Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৪


অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

পর্ব ৪৪

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)

❝নারী তুমি ভয়ংকর সত্তা,
নারী তুমি এক বহুরূপী বিপর্যয়
তোমার চোখে প্রলয়ের পূর্বাভাস, আবার আশ্রয়,
কখনো শানিত অস্ত্র, নীরবতায় র’ক্তক্ষয় ঘটাও,
কখনো ধ্বংসের প্রলয়কারী,কখনো তুমি পদ্মার গুড়ি
অবাধ্য, দুরন্ত, সীমাহীন।
ভাঙো পাড়, বদলে দাও মানচিত্র,
তবু তোমার বুকেই ফোটে শিশিরভেজা কোমলতা,
ফুলের মতো নতজানু, অথচ ছোঁয়ায় সর্বনাশ।
তুমি আশীর্বাদ ও অভিশাপের সহাবস্থান এক অনিবার্য নারী সত্তা।❞

কথাটা বোধহয় সত্য হলো তবে। আফরিদ সেদিন মিছে মিছে বলেছিল, নারী জাতি ভীষণ ভয়ংকর হয়! আজকে তাই সত্যি হলো।

সকালটা নিস্তব্ধ স্নিগ্ধতায় ভরে উঠেছে। ভেজা হাওয়ার স্পর্শে চারপাশ যেন নতুন রূপে সেজে উঠেছে। শিশিরে ভেজা ঘাসে সূর্যের প্রথম কিরণ লেগে মণিমুক্তোর মতো ঝলমল করছে। দূরে গাছের ডালে পাখিরা ডানা মেলে সুর তুলছে, প্রকৃতি তার কোমলতম রূপে ধরা দিয়েছে।

তবুও আফরিদের বুকের ভেতর জ্ব’লছে এক অব্যক্ত আ’গুন। বিষাদের আ’গুন। চারপাশের সব সৌন্দর্য তার চোখে আজ ফিকে হয়ে আছে। নীল আকাশও তার কাছে ধূসর, পাখির সুরও নিঃশব্দ। হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা যন্ত্রণা সকালের আলোতেও নিভতে জানে না।

বাহিরের পৃথিবী যতই স্নিগ্ধতায় ভরা থাকুক, তার অন্তরের অগ্নি’কুণ্ড ততই দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে।
চোখের কার্নিশ লাল হয়ে এসেছে , দাঁতে দাঁত পিষছে সে। পৈশাচিক মস্তিষ্ক কোনো কিছুতেই শান্তি পাচ্ছেনা। সিগারেট বের করে পাগলের মতো সেটাতে একের পর এক টান দিচ্ছে।
হাতে ধরে রাখা চিরকুটটা রয়েছে তার। সেখানে তার জানকি বাচ্চা লিখে গেছে।

❝মিস্টার আফরিদ এহসান , মাফিয়া কিং আফরিদ এহসান চলে যাচ্ছি আমি। ভুলেও খোঁজার চেষ্টা করবেন না আমাকে। আর হ্যাঁ খুব শীঘ্রই আমাদের দেখা হবে, তবে এভাবে নয় , অন্য ভাবে। আপনাকে ধ্বংস করতে নিজেকে নতুন করে সাজিয়ে তুলব। আর হ্যাঁ কাল যা হয়েছে আমাদের মধ্যে তা আপনার জন্য তোহফা ছিলো , আপনি চেয়েছেন কাছে আসতে আমিও আপনাকে কাছে টেনেছি। । খোদা হাফেজ।❞

বারংবার একই চিরকুট পড়ে চলেছে আফরিদ , মস্তিষ্কে আ’গুন জ্বলছে।‌ ন্যান্সির মাঝে এতটা বিভোর ছিলো আফরিদ যে অন্যকিছু নিয়ে ভাবেনি।‌ সে ঘুমিয়েছিল, তাকে ড্রাগস দেওয়া হয়েছিল।আর এই ড্রাগস যে তার বউ দিয়েছে তা সে জানে। সেই ড্রাগসের প্রভাবে শুধু ঘুমিয়েছে। দিন রাত ঘুমিয়েছে।
পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা ঈশান মৃদু স্বরে বলল।

“বস অলরেডি এয়ার পোর্টে গার্ড পাঠানো হয়েছে ,পুরো শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে ম্যাম কোনো মতেই বের হতে পারবে না। আর স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে উদ্যোগ থেকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে ম্যাম কে।”

এলোমেলো কোঁকড়ানো চুল গুলোতে হাত বুলায় আফরিদ। উঁহু মোটেও ঠিক হয়নি। সে একত্রে শাওয়ার নিতে পারেনি। বাসরের পর গুড মর্নিং কিস দিতে পারেনি। রাগে হিসহিসিয়ে বলল।

“শা’লী আমার তো মনই ভরে নাই, একসাথে শাওয়ার পর্যন্ত নেওয়া হলো না। শয়তানের ঘরের শয়’তান একসাথে শাওয়ার নিয়ে তার পর পালাতি।”

এরকম একটা পরিস্থিতিতে আফরিদের মুখে এমনতর কথায় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল ঈশান। মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি খেলে গেল, ঈশান চওড়া হেসে বলল,
“বস পোর্ট আর ক্যাবলের কি কানেকশন হয়েছে?”

চকিতে ফিরে তাকালো আফরিদ, রাগে চোখ দুটো থেকে যেন লাভা বের হচ্ছে। ঈশান থতমত খেয়ে বলল,
“না মানে আপনার গলায় ঘাড়ে যা দেখতে পাচ্ছি তাতে বোঝাই যাচ্ছে যে…

চট করে হাতটা গলায় চলে গেল আফরিদের।‌ বউ তার গলায় চমৎকার চিহ্ন এঁকে গেছে,যেই চিহ্ন দেখে যে কেউ বলবে নিশুতে রাতের অন্ধকারে স্ত্রী ভালোবেসেছে তার স্বামীকে।
আফরিদ বিড়বিড় করে আওড়ালো,
“মাই ডিয়ার পার্সোনাল পিরানহা ফিশ, নট ব্যাড।আই লাইক ইয়ু্র লাভ বাইটস।”

ঈশান গলা খাঁকারি বলল।
“বস আমাদের আইডিয়া কাজে লেগেছে তাইনা? পোর্ট আর ক্যাবল..

ততক্ষণ জুতো খুলে তার দিকে ছুড়ে মারলো আফরিদ,আহত বাগের ন্যায় চেঁচিয়ে উঠলো।
“কি তখন থেকে পোর্ট আর ক্যাবল নিয়ে পড়ে আছিস? শালা লুই’চ্চা!”

“আমি লুই’চ্চা আর আপনি মসজিদের ইমাম সাহেব?”

ভুলবশত মুখ ফসকে কথাটা বলে ফেলল ঈশান। আফরিদ অগ্নিদগ্ধ নয়নে তাকাতেই চুপসে গেল ।কথা পাল্টে বলল,
“এখন কি হবে বস? ম্যাম তো বের করতে হবে।”

“জাউরার ঘরের জাউরা কারফিউ জারি করে লাভ নাই বা’ল! ও আর এ দেশে নাই, অলরেডি আমেরিকার ফ্লাইটে রয়েছে।”

আফরিদের কথায় চমকে উঠে ঈশান।
“কিন্তু বস আপনি কি করে জানলেন?”

আফরিদ সিগারেট ফেলল, দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে বাঁকা হেসে বলল।

“অ্যাঞ্জেলিনা নিজের বুদ্ধিতে নয়, আমার বুদ্ধিতে চলে। ওর লাইফে কি করবে না করবে সবটা আমি ডিসাইড করব।”

ঈশান মৃদু হেসে ফেলল।
“কিন্তু আমেরিকা যাওয়ার কারণ কি বস?”

আফরিদ ঘাড় বাঁকালো।
“গাড়ি বের কর ঈশান বেরুতে হবে।”
🌿______🌿

“মম ,শুনেছো?”

মাইমুনা এহসান নখে নেইলপলিশ দিতে বড় ব্যস্ত, তাকে হেল্প করছে কল্পনা এহসান। তড়িৎ গতিতে তখন ছুটে এলো সাব্বির। তাকে ভীষণ ক্লান্ত দেখাচ্ছে সাথে চিন্তিত বডটে ।

“বড় ভাবী পালিয়েছে।”

খবরটা যেনো ছোটখাট বিস্ফোরণ ঘটায় ড্রয়িং রুমে। ব্যস্ত হাত থেমে গেল মাইমুনা এহসান এবং কল্পনার। সটান হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন তিনি, কিঞ্চিৎ সন্দিহান কন্ঠে বললেন,
“কি বলছো তুমি এসব সাব্বির?”

সাব্বির ঘেমে একাকার হয়ে আছে, গালে হাত বুলিয়ে বলল।
“সত্যি বলছি আমি।”

কল্পনা রীতিমতো আহাম্মক বনে দাঁড়িয়ে আছে।এই মেয়ের কলিজা আছে বলতে হবে, কিছুদিন পরপর পালিয়ে যায়। গিয়েছিল তো হানিমুনে এমন ভাব করেছিল সে আফরিদ এহসান কে ভালোবাসে।

“আমি জানতাম, আমি জানতাম ইলহাম এমন কিছুই করবে।” দাঁতে দাঁত চেপে বললেন মাইমুনা এহসান। রাগে শরীর কাঁপছে উনার। এই মেয়ের জন্য উনার বেটাথ এমন হয়েছে।
কল্পনা ন্যাকামি করে বলল,
“দেখলেন মম আমি কিন্তু আপনাকে বলেছিলাম ইলহামের এভাবে সেন্টমার্টিন যাওয়ার পিছনে নিশ্চয়ই বড় কোনো কারণ আছে।”

চোখ বুজে লম্বা নিঃশ্বাস ছাড়লেন তিনি, সাব্বির কে উদ্দেশ্য করে বললেন।
“আমার বেটা এখন কোথায় সাব্বির?”

সাব্বির আগের ন্যায় নিরেট স্বরে বলল।
“ভাই ফিরছে,তবে এখন কোথায় আছে বলেনি।”

দোতলায় ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে ক্রূর হাসলো নীলাদ্রি।সে তো অলরেডি খবর পেয়েছে ইলহাম ঠিক কোথায় আছে এখন!


আগুন্তক? বিশাল রিচার্স সেন্টারের টপ ফ্লোরে থাইগ্লাসের সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক অদ্ভুত সুদর্শন পুরুষ।
কালচে ডেনিম প্যান্টটা নিতম্বে ঢিলেঢালা বসে আছে, কোমরের কাছে হালকা ভাঁজ যেন অন্যমনস্ক এক বিদ্রোহের চিহ্ন। প্যান্টের ওপরের বোতামটা একটু আলগা, ভিতরের সাদা বেল্টলাইন চোখে পড়েছে অনিচ্ছাকৃতভাবে।
সে দাঁড়িয়ে আছে কাঁচের থাইগ্লাসের ঠিক পাশে। কাচে ভেসে ওঠা প্রতিবিম্বে তার শরীর দ্বিখণ্ডিত এক পাশে বাস্তব, আরেক পাশে ছায়া। দুটো মিলেও যেন পুরোটা ধরা দেয় না।
খোলা শার্টটা কাঁধে ঝুলে আছে,যার বুকের মাঝখানে আঁকা রয়েছে সূর্যের মতো চমৎকার এক ট্যাটু ‌। বুক থেকে পেট পর্যন্ত টানটান রেখাগুলো আলো-আঁধারের খেলায় স্পষ্ট, তবু অপ্রদর্শনীর সৌন্দর্য বজায় রেখে। তার এক হাত পকেটের কিনারায় ঠেকানো, আঙুলগুলো আলসেমিতে বাঁকানো। এটা কী ভয়ংকর এক সত্তা? হ্যাঁ নিকৃষ্ট, বিকৃত মস্তিষ্কের এক সত্তা।তার পৈশাচিক আনন্দ হচ্ছে মৃ’ত্যু নিয়ে খেলা!

সে জ্বলন্ত এক অগ্নিপিন্ড
ধ্বংসই যার আরেক নাম,
যার নিঃশ্বাসে ছাই হয়ে যায়
সভ্যতার মুখোশ পরা শান্তি।

অন্ধকারের জরায়ুতে লুকিয়ে থাকে
তার বিভৎস প্রমাণ ,
মোহ নাকি দ্রোহ?
সে নিজেই জানে না,
কারণ তার হৃদয়ে প্রেম আর বিদ্রোহ
একই ছুরির দুই ধার।

সত্য নাকি মিথ্যা?
সে প্রশ্নেরও ঊর্ধ্বে,
তার আত্মা বড়ই অদ্ভুত,
না সম্পূর্ণ নরক, না পুরো স্বর্গ;
এক ভাঙা নক্ষত্রের মতো,
যে আলো দেয় কেবল ধ্বংসের পথে।
সে আসে না –সে ঘটে।
আর তার ঘটনার নামই
এক নিঃশব্দ, নিস্তব্ধ
ভয়ংকর ইতিহাস।
সে যে অ্যাঞ্জেলিনার এক উন্মাদ দেবদাস
(কলমে ফারহানা নিঝুম। কপি নিষিদ্ধ।)

❝আফরিদ এহসান ইজ নট অ্যা নেম। হি ইজ অ্যা টেরোরিস্ট। অ্যা ড্রা’গ ডিলার, অ্যা স্মা’গলার।
অ্যা মাফিয়া কিং, এভরি কান্ট্রি ড্যান্সেস অ্যাট দা স্ন্যাপ অফ হিজ ফিঙ্গারস। হি ইজ দা মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল।❞

নিজেকে আবারো আবৃত করলো কালো হুডির আড়ালে। চোখের নীলাভ দৃষ্টি জোড়া ঢেকে ফেলতে চশমা লাগালো।

গাড়িতে ওঠেই চিরচেনা সেই ঈগল পাখির আংটিটা বের করে তর্জনী আঙ্গুলে পড়ে নিল আফরিদ। চোখে মুখে এক অদ্ভুত পৈশাচিক আনন্দ। ইশ্ তার পরাণ কতটা কথা শুনে তার। সব কিছু জানতে এতটা ফাস্টলি আমেরিকা পৌঁছে গেল?

ন্যান্সি কে লুসিফার এলেন ইদ্রানের ছবি দেখে শুরু করে এখন পর্যন্ত আগুন্তক সেজে যা যা করে এসেছে সে আর কেউ নয়। মুখোশের আড়ালে থাকা মানুষটি হচ্ছে আফরিদ এহসান। এখন ভয়ংকর নরপিশাচ, অন্ধকারের রাজা সে।

🌿____🌿

রিসার্চ সেন্টার
(হল রুম ২)

অহরহ গার্ডদের পায়ের শব্দে গমগম করছে করিডোর। চারপাশে মৃত্যুর মতো নীরবতা, তবুও প্রতিটি শিরা উপশিরায় টের পাওয়া যায় শীতল ভয়ের প্রবাহ। মুখে কালো মাস্ক, চোখে গাঢ় রঙের চশমা সেই অদৃশ্য আতঙ্ক যেন এক জীবন্ত ছায়ার মতো প্রবেশ করল রিসার্চ সেন্টারের ভেতরে আফরিদ এহসান। যাকে এখন পর্যন্ত সেন্টারের কেউ দেখেনি। তার ঠিক পিছনে রয়েছে ঈশান। সেও একটা মাস্ক পড়েছে।

লম্বা করিডোর পেরিয়ে সে এগিয়ে গেল লোহার কপাটে আটকানো সেই সেলে, যেখানে বন্দি মিস্টার আলবার্ট আর মিস্টার কামাল। সেলের ভেতরে শীতল বাতাস, অন্ধকারের ভেতর ঝাপসা আলো মিটমিট করছে। মিস্টার আলবার্ট শুয়ে আছেন, গুলির ক্ষ’ত এখনো শুকায়নি তার মুখের রেখায় মৃত্যুর চাপ স্পষ্ট।

ঠিক তখনই অচেনা কণ্ঠ ছিঁড়ে দিল গুমোট বার্তা।

“হ্যালো, জেন্টলম্যান।”

কণ্ঠের প্রতিটি অক্ষর যেন বরফশীতল ছু’রির মতো গেঁথে গেল বুকে। হঠাৎ করেই দু’জন বন্দির বুকের ভেতর কেঁপে উঠল ভয়ের ঢেউ। মিস্টার কামাল কুঁকড়ে তাকাল আতঙ্কিত নয়নে, তার শ্বাস যেন গলায় আটকে এলো। অথচ মিস্টার আলবার্টের দৃষ্টি ভিন্ন অতল গহ্বরের মতো গভীর। এতদিন ধরে প্রতারণার শি’কার তিনি, এখন আর ভয় পান না। কেবল জানেন এই আগন্তুক মৃ’ত্যু নিয়ে খেলা করে, আর আজকের রাত হতে পারে তাদের ভাগ্যনির্ধারক শেষ রাত।

মিস্টার আলবার্ট রাগে গজগজ করে উঠলেন।

“ইউ ব্লাডি, তুমি এতদিন মিথ্যে বলেছো।‌ সে মোটেও তোমার কাছে বন্দি নয়।”

মাস্কের আড়ালে থাকা আফরিদ হেসে ফেলল।
“ইউ আর জিনিয়াস মিস্টার আলবার্ট। একমাত্র তুমিই ধরতে পেরেছো সে আমার কাছে নেই।”

মিস্টার আলবার্ট রাগে গজগজ করে উঠলেন আবারো।

“একবার এখান থেকে মুক্তি পাই এরপর তোমাকে শেষ করে দেব আমি। তুমি তো ভীতু তাই তো এত বছরেও সামনে আসোনি আর না নিজের পরিচয় দিয়েছো!”

বাঁকা হাসলো আফরিদ , মৃদু স্বরে বলল।
“যেদিন আমাকে তুমি দেখার সুযোগ পাবে, সেদিন তোমার মৃ’ত্যু নিশ্চিত জেনে রেখো মিস্টার আলবার্ট। গুড বায়।”

মন্টু দাস আর গোলাম মোস্তফা আবারো দু’জন কে বন্দি করে দিলো সেলে।
মিস্টার কামাল চিৎকার করে বলতে লাগলেন।
“আমাদের মুক্তি দাও।”

শুধু তারাই নয় ভালো সব গুলো সায়েন্টিস্ট কে বন্দি করে দিয়েছে সেলে।

রিসার্চ সেন্টারের এক নাম্বার হলে চলে গেল আফরিদ ,পিছু পিছু ঈশান গিয়েছে।
আফরিদ তার দিকে তাকাতেই হাতে থাকা ফোনটা এগিয়ে দিলো সে।
🌿🌿
সবে আমেরিকার এয়ার পোর্টে নেমেছে ন্যান্সি।
বুকটা ভেতরের উত্তেজনা সামলাতে না পেরে চলে এসেছে ঠিকই, কিন্তু কোথায় থাকবে কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না।
এখানে এসেই সর্বপ্রথম নাম্বার টা চেঞ্জ করেছে ন্যান্সি। না জানি কখন আফরিদ এহসান তাকে খুঁজে নেয়।

ফোনের টুং টুং শব্দে আঁতকে উঠল ন্যান্সি। অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসছে ,কি আশ্চর্য এ নাম্বারে আবার কে কল করছে?

“হ্যালো?”

“ওরে শাউ’য়্যার নাতি , কু’ত্তার বাচ্চা, জা’নোয়ারের বাচ্চা , শা’লী মা’তারি একটা । এত বড় কলিজা তোর?”

নিজের উপর আসা গা’লি গুলো শুনে ওষ্ঠো ফাঁক হয়ে ন্যান্সির। বউকে অসভ্যের মতো গালাগালি করা একমাত্র এহসান ছাড়া আর কেউই নয়।

“আফরিদ এহসান!”

“তোমার বা’ল।”

নাক মুখ কুঁচকে নিল ন্যান্সি ,লোকটা ঠিকই ফোন নাম্বার খুঁজে নিয়েছে।
“মুখ সামলে কথা বলুন। কেন কল করেছেন হ্যাঁ? কি সমস্যা? চিরকুট ধরিয়ে দিছি পড়েন নি?”

আফরিদ দাঁতে দাঁত পিষে , রাগটা মস্তিষ্কে চাপ প্রয়োগ করছে।
“র’ক্ত চু’ষি ডাইনি কোথাকার , শাওয়ার নেই নি আমি তোর সাথে। শা’লী একসাথে শাওয়ার না নিয়ে চলে এসেছিস? আর আমার এই তোহফা প্রত্যেক দিন চাই। আই ওয়ান্ট টু ফা’ক ইউ এগেইন ইয়ার।”

কান দিয়ে রীতিমতো ধোঁয়া বের হচ্ছে ন্যান্সির। কতটা অস’ভ্য এই লোক!

“চুপ করুন বেয়াদব লোক , আল্লাহ আপনার মুখে গজব ফেলতে পারেন না?”,

ঠোঁট উল্টে ফেলল আফরিদ। ফোনটা স্পিকারেই ছিলো। ন্যান্সির কথায় হো হো করে হেসে উঠলো ঈশান।
“না পারেনা।তোর খোদা তায়ালা আমাকে মোহাব্বত করে।”

ন্যান্সি রাগে গজগজ করে বলল,
“আমি যা করেছি বেশ করেছি, আপনি কি ভেবেছেন আমি বোকা?”

আফরিদ ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো অতঃপর বলল।
“না তুই বোকা হবি কেন?তুই তো বা’ল পাকনা তালগাছ।”

ন্যান্সি ফোঁস ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছেড়ে আশেপাশে তাকালো। ততক্ষণ শ্রবণগোচরে ভেসে এলো শীতল কন্ঠস্বর।
“পেটে ব্যথা করছেনা অ্যাঞ্জু?”

সু মসৃণ কপালে দৃঢ় ভাঁজ পড়লো ন্যান্সির। ফেলে চলে এসেছে তারপরেও বলছে পেটে ব্যথা করছে কি-না! মানুষ এত বহুরূপী হয় কিভাবে? এতটা অশ্লীল কিভাবে হতে পারে কেউ?

“জা’নোয়ার কোথাকার পেটে ব্যাথা হোক,পিঠে ব্যথা হোক তাতে তোর সমস্যা কি? দ্বিতীয়বার কল দিলে মে রে দেব।”

আফরিদ হেসে ফেলল।
“ইশ্ মা’তারি রেএএ । সাহসের তারিফ করতে হয় জানকি বাচ্চা। তুই দেশ ছেড়েছিস তার মানে এটা নয় আমাদের থেকে বেঁচে গেছিস, লাইফ তোর কিন্তু রুলস আমার। তোর শরীরে যেনো একটা ফুলের টোকাও না লাগে আই রিপিট একটা ফুলের টোকাও যেনো না লাগে।”

ন্যান্সি রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলে উঠে।
“আমার শরীর কে ভালোবাসেন মন কে না?”

আফরিদ একপেশে বলল।
“মন ধুয়ে পানি খাবো আমি? তোর মনের দরকার নাই আমার। বেক্কলের ঘরের বেক্কল।”

ন্যান্সি হাঁ হয়ে গেল,কার সাথে ছিলো এতদিন? বেয়াদব লোক একটা।
“আমি আপনাকে মে’রে দেব খোদার কসম!”

“আর ইউ শিওর যে তুই আমার সাথে লড়তে পারবি? তাহলে চল এক ম্যাচ খেলা যাক।”

ন্যান্সি স্থির নেত্রে তাকিয়ে আছে দূর আকাশের দিকে। আফরিদ আবারো খ্যাঁক করে উঠলো।
“চরিত্রহীন মাইয়া, নষ্ট মাইয়া। তুই নষ্ট হয়ে গেছিস।”

ওষ্ঠো কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে ওঠে ন্যান্সির। ধরাশায়ী গলায় বলল।
“যেই ছেড়ে এলাম ওমনি চরিত্রহীন হয়ে গেলাম? নষ্ট হয়ে গেলাম?”

আফরিদ সিগারেটে লম্বা একটা টান দিয়ে আকাশমুখো হয়ে ধোঁয়া ছেড়ে বলল,
“আমার সাথে যেহেতু শুয়েছিস তাহলে তো নিশ্চয়ই নষ্ট হয়ে গেছিস। তোর কাছে তো আমি নষ্ট পুরুষ তাহলে আমি ছুঁয়েছি তুইও নষ্টা।”

ফোনটা টুস করে কেটে সিম কার্ড টা ভেঙ্গে ফেলল ন্যান্সি। আফরিদ যেকোনো সময় তাকে পাকড়াও করার চেষ্টা করবে কিন্তু ন্যান্সি ধরা দিতে নারাজ। কাফের, নিকৃষ্ট এক সত্তার সহিতে বসবাস করা মূর্খতা ছাড়া কিচ্ছু নয়!

“ঈশান সিসি টিভি ফুটেজ অন কর।”

ঈশান ঠিক তাই করলো , আমেরিকার এয়ার পোর্টে লাগানো সিসি টিভি ফুটেজ দেখে চলেছে সে। মাফিয়া কিং আফরিদ এহসান সে, পারে না এমন কিছু নেই তার কাছে।
এয়ার পোর্ট এড়িয়া থেকে বেরিয়ে পড়লো ন্যান্সি। আফরিদ চুল গুলো খামচে ধরে , রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল।

“শালী মাতারি রেএএ থাকবি কোথায়? ঈশান থাকার ব্যবস্থা কর আমার বান্দির। আমার ভোলাভালা বউটার যে কি হবে!”

ওষ্ঠো বাঁকিয়ে হাসলো ঈশান।
“হয়ে যাবে বস।”

আফরিদ কক্ষ কাঁপিয়ে হেসে উঠলো। তার হাসির চোটে সবকিছু যেন থমকে আছে। বিড়বিড় করে আওড়ালো,
“তুই বোকা না অ্যাঞ্জেলিনা। তুই আমার অতি চালাক বান্দি।”

🌿____🌿

আমেরিকার…
কুয়াশা মাখা ভোর। আলোয় চারিদিকে ঝলঝল করে উঠেছে।ডান দিকের নাম না জানা গাছটায় কিছু অতিথি পাখি বসে আছে। মৃদু হাওয়া দুলছে গাছের পাতা গুলো।হাড় কাঁপানো এই ঠান্ডা।
বিল্ডিং আর গাছপালাগুলো যেন ধোঁয়াটে আবরণে জড়ানো
বেডের মধ্যখানে শুয়ে আছে স্মাইলি প্রিন্সেস দ্রিশা।পাশের বড় কাউচের উপর বসে আছে লুসিফার এলেন ইদ্রান। অপেক্ষার প্রহর গু’নে চলেছে সে। তার প্রিন্সেসের নিদ্রা ভঙ্গ হবে কখন?
একটুখানি নড়েচড়ে উঠলো স্মাইলি।আধো আধো চোখ মেলে তাকাতেই নজরে এলো ফকফকা পরিষ্কার ছাদটা। হাত চলে গেল কপালে। মাথাটা প্রচন্ড রকম ব্যথা করছে তার।
হাতে চাপ দিয়ে একটুখানি কষ্ট করে উঠে বসালো স্মাইলি। আকস্মিক চমকে উঠে লুসিফার কে বসে থাকতে দেখে। তাকিয়ে রইল ক্ষণকাল, অতঃপর ব্যস্ত পায়ে উঠে এগিয়ে গেল তার দিকে।লুসিফার উঠে দাঁড়াতেই বুকে এসে ঝ’ড়ের গতিতে হা’মলে পড়ে স্মাইলি।
“আপনাকে খুব বেশি মিস করেছি চার্ম।”
“মিস ইউ টু মাচ প্রিন্সেস।”

একটুখানি প্রেমের আলিঙ্গন। দু’জনের মধ্যে গভীর স্পর্শ। ভালোবাসার এই মূহুর্ত হারাতে চায় না স্মাইলি।যতটা সম্ভব আগলে রাখে লুসিফার কে। সংকুচিত স্বরে বলে উঠে।
“আমাকে ছেড়ে যাবেন না চার্ম। প্রমিজ করুন কখনো যাবেন না?”

প্রত্যুত্তরে কিছু বললো না লুসিফার এলেন ইদ্রান।ঘাবড়ালো স্মাইলি,বক্ষ ভাঁজ হতে মুখ তুলে দৃষ্টি ফেলল সুদর্শন লুসিফার মুখ পানে। ঝাঁপসা দৃষ্টি তার।চমকালো স্মাইলি। নিজের চোখ ডলে আবারো দেখার প্রয়াস চালায় ,অথচ লুসিফার মুখশ্রী বাদে বাকি সব কিছু পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে সে।

“আমি আপনাকে দেখতে পাচ্ছি না চার্ম।কী হচ্ছে এটা? আমি দেখতে পাচ্ছি না তো!”

ধীরে ধীরে লুসিফার সরে যেতে লাগল। স্মাইলি প্রাণপণে চেষ্টা চালায় তাকে ধরে রাখতে।
“চার্ম প্লিজ যাবেন না। আমি একা হয়ে যাব চার্ম প্লিজ থেকে যান। চার্ম!”

অদ্ভুত সব কিছু, ক্ষণিকের মধ্যে ধোঁয়াশায় মিলিয়ে গেল লুসিফার। আঁধারে ঢেকে গেল সবটা।চোখ গড়িয়ে অশ্রু কণা গড়িয়ে পড়ল স্মাইলির। চিৎকার করে উঠলো সে,বুকের বাঁ পাশে তীব্র য’ন্ত্র’ণা অনুভব করছে সে।যা চিৎকারে রূপ নিয়েছে।

“চার্ম, চার্ম প্লিজ চার্ম। চার্ম!”

চলবে………..✨।

(😨লেখিকা পলাতক হয়েছে আপাতত।)

(📌আগুন্তককে রিভিল করার জন্য এটাই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ছিলো 🫣সবাই রেসপন্স করবেন বেশি বেশি। প্রশ্ন করুন উত্তর দেব আর হ্যাঁ এখন থেকে মেইন প্লটে ঢুকে গেলাম, সামনে আরো ধামাকা রয়েছে।)

(📌 এবার পরিচিত হবেন ইদ্রানের সাথে)

(📌 আফরিদ কে ভয়ংকর ভাবে প্রেজেন্ট করার জন্য কবিতা এবং ন্যান্সি কে ভয়ংকর নারী প্রমাণের জন্য দু’টো উপরের লাইনগুলো লেখা হয়েছে।কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply