Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৫


অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ৪৫]

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)

“স্মাইলি আর ইউ ওকে? স্মাইলি উঠো?”

মিসেস এনা ডাক শুনে ধড়ফড়িয়ে উঠে বসলো স্মাইলি। ঘেমে একাকার অবস্থা তার,কানের পাশ বেয়ে ঘাম গড়িয়ে গেল!জোরে জোরে নিঃশ্বাস টেনে নিলো সে। এতক্ষণ ধরে ফ্লোরে বসে ছিল সে। স্মাইলির ঠিক সামনে বসে আছেন মিসেস এনা।
মিসেস এনা স্মাইলির মা।তার বাবা কয়েক বছর আগেই মা’রা গেছেন। বাবা চলে যেতেই নিউজিল্যান্ড থেকে আমেরিকা চলে আসে ওরা। ফ্যামিলি বলতে এখন শুধু স্মাইলির মা মিসেস এনা এবং আঙ্কেল এজিয়ান ছাড়া কেউই নেই।

“তুমি ঠিক আছো স্মাইলি?”

মায়ের কন্ঠে ফের বাস্তবে পা রাখলো স্মাইলি।
“হ্যা? হ্যা মাম্মা ঠিক আছি আমি।”

ফাঁকা দুটো ঢোক গিললো স্মাইলি।সে কী সত্যি কল্পনা করছিল?তার চার্ম আসেনি? বুকের হুলুস্থুল কাণ্ড যেনো ধ্বক করে বেড়ে গেল!

“তুমি কি পানি খাবে?”

মিসেস এনা হাত বাড়িয়ে সাইড টেবিলের উপর থেকে পানির গ্লাস এগিয়ে দিল স্মাইলি কে। ঢকঢক করে সবটা খেয়ে নিল। জোরপূর্বক হাসার চেষ্টা করে বলে উঠে।
“ঠিক আছি মাম্মা। তুমি টেনশন করো না।”

চিন্তিত হলেন মিসেস এনা।এটা মোটেও ভালো কথা নয়!
মেয়েটা তার ভীষণ ভাবে অসুস্থ!এই অসুস্থ শুরু হয়েছে তার বাবা চলে যাওয়ার পর থেকে।তখন থেকেই বাবা কে অদ্ভুত ভাবে কল্পনা করতো সে। ডক্টরের কাছে নিয়ে যাওয়ার পর জানতে পারে হয়তো স্মাইলি যারা তার আশেপাশে নেই, যাদের সে খুব করে মিস করে তাদের কে কল্পনা করে সে। হ্যালুসিনেশন হয় তার।যার ফলে বাস্তবতা ভুলে যায় সে? প্রাণপণে চেষ্টা করে সেই কল্পনার মানুষটি কে ধরে রাখতে।
প্রথম প্রথম বাবার জন্য পাগলামি করলেও পরে তা কিছুটা ঠিক হয়। তবে এখন ঠিক কাকে হ্যালুসিনেশন করে তা সঠিক জানা নেই।

বেডের এক পাশে চুপচাপ বসে আছে স্মাইলি।হাতে রয়েছে ফোনটা, হয়তো কারো ফোনের অপেক্ষায় আছে। বিরক্ত বোধ করছে এক সময়।গুটি পায়ে এগিয়ে গেল বেলকনির দিকে।গ্লাস টেনে রেলিং ধরে দাঁড়ালো। দৃষ্টি তার আকাশ পানে,আবেশে চোখ বুজে নিঃশ্বাস টেনে নিল সে।পিঠ ছাড়িয়ে যাওয়া চুল গুলো মৃদু হাওয়ায় উড়ে বেড়াচ্ছে। আমেরিকার একজন বাসিন্দা।তার জন্ম আমেরিকায় কিছু বছর পর পরই ফ্যামিলি নিয়ে চলে যায় নিউজিল্যান্ড,সেখান থেকে ডিরেক্ট আবারো আমেরিকা।এখন আবার সব কিছু ছেড়ে ছুড়ে ছুটতে হবে তাকে স্পেন। ভীষণ ভাবে বিরক্ত সে। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে সব কিছু ছেড়ে ছুড়ে ছুটে যেতে দূরে চলে যেতে। ওই তো মাসখানেকের জন্য গিয়েছিল,ওই সৌন্দর্য তার চোখে এখনো আটকে আছে।
বুক ছিঁড়ে বেরিয়ে এলো এক রাশ দীর্ঘ শ্বাস।সে কোথায় দীর্ঘ দিন থাকতে পারে না। নিঃশ্বাস আটকে আসে তার, মিসেস এনা স্মাইলি কে নিয়ে ভীষণ পজেসিভ।মেয়ের জন্য ঠিক যা যা করতে হবে ঠিক তাই করবেন।
চক্ষুদয় মেলে তাকাতেই নজরে এলো সামনের গার্ডেন।

“চার্ম আই মিসড ইউ সো মাচ ইয়ার। আপনি আমাকে রেখে কোথায় চলে গেলেন?দিস ইজ নট ফেয়্যার চার্ম!”

বিড়বিড় করে আওড়ালো শব্দ গুলো।হতাশ হয়ে ভেতরে পা বাড়ায় সে।নিচে ডাইনিংয়ে খাবার দিয়েছে মিসেস এনা।
“স্মাইলি ব্রেকফাস্ট করবে তাড়াতাড়ি এসো।”
“আসছি মাম্মা।”

ড্রেসিং টেবিলের কাছে গিয়ে দাঁড়াল সে। আয়নার দিকে তাকিয়ে আছে সে। অতঃপর
দ্রুত পায়ে নিচে এলো স্মাইলি । খাবার ইতিমধ্যেই সার্ভ করা হয়েছে। চেয়ার টেনে বসলো সে। মলিন মুখ করে চুপচাপ খেয়ে যাচ্ছে।আড় চোখে তাকালেন মিসেস এনা।
“আর ইউ ওকে স্মাইলি?”
“হ্যা?”
“তুমি কি ঠিক আছো?”
“হ্যা মাম্মা ঠিক আছি তো। আমার কী হবে? আমি ঠিক আছি।”

🌿___🌿
মুখ অবধি চাদর দিয়ে ঢেকে রেখেছে ন্যান্সি। ক্লান্ত সে, তাকে চোখ ভরে দেখছে আফরিদ। একটু পরপর হেসে বলছে। তুই ভীষণ সুন্দর। ন্যান্সি খুব একটা গুরুত্ব না দিয়ে শুয়ে রইলো। অকস্মাৎ তাকে ডেকে তুলে আফরিদ, ধড়ফড় করে উঠে ন্যান্সি।
“কি হলো ঘুমোতে দিচ্ছেন না কেন?”

আফরিদ বাঁকা হেসে বলল,
“পানি খাওয়া।”

কপাল কুঁচকে এলো ন্যান্সির। তার সাইডে টেবিলের উপর পানি রাখা অথচ নিজে না নিয়ে হুকুম করছে?”

“আপনি নিজে গিয়ে খান। পারব না দিতে।”

আফরিদ চাঁপা রাগ দেখিয়ে বলল,
“দিবি কি-না?”

ন্যান্সি অসহায় চোখে তাকায় তার দিকে।
“হাঁটতে পারছি না তো। নিয়ে নিন না।”

আফরিদ একগাল হেসে বলল,
“কোলে নেই?”

রাগে গজগজ করে উঠলো ন্যান্সি,
“আমাকে কোলে নিতে পারবেন কিন্তু নিজে গিয়ে পানি খাবেননা তাইতো?”

অকস্মাৎ আফরিদ ঝাঁপিয়ে পড়ে ন্যান্সির উপর।
“যা শা’লী খাবোনা পানি, এখন তোকে খাবো।”

“আফরিদ প্লিজ লিভ মি । আমি আপনাকে স’হ্য করতে পারছি না।”

আফরিদ চোখে হাসে , আলগোছে পিঠ টেনে দু’হাতে আঁকড়ে ধরে শোয়া থেকে ন্যান্সি কে শুদ্ধ নিয়ে উঠে বসলো।
নগ্ন দেহে একে অপরের সহিত লেপ্টে আছে তারা। আফরিদ শুনে না আর না তাকে ছাড়ে । প্রথম বারের মতো ন্যান্সি কে এতটা কাছে পেয়ে পাগল প্রায়।
ন্যান্সি আফরিদের উন্মাদনা দেখে অস্থির হচ্ছে। কেন এতটা অস্থিরতা তার?
আফরিদ আরো ঘনিষ্ঠ হয়, বাহ্যিক আবরণ ভেদ করে প্রবেশ করে ন্যান্সির অন্দর মহলে।

আকস্মিক চেঁচিয়ে উঠলো ন্যান্সি।
“আফরিদ!”

শোয়া থেকে উঠে বসলো ন্যান্সি , ঘেমে একাকার অবস্থা মেয়েটার। এতক্ষণ ধরে স্বপ্ন দেখছিল। উঁহু স্বপ্ন নয় এগুলো তো বাংলাদেশে হয়েছিল। আফরিদ এহসান এসেছিল তার কাছে ,খুব কাছে যতটা কাছে এলে একে অপরের নিঃশ্বাস গোনা যায়। ন্যান্সি উল্টো হাতে কপালের ঘাম মুছে নিলো।

একটা ফ্ল্যাটে রয়েছে ন্যান্সি , মাত্র কয়েকটা দিনের জন্য। এই তো এয়ার পোর্ট থেকে বের হতেই একটা মেয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছে তার। রিপা নাম মেয়েটার। মেয়েটা ভীষণ ভালো,সেও বাংলাদেশ থেকে এসেছে। ন্যান্সি আর তার পরিচয় হতেই মেয়েটা তাকে নিজের ফ্ল্যাটে থাকতে বলল।
এমনিতেও ন্যান্সির আপাতত থাকার জায়গা নেই, যেকোনো ভাবে এখানে থাকতেই হবে।
ফোনটা টুং শব্দ করতেই ন্যান্সি সেটা তুলে নিল। আরো একবার নতুন নাম্বার থেকে ফোন এসেছে।
কলটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে বলে উঠে।

“বেইবি গার্ল।”

আগুন্তক ,আফরিদ এহসান। যাকে আগুন্তক হিসেবেই চিনে ন্যান্সি। ভয়েস মড্যুলেশন , বহুরূপী কন্ঠে কথা বলার নিদারুণ গুন রয়েছে আফরিদ এহসানের। বলতে বোঝায়
কথা বলার সময় নিজের কণ্ঠস্বরকে সচেতনভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পরিবর্তন করার ক্ষমতা।
সহজ করে বললে, একই মানুষ যখন পরিস্থিতি, আবেগ বা প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের কণ্ঠের উচ্চ, নিম্ন, গতি, জোর, নরম, কঠিন ভাব বদলাতে পারে সেটাই ভয়েস মড্যুলেশন।

“আপনি? আপনি আমাকে কল করেছেন কেন?”

আফরিদ হাসে , কন্ঠস্বর আরো ক্ষীণ করে বলল।
“বেইবি গার্ল তোমার তো এখুনি যাওয়া উচিত তাই না? সত্যি টা জানবে না?”

কথাটা বলতে বলতে পরণের শার্ট টা খুলল আফরিদ। তার ঠিক সামনে নিজের রুমে একটা ফটো ফ্রেম লাগানো। ন্যান্সির সাথে কটেজে যাওয়ার পর সে যেই অফ হোয়াইট গাউন পরে ছবি তুলেছে তার মধ্য থেকেই একটা ছবি এখানে টাঙ্গিয়েছে আফরিদ। এক হাতে ফোন, অন্য হাতে ওয়াইনের গ্লাস।

ন্যান্সি এই আগুন্তক কে জানতে চায়, এই লোকটা সেদিন হুডি পরে ছিলো।

“যদি পুরুষ হয়ে থাকিস তবে সামনে আয় আমার। তুই আমার পরিবার কে শেষ করে দিয়েছিস।”

ফোনটা হোল্ড করলো আফরিদ , ভীষণ হাসি পাচ্ছে তার। বউ তার চটে গেছে।‌ যদি সে সামনে যায় তাহলে বউ তার কেঁদে বন্যা বানিয়ে দেবে। পরক্ষণেই নিজেকে সামলে আবারো বলে উঠে।

“রিল্যাক্স বেইবি গার্ল। তাড়াতাড়ি উঠো আর নিজের টেবিলের উপর দেওয়া ঠিকানায় চলে যাও।”

ন্যান্সি চকিতে বিছানা ছেড়ে নেমে টি টেবিলের কাছে গেল। একটা ঠিকানা দেওয়া আছে এখানে। সেই লোকটা যেই ছবিটা রেড সাইলেন্ট ম্যানরে দেখেছিল ন্যান্সি। সেদিন থার্ড ফ্লোরে সিন্দুকে অনেক গুলো ছবি পেয়েছে ন্যান্সি তাদের মধ্যে এটি একটা। একজন ডক্টর!

“সত্যি করে বলুন কে আপনি? কেন এসব করছেন?”

উত্তর করলো না আফরিদ ,চট করে ফোনটা কে টে দিলো। ব্যস্ত হাতে ফোনটা অফ করা হয়েছে।

ন্যান্সি বারংবার ট্রাই করেও পাচ্ছে না।
ওয়াশ রুমে ঢুকে লম্বা একটা শাওয়ার নিলো আফরিদ। ওয়াশ রুম থেকে বেরিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়ালো , পিঠে অসংখ্য নখের আঁচড়। এগুলো তার বান্দির দেওয়া। পরাণের তীব্র বুকের ধুকপুকানি শুনে নিয়েছে আফরিদ। আয়নায় নিজেকে এক নজর দেখে ফের দেয়ালে টাঙ্গানো ছবিটির দিকে এগিয়ে গেল। হাত বাড়িয়ে ন্যান্সির ঠোঁট ছুঁইয়ে বলল।

“প্রেমে কি পোড়ানো-ই না পোড়াচ্ছিস পরাণ! নিঃশ্বাসটা বন্ধ হয়ে আসে তুই ছাড়া। কবে এত আপন হলি বলতো?”

দীর্ঘ এক নিঃশ্বাস ছেড়ে দ্বিতীয় বারের মতো নিজের আরো একটি ফোন তুলে নিল আফরিদ ,একই নাম্বারে কল করলো ন্যান্সি কে।

এবারেও কল ধরে ন্যান্সি।
“হ্যালো আবার কেন কল করেছেন? কি চাই কে আপনি?”

“আমি তো ইল্লিগ্যাল না লিগ্যাল ভা’তার বলছি বান্দি।’

এহেন জবাবে স্তম্বিত ন্যান্সি, বেহায়া লোকটা আবার কল করেছে।

“কেন কল করেছেন?”

আফরিদ বাচ্চাদের মতো ঠোঁট উল্টে বলল।

“আমি তোকে রাতে খুব মিস করেছি পরাণ।”

ন্যান্সি আমতা আমতা করে বলল।
“সেই মিস করার কারণে কি গলায় দড়ি দেন নি এখনো?”

আফরিদ এক গাল হেসে কাবার্ড থেকে শার্ট বের করে ফোনটা কোনো রকমে চেপে বলল।
“যাহ দুষ্টু কি বলে, আমি গলায় দড়ি দিলে তোকে আদর করবে কে? তখন তুই আমাকে রাতে মিস করবি।”

ন্যান্সি নির্বিকার , সে কখনোই পারবে না আফরিদের সাথে কথায়। কিয়ৎক্ষন চলল নীরবতা,সেই নীরবতা ভেঙ্গে আফরিদ বলে উঠে।

“অ্যাঞ্জেলিনা শুন।”
“কি?”
“তোর ওইটা ভীষণ সুন্দর!”

ন্যান্সি বাকরুদ্ধ, কিসের কথা বলছে এই পাগল?”
“মানে?”
“তোর ওইটা মা’রাত্মক।”

শুষ্ক ঢোক গিলল ন্যান্সি, হাত-পা শিরশির করছে।কি বলছেটা কি?ওইটা সুন্দর মানে?
আফরিদ খুবই ক্ষীণ স্বরে ঘোর লাগা কন্ঠে আওড়ালো,
“তোর ইনারের ফিতে দিয়ে বানানো প্রতিটা ব্রেসলেট সুন্দর। সবকিছু ফেলে গেছিস, ওগুলো দিয়ে ব্রেসলেট বানিয়ে ফেলেছি!”

চোয়াল ঝুলে এলো ন্যান্সির। আহাম্মকের মতো বসে রইল সে।
“আমার তোকে ভীষণ রকম রে*** করবে মন চাচ্ছে।”

ন্যান্সি হতাশ , সে পারবে না।
“ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি।”

আফরিদ আবারো মলিন মুখ করে বলল।
“লিঙ্গ চেঞ্জ করে দিলি কেন? বলবি ছেড়ে দে বাপ কেঁদে বাঁচি।”

“প্লিজ প্লিজ আমাকে কল করবেন না,আই হেইট ইউ।”

“বাট আই লাভ ইউ বান্দি। তোরে পাইলে রেএএএ কি যে করবো।”

কল কে দিলো ন্যান্সি ,রাগ হচ্ছে তার। কিন্তু সহসা আবার ফোন এলো, ন্যান্সি রিসিভ করতেই আফরিদ শুধোয়,
“কী করতে চাইছিস তুই?”

ন্যান্সি তাচ্ছিল্যের হাসি টেনে বলল,

“বলেছিলেন না রাজ্য আপনার রাজত্ব আমার? এবার রাজত্ব কায়েম করার প্রচেষ্টায় এহসান, জাস্ট ওয়েট এন্ড সি…

অতঃপর ফোনটা বন্ধ করে সিমটা খুলে ফেলল ন্যান্সি। ফোন হাতে আফরিদ গা দুলিয়ে হেসে উঠলো।

“আমার জানকি বাচ্চা একটু ছুঁলেই আফরিদ আফরিদ বলে চিৎকার করিস। তোকে কোথায় লুকিয়ে রাখি বলতো?”

🌿__🌿
“আপনি এখুনি ইলহাম আপুকে এনে দিন।”

কিড়মিড়িয়ে কথাটা বলে উঠে তিতলি। তার চিৎকারে মুখ চেপে ধরে ঈশান। রাগান্বিত স্বরে বলল,
“বেয়াদব মেয়ে একটা। তুমি গিয়ে নিয়ে এসো।”

তিতলি নিজেকে কোনো রকমে ছাড়িয়ে হিসহিসিয়ে বলল।
“খালি ছোঁয়ার ধান্দা তাইনা? এই শুনেন আমাকে ছুঁতে এলে আপনার কালা মানিক কেটে দেব।”

ঈশান হো হো করে হেসে উঠলো।
“তোমাকে এত কষ্ট করতে হবেনা সোনা। আমার আগেভাগেই খৎনা হয়ে গেছে। তোমাকে কষ্ট করে কাটতে হবেনা।”

লজ্জায় কান দিয়ে রীতিমতো ধোঁয়া বেরুতে লাগলো তিতলির। খ্যাঁক করে উঠলো সে।
“বেশরমা লোক চুপ করেন। ছিহ্ এসব বলতে লজ্জা করে না?”

ঈশান বত্রিশ পাটি দাঁত দেখিয়ে বলল।
“তোমার যদি খৎনার কথা বলতে শরম না করে তাহলে আমার খৎনা করা আছে বলতে শরম করবে কেন রংপুরের মাইয়া?”

তিতলি এক মূহুর্ত দাঁড়ালো না বেরিয়ে গেল। কি লাগামহীন লোক, শেষে কি-না বলছে কষ্ট করতে হবে না খৎনা করা আছে?


কাঠের তৈরি সেই ভগ্নপ্রায় বাড়িটা যেন সময়ের ভারে নুয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের অযত্ন আর অবহেলায় চারদিকে জীর্ণতার ছাপ স্পষ্ট। কাঠে জমে থাকা শ্যাওলা আর ফাটল ধরা।
তার ঠিক কিছুটা দূরে সারি সারি বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। সেসব বাড়ির জানালায় মৃদু আলো, উঠোনে শুকোতে দেওয়া কাপড়, আর দরজার আড়াল থেকে উঁকি মারা কৌতূহলী চোখ সব মিলিয়ে সেখানে জীবনের উপস্থিতি স্পষ্ট। ন্যান্সি সেদিকেই পা বাড়ায়।হাতে শক্ত করে ধরা একটি পুরোনো ছবি। ছবিতে সে নিজেই আছে, কিন্তু পাশে রয়েছে এক অপরিচিত পুরুষ। পরিচয় নেই, স্মৃতিও নেই। তবু ছবিটাই তাকে টেনে এনেছে এখানে। প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে মনে জেগে ওঠে অজানা কৌতূহল আর অদ্ভুত শূন্যতা। কে এই মানুষ? কেন তাদের ছবি একসাথে? উত্তর খুঁজে পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষাই তাকে অপরিচিত সেই বাড়িগুলোর দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে।

“ওয়েল, কুড ইউ টেল মি ইফ হি স্টিল লিভস ইন দিস হাউস? অ্যাকচুয়ালি, ফ্রম দা কন্ডিশন অব দা হাউস, ইট সিমস লাইক নো ওয়ান হ্যাজ লিভড হিয়ার ফর আ লং টাইম।”

বৃদ্ধা মহিলা মৃদু স্বরে বললেন।
“নো ওয়ান হ্যাজ লিভড হিয়ার ফর মেনি ইয়ার্স। অ্যান্ড দা ওয়ান হু ইউজড টু লিভ হিয়ার হ্যাজ প্রবাবলি মুভড টু স্পেন।”

“স্পেন?”

কপালে সূক্ষ্ম ভাঁজ পড়লো ন্যান্সির।
“ইয়েস, বিকজ হি ডিড সে দ্যাট হি লিভস ইন স্পেন।”

ন্যান্সি স্থির নেত্রে তাকিয়ে আছে, তাহলে আমেরিকায় এসে কি লাভ তার? সেই ঘুরে ফিরে তো আবারো স্পেনের সাথে সবটা জুড়ে যাচ্ছে!

চলবে………..।✨

(📌সবাই বেশি বেশি রেসপন্স করার চেষ্টা করবেন। আর হ্যাঁ #হৃদয়ের_রজনীগন্ধা বইটি রিলিজ হয়ে গেছে যারা অর্ডার করতে চান তারা যেকোনো বুকশপে অর্ডার করতে পারবেন।)

আমার আইডি লিংক Farhana Nijum

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply