অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ০৪]
লেখিকাফারহানানিঝুম
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)
হসপিটালের বেডে বসে একের পর এক সিগারেট টেনে চলেছে আফরিদ। এটা যে একটা হসপিটাল সেটাও যেন তার ভাবান্তরে নেই। তার কিচ্ছু আসে যায় না কে বাঁচলো কে ম’রলো! তবে অবশ্যই জানতে চায় তাকে বাঁচাল কে?
হাঁটু কাঁপছে ঈশানের। মনটা ভার ভার বলছে গার্লফ্রেন্ড কে কল করে বলতে
“শুনো হে কন্যা আমার জন্য আর অপেক্ষা করো না। আজকে আমি উপরে যেতে চলেছি,আর আমাকে উপরে পাঠাচ্ছে স্বয়ং আফরিদ এহসান। তোমাকে আর বউ বানাতে পারলাম না পিও খোদা হাফেজ।”
ভাবতেই ঈশানের হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। ভেতরে পা রাখা মাত্র নিশ্চিত গু’লি করবে আফরিদ এহসান।
কেবিনের দরজা ঠেলে ভেতরে উঁকি দিলো ঈশান। এক গাল হাসি দিয়ে বলল।
“বস,টুকি।”
“টুকটুকি।”
প্রত্যুত্তরে বলে উঠে আফরিদ। ওদের কানামাছি খেল দেখে বাকি গার্ডদের প্রাণ যায় যায় অবস্থা!
“বস আপনি ঠিক আছেন?”
ঘাড় বাঁকালো আফরিদ। হাত বাড়াতেই অন্য একজন গার্ড পিস্তল তুলে দিল তার হাতে। পিস্তলের নল কপালে ঘষতে ঘষতে বলল আফরিদ।
“আমি ঠিক থাকলেও তুই ঠিক থাকবি না শা’লা!”
ঈশানের দিকে পিস্তল তাক করতেই হুড়মুড়িয়ে দৌড়ে এসে পা জড়িয়ে ধরলো ঈশান।
“বস বস বস মাফ করে দিন। আমাকে মা’রলে আমার গার্লফ্রেন্ড বিধবা হয়ে যাবে!”
“বিধবা হবে কেমনে? তুই তো এখনো বিয়ে করিস নি।”
থতমত খেয়ে গেল ঈশান ,কি বলতে গিয়ে কি বলে ফেলছে!
“বস আমার গার্লফ্রেন্ড স্বপ্নে আমাকে হাজার বার বিয়ে করছে। এখন ম’রে গেলে বেচারি বিধবা হয়ে যাবে।”
হো হো করে ভয়ংকর হেসে উঠলো আফরিদ।
“তাহলে স্বপ্নেই তোর সাথে সংসার করতে বলিস।”
“না বস এই লাস্ট বার মাফ করে দিন।”
নাক মুখ কুঁচকে নিল আফরিদ।
“সর শা’লা লুই’চ্চা।”
উঠে দাঁড়ালো ঈশান। সিরিয়াস হলো আফরিদ ,নাক ঘষে বললো।
“ট্র্যাক করেছিস গাড়ি?”
“অলরেডি তারা গোডাউনে বন্দি আছে বস। আপনার সুস্থ হওয়ার অপেক্ষা।”
এদিক ওদিক ঘাড় ম্যাসাজ করলো আফরিদ। হিমশীতল কন্ঠে শুধায়।
“মেয়েটা কোথায়?”
মেয়েটার কথা বলতে ন্যান্সির কথা বুঝিয়েছে তা বেশ ভালোই বুঝতে পেরেছে ঈশান।
“বস মেয়েটা তো চলে গেছে।”
প্রচন্ড রাগে ফেটে পড়ে আফরিদ।
“কু’ত্তার বাচ্চা যেতে দিলি কেন?”
আবারো কেঁপে উঠলো ঈশান।
“বস মেয়েটা আপনাকে র’ক্ত দিয়েই পালিয়েছে বলতে গেলে। আমি এসে পাইনি।”
নিজের শরীরে অন্য একটা মেয়ের র’ক্ত আছে ভাবতেই নাক মুখ কুঁচকে আসছে আফরিদের। ঝাঁপসা ঝাঁপসা এখনো মনে আছে মেয়েটাকে।
“ছে মাইয়া মানুষের রক্ত আফরিদ এহসানের শরীরে? কপাল কপাল! ধ্যাত বা’ল।”
কিন্তু মেয়েটা? লাগবে লাগবে মেয়েটাকে লাগবে।
“ঈশান।”
“ইয়েস বস।”
ক্ষেপে যাচ্ছে আফরিদ। মন চাচ্ছে বুলেটের সব কটা গু’লি ঈশানের পেটে চালান করে দিতে।
“ব্লাডি । বলদ একটা। আমি কি ইংরেজি ক্লাস নিচ্ছি? তুই যে ইয়েস বস নো বস বলে প্রেজেন্ট দিচ্ছিস?”
ঈশান মিনমিনে গলায় বলল।
“সরি বস। বলুন আপনি।”
এবারে উঠে দাঁড়ালো আফরিদ। সিগারেটের লম্বা টান দিয়ে বলল।
“মেয়েটাকে খোঁজ, টাকা হাতে দে এরপর বল র’ক্তের বিষয় যেন ভুলে যায়?”
ঈশান আশ্চর্য হলো , সামান্য মেয়ে কে নিয়ে এত ভাবছে কেন আফরিদ?
“কিন্তু বস মেয়েটাকে তো চিনি না।”
তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো আফরিদ। মস্তিষ্কে চাপ প্রয়োগ করল।
“ওর নাম নাম নাম উমমমম ইয়েস,ওর নরম ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা।”
ঈশান বোকা বোকা ভঙ্গিতে মাথা চুলকায়। মেয়েটা নিজেই নামটা বলেছিল অথচ সে ভুলে গেছে কিন্তু আফরিদ ঠিকই মনে রেখেছে।
“খোঁজ খোঁজ ,সব গুলো কেক বেকারি খোঁজ।”
চিন্তিত হলো ঈশান।
“কিন্তু বস কেক বেকারিতে কেন খুঁজব?”
বাঁকা হাসলো আফরিদ। মেয়েটার পরণে সাদা জামা ছিল,যা লাল হয়ে উঠেছিল তার র’ক্তে। মেয়েটার শরীর থেকে কেকের স্মেল আসছিল আর যে এপ্রোন ছিল ব্যাগে সেটাও দেখেছে আফরিদ।
“তুই বস নাকি আমি বস?”
থতমত খেয়ে গেল ঈশান।
“আপনি বস।”
তেতে উঠল আফরিদ ,বলদ গুলোরে এমনি এমনি পালছে সে।সব কটা বলদ।
“তাহলে দাঁড়িয়ে আছিস কেন বা’ল? দাঁড়া তুই এমনে যাবি না তোকে তো আমি..
পরপর পায়ের দিকে শুট করলো আফরিদ। ঈশান এক প্রকার ছুটে কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল। একটুর জন্য বেঁচে গেছে সে।
সিগারেটের শেষ টান দিয়ে মুখ উপরের দিকে তুলে ওষ্ঠো ফাঁক করে নিদারুণ ভঙিতে ধোঁয়া ছাড়ল আফরিদ। বাঁকা হেসে বলল।
“ডিয়ার ন্যান্সি আপা আপনি কোন ক্ষেতের মুলা? আপনাকে একটু দেখতে মন চায়! যেখানে পৃথিবীর অর্ধেক বাসিন্দা আমাকে মা’রতে চায় সেখানে কোন আক্কেলে আমাকে আপনি বাঁচিয়েছেন তা জানতে চাওয়া আমার নিষ্পাপ মন!”
ঠোঁট গোল করে নিঃশ্বাস ছাড়লো আফরিদ। উঁহু সামথিং রং!
🌿_🌿
“বেরিয়ে যাও এখুনি। তোমার মতো ফালতু মেয়ের জন্য আমার বেকারিতে সবাই খারাপ রিভিউ দিচ্ছে। যাও এখান থেকে।”
ন্যান্সি কে এক প্রকার ঠেলে ধাক্কিয়ে বের করে দিচ্ছেন ইলিয়াস হোসেন। ক্রন্দনরত ন্যান্সি কে দেখে ভীষণ মায়া হলো ইতির।
“প্লিজ স্যার এবারের মতো ক্ষমা করে দিন। অ্যাম রিয়্যালি ভেরী সরি। আমি একজন কে বাঁচাতে গিয়ে…
“হ্যাঁ একজন কে বাঁচাতে গিয়ে তুমি আমাকে শেষ করার প্ল্যান করছো।”
দুহাত জোর করে ধরে ন্যান্সি। জবটা ছাড়তে পারবে না সে।
“দয়া করুন স্যার। প্লিজ স্যার আমাকে আর একটা সুযোগ দিন। প্লিজ স্যার।”
ইলিয়াস হোসেন ক্ষেপে গেলেন। গর্জে ওঠে বললেন।
“তুমি কি ভালো ভাবে বের হবে নাকি ধাক্কা দিয়ে বের করে দেব?”
কিছু করার নেই ন্যান্সির।
এলোমেলো পায়ে কেক বেকারি থেকে বেরিয়ে পড়লো ন্যান্সি। রাস্তার ধারে বড় একটা পার্কের কাছে বেঞ্চে বসল ন্যান্সি। ক্লান্ত দেখাচ্ছে তাকে। এখনো রক্তা’ক্ত জামা টা পড়ে আছে , শুধু এ ওড়না দিয়ে কোনো রকমে নিজেকে ঢেকে রেখেছে সে! মানুষ এত নিষ্ঠুর হয় কি করে? তবে কি টাকাই সব? টাকা থাকলেই মানুষের কাছে মানুষের গুরুত্ব থাকে?
পড়ন্ত বিকেল,সূর্যের শেষ কিরণগুলো ধীরে ধীরে আকাশের ক্যানভাসে মেখে দিচ্ছে সোনালি, কমলা আর মিষ্টি লাল রঙের ছোঁয়া। পশ্চিমাকাশ যেন আগুনে রাঙা এক কুসুম জ্বলন্ত ,মায়াবী। পাখিরা ঝাঁকে ঝাঁকে ফিরে যাচ্ছে আপন নীড়ে, তাদের ডানার শব্দে ভর করে বয়ে যাচ্ছে হালকা বাতাস, গায়ে যেন নরম তুলোর ছোঁয়া।বটগাছটার ছায়া লম্বা হয়ে পড়েছে উঠোন জুড়ে। ক্লান্তিতে মানুষ জন ফিরছে নিজ গন্তব্যে। রাস্তায় গুটি কয়েক রিকশা আর অটো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।
অদূরে এক রিকশায় বসে আছেন মামুন হায়দার। বাজার করে ফিরছেন বাড়িতে।
গেটের সামনে আসতেই দেখতে পেলেন ছোট মেয়ে তন্বী কলেজ শেষ করে বাড়িতে ঢুকছে।
“আব্বু।”
“চলে এসেছিস? আয় ভেতরে যাই।”
বাড়ি ভেতরে ঢুকতেই চেঁচিয়ে উঠলেন স্ত্রী আফিয়া হায়দার। ভাসন পত্র ছুঁড়ে ফেলছেন রীতিমতো। সঙ্গে চিৎকার তো আছেই।
“আমার বাড়িটা যেনো বাড়ি নয়, কোনো আশ্রম। এখানে যেকেউ এসে থাকবে,ফ্রিতে খাবে ঘুমাবে।”
উনার রোজকার চিৎকার চেঁচামেচি নতুন নয়। তবে আজকে যেন একটু বেশী ক্ষেপে আছেন।
তন্বী ভীত নয়নে তাকালো রান্না ঘরের দিকে। মিনমিনে গলায় বলল।
“আম্মুর আবার কি হলো?”
তন্বী কে ভেতরে পাঠিয়ে দিচ্ছেন মামুন হায়দার।
“তুই ভেতরে যা, আমি দেখছি বিষয়টা।”
তন্বী ভেতরে চলে গেল।মামুন হায়দার ভেতরে প্রবেশ করলেন।
“কি হয়েছে আফিয়া? এভাবে চিৎকার চেঁচামেচি করছো কেন?”
ক্ষুব্ধ হলেন আফিয়া হায়দার। রাগান্বিত স্বরে বলল।
“তোমার বড় মেয়ে, নাম মাত্র মেয়ের চাকরি চলে গেছে। তার মানে সে আবার আমাদের ঘাড়ের উপর বসে খাবে!”
ন্যান্সির চাকরি চলে গেছে কথাটা শুনে বিচলিত হলেন মামুন হায়দার।
“কোথায় ইলহাম?”
“আর কোথায়? মহারানী নিজের রুমে বসে আছেন। এই শুনো আমি আজকে তোমাকে বলে দিচ্ছি। ওকে আমি আর বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াবো না। লাথি মেরে বের করে দেব আমার বাড়ি থেকে।”
বিরক্তিতে চুপচাপ বেরিয়ে গেলেন মামুন হায়দার।
রুমের এক কোণে চুপচাপ বসে আছে ন্যান্সি। চোখে অঝোরে পানি পড়ছে।আফিয়া হায়দারের প্রতিটা কথা তিনি শুনেছেন! কষ্ট হয় মাঝে মাঝে। হয়তো ওরা কেউই ওর আপন মা বাবা বোন নয়, কিন্তু তারপরেও ন্যান্সি ওদের কে ভালোবাসে। সয়ে নেয় ওদের কটু কথা!
“ইলহাম?”
বাবার কন্ঠস্বর শুনে চকিতে ফিরে তাকালো ন্যান্সি।
“আব্বু,এসো ভেতরে।”
মেয়ের চুপসে যাওয়া মুখখানি দেখে হতাশ হলেন মামুন হায়দার।
“কাঁদছিস তুই মামুনি?”
ক্রন্দনরত ন্যান্সি দু’হাতে বাবাকে জড়িয়ে ধরলো।
“আব্বু আমি চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু পারিনি জব টা বাঁচাতে।”
মামুন হায়দার ন্যান্সির মাথায় ভরসার হাত রেখে শুধান।
“কি হয়েছে আমাকে খুলে বল।”
ন্যান্সি অপরিচিত লোকটার এক্সিডেন্ট সম্পর্কে বলল। তাকে হসপিটালে নিয়ে যেতে গিয়েই কেক ডেলিভারি করতে পারেনি ন্যান্সি।
“তুমি বলো আব্বু আমি কি করব? আমার হাতে আর কোনো উপায় ছিলো না। ওই লোকটাকে বাঁচাতে গিয়ে সব শেষ করে ফেলেছি।”
মৃদু হাসলেন মামুন হায়দার।
“তুই চিন্তা করিস না মামুনি। এটা গেছে তো গেছে ভুলে যা। নতুন চাকরির জন্য ট্রাই করবি। এর থেকেও ভালো চাকরি পাবি আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি।”
এই একটা মানুষ আশা ভরসা ন্যান্সির। সে ছাড়া কেউই বুঝে না ন্যান্সি কে। কে বলেছে শুধু আপন মানুষই আপন হয়? মাঝে মাঝে পর মানুষেরাও আপন হয়ে উঠে। ন্যান্সির এখনো মনে আছে সেই রাতের কথা ,যে রাতে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছিল সে। তার হাত শক্ত করে ধরেছিল মামুন হায়দার।
কলিং বেল বেজে উঠতেই তন্বী গিয়ে সদর দরজা টা খুলে দিল। দু’জন গার্ড দাঁড়িয়ে আছে তাদের সামনে আরেকজন রয়েছে। বেশ অদ্ভুত ভঙিতে দাঁড়িয়েছে। গম্ভীর গলায় শুধোয়।
“এটা কি ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনার বাড়ি?”
তন্বী কিঞ্চিৎ ভয় পেলো , কি জানে ন্যান্সি আবার কোথায় কি করে এসেছে! ফাঁকা ঢোক গিলে বলল।
“জ্বি এখানেই ইলহাম থাকে। কিন্তু আপনারা কারা?”
লোক গুলো বাইরে থেকে ভেতরে এলো। দরজা পেরিয়ে সামনে এগুতেই আফিয়া হায়দার ভেতর থেকে বেরিয়ে এলেন।
“কি হয়েছে আপনারা কারা?”
ঈশান সেই আগের ন্যায় বলে উঠে।
“আমরা ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা উনার সাথে দেখা করতে এসেছি।”
বুকের ভেতর ধক করে উঠল আফিয়া হায়দারের। এই মেয়ে কোথায় কি করেছে কে জানে!
“দেখুন যদি ইলহাম কিছু করে থাকে তাহলে ওর সাথে কথা বলুন। আমাদের কিন্তু ওর সাথে কোনো র’ক্তের সম্পর্ক নেই বলছি!”
ড্রয়িং রুমে এত আওয়াজ শুনে ন্যান্সি আর মামুন হায়দার দুজনেই বেরিয়ে এলো। মামুন হায়দার সন্দিহান কন্ঠে শুধোয়।
“কারা আপনারা?”
ঈশান প্রচন্ড বিরক্ত হচ্ছে একই প্রশ্নের জবাব বার বার দিতে।
“আমরা ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা নামক মেয়েটার সাথে দেখা করতে এসেছি। উনাকে একটু ডেকে দিন।”
পিছন থেকে ন্যান্সি মিনমিনে গলায় বলল।
“আমি ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা। কি হয়েছে? আপনারা আমার সাথে দেখা করতে চান কেনো?”
এতক্ষণে হাফ ছেড়ে বাঁচল ঈশান।
হাত বাড়াতেই ব্যাগ থেকে টাকার বান্ডিল বের করে ঈশানের হাতে তুলে দিল একজন গার্ড। টাকার বান্ডিল নিয়ে ন্যান্সির দিকে বাড়িয়ে দিলো ঈশান।
“এগুলো আপনার। আমাদের বস কে বাঁচানোর জন্য এবং ওনাকে র’ক্ত দেওয়ার জন্য।”
এত গুলো টাকা দেখে রীতিমতো হুঁশ হারিয়ে ফেলছেন আফিয়া হায়দার। চট করে টাকা হাতে তুলে নিয়ে লোভ মিশ্রিত কন্ঠে বললেন।
“কত গুলো টাকা! বাহ্!”
ন্যান্সি অবাক হচ্ছে। মামুন হায়দার কিছুই বুঝতে পারছেন না। ঈশান ন্যান্সির প্রশ্নবিদ্ধ মুখখানি দেখে বলল।
“পরশু যে আপনি আমাদের বস কে হসপিটালে নিয়ে গেলেন। উনিই বলেছেন এটা আপনাকে দিতে। আপনার উপহার হিসেবে।”
এতক্ষণে সবটা পরিষ্কার হলো ন্যান্সির কাছে। আফিয়া হায়দার এক গাল হেসে বললেন।
“চমৎকার উপহার,আমরা ভীষণ খুশি।”
ন্যান্সি জোরপূর্বক টাকা গুলো আফিয়ার হাত থেকে নিয়ে নিল।
“প্লিজ মা এগুলো আমরা নিতে পারব না।”
তেতে উঠলেন আফিয়া হায়দার।
“এক থাপ্পর দেব বেয়াদব। তোকে পেলে পুষে বড় করতে কত টাকা লেগেছে জানিস? এখন ন্যাকামি করছিস? তারপর জবটা চলে গেছে,এখন কি আমাদের ঘাড়ে বসে খাওয়ার ধান্দা?”
ন্যান্সি টাকা গুলো দিলো না আফিয়া কে।
“শান্ত হও মা। আর আপনারা দয়া করে এই টাকা ধরুন আর এখান থেকে যান। আর আপনাদের বস কে বলবেন ধন্যবাদ আমাকে টাকা অফার করার জন্য। তবে এগুলো আমি টাকার জন্য করিনি।”
ঈশান আশ্চর্য হয়ে তাকালো ন্যান্সির দিকে। টাকা গুলো হাতে ধরিয়ে দিলো তার।
“প্লিজ যান।”
ঈশান চিন্তিত হলো ,এবার বস কে গিয়ে বলবে টা কি?
🌿__🌿
হসপিটালের বেডে বসে হুইস্কি খাচ্ছে আফরিদ , এগুলো কল্পনারও বাইরে। কিছুক্ষণ আগেই ডক্টর কে ঢেকে পাঠিয়েছে। এই সব পট্টি পাট্টি খুলে দিতে। ছে শালার লাইফ কোনো কিছুই মন মতো হয় না। কোন মাতারি তারে হসপিটালে ভর্তি করাইছে হ্যাঁ? সামনে থাকলে ঠাস ঠাস করে দু’টো থাপ্পড় দিয়ে বলতো।
“ওই মাতারি তুই কোন সাহসে তোর দেহের পঁচা রক্ত আমার শরীরে দিলি? তোরে আমি বলছি আমারে র’ক্ত দে? আমার খানদানি র’ক্তে তোর পঁচা র’ক্ত কাবাব মে হাড্ডি হয়ে শরীরে ঢুকাইয়া দিলি? শা’লী মা’তারি কোথাকার!”
চলবে………..।✨
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩০+বোনাস
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১২
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৫
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২০
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৬
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১