Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪১


অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ৪১]

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)

(📌 নিচের নোট পড়বেন অবশ্যই।)

টিমটিমে আলোয় গোডাউনের ভেতরটা যেন ভূতের আস্তানার মতো লাগছিল। মরচে ধরা টিনের ছাদ থেকে ঝুলে থাকা একেকটা বাল্ব আধো অন্ধকারকে পুরোপুরি ভাঙতে পারছিল না। চারপাশে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ, ইঁদুরের খসখস শব্দ, আর অচেনা ভয়ের ছায়া ঘিরে রেখেছে পরিবেশটাকে।

এক কোণে ভাঙাচোরা কাঠের বাক্সের পাশে জড়সড় হয়ে বসে আছে ন্যান্সি। তার শরীর কাঁপছে, ঠোঁট শুকিয়ে ফেটে গেছে। হাঁটু জড়িয়ে বসে থেকেও ব্যথার যন্ত্রণায় স্থির থাকতে পারছে না। পায়ের দু’জায়গার গভীর আ’ঘাত থেকে ধীরে ধীরে গরম র’ক্ত ঝরছে, প্রতিবার নড়াচড়া করলে সেই ক্ষ’ত থেকে শিরশির করে ওঠে।

ক্ষণে ক্ষণে তার মুখ ফুঁড়ে বেরিয়ে আসছে অস্ফুট গোঙানি শব্দগুলো এত মৃদু, যেন অন্ধকারও তা গিলে ফেলছে।

গোডাউনের ভেতরটা মুহূর্তেই নিস্তব্ধ হয়ে গেল। যে যেখানেই ছিল, কাজের ভান করা হাত থেমে গেল, চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইল সবাই। ভারী নিঃশ্বাসের শব্দ পর্যন্ত যেন চাপা পড়ে গেল পুরুষটির উপস্থিতিতে।

শোনা যাচ্ছিল জুতোর খসখসে শব্দ একটা, দুটো, তিনটে প্রতিটি ধ্বনি যেন বুকের ভেতর ধাক্কা দিচ্ছিল উপস্থিত সবার। আলো-আঁধারির ফাঁকে তার অবয়ব ধীরে ধীরে স্পষ্ট হলো। চোয়ালে জমে থাকা রাগ, চোখে প্রজ্বলিত অ’গ্নি, আর দেহভঙ্গিতে কঠোরতার ছাপ সব মিলিয়ে যেন এক অদৃশ্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল চারপাশে। ন্যান্সি ভেজা চোখে তাকায় লোকটার দিকে। তার শক্ত চোয়াল দেখে বুক কাঁপছে এখন।

আফরিদের আগমন যেন এক ঝড়ের আগমনী বার্তা। কারো সাহস হলো না মুখ তুলে কথা বলার, কেবল তটস্থ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রইল।

আফরিদ এগিয়ে এলো ন্যান্সির নিকটে ,পরণে মেয়েটার ছেলেদের শার্ট প্যান্ট। নিজের প্যান্ট টা খানিকটা গোড়ালি পর্যন্ত টেনে তুলে সামনে পা ক্রস করে বসলো ন্যান্সির।
রুক্ষ খসখসে হাতটা বাড়িয়ে গালটা এদিক ওদিক ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখলো। ন্যান্সি কেঁপে উঠলো তার স্পর্শে , আজকে আফরিদের স্পর্শে একটুও কোমলতা নেই। আদরের ভঙ্গিমায় ছুঁয়ে দেখেনি বরং ভেতরের রাগ সংবরণ করে শক্ত হাতে গালটা এদিক সেদিক করছে।

লাল হয়ে আছে অনেক জায়গা। ঠোঁটে কোণেও ব্যথা পেয়েছে। হয়তো মাস্ক টা টান দেওয়ার সময় এটা হয়েছে।
আফরিদ প্যান্টের পকেট থেকে একটা প্যাকেট বের করে আনে।‌ সেই প্যাকেট খুলে হাতের উল্টো পিঠে সাদা সাদা পাউডার মেলে দিয়ে পরক্ষণেই নাকের কাছে টেনে নিলো।

ন্যান্সি স্তব্ধ, বাকরুদ্ধ। আফরিদ ড্রা’গস নেয়? তার এই সম্পূর্ণ প্যাকেটটা চোখের সামনে খালি করে ফেলল। অবাকের চূড়ান্তে পৌঁছে গেছে মেয়েটা আজ। সবটাই অবিশ্বাস্য তার কাছে।

আতাউর ক্ষিপ্ত কন্ঠে বলে উঠে।
“এই মাইয়াডা বিনা অনুমতিতে গোডাউনে ঢুইকা আইছে স্যার।”

আফরিদ শুনলো , ন্যান্সির শার্টে হাত বাড়ি উপরের অংশ মুছে নিলো। ন্যান্সি থরথর করে কাঁপছে। আফরিদ কে চিনতে পারছেনা আজ। কে এই লোক? এটাই কি সেই আফরিদ যে সর্বদা হাসিখুশি মুখ করে নিজের বেহুদা কথা বলতে থাকে? নাকি ন্যান্সি চোখে ভুল দেখছে?

আফরিদ অদ্ভুত কন্ঠে বলে উঠে।
“মেয়েটাকে আমার ভীষণ মনে ধরেছে। সুন্দরী।”

আতাউর যেনো চমকালো ,পরপরই হেসে বলল।
“তাহলে কি স্যার ফাস্টক্লাস রুমের ব্যবস্থা করি?”

আফরিদ নির্বাক, ন্যান্সি ওদের কথায় আর প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারলো না। সবকিছু ভ্রম মনে হচ্ছে তার কাছে।
মিনিট দশেক ওভাবেই আফরিদ ন্যান্সির দিকে তাকিয়ে রইল। আফরিদ ন্যান্সির দিকে খানিকটা ঝুকে ক্ষীণ স্বরে বলে উঠে।
“রুমে যাওয়ার প্রয়োজন আছেমাই ডিয়ার পার্সোনাল পিরানহা ফিশ?”

ন্যান্সি উত্তর করতে পারলো না,এই মূহুর্তে আফরিদ কে সবচেয়ে বেশি ঘেন্না করে সে।

“আতাউর।”

“জ্বি স্যার।”

“ল্যাপটপ টা নিয়ে আয়।”

আতাউর তাই করলো , দ্রুত এগিয়ে গিয়ে ল্যাপটপ টা নিয়ে এলো।
ন্যান্সি ভেজা পল্লব ঝাপটায় বারংবার। আফরিদ নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে দেখছে তাকে। ল্যাপটপ আনতেই সেটা নিয়ে দক্ষ আঙ্গুল চালায়।
ন্যান্সি এখানে আসা থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ঠিক কি কি হয়েছে সবটাই দেখলো। ন্যান্সির গায়ে স্পর্শ করা প্রতিটি গার্ড কে সে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখল। রাগে মস্তিষ্ক দপদপ করছে তার।

সজোরে আছাড় মে রে ল্যাপটপ টা ভেঙ্গে দু টুকরো করে দিলো। উপস্থিত সবাই কেঁপে উঠলো এই আচরণে। পিছিয়ে গেল আতাউর।

সহসা ন্যান্সির গাল চেপে ধরলো আফরিদ এহসান। দাঁতে দাঁত পিষে হিসহিসিয়ে বলল।

“জানো’য়ারের বাচ্চা ,বা’ন্দির বাচ্চা তোকে বলছিলাম না এই শরীরে যাতে একটা ফুলের টোকাও না লাগে? বলছিলাম কি-না? তাহলে আ’ঘাত পেলি কেন? তোকে ছোঁয়ায় সাহস কেন দিলি ওদের? তুই না কুংফু জানিস? এই বা’লের কুংফু গিরি কোথায় ছিলো? বল! নাকি শুধু আমার সাথেই তোর এইসব চলে!”

হুঁ হুঁ করে কেঁদে উঠলো ন্যান্সি ,আফরিদের চেপে ধরা হাতটা এতটাই শক্ত যে ব্যথায় আঁখি বেয়ে উপছে পড়ছে জল। আফরিদ বোধহয় এই প্রথম তাকে এতটা ব্যথা দিচ্ছে।

“তুই কি জানতে চাস? কি করি আমি? তাহলে শুন, অ’স্ত্র পাচার করি আমি। মাফিয়া আমি , সবচেয়ে নিকৃ’ষ্টতম মানুষ। ন’রপ’শু আমি। মানুষ মা’রতে দু’বার ভাবি না! টেরোরিস্ট আমি। মাফিয়া আমি ,মাফিয়া কিং আফরিদ এহসান আমি। প্রত্যেকটা দেশে আমার রাজত্ব চলে। এই হাতের মুঠোয় দেশ-বিদেশ শাসন করি।”

ন্যান্সির নড়াচড়া মূহুর্তের মধ্যে থেমে গেল। স্থির নেত্রে বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে ন্যান্সি। আফরিদের নীলাভ মনি যেন মনে হচ্ছে লাল হয়ে এসেছে।
কি শুনলো ন্যান্সি? আফরিদ মাফিয়া? সে অ’স্ত্র পা’চার করে? শুধু কি অস্ত্র পাচা’র নাকি অন্য কিছু?

“এই সামান্য কথাটা জানতে তুই এই শরীরে আ’ঘাত দিতে দিলি?”

ন্যান্সি নির্বাক ,কথা বলতে পারছে না।‌ আফরিদ পাগলাটে হয়ে উঠে। গর্জে ওঠে হুংকার ছেঁড়ে।

” You sons of bitches, how dare you? আমার বউ কে কোন সাহসে ছুঁয়েছিস?”

ব্যস একটা শব্দ যথেষ্ট ছিলো সবার কলিজা কাঁপিয়ে দেওয়ার জন্য। আতাউর স্তম্ভ! এই মেয়েটা আফরিদ এহসানের বউ? গার্ড গুলোর চোয়াল ঝুলে এলো। আফরিদ হাত বাড়িয়ে মোটা রড টা তুলে নিল। ন্যান্সি কে গালি দেওয়া গার্ড টা গলা চেপে ধরে।

“You motherfers,,,,,,,তোর কোন দিক দিয়ে ওরে খা””নকি মনে হইলো? হুঁ বল বল?”

ছেলেটা নিঃশ্বাস নিতে পারছে না।‌ আফরিদ ছাড়ার পাত্র নয়।‌ সজোরে রড টা দিয়ে আঘাত করলো তার স্পর্শ কাতার জায়গায়।‌ প্যান্ট বেয়ে রক্তের স্রোত বয়ে গেল। নিজের চোখে বিভৎস দৃশ্য গুলো দেখে নিঃশ্বাস আটকে আসছে ন্যান্সির।

আফরিদ থেমে নেই পাশে থেকে তুলে নিলো ছোট সাইডের লোহা টা। ঠিক চোখ বরাবর ঢুকিয়ে দিলো তা। একের পর এক ঢুকাতে ঢুকাতে বলল।

“আমি ওরে এখনো ছুঁয়ে দেখি নাই ব্যথা পাবে বলে আর তোদের কলিজায় এত সাহস ওরে আঘা’ত করিস?

ভেতরের সব রাগ উগরে দিলো লোকটার উপর। মুখটা কেটে’ বিভৎস করে ফেলে। তার জিভ টেনে কে টে দিলো। ন্যান্সি মৃদু স্বরে চেঁচিয়ে উঠে তার এই ভয়ংকর রূপ দেখে।

তৎক্ষণাৎ দৌড়ে ভেতরে ঢুকে আসে ঈশান। পড়ে থাকা ন্যান্সি কে টেনে তুলে। অস্থির ভঙ্গিতে বলতে লাগলো।

“আপনি চলুন আমার সাথে ম্যাম।”

সহসা পিছন থেকে র”ক্তে মাখো মাখো আফরিদ হুংকার ছেড়ে বলল।

“ও-যাবে না কোথাও। ওরে এখানেই রাখ। ওরে আমি ছুঁয়ে দেখি নাই ওর কষ্ট হয় বলে। ওর আ’ঘাতে আমার বুক পুড়ে আর শালীকে কি-না অন্য কেউ আ”ঘাত করে?”

ন্যান্সি দম নিতে পারছে না। গার্ডের শরীর টাকে পাশের রড টা দিয়ে একের পর এক আ’ঘাত করতে করতে ছিন্নভিন্ন করে ফেলল। র’ক্তের স্রোত বয়ে যায় মেঝে জুড়ে। বাকি গার্ড গুলো কেঁপে উঠে আফরিদের এই ভয়ংকর রূপ দেখে।
আফরিদ ডাকতেই আরো কয়েকজন গার্ড কে ডাকলো বাকিগুলো কে কসাই খানায় নেওয়ার জন্য। সেই জায়গাটা যেখানে মানুষ কে’টে ফেলতে দুবার ভাবেনা আফরিদ এহসান। ।
ন্যান্সি নিতে পারে না এগুলো,গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠে। ঈশান কে আঁকড়ে ধরে কাঁপা কাঁপা গলায় বলতে লাগলো।

