অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
লেখিকাফারহানানিঝুম
(🚫 পর্বটি রোমান্টিক যারা পছন্দ করেন না তারা দয়া করে শেষের অংশ এড়িয়ে যাবেন। যেহেতু শুরুতেই এলার্ট দেওয়া ছিল।)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
“অ্যাঞ্জু,পাগল করে দিচ্ছিস!”
সিঁড়ি ভেঙে নিচে এলো ন্যান্সি, সম্মুখে আফরিদকে দেখে ফিক করে হেসে ফেলতে বাধ্য হলো। ওই যে সফেদ রঙা শার্টটা উল্টো পড়ে আছে।
সদ্য ঘুম থেকে ওঠা পুরুষটির চোখে এখনো তন্দ্রার আবেশ লেগে আছে। চৈতন্য ফেরার পর নিজের পাশে নিষ্পাপ সত্তা কে দেখতে না পেয়ে হুড়মুড়িয়ে উঠে দাঁড়ালো আফরিদ,তখন থেকে পুরো ম্যানর খুঁজে ফেলল। ততক্ষণ সিঁড়ি বেয়ে ন্যান্সি কে নিচে আসতে দেখে অস্থির মন স্বস্তি পায়।
কপাল জুড়ে চিন্তার রেখা স্পষ্ট হলো , আফরিদ আশ্চর্য হলো বটে। মেয়ে মানুষ বড়ই জটিল প্রকৃতির মানুষ। এইযে হাসছে, আশ্চর্য কাল পর্যন্ত কেঁদে কেঁদে বন্যা বানিয়ে ফেলেছে। এখন আবার হাসছে , আফরিদ নিজের দিকে তাকিয়ে কিঞ্চিৎ ভড়কালো। এইযে পরণে শার্ট টা উল্টো পরে আছে তাই এমন হাসছে। আফরিদ চটজলদি শার্ট টা খুলে সোজা করে পড়ল , নিচের তিনটে বোতাম লাগিয়েছে শুধু।
আফরিদ ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্যের সহিতে বিড়বিড় করে আওড়ালো।
❝নারী তুমি ভয়ংকর সত্তা,
নারী তুমি এক বহুরূপী বিপর্যয়
তোমার চোখে প্রলয়ের পূর্বাভাস, আবার আশ্রয়,
কখনো শানিত অস্ত্র, নীরবতায় র’ক্তক্ষয় ঘটাও,
কখনো ধ্বংসের প্রলয়কারী,কখনো তুমি পদ্মার গুড়ি
অবাধ্য, দুরন্ত, সীমাহীন।
ভাঙো পাড়, বদলে দাও মানচিত্র,
তবু তোমার বুকেই ফোটে শিশিরভেজা কোমলতা,
ফুলের মতো নতজানু, অথচ ছোঁয়ায় সর্বনাশ।
তুমি আশীর্বাদ ও অভিশাপের সহাবস্থান এক অনিবার্য নারী সত্তা।❞
ন্যান্সি ছুটে এসে গলা জড়িয়ে ধরে আফরিদ কে। আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে তাকে।
“কি ব্যাপার মিসেস এহসান, এত ভালোবাসা?”
ন্যান্সি মিনমিনে গলায় বলল।
“বলছিলাম যে এহসান আমি যদি এখন বলি আপনি কাছাকাছি আসুন তাহলে কি করবেন?”
আফরিদ ন্যান্সি কে একহাতে শক্ত করে টেনে নিজের সাথে চেপে ধরে। নগ্ন পায়ের উপর ন্যান্সির পায়ের ভর রাখল। আফরিদ চোখে চোখ রেখে শান্ত স্বাভাবিক ভাবে বলল।
“তাহলে আমি হার্ট অ্যাটাক করব, ম’রে যাবো বাঁচাতে পারবেনা কেউ!”
ন্যান্সি খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো আফরিদের, সঙ্গীত শুনে।
বেসমেন্টের সিঁড়ি বেয়ে নামতেই বাতাসে ভেসে আসছে ভারী হয়ে আসে লোহার গন্ধ, পুরনো আর্দ্রতা, আর নীরবতার মধ্যে জমে থাকা এক অদ্ভুত শিহরণ। লা’শগুলো অনেক আগেই নিথর হয়েছে; সময় তাদের র’ক্তকে মুছে দেয়নি, কেবল রং বদলে দিয়েছে। খণ্ড খণ্ড সেই অস্তিত্বহীন দেহাংশগুলো নিয়ে আফরিদ এহসান যখন ঘরে পৌঁছায়, তার চোখে পড়ে তীর্যক ,ধারালো সেই চাহনি। মানুষটাকে অদ্ভুত লাগে না, বরং অস্বস্তিকর; তাকে দেখলেই বোঝা যায়, এহেন ভয়ংকরকে ধরা যায় না সে ধরা দেয় না।
বুটের শব্দে বেসমেন্ট কেঁপে ওঠে। প্রতিটি পদচারণা যেন দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসে, সাক্ষী রাখে যা ঘটেছে। গোডাউনের সেই লোকগুলো যাদের ভাগ্য আফরিদ এহসানের হাতে শেষ হয়েছে এখন স্মৃতির মতো ছড়িয়ে আছে এই ঘরে।
ভেতরে ঢুকেই তার দৃষ্টি আটকে যায় আলিয়াজে। চিরচেনা অভ্যাসে নিজের হাত কামড়াচ্ছে সে খিদের নয়, এক অমানবিক তৃষ্ণার অস্থিরতা। নরখাদক মনুষ্যত্বের সীমা ছাড়িয়ে গেলে যেমন হয়, তেমনই এক উন্মাদ অপেক্ষা তার চোখে।
আফরিদ এহসান তাকিয়ে থাকে, তারপর ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি আঁকে। সেই হাসিতে উষ্ণতা নেই আছে শীতল প্রত্যয়। যেন অন্ধকারের সঙ্গে তার চুক্তি বহুদিনের।
“ভালো আছো মিস্টার আলিয়াজ?”
শিকল বাঁধা হাত দুটি আলিয়াজের, হয়তো খোলা থাকলে এতদিনে শেষ করে দিতে চাইতো মাফিয়া কিং কে!
“আমি কতটা হিংস্র তা কিন্তু তুই ভালো ভাবেই জানিস এহসান! তুই নিজে আমাকে গড়েছিস!”
আফরিদ চমৎকার হাসলো , চেয়ার টেনে বসলো ঠিক আফরিদ সামনে। পায়ের উপর পা নাচিয়ে হিসহিসিয়ে বলল।
“আমি গড়েছি আমিই ধ্বংস করব।ভুলবে না আমি কে,কি আমার পরিচয়!”
আলিয়াজের দিকে মাংস গুলো ছুঁড়ে দিতেই সেগুলোর উপর হামলে পড়ে লোকটা। বয়স তো হয়েছে অনেক, তবে কত হওয়া সম্ভবনা? অদ্ভুত! সবটাই অদ্ভুত।
“আর কতজনকে শেষ করবি তুই আফরিদ?”
আফরিদ নিটল কন্ঠে বলে উঠে,
“তাকে বাঁচাতে যতজনকে শেষ করতে হয়।”
আলিয়াজ হাসলো।
“গোটা পৃথিবী?”
আফরিদ একই ভঙ্গিতে বলে উঠে,
“প্রয়োজনে গোটা পৃথিবীর সকল কে ধ্বংস করব শুধু তার জন্য।”
আলিয়াজ কর্দয হেসে বলল।
“কখনো যদি সে তোর ধ্বংসের কারণ হয় তবে?”
এযাত্রায় ক্রুর হাসলো আফরিদ, তৃপ্তির সাথে বলল,
“ধ্বংসের কারণ হবে কিনা জানিনা তবে এই মুহূর্তে আমার বেঁচে থাকার একমাত্র কারণ অ্যাঞ্জেলিনা।”
আলিয়াজ দুঃখ প্রকাশ করে বলল।
“তোর জন্য আমার বউটাকে খেয়ে ফেললাম।”
আফরিদ পিছন হটল বেরুনোর উদ্দেশ্যে। যেতে যেতে বলল।
“আমি কখনো বলিনি খাওয়ার কথা, নিজের ক্ষুব্ধ মেটাতে তাকে আহরণ করেছো বৎস।”
আফরিদ নিষ্প্রভ, প্রলয়ের আরেক নাম।
গুনে গুনে আজ তিনদিন হয়েছে ন্যান্সি এহসান মঞ্জিলে এসেছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় মাইমুনা এহসান বাড়িতে নেই আর না আছে নীলাদ্রি। বাড়িতে শুধু সাব্বির আর কল্পনা রয়েছে।
ন্যান্সি অন্যদের কথা ভাবছে না ,সে ভাবছে স্পেনের কথা। লুসিফার এলেন ইদ্রান,আফরিদ এহসান, আগুন্তক?
তিনটা মানুষ , তিনটে নাম। দু’টো জানা একটি অজানা। আশ্চর্যের বিষয় এত দিন ন্যান্সি আফরিদ কে ভেবেছিল আগুন্তক কিন্তু না। যদি সে না হয় তবে কি লুসিফার এলেন ইদ্রান? কিন্তু সে তো স্পেন তাহলে কিভাবে সম্ভব? নাকি তৃতীয় কেউ আছে যে এসব করছে?
ভাবতে ভাবতে লাকেজে পাসপোর্ট এবং আরো কিছু জরুরী কাগজপত্র ঢুকিয়ে নিল।
ড্রয়িং রুমে আসতেই দেখতে পেলো তিতলি আর ঈশান দাঁড়িয়ে আছে।
তিতলি এই বুঝি চোখ দিয়েই ঈশান কে ভস্ম করে দেবে।
“এই লুইচ্চা ছেলে মানুষ এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?”
ঈশানের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো , দাঁতে দাঁত পিষে বলে।
“এই রংপুরের মাইয়া নাটক কম করো। তোমার কি মনে হয় আমি সারাদিন তোমাকে দেখতে থাকি?”
তিতলি রাগে ফুঁসতে থাকে , মন চাচ্ছে লোকটাকে আচ্ছা মতো মারতে তারপরেও যদি শিক্ষা হয়।
“আমি জানি না ভাইয়া কি দেখে আপনার মতো বেহায়া লোকের সাথে আমার বিয়ে ঠিক করেছে!”
ঈশান তেড়ে এলো তিতলির দিকে ,পকেট থেকে রিভলবার বের করে ডিরেক্ট কপালে ঠেকায়।
“আর একটা বাজে কথা বললে এখানেই শেষ করে দেব।”
হকচকিয়ে গেল তিতলি। ঈশান কে রেগে যেতে দেখে ধুমধাম পা ফেলে নিচে এলো ন্যান্সি ।
“আরে আরে ফাইট করছেন কেন আপনারা? ঈশান ভাইয়া এটা কি করছেন?”
ঈশান তড়িঘড়ি করে রিভলবার টা পকেটে ঢুকিয়ে নিল। তিতলি অসহায় মুখ করে বলল।
“এই লোকটাকে আমি বিয়ে করব না ইলহাম আপু।”
ন্যান্সি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো ঈশানের দিকে। ঈশান ফোঁস করে একটা নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল।
“সরি।”
ব্যস আর কি চাই? তিতলি ওষ্ঠো বাঁকিয়ে হেসে ফেলল। ন্যান্সি দুজন কে দেখে নিল , ওদের ছাড়া সে থাকবে কি করে?
“হায় মেরি বান্দি।”
পিছন থেকে আফরিদের কন্ঠস্বর শুনে কিঞ্চিৎ বিচলিত হয় ন্যান্সি। গভীর দৃষ্টিতে তাকালো আফরিদের দিকে। একটা সাদা শার্ট তার উপর ব্লেজার টা রয়েছে ,একদম পরিপাটি ভাবে নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছে।
ন্যান্সি সূক্ষ্ম নিঃশ্বাস ছেড়ে ভীত কন্ঠে বলল।
“আমার কিছু চাই।”
আফরিদ সবে টেবিলের উপর থেকে পানির গ্লাস টা তুলেছিল। ন্যান্সির কথায় হাত থেমে গেল তার।
“কি চাই বল।”
ন্যান্সি আড়চোখে দেখে আফরিদ কে ,তার নীলাভ মনি জোড়ায় চোখ মেলাতে পারে না। ভীতু মেয়েটা আমতা আমতা করে বলল।
“দূরে ঘুরতে যেতে চাই। সমুদ্রের ধারে।”
ব্যস এটুকুই। আফরিদ হাসে। স্বভাবিক গলায় বলল,
“পালানোর ধান্দা?”
ন্যান্সি নত মস্তকে দাঁড়িয়ে আছে , ঠোঁটে ঠোঁট রেখে লম্বা নিঃশ্বাস টেনে বলে।
“এ বাড়িতে আমি বিরক্ত হচ্ছি।”
আফরিদ কিছু বলল না , পানিটা সম্পূর্ণ শেষ করলো। অতঃপর প্যান্টের পকেট থেকে সিগারেট বের করে সেটা জ্বা’লিয়ে ঠোঁটে গুঁজে। লম্বা একটা টান দিয়ে বলে।
“রেডি হয়ে নে , আমরা আজকেই যাবো।”
আফরিদ যে এত সহজে মেনে নেবে কল্পনা করেনি ন্যান্সি। তবে তা ন্যান্সির জন্য ভালো।
“তিতলি আর ঈশান ভাইয়া যাবেনা?”তিতলি উত্তেজিত হয়ে হ্যা বলতেই যাচ্ছিল ততক্ষন হাতটা চেপে ধরে থামিয়ে দিলো ঈশান। চাপা স্বরে বলল।
“ওদের স্পেস প্রয়োজন। আমরা অন্য কোনো সময় যাব।”
ঈশানের দিকে মন্ত্র মুগ্ধ নয়নে তাকালো তিতলি , উঁহু লোকটা মন্দ নয় মোটেও।
🌿________🌿
সেন্টমার্টিন দ্বীপ।
বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ যেখানে ভোরগুলো অন্য রকম করে ধরা দেয়। রাতের অন্ধকার সরতে না সরতেই পশ্চিম সৈকত জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে নরম আলো। সাগরের জল তখনো ঘুমজড়ানো, ঢেউগুলো যেন ইচ্ছাকৃতভাবে ধীর হয়ে এসেছে, কারও ঘুম ভাঙাতে চায় না। ভেজা বালুর উপর সূর্যের প্রথম আলো পড়ে ঝিকমিক করে, ছোট ছোট প্রবালখণ্ড আর শামুকের খোলস চোখে পড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে।
দ্বীপের উত্তর দিকে, গুলিয়ার চর সংলগ্ন সৈকতে বাতাসটা একটু বেশি খোলা। এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে মনে হয় আকাশ আর সাগর একে অপরের সঙ্গে গোপনে কথা বলছে। দূরে দেখা যায় সারি সারি মাছ ধরার নৌকা কেউ ফিরছে রাতের পরিশ্রম শেষে, কেউ আবার সবে যাত্রা শুরু করেছে দিনের জীবিকার খোঁজে।
সমুদ্রের পারে দাঁড়িয়ে আছে ন্যান্সি , চুল গুলো তার বাতাসে এলোমেলো হয়ে উড়ে বেড়াচ্ছে।
পরণে ঘের দেওয়া লম্বা টপস টা উড়ছে সেই সাথে সাথে।
“ওমাই গড অ্যাঞ্জেলিনা তুই আবার পানিতে ঝাঁপ দিয়ে সুইসাইড করতে চাচ্ছিস?”
আফরিদের বেহুদা কথায় বিরক্ত হলো ন্যান্সি। প্রচন্ড রাগ নিয়ে হিসহিসিয়ে বলল।
“চুপ করুন না একটু।”
আফরিদ হেসে ফেলল ,ঠিক পিছনে এসে দাঁড়ায় ন্যান্সির।
“আমার পরাণ,তুই কি আমাকে ভয় পাস না?”
“না পাই না। ভয় সব উড়ে গেছে। আর সবচেয়ে বড় কথা আপনি বাগ নাকি ভাল্লুক যে ভয় পাবো?”
আফরিদ নিশ্চুপ রইল কিয়ৎক্ষণ। এরপর প্যান্টের পকেটে হাত গুঁজে টান টান ভঙিতে দাঁড়ায়। নীলাভ দৃষ্টি তার ওই সমুদ্রে নিবদ্ধ।
“পরাণ আমার ভালো হয়ে যা। বেয়াদব কোথাকার , জামাইয়ের সাথে কথা বলতে জানিস না।”
ন্যান্সি নির্বাক আকস্মিক উল্টো হাঁটতে লাগলো। ডিরেক্ট রিসোর্টের ভেতরে যাবে। কিন্তু তা তো হতে দিলোনা বেয়াদব, নষ্ট পুরুষ। একহাতে পেঁচিয়ে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিল। হাস্কিটুনে বলে উঠে।
“রাগছিস কেন?”
“ভালো লাগছেনা। ইচ্ছে পূরণ হচ্ছে না।”
“কি ইচ্ছে?”
কিছুক্ষণ চুপ রইল ন্যান্সি, অতঃপর নিজেই আফরিদের দিকে ফিরে গলা জড়িয়ে ধরে। মৃদু হেসে বলল।
“একটা কটেজ থাকবে, সুন্দর করে সাজানো থাকবে। আমি সাদা একটা গাউন পড়ব , আপনি সাদা শার্ট এবং প্যান্ট পরবেন। ওখান থেকে পুরো সমুদ্র দেখা যাবে।ওই যে উঁচু জায়গাটা ওইরকম জায়গায় কটেজ থাকবে।”
আফরিদ শুনলো, ন্যান্সির আঙ্গুল দেখিয়ে দেওয়া জায়গার দিকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে একপল দেখে ফের ন্যান্সির নিষ্পাপ মুখখানি দেখে নিলো।
“ব্যস এটুকুই?”
ন্যান্সি উপর নিচে মাথা দোলায়। এটুকুই চাই তার!
🌿
সেন্টমার্টিনের পশ্চিম সৈকত ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে একটি নিরিবিলি রিসোর্ট “সান অ্যান্ড স্যান্ড টুইন বিচ রিসোর্ট”। দ্বীপের কোলাহল থেকে খানিকটা দূরে, অথচ সমুদ্রের এতটাই কাছে যে জানালা খুললেই নীল জল চোখে এসে পড়ে। রিসোর্টটির কাঠের কাঠামো আর সাদামাটা নকশায় কোনো আড়ম্বর নেই; আছে শুধু প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকার এক নিঃশব্দ সৌন্দর্য
ন্যান্সি হাতে ধোঁয়া ওঠা এক কাপ কফি নিয়ে জানালার ধারে এসে বসল। জানালা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে সমুদ্রপাড়ের সেই রিসোর্ট অবারিত ঢেউয়ের শব্দ যেন সঙ্গীতের মতো এসে বাজছে কানে।
এই পুরো রিসোর্টটি বুক করেছে আফরিদ এহসান যেন পৃথিবীর ভিড়ভাট্টা থেকে দূরে তারা একান্তে থাকতে পারে।
সন্ধ্যা নেমেছে কিয়ৎক্ষণ পূর্বেই..
অফ-শোল্ডার কাটে উন্মুক্ত কাঁধ দুটো আলোর মতো কোমল, আর তার নিচে স্বচ্ছ সাদা জালের লং স্লিভ যেন সকালের শিশির গায়ে মাখা। পুরো উপরের অংশটা সূক্ষ্ম নকশার কাপড়ে তৈরি, আলো পড়লে যার ভেতর দিয়ে মৃদু ঝিলিক খেলে যায়।
কোমরের কাছে এসে পোশাকটা নিখুঁতভাবে ছাঁটা সেখান থেকেই শুরু হয়েছে স্কার্টের রাজত্ব। প্রশস্ত, ভারী আর মসৃণ কাপড়ে তৈরি স্কার্টটা নিচের দিকে যত নামে, ততই তার ভাঁজে ভাঁজে গড়ে ওঠে আভিজাত্য।
“হ্যাপি?”
আফরিদ অদ্ভুত, ন্যান্সির ইচ্ছে পূরণ করেছে , দ্বীপের উঁচু জায়গাটায় চলে এসেছে।
দ্বীপের একটু উঁচু অংশে, আলেপ্পোর দিক ঘেঁষে একটি নিরিবিলি হিল-টপ কটেজ আছে। সাগরের একদম ধারে নয়, আবার খুব দূরেও না ঠিক এমন জায়গায়, যেখান থেকে রাতের সমুদ্র দেখা যায় নীরবে। কটেজটা কাঠ আর বাঁশের নকশায় বানানো, চারপাশে ছোট ছোট লণ্ঠন ঝুলছে। সন্ধ্যা নামলেই হলুদ আলো জ্বলে ওঠে, পুরো জায়গাটাকে করে তোলে স্বপ্নিল।
“থ্যাংক ইউ এহসান।”
আফরিদ ঠোঁটে ঠোঁট চেপে হাসলো। আফরিদের হাত ছেড়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেল ন্যান্সি। এখান থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সমুদ্র।
আফরিদ দু’হাতে প্যান্টের পকেটে গুঁজে দাঁড়িয়ে আছে। বুকের দুটো বোতাম খুলে দেওয়া।
ন্যান্সি হাস্যোজ্জ্বল স্বরে বলল।
“আফরিদ?”
“হুঁ।”
“আফরিদ?”
“ইয়েস প্রিন্সেস।”
“আফরিদইই?”
“বলুন ওয়াইফি।”
“উঁহু, আফরিদ?”
আফরিদ হেসে উঠলো, নিচের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে ধৈর্য্যের সাথে বলল।
“বল জানকি বাচ্চা।”
ন্যান্সি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে প্রিয় পুরুষের দিকে।
“আমি যদি সারারাত এভাবে ডাকতে থাকি তাহলে কি কি জবাব দিবেন?”
ন্যান্সি হাত বাড়িয়ে দিতেই আফরিদ সেই হাতটি পাকড়াও করল। আফরিদ নাকে নাক ঘষে আলতো করে টোকা দিয়ে বলল।
“আমি যদি সারারাত জবাব দিতে পারি তাহলে কি আদর করবেন?”
আফরিদের কথায় অধর প্রসারিত হলো ন্যান্সির।
“Will you be my personal photographer?”
আফরিদ চোখে হাসে। স্বাভাবিক কন্ঠে বলল।
“Why not?”
আফরিদ এগিয়ে গিয়ে ন্যান্সির থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়ালো। ন্যান্সি অধর প্রসারিত করে হাসতেই আফরিদ পরপর দুটো ছবি তুলল তার।
আফরিদ কাছাকাছি এসে নাকে আরো একবার টোকা দিয়ে বলল।
“মিসেস মিসেস, এভাবে তাকাস না সোনা হার্ট ব্রেক হচ্ছে।”
আফরিদের কথায় অধর প্রসারিত হলো ন্যান্সির। আফরিদ কে আশ্চর্য করে দিয়ে পায়ের আঙ্গুলে ভর দিয়ে একটুখানি উঁচু হয়ে পুষ্ট অধরপুটে স্পর্শ করে। মেয়েলি স্পর্শে আফরিদ বরফের ন্যায় জমে যায়। ভারসাম্য রক্ষার্থে মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরে। শুরু হয় ওষ্ঠো দংশন।
প্রথম বারের মতো আফরিদের বেসামাল বেপরোয়া স্পর্শের সহিতে তাল মেলায় ন্যান্সি।
মিনিট গড়িয়ে যেতেই হাঁপিয়ে উঠে রমণী ,মুখ সরিয়ে আনে। আফরিদের কপোলদ্বয়ে নাক ঠেকালো। শুষ্ক ঢোক গিলল অগোচরে। ন্যান্সির কাঁপন অনুভব হয় আফরিদের।
“জানিস কি করছিস?”
ন্যান্সি ঘন নিশ্বাস ফেলে বলল,
“সিংহ কে ক্ষেপিয়ে দিচ্ছি।”
“সোনা বউ এভাবে কাছাকাছি এসে উস্কে দিসনা,পরে সামলাতে পারবি না।”
আফরিদ দৃষ্টি ঘুরিয়ে তাকায় ওই গোল চোখের দিকে। ন্যান্সি আফরিদের শার্টের বোতাম স্পর্শ করতেই হাত চেপে ধরে ছেলেটা। বাঁধ সাধল,এই বাঁধ মানলো না ন্যান্সি। মুখ এগিয়ে গলায় দন্ত বসিয়ে ক্ষত করে। আফরিদ খিঁচিয়ে নেয় অক্ষি জোড়া।
“আর ইউ শিও্যর ,জানকি বাচ্চা?”
ন্যান্সি প্রত্যুত্তর করলো না আলতো করে জড়িয়ে ধরে তাকে।
“❝আমার পরাণ,তোকে একটু ছুঁই? খুব যত্ন করে ছুঁয়ে দেব একটুও কষ্ট দেব না সত্যি।”❞
দুহাত মেলে দাঁড়ালো ন্যান্সি। মুখ উঁচিয়ে তাকালো আকাশের পানে।
কোমড়ে উষ্ণ ছোঁয়া পেয়ে পিলে চমকে উঠে , বিদ্যুৎ বেগে মুখ নামিয়ে তাকালো ডান দিকে। আফরিদ এহসান। দু’হাতে জড়িয়ে আছে তাকে। লজ্জা ভেতরের কথা গুলো কেমন কুণ্ডলি পাকিয়ে আসছে গলায়।
ন্যান্সির বুক ধড়ফড় করে উঠছে, শ্বাস নেবার পথ যেন আটকে যাচ্ছে।
আফরিদের প্রবল বাহুবন্ধনে বন্দি হয়ে আছে সে নড়ার সামান্য শক্তিটুকুও তার আর অবশিষ্ট নেই।
এক ঝটকায় আফরিদ তাকে নিজের বুকে টেনে নিয়ে এমনভাবে ঠোঁট চেপে ধরল যে, পুরো দুনিয়া যেন থেমে গেল সেই চুম্বনের ভেতর।
অবচেতনেই ন্যান্সির হাত দুটো কেঁপে উঠল, অথচ ছাড়ানোর সামর্থ্য পেল না।
আফরিদের স্পর্শে ন্যান্সির শরীর তীরের মতো কেঁপে উঠছে। অকস্মাৎ গাউনের চেইন খুলে দিল আফরিদ, তা লুটিয়ে পড়ে মেঝেতে। উন্মুক্ত হয় সৌন্দর্য। ন্যান্সি তাকায় না তার দিকে।
ডান হাতের স্রোত নেমে যাচ্ছে তার উদর বেয়ে এক অচেনা শিহরণ বুনে দিচ্ছে রমণীর অস্তিত্ব জুড়ে।
ঠোঁটের আলিঙ্গন ছেড়ে আফরিদ ধীরে ধীরে নিচের দিকে নামতে থাকে।
ন্যান্সির চোখ আধখোলা, ঠোঁট কাঁপছে, শ্বাস ছোট ছোট হয়ে আসছে। হঠাৎই বুকের গভীরতম কোমল অংশে পুরুষের অধিকার বিস্তার হতেই রমণীর সারা শরীর এক ঝটকায় কেঁপে ওঠে। অর্ধনিশীথের বাতাসে ভেসে আসে তার অস্ফুট গোঙানি।
আফরিদ তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে। ন্যান্সি আফরিদ কে ধাক্কা দিয়ে বসিয়ে দেয় ওই নরম গদির টুলের উপর। দু’পা ছড়িয়ে জড়িয়ে ধরে তাকে। নিষিদ্ধ স্পর্শে মুচড়ে উঠলো সর্বাঙ্গ। আফরিদ মুখ নামিয়ে চুমু খায় বক্ষভাজে।
সুশ্রী পুরুষের মুখশ্রীতে এলোপাথাড়ি চুম্বন এঁকে চলে। একটুও থামেনা , এলোমেলো কন্যার এলোমেলো স্পর্শে দিকবিদিক হারায় আফরিদ এহসান। স্থির হতে দেয়না।
“অ্যাঞ্জু রিল্যাক্স। সোনা বাচ্চা আমি কিন্তু কন্ট্রোল করতে পারবনা!
“উঁহু।”
“জান , একটু স্থির হতে দে।”
“উঁহু,ওয়ান্স মোর।”
ন্যান্সি এলোমেলো ভাবে আফরিদের মুখশ্রী জুড়ে চুমুর বর্ষণ শুরু করে। তার হাত দুটো মুঠো বন্দি করলো আফরিদ। ন্যান্সি কে আলগোছে তুলে নিল কোলে। এগিয়ে চলে বিছানার দিকে। যখন বিছানার নরম তোশকে পিঠ স্পর্শ হয় পিটপিট চোখ করে তাকালো ন্যান্সি।আলতো আলতো করে নিজের পৌরুষ্ট আধিপত্য বিস্তার করে চলেছে ন্যান্সির উপর।
তৎক্ষণাৎ দূরে সরে আসে আফরিদ এক সময় অস্থির ভঙ্গিতে শার্টের বোতাম গুলো খুলে দূরে ছুড়ে ফেলল। প্যান্টের বেল্টে হাত রাখতেই কর্ণ গোচরে প্রবেশ করলো ভয়ংকর এক প্রশংসার বাক্য।
“আপনি ভীষণ সুন্দর ,এহসান।”
আফরিদ এহসান বুঝি লজ্জা পেলো? ওমন মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে থাকতে দেখে হাত বাড়িয়ে চোখ দুটো ঢেকে দিলো কন্যার। নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসে আফরিদের। লজ্জার সাথে খুব কম পরিচয় তার, পৃথিবীর সবচেয়ে নির্লজ্জ পুরুষ বুঝি সে-ই।অথচ আজকে লজ্জা পাচ্ছে। লজ্জায় ডুবিয়ে দিচ্ছে এই কন্যা।
ন্যান্সি অবাধ্য কন্যা,হাত টেনে সরিয়ে দিলো। ততক্ষনে তার উপর সমস্ত ভর ছেড়ে দিলো আফরিদ। ন্যান্সি ফের একই ভঙ্গিতে বলল।
“আপনি ভীষণ সুদর্শন আফরিদ এহসান।একটু বেশি সুন্দর ,চোখ ধাঁধানোর মতো।”
দ্বিতীয়বারের মতো চোখ ঢেকে দিলো আফরিদ। লম্বা নিঃশ্বাস টেনে কানের পিঠে মুখ নামিয়ে বলল।
“এভাবে বলে না সোনা।”
ন্যান্সি শুনেনা বারণ। আবারো হাত সরিয়ে আনে।কিছু বলতে নিলে মুখ চেপে ধরে চোখ রাঙ্গায় আফরিদ। চোখে হাসে ন্যান্সি। তবুও বলে,
“আপনি সুন্দর, ভীষণ ভীষণ ভীষণ সুন্দর। আমি দেখব আপনাকে। আমার আফরিদ এহসান মারাত্মক সুদর্শন।”
আফরিদ থামাতে চায় এই অবাধ্য নারীকে। নয়তো সে লজ্জায় ম’রে যাবে। উঁহু লজ্জা তার জন্য নয়। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ভেতরের সবকিছু শুষে নিতে চায়, ন্যান্সি বাঁধা দেয়না। আলিঙ্গন করে নষ্ট পুরুষ কে।
চুম্বন শেষে বক্ষবন্ধনীর ফিতে কামড়ে নিচে নামিয়ে আনে। দ্বিতীয় বারের মতো উন্মুক্ত করে প্রেয়সীকে। ততক্ষনে তাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে উপরে উঠে এলো ন্যান্সি। আফরিদ হাত বাড়িয়ে কন্ঠনালি ছুঁয়ে দেয় মেয়েটার। ন্যান্সি মুখ নামিয়ে নাক,মুখ, গাল, ঠোঁট সব জায়গায় চুমু আঁকে। ধীরে ধীরে অগ্রসর হয় নিচের দিকে। একটানে খুলে দেয় প্যান্টের বেল্ট।
উদোম বক্ষে নিজের অধিকার বুঝে নেয়। আবেশে চোখ বুজে আসে আফরিদের , হাত বাড়িয়ে পেঁচিয়ে ধরে সিল্কি চুল গুলো। টেনে নিয়ে এলো মুখের সামনে। ন্যান্সি ঠোঁট উল্টে বলে উঠে,
“আপেল খেতে ইচ্ছে করছে।”
এমন সময়ে আপেল খেতে ইচ্ছে করছে শুনে হেসে উঠলো আফরিদ, স্ফীত স্বরে বলল।
“এই রোমান্সের সময় তোর আপেল খেতে ইচ্ছে করছে?”
“খেতে চাই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।”
“ঠিক আছে খা।”
টেবিলের দিকে হাত বাড়াতে গিয়েও থেমে গেল আফরিদ, ন্যান্সি ঘোর লাগা কন্ঠে বলে উঠে।
“উঁহু নরমাল আপেল নয়, আপনার অ্যাডামস আপেল।”
আফরিদ আর কিছু বলতে পারলো না, বাকশক্তি বুঝি হারিয়েছে। অবস হয়ে আসে শক্তপোক্ত দেহ খানা।
ন্যান্সি ঝুঁকে অ্যাডামস আপেলে কামড় বসায়।এতটাই জোরে চাপ প্রয়োগ করে যে ব্যাথায় চোখ দুটো খিঁচিয়ে নিল আফরিদ,তবুও বাঁধা দেয়না। ন্যান্সি অনুভব করে র’ক্ত বের করে ফেলছে। র’ক্তের ফোঁটায় আঙ্গুল ছুঁয়ে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে হেসে ওঠে ।
হেঁচকা টানে নিজের কোলে নিয়ে নিল আফরিদ ন্যান্সি কে। আঁখিদ্বয় খিঁচিয়ে বুঁজে নিল ন্যান্সি। আফরিদের নীলাভ মনি জোড়ায় তাকানোর সাহস করে না। সে যেনো আজ আফরিদের বশীভূত হয়ে আছে।
সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়ে যখন ন্যান্সির মাঝে বিলীন হতে ব্যস্ত ঠিক সেই সময়ে আফরিদ বড় আকুল হয়ে বলে।
“তোকে খুব ভালোবাসি জানকি বাচ্চা। আমাকে ছেড়ে যাস না।”
ন্যান্সি নিরুত্তর , মাফিয়া কিং বুঝি এতটা অসহায় হয়? নাকি শুধু ন্যান্সির কাছেই তার এতটা অস্থিরতা, ব্যাকুলতা আর উ’ন্মাদনা!
কাঁপা আঙ্গুল গুলো আলগোছে ছুয়ে দিলো আফরিদের সূর্য টাইপ ট্যাটুর মাঝে। ধীরে ধীরে আঙ্গুল বুলায় সেখানটায়।
শিরশির করে উঠল আফরিদের পুরুষালী দেহ। অপেক্ষা করতে পারলো না সে , আঁকড়ে ধরে ন্যান্সির নারী সত্তা।
টুং করে সেই সময় ঘড়ির কাঁটা টা বারোটা ছুঁয়ে ফেলল। ন্যান্সি আলতো হেসে আফরিদের কানে কানে বলে।
“ব্যথা পেলে?”
আফরিদ একটু একটু করে বিলীন হয় প্রেয়সীর মাঝে,জবাব আসে।
“মেডিসিনের পুরো শপ এনে দেব। অনেক অনেক অনেক সেবা করব। একটুও ব্যথা দেব না। আমার সোনা বাচ্চা ,জান বাচ্চা, পরাণ।আই লাভ ইউ ইয়ার একটু বুঝ আমাকে।”
ন্যান্সি খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো তার কথায়।
“তবুও সরেন,কাছে আসতে দেবনা।”
আফরিদ গালে কামড় বসিয়ে বলল,
“হুঁশ..জাস্ট কিপ স্ক্র্যাচিং মাই ব্যাক।”
ন্যান্সি ভীতু কন্ঠে বলে ওঠে।
“ভয় লাগছে।”
ভয়ার্ত ন্যান্সির চোখের দিকে তাকিয়ে থেমে গেল আফরিদ, ঠোঁটে বুড়ো আঙ্গুল স্পর্শ করে মৃদু কন্ঠে শুধোয়।
“কিসের ভয়?”
ন্যান্সি দৃষ্টি নামিয়ে নেয়, পদ্মফুলের ন্যায় ওষ্ঠো জোড়া কেঁপে ওঠে।
“আপনাকে ভীষণ ভয় লাগছে ,এহসান।”
আফরিদ শুনলো, নিজেকে সংযত করলো। কিয়ৎক্ষণ একদৃষ্টিতে চেয়ে রইল লালচে রঙা মুখশ্রীর পানে। মেয়েটা সত্যি তাকে ভয় পাচ্ছে? আফরিদ কি ভুল কিছু করতে যাচ্ছিল?
এদিক ওদিক তাকিয়ে শুষ্ক ঢোক গিলল আফরিদ, নিজেকে সরিয়ে আনতে চাইল।
অতঃপর নিজেকে থামিয়ে কপালে আলতো করে চুমু এঁকে বলল।
“ইটস্ ওকে।”
আফরিদ ওঠতে চাইল, ন্যান্সির কি হলো সে ভয় কে আলিঙ্গন করতে রাজী। দু’হাতে গলা জড়িয়ে আবারো আফরিদকে নিজের উপরেই টেনে নিল।
আফরিদ হাঁসফাঁস করে উঠে, মেয়েটা তাকে এমন কিছু করতে বাধ্য না করে ফেলে!
“কী হলো ছাড়?”
ফাঁকা ঢোক গিলল ন্যান্সি, মিনমিনে গলায় বলল।
“ইউ মে কন্টিনিউ।”
ইতিবাচক ইঙ্গিতে খৈ হারালো আফরিদ,আর কিছু ভাবার সময় নেই তার।
বিছানা ছেড়ে কাউচের দিকে অগ্রসর হয় আফরিদ, ঝুঁকে আসে মেয়ের দিকে।আদর করতে বড় ব্যস্ত। ন্যান্সির মনে হয় পড়ে যাবে সে।ভয়ার্ত কন্ঠে বলল,
“পড়ে যাবো তো!”
এক মূহুর্ত থামলো আফরিদ,পর মূহুর্তে আদেশ স্বরুপ বললো।
“তাহলে কোলে চলে আয় আমার।”
কাউচ থেকে কোলে তুলে নিল মেয়েটা। গাল চেপে ধরে হিসহিসিয়ে আওড়াল।
“বেইবি,কল মি ফাকিং ড্যাডি।”
“নো।”
“আই’ল ডু ইট ভেরি রাফলি।”
“আপনি ভীষণ অসভ্য।”
আফরিদ বাঁকা হেসে ন্যান্সির পাতলা পদ্মফুলের ন্যায় ওষ্ঠে ভেজা চুমু এঁকে বলে,
“আমি কি রকম অস’ভ্য সেটা এখনো দেখিসনি তুই।”
আফরিদ হাতে পেঁচিয়ে নেয় ন্যান্সির কেশরাশী। মুদিয়া আসা চোখ দুটো দেখে।
ন্যান্সি চোখ পাকিয়ে তাকালো, আফরিদ কোমরে চাপ প্রয়োগ করতেই তার গলা জড়িয়ে ধরে ন্যান্সি। মুখ গুঁজে কাঁধে। আফরিদ ভেঙ্গে ভেঙ্গে বলে উঠে।
“কাম অন অ্যাঞ্জেলিনা। মুভ আপ অ্যান্ড ডাউন।”
লজ্জায় চোখ দুটো খিঁচিয়ে আসছে ন্যান্সির। আফরিদ বড্ড বেপরোয়া পুরুষ। আজকেও তাই করছে যা সবসময় করে।
ন্যান্সির নিঃশ্বাস আটকে আসছে। আফরিদের হাত পিঠে বিচরণ করছে বারংবার।
ন্যান্সি কাঁপছে, কাঁপা কাঁপা গলায় বলল।
“I can’t anymore.”
আফরিদ ঘুরিয়ে নিলো তাকে উঠে দাঁড়ালো ততক্ষন। নিজের সাথে চেপে ধরলো তার আঁটসাঁট বদন খানি।
“অ্যাম নট ডান বেইবি।”
ন্যান্সি আফরিদের প্রশস্ত বুকে ধাক্কা দিলো। আফরিদ দুহাত মাথার উপর সাথে চেপে ধরলো। অপর হাতটা কোমড় পেঁচিয়ে কাছে আনে। মুখ নামিয়ে ঠোঁটে ঠোঁট গুঁজে। একটু পরপর চুষে নিজের ভেতরের অনূভুতি প্রকাশ করে।
ন্যান্সির বিস্ময় বেরেই চলেছে। ন্যান্সি কে ছেড়ে নেমে গেল, ঠোঁট ছেড়ে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল আফরিদ। অধর ছোঁয়ায় উদরে। ন্যান্সির হৃদস্পন্দন বেগতিক হচ্ছে। আফরিদের কোঁকড়ানো চুল গুলো হাতের মুঠোয় টেনে নিল সে। ঠোঁট জোড়া ভিজিয়ে নিলো সে।
“আফরিদ!”
আফরিদ হেসে ফেলল, পাঁজা কোলে তুলে নিল ন্যান্সি কে। নিয়ে গেল আবারো নরম বিছানায়। আলগোছে শুইয়ে দিয়ে কম্ফোর্ট টেনে নিল নিজের উপর।
“ডোন্ট টেল মি টু স্টপ, প্লিজ।”
ন্যান্সি তাকাতে পারে সুদর্শন পুরুষের দিকে। আফরিদ সমস্ত ভার ছেড়ে দিল ন্যান্সির উপর।
বাইরে দমকা হাওয়া বইছে, ঠান্ডা ঠান্ডা এই পরিবেশে উষ্ণতা খুঁজে নিচ্ছে আফরিদ। সমুদ্রের গর্জন সবকিছু আজ সাক্ষী হয় তাদের মিলনের।
তুলতুলে শরীরটাকে কাছে এনে আধিপত্য বিস্তার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সে।
“বাইট মি অ্যাঞ্জেলিনা।”
ন্যান্সি কাঁধে কামড় বসালো তার, আফরিদ আরো উন্মাদ হয়ে উঠে। ভুলে যা দিকবিদিক।
আফরিদ মুখ তুলে তাকায় ন্যান্সির দিকে। ওই লালচে রঙা মুখটা দেখে ঠোঁট কামড়ে হাসে। ভীষণ দুষ্টু ভঙ্গিতে বলে উঠে।
“হুয়াই ইজ ইট সো টাইট?”
আফরিদের বুকে কিল বসালো ন্যান্সি,রেগে যাচ্ছে মেয়েটা। আফরিদ গা দুলিয়ে হেসে উঠলো। হাসতে হাসতে নিজের পেটের উপর নিয়ে এলো ন্যান্সি কে। আবারো একে অপরের সাথে মিলে মিশে একাকার হলো দু’জনে। আফরিদ হাত বাড়িয়ে তার গলায় স্পর্শ করে। ন্যান্সি আবেশে চোখ বুজে নেয়।
“মুভ আপ অ্যান্ড ডাউন।”
লজ্জায় চোখ দুটো খিঁচিয়ে আসছে ন্যান্সির। আফরিদ তাকে ভালোবাসে, ভীষণ ভালোবাসে। ন্যান্সি কিয়ৎক্ষণ তাকিয়ে থেকে অদ্ভুত রহস্যময় হাসি টানে ওষ্ঠো কোণে। যেই হাসিতে লুকিয়ে আছে তার এক মায়াজাল। সেই হাসির রহস্য উন্মোচন করতে পারলো না আফরিদ। ন্যান্সি সুযোগটুকু ছিলোনা তাকে। মুখ নামিয়ে চুমু আঁকতে ব্যস্ত হলো তার ললাটে,কপোলে, গ্রীবাদেশে।
আফরিদ খামচে ধরে ন্যান্সির গ্রীবাদেশ, ন্যান্সি তার হাত সরিয়ে মেলে দিতেই তা গিয়ে ঠেকলো কাঠের ঠিক কোণে। আঘাত প্রাপ্ত হাতটি থেকে নির্গত হয় র’ক্তের ফোঁটা।এই আঘাত সে পেয়েছে আলিয়াজের কাছ থেকে।
আঘাতের দিকে খেয়াল নেই আফরিদের। নিজের রক্তে রঞ্জিত করে প্রিয় রমণীকে। গ্রীবা হতে উদর অবধি লালচে আভায় রাঙিয়ে তুলে। আরো একবার তাকে টেনে নরম সজ্জায় নামিয়ে আনে। সমস্ত ভার ছেড়ে দেয়, ন্যান্সি হাঁসফাঁস করে ওঠে। হাঁপিয়ে ওঠে আফরিদকে সামলাতে গিয়ে। কাঁপা স্বরে বলল।
“আমার আফরিদ…
“প্লিজ, সে ইট এগেইন।”
ন্যান্সি হেসে উঠলো আফরিদের কথায়, ওষ্ঠো ফাঁক হয়ে আসে। লম্বা নিঃশ্বাস টানে সে।
“বেইবি,ডু ইউ লাইক ইট?”
ন্যান্সি আধো আধো চোখ মেলে তাকাল তার দিকে, ঘামের ফোটা নাকের ডগায় এসে ছুঁয়ে যায় ন্যান্সির। কিছু বলতে চেয়ে মুখ খুলতেই আফরিদ তার ঠোঁটের ফাঁকে হাত রাখল। চোখ দুটো খিঁচিয়ে নিল ন্যান্সি। কামড় বসালো তার হাতের মাঝে।
নিচের দিকে অগ্রসর হতে লাগলো আফরিদ, অকস্মাৎ কটেজ কাঁপিয়ে হেসে ওঠে সে। তার হাসিতে ন্যান্সির সর্বাঙ্গ শিরশির করে ওঠে।
“হায় মেরি বান্দি এত সুন্দর দেখতে!”
লজ্জায় হা করে তাকিয়ে থাকে ন্যান্সি।
আফরিদ আবারো উন্মাদ হয়ে ওঠে। কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বললো।
“র’ক্তে রঞ্জিত বাসর করলাম জানকি বাচ্চা। আই লাইক ইট।”
ন্যান্সিও ঠিক একই ভাবে কানের কাছে ওষ্ঠো ছুঁয়ে বলল,
“এহসান,খুব শীঘ্রই ছ্যাঁকা দিতে চলেছে। ভুলে যাবেননা আমি ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা। ভীষণ ভয়ংকর।”
আফরিদ কর্দয হেসে বলল।
“তার আগে আরো একবার আমি ডিএনএ দিতে চাই সোনা, প্লিজ টেইক ইট।”
ঘড়ির কাঁটা ছুঁয়েছে রাত তিনটায়, কম্ফোর্ট দিয়ে নিজেকে মুড়িয়ে রেখেছে ন্যান্সি।তার নগ্ন বক্ষে মাথা রেখে শুয়ে আছে আফরিদ। একটু পরপর হেসে ওঠছে। একটাই কথা বলে চলেছে।
“আমার জান এত সুন্দর কেন? আমি কিন্তু সর্বত্র ছুঁয়ে ফেলছি। ইশ্ দেখে ফেলেছি অ্যাঞ্জেলিনা কে। এবার কি হবে?”
তার কথায় লজ্জায় হাঁসফাঁস করছে মেয়েটা। ঠেলিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে অথচ পেরে ওঠেনা।
“হাসবেননা একদম। ধ্যাৎ ভালো লাগেনা।”
গাল ফুলিয়ে মুখ ফিরিয়ে নেয় ন্যান্সি।
আফরিদ যে থামতে নারাজ, ভেতরে ভেতরে আপ্লুত হয়ে ওঠছে। আনন্দ হচ্ছে তার।
“ইশ্ বউ, তুই আমাকে এভাবে সব কিছু এএএ…
আফরিদের বাহুতে কামড় বসালো ন্যান্সি, ব্যথা অনুভব করলো আফরিদ।
“উফ্ আর কত কামড়াবি? এমনিতেই সারা দেহে দাগ বসিয়ে দিয়েছিস।”
ন্যান্সি অগ্নিদগ্ধ নয়নে তাকাতেই আফরিদ হেসে বলল।
“আচ্ছা এখন একটা জরুরী কথা বলি শুন। কাল সকালে।”
ন্যান্সি উৎসুক দৃষ্টিতে তাকালো আফরিদের মুখপানে।
আফরিদ গম্ভীর স্বরে বলল।
“কাল সকালে নিউজ চ্যানেলে দেখানো হবে এত এত মাস পর আফরিদ এহসান বাসর করতে সফল হয়েছে। তার ডিএনএ ওয়েস্ট হয়নি বান্দি।”
রাগে দুঃখে ফোঁস ফোঁস করে ওঠে ন্যান্সি।কি ভেবেছিল আর কি বলল এই নষ্ট পুরুষ। ধস্তাধস্তি শুরু করেছে আফরিদকে সরাতে অথচ ঘটলো উল্টো টা। আফরিদ দুহাত মাথায় উপর চেপে ধরে, তার চোখে মুখে ঘোর লাগা অনুভূতি টের পায় ন্যান্সি। নেশাতুর কন্ঠে বলে উঠে।
“আমার নষ্ট নারী আমাকে এভাবে রে’প করে ফেললি? এখন আমার পালা তোকে রে’প করার। বলেছিলাম না যদি রে’প না করি তাহলে আমি আফরিদ এহসান নই!”
ন্যান্সি শিউরে ওঠে আফরিদের কথায়, স্তব্ধ,কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল। কিছু বলার সুযোগ পায়নি। তার গোলাপের পবিত্র পাপড়ির ন্যায় অধর দুটি আঁকড়ে ধরে।
অতঃপর প্রণয়ের এক রাত্রি যাপন করে একত্রে ,আবেশে, আদরে কে’টে যায় প্রহর।
চলবে……….।
(📌😶 আফরিদ এহসান সফল হয়েছে। পর্বটা অনেক বড় আশাকরি খুশি এবার সবাই।)
(📌 প্রথমমত সবকিছু শটকাট দিতে চেয়েছি কিন্তু পাঠক ডিমান্ড তাই একটু রোমান্টিক দিলাম। সবাই রেসপন্স করবেন।)
(📌 গল্পের কোনো অংশ কপি করলে কপিভাজের লস কারণ অলরেডি রিপোর্ট করে দিয়েছি, আশাকরি দু একদিনের মধ্যে অ্যাকশন নেওয়া হবে।)
(📌 পরের পর্বে একটা রহস্য উন্মোচন করা হবে,আর হ্যাঁ পরের পর্বে আরো একটা ধামাকা আছে হিন্ট দেওয়া হয়েছে দেখি ধরতে পারেন কি-না!)
(📌আর হ্যাঁ কালকেই কিন্তু শেষ দিন #হৃদয়ের_রজনীগন্ধা প্রি অর্ডার,আজকেই প্রি অর্ডার করুন যেকোনো বুক শপে।)
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১২
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৬(প্রথমাংশ +শেষাংশ +বোনাস)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৪(প্রথমাংশ + মধ্যাংশ + শেষাংশ)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২০
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩০+বোনাস
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২২