Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৮


অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ৩৮]

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)

দুটো লোক রয়েছে, তারা হার্পেটোলজিস্ট। মাটি-রঙা একজন এবং অন্যজন গাঢ় সবুজ পোশাক গায়ে জড়ানো

মোটা ক্যানভাস বা চামড়ার তৈরি জামা,যা আঁশের ঘষা আর পেশিবহুল শরীরের চাপ সহ্য করতে পারে। হাতে শক্ত চামড়ার দস্তানা প্রতিটি ভাঁজে জমে আছে অসংখ্য মুখোমুখি হওয়ার স্মৃতি।পায়ে ভারী বুট, কাদামাটি আর রক্তে রাঙা

“এটা তো অ্যানাকোন্ডা, বস!”

ঈশানের কণ্ঠে চাপা আতঙ্ক। কাচের খাঁচার ভেতরে কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকা বিশাল দেহটার দিকে তাকিয়ে তার গলা শুকিয়ে এলো। চোখ দুটো যেন অন্ধকারে জ্বলজ্বল করছে এক ঢোকেই যে কোনো জীবকে নিঃশেষ করে দিতে পারে এমন ক্ষুধার্ত দৃষ্টি।
ঈশানের কথায় আফরিদের ঠোঁটের কোণে বেঁকে উঠল এক রহস্যময় হাসি। দাঁতের ফাঁক গলে হিসহিসিয়ে বলল সে।
“হ্যাঁ।অ্যানাকোন্ডা। মানুষ পর্যন্ত গিলে ফেলে, জীবন্ত। আফ্রিকার গভীর জঙ্গল থেকে বিশেষ করে আনা হয়েছে এটা।”

সে ধীরে হাত তুলল। আঙুলের ইশারায় যেন অন্ধকার জঙ্গলের মানচিত্র আঁকলো ।
“এর নাম “জায়ান্ট গ্রিন অ্যানাকোন্ডা” আমাজন আর আফ্রিকার জলাভূমিতে রাজত্ব করা মৃত্যুর রাজা।”

খাঁচার ভেতর সাপটা নড়ে উঠতেই লোহার শিকগুলো কেঁপে উঠল। ঈশান অজান্তেই এক পা পিছিয়ে গেল। বুকের ভেতর হৃদপিণ্ডটা পাগলের মতো লাফাচ্ছে।
“কিন্তু… কিন্তু কেন আনা হয়েছে বস?”

কণ্ঠটা তার নিজেরই শোনা যাচ্ছিল না। আফরিদ এবার পুরোপুরি ঈশানের দিকে ফিরল। তার চোখে তখন এমন এক আলো, যেটা দেখে মানুষ বুঝে যায় এই লোকটা স্বাভাবিক নয়। পুরুষ্ট ঠোঁট বাঁকিয়ে ধীরে ধীরে হাসল সে। সেই হাসিতে কোনো উষ্ণতা নেই, আছে কেবল নির্মম আনন্দ।
“আমার জানকি বাচ্চাকে খাওয়ানোর জন্য। ও তো আমার কোনো কাজেই আসেনা। না আসে বেডে না আসে মনে।”

কথাগুলো কানে পড়তেই ঈশানের শরীরের ভেতর দিয়ে শীতল স্রোত বয়ে গেল। খাঁচার ভেতরে অ্যানাকোন্ডা তখন আবার কুণ্ডলী পাকাচ্ছে যেন সামনে আসন্ন শিকারের অপেক্ষায়।

ঈশান তপ্ত নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল।
“আমি জীবনেও বিশ্বাস করি না আপনি এমন কিছু করবেন!
সহসা ভ্রু পাকালো আফরিদ , সোফায় গা এলিয়ে বলল।
“কেন কেন?”

ঈশান ফকফকা দাঁত দেখিয়ে হিসহিসিয়ে বলল।
“আপনার বুকে লাগবে বস! না হলে এখন পর্যন্ত বাসর করতে পারেননি?”

আফরিদের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো। ধারালো সেই চাহনি। আশ্চর্য! আশ্চর্য! এত তো দেখছে কিছুদিন পর নিউজ পেপারে ছাপা হবে আফরিদ এহসান বিয়ে করেও বাসর করতে পারেনি।

“বউ আমার
ছোঁয়ার অধিকার আমার
যে বাঁধা দিবে
সে আমার বাল।”

🌿🌿
সোফায় বসে আছে মাইমুনা এহসান, কল্পনা এবং ন্যান্সি।
মাইমুনা এহসান সবসময়ের মতো নিজের ফোনে ব্যস্ত। এদিকে কল্পনা পার্লারের লোক ডেকেছে নিজের পায়ের প্যাডিকিওর করতে।

“আচ্ছা মা আপনি কি আফরিদের খোঁজখবর নেন না?”

ফোন থেকে মুখ তুললেন মাইমুনা এহসান। বিতৃষ্ণা নিয়ে বললেন।
“বেটা নট মা,মম ডাকতে শুরু করো।”

ন্যান্সি বাঁকা হেসে বলল।
“মম আর মা সেইম। আমি ওতো ইংরেজি বলতে পারবো না মাআআআ।”

মুখ কালো করে ফেললেন মাইমুনা এহসান।
“তারপর বলুন আপনি কি জানেন আফরিদ কোথায় আছে?”

“সেটা জেনে তোমার কি কাজ?”

পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন মাইমুনা এহসান। তিনি বেশ ভালো করেই জানেন আফরিদ একজন মাফিয়া , এবং তাদের বিজনেস হচ্ছে অ’স্ত্র পাচার করা।

“অবশ্যই আমার কাজ আছে মম! আমি অবশ্যই তার স্ত্রী কারণ সে আমার হাসব্যান্ড।”

অবাক হলেন মাইমুনা এহসান। ন্যাকা ন্যাকা ভাব করে বললেন।

“ওমা তাই নাকি? বেটা তাহলে ক’দিন সংসার করেছো গোঁ? তোমার বয়সে আমার মম বিয়ে দিয়েছিল পরের দিন বাচ্চার মা হয়েছিলাম। কথায় আছে না আজ বিয়ে দিলে কাল বাচ্চার মা হবে।”

খিলখিল করে হেসে উঠলো ন্যান্সি ,দরজা দিয়ে প্রবেশ করলো আফরিদ। খিলখিলিয়ে হাসিটা পুরুষ্ট বক্ষে ঝড় তুললো।

“আপনি বোধহয় সাইন্সের অনেক কিছুই জানেন না মা। যদি জানতেন তাহলে এটা বলতে পারতেন না!”

প্রশ্নবিদ্ধ নয়নে তাকালেন মাইমুনা এহসান।
“মানে কি?

“মানে এটাই আজকে বিয়ে দিলে কখনোই কালকে বাচ্চার মা হওয়া যায় না! ছোটবেলায় নিশ্চয়ই পড়া ফাঁকি দিয়েছেন আপনি!”

অধর দুটি ফাঁক হয়ে এলো মাইমুনা এহসানের। সহসা হেসে ফেলল কল্পনা।
ন্যান্সি আবারো বলল।
“এই যে দেখুন কল্পনা আপু কে উনার তো শুনলাম বিয়ের প্রায় দেড় বছর হতে চলল উনি তো এখনো মা হলেন না।”

হাসিটা উবে গেল কল্পনার। রাগে গজগজ করতে করতে উঠে হনহনিয়ে চলে গেলেন মাইমুনা এহসান।
ঠোঁট টিপে হাসছে ন্যান্সি। আফরিদ গাল ঠেলে হাসলো।
তীব্র ঝড়ের বেগে এসে তুলতুলে কবুতরি পেলব খানা শূন্যে তুলে নিল আফরিদ এহসান। ঘটনার আকস্মিকতায় চমকে উঠে গলা জড়িয়ে ধরতে বাধ্য হলো ন্যান্সি। বুকের ভেতর মৃদু কম্পন খেলে গেল তার। ঝোড়ো হাওয়ার ন্যায় সর্বদা এসে তাকে উড়িয়ে নিয়ে যায় এই পুরুষ।

কল্পনা হাঁ করে তাকিয়ে আছে। এক লহমায় ন্যান্সি কে নিয়ে দোতলার দিকে পা বাড়ায় ন্যান্সি।
হাত পা ছোড়াছুড়ি করছে ন্যান্সি।

“ছাড়ুন বলছি বেয়াদব পুরুষ কোথাকার। ছাড়ুন বলছি। নইলে কিন্তু সত্যি সত্যি আপনার র’ক্ত চুষে ফেলব।”

“এহ সাধে কি বলি র’ক্ত চুষি ডা’ইনি একটা।”

সাপের মত ফোঁস ফোঁস করে উঠলো ন্যান্সি , কিন্তু আফরিদের যে থামার নাম নেই। ডিরেক্ট রুমে গিয়েই থামলো সে। রুমে ঢুকেই পাসওয়ার্ড দিয়ে লক করে দিলো যাতে ন্যান্সি পালাতে না পারে।

বিছানায় আলতো করে রেখে উঠে দাঁড়ালো আফরিদ ,টানটান ভঙ্গিতে বলল।

“মাঙ্গেল না’তি একটু শান্ত হয়ে বস আমি আসছি।”

আফরিদ কাবার্ডের কাছে এগিয়ে গেল। পিছন থেকে খ্যাঁক করে উঠলো ন্যান্সি।

“জানো’য়ারের বাচ্চা দরজা খুলে দেএএএএ।”

আফরিদ এক গাল হাসে। কাবার্ডে কিছু একটা রেখে নিজের পরণের টিশার্ট টা খুলতে খুলতে এগিয়ে এলো ন্যান্সির দিকে।
লোকটার ভাবসাব মোটেও সুবিধের লাগছে না ন্যান্সির কাছে।

“কি সমস্যা সবসময় নিজেকে দেখানোর ধান্দায় থাকেন কেন? লজ্জা শরম কি একটুও নেই?”

একপেশে হেসে ফেলল আফরিদ , হিসহিসিয়ে বলল।
“পুরুষ মানুষ আমি লজ্জার “ল” নেই। এসব অশ্লীল জিনিস আফরিদ এহসান বহন করে না।”

একটানে টিশার্ট টা খুলে ফেলল। উদোম গায়ে আফরিদ কে দেখে শুকনো ঢোক গিললো ন্যান্সি। বুকের মাঝখানে ওই যে সূর্য ট্যাটু টা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে এখন। ন্যান্সির পাশে পিঠ দিয়ে বসলো। পিঠ দেখে চোখ দুটো যেনো ছানাবড়া হয়ে গেল ন্যান্সির।
কিছু ঢুকে গেছে লোকটার পিঠের কিছু অংশে , আঁতকে উঠে ন্যান্সি।

“এমা এসব কি? এই ক্ষ’ত কিভাবে?”

কাঁপা কণ্ঠে প্রশ্ন করতেই, আফরিদ ঠোঁট কামড়ে এক অদ্ভুত রসিক হাসি ছুঁড়ে দিল। গলার ভেতর থেকে উঠে আসা ফিক করে হাসিটা যেন অন্ধকারের মধ্যে এক ব্য’ঙ্গাত্মক প্রতিধ্বনি হয়ে বাজল।

“তোকে কিভাবে রেপ করা যায় সেই চিন্তা করছিলাম, তোর কাইট্যান এসে ছু’রি ঢুকিয়ে দিয়েছে।”

অহেতুক এই কথায় আঁতকে উঠল ন্যান্সি। ভেতরটা হিম হয়ে গেল তার। এত গভীর ক্ষ’ত বুকে নিয়েও কীভাবে এমন বিদ্রূপ করতে পারে মানুষটা! চোখের পাতা অজান্তেই ভিজে উঠল, স্পষ্ট বোঝা যায়। ব্যথার আ’গুন নিশ্চয়ই হাড়-মাং’স পুড়িয়ে দিচ্ছে তাকে।

কণ্ঠে একরাশ আ’তঙ্ক মিশিয়ে আবারো জিজ্ঞেস করল ন্যান্সি।
“আপনি ডক্টরের কাছে যান নি?”

আফরিদ নির্লিপ্ত স্বরে বলল,
“ঈশানকে দিয়ে জাস্ট ছু’রিটা বের করে কোনো রকমে ব্যান্ডেজ পেঁচিয়ে এসেছি।”

আরেক দফা চমকে উঠল ন্যান্সি। মনে হলো, বুকের ভেতরটা কেউ হঠাৎ পাথর ছুঁড়ে আ’ঘা’ত করেছে। এতোটা অবহেলা, এতোটা অসংবেদনশীলতা তা কি নিজের শরীরের প্রতি, না জীবনের প্রতি?

বাহিরে হয়তো রাত নিশ্চুপ হয়ে আছে, অথচ এই নির্লিপ্ত রসিকতায় এমার বুকের ভেতর হাহাকার, কেঁপে ওঠা ভয়ার্ত স্রোত।

“আপনি এত ভ’য়ানক কেন? মাঝে মাঝে মনে হয় আপনার মধ্যে বিন্দুমাত্র মৃ’ত্যুর ভয় নেই!”

নিশ্চুপ আফরিদ , কিছুক্ষণ ভাবলো সে প্রত্যুত্তরে কি জবাব দেওয়া যায়।

“না নেই, কারণ আমি মৃ’ত্যুর থেকে ভয়ংকর।”

কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল ন্যান্সি ,অবশ্য উনার থেকে এগুলো ছাড়া আর কি আশা করা যায়?

“মাতারি রেএএ ট্রিটমেন্ট কর।”

মুখ কুঁচকে নিল ন্যান্সি। বিরক্ত ভঙিতে বলল।
“আমি কি ডক্টর যে ট্রিটমেন্ট করব?”

“হুঁ আমার হার্টের ডক্টর তুই , এবার ট্রিটমেন্ট কর ফাস্ট।”

হাতে থাকা ফাস্ট এইড বক্স টা ন্যান্সির হাতে ধরিয়ে দিলো আফরিদ। ন্যান্সি আমতা আমতা করে জায়গাটা দেখে বলল।

“ব্যথা পেলে আমাকে কিছু বলতে আসবেন না বলে দিচ্ছি।”

চোখ দুটো খিঁচুনি দিয়ে বুঁজে নিল ন্যান্সি। বুকটা যেন ঢেউ খেলানো নদীর মতো কেঁপে উঠছে অবিরাম এখনই ব্যান্ডেজ করতে হবে, নইলে ক্ষ’তটা আরও গভীরে বি’ষ ছড়াবে।

কাঁপা হাতে আস্তে আস্তে ক্ষতস্থানের র’ক্ত মুছে দিল সে। তুলোর নরম ছোঁয়াও যেন জ্ব’লন্ত শিখার মতো তীব্র হয়ে উঠছিল পুরুষটির শরীরে। তবু আশ্চর্য, একটিবারও কণ্ঠে ব্যথার শব্দ ফুটল না। ঠোঁট শক্ত করে চেপে, স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল সে।

ন্যান্সির ভেতরে ভেতরে তোলপাড় হতে হতে ব্যান্ডেজটা পেঁচিয়ে দিল অবশেষে। অথচ পুরোটা সময় নির্দয় মানব যেন পা’ষাণ প্রতিমার মতো নির্বিকার। না কোনো কাতরানি, না কোনো অভিযোগ এমনকি একটিবারও মুখ খুলে বলেনি আমি ব্যথা পাচ্ছি।

মুহূর্তটুকুতে ন্যান্সির মনে হলো মানুষটা রক্তমাংসে গড়া নয়, যেন কঠিন ইস্পা’তে তৈরি এক দুর্বোধ্য অস্তিত্ব, যে ব্যথাকেও অবহেলা করতে জানে।

“আশ্চর্য আপনি কি একটুও ব্যাথা পান নি?”

হেসে ফেলল আফরিদ ,ঘাড় এদিক ওদিক বাঁকিয়ে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো।

“না ব্যাথা লাগে না আমার।”

সু-মসৃন কপালে ভাঁজ পড়লো ন্যান্সির।
“তাহলে বলুন কিসে ব্যাথা পান? কিসে ধ্বংস হবেন আপনি সেই অস্ত্র নিয়ে এসে ধ্বংস করে দেব আপনাকে!”

এবারে উচ্চ স্বরে ঘর কাঁপিয়ে হেসে ফেলল। হাসিতে মেজাজ খারাপ হচ্ছে মেয়েটার। সর্বদা হাসতেই হবে? এত হাসি তো বাইরেও হাসে না যতটা ন্যান্সির সামনে হাসে এই লোক।

“হাসছেন কেন আপনি? আমি হাসির মতো কি বলেছি?”

সহসা বলিষ্ঠ হাতের আঁজলায় নরম স্নিগ্ধ মুখশ্রী তুলে নিল আফরিদ এহসান।

❝আমাকে ধ্বংস করার অস্ত্র হচ্ছে এই দুটি আঁখি ,যার বোকা বোকা চাহনিতে ক্ষণে ক্ষণে ধ্বংস হচ্ছি।❞

নির্বিকার ন্যান্সি পলকহীন চোখে তাকিয়ে আছে আফরিদের দিকে। খুব কাছ থেকে তার মুখটা দেখছে। আফরিদ চোখে হাসে।

❝তোর এই নিষ্পাপ চাহনি পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর অস্ত্র,যা বুকে এসে বিঁধে আমার।❞

এবারেও নিশ্চুপ ন্যান্সি। দৃষ্টি নত হয়ে আসে , বুকের দিকে যেতেই থমকালো। ওই সূর্য ট্যাটু টা। আঙ্গুল বাড়িয়ে গোলাকার ট্যাটুতে স্পর্শ করলো।

“আপনি কালো জাদু করেন নিশ্চয়ই ,তাই কথার মারপ্যাঁচে সর্বদা সবাই কে থামিয়ে দেন।”

নিমোষ্ট কামড়ে নিঃশ্বাস ছাড়লো আফরিদ। ন্যান্সি তখনো তার বুকে স্পর্শ করে আছে।‌ আকস্মিক চেঁচিয়ে উঠলো আফরিদ।

“ছিহ্ বান্দি ,ছিহ্ ছিহ্ মাতারি রেএএ শেষমেষ আমার ইজ্জত লুটে নেওয়ার চেষ্টা করছিস?”

বেহুদা কথায় রেগে গেল ন্যান্সি , চিবিয়ে চিবিয়ে বলল।

“আপনি না আসলেই খারাপ।”

আফরিদ উঠে দাঁড়ালো,ওয়াইন কর্ণারে গিয়ে একটা হুইস্কির বোতল তুলে নিল। ঢকঢক করে প্রায় অর্ধেক টা শেষ করে হাস্কিটুনে বলে।

“আমি ভালো মানুষ , তাই তো এখনো মধুর চন্দ্রিমা করিনি। খারাপ হলে তো এতক্ষনে…

ভাবসাব মোটেও সুবিধের নয় বেশ ভালোই বুঝতে পারছে ন্যান্সি। হাঁসফাঁস ভঙ্গিতে বলল।

“লু ই চ্ছা আপনি।”

ন্যান্সি আফরিদের দিকে ঘুরে বসলো ,হাসি হাসি চোখ করে তাকালো তার তামাটে রঙের ওষ্ঠোপুটের দিকে। ভয়ংকর এক ইচ্ছে জাগ্রত হয়েছে মন কাননে। তা কি করা উচিত?

ন্যান্সি কে ওমন ভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে দৃষ্টি ছোট হয়ে এলো। ন্যান্সি ঠোঁট গোল করে ফু দিলো তার ফর্সা মুখশ্রীতে।
আঁখি বুঁজে আসে আফরিদের। কি ভয়ংকর কর্মকাণ্ড এই মেয়ের। তাকে উস্কে দিচ্ছে।সে তো জানে না আফরিদ জ্বলন্ত অঙ্গার? এভাবে তাতিয়ে দেওয়ার মানে কি?

ন্যান্সি আরেকটু এগিয়ে গেল, আফরিদ তর্জনী আঙ্গুল তুলে কপাল ঠেলে সরিয়ে দিতে দিতে বলল।
“খবরদার কাছাকাছি আসবি না। পরে আমি কিছু করলে কেঁদে কুটে ভাসিয়ে দিবি। বেয়াদব নারী।”

ন্যান্সির অনূভুতির দরজায় সপাটে তালা ঝুলিয়ে দিলো। এই লোকটা মোটেও যোগ্য নয় তার কাছ থেকে চুমু পাওয়ার। মাত্র চেয়েছিল চুমু দেওয়ার কিন্তু তার আগেই তাকে দূরে ঠেলে দিলো? চূড়ান্ত পর্যায়ে একটা আদুরে চুম্বন মিস করলো গুন্ডা লোক। অসভ্য!

“অস’ভ্য।”
“তুইও সভ্য।”

কথাটা জুড়ে দিলো আফরিদ , চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে আবদারের সুরে বলল।

“বুকে আয় শান্তি লাগছে না।”

নিষ্প্রভ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ন্যান্সি। এত ব্যাকুলতা, অস্থিরতা কেন?

“আমাকে ডাকছেন দেখা গেল আপনার বুকে বসেই অস্ত্র চালিয়ে দিলাম।”

চোখ দুটো আলতো করে বুঁজে নিল আফরিদ , লম্বা একটা নিঃশ্বাস টেনে বলল।

“ঘুমোতে চাই । কিন্তু এই মূহুর্তে যদি তুই বিরক্ত করিস তাহলে শুতে চাইব।”

আশ্চর্য হলো ন্যান্সি , ঘুমোতে চাওয়া আর শুতে চাওয়ার মধ্যে পার্থক্য কী?

“ঘুমোতে চাওয়া আর শুতে চাওয়ার মধ্যে পার্থক্য কি?”

আফরিদ গাল গাল ঠেলে হেসে ফেলল।
“ঘুমোতে চাওয়া হচ্ছে ঘুমোনো আর শুতে চাওয়া হচ্ছে…

একনাগাড়ে হাত নাড়াচ্ছে আফরিদ।সেই সাথে মাথা দোলাচ্ছে ন্যান্সি।পরের টুকু শুনতে উৎসুক জনতা সে। আফরিদ ওমন ভাবে মাথা দোলাতে দেখে মিচকে হেসে উঠলো।
ভাবনায় মগ্ন মস্তিষ্ক কথাটা ধরতে পেরে তেলেবেগুনে জ্ব’লে ওঠে। সে তো বাড়িয়েছিল একপা কিন্তু আফরিদ নিজেই তাকে সরিয়ে দিলো এখন আবার অ’শ্লীল কথাবার্তা বলছে!

আফরিদ আবারো হাত বাড়ালো, ন্যান্সি গুটি পায়ে এগিয়ে যেতেই চেয়ারে বসা অবস্থায় তাকে কোলে টেনে নেয়। হকচকিয়ে গেল ন্যান্সি , পরক্ষণেই কোলে নিয়ে বিছানায় অগ্রসর হলো। ন্যান্সি শুধু তার কর্ম কান্ড দেখে চলেছে। নরম বুকে নিজের জন্য জায়গা করে নিয়েছে এই নষ্ট পুরুষ। পিঠের ব্যথা তার কাছে কিছুই নয়। ন্যান্সি শুধু ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে দেখছে।

চলবে………..।✨

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply