমন তা কল্পনা করেনা প্রিন্সপাল।
সাব্বির বা অন্যকেউ কখনো জানায়নি ছদ্মবেশী আফরিদ এহসান আসলে কে!
“তোমার ভাইয়ের মাথা খারাপ হয়ে গেছে নীলাদ্রি।”
খাতায় কিছু একটা লিখতে ব্যস্ত ছিলো নীলাদ্রি স্ত্রীর ঝাঁজালো কন্ঠস্বর শুনে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়।
“কি হলো তোমার?এত রেগে আছো কেন?”
কল্পনা ফুঁসতে ফুঁসতে বলল,
“তো রাগবো না? আফরিদ ভাই আমাকে বলল আমার নাকি এই বাড়িতে কোনো কিছুই নেই, তাহলে আমাকে মে রে গুম করে দিক?ভাবতে পারছো তুমি কি বলল এই লোক?”
নীলাদ্রি এসব কথা আমলে নিলো না, উল্টো উঠে এসে স্ত্রীকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলল।
“ছাড়ো তো ওগুলো কানে নিও না। তুমি তো আমার আদরের বউ।আসো আদর করি।”
কল্পনা লজ্জায় আড়ষ্ট হলো, নীলাদ্রি মূহুর্তের মধ্যে স্ত্রীতে ডুবে গেল। আর যাই হোক সে কল্পনার প্রতি একনিষ্ঠা। তাকে ভীষণ ভালোবাসে কি-না! এইজন্যই মাঝে মধ্যে বলদের মতো কাজকর্ম গুলো ধরে না।
কল্পনাকে আঁকড়ে ধরে এই দিনদুপুরে তার সঙ্গে অন্তরঙ্গে মগ্ন হয় এই অসাধু পুরুষ।
🌿_🌿
ক্লান্ত শরীর নিয়ে কটেজে এলো স্মাইলি।আজ থেকে ওরা এখানেই থাকবে। নিজের পছন্দ মতো রুমে চলে গেল সে। বাইরে থেকে জানালাটা খুলে দিল।সাদা রঙের কটেজ, পেছনে পাহাড়ের সবুজ প্রকৃতি বিস্তৃত। চারপাশে গাছের সারি, যেখানে টিনের বেঞ্চ এবং পাথরের রাস্তা মিশে আছে।আসার সময় দৃষ্টি বুলিয়ে নিয়েছে চারিদিকে।আকাশে সোনালী রোদ ঝলমল করছে, এবং বাতাসে প্রাকৃতিক শীতলতা অনুভূত হচ্ছে।প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস টেনে নিল স্মাইলি। নরম বিছানায় আলতো করে শুয়ে পড়ল, দৃষ্টি তার সিলিং ফ্যানের দিকে। নতুন শহর, নতুন জীবন।
চোখ দুটো বুজতেই ন্যান্সির স্নিগ্ধ মুখশ্রী। মেয়েটা চমৎকার, ফ্লাইটের পুরোটা সময় আগলে রেখেছে তাকে। আসার সময় জোরপূর্বক নিজের নাম্বার টা সেইভ করে দিয়েছে ফোনে। আজকাল তো এরকম কাউকে পাওয়া দুষ্কর হয়ে উঠেছে। যেখানে স্মাইলির অসুস্থতার জন্য তার একটা বন্ধু পর্যন্ত নেই।অথচ মেয়েটা কী সুন্দর হুট করে এসে তাকে আগলে নিয়েছিল।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো।সূর্যটা ধীরে ধীরে আকাশ থেকে নেমে আসতে শুরু করেছে।আর আকাশের রং হয়ে ওঠে রক্তিম এবং নরম সোনালী।
নিজের সবটা গুছিয়ে নিল স্মাইলি। বেডের সামনাসামনি এক অদ্ভুত পেইন্টিং দেয়ালে টাঙিয়ে দিল সে। তার কল্পনা,সেই গভীর চোখ জোড়া।
দু কদম পিছিয়ে গিয়ে গভীর ভাবে তাকিয়ে আছে স্মাইলি। ‘ইদ্রান’ তার না দেখা কল্পনার পুরুষ।
রুম জুড়ে নেমে এলো অমানিশা। দৃষ্টি মেলে তাকালো স্মাইলি, নাসারন্ধ্রে প্রবেশ করলো কড়া পারফিউমের মিষ্টি ঘ্রাণ। হাত বাড়ালো সামনের দিকে, কাউকে স্পর্শ করছে সে।
“কে?”
“ইউর চার্ম প্রিন্সেস।”
পুরুষটিকে ছুঁয়ে দিল স্মাইলি, শিউরে উঠে তার সর্বাঙ্গ ।আরো একবার হ্যালুসিনেশন, কল্পনা। পিছিয়ে গেল স্মাইলি,টেনে নিল লম্বা নিঃশ্বাস। একটুখানি স্বস্তি প্রয়োজন তার। আবারো কল্পনা দেখছে সে!এটা যে তার মা’নসিক রোগ হয়ে উঠেছে! উঁহু তাকে বের হতে হবে।
আবারো লম্বা নিঃশ্বাস টেনে নিল স্মাইলি।পিছন ফিরে নিরেট কন্ঠে বলে উঠে।
“আপনি আমার ভ্রম চার্ম।চলে যান আপনি, আমি কল্পনা করছি। এটা আমার হ্যালুসিনেশন।”
ক্ষীণ স্বরে কেউ বলে উঠে।
“আমি তোমার বাস্তবতা প্রিন্সেস দ্রিশা।টাচ করে দেখো?”
“না না আমি দেখতে চাই না, চলে যান চার্ম। আমি কষ্ট পাচ্ছি খুব। নিজেকে মেন্টাল পেশেন্ট মনে হচ্ছে।”
আবারো ক্ষীণ হাসির শব্দ ভেসে এলো স্মাইলির কর্ণে।
“আমি তোমার অস্তিত্বে মিশে আছি প্রিন্সেস। আমি তোমার শিরায় শিরায়, রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে রয়েছি। তুমি চাইলেও আমার থেকে দূরে সরতে পারবে না, আমি তোমার কল্পনা,আমিই তোমার বাস্তবতা প্রিন্সেস।”
“না না না আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি! আমি আপনাকে ছুঁতে চাই, আপনি কী ভ্রম নাকি..
“ছুঁয়ে দেখো।”
স্মাইলি চেয়ে রইল ক্ষণকাল। অতঃপর ছোট্ট ছোট্ট কদম ফেলে এগিয়ে গেল সেই অবয়বের দিকে। আজকে চলার গতি খুব ধীর।সে হারাতে চায় না এই পুরুষ কে!
“আপনি সত্যি আছেন?”
“দেখো , এই তো আমি।”
হাত বাড়িয়ে দেওয়া মাত্র টেনে ধরে স্মাইলি। মিলিয়ে গেল লুসিফার, জ্ঞান হারালো স্মাইলি।আবারো কী হ্যালুসিনেশন ছিল?
ফ্লোরে লুটিয়ে থাকা স্মাইলি কে খুব যত্নে পাঁজাকোলে তুলে নিল পুরুষ।বেডে শুয়ে দেওয়া মাত্র কেউ ফিসফিসিয়ে বললো।
“আমি তোমার মানসিক রোগ হবো প্রিন্সেস।”
এটা কি আবারো ভ্রম? কিছুটা অদ্ভুত কল্পনা,যা বিষন্নতা বয়ে নিয়ে আসছে স্মাইলির জীবনে। আদতেও তা বিষন্নতা নাকি সুখের হাতছানি?
🌿__🌿
স্পেন বার্সেলোনা…
নিজের কাজে বড় ব্যস্ত লুসিফার এলেন ইদ্রান। আকস্মিক একটা মেয়েকে দু’জন লোক টেনে হেঁচড়ে ভেতরে নিয়ে এলো।
ইভান সতর্ক কন্ঠে বলল।
“প্যালেস বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলো।”
তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো ইদ্রান ,তার চাহনিতে মানুষ কেঁপে উঠে। ইভান কে ইশারা করতেই মেয়েটাকে নিয়ে আসা হলো। ভেতরে পা রাখতেই ভ্রু কুঁচকে এলো ইদ্রানের।
মেয়েটা পড়েছে ঢিলেঢালা ধূসর রঙের জিন্স, যেখানে ছেঁড়া ও ফাটা নকশা পুরো প্যান্টজুড়ে স্পষ্ট। সেই ছেঁড়া অংশ দিয়ে কালো জালের আস্তর ভেতর থেকে উঁকি দিচ্ছে, যেন ইচ্ছে করেই অসম্পূর্ণতায় এক ধরনের আকর্ষণ সৃষ্টি করা হয়েছে।
উপরে রয়েছে কালো প্রিন্টেড টিশার্ট, টিশার্টের কোমর থেকে নিচের দিকে কালো লেস ঝুলে পড়েছে, পায়ে সাদা স্পোর্টস জুতো।
“ছাড়ুন আমায়! টাচ করা এলাও নয়। কোন সাহসে আমাকে ছুঁয়েছে এরা?”
ইদ্রান ইঙ্গিত করতেই গার্ড গুলো ছেড়ে দিলো মেয়েটাকে।
ইদ্রান দুহাত ভাঁজ করে বলল।
“ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা ,ওরফে আফরিদ এহসানের জানকি বাচ্চা। এখানে কি করছো?”
চমকে উঠে ন্যান্সি। থমকে গেল সময়। এই লোকটা তাকে চিনল কিভাবে? তবে কি ন্যান্সি যা ভেবেছিল তাই? আফরিদ আর ইদ্রান একে অপরের বন্ধু? যদি বন্ধু হয় তাহলে তাদের মধ্যে এত ঝগড়া কেন?
ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো ন্যান্সি। মৃদু স্বরে বলল।
“লুসিফার এলেন ইদ্রান,ওরফে এল এ বি। আফরিদ এহসানের দোস্ত নাকি দুশমন?”
ওষ্ঠো বাঁকিয়ে চমৎকার হাসলো ইদ্রান। আফরিদ এহসানের ওয়াইফ একদম তার মতো। ওইযে আফরিদ সবসময় বলতো”আমার বাঘিনী ” আসলেই ঠিক বলতো নয়তো এই মেয়ের এত সাহস এল এ বি কে প্রশ্ন করে?
“আই লাইক ইউর অ্যাটিটিউড।”
ন্যান্সি ভাবলেশহীন ভাবে বলল।
“আফরিদ এহসানের ওয়াইফ বলে কথা!”
হেসে ফেলল ইদ্রান, ন্যান্সির ঠেস দিয়ে বলা কথাটা শুনে উঠে টেবিলে হেলান দিয়ে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল।
“এখানে আসার কারণ?”
ন্যান্সি মৃদু স্বরে বলল।
“সেটা তো বলা সম্ভব নয়? আগে জানতে হবে আপনি আসলে কে?”
ইদ্রান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো ন্যান্সির দিকে।
“যদি না বলি? বাই দ্য ওয়ে তুমি কিন্তু আমার প্যালেসে একা আছো? আই থিংক তোমার ভয় পাওয়া উচিত!”
ন্যান্সি সামান্য হাসলো, হেসে হেসে দু’হাতে প্যান্টের পকেটে ভরে টান টান ভঙ্গিতে দাঁড়ালো।
“ভয় পাইনা! যতদূর জানি আফরিদ এহসান দিনের চব্বিশ ঘন্টা আমার উপর নজর রাখছে। আমার যদি কিছু হয় তাহলে আপনাকে ছাড়বে না সে!”
ইদ্রান ঘাড় বাঁকালো, চোয়াল শক্ত হয়ে এলো তার। ধারালো কন্ঠে বলল,
“ভয় দেখাচ্ছো?
হেসে ফেলল ন্যান্সি।
“আফরিদ আপনার শত্রু নাকি মিত্র?”
ইদ্রান মুখ কুঁচকে নিল, ন্যান্সির প্রশ্নের জবাব দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করল না। উল্টো বলল।
“এই মূহুর্তে তোমাকে শেষ করে দিলে?”
ন্যান্সি কিঞ্চিৎ ভয় পেলো , পরক্ষনেই ভয়টা চেপে বলল।
“মা’রবেন না।কারণ আফরিদের ভাষ্যমতে এই দেহে একটা ফুলের টোকাও লাগলে সব কিছু ধ্বংস করে দেবে। আর আমার মনে হয় না আপনি আমার সাথে পেরে উঠবেন।”
চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলল ইদ্রান।
“ওকে , তাহলে দেখাই যাক।”
ইদ্রান শিষ বাজাতেই তির চারজন লোক এগিয়ে এলো। ন্যান্সিকে আঘাত করতে নিলে সেও পাল্টা আঘাত করল। কুংফু জানে না, হয়তো আফরিদ কখনো বিশ্বাস করেনি কিন্তু ন্যান্সি মেয়ে ছিলো তাকে পরিবারের জন্য রাতবিরেতে রাস্তায় বেরুতে হয়েছে তাই কুংফু শিখেছিল আজ সেটাই কাজে আসছে।
কিন্তু দুঃখের বিষয় একটা লোকের আ’ঘাতে ছিটকে নিচে পড়ে যায় মেয়েটা! ব্যথায় ককিয়ে উঠলো।
ইদ্রান বাঁকা হেসে বলল,
“মেয়ে তুমি বেশি বাড় বেড়ো না।”
ন্যান্সি সামান্য ভ্রু উঁচিয়ে আঙ্গুল তুলে ইদ্রানকে কাছে ডাকলো। তার এই ইঙ্গিত বুঝলো না ইদ্রান দুকদম এগিয়ে যেতেই খুবই সূক্ষ্ম ভাবে নিদারুণ ভঙ্গিতে পা তুলে সজোরে ইদ্রানের মেইন পয়েন্টে লাথি বসিয়ে দিলো ন্যান্সি।
ইদ্রান অপ্রত্যাশিত এই আক্রমণে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। ইভান দুহাতে পাকড়াও করে ন্যান্সি কে।
ন্যান্সি থুথু ফেলল নিচে
ভ্রু নাচিয়ে বলল,
“মেয়ে বলেই জায়গা মতো দিলাম।”
ইদ্রান বুঝতে দিলোনা সে ব্যথা পেয়েছে, কিছুক্ষণের জন্য কেবিন থেকে বেরিয়ে বাইরে গেল।
ব্যথায় ককিয়ে উঠলো রীতিমতো। বিড়বিড় করে বলল,
” ফাটিয়ে দিলো শিট শিট! এটা মেয়ে নাকি অ্যাটাম বোম? আফরিদের বাচ্চা এটার সাথে থাকে কি করে?
কিছুক্ষণ পর আবারো কেবিনে এলো ইদ্রান। ন্যান্সি নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে চলেছে।
“ছাড়ো বলছি আমাকে! না ছাড়লে ভালো হবেনা কিন্তু!
ইদ্রান হাত তালি দিতেই ইভান তাকে ছেড়ে দিলো। ইদ্রান এসে চেপে ধরে তার গাল, চিবিয়ে চিবিয়ে বলল।
“ইউ ইডিয়ট কি ভাবছো এখানে এসে বেঁচে ফিরবে? উঁহু নো ওয়ে। আমি লুসিফার এলেন ইদ্রান, আফরিদের দুশমন।শেষ করে দেব ওকে, তুমি তো ওর ওয়াইফ এখন খেলা আরো জমবে।”
ন্যান্সি একটুও ভয় পেলোনা উল্টো হাসলো,হেসে হেসে বলল,
“আড়ালে গিয়ে দেখছিলেন নাকি ফেটে গেছে কি-না?”
রাগে ফুঁসে ওঠে ইদ্রান। ন্যান্সি আমলে নিলো না সেই রাগ।
“আপনি যেভাবে আফরিদকে শেষ করতে চান আমিও সেটাই চাই।”
সহসা গাল ছেড়ে দিলো ইদ্রান।
“মানে?”
ন্যান্সি গাল মুছে নিল, রহস্যময়ী কন্ঠে বলল,
“মানে আমি আফরিদকে ঘৃণা করি।শেষ করে ফেলতে চাই তাই আমার আপনার সাহায্য চাই।”
ইদ্রান থমকে গেল। ন্যান্সি বলল তাকে কিভাবে আফরিদ তার পরিবারকে শেষ করেছে কিন্তু চেপে গেল সেই সায়েন্টিস্টের ছবি পেয়েছে সেগুলো।আর এটাও বলল না আফরিদ আদতেও পরিবারকে শেষ করেছে কি-না সেটা নিয়ে সন্দিহান ন্যান্সি।
“তোমার কেন মনে হচ্ছে আমি তোমাকে সাহায্য করবো? আদারওয়াইজ তুমি আমার শত্রুর বউ হও।”
ন্যান্সি অদ্ভুত ভঙ্গিতেই বলে উঠে,
“করবেন কারণ এই মূহুর্তে আমি হচ্ছি আপনার ট্রাম কার্ড। নিজের শত্রুর দুর্বলতাকে হাতের মুঠোয় পেয়েও ছেড়ে দিবেন? আমার মনে হয়না এতটা বোকা আপনি। বাই দ্য ওয়ে বললেন না আফরিদের সাথে আপনার কিসের শত্রুতা? আপনার ছবি দেখেছি আমি,
ইদ্রান মাথা দুলিয়ে আনমনা বলে উঠে,
“আছে কিছু মিছু।”
ন্যান্সি শুনতে পেলো না তার কথা।
ইদ্রান সবটা শুনে ভাবুক হলো , ন্যান্সি কে এতটা সহজে কি বিশ্বাস করা উচিত হবে? অবশ্য মেয়েটা ভীষণ চালাক।অতঃপর কিছু একটা ভেবে বলল।
“ওকে ফাইন তোমাকে আমি একটা ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি, সেখানেই থাকবে।”
ন্যান্সি মনে মনে নিশ্চিন্ত হলো বটে। এখনো হাত কাঁপছে তার সে ভেবেছিল হয়তো ভুল করেছে সরাসরি ইদ্রানের কাছে এসেছে।
লুসিফার এলেন ইদ্রান নৈঃশব্দ্যে বাইরের দিকে পা বাড়ায়। আকস্মিক ন্যান্সি বলে উঠে
“স্মাইলি প্রিন্সেস দ্রিশা?”
পা জোড়া থেমে গেল ইদ্রানের। অফিস রুমের দেয়ালে বড় করে টাঙ্গানো স্মাইলির ছবিটা।
“তুমি ওকে চেনো?”
ন্যান্সি নির্দ্বিধায় বলে।
“হ্যাঁ আমরা একই ফ্লাইটে এসেছি।”
ভ্রু কুঁচকে এলো ইদ্রানের।
“স্মাইলি বাংলাদেশ চলে এসেছে?”
ন্যান্সি চোখ মুখ খিঁচে নিয়ে শুধোয়।
“স্মাইলি কি হয় আপনার?”
ইদ্রান ব্যঙ্গ করে বলল।
“প্রিন্স চার্মের প্রিন্সেস। আফরিদের মতো মা’তারি না।”
রাগে ফুঁসে উঠে ন্যান্সি। কিছু বলতে নিয়েও বলল না। রাগটা সংযম করে শান্ত কন্ঠে বলল।
“আমার ট্রেনিংয়ের প্রয়োজন আছে। যেমন রিভলবার চালানো ,ফাইটিং স্কিল এগুলো!”
আরেক দফা চমকে উঠে ইদ্রান। সন্দিহান কন্ঠে শুধোয়।
“উদ্দেশ্য কি তোমার?”
ন্যান্সি বাঁকা হেসে বলল
“আফরিদ কে শেষ করা।”
🌿_____🌿
মধ্য রাতে রাস্তার মাঝখানে বসে একের পর এক সিগারেট শেষ করে চলেছে আফরিদ এহসান। নিঃশ্বাস যেন আটকে আছে তার।
অদূরে দাঁড়িয়ে সবটা দেখছে ঈশান।এতটা অসহায় তার বস। ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা বুঝলো না একটুও বুঝলো না।
পুরোটা রাস্তা খালি, আশেপাশে বড়বড় গাছপালা মাথা উঁচু দাঁড়িয়ে আছে। দূরে একটা চায়ের দোকানের এফএম রেডিওতে বেজে বেজে উঠছে।
রাতে চান্দের আলো ঝরে বন্ধু
তোমারও ঘরে
হায় আলো যে জ্বলে না আমি
একলা আন্ধারে
বন্ধু বিরতি দে না আমি
খুঁজি তোমারে
তুমি কোথায় আছো কোথায়
দেইখা যাও আমারে....
আফরিদ হেসে ফেলল,হাত পা ছড়িয়ে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ে রাস্তার মাঝখানে। ঈশান চেয়েও যায় না তাকে আটকাতে। প্যান্টের পকেট থেকে বের করে আনে ফোনটা।
আফরিদ বিলাপ করছে, শুধু ফোনটা নিয়ে গিয়ে তার ঠিক পাশে রেখে দিলো ঈশান।
ওপাশের রমণী ত্রস্ত হাতে ফোনটা রিসিভ করতেই শুনতে পেলো আকুল ভরা কন্ঠস্বর।
“মিসড ইউ বান্দি,লাভ ইউ মাতারি,হেইট ইউ জানকি বাচ্চা। আই নিড ইউ ব্যাডলি রাইট নাউ ইয়ার। ফা’ক ইউ এগেইন এন্ড এগেইন। আমি তোকে একটুও ভালোবাসি না,তুই ছলনাময়ী, এভাবে পালিয়ে গেলি? ইয়ার!’
ওষ্ঠো জোড়া ফাঁক হয়ে এলো ন্যান্সির। আপাতত সে ইদ্রানের সেই ফ্ল্যাটেই আছে, ন্যান্সি বুঝে উঠতে পারেনা আফরিদ কোথা থেকে তার নাম্বার পায়? খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ন্যান্সি ফোনই ব্যবহার করতো না।
“আফরিদ!”
হুড়মুড়িয়ে উঠে বসলো আফরিদ, ফোনটা তুলে নিল।
“শা’লী ইদ্রানের থেকে দূরে থাক নইলে ,জান কামড়ে খেয়ে ফেলব।”
ভ্রুদ্বয় সামান্য কুঁচকে এলো ন্যান্সির। বুঝলো না আফরিদ কিভাবে জানবো সে ইদ্রানের কাছে আছে?
সন্দিগ্ধ কন্ঠে শুধোয়,
“আপনি কিভাবে জানলেন আমি…
আফরিদ একগাল হেসে আওড়ালো,
“তোর এ টু জেড সব আমি জানি বোকা বান্দি।”
ন্যান্সি ভাবলেশহীন ভাবে সোফায় গিয়ে বসলো। বিরক্তিকর কন্ঠে বলল।
“থাকব না দূরে। কাছে যাবো। খুব কাছে যাবো আটকে দেখান।”
সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে অসভ্য, নষ্ট পুরুষকে খোঁচা দিলো ন্যান্সি।
আফরিদ ভীষণ ক্লান্ত, ব্যাকুল কন্ঠে বলে উঠে।
“যাবি না তুই।”
আবারো রাস্তার মাঝখানে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ল আফরিদ।
“গেলে কি করবেন আপনি?”
“দ্বিতীয়বারের মতো বাসর করব।”
অজান্তেই হেসে ফেলল ন্যান্সি। আকস্মিক আফরিদ বলে উঠে।
“তুই হাসলি?”
ন্যান্সি আমতা আমতা করে বলল।
“না তো।”
আফরিদ বুকে হাত রাখলো,আবদরের সহিতে বলল।
“আই নিড ইউর ব্যাড টাচ। পিঠে অসংখ্য নখের আঁচড় আছে,আই ওয়ান্ট ইট এগেইন।”
লজ্জায় অসহায় মুখ করে নিল ন্যান্সি। আফরিদ কেন এমন, এত দূরে থাকা সত্ত্বেও মনে হচ্ছে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে,কানের লতিতে স্পর্শ করে কথা গুলো বলছে। মানসপটে ভেসে এলো সেই রজনীতে ঘটে যাওয়া মধুর দৃশ্য গুলো। সেই দৃশ্য গুলো যা ন্যান্সি আফরিদের সঙ্গে কা’টিয়েছে।
ন্যান্সি কিড়মিড়িয়ে বলে উঠে।
“আমি কিন্তু আর আপনার লাইফ পার্টনার নই।”
হেসে ফেলল আফরিদ।
“তাহলে বেড পার্টনার।”
চোয়াল ঝুলে এলো ন্যান্সির।
“অস’ভ্য কোথাকার। তুই তুই আসলেই লুই’চ্চা।”
আফরিদ ঠোঁট কামড়ে হেসে উঠে।
“টু মাচ।”
ন্যান্সি রেগেমেগে চিৎকার করে বলল,
“আমি আপনাকে ছাড়ব না আফরিদ।আই উইল কিল ইউ!”
আফরিদ গা দুলিয়ে হেসে উঠলো, হাসতে হাসতে বারংবার উল্টো পাল্টা হচ্ছে। তার হাসিতে আহাম্মক বনে গেল ঈশান। গালি খেয়েও একটা মানুষ এভাবে হাসতে পারে? ন্যান্সির জায়গায় যদি তিতলি হতো তাহলে সে চড়িয়ে দাঁত ফেলে দিতো।
“প্লিজ কিল মি জান, তুই আমাকে তাড়াতাড়ি মে’রে দে নয়তো আমি তোকে মে’রে দেব।”
একটু থেমে আফরিদ নিচু স্বরে শুধুমাত্র ন্যান্সি শুনবে এমন টুন করে বলল,
“এভাবে সেভাবে নয় , একদম বেডে চেপে ধরে নিঃশেষ করে দেব।”
টুট টুট শব্দে ফোনটা কেটে গেল আফরিদের। ঠোঁটের কোণ বাঁক খেলো ন্যান্সির।
“বস আপনি চাইলেই ম্যামকে আনতে পারেন, তাহলে এত ভণিতা কেন?”
আফরিদ তপ্ত নিঃশ্বাস ছাড়লো, দৃঢ় গলায় বলল,
“আমার বোকা জানকি বাচ্চা বুঝতেই পারছেনা আমি ঠিক কতটা ওকে পেঁচিয়ে ফেলেছি নিজের সাথে। যেখানে ওর প্রতিটি মুভমেন্ট আমার দৃষ্টির আড়ালে নয়। সেখানে ওকে নিয়ে আসা আমার বাঁ হাতের খেলা।”
ঈশান সন্দিহান কন্ঠে বলল,
“তাহলে কেন এত রহস্য?কেন আপনার আ’গুন্তক হয়ে উঠা?”
আফরিদ উত্তর করলোনা।
ন্যান্সি ফোন রেখে দিলো, ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়ালো। মস্ত বড় আকাশটাকে দেখছে।
একই আকাশের নিচে লম্বা হয়ে শুয়ে থাকা আফরিদ বিড়বিড়াল,
“তোকে লুঠ করতে ইচ্ছে করছেনা রে অ্যাঞ্জু। যা একটু ঘুরে বেড়া। দিলাম তোকে ছাড় , কিছুদিন পর না হয় কিডন্যাপ করে নিয়ে আসবো।”
চলবে………..।✨
(📌 আশাকরি পর্বটা যথেষ্ট বড় দিয়েছি। যাইহোক এই পর্বে 2k না হলে পরের পর্ব দেরিতে আসবে।🙂 আর এখন থেকে গল্প ইফতার পরেই আসবে, যেহেতু রমজান মাস চলে এসেছে।)
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৪(প্রথমাংশ + মধ্যাংশ + শেষাংশ)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৩
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩২(প্রথমাংশ +শেষাংশ +বোনাস)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা গল্পের লিংক
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১