“আমাকে নিয়ে চলুন ভাইয়া, আমি এগুলো দেখতে পারছি না।‌ আমাকে নিয়ে চলুন।”

আফরিদের উপর যেতে পারলো না ঈশান। চোখ দুটো ঈশানে বুকে লুকাল ন্যান্সি। ভয়ে মেয়েটার শরীর কাঁপছে।
আফরিদ এগিয়ে এলো , ন্যান্সির কব্জি টেনে ধরে বলল।
“চল আমার সাথে। আজকে আফরিদ দেখাবে সে ঠিক কতটা হিংস্র। তুই দেখতে চাস সে কে, সেটাই আজকে দেখবি!”

ন্যান্সি ধস্তাধস্তি করলো নিজেকে ছাড়ানোর জন্য।
“প্লিজ ছাড়ুন আমাকে। ঈশান ভাইয়া আমাকে আপনার কাছে নিন প্লিজ।”

ঈশান অসহায়। ন্যান্সির এই কান্না তাকেও ভীষণ কষ্ট দিচ্ছে। ভীতু সত্তার এই মেয়েটা ভয়ংকর কিছু দেখতে চলেছে তা আন্দাজ করতে পারছে সে।

ন্যান্সিকে নিয়ে ভেতরের সরু পথ ধরে এগুতেই সে সজোরে লাথি দিলো আফরিদের কোমড় বরাবর। এক মূহুর্তের জন্য আফরিদ ওর হাত ছাড়তেই ন্যান্সি পালানোর চেষ্টায় উল্টো পথে দৌড় লাগায়। আফরিদ হাত বাড়িয়ে খামচে ধরে ওর চুলের মুঠি পরপর ছেড়ে দিয়ে দুহাতে কোমড় পেঁচিয়ে ধরেছে। ন্যান্সি হুহু শব্দে কান্নায় হেঁচকি তুলতে তুলতে বলল।

“আল্লাহর দোহাই আফরিদ ছাড়ুন আমাকে। আমি দেখতে চাইনা এসব। ছেড়ে দিন দয়া করে!”

“তুই দেখবি। তোকে দেখতেই হবে।”

ন্যান্সি কে আবারো নিজের সাথে করে কসাইখানায় নিয়ে গেল আফরিদ। শিকল দিয়ে পা আটকে দিলো তার। পালাতে পারছে না ন্যান্সি।

আফরিদ সেই সকল গার্ড গুলোকে একে একে মা’রবে বলেই ঠিক করেছে আজ!
চারজন,মোট চারজনকে বাধা হয়েছে। এমন মনে হচ্ছে তারা কোনো গরু যাদের কুরবানী দেওয়া হবে।

ঈশান ন্যান্সির অবস্থায় হাপিত্যেশ করে বলল।
“বস, ম্যাম স’হ্য করতে পারবেন না। ছেড়ে দিন ওনাকে। প্লিজ আপনি বাড়ি যান!”

আফরিদের রক্তিম আঁখিদ্বয় দেখে ঈশান শেষমেষ চুপ করেই গেল।
ন্যান্সির হাতের আঙ্গুল এমন ভাবে কাঁপছে যেনো সে মৃগী রোগী।

“তোকে ছুঁয়েছে যারা আজকে তাদের আমি পিসপিস করব আর সেটা তুই দেখবি!”

ন্যান্সি ঠোঁটে ঠোঁট চেপে কেঁদে ফেলল। দুর্বল হৃদয়ের এই কন্যার স’হ্য হয়না আফরিদের এই হিংস্র’তা।
“You didn’t want to touch her here, right?”

গার্ডের হাতটা মূহুর্তের মধ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে দুই টুকরো করে ফেলল,আফরিদের দৃষ্টি তখনো ন্যান্সির চোখে নিবদ্ধ। ন্যান্সি যেনো কান্না করাই ভুলে গেছে। প্রতিটি অঙ্গ টুকরো টুকরো করতে গিয়ে রক্তে স্নাত করেছে আফরিদ। কুপিয়ে কুপিয়ে হ’ত্যা করেছে তাদের।
ন্যান্সি বাকরুদ্ধ স্তব।

দীর্ঘ পনেরো মিনিটে চোখের সামনে সবাইকে খন্ড খন্ড করে ফেলেছে আফরিদ।
“Angelina is looking at me. See how fierce I am, how beastly.”

শেষের গার্ডকের গলায় ছুরি ধরে একটানে মাথাটা আলাদা করে দিলো আফরিদ। ন্যান্সির নিঃশ্বাস আটকে যাচ্ছে। হৃদস্পন্দন দ্রুত চলছে। এক মূহুর্তের জন্য মনে হলো সে মা’রা যাবে।

এবারে আতাউরের দিকে এলো আফরিদ। লোকটা চরম ভুল করেছে মেয়েটার গালে হাত দিয়ে। চেয়ারে পা ঝুলিয়ে সিগারেট তুলে নিল আফরিদ। র’ক্তে শার্টের অবস্থা বিশ্রী হয়ে উঠেছে। সিগারেটের লম্বা টান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে দিলো।

“কি রে শা’লা তোর হাতে এতই জোর ওর গালে হাত দিলি যে?”

আতাউর হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। দু’পা জড়িয়ে ধরে আফরিদের।
“স্যার মাফ করে দেন স্যার।‌ আমি জানতাম না উনি আমাদের ম্যাডাম।”

একপেশে বিভৎস সেই হাসিটা। সিগারেট পরপর আবারো টান দিলো আফরিদ। ঘাড় কাত করে শেকলে বন্দি ন্যান্সির দিকে তাকিয়ে বলল।

“উঁহু উঁহু ছাড় নাই। যেখানে ওআমার গাড়ির পিছনে লুকিয়ে এসেছে ,কিছু বলিনি। ওকে এখন অব্দি ব্যথা দেই নি। একটা সিক্রেট শুনবি? এই বালপাকনা মেয়ে বিয়ে থেকে পালিয়েছে বলে দশটা থাপ্পড় দিয়েছিলাম,ছে! এখনো রাতে গিয়ে ও ঘুমিয়ে থাকলে গালে নিয়ম করে চুমু খাই। ও সেটা বলতেও পারবে না। আর তুই কিনা ডিরেক্ট গালে দিলি?”

ন্যান্সি বাকরুদ্ধ ,আফরিদ কি বলল এগুলো? সে দেখেছে তাকে গাড়ির পিছনে লুকিয়ে আসতে? তাহলে কেন চুপ রইল?

টেবিলের উপর থেকে ক্লিভার টা তুলে নিল আফরিদ। ছুড়ে দিলো আতাউরের দিকে।
ভাবলেশহীন কন্ঠে জবাব দিলো।

“হয়তো নিজের হাত কা’টবি ,এই আঙ্গুল গুলো থাকার অধিকার নাই।‌ আর নয়তো আমি তোর গলা কা’টব।”

আতাউর হাজার অনুরোধ করলেও ছাড় দেবে আফরিদ সে জানে। গলা কাটার থেকে হাত কাটা উত্তম বলেই মেনে নিল সে। ন্যান্সি বাকরুদ্ধ। কাঁপা কাঁপা হাতে ক্লিভার টা তুলে নিল আতাউর। ন্যান্সি বিস্ময়ে হতবাক , নির্বুদ্ধিতা তাকে ঘিরে ধরেছে।

এক টানে নিজের আঙ্গুল গুলো কে টে ফেলল আতাউর। কাটা আঙ্গুল গুলো ছিটকে এসে পায়ের কাছে পড়ল ন্যান্সির। ন্যান্সি হাঁ করে তাকিয়ে আছে। অতঃপর গগন কাঁপিয়ে চিৎকার করে উঠল। সেই চিৎকারে হৃদয় স্পন্দন প্রক্রিয়া দেখালো। ন্যান্সির হাতটি চলে গেল তার নাকে, নাসারন্ধ্র হতে নির্গত হয় র’ক্তের তরল পদার্থ। আফরিদ সেই র’ক্ত দেখে থমকালো। বিচলিত হয়ে উঠে, অকস্মাৎ মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল।

ঈশান চিৎকার করে গিয়ে টেনে ধরে ন্যান্সি কে।
“ম্যাম? ম্যাম কি হয়েছে আপনার?ম্যাম?”

আফরিদ ত্রস্ত পায়ে এগিয়ে এসে রক্তাক্ত হাতেই গালে আলতোভাবে থাপ্পড় দিলো।
“এই মেয়ে? এই কি হয়েছে তোর? এই উঠ বলছি।”

ন্যান্সির নাক থেকে রক্ত আসছে। আফরিদের বুকে ব্যথা করছে। সে অনুভব করলো তার বুকে প্রচন্ড ব্যথা হচ্ছে।
“এই মেয়ে ওঠ। ওঠ বলছি,এমন ফাজলামি করিস না। খোদার কসম মরে যাবো।উঠ প্লিজ। জানকি বাচ্চা উঠ।এই কুত্তার বাচ্চা উঠতে বললাম তো! উঠ বলছি পরাণ।”

🌿🌿
রেড সাইলেন্ট ম্যানরে রয়েছে ন্যান্সি।
সেই কক্ষকে একটা হসপিটালের কেবিন হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। ন্যান্সি ঘুমোচ্ছে আপাতত।

Hypertensive Crisis (উচ্চ রক্তচাপের হঠাৎ সংকট) মূলত তখন ঘটে যখন রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে অত্যন্ত উচ্চে চলে যায় সাধারণত সিস্টলিক। এটি শরীরের জন্য জীবন-হুমকির অবস্থার সমতুল্য, কারণ এটি মস্তিষ্ক, হার্ট, কিডনি বা চোখের র’ক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তীব্র মানসিক চাপ, ভয়, আতঙ্ক বা হঠাৎ রাগ
অত্যধিক উদ্বেগ বা আতঙ্কের মুহূর্তে র’ক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে।
ডক্টরের কথা গুলো শুনে ভেতরে ভেতরে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল আফরিদের। সে বাধ্য করেছিল এই মেয়েকে সবটা দেখতে।
আফরিদ গত এক সপ্তাহ ধরে পাগলের মতো ছিলো। মাইমুনা এহসান ছেলের অবস্থা দেখে বিস্মিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করেছিলেন।
“কি এমন আছে ওর মাঝে?”

আফরিদ প্রত্যুত্তরে বলেছিল।
“আমার প্রাণ।”

🌿_______🌿

❝রেড সাইলেন্ট ম্যানর❞

ঘুমটা হালকা হয়ে এসেছে ন্যান্সির। ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকালো। মাথাটা ভনভন করে ঘুরছে মনে হচ্ছে। ধীরে ধীরে বিছানায় উঠে বসলো ন্যান্সি। নরম তুলতুলে বিছানায় শুয়ে ছিলো ন্যান্সি। পায়ে ভীষণ ব্যথা করছে। সেদিন দুপুরের বিভৎস ঘটনাটা মনে পড়তেই হাত-পা হিম হয়ে এলো তার।
খট শব্দে দরজা টা খুলে ভেতরে ঢুকে এলো আফরিদ এহসান। আফরিদ কে দেখে দেহ কেঁপে উঠল মেয়েটার।‌ বিছানা থেকে নেমে এলো নিচে। পা ব্যথা করছে মারাত্মক ভাবে ,ভিজে উঠে আঁখি পল্লব তার।

“হায় মেরি বান্দি,উঠে গেছিস?”

ন্যান্সির নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। আফরিদ কি বিভৎস ভাবে খু’ন করেছে লোকটাকে! হ্যাঁ একজন মাফিয়া , একজন টেরোরিস্ট। সে কখনোই ভালো হতে পারে না। আর ন্যান্সি কি-না তাকে ভালোবেসে ফেলেছে?

“আমার থেকে আপনি দূরে থাকুন। জা’নোয়ার আপনি জা’নোয়ার। মানুষ নামক ন’রপ’শু।”

আফরিদ হাসে , নিষ্পাপ হাসি।‌ অথচ এই মুখের পিছনে লুকিয়ে আছে তার পৈশাচিক সেই বিকৃত মস্তিষ্ক।

“একজ্যাক্টলি। একদম ঠিক বলেছিস তুই আমি মানুষ নামক ন’রপ’শু। বাট বাট বাট শুধু অন্যদের কাছে। তুই তো নিজেই চেয়েছিস আমাকে চিনতে। আমি কে সেটা জানতে। আমি তো চাইনি তুই আমার বিষয়ে জান!”

ন্যান্সি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বিছানা থেকে নেমে হাঁটছে।
“আমি আপনার সাথে থাকব না। আমি এখুনি চলে যাবো।”

ন্যান্সি আফরিদ কে উপেক্ষা করে বের হতে নিলে তার বাহু টেনে ধরলো আফরিদ।

“শালী,মাঙ্গের নাতি এতই সহজ আমার থেকে যাওয়া? উঁহু এতটা সহজ নয়। বিয়ে করেছি তোকে এমনি এমনি করিনি।‌বহু কাহিনী আছে।”

“ছাড়ুন আমাকে , আমি আপনার সাথে থাকতে চাই না ছাড়ুন বলছি। আপনি খু’নি।”

মেজাজ হারালো আফরিদ ,গাল চেপে ধরে ন্যান্সির। হিসহিসিয়ে বলে উঠে।

“কুত্তার বাচ্চা তোর জন্য খু’ন করেছি আমি। তোকে আমি বৈ কারো ছোঁয়ার কথা নয়। তাহলে কেন ছুঁয়েছে অন্য কেউ? হুঁ বল? আমি বলছিলাম না এই দেহে যাতে একটা ফুলের টোকাও না লাগে? কেন লাগলো?বল মা’তারি।”

ন্যান্সি ছুটতে ধস্তাধস্তি করলেও পুরুষালী দেহের সাথে পেরে উঠে না।

“ছাড়ুন আমাকে।”

“উঁহু শাস্তি বাকি আছে। আর মাত্র এক ঘন্টা এরপর তোর শাস্তি পাওয়ার সময়।”

ন্যান্সি কে পাঁজা কোলে তুলে বিছানায় নিয়ে এলো আফরিদ। শুইয়ে দিলো বিছানায়। পায়ের ব্যথা স’হ্য করতে পারছে না সে। ব্যান্ডেজ করা কিন্তু তারপরেও ভীষণ ব্যথা হচ্ছে , নিশ্চয়ই এই ব্যান্ডেজ এই জানো’য়ার টা করেছে।
অথচ ন্যান্সি জানতেই পারলো না গত এক সপ্তাহ ধরে তার প্রতিটি ক্ষ’ত জায়গায় হাজার কোটি বার চুমু খেয়েছে এই জা’নোয়ার।

হাতটা শার্টের বোতামে চলে যায় আফরিদের। ফটফটা সব গুলো বোতাম খুলে ফেলল সে।‌ আঁতকে উঠে ন্যান্সির অন্তঃস্থল।
কাঁপা কাঁপা স্বরে বলল।

“আমার কাছে আসবেন না আপনি। আমি আপনাকে ঘেন্না করি।”

গা দুলিয়ে হেসে উঠলো আফরিদ।
“আমি কখন বললাম আমাকে ভালোবাসতে? ঘেন্না যথেষ্ট।”

সে পালাতে চায়, আফরিদ বাঁকা হেসে বলল।
“Run, little mouse, run if I catch you, I’ll f””k you.

ন্যান্সি ডুকরে কেঁদে উঠলো , কোথাও একটা কষ্ট হচ্ছে তার। এই লোকটা ভালো মানুষ নয় ,সে সেটা বুঝে উঠেছে। কিন্তু ন্যান্সি তো তাকে ভালোবাসে, ন্যান্সির নিজের উপর রাগ হচ্ছে সে কেন খারাপ মানুষ হলো?

“ওহে সুন্দরী তোমাকে আজকে আফরিদ এহসান তার সবচেয়ে দামী জিনিস উপহার দেবে। ডিএনএ। তোর তো খুশি হওয়ার কথা।”

রাগে ফুঁসে উঠে ন্যান্সি। নাক মুখ কুঁচকে বলল।
“ছিহ্ , নোংরা লোক আপনার স্পর্শে আমি অপবিত্র হবো।”

আফরিদ উদোম গায়ে এসে ধপাস করে শুয়ে পড়ল ন্যান্সির উপর। মৃদু স্বরে বলল।

“তুই অপবিত্র হবি অ্যাঞ্জেলিনা,আর আমি তোর সান্নিধ্য পেয়ে একটুখানি পবিত্রতা খুঁজে নেব।”

আবারো ডুকরে কেঁদে ফেলল ন্যান্সি।
“আপনি খারাপ মানুষ , আপনার সঙ্গ চাই না আমি।”

আফরিদ ঠোঁট উল্টে নেয়। বাচ্চা সুলভ মুখ করে বলল।

“প্লিজ চিৎকার কম করিস এই রুমটা কিন্তু সাউন্ড প্রুফ নয়।”

ওষ্ঠো জোড়া ফাঁক হয়ে এলো ন্যান্সির।

চলবে……..।✨

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply