Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪২


অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ৪২]

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)

“এখন কি অবস্থা? আমার বেটা কেমন আছে?”

মাইমুনা এহসানের কথায় ঈশান স্বভাব সুলভ জবাব দিলো।
“ওনারা ঠিক আছে ম্যাম, আপাতত সাইলেন্ট ম্যানরে রয়েছেন।বস বলেছেন কেউ যেনো না থাকে।”

মাইমুনা এহসান কিছু একটা ভাবলেন তারপর চলে গেলেন নিজের রুমে।
সেই মূহূর্তে ঈশান ঘুরে দাঁড়ালো গেস্ট হাউসের দিকে যাওয়ার জন্য । সুযোগ লুফে নিল তিতলি, এতক্ষন যাবত আড়ালে দাঁড়িয়ে ছিলো ভয়ে। নৈঃশব্দ্যে পা ফেলে পালাতে চাইলে ভরাট কন্ঠস্বর ভেসে এলো।

“এই মেয়ে এদিকে এসো।”

পা জোড়া থামলো তিতলির,চোখ খিঁচে নিল। শুষ্ক ঢোক গিলে পিছন ফিরলো,দুহাত পিছমোড়া করে বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে ঈশান।তার চোখের চাহনিতেই আত্মা কেঁপে উঠে মেয়েটার।
“ইলহাম ম্যাম বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল তখন তুমি কোথায় ছিলে?”

তিতলি মিনমিনে গলায় বলল।
“আসলে ইলহাম আপু এমন ভাবে ধমক দিয়ে বলল নিজের কাজ করতে তাই আমি সাহস পাইনি থামানোর। অগত্যা থেমে গিয়েছি।”

দাঁত কটমট করে বলল ঈশান।
“যখন আমি ধমক দেই তখন তো থামোনা! ইলহাম ম্যামকে দেখে রাখার বেলায় যত অজুহাত।”

মুখখানি বিবর্ষ হয়ে উঠেছে তিতলির,চাপা ক্ষোভ ঝেড়ে বলল।
“বেশি বেশি বুঝেন আপনি! আর উনার কথা শুনবো না তো কি আপনার কথা শুনবো? বেডা মানুষ।”

ঈশান কপাল কুঞ্চন করে আওড়াল।
“জ্বি বেডা মানুষ আপনার মতো বেডি মানুষ নই। মন চায় থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দেই।”

তিতলি বিস্মিত কন্ঠে বলে উঠে।
“হ্যাঁ আমিতো হাতে চুড়ি পরে রাখছি। আপনি থাপ্পড় দেবেন আর আমি বসে থাকব।”

ঈশান ব্যঙ্গাত্মক করে বলল।
“চোখ মেলে দেখো রংপুরের মাইয়া তোমার হাতে চুড়িই,ওটা তোমাদের মতো বেডি মানুষের জন্যেই তৈরি।হা হা।”

রাগে গজগজ করে উঠলো তিতলি, ঈশান ডেবিল টাইপ হাসি দিয়ে বেরিয়ে গেল। তব্দা খেলো তিতলি , মুখের উপর এমনভাবে অপমান করে চলে গেল?

🌿🌿
রিসার্চ সেন্টার/হল নাম্বার ২

“স্ত্রী বাচ্চা কে মনে পড়ে মিস্টার আলবার্ট?”

মিস্টার আলবার্ট নিশ্চুপ, তিনি তো প্রতিদিন নিজের সেই ছোট্ট মেয়েটাকে মনে করেন যাকে আদরে আহ্লাদে রেখেছিলেন।
“কামাল ইউ নো আমি খুবই ব্যর্থ এক বাবা, এক ব্যর্থ স্বামী,এক ব্যর্থ বন্ধু। আমি বন্ধু হতে পারিনি,যদি হতে পারতাম তাহলে ওই …

বাকি কথাগুলো গলায় আটকে আছে মিস্টার আলবার্টের। তিনি কল্পনা করতে পারছেননা সেই দিন গুলোর কথা যা ভয়ংকর স্মৃতি হয়ে অতীতের পাতায় দখল করে বসে আছে। স্মৃতিচারণ করেন তিনি পুরোনো দিনগুলোর কথা।

“জানেন মিস্টার আলবার্ট ওই হামলায় আমার ছোট্ট মেয়েটা মা’রা গিয়েছে। আমার মেয়েটা আমাকে খুব ভালোবাসে,হয়তো সে জানেই না তার বাবা তাকে বাঁচাতে পারেনি। আমি ছিলাম না তার মৃ’ত্যুর সময়, তবে জেনেছি গাড়িতে… আহ্ আমার মেয়েটা।”

চোখ ভিজে ওঠে মিস্টার কামালের। মিস্টার আলবার্ট কি বলে শান্তনা দেবেন খুঁজে পেলেন না,তিনি নিজেও জানেন সন্তান হারানোর কষ্টটা ঠিক কি!

🌿🌿
রেড সাইলেন্ট ম্যানর

ঘরের দরজাটা পুরোপুরি বন্ধ। ভেতরে শুধু আফরিদ আর ন্যান্সি রয়েছে। ব্যথাতুর পা নিয়েই পিটপিট করে তাকাচ্ছে আফরিদের দিকে। না চাইতেও বেহায়া চোখ দুটো তাকেই দেখছে। শার্ট বিহীন লোকটা দাঁড়িয়ে আছে ,তার ইস্পাতের মতো কঠিন বক্ষদেশ। সুদেহী সুশ্রী পুরুষ। যতই সুদর্শন হোক,তার পেছনে লুকানো কুৎসিত চেহারা দেখে ফেলেছে ন্যান্সি।

” উইথ আউট মাতারি আমার? আই মিন লাগবে নাকি…

দু’হাতে কান টা শক্ত করে চেপে ধরে ন্যান্সি। নিতে পারছে না এই অ’শ্লীল লোকের অ’শ্লীল কথাবার্তা!
আহাত বাঘিনী ন্যায় গর্জে ওঠে,
“দূরে থাকুন আমার থেকে , আমি কিন্তু চিৎকার করব বলছি?”

কিয়ৎক্ষণ চলল নীরবতা।‌ সেই নিরবতা ভেঙ্গে আকস্মিক ঘর কাঁপিয়ে হেসে উঠলো আফরিদ।

“কর চিৎকার দেখি কে আসে তোকে বাঁচাতে! তবে তুই চাইলে চিৎকার করতেই পারিস বাইরের পশু পাখি তোর চিৎকার অবশ্যই শুনবে।”

আফরিদের বিহেভিয়ার মোটেও ভালো লাগছে না ন্যান্সির। পুরো একটা প্যাকেট সিগারেট শেষ করেছে সে ,তার সিগারেটের গন্ধে পেট মোচড় দিচ্ছে বারংবার। তারপরেও থেমে নেই আফরিদ , ওয়াইনের বোতল টা উপরে তুলে ঢকঢক করে খেয়ে নিল বেশ অনেকটা। ন্যান্সি শুকনো ঢোক গিললো। আফরিদ তার দিকে এগুতে দেখে পিছুতে লাগল মেয়েটা। ভয়ে জড়সড় হয়ে গেছে সে।
করুণ দৃষ্টিতে তাকালো ন্যান্সি, আকুল আবেদন করে বলল,
“প্লিজ আফরিদ আপনি থামুন, আপনি নিজের মধ্যে নেই।”

“রাইট রাইট, আমি নিজের মধ্যে নেই। আপাতত তোর মধ্যে আছি।”

আকস্মিক বিছানায় এসে ব্যথাতুর পা টা টেনে নিজের কাছে নিয়ে এলো ন্যান্সি কে। এক টানে ডিরেক্ট তার বুকে এসে হুমড়ি খেয়ে পড়ল ন্যান্সি।

আফরিদ রাগে হিসহিসিয়ে বলল।
“তোর এই অবস্থার জন্য তুই দায়িত্ব, বেয়াদবের বাচ্চা। তুই আমাকে বাধ্য করলি।এখন যা হবে সব কিছুর দায়ভার তোর।”

ন্যান্সি দিকবিদিক না পেয়ে দু’হাতে গলা জড়িয়ে ধরে আফরিদের ,মুখ গুঁজে তার গলদেশে। হেঁচকি ওঠা কন্ঠে বলে উঠে।

“আমাকে বাঁচান না আপনার থেকে। আফরিদ এহসান একটা মনস্টার, প্লিজ বাঁচিয়ে নিন।”

নির্বিকার ভঙ্গিতে ভ্রুদ্বয় কুঞ্চিত করে নিল আফরিদ। দারুন ব্যাপার,তার থেকে বাঁচতে তাকেই বলছে বাঁচিয়ে নিন।

“তুই আস্ত একটা ডাইনি , র’ক্ত চুষি ডা’ইনি কোথাকার। চালাক আছিস মাইরি , আমার থেকে বাঁচতে আমাকেই জড়িয়ে ধরেছিস।”

ন্যান্সি টু শব্দটি উচ্চারণ করলো না , চুপচাপ রইল ওভাবে। সে জানে আফরিদ তাকে আ’ঘাত করবে না ,আর জড়িয়ে ধরার পর তো মোটেও না।

“ছাড় আমায় ,তুই মোটেও আমাকে আটকাতে পারবি না এভাবে। আমি বাসর করব মানে করবই। ছাড় বলছি।”

ন্যান্সি দু’হাতে আঁকড়ে ধরেছে তার গলা। লম্বা নখ গুলো যেনো গেঁথে দিচ্ছে। আফরিদ হাঁসফাঁস করে উঠে , আচ্ছা মুস্কিল হলো। কাকে ছুঁবে সে? যাকে ছুঁতে চাইছে সেই তাকে বলছে বাঁচান।

“আচ্ছা ছুঁবো না, এবার তো ছাড়!”

ন্যান্সি সহসা ছেড়ে দিলো তাকে। চোখ দুটো ফুলে উঠেছে তার। আদুরে মুখটা রক্তিম হয়ে উঠেছে। আফরিদ এগিয়ে এলো।‌ আঙ্গুল বাড়িয়ে ছুঁয়ে দিলো তার নরম গাল।

“আজকের দিনটা লাস্ট বেয়াদবের বাচ্চা। যদি এই দেহে আর একটাও আঘা’ত পড়ে তাহলে তোর খোদার কসম তোকে আমি কাচা চিবিয়ে খাবো।”

আফরিদ এহসানের দ্বারা সব কিছু সম্ভব। দেখা গেল সত্যি তাকে কাঁচা চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে।
কাঁপা কাঁপা স্বরে বলল।

“আ..আমরা কোথায় আছি?”

“রেড সাইলেন্ট ম্যানরে।”

এই ভয়ংকর বাড়িটায় এর আগেও উঠেছিল ন্যান্সি ।ওই যে অজ্ঞান হয়ে গেছিল আর ফ্রিজে কাঁ’টা মাথা দেখেছে। সে জানে সেদিন আফরিদ মিথ্যে বলেছে তাকে।
একটিবার ইচ্ছে করছিল জিজ্ঞেস করতে কেন মিথ্যে বলেছেন। সেই সাহস টুকু হয়ে উঠলো না ন্যান্সির ভেতরে। এই বুঝি আবারো তার উপর হামলে পড়বে এই জানো’য়ারের বাচ্চা।

“আমার কি রূপ চুইয়া চুইয়া পড়তেছে? এমনে তাকাইস না নিষেধ করলাম।”

ন্যান্সি অকস্মাৎ শুধিয়ে উঠে।
“কেন?”

“তুই এমনে তাকাইলে সিস্টেমে‌ কারেন্ট অফ অন হয়।”

এমন একটা উত্তর মোটেও আশা করেনি ন্যান্সি , ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল মেয়েটা। আফরিদ রুম থেকে বের হয়ে যায়। ন্যান্সি আস্তে আস্তে নিচে নেমে এলো বিছানা থেকে। পা টা ব্যথায় টনটন করছে। লোহার রডে ব্যথা পেয়েছে তার উপর পেরেক তো আছেই। কিন্তু সবচেয়ে বেশি যন্ত্রনা হচ্ছে বুকের ভেতরে। এখন সে নিশ্চিত আফরিদ এহসান তার পুরো পরিবার কে শেষ করে দিয়েছে। হুডি পাক আর না পাক সে কখনোই আফরিদ কে আর বিশ্বাস করবে না। তবে হুডি টা খুব প্রয়োজন ছিলো তার।

প্রায় আধ ঘন্টা পর আবারো রুমে ফিরে এসেছে আফরিদ।
সন্ধ্যা নেমেছে সেই কখন। ন্যান্সি এখনো ছেলেদের শার্ট প্যান্ট পরে আছে।‌ প্লেটে খাবার হাতে ভেতরে প্রবেশ করলো আফরিদ। ন্যান্সি কে দেখে নাক ছিটকে বলল।

“উফ্ বান্দি রেএ তুই মাইয়া মানুষ মাইয়াদের কাপড় পড়বি ,তুই কে শার্ট পরে অন্য কিছু ফিল দিবি?”

আফরিদের কথায় তীব্র রাগ অনুভব করলো ন্যান্সি। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আবারো বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ে। সে এখনো ভাবতে পারছে না আফরিদ কাউকে খু’ন করে ফেলেছে!

খাবারের প্লেট হাতে বিছানায় উঠে এলো আফরিদ। একটানে নিজের অতিব নিকটে নিয়ে আসে ন্যান্সি কে। গালে নাক ঘষতে ঘষতে ফিসফিসিয়ে বলে।

“খাবার শেষ কর নয়তো…আই উইল ফা’ক ইউ।”

কথাটা কর্ণ গোচরে প্রবেশ করতেই এলোমেলো হাতে খাবারের লোকমা তুলল। আফরিদ কে তিল পরিমাণ বিশ্বাস করে না ন্যান্সি। দেখা গেল সত্যি সত্যি…

ভাবতে গেলেও শরীরে কাঁ’টা দিচ্ছে।
আফরিদ নৈঃশব্দ্যে বালিশ টেনে মাথার পিছনে দিয়ে শুয়ে রইলো শান্ত ভঙ্গিতে।
মেয়েটা এত আদর আদর কেন? এতটা সহজ সরল না হলেও পারতো। আফরিদ হয়তো কোনো দিন তার দিকে ফিরেও তাকাতো না। আর কে বলছে এত দরদি হয়ে তাকে বাঁচাতে। যদি না বাঁচাতো তাহলে তাহলে তো আফরিদের সাথে দেখাই হতো না তার।

ন্যান্সি চুপচাপ হাতে খাবার তুলে বসে আছে ,মাথার মধ্যেও অন্য চিন্তা চলছে তার। খুব শীঘ্রই কিছু একটা করা প্রয়োজন যেটা করলে আফরিদের থেকে পালাতে পারবে ,শেষ করতে পারবে আফরিদের পাপের রাজত্ব।
এক লোকমা খাবার গিলতে পারছেনা সে, কান্না পাচ্ছে তার। রাগে দুঃখে প্লেটটা ছুঁড়ে ফেলল ফ্লোরে। কাঁচের প্লেট টা ভেঙ্গে গুড়িয়ে গেল। ।
চিৎকার করে উঠল ন্যান্সি।
“আপনি খু’নি কেন? আপনি অপরাধী কেন আফরিদ? আপনার এই খাবার গুলো পাপের, আমি খেতে চাইনা।”

দু’হাতে মুখ চেপে কেঁদে ফেলল ন্যান্সি। আফরিদ ভীষণ শান্ত, স্বভাবিক ভাবে বিছানা ছেড়ে ফ্লোরে পা রাখলো। ন্যান্সি নামতে চেয়ে পা রাখতে যাবে ওমনি পা জোড়ার নিচে হাত রাখল আফরিদ। সতর্ক করে বলল,
“কাঁচের টুকরো দেখিসনা?”

ন্যান্সি হেঁচকি তুলে তুলে তাকাচ্ছে, ন্যান্সির মনে হয়েছিল আফরিদ তার গায়ে হাত তুলবে , কিন্তু তার কিছুই হলোনা। আফরিদ খুব শান্ত ভাবে কাঁচের টুকরো গুলো সরিয়ে সরিয়ে পরিষ্কার করে দিলো। ন্যান্সি বেডে বসেই আছে। আফরিদ উদোম গায়েই আবার বাইরে গেলো , কিছুক্ষণ পর ফিরে আসে নতুন খাবারের প্লেট নিয়ে। প্লেটটা টেবিলের উপর রাখতেই ন্যান্সি চাপা রাগ দেখিয়ে বলল,
“আমি খেতে চাইনা আপনার খাবার।”

আফরিদ কিছু বলল না, ড্রেসিং টেবিলের কাছে গিয়ে ড্রয়ার থেকে একটা রবিন হেয়ার ব্যান্ড বের করে এনে ন্যান্সির কাছে উঠে এলো বেডে,পিছনে গিয়ে উঁচু করে সবগুলো চুল মুঠো করে রিবন ব্যান্ড দিয়ে বেঁধে দিলো। হাত বাড়িয়ে এসির রিমোট টা নিয়ে এসিটা অন করে দিলো। ন্যান্সি বেক্কল বনে গেল আফরিদের কর্মকাণ্ড দেখে। আবারো বিছানা ছাড়লো আফরিদ, কাবার্ড খুলে ন্যান্সির জন্য নিজের শার্ট আর নতুন একটা জিন্স প্যান্ট বের করে আনে। আফরিদ তার দিকে এগুতে দেখেই ছলকে উঠে ভেতরটা। আফরিদ সিংহের ন্যায় ন্যান্সির উপর ঝাপিয়ে পড়ে। ভয়ে সেঁধিয়ে যাচ্ছে মেয়েটা। ঠকঠক করে কাঁপছে তার সর্বাঙ্গ, ঘামে ভিজে পরনের শার্টটা লেপ্টে আছে অঙ্গপ্রত্যঙ্গে।
“কি চাস তুই ম’রে যাই আমি? এভাবে মে’রে ফেলতে চাইছিস?”

ন্যান্সির শ্বাস প্রশ্বাস দ্রুত গতিতে চলছে, শার্টের বোতাম গুলো কেমন খামচে ধরে আছে আফরিদ এহসান। ন্যান্সি ভয়ার্ত চোখে তাকাল তার নীলাক্ষী জোড়ায়। বুকের ভেতর কাঁপছে। ন্যান্সির ভয় করছে আফরিদ এখন তার গায়ের এই বস্ত্রটুকু কেড়ে নেবে?

আফরিদ ফটাফট শার্টের বোতাম গুলো টেনে খুলে দিতেই চোখ দুটো খিঁচিয়ে নিল ন্যান্সি। শুষ্ক ঢোক গিলল, তার কন্ঠনালিতে কুণ্ডলি পাকিয়ে আসা কান্নাগুলো ওখানেই আটকে আছে।
আফরিদ মুখ নামিয়ে কন্ঠনালিতে ঠোঁট ছোঁয়ানো মাত্রই বিদ্যুৎপৃষ্টের ন্যায় কম্পিত হলো তার তনু।
ন্যান্সি অস্ফুট স্বরে চ্যাঁচালো।
“ছেড়ে দিন।”

“আমি তোর জন্য ম’রে যাচ্ছি অ্যাঞ্জেলিনা,তুই কি সেটা দেখিস না? একবার চেয়ে দেখ আমি তোর কাছে অসহায়, তোর কাছে এই জানোয়ার আত্মসমর্পণ করতে প্রস্তুত।”

ন্যান্সি উত্তর করেনা, আফরিদ শার্ট খুলে দিতেই লজ্জায় আড়ষ্ট হয় রমণী,সেই শার্ট বদলে নতুন শার্টটা পরিয়ে দিল। ন্যান্সি বাঁধা দিলো জিন্সের বেলায়, আফরিদ তপ্ত নিঃশ্বাস ছেড়ে প্যান্টটা ছুঁড়ে ফেলল কাউচের উপর। আফরিদ হাত বাড়িয়ে টেবিলের উপর থাকা খাবারের প্লেটটা তুলে নিল। চামচের বদলে হাত ব্যবহার করলো, মুখের সামনে খাবার ধরতেই মুখ ফিরিয়ে নিলো ন্যান্সি। আফরিদ রয়েসয়ে কিছুক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে থাকে। তারপর ক্ষিপ্ত মেজাজে বলে উঠে।

“না খেলে মে রে ফেলব কিন্তু!”
“মে রে ফেলুন আমাকে, আপনার মতো জানোয়ারের সাথে থাকতে চাইনা।”

আফরিদ এক হাতে গ্রীবা চেপে প্লেট রেখে অন্যহাতে নিজের সাথে চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বলল।
“এইভাবে নিজের সাথে চেপে মে রে ফেলব। একদম শেষ করে ফেলব। না আমি বাঁচব না তোকে বাঁচতে দেব।”

ন্যান্সির মোচড়ানো দেখে ওষ্ঠো বাঁকিয়ে হেসে ফেলল আফরিদ , তর্জনী দ্বারা নাকের নীচে ঘষে নেশাতুর কন্ঠে বলল।

“আই থিঙ্ক আই শুড ডু সামথিং।”

আফরিদের খামখেয়ালি কথাবার্তা শুনে অন্তঃস্থলে কাঁপুনি সৃষ্টি হয় ,শরীর জমে আসে বরফের ন্যায়। তীব্র বুক ধুকপুকানি নিয়ে একটু পিছিয়ে যায়। পিছন দিকে ঘুরে আড়াল করে নিজের অনূভুতি টুকু ‌। রিনরিনে গলায় বলল।
“খাবো আমি, খিদে পেয়েছে আমার।”

আফরিদের ভীষণ হাসি পেলো, হাসিটা চেপে রেখে খাবার মাখিয়ে মুখে তুলে দিয়ে খাইয়ে দিলো আফরিদ। ন্যান্সি না চাইতেও বাধ্য হয়ে খেয়ে নিল।

আকস্মিক প্লেট টা নিয়ে রেখে দিল আফরিদ। হকচকিয়ে গেল ন্যান্সি। ভীতু চোখে তাকায় আফরিদের মুখ পানে। দু’হাতে আদর মাখা মুখটা নিজের আঁজলায় তুলে নিল আফরিদ।

“তোকে আমি কোথায় লুকিয়ে রাখি বলতো পরাণ? বুকে লুকিয়ে রাখি? যাতে কেউ দেখতে না পায়,কেউ আঘা’ত করতে না পারে।”

বাকরুদ্ধ ন্যান্সি । আফরিদ তাকে ভালোবাসে সেটা সে আগেই জেনেছে। কিন্তু তাতে কি? তার ভালোবাসায় কোনো পবিত্রতা নেই ,সে এক পাপী। একটা খু’নি। মাফিয়া অবৈ’ধ সব কিছুর সাথে জড়িত।
ন্যান্সি শুধু বোকার মতো তাকিয়ে আছে।

“পরাণ , আমার হবি?”

ন্যান্সি বড়বড় চোখ করে তাকালো তার দিকে। ছিটকে দূরে সরে এলো।‌ আকস্মিক হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলল।

“আপনি একটা খারাপ মানুষ আমি কখনো আপনার হবো না। আপনি খু’নি।”

শান্ত মেজাজ টা বিগড়ে গেলো আফরিদের।
“চুপ বেশী কথা বলিস তুই! আমি খারাপ তাতে তোর বাপের কি? তোর কাজ হচ্ছে আমার হয়ে থাকা ব্যস।”

ন্যান্সি ঠোঁটে ঠোঁট চেপে কান্না আটকানোর চেষ্টা করে। সে চাচ্ছে না এই মূহুর্তে আফরিদ কে রাগিয়ে দিতে চায় সুযোগ বুঝে কোপ মা’রবে।
“আপনি আমাকে ভেঙেচুরে গুড়িয়ে দিচ্ছেন।”
“আমিই গড়ে দেব।”
“আপনার এই পাপের রাজ্যে আমার কাজ কি?”
“রাজ্য আমার রাজত্ব তোর,রাজ করতে থাক যেভাবে ইচ্ছা।”

কথাটা বলে একটু থামলো আফরিদ, ন্যান্সি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, আফরিদ ফের বলল,
“এখন কিভাবে রাজ করবি সেটা তোর উপর নির্ভর করে। তবে বুদ্ধিমানদের জন্য ইশারাই যথেষ্ট ‌।”

ন্যান্সি কিছুক্ষণ চুপ থাকল, আফরিদ হাত বাড়ালো বুকে আসার ইঙ্গিতে। ন্যান্সির নিজেকে অসহায় লাগছে, সে কোনো ভাবেই মানতে পারছেনা আফরিদ একজন মাফিয়া, তার চোখের সামনে খু’ন করেছে! সে ভালোবেসেছিল তাকে, কোনো ভাবেই তার খারাপ দিকটা মেনে নিতে পারছেনা।

অকস্মাৎ ন্যান্সি তীব্র দুঃখ নিয়ে বলল,
“আমি আপনাকে অভিশাপ দিচ্ছি, আপনার একটা মেয়ে হোক এরপর সেও আপনার মতো একজনের হাতে অত্যাচারিত হোক।”

আফরিদ কিছুক্ষণ নিষ্পলক চেয়ে থেকে ফিক করে হেসে দিল,হেসে হেসেই বলল,
“আগে কাছাকাছি আয় তারপর তোর খোদা তোকে একটা বাচ্চা দিক আমার অংশ হিসেবে।সেই বাচ্চাটাকে শাস্তি পাওয়ার জন্যে হলেও তো আসতে হবে দুনিয়ায়।আর তাকে আসতে হলেও তোকে এই আফরিদের নিকটে আসা অতি আবশ্যক।”

ন্যান্সি নাক টানলো, আফরিদ মেয়েটাকে এক টানে ফেলল বিছানায়। ন্যান্সি নির্বাক, প্রতিক্রিয়া দেখালো না।যা ইচ্ছে করুন কিছু বলবে না ন্যান্সি, তর্ক করতেও কষ্ট হচ্ছে।অথচ তাকে অবাক করে দিয়ে শার্টের অংশ তুলে পিঠের ক্ষ’ত স্থানে অল্প করে ক্রিম লাগাতে ব্যস্ত। আ’ঘাতটুকু শুকানো প্রয়োজন। আফরিদ কষ্ট পায় তার ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা কষ্ট পেলে, পরপর ঠোঁট ছুঁয়ে বুকের সাথে চেপে ধরে শীর্ণ বদন খানি।

🌿__🌿

নিস্তব্ধ রাত , নিজেকে একটা রুমে পড়ে থাকতে দেখে ভয়ে সেঁধিয়ে গেল ন্যান্সি। আফরিদ কি তাকে এখানে এনেছে?
হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে তার।

“আফরিদ? আফরিদ কোথায় আপনি? আফরিদ এসব মজা আমার ভালো লাগছে না। আফরিদ?”

তর্জনী আঙ্গুলে ঈগল পাখির আংটিটা রয়েছে। মুখে মাস্ক আর চোখে চশমা। লোকটা সেই আগুন্তক।

“আপনি? আপনি এখানে কি করে?”

আগুন্তক চাপা হাসলো , ভয়ংকর সেই হাসি।
“হেই বেইবি গার্ল হাউ আর ইউ?”

ন্যান্সি রাগে কাঁপছে। এই লোকটা তার সামনে অথচ সে কিছু করতে পারছে না। লোকটা তার পরিবার কে শেষ করে দিয়েছে। ন্যান্সি নিশ্চিত এটা আফরিদ ছাড়া আর কেউ নয়।

“আমি জানি আপনি আফরিদ , আমার সাথে এসব মজা লুকোচুরি আর করতে পারবেন না।”

অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে আগুন্তক। ন্যান্সির কথাগুলো তার নিকটে বাতাসে ভেসে আসা গুঞ্জন মনে হলো। সেই গুঞ্জনে কর্ণপাত করল না সে। হিসহিসিয়ে বলে উঠে।
“বেইবি গার্ল এখান থেকে ডিরেক্ট থার্ড ফ্লোরে যাবে। এরপর একটা রুম আছে ওখানে যাবে ঠিক আছে? তুমি সকল প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবে।কে আফরিদ এহসান আর কে আমি? প্লিজ গুলিয়ে ফেলো না। আমি কিন্তু মোটেও ভুল পছন্দ করি না।”

কথাটা বলতে বলতেই মাথাটা ভীষণ ঘুরতে লাগলো ন্যান্সির। জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ে মাটিতে।

জ্ঞান ফেরার পর আবারো নিজেকে বিছানায় দেখে আঁতকে উঠে ন্যান্সি। পাশেই এলোমেলো হয়ে ঘুমোচ্ছে আফরিদ। সে গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে আছে। ন্যান্সি আশ্চর্য হচ্ছে , এটা যদি আফরিদ হয় তাহলে সে কে ছিলো? আর থার্ড ফ্লোরে কি আছে?

নিজের ভেতরের উত্তেজনা সামলাতে না পেরে দ্রুত বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো ন্যান্সি। এটই সুযোগ সেখানে যাওয়ার। সে জানতে চায় কে আগুন্তক কে আফরিদ এহসান? কি হচ্ছে এসব?

পা টিপে টিপে উপরের গেল ন্যান্সি। এখানে প্রায় সব গুলো রুম বন্ধ। তবে নব মোচড়ে দিতেই গেল। ন্যান্সি শুনেছে ঈশানের থেকে আফরিদ মিটিং আর নিজের কিছু জরুরী কাজে এখানে আসে।
ন্যান্সি আস্তে আস্তে প্রথম রুমটায় গেল। ধুলোবালি জমে আছে আশেপাশে।
সামনে বড় একটা ফ্রেম টাঙানো। আফরিদ এহসান আর তার সাথে আরো একজন। সুদর্শন সুপুরুষ,তবে আফরিদের থেকে বেশি সুন্দর নয়। কিন্তু যতটুকু সুদর্শন তাতে অন্য কোনো পুরুষ টিকতে পারবে না।
ন্যান্সি আশ্চর্য চোখে দেখে তাকে।

“এটা কে?”

ছবিটা আলগোছে নামিয়ে আনে ন্যান্সি , স্পষ্ট লিখা আছে আফরিদ এহসান এবং লুসিফার এলেন ইদ্রান।
ইদ্রান নামটা দেখে অবিশ্বাস্য নয়নে তাকালো ন্যান্সি।
এর সাথেই তো কথা বলে আফরিদ।
কিন্তু কে ইদ্রান?

ন্যান্সি আশেপাশে খুঁজতে লাগল আরো কিছু পাওয়া যায় কিনা! না জানি কখন আফরিদ চলে আসে!
লোহার আলমারি টা টেনে খুলতেই ভেতরে অনেক গুলো পুরোনো জামা কাপড় দেখতে পেলো। আশ্চর্যের বিষয় কিচ্ছু পেলো না। এলোমেলো হাতে সব গুলো জামা টেনে সরারে ভেতরে একটা সিন্দুক দেখতে পায়। অর্ধ খোলা অবস্থায় রয়েছে।
আরেক দফা চমকে উঠে ন্যান্সি তার আগেই কি কেউ এসেছে এখানে? না হলে এটা খোলা থাকে কিভাবে?
ভেতরে অনেক গুলো ছবি দেখতে পেলো।
ধপাস করে তার হাত থেকে সিন্দুক টা পড়ে গেল। এমন কিছু রয়েছে যা দেখে চোখ দুটো ছানাবড়া হয়ে গেছে রীতিমতো।

“এটা… আফরিদ এহসান এটা কি করে সম্ভব? এটা আপনি কোথায় পেলেন?

ন্যান্সির নিঃশ্বাস যেনো বন্ধ হয়ে আসছে। এসব কি করে সম্ভব? আফরিদ কি করে পেলো এগুলো?

অথচ ন্যান্সি ঘুনাক্ষরেও টের পেলো না একজোড়া চোখ তাকে আড়ালে দেখছে।

চলবে……….।✨

(📌 অভিনন্দন প্রিয়রা পরের পর্বে সেন্টমার্টিন যাবো আমরা। সেখানে হবে আফরিদ এহসানের মধুর চন্দ্রিমা 🫣 তবে হ্যাঁ রেসপন্স ভালো এলে দ্রুত পর্ব আসবে।)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply