অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ৪০]
লেখিকাফারহানানিঝুম
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
“ভাইয়া সত্যি বলছি ভাবী আমার অনুমতি ছাড়াই রুমে গিয়েছিল! তাই…
“তাই তুই আমার বউয়ের সাথে গলা উঁচিয়ে কথা বলবি তাই তো?”
আফরিদের হিমশীতল গা কাঁপানো কন্ঠস্বর শুনে ভয়ার্ত চোখে তাকায় সাব্বির। নীলাদ্রি আফরিদ কে বুঝানোর সহিতে বলে।
“প্লিজ ভাই এটার জন্য অন্তত সাব্বির কে কিছু বলো না। ভাবী কিন্তু এটা ভুল করেছে।”
“বা’লের ভুল রাখ তোর কাছে। ও তো আমার অনুমতি ছাড়াই আমার গাড়ির পিছনে লুকিয়ে গোডাউন অব্দি পৌঁছে গেছে। তারপরেও ওকে আমি টু শব্দটি পর্যন্ত বলিনি। আর তোর রুমে, জাস্ট রুমে গিয়েছে বলে তুই ওর সাথে গলা উঁচিয়ে কথা বলেছিস? হাউ ডেয়ার ইউ?”
সাব্বির চমকে উঠে , কম্পিত স্বরে বলল।
“সরি ভাইয়া।”
আফরিদ একপেশে হেসে বলল।
“এটা প্রথম এটাই দ্বিতীয়। এরপর যদি একই ভুল হয় তাহলে জান নিতে দু’বার ভাববো না। ভুলে যাবো তুই আমার ভাই।”
নীলাদ্রি আড়চোখে তাকালো সাব্বিরের দিকে। রাগে কপালের রগ গুলো ফুলে উঠেছে সাব্বিরের। একটা মেয়ের জন্য তার ভাই কি-না শেষমেষ তাকেই মে রে ফেলার কথা বলছে?
আফরিদ উঠে গেল , স্টাডি রুমে রয়েছে তাদের পারিবারিক উকিল সাহেব।
আফরিদ যেতেই তিনি কিছু কথা বললেন , তারপর একটা পেপার এগিয়ে দিলেন। আফরিদ ফটাফট পরপর দু’টো সাইন করে দিলো।
তৎক্ষণাৎ রেগে বোম হয়ে স্থান ত্যাগ করলো সাব্বির আর নীলাদ্রি।
রুমে এসেই নীলাদ্রি শার্ট খুলে ছুঁড়ে ফেলল বিছানায়। তাকে এতটা রাগতে দেখে শিউরে উঠে কল্পনা।
“কি হলো নীলাদ্রি এত রেগে যাচ্ছ কেন?”
দুহাত কোমরে তুলে পায়চারি করতে বড় ব্যস্ত নীলাদ্রি।
“ওই ইলহাম বলল আর ভাই ওকে বাড়িটা লিখে দিলো।”
কল্পনা তপ্ত নিঃশ্বাস ছাড়লো। বিরক্তিকর কন্ঠে বলল।
“এই বাড়িটায় তো আহামরি কিছুই নয় নীলাদ্রি। ভুলে যাচ্ছো বার্সেলোনার কথা?”
নীলাদ্রি কপালে আঙ্গুল ঠেকিয়ে ভাবুক কন্ঠে বলল।
“বিষয়টা শুধু মঞ্জিলের নয় কল্পনা। ভাই ইলহামের জন্য যা ইচ্ছে করতে পারে। এটা তার সামান্য প্রমাণ।”
কল্পনা নিজেও আশ্চর্য হলো আফরিদের কর্ম কান্ড দেখে।
স্টাডি রুম থেকে বের হতেই আফরিদ সম্মুখীন হলো মাইমুনা এহসানের। চোখ মুখ শক্ত হয়ে আছে উনার। তীর্যক কন্ঠে বলেন।
“ভালোবাসা ভালো কিন্তু অন্ধের মতো নয় বেটা।”
আফরিদ প্রত্যুত্তরে বাঁকা হাসলো। মাইমুনা এহসানের হাতটা তুলে আলগোছে চুমু এঁকে ধীরে বলে।
“তোমার ছেলে না হয় অন্ধ হলো মম।”
মাইমুনা এহসান নির্বাক। আফরিদ ওনাকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল।
মাইমুনা এহসান মোটেও বাড়ি নিয়ে চিন্তিত নন তিনি চিন্তিত আফরিদের এই অহেতুক পাগলামো দেখে। এই বাড়িটা সামান্য তার থেকেও বেশি বার্সেলোনা শহরে রয়েছে তাদের সবকিছু। কিন্তু আফরিদ কেন এতটা পজেসিভ ইলহামকে নিয়ে? নাকি এর পেছনে রয়েছে বড় কোনো রহস্য?
🌿🌿
রুমের এক কোণে বসে আগুন্তকের দিয়ে যাওয়া এলবাম টা সন্তর্পণে লুকিয়ে রেখেছিল ন্যান্সি। আফরিদের অগোচরে সেটাই এই মূহুর্তে দেখে চলছে। একের পর এক ছবি। সেই ছোট্ট ছেলেটা। ছেলেটা আফরিদ এহসান সেটা বুঝতে বাকি নেই। ওই যে তার নীলাভ মনি ওয়ালা চোখ দুটো। কিন্তু পাশের লোকটাকে এখনো চিনতে পারেনি। বারংবার মনে হচ্ছে আদতেও সে কি আফরিদের বাবা? নাকি অন্য কেউ? কিন্তু যতটুকু বুঝলো তাতে ওনাকে আফরিদের বাবা বলেই মনে হচ্ছে তার। আফরিদ নিজে বলেছে তিনি একজন সায়েন্টিস্ট।
মস্তিষ্কে ঘুরপাক খাচ্ছে হাজার টা প্রশ্ন অথচ উত্তর খুঁজেই পাচ্ছে না সে। কি করবে সেটাও বুঝে উঠতে পারছে না।
সব কিছু ভাবতে ভাবতে মাথাটা কেমন ঝিমঝিম করছে তার।
সপাটে এলবাম টা বন্ধ করে আলমারিতে তুলে রাখলো ন্যান্সি। খুব শীঘ্রই তাকে গোডাউনে যেতে হবে , আজকেই যেতে হবে।
ভাবনায় মগ্ন ন্যান্সি কাইট্যানের ম্যাও ম্যাও ডাকে এগিয়ে গেল। লোমশ বিড়াল টাকে কোলে তুলে নিল। দরজার নব মোচড়ে ভেতরে এলো আফরিদ। মুখ ঘুরিয়ে সেদিকে তাকালো ন্যান্সি।
পা থেকে মাথা পর্যন্ত অবলোকন করে চলেছে আফরিদ ন্যান্সি কে। বাচ্চা বাচ্চা লাগে মেয়েটাকে। এই যে হালকা বাদামি রঙের ওভারে সাইজের টিশার্ট পরেছে সাথে লেংগিস। কোলে বিড়াল টা আরো মায়া মায়া লাগছে।
বিড়ালটার দিকে তাকাতেই মুখ কেমন করে নিল কাইট্যান। চোখে চোখেই যেনো বলছে।
“নষ্ট বাপ আমার মায়ের দিকে তাকাস না।”
আফরিদ বাঁকা হাসলো। চোখে চোখেই যেনো বুঝিয়ে দিলো বউটা আমার।
“এই ধর।”
ন্যান্সির দিকে একটা পেপার বাড়িয়ে দিল সে। ফ্যালফ্যাল করে পেপারটার দিকে তাকালো ন্যান্সি। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে বলল।
“এটা কি ডিভোর্স পেপার? আপনি আমাকে সত্যি ডিভোর্স দিচ্ছেন?”
চওড়া কপালে কুঞ্চন হয়ে আসে আফরিদের।
“ওরে শাউ’য়্যার নাতি ডিভোর্সের এত শখ? এই জীবনে তো সেটা পাবি না।”
ন্যান্সি চোখ পাকিয়ে তাকালো ,এক বুক হতাশা নিয়ে বলল।
“সেদিন কিন্তু বলেছেন চা বানানোর উপহার স্বরূপ কিছু দিবেন।”
আফরিদ হেসে ফেলল।
“হ্যাঁ ঠিকই।”
“তাহলে ডিভোর্স দেন।”
অসহায় মুখ করে তাকালো ন্যান্সি। ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল।
“ডিভোর্স চাইলি অথচ আমার দামি ডিএনএ চাইলি না। হতাশ , চরম হতাশ আমি।”
ফিক করে হেসে ফেলল ন্যান্সি।
“আপনি ভীষণ অদ্ভুত মানুষ। পেপার টা কিসের?”
আফরিদ একবাক্যে বলল।
“আমার প্রপার্টি,এই বাড়ির ফিফটি পার্সেন্ট তোর নামে করে দিয়েছি।”
কথাটা কর্ণ গোচরে প্রবেশ করতেই হাত ফসকে কাইট্যান নিচে পড়ে গেল। সহসা বসে পড়ল ন্যান্সি।
“ইশ্ কাইট্যান অ্যাম সরি। দেখি কোথায় লাগলো?”
সুঁচালো দৃষ্টিতে তাকালো আফরিদ। ভুল করেছে সবচেয়ে বড় ভুল। এই বেয়াদব বিড়ালটাকে এনে সবচেয়ে বড় ভুল করেছে সে।
“ওই কুত্তার বাচ্চা ওর জায়গায় যদি আমি পড়ে যেতাম তখন কি বলতি কোথায় লেগেছে?”
ন্যান্সি কাইট্যান কে তুলে বাস্কেটে রাখতে রাখতে বলল।
“উঁহু উল্টো আপনাকে দু ঘা বসিয়ে দিতাম।”
“সাধে কি বলি তুই র’ক্তচুষি ডা’ইনি। আমার খেয়ে আমাকেই মা’রার ধান্দা!”
ন্যান্সি এগিয়ে এলো ,আফরিদের বুকের মাঝখানে আঙ্গুল রেখে বলল।
“খুব শীঘ্রই আপনাকে ছ্যাঁকা দিতে চলেছি মিস্টার এহসান।”
আফরিদ হাসে , গ্রীবা নামিয়ে কাঁধে মুখ রাখে ন্যান্সির। লম্বা একটা নিঃশ্বাস টেনে ফিসফিসিয়ে বলল।
“মিঠা মিঠা ঘ্রাণ।”
ন্যান্সি নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে ,আফরিদ পরক্ষণেই কাঁধে চুমু এঁকে হিসহিসিয়ে বলল।
“যা করবি একশো একবার ভেবে করবি,এই শরীরে যাতে একটা ফুলের টোকাও না লাগে। কারণ তোকে বাঁচাতে যদি সময় মতো আমি পৌঁছাতে না পারি তখন?”
অনূভুতি শূন্য ন্যান্সির , পলকহীন দৃষ্টিতে তাকালো আফরিদের নীলাভ মনি জোড়ায়। ওই চোখে অনূভুতির ছড়াছড়ি। যদি ন্যান্সি একবার এই বেপরোয়া পুরুষের সংস্পর্শে আসে তাহলে নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলবে সে।
“কেন মনে হলো বিপদে পড়লে আপনাকেই ডাকব?”
“কারণ তোর আমি ছাড়া কেউ নেই।”
“এতটা বিশ্বাস করবেন না এহসান,নয়তো ফলটা তিতা হবে।”
আফরিদ বরাবরের মতো হাসলো। আঙ্গুল দিয়ে ন্যান্সির লম্বা চুলের ডগা পেঁচিয়ে নিতে নিতে বলল।
“ফলটা যদি মধুর চন্দ্রিমা হিসেবে পাই তাহলে কেমন হয়?”
একবাক্য যথেষ্ট ছিলো ন্যান্সি কে বশীভূত করার জন্য। দৃষ্টি সরিয়ে নিল ন্যান্সি। তাকিয়ে থাকা বড় দুস্কর হয়ে উঠেছে। এ কেমন পীড়াদায়ক অনুভূতি? যা ক্ষণে ক্ষণে অন্তঃস্থল জ্বা’লিয়ে পু’ড়িয়ে ছা’রখার করে দিচ্ছে।
🌿_____🌿
সকাল থেকে শরীর খারাপের বাহানা করে রুমে শুয়ে আছে ন্যান্সি।
আফরিদ সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছে কেউ যাতে ন্যান্সি কে বিরক্ত না করে। মূলতঃ ন্যান্সি এটাই চেয়েছিল।
রুম থেকে চুপচাপ বেরিয়ে নিচে এলো ন্যান্সি , দুপুর বেলা বাড়িটা একদম ফাঁকা বলতে গেলে। শুধু বাইরে গার্ড গুলো পাহারা দিচ্ছে। ন্যান্সি নিচে আসতেই তিতলি দেখে ফেলল।
“আরে আরে ইলহাম আপু তুমি নিচে কেন? ভাইয়া তো বলেছে তোমাকে নিচে না আসতে।”
তিতলি ভীষণ চঞ্চল একটা মেয়ে ,তাকে এখন কি দিয়ে বোঝ দেবে বুঝেই উঠতে পারছে না ন্যান্সি।
“আমি একটু বাইরে যাচ্ছিলাম তিতলি।”
তিতলি ভ্রু উঁচিয়ে বলল।
“কিন্তু তুমি তো অসুস্থ ইলহাম আপু।”
ন্যান্সি আমতা আমতা করে ধমকে বলে উঠে।
“তুমি আমাকে এত প্রশ্ন করছো কেন? চুপচাপ নিজের কাজ করো গিয়ে।”
তিতলি মুখ ভার করে তাকালো। তার কাজই তো হচ্ছে ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা কে দেখাশোনা করা।
ন্যান্সি হনহনিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গাড়িতে গেল। ড্রাইভার কে বললে সামনের শপিং মলে যাবে। ড্রাইভার পাল্টা প্রশ্ন করার সাহস পেলো না। চুপচাপ ড্রাইভিং করে চলেছে। কিছুটা দূরে যেতেই ন্যান্সি আকস্মিক মুখে রুমাল বেঁধে আকস্মিক কিছু একটা স্প্রে করলো। ব্যস্ত ড্রাইভার জ্ঞান হারালো।
গোডাউনের চারপাশটা যেন দুর্গের মতো আঁটসাঁট নিরাপত্তায় ঘেরা। লোহার গেটের বাইরে লম্বা গড়নের গার্ডরা বন্দুক কাঁধে নিয়ে এদিক-ওদিক চক্কর দিচ্ছে। তাদের কড়া নজরে যেন বাতাস পর্যন্ত থমকে আছে। ঠিক তখনই নদীপথে ভেসে এলো ভারী শব্দ করা একটা ট্রলার। ট্রলারের গা ঘেঁষে নামতে শুরু করল মোটা দড়ির বান্ডিল, কাঠের বাক্স আর ভারী মালামাল। কর্মীরা ব্যস্ত, ঘাম ঝরছে কপালে, কণ্ঠে মাঝে মাঝেই শোনা যাচ্ছে হুঁশিয়ারির চিৎকার।
এই অগোছালো বিশৃঙ্খলার মাঝেই ছেলেদের মতো চওড়া শার্ট, মলিন প্যান্ট পরে, মুখে গাঢ় রঙের মাস্ক চেপে হাঁটছে ন্যান্সি নামক রমণী। তার পদক্ষেপগুলো বাইরে থেকে ঠান্ডা মনে হলেও বুকের ভেতরে চলছে ভয়’ঙ্কর ঝড়। প্রতিটি পা ফেলার সঙ্গে সঙ্গে মনে হচ্ছে, কেউ যদি এখনই চোখ ফুঁড়ে তার ভেতরের সত্যিটা দেখে ফেলে, তাহলে এক নিমিষে শেষ হয়ে যাবে সব। গলার কাছে হৃৎস্পন্দন ধাক্কা দিচ্ছে ঢোলের মতো, তবু নিজেকে সামলে ঠোঁট শক্ত করে এগিয়ে চলছে সে। চারপাশের অন্ধকার, গার্ডদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আর ভারী মাল বোঝাই করা গলার ভাঙা আওয়াজ সবকিছু মিলিয়ে যেন সময় থেমে গেছে।
অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা আতাউর খ্যাঁক করে উঠলো।
“ওই বলদের বাচ্চা এই গুলো ভেতরে নিয়ে যা।”
আকস্মিক পুরুষালী কন্ঠে আঁতকে উঠে ন্যান্সি। গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গিয়ে একটা দড়ির বান্ডিল তুলে নিল। চুপচাপ এগুতে লাগলো ভেতরের উদ্দেশ্যে। সে ভেতরে গিয়ে দেখতে চায় কি করে সবাই? আফরিদের এই গোডাউনে কী কাজ করা হয়?
ন্যান্সির মেয়েলি স্বভাবে হাঁটার লক্ষন দিকই ধরে ফেলল আতাউর।
“এই এই দাঁড়া। এই ছেলে দাঁড়া বলছি।”
ন্যান্সির পা জোড়া থামলো। লোকটা হনহনিয়ে এলো তার কাছে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি তার। শুকনো ঢোক গিলে ন্যান্সি।
“এই তুই কে রে? এর আগে তো তোকে দেখেনি এখানে?”
এক পা পিছিয়ে গেল ন্যান্সি। কথা বলা যাবেনা। আকস্মিক ঝড়ের বেগে একটানে তার মুখের মাস্ক টা খুলে ফেলল আতাউর।
“এই মেয়ে তুই কে? এখানে কে আসতে দিয়েছে ভেতরে?”
ন্যান্সি দিকবিদিক না পেয়ে উল্টো দৌড় দিলো। তবে ব্যর্থ পালানো সম্ভব হলো না।
গার্ড দু’টো পালানোর আগেই ধরে ফেলল ন্যান্সি কে।
“ছাড়ো বলছি আমাকে ,ছাড়ো।”
আতাউর এসেই শক্ত হাতে গাল চেপে ধরে তার।
“দুই আঙ্গুলের মেয়ে এত সাহস তোর এইখানে চলে আসিস? জানিস আমাদের বস কে? তোর কি অবস্থা করবে? এই ওরে ভেতরে নিয়ে যা।”
“না ,ছাড়ো বলছি। ছাড়ো বলছি আমাকে।”
ন্যান্সি কে টেনেহিঁচড়ে গোডাউনের ভেতরে নিয়ে গেল গার্ড দু’টো। ভেতরে এনেই এক ধাক্কায় শক্ত মেঝেতে ছুড়ে ফেলল তাকে। লোহার রডে ব্যথা পেয়েছ হাঁটুতে। পালাতে গিয়ে পেরেকে পা খানিকটা ঢুকে গিয়েছে।
“খান””কির বাচ্চা দেখ তোকে কিভাবে জবাই করে এবার।”
অশ্লীল বিশ্রী ভাষাটা ছুঁড়ে দিলো গার্ড। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে কেঁদে ফেলল ন্যান্সি। গার্ড গুলোর বিশ্রী দৃষ্টিতে ঘেন্না লাগছে তার। এই মূহুর্তে আফরিদ কে প্রয়োজন ,তার বাহুটা প্রয়োজন। দু’হাতে বুকের ভেতর নিয়ে নিতো সে। কাউকে দেখতে দিতো না , আর না লালসার দৃষ্টি পড়তো তার উপর।
🌿_🌿
দ্রুতগতির ল্যাম্বগিনি শহরের অন্ধকার রাস্তা চিরে যেন বজ্রপাতের মতো ছুটে চলেছে। হাওয়ার তীব্র ধাক্কায় চারপাশের আলো গুলো ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। আফরিদের চোখে দাউ দাউ করে জ্ব’লছে রাগ আর অস্থিরতা। হঠাৎই সজোরে আ’ঘাত করলো স্টিয়ারিংয়ে ধাতব শব্দটা গাড়ির ভেতরের নিস্তব্ধতা চিরে প্রতিধ্বনিত হলো।
তার ভেতরে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে যেখানে থাকা উচিত ছিলো, সেখানে নয় অকারণে ইদ্রানের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের ফাঁদে আটকে গিয়েছিল সে। সেই ভুলেরই মাশুল দিতে হচ্ছে এখন। সময় তার হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে বালুর দানার মতো, অথচ প্রতিটি মুহূর্ত অমূল্য।
চোখ স্থির, শিরায় রক্ত যেন আরও দ্রুত বয়ে যাচ্ছে। গাড়ির স্পিডোমিটার প্রায় সীমা ছুঁই ছুঁই করছে। পুরুষটির একটাই লক্ষ্য যেকোনো মূল্যে গোডাউনে পৌঁছানো। দাঁতে দাঁত পিষে হিসহিসিয়ে বলতে লাগলো।
“বান্দির বাচ্চা যদি তোর শরীরে একটা ফুলের টোকাও লাগে না আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না। যদি কেউ তোকে একটুও ছুঁয়েছে না খোদার কসম সব গুলো কে তোর সামনে জবাই করব। আর তোর শরীরে আ’ঘাত পাওয়ার জন্য তোকেও শাস্তি পেতে হবে। কুত্তার বাচ্চা একটুও যদি ব্যথা পাস আর বলিস তাহলে তোকে মে’রেই ফেলবো আমি।”
থাইল্যান্ডের লোকটা থাপ্পড় দেওয়াতে গলা কে’টে আলাদা করে ফেলেছিল আফরিদ এহসান। টেনে ছিঁ’ড়ে বের করে এনেছিল তার কলিজা। আজকে ঠিক কি করবে হুঁশ নেই তার।
চলবে………..।✨
(📌🙂 রেসপন্স করলে পরের পর্ব তাড়াতাড়ি আসবে। বাই দ্য ওয়ে পরের পর্বে ন্যান্সি জানতে পারবে আফরিদ আসলে কে এবং কি তার পরিচয়।)
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৭
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৬
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৩
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৬
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২