অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ৪৬]
লেখিকাফারহানানিঝুম
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
বুকের ভেতর ধকধক করে কাঁপছে ন্যান্সির।
রুমে এসেছে ন্যান্সি , জামাটা চেঞ্জ করতে হবে তাকে। পালিয়ে আসতে গিয়ে পড়ে গেছিল।
সেই ছবির লোকটাকে খুঁজতে গিয়ে অদূরে দু’জন গার্ড কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিল ন্যান্সি। প্রথম দিকে ভেবেছিল হয়তো আফরিদের গার্ড , কিন্তু না তাদের ঘাড়ে ঈগল পাখির ট্যাটু করা। সেই ঈগল পাখির আংটিটা রেখেছিল আগুন্তকের আঙ্গুলে
ন্যান্সির আর বুঝতে বাকি নেই লোক গুলো আগুন্তকের। কিন্তু কেন তার পিছু করছে তারা? যে করেই হোক আগুন্তক কে ধরতেই হবে। সেই শেষ করে দিয়েছে তার পুরো পরিবারকে।
আনমনা ন্যান্সি একে একে ড্রেসের ফিতে খুলতে লাগলো।
এদিকে বাংলাদেশে মাটিতে থাকা মাফিয়া কিং আফরিদ এহসান নিজের আলিশান এহসান মঞ্জিলে নিজের রুমে কাউচের উপর বসে আছে। ডান হাতে সিগারেট আর বাঁ হাতে হুইস্কির গ্লাস। সেন্টার টেবিলের উপর রাখা ল্যাপটপে দেখছে ন্যান্সির দৃশ্য।
আনমনা ন্যান্সি যখন চেঞ্জ করতে ব্যস্ত তখন বেশ আগ্রহ নিয়েই তাকে দেখে চলেছে আফরিদ এহসান।
ঠোঁট উল্টে বাচ্চাদের মতো বিড়বিড় করে বলল।
“ওয়াশ রুম থাকতেও যদি রুমের মধ্যে চেঞ্জ করিস তাতে আমার কি দোষ? আমি তো দেখবোই!”
ন্যান্সি নিজের ড্রেসের উপরের অংশ টা খুলে। ফেলল ,পরণে শুধু একটুকরো ভেতরের কাপড়।
ঠোঁট গোল করে নিঃশ্বাস ছাড়লো আফরিদ। আবারো বিড়বিড় করে বলল।
“আমি দেখা জায়েজ আছে।দেখার জিনিস দেখবোই।”
কোমড়ের পাশে জুম করতেই কালো তিলটা স্পর্শ দেখতে পেলো।
ফর্সা শরীরে তিলটা জ্বলজ্বল করছে।
এই মূহুর্তে আফরিদের ইচ্ছে করছে নিজেকে কষিয়ে দু’টো থাপ্পড় দিতে। উফ্ সে আগে কেন দেখেনি? তার তো আগে দেখা উচিত ছিলো! দিস ইজ নট ডান।
টেবিলের উপর থেকে ফোনটা তুলে ন্যান্সির নাম্বারে কল করলো।
এলোমেলো ন্যান্সি নিচে পরে থাকা জামাটা তুলে নিল। নিজেকে ঢেকে নিয়ে ফোনের দিকে ছুট লাগালো। আফরিদ সবটাই দেখছে। কিছুই অদেখা নয় তার নিকটে।
ফোনটা রিসিভ করতেই আফরিদ উতলা হয়ে বলল।
“জানকি বাচ্চা।”
বিরক্তিকর ভাঁজ পড়লো কপালে। আবারো কল করেছে বেয়াদব পুরুষ। তাকে চেঞ্জ করতেও শান্তি দিচ্ছে না।
“কি হয়েছে কি? আবার কেন কল করেছেন?”
রাগান্বিত ন্যান্সির লাল টুকটুকে মুখটা দেখে হেসে ফেলল আফরিদ।
“আমার তোকে ভীষণ সিরিয়াস একটা কথা বলার আছে।”
থমকালো ন্যান্সি ,কি জরুরী কথা? শুষ্ক ঢোক গিলল ন্যান্সি খুব করে মস্তিষ্ক একটা কথাই ভাবছে আফরিদ কি সত্যি জানে সবটা? সে কি বলবে তাকে সত্যিটা?
“কি বলবেন তাড়াতাড়ি বলুন।”
আফরিদ সূক্ষ্ম নিঃশ্বাস ছেড়ে অসহায় কন্ঠে বলে উঠে।
“আমি তোর কোমড়ের তিলটা মিস করছি খুব। বিশ্বাস কর রাতে খেয়াল করিনি কিন্তু এখন মিস করছি।”
ন্যান্সি নির্বাক , প্রত্যুত্তরে কিছু বলল না। জীবনে প্রথম কাউকে দেখলো পলাতক বউকে ফোন দিয়ে বলছে তার তিলটা মিস করছে।
ন্যান্সি হাসলো , হাসিটা বোধহয় কান্না পাওয়ার মতো।
“আফরিদ এহসান আপনি হারপিক খেয়ে ম’রে যান প্লিজ।”
আফরিদ একপেশে হেসে বলল।
“হারপিকটা যদি তুই হুস তাহলে আমি একশো বার খেয়ে ম রে যেতে রাজী আছি।”
“বজ্জাত লোক কোথাকার , আমাকে হারপিক বলছেন? এবারে ব্লক করছি আর কল করলে তোর গুষ্টির তুষ্টি করে দেব। সাহস কত বড়ো ছেড়ে আসার পরেও নির্লজ্জের মতো ফোন করছে।এই আপনি নাম্বার পান কিভাবে হ্যা? অস’ভ্য কোথাকার।”
আরো একবার ব্লক করলো ন্যান্সি ,হাত জোড়া চলে যায় তার কোমড়ে। মুখ নিচু করে কোমড়ের তিলটা দেখলো। নিমোষ্ট কামড়ে ধরে। খুব অসহায় লাগছে এখন।
ল্যাপটপে সবটাই দেখছে আফরিদ। অতঃপর দু’হাতে মাথার পিছনে রেখে হাসি হাসি মুখ করে বলে উঠে।
“বান্দি রেএএ মিসড ইউ সো মাচ। ট্রাস্ট মি পরের বার ধরলে দু’দিনে ছাড়াছাড়ি নাই। ফিলিংস তো আপনারও আছে সেটা রাতেই দেখে নিলাম।”
ন্যান্সি দ্রুত খাবার খেলো,সব কিছু এত দ্রুত করছে যে তাকে এখুনি ছুটতে হবে। কিছুক্ষণ আগেই রিমি মেয়েটার সাথে কথা হলো মেয়েটা বলল সে একটু বাইরে যাচ্ছে ন্যান্সি যাতে ব্রেকফাস্ট করে নেয়।
ন্যান্সি কিচেনে গিয়ে নিজের জন্য অল্প দুধ গরম করেছে। দুর্বল শরীরে পুষ্টি জাতীয় কিছু খাওয়া প্রয়োজন তার।
আফরিদ ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট করেছে সবে। তবে টেবিলে কারো সাথেই টু শব্দটি করেনি।
নীলাদ্রি কয়েকবার জিজ্ঞেস করেছে ইলহামের কথা প্রত্যুত্তরে আফরিদ একটা কথাই বলেছে।
“বিক্রি করে দিছি, নতুন বউ কিনে আনব।”
এরকম আজব কথায় খুক খুক করে কেশে উঠলো কল্পনা। সাব্বির থতমত খেয়ে গেল। আফরিদ এতটা চিল কিভাবে থাকতে পারে কেউই বুঝলো না।
মাইমুনা এহসান মনে মনে ভীষণ খুশি হয়েছেন ইলহাম চলে যাওয়াতে। আদরের বেটার ঘাড় থেকে নেমেছে।
তিতলি চুপচাপ দাঁড়িয়ে শুধু ওদের কথা শুনেছে।
খাওয়া শেষে রুমে এলো আফরিদ, ট্যাব নিয়ে সটান হয়ে শুয়ে পড়ল বিছানায়।
ন্যান্সিকে দুধের গ্লাস হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দুষ্টু বুদ্ধি মাথায় খেলে গেল।
মুচকি হেসে ফোন লাগালো টেলিফোনে।
অসময়ে কল আসাতে কিছুটা চমকে উঠে ন্যান্সি। টেলিফোন কানে তুলতেই ওপাশ থেকে ভেসে এলো নেশালো কন্ঠস্বর,
“আমার জানকি বাচ্চাটা কি করছে?”
এত আদুরে সম্বোধনে বুকের ভেতর দুরুদুরু কেঁপে উঠল রমণীর। ন্যান্সি মৃদু স্বরে বলল,
“সবই তো দেখতে পাচ্ছেন তাহলে জিজ্ঞেস করছেন কেন? আমি জানি আপনি আমার উপর নজরদারি করে চলেছেন।”
আফরিদ হাসলো। ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো,
“হাতে ওটা কি?”
ন্যান্সি তপ্ত নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল,
“মিল্ক! খাবেন নাকি?”
এভাবে গাল ঠেলে হাসলো আফরিদ,সোজা হয়ে উঠে বসলো। ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি। ঘাড় বাঁকিয়ে বলল,
“ফেইক প্রোটিন খাইনা আমি সোনা। খেলে আসল প্রোটিন খাবো।”
ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল ন্য ন্যান্সি।ফেইক প্রোটিন মানে?
“ফেইক প্রোটিন মানে?”
আফরিদ উঠে গিয়ে সেন্টার টেবিলের উপর থেকে একটা চকলেট নিলো,সেটায় কামড় বসাতে বসাতে বলল,
“তুমি যেটা খাচ্ছ সেটা ফেইক প্রোটিন সোনা। আমি আবার ফেইক প্রোটিন খাইনা। আসল প্রোটিন তো তুমি।”
সবটাই মাথার উপর দিয়ে গেল ন্যান্সির।
আফরিদ চাপা স্বরে ফিসফিসিয়ে বললো,
“একটা বাজে কথা বলি জানকি বাচ্চা?”
ন্যান্সি শুষ্ক ঢোক গিলে বলল,
“সারাদিন রাত তো বাজে কথাই বলেন।”
আফরিদ ততক্ষনে একট স্ট্রবেরি নিয়ে মুখে পুরে বলল,
“আমি তোমার ফেইক প্রোটিন আর তুমি আমার স্ট্রবেরি। লাল এবং সাদা মিলে মিশে একাকার হায় ইয়াম্মি হবে খেতে।”
ন্যান্সি আবারো ফোন রেখে দিলে, হাতে ধরা দুধের গ্লাসের দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করলো ফেইক প্রোটিনের অর্থ কি। যেই বিষয়টা মস্তিষ্ক ধরতে পারলো ওমনি ফ্লোরে ছেড়ে দিলো গ্লাসটা
সহসা দুহাত বুকে গুটিয়ে নিল। বিড়বিড় করে আওড়ালো।
“অস’ভ্য ইতর লোকটা কোনো দিন ভালো হবেনা। আহ্…
চিৎকার করে উঠল ন্যান্সি
আফরিদ এদিকে গড়াগড়ি খেয়ে হাসছে ন্যান্সির অবস্থা দেখে। ন্যান্সি বুঝে গেছে সে কি মিন করেছে!
🌿_______🌿
গাড়ি চলছে আপন গতিতে।সারি সারি গাছ পালা সব পিছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছো স্মাইলি। হ্যা এটাই তার শেষ দিন আমেরিকার মাটিতে। এরপর কি আর কখনও আসবে? হয়তো আসতেও পারে।
সামনে বড়সড় একটি পার্ক, পাশেই ক্যাফেটেরিয়া। পরিচিত শহরটি ছেড়ে চলে যেতে বুক পু’ড়ছে! জানালার বাইরে শূন্যে দৃষ্টি ফেলল স্মাইলি। চলন্ত গাড়ির যত এগুচ্ছে বুক ছিঁড়ে ততবার দীর্ঘ শ্বাস বেরিয়ে এলো।
কিছুক্ষণের মধ্যেই এয়ার পোর্টে চলে এলো ওরা। ফ্লাইটের অপেক্ষায় আছেন। সামনের সিটে বসে আছে স্মাইলি, মুখশ্রী জুড়ে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। মিস্টার এজিয়ান ভেতরের দিকে গিয়েছেন। মিসেস এনা ফোন স্কল করতে ব্যস্ত। আশেপাশে দৃষ্টি বুলাতেই নেভি ব্লু কালারের ওয়ের্স্টান ট্রি শার্ট আর জিন্স প্যান্ট পড়ে একটি মেয়ে কে দেখতে পেলো স্মাইলি।এদিক সেদিক বারংবার তাকাচ্ছে মেয়েটি, হয়তো কাউকে খুঁজে চলেছে। স্মাইলি খুব একটা গুরুত্ব দিল না। নিজ হাতে থাকা ম্যাগাজিন পড়তে শুরু করে।
নিজের পাশে সেই অপরিচিত মেয়েটি কে দেখে কপালে ভাঁজ পড়লো স্মাইলি। হাস্যোজ্জ্বল কন্ঠস্বর বলে উঠে।
“হাই আমি ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা।”
অল্প হাসলো স্মাইলি।
“হ্যালো। স্মাইলি প্রিন্সেস দ্রিশা।”
“ওয়াও!নাইস নেইম।”
“থ্যাংক ইউ। তোমার নাম আর আমার নাম কিছুটা এরকম ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা এবং স্মাইলি প্রিন্সেস দ্রিশা।”
ন্যান্সি ওষ্ঠো বাঁকিয়ে হাসলো।
অতঃপর কিয়ৎক্ষণ চলল পিনপতন নীরবতা। নিরবতা ভেঙ্গে স্মাইলি ফের শুধোয়।
“তোমার গালে কী হাইলাইটস করেছো ইলহাম?”
আড় চোখে তাকায় ন্যান্সি, অস্বস্তিতে পড়ে গেল সে।
“না আসলে আমার গাল এমনি।”
অল্প হাসলো স্মাইলি।
“ইউ আর লুকিং সো কিউট।”
“থ্যাংক ইউ।”
“তুমি বাংলাদেশী?”
কিঞ্চিৎ অবাক হলো ন্যান্সি।
“হ্যা কিন্তু কেন?”
“না দেখেই হঠাৎ মনে হলো।”
আবারো ছেয়ে গেল দু’জনের মধ্যে নিরবতা। স্মাইলি চুপ থাকতে পারলো না, জিজ্ঞেস করে।
“তুমি কোথায় যাচ্ছো?”
ম্যাগাজিন থেকে মুখ তুলে তাকায় ন্যান্সি।আগের ন্যায় বলে উঠে।
“স্পেন।”
“ওয়াও গ্রেট। আমিও স্পেন যাচ্ছি।”
ঈষৎ চমকায় ন্যান্সি!
“সত্যি?”
“হ্যা।এই দেখো পাসপোর্ট।”
এক নজর চোখ বুলিয়ে নিল ন্যান্সি। সত্যি মেয়েটা স্পেন যাচ্ছো। অবাক হলো একটু।
“তাহলে তো আমাদের ফ্লাইট একই সাথে।
ফ্লাইটে প্রায় পাশাপাশি সিটেই বসেছে মিসেস এনা এবং স্মাইলি। তবে সে কেন জানো কম্ফোটেবল ফিল করছে না!
“মাম্মা আমার শান্তি লাগছে না!”
চিন্তিত হলেন মিসেস এনা।
“কেন কী হয়েছে?”
“আমি সিট চেঞ্জ করতে চাই।”
মিসেস এনা আশেপাশে তাকিয়ে এক নজরে দেখে নিলেন।নজরে এলো ন্যান্সি।
“এক্সকিউজ মি?”
“ইয়েস?”
“আচ্ছা আমার মেয়ে টা কে তোমার পাশে বসতে পারে?”
ন্যান্সি উঁকি দিয়ে দেখলো স্মাইলি কে। ওষ্ঠাদয় আলাদা হয়ে এলো তার। হাস্যোজ্জ্বল মুখে বলে উঠে।
“অফকোর্স।”
স্মাইলি উঠে গিয়ে ন্যান্সির পাশে বসলো। ফ্লাইট চালু হওয়া মাত্রই আ’তংকিত হয়ে উঠে স্মাইলি। চেপে ধরে ন্যান্সির হাত।
“প্লিজ প্লিজ আমাকে ধরো আমার ভয় করছে!”
ভ্রুস্ব কুঞ্চিত করে তাকালো ন্যান্সি। স্মাইলি তবে কি ফ্লাইটে ভয় পায়? স্মাইলির লম্বা লম্বা নেলস গুলো গেঁ’থে গেল ন্যান্সির হাতে।তবে তাতে ভাবান্তর নেই ন্যান্সির,টু শব্দটি করলো না।
“আর ইউ ওকে স্মাইলি?”
ধীরে ধীরে দৃষ্টি মেলে তাকালো স্মাইলি। তৎক্ষণাৎ হাত সরিয়ে নিল, মৃদু স্বরে বলল।
“ইয়েস অ্যাম ফাইন।”
সৌজন্য মূলক হাসলো ন্যান্সি। অতঃপর সিটে মাথা হেলিয়ে চুপচাপ বসে রইল।এদিক ওদিক তাকাতে গিয়ে আনমনে দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় ন্যান্সির হাতের দিকে।
“ও মাই গড ন্যান্সি তোমার হাত?”
“ডোন্ট ওয়ারি, ইটস্ ওকে।”
“আরে ব্ল্যা’ড…
ন্যান্সি ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলো অনেকটাই গে থে গিয়েছে! পার্স থেকে নিজের ছোট্ট রুমালটি বের করে হাতে বেঁধে দিল ন্যান্সির। অপরাধীথ ন্যায় নত মস্তকে বলল।
“অ্যাম স্যরি ইলহাম। আমি ফ্লাইটে ভয় পাই।”
ন্যান্সি মুচকি হেসে নিজের হাতের দিকে তাকালো। এটা যদি মাফিয়া কিং দেখতো তাহলে গালটা চেপে ধরে বলতো।
“বলছিলাম না এই দেহে যাতে একটাও ফুলের টোকা না লাগে!”
স্পেনের বার্সেলোনা একটি দারুণ শহর বললে ভুল হবে না! পর্যটকদের এখানে ঘুরতে আসার জন্য পারফেক্ট।
লাস রাম্বলা রাস্তায় রিতিমত বিড় জমেছে। প্রাণচাঞ্চল্য এই রাস্তা আটকে আছে মানুষের বিড়ে।একের পর এক গাড়ি ছুটে চলেছে।পাশের বড়সড় ক্যাফেটেরিয়া গুলোতে প্রতিদিনের মতো আজও বিড় জমেছে।
একটু দূরেই আরেকটি ক্যাফে রয়েছে। ক্যাফেটেরিয়া জুড়ে পিনপতন নীরবতা। নিরবতা থাকার একটি কারণ রয়েছে।
সামনের চেয়ারে বসে আছে ইস্ক্রিয়াস আর তার ঠিক সামনে বসেছে লুসিফার এলেন ইদ্রান ইস্ক্রিয়াস পেশায় একজন ইন্সপেক্টর।প্রায় দু’টো বছর ধরে প্রয়াস চালাচ্ছে ইদ্রান কে হাতে না হাতে পাকরাও করার।
চোখে থাকা গগল্স খুলে বুক পকেটে রেখে দিল ইস্ক্রিয়াস।
বেশ আরামসে কাঁ’টাচামচ চালিয়ে খেয়ে চলেছে ইদ্রান
থমথমে এই পরিস্থিতিতে ইভান চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।এই মূহুর্তে যদি ইস্ক্রিয়াস রি’ভলবার বের করে শু’ট করে দেয় তাহলে? তাহলে কি হবে?
সম্পূর্ণ খাবার শেষ করার পূর্বে এক নজর মুখ তুলে তাকায় লুসিফার। ইস্ক্রিয়াস কে উদ্দেশ্য করে শুধোয়।
“উউড ইউ লাইক টু ইট?”
তাচ্ছিল্যের হাসি টেনে বলে উঠে ইস্ক্রিয়াস।
“আমি এখানে খেতে আসিনি ইদ্রান।”
চামচটা সযত্নে প্লেটে রেখে দিল লুসিফার।
“ইদ্রান?নাইস।ইউ নো ইস্ক্রিয়াস আমাকে এল এ বি বৈ অন্য নামে কেউই ডাকে না।আই লাইক ইওর অ্যাটিটিউড।”
একপেশে হেসে উঠলো ইস্ক্রিয়াস।
” লুসিফার এলেন ইদ্রান এটাও পুরোপুরি উচ্চারণ করতে ইচ্ছে করে না মিস্টার স্মা’গলার ওরফে গ্রেট সাকসেসফুল বিজনেস এলেন ইদ্রান।”
হো হো করে হেসে উঠলো ইদ্রান। শান্ত এই পরিবেশে সেই হাসিটা বড্ড ভয়াবহ ঠে’কলো। আকস্মিক মুখশ্রী জুড়ে ছেয়ে গেল গাম্ভীর্য ভাব।
” লুসিফার এলেন ইদ্রান কে দেখাতে পেয়েছো এই তোমার জন্য ঠের ইস্ক্রিয়াস। না হলে আমার নাম নেওয়ার অপ’রাধে আজ তোমার বুকে আমার রি’ভ’লবারে থাকা সাতটি বু’লেট ঢুকে যেত।”
আকস্মিক রি’ভ’লবার ঠিক মাথার মাঝখানে ঠে’কালো ইস্ক্রিয়াস। দাঁতে দাঁত পিষে বলে উঠে।
“ডিরেক্ট উপরে পাঠিয়ে দেব।”
ব্ল্যাক স্যুট পরিহিত গার্ড গুলো এগিয়ে আসতে চাইলো। তৎক্ষণাৎ হাত উঁচু করে থামিয়ে দিল ওদের।
“কুল ডাউন বয়েস!এতটা প্যানিক করতে নেই।”
ঠান্ডা মেজাজের কথা গুলি আ’গুনে ঘি ঢালার কাজ করছে ইস্ক্রিয়াসের।
“নিজের প্রাণের ভয় নেই তাই না ইদ্রান?এতটা অ্যাটিটিউড?
“ডোন্ট ইউ ডেয়ার ইস্ক্রিয়াস!”
ক্ষণকাল চলল নিরবতা। রিভলবার নামিয়ে টেবিলের উপর রাখলো ইস্ক্রিয়াস। ঠোঁটে ঝুলছে তার তাচ্ছিল্যের হাসি।
“তোকে আমি এভাবে মা’রব না ইদ্রান। ট্রাস্ট মি এভাবে পুলিশের হাতে তুলে দিতে চাই না। আজকের জন্য তোর ছাড়, তবে যেদিন ধরব সেদিন ডিরেক্ট এনকাউন্টার করে দেব। শুধু সময়ের অপেক্ষা।”
অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে ইদ্রান আদতেও কী সে ভয় পায়? মৃ’ত্যু কতবার স্বচক্ষে দেখে এসেছে,ফিরে এসেছে। সেই ইদ্রান কে এই সামান্য কথায় ভয় দেখাচ্ছে?হাহ্।
হাতের ইশারায় একটুখানি কাছে ডাকল ইস্ক্রিয়াস কে ইদ্রান। কিঞ্চিৎ ঝুঁ’কে পরে ইস্ক্রিয়াস,হিস্কি টুনে ফিসফিসিয়ে বলে উঠে।
“নাইস জো’কস্ ।”
চোয়াল শক্ত হয়ে এলো ইস্ক্রিয়াস।চাপা রাগ নিয়ে আওড়ালো।
“এখনো সময় আছে ভালো হয়ে যা।”
বাঁকা হাসলো ইদ্রান।
“এখনো সময় আছে নিজের পথ দেখে নে। আমার পিছু ছাড়।”
উঠে দাঁড়ালো দু’জনেই।এ যেনো শব্দ বিহিন যু’দ্ধ।একে অপরের সহিতে নিঃশব্দে এই যু’দ্ধে ঠিক কী কী ক্ষতি হতে চলেছে তা অজানা।
“ওকে ফাইন তুই তোর কাজ কর আর আমি আমার কাজ করব।”
পকেটে হাত গুঁজে টান টান হয়ে দাঁড়ালো ইদ্রান ।বাঁ চোখের ভ্রু উঁচিয়ে বলল।
“অ্যাস ইওর উইস।”
পকেটে হাত গুজেই পিছন ফিরে গাড়ির দিকে পা বাড়ালো ইদ্রান ইস্ক্রিয়াস হাসলো, রহস্য মিশ্রিত সেই হাসি। মৃদু স্বরে চিৎকার করে বলল।
“ইদ্রান।জাস্ট অ্যা ম্যাটার অফ টাইম।”
গা দুলিয়ে হেসে উঠলো ইদ্রান।পিছন ফিরে তাকালো, শিথিল কন্ঠে বলে উঠে।
“ইম্যাজিনেশন ,ইম্যাজিনেশন,ইম্যাজিনেশন।”
ঘাড়ে আঁকা ঈগলের ট্যাটুতে আঙ্গুল বুলায় ইদ্রান।
চলবে…………।✨
(📌সবাই একটু বেশি বেশি কমেন্ট করার চেষ্টা করবেন। পেইজের অবস্থা খারাপ 🙂)
(📌 কোনো সিন কপি হলে পাঠকদের প্রতিবাদ করার অনুরোধ রইলো।)
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪০
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩২(প্রথমাংশ +শেষাংশ +বোনাস)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৬