Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৯


অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ৩৯]

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)

চারদিকে এক অদ্ভুত প্রশান্তি, মনে হচ্ছে যেন রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে ধীরে ধীরে আলোয় ভরে উঠছে দিগন্ত। পাখিদের কূজন মিশে যাচ্ছে বাতাসের কোমল দোলায়,
সূর্যের প্রথম কিরণ আলতো করে ছুঁয়ে দিচ্ছে গাছের ডালে জমে থাকা শিশিরবিন্দুকে, হীরের মতো ঝিলমিল করছে তারা। হালকা কুয়াশা আচ্ছন্ন চারপাশে, তবু তার ভেতর দিয়েই আলো ছড়িয়ে পড়ছে একটি স্নিগ্ধ আশ্বাস নিয়ে। লম্বা নিঃশ্বাস টেনে রুমের ভেতরে এলো ন্যান্সি। এখনো ঘুমোচ্ছে আফরিদ এহসান। হতা’শার নিঃশ্বাস বেরিয়ে এলো।
ন্যান্সি ছোট ছোট পা ফেলে ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো। নিস্তব্ধতার বুক চিরে তার প্রতিটি পদক্ষেপ যেনো প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে থাকা পুরুষটির প্রশস্ত পিঠে চোখ পড়তেই বুকটা হালকা শিউরে উঠলো। কালশিটে দা’গে ভরা সেই পিঠ, যেনো যুদ্ধক্ষে’ত্রের র’ক্তাক্ত মানচিত্র। কাঁপতে থাকা আঙুল তুলে আলতো করে ছুঁয়ে দিলো সে ক্ষ’ত। এক অজানা টানায় আঙুল বুলিয়ে দিলো মৃদু ভাবে।

কিন্তু মুহূর্তেই প্রশ্ন ছুঁড়ে মা’রলো তার নিজের হৃদয় সে কেনো এসব করছে? চোখের সামনে ভেসে উঠলো র’ক্তাক্ত স্মৃতি , নিশ্চয়ই আগু’নে জ্ব’লছে বেলায় খুব করে চেয়েছে ন্যান্সি তাকে বাঁচাতে আসবে।এই বাড়ির তিন ছেলের মধ্যে একজন না একজন তার পরিবারকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে। হতে পারে এই মানুষটিই! তবে কেনো, কেনো এ অচেনা শত্রুর জন্য বুকের ভেতর এমন কোমল মায়া জাগে? কেনো সে প্রেমে পড়েছে তার? এমন তো হওয়ার কথা ছিলোনা!
চোখের কৌটা ভিজে উঠে।

তার ভেতরের দ্বন্দ্ব যেনো অ’গ্নিস্রোত। প্রতি’শোধের আগু’ন দাউ দাউ করে জ্বল’ছে, অথচ তার আঙুলগুলো ছুঁয়ে দিচ্ছে আদরে আদরে। শ’ত্রুর শরীরে হাত রাখতেই কেনো বুকটা কেঁপে ওঠে অদ্ভুত ব্যথা আর অপরাধবোধে?

ন্যান্সি চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো, আঙুল থেমে গেলো পুরুষের পিঠের ক্ষ’তের উপরেই। চোখ ভিজে উঠলো তার অজান্তেই। মনে হলো র’ক্ত, প্রতিশোধ, মৃ’ত্যু সব কিছুর বাইরে গিয়ে একটা নরম অদৃশ্য সুতো বেঁধে রেখেছে তাদের দু’জনকে।

ঘুমের ঘোর কা’টতে না কা’টতেই আফরিদ হালকা নড়েচড়ে উঠলো। অচেনা ছোঁয়ার শিহরণে ধীরে ধীরে চোখ মেললো সে। ঠিক সেই মুহূর্তে চমকে উঠলো ন্যান্সি। আঁতকে উঠে হাত সরিয়ে নিতে চাইলো, কিন্তু দেরি হয়ে গেলো আফরিদের গরম মুঠোয় বন্দি হয়ে গেলো তার তুলতুলে নরম হাত। নিজের মুখের াছে টেনে এনে তপ্ত এক নিগূঢ় চুমু খেলো।

গভীর ,খসখসে কণ্ঠ ভেসে এলো নিস্তব্ধ ঘরে।
“পালাচ্ছিস কেন জানকি বাচ্চা?”

শরীর জুড়ে কাঁপুনি খেললো মেয়েটার। শুকনো ঢোক গিলে নিলো সে, যেনো গলাটা হঠাৎ শুকিয়ে গেছে। বুকের ভেতর ঢাকের মতো বাজছে হৃদস্পন্দন, চোখে-মুখে ভয়ের সঙ্গে লুকোনো অজানা টান। শব্দ বেরুবার আগেই নিঃশ্বাস জড়িয়ে এলো, ঠোঁট দুটো কেঁপে উঠলো কিন্তু কোনো উত্তর দিতে পারলো না সে।

“আমি সর্বদা আপনার থেকে পালাতে চাই,এটা কি নতুন জানলেন?”

শোয়া থেকে উঠে বসলো আফরিদ। এলোমেলো কোঁকড়ানো ঢেউ খেলানো চুল গুলো দেখে ভীষণ লোভ হচ্ছে ন্যান্সির ,খুব করে ইচ্ছে জাগছে ওই চুলে আঙ্গুল ডুবিয়ে দিতে। শুধু চুলে নয় বুকের ট্যাটুতে আঙ্গুল স্পর্শ করতে।

“ইশ্ মা’তারি কি যে করি তোকে নিয়ে? বাধ্য করিস না তোর রে”প করতে।”

এমনতর কথায় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল মেয়েটা।
রাগান্বিত স্বরে বলল
“আমি জীবনেও কোনো স্বামী নিজের স্ত্রী কে এসব বলে বা এসব করে শুনিনি।”

ঘুম জড়ানো চোখে তাকায় আফরিদ। ওই চোখে বড় অদ্ভুত নে’শা।
“কি করা যায় বউ যদি নিজ থেকে কাছে না আসে তাহলে এসবই করতে হয়। বউটা আমার ভীষণ দুষ্টু , ঘুমিয়ে পড়লে ইজ্জত লুটতে আসে।”

অধর দুটি ফাঁক হয়ে এলো বিস্ময়ের কারণে।
“কি ? আমি আপনার ইজ্জত লুটতে আসি? কি এমন আছে আপনার যে আমি লুটতে আসবো?”

এভাবে নিজের ঠোঁটে বাইট করে আফরিদ ,এমন অদ্ভুত আচরণ দেখে আঁখি পল্লব ঝাপটায় মেয়েটা। আফরিদ ফিসফিসিয়ে বললো।

“আমার যা আছে সেটা তোর নেই জানকি বাচ্চা ,আর তোর যেটা আছে সেটা আমার নেই রে মাতা’রি। আই মিন ভালোবাসা। তোর মধ্যে ভালোবাসা বলতে একটা অনূভুতি আছে যেটা মরা।আর আমার মধ্যে সেটা জাগ্রত করার মতো অনূভুতি আছে।তুই আবার মাইন্ড করিস না অন্য কিছু ভেবে।”

শেষের কথাটা বলে চোখ টিপে আফরিদ।

লজ্জায় হাঁসফাঁস করছে মেয়েটা ,এত ঠোঁটকাটা কাউকে দেখেনি সে।

“কি আজেবাজে কথা বলছেন আপনি? বেহায়া পুরুষ কোথাকার।‌ আপনার কাছাকাছি আসাটাই ভুল।”

আকস্মিক ঝড়ের মতো এগিয়ে এলো আফরিদ, ন্যান্সির মুখটাকে নিজের অতি নিকটে টেনে নিলো। ঠোঁট ছুঁইছুঁই অবস্থা, নিশ্বাসের উষ্ণতা একে অপরের মুখে আছড়ে পড়ছে। চোখ জ্ব’লে ওঠা আ’গুনে ভরা, হিসহিসিয়ে ফিসফিস করে উঠলো সে।

“তোর সর্বাঙ্গে একদিন আমার স্পর্শ থাকবে। তুই আমার ছোঁয়ায় কাঁদবি আমারই জন্য কাঁদবি।”

ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ন্যান্সি। ভয়ের সঙ্গে জেদ মিশে লাল হয়ে উঠলো তার চোখ। দৃঢ় কণ্ঠে কাঁপতে কাঁপতে বলল সে।

“কখনোই না। আমি ধ্বংস করে দেব আপনাকে। জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে ফেলব নিঃশেষ করে!”

একপেশে ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে উঠলো পুরুষ। সেই হাসি যেনো বিদ্রূপে ভরা, তবুও অদ্ভুত টান আছে তাতে। ধীরে ধীরে রুক্ষ আঙুল বুলিয়ে দিলো ন্যান্সির ঠোঁটের চারপাশে, অধিকারী স্পর্শে।

শিউরে উঠলো মেয়েটা। শরীর সরে যেতে চাইলো, অথচ আঙুলের ছোঁয়া থেকে পালাতে পারলো না। বুকের ভেতরে যু’দ্ধ ঘৃণা আর অদ্ভুত অজানা টানের দ্বন্দ্বে দমবন্ধ করা নীরবতা নেমে এলো তাদের মাঝে।

  ❝তোর নামের বর্ণের তসবিহ কে
                নিঃশ্বাসের গলার হার করেছি 
   দুনিয়া ভুলেছি আর শুধু তোকে 
                   হ্যাঁ শুধু তোকে 
                ভালোবেসেছি 

তুই জিতে গেছিস , আমি হেরে গেছি
আমি হেরে গেছি
আর তুই জিতে গেছিস❞

  ~আফরিদ এহসান 

নৈঃশব্দ্যে পলকহীন চোখে তাকিয়ে আছে ন্যান্সি , আকস্মিক আফরিদের বুকে খামচে ধরে হিসহিসিয়ে বলল।

“সত্যি আমি জিতে যাবো আর একদিন আপনি হেরে যাবেন , এমনিতেই হেরে বসে আছেন আমাকে ভালোবেসে।”

আফরিদ ন্যান্সি কে আরেক দফা অবাক করে দিয়ে বালিশের নিচ থেকে একটা প্যানডেন্ট বের করল মেয়েদের।

“আমার আ’গুনের ফুলকি জান বাচ্চা এটা তোর।”

আলতো করে সেটা গলায় পরিয়ে দিল আফরিদ।
এটা কি নরমাল কোনো লকেট? উঁহু তা মোটেও নয় প্লাটিনামের তৈরি চমৎকার একটি প্যানডেন্ট। যার মাঝখানে একটা পাথর বসানো ভেতরে AA অ্যালফাবেট টা লিখা রয়েছে। অর্থাৎ A=Afraid, A=Angelina .
“এটা খুব দামী তাইনা?”

আফরিদ খোঁচা মেরে বলল।
“আমার নিতা আম্বানির চেয়ে বেশি দামী নয়!”এই লোকটা উদ্ভট নাম শুনে রেগে গেল ন্যান্সি। বাহুতে দাঁত বসিয়ে দিলো। আফরিদ হো হো করে হেসে উঠলো।
“নিতা আম্বানি, আমার নিতা আম্বানি।”

“বেয়াদব নষ্ট পুরুষ কোথাকার।”

“সেইম সেইম আমার নষ্ট নারী।”

🌿_________🌿
আজ অনেক গুলো দিন পর নিজেকে সাজিয়েছে ন্যান্সি।
মেরুন ভেলভেটের গাউনটি সে ছোঁয়ায় যার রঙ কখনো । চিকন স্ট্র্যাপ দুটো কাঁধে নেমে এসেছে অনায়াস ভঙ্গিতে, গাউনের কাট নিখুঁত কোমর ঘেঁষে শরীরের বাঁককে আলতো করে জড়িয়ে, নিচে নেমে গিয়ে একটুখানি প্রশস্ততা নিয়ে হাঁটার সঙ্গে সঙ্গে ঢেউ তোলে। সে
অর্নামেন্টে গলায় সূক্ষ্ম মুক্তোর হার অতি সাদামাটা। কানে ঝুলবে ছোট্ট ড্রপ ইয়াররিং, মৃদু নড়াচড়ায় আলো ছুঁয়ে ঝিলমিল করছে। হাতে পাতলা ব্রেসলেট, আঙুলে একটিমাত্র স্টেটমেন্ট রিং বেশি নয়।
মেকআপে বাড়াবাড়ি নেই: চোখে নরম স্মোকি টোন, পাপড়িতে গভীরতা; ঠোঁটে ওয়াইন শেডের লিপস্টিক, গাউনের সঙ্গে সুর মিলিয়ে। গালে ব্লাশ করার প্রয়োজন নেই ন্যান্সির। প্রথম থেকেই গাল লাল।
পায়ে পরবে মিনিমাল হিল পাতলা স্ট্র্যাপ, শান্ত রঙ। হাতে ছোট ক্লাচ ম্যাট ফিনিশ।
সোফায় বসে ল্যাপটপ কোলে নিয়ে মনোযোগ দিয়ে কি একটা কাজ করে চলেছে আফরিদ এহসান। তার সম্পূর্ণ মনযোগ এখন সে-ই কাজেই।
ওদিকে এতবার করে ডেকে চলা ন্যান্সি বিরক্ত হলো তার প্রতি।
দ্বিতীয় দফায় নিচে এসে চেঁচিয়ে উঠল।
“আফরিদ? এই আপনি কি আসবেন একটু?”

আফরিদ তাকালো না তবে হাত উঁচিয়ে বলল।
“পাঁচ মিনিট জানকি বাচ্চা। পাঁচ মিনিট পরেই আসছি।”

এই বলে বলে ত্রিশ মিনিট হতে চলল।
পরনের গাউনটা একপল দেখে সূক্ষ্ম নিঃশ্বাস ছাড়লো মেয়েটা। তবে এবারে আর আসতে বলল না। দুষ্টু বুদ্ধি খেলে গেল মাথায়।

“আচ্ছা ঠিক আছে আসতে হবে না। কিন্তু এদিকে একবার তাকান!”

আফরিদ চকিতে দৃষ্টি ঘুরিয়ে সিঁড়ির ধাপে দাঁড়ানো ন্যান্সির দিকে তাকালো। কোঁচকানো ভ্রুদ্বয় শিথিল হয়ে এলো।
গাউন পরিহিত কন্যাকে দেখে সে বুঝি হার্টবিট মিস করলো? নিঃশ্বাস নিতেই ভুলে গেলো?
ন্যান্সি ঠোঁটের আগায় দুষ্টু হাসি ঝুলিয়ে নিচে নেমে এলো। চোখের পলকে কাছাকাছি এসে ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়ে ভোঁ দৌড়।
আফরিদ থমকালো,চমকালো। সবটাই এত দ্রুত ঘটলো সে বুঝতেই পারলো না।
ন্যান্সি পালাতে পালাতে চেঁচিয়ে বলল।
“আর আসবেন না কাছে।”

আফরিদ শুকনো ঠোঁট জোড়া ভিজিয়ে হাস্কিস্বরে বলল।
“নো নো নো। শিট শিট…

রুমে এসে দরজাট লক করে দিয়েছে ন্যান্সি। আফরিদ পিছু পিছু এলো তার।
“জান জান দরজাটা খুলে দে? প্লিজ জানবাচ্চা এমন করিস না!”

দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে মিটিমিটি হাসছে ন্যান্সি। বেশ হয়েছে এবার না সাড়া দেওয়ার ঠেলা বুঝুক।
“খুলব না।”

আফরিদ দরজায় মাথা ঠেকিয়ে লম্বা দম নিলো , নিঃশ্বাস ঘনঘন টানছে সে। শুকনো ঠোঁট জোড়া বারবার ভিজিয়ে নিচ্ছে। ভেতরের উথাল পাতাল অনূভুতি গুলো প্রাচীর ভেঙে ফেলতে চাইছে। আফরিদের অ্যাডামস আপেল কেঁপে কেঁপে উঠছে। শুকনো ঢোক গিলে ফিসফিসিয়ে ডাকলো।
“একবার খুলে দে প্লিজ! বান্দি এমন করিস না মরে যাবো আমি।”

ন্যান্সি পাসওয়ার্ডের সাথে সাথে ভেতর থেকে লক করেছে যার দরুন আফরিদকে ভুল পাসওয়ার্ড দেখাচ্ছে বারংবার।
“প্লিজ খুলে দে জাস্ট দেখব। কিচ্ছু করব না।”

এই প্রথম নিজেকে এতটা খোলামেলা ভাবে আফরিদের সামনে উপস্থাপন করেছে।এখন আবার কিভাবে যাবে সামনে? আফরিদ মোটেও শান্ত হওয়ার মানুষ নয়।একপলক দেখে এতটা উন্মাদ হয়ে উঠেছে আরেকবার দেখলে অস্থির হবে, অবাধ্য হবে।
ন্যান্সি রিনরিনে গলায় বলল।
“না আপনি মিথ্যে বলছেন। আপনি আমাকে দেখলেই ছুঁতে চাইবেন।”

আফরিদ লম্বা দম নিলো ,দম নেওয়ার সাথে সাথে বুকটা উঁচু হয়ে ফোলে উঠে। আফরিদ ঘাড়ে হাত ম্যাসাজ করে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। প্রচন্ড গরম লাগছে তার। ভেতরে ভেতরে ঘেমে একাকার।
ভারিক্কি কন্ঠস্বর কেমন মিইয়ে গেল। এই প্রথম কাঁপা গলায় বলল।
“আই কান্ট কন্ট্রোল , প্লিজ ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড।”

“না।”

“আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে শুধু হাতটা বের কর। আমি হাত ছুঁতে চাই।”

ন্যান্সি ঘাবড়ে গেল , তবে আফরিদের অসহায়, কাতর কন্ঠে আবদার গুলো ভীষণ পীড়া দিচ্ছে।
ন্যান্সি খুলে দিলো দরজাটা , অল্প একটু ভেজানো।
কাঁপা হাতটা দরজা দিয়ে বের করে দিতেই আফরিদ নগ্ন হাতটা ছুঁয়ে ফেলল।
এরকম খোলামেলা গাউন সচরাচর পরেনা ন্যান্সি তবে আজ পরেছে। এই নগ্ন, ফর্সা হাতটা ঠোঁটের কাছে ছোঁয়ায় আফরিদ। চুমু খায় আঙ্গুল গুলোতে। টুকরো টুকরো চুমু খেতে খেতে বলল।
“এভাবে শেষ করতে চাইছিস? কাছেও আসবি না,আসতেও দিবি না ঠিক করেছিস?”

ন্যান্সির ভীষণ সুড়সুড়ি লাগছে হাতে। আফরিদ ঠোঁটের বেসামাল স্পর্শে মুচড়ে যায়।
কখনো ঠোঁটে, কখনো বুকে, কখনো বা আঙ্গুলের ফাঁকে আঙ্গুল গুঁজে হাতটা নিয়ে খেলা করছে আফরিদ।
পায়ের পাতা থেকে শিরশির অনূভুতি শীর্ণ বদনে উথাল পাতাল ঢেউ তুলছে।
অন্তঃস্থলে প্রাণঢালা জলোচ্ছ্বাস শুরু হলো বলে। আঁখিপুট ঝাপসা হয়ে আসে ন্যান্সির। নিজের কেমন অনুভূতি হচ্ছে আফরিদের প্রতি।
আফরিদ তার হাতটা নিজের বুকের পাশে চেপে রাখলো কিছুক্ষণ। অতঃপর খট করে ভেজানো দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে আসে। ন্যান্সি আঁতকে উঠে।তাকে আশ্চর্য করে দিয়ে টাওয়েল নিয়ে ওয়াশরুরুমে চলে যায়।
বুকের ভেতর ছ্যাৎ করে উঠে মেয়েটার।

আফরিদ ওয়াশ রুমে শাওয়ার অন করে পা ক্রস করে নিচে বসলো। ঝর্নার পানি হুড়োহুড়িয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে তাকে।
চোখ দুটো বুঁজে নিজেকে কন্ট্রোল করার মিথ্যে প্রয়াস চালিয়ে চলেছে।

প্রায় আধ ঘন্টা হতে চলল আফরিদ বের হয়না।এর মধ্যে চেঞ্জ করে রেস টপস আর লং স্কার্ট পরে পায়চারি করছে ন্যান্সি। ভুল করে ফেলল আফরিদ কে কষ্ট দিয়ে।সে মোটেও কষ্ট দিতে চায়নি। বিষণ্নতায় ভুগছে মেয়েটা।

ওয়াশ রুমের দরজা খুলতেই ছলকে উঠে ন্যান্সি। পরণে আফরিদের একটা কালো রঙের ট্রাউজার প্যান্ট আর টিশার্ট। ওয়াশ রুমের ভেতরে সারি সারি জিনিস পত্র সাজানো আফরিদের।
ক্লোজেটের ভেতরে সবটাই আগে থেকে রাখা থাকে।
টাওয়েল দিয়ে ভেজা চুল মুছতে মুছতে আড়চোখে মেয়েটার দিকে তাকালো আফরিদ।
অপরাধীর ন্যায় মাথা নুইয়ে দাঁড়িয়ে আছে ন্যান্সি।
আফরিদ বুড়ো আঙ্গুল থুতনি ঘঁষে টাওয়েল টা বিছানায় ছুড়ে ফেলল। ন্যান্সির কাছাকাছি গিয়ে কপালে কপাল ঠেকিয়ে দু’হাতে পেঁচিয়ে ধরে।

ন্যান্সি মিনমিনে গলায় বলল।
“সরি।”
“ইটস্ ওকে। এমন আর করিস না এলোমেলো হয়ে যাবো। তোকে হার্ট করতে চাইনা জান।”

ন্যান্সির কি হলো দু’হাতে আঁকড়ে ধরে আফরিদ কে। আফরিদ নিশ্চুপ , মেয়েটার ছোট্ট কায়া নিজের সাথে জড়িয়ে নেয়।
“তুই বলেছিলি সংসার করবি।”
“হ্যাঁ করব।আর কটা দিন অপেক্ষা করুন এরপর আপনার সাথে সংসার করব।”

আফরিদ নৈঃশব্দ্যে হাসলো।
ন্যান্সি তপ্ত নিঃশ্বাস ছেড়ে ভাবলো আজকেই গোডাউনে যেতে হবে।আর চায়না আফরিদকে অপেক্ষা করাতে।সে তাকে ভালোবাসে এত ভালোবাসা অবহেলা করার ক্ষমতা আর নেই।


সাব্বির নেই কাল রাত থেকে , খাবার টেবিলেও দেখতে পায়নি তাকে। ন্যান্সির জন্য এটা খুব বড় সুযোগ তার রুমে গিয়ে হুডি টা দেখার জন্য। একজন একজন করে সবার টা দেখতে চায় সে। কিন্তু আফরিদ? তার হুডিটা তো একদম ঠিকঠাক! সেদিন দেখেছে কিন্তু তারপরেও বিশ্বাস করতে পারছে না। যতক্ষণ পর্যন্ত অন্য গুলো না দেখছে।

গুটি গুটি পায়ে উপরে রুমের দিকে এগুচ্ছে ন্যান্সি । আশেপাশে সতর্ক দৃষ্টি বুলিয়ে দেখে নিল কেউ আছে কিনা! নজরে পড়লো একজন সার্ভেন্ট। এই বাড়িতে সার্ভেন্টের অভাব নেই। কাউকে কোনো রকমের কাজ করতে হয় না কষ্ট করে।

“তুমি এখানে কি করছো?”

ন্যান্সির ভারিক্কি কন্ঠে বলা কথা শুনে হকচকিয়ে গেল সার্ভেন্ট মেয়েটা।

“আসলে ম্যাম আমি ছোট স্যারের রুম ক্লিন করতে এসেছি।”

ন্যান্সি আমতা আমতা করে বলল।
“করতে হবে না, তুমি যাও।”

মেয়েটা প্রত্যুত্তরে পাল্টা প্রশ্ন করার সাহস পেলো না, চুপচাপ বেরিয়ে গেল।

ন্যান্সি আস্তে আস্তে সাব্বিরের রুমে ঢুকে এলো। হন্তদন্ত পায়ে ত্রস্ত হাতে এলোমেলো করে খুঁজতে লাগছো কাবার্ডে সেই কালো হুডি টা।
হাতড়ে হাতড়ে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত পোশাক খুঁজে পেলো ন্যান্সি। কিন্তু আশ্চর্য এটাও তো ঠিকঠাক আছে? তাহলে কি সাব্বির কিছুই করেনি?
পিছু ঘুরতে গিয়ে পা লেগে যায় ড্রেসিং টেবিলের সাথে ফলস্বরূপ পায়ের খানিকটা অংশ কেটেও যায়। উপর থেকে একটা ফাইল ছিটকে পড়ে নিচে ‌। এলোমেলো হয়ে গেল সব কাগজ গুলো। কাগজ গুলোতে ভালো করে দৃষ্টি বুলিয়ে দেখলো এগুলো সম্ভবত ভার্সিটির কিছু জরুরী কাগজ। পড়তে নিলে চমকে উঠে ন্যান্সি। সাব্বির এখনো ভার্সিটিতে পড়ে? কিন্তু সে তো এখনো বলেনি। আরেকটু পড়তেই বুঝতে পারলো তাকে দুমাসের জন্য ভার্সিটি থেকে রাস্ট্রিকেট করা হয়েছে ,তার অপরাধ সে ড্রা’গস নিতো।
ন্যান্সি বিস্ময়ে হতবাক। এসব কুকর্ম করার অপরাধে তো বের করে দেওয়ার কথা কিন্তু এখানে মাত্র দুমাসের রাস্ট্রিকেট করা হয়েছে?

“ভাবিজান আপনি আমার রুমে কি করছেন?”

তড়িৎ গতিতে দরজার দিকে তাকালো ন্যান্সি , সাব্বির দাঁড়িয়ে আছে। সাব্বির কে দেখে পিলে চমকে উঠে তার।‌ধরা পড়ে গেল সে?

সাব্বির ধুমধাম পা ফেলে ভেতরে এসে ন্যান্সির হাত থেকে কাগজ গুলো টেনে নিয়ে নিল।

“আমার রুমে অনুমতি বিহিন কেন এসেছো তুমি ভাবি? হাউ ডেয়ার ইউ?”

উচ্চ স্বরে চিৎকার করে উঠল সাব্বির। সোজা হয়ে দাঁড়ালো ন্যান্সি। ভ্রু কুঁচকে বলে।

“তুমি ভার্সিটিতে পড়ো এটা তো জানতাম না। আর ভার্সিটিতে ড্রা’গ নাও? “

দাঁতে দাঁত পিষে সাব্বির। হিসহিসিয়ে বলে।
“আমার বিষয়ে এন্টার ফেয়ার করো না ভাবি।”

ন্যান্সি কম যায় না বুকে হাত গুঁজে দাঁড়ালো।
“মুখ সামলে কথা বলো। এবারে শুধু রুমে এন্টার ফেয়ার করেছি পরের বার ভার্সিটিতে গিয়ে কথা বলব।”

হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নিল সাব্বির। ন্যান্সি তাকে গুরুত্ব না দিয়ে চুপচুপ রুম থেকে বেরিয়ে এলো। করিডোর দিয়ে সাব্বিরের রুমেই আসছিল নীলাদ্রি। হঠাৎ ন্যান্সি কে রুম থেকে বের হতে দেখে কিঞ্চিৎ অবাক হলো। পিছু পিছু সাব্বির বেরিয়ে এলো।

“নিজের কাল নিজেই ডেকে আনছো কিন্তু ভাবি।”

সেই মূহূর্তে আফরিদ সিঁড়ি বেয়ে সবে উপরে উঠে এসেছিল। সাব্বিরের চেঁচামেচি শুনে সেদিকটায় এগুলো। ন্যান্সি আবারো পিছু ফিরে। সাব্বিরের দিকে তাকিয়ে চমৎকার এক হাসি উপহার দিয়ে বলল।

“আমি কাল ডেকে আনলে সেই কাল সামলানোর জন্য তোমার ভাইয়া যথেষ্ট সাব্বির। আফরিদ এহসান কিন্তু আমি বলতে উন্মাদ। মাথায় রেখো।”

কথাটা বলেই ঘুরে দাঁড়ালো ন্যান্সি , সামনে মূর্তি ন্যান্সি গম্ভীর মুখ করে আফরিদ এহসান কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ওষ্ঠো বাঁকায়।

যেতে যেতে ন্যান্সি মৃদু স্বরে বলল।
“এই এহসান মঞ্জিল আমার নামে লিখে দিন যাতে যেখানে সেখানে যেতে পারমিশন না লাগে এহসান সাহেব।”

কথাটা বলেই চোখ টিপে ন্যান্সি। আফরিদ নির্বিকার দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে।

ন্যান্সি যাওয়া মাত্র অগ্নিদগ্ধ চাহনি নিক্ষেপ করে সাব্বিরের দিকে। সাব্বির অসন্তুষ্ট গলায় বলল।

“ভাই ভাবি আমার রুমে…

মাঝপথে থামিয়ে দিলো আফরিদ , হিসহিসিয়ে বলে।

“নীলাদ্রি লয়ারকে খবর দে।”

চলবে………….।✨

(📌 পরের পর্বে ধামাকা আছে। দ্রুত লিখছি বড় বড় করে যাতে আপনাদের কাঙ্ক্ষিত পর্বটি দিতে পারি যার জন্য অপেক্ষা করছেন।)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply