Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৭


অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ৩৭]

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)

রুমের ভেতর শুধু এসির হিমেল শব্দ ঘুরপাক খাচ্ছে, অথচ সেই শীতলতা ছুঁতে পারছে না দু’টি দেহকে।
বরং ভেতরের উত্তাপ ক্র’মশ বাড়িয়ে তুলছে একে অপরের ছোঁয়া, একে অপরের নিঃশ্বাস।
চিকন নাকের ডগা গালের সহিত চেপে লম্বা নিঃশ্বাস টেনে নিচ্ছে ন্যান্সি। ডান হাতটি আঁকড়ে ধরে আছে আফরিদের শার্টের কলার। চোখ বুজে নষ্ট পুরুষের গায়ে স্প্রে করা পারফিউমের ঘ্রাণ টেনে নিচ্ছে।

আফরিদ চুলের ভাঁজে হাত গলিয়ে মাথাটা নিজের সাথে আরো চেপে রেখেছে। জড়ানো কন্ঠে ফিসফিসিয়ে বললো।
“কি রে এত জ্বা’লাচ্ছিস কেন?”

ন্যান্সি ওভাবেই নাক ঠেকিয়ে বুকের উপর শুয়ে আছে তার। আদুরে গলায় বলল।
“আপনাকে জ্বালাতন করতে ভালো লাগে!”

আফরিদ চওড়া হাসলো , ন্যান্সির চোখে চোখ রেখে শান্ত কন্ঠে বলল।
“তাহলে এভাবে না জ্বালিয়ে কাছে এনে জ্বালা!”

ন্যান্সি দুষ্টু হেসে ভ্রু নাচিয়ে বলল।
“কাছেও আসবো না আসতেও দেব না। কোনো ভালোবাসা বাসি হবে না।”

একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো কিয়ৎক্ষণ, প্রণয়ের অনুভূতি রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছে আজ। আফরিদ যে অবাধ্য, অধৈর্য পুরুষ, কিন্তু বউয়ের বেলায় ধৈর্যশীল,বাধ্য পুরুষ।

“ডুবে ডুবে ভালোবাসি
তুমি না বাসলেও আমি বাসি মিসেস এহসান।”

ন্যান্সি লম্বা নিঃশ্বাস টেনে আবেশে আঁখি বুঁজে। স্বতঃস্ফূর্ত কন্ঠে বলল।
“আপনার গা থেকে একটা মিষ্টি খুশবু আসছে।”

আফরিদ ঠোঁট ভেজায় ,এই মেয়ে তার সর্বনাশ করে দিবে! এই যে ভয়ংকর কথাবার্তা বলে তার হৃদয় নিয়ে কূটনৈতিক খেলা খেলছে। ডান হাত বুলায় চুলের ভাঁজে।
“তোকে মেখেছি গায়ে তাই মিষ্টি খুশবু আসছে।”

ন্যান্সি নাক ঘষে তার গালে ,এই মূহুর্তে আফরিদ নিজেকে শান্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ন্যান্সি চাপা স্বরে বলল।
“কি মেখেছেন?”
“Clive Christian No.1”
“বড়লোক।”
“ইয়েস মিসেস,কজ আমার বউয়ের ডিমান্ড আকাশ ছোঁয়া।তিনি আজেবাজে ঘ্রাণ নিতে পারেন না।”

ন্যান্সি ওভাবেই পড়ে রইলো , আফরিদ এক সময় ন্যান্সি কে আরো চেপে ধরে। আলতো করে নিজের নিচে নিয়ে এলো। সম্পুর্ন ভার অনায়াসে ছেড়ে দিলো মেয়েটার উপর।
ন্যান্সি শুকনো ঢোক গিলল। ভয় হচ্ছে খুব!
অবাধ্য পুরুষের উন্মা’দনা যেন শিকলহীন ঝড়ের মতো অস্থির, বেপরোয়া, অ’গ্নিগর্ভ।
ন্যান্সি যতই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চায়, তার প্রতিটি স্পর্শে, প্রতিটি তীব্র টানে ভেঙে যাচ্ছে সব বাঁধন।

হঠাৎই মনে হয়, এসির শীতল বাতাসও পরাজিত হয়েছে এই দাউ দাউ দহনময় মুহূর্তের কাছে।
পুরুষের উন্মত্ততা, রমণীর আ’তঙ্ক আর অচিন্তনীয় আবেগ মিলেমিশে রুমটাকে করে তুলেছে এক অদ্ভুত, প্রগাঢ় অ’গ্নিকুণ্ড।

“বেয়াদব নষ্ট পুরুষ ছাড়ুন আমায়!”

আফরিদ ব্যাকুল হয়েছে , হয়ে উঠেছে অস্থির।

“চুপ শা’লী আজকে বাসর করতে না পারলে ডিএনএ ওয়েস্ট হবে আমার। প্লিজ সোনা একটু ভালোবাসি?”

ন্যান্সি বিরক্ত হলো ,কখনোই তাকে স্বামীর অধিকার দিতে চাইবে না সে যদি হয়ে থাকে তার পরিবারের খু’নি। এখনো সবকা খোলসা হয়নি তার কাছে , কিন্তু খুব শীঘ্রই খুঁজতে হবে সবটা। যদি আফরিদ নির্দোষ হয় তাহলে ন্যান্সি নিজেই তাকে ভালোবেসে আঁকড়ে ধরবে। কিন্তু তার আগে নয় ,আফরিদ কে আরো কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতে হবে।

আচানক আফরিদের মেইন পয়েন্টে কিক বসিয়ে দিলো ন্যান্সি। ধড়ফড়িয়ে উঠে মাফিয়া কিং।

“শিট শিট শিট।”

দুহাত তুলে কুংফু টাইপ হয়ে দাঁড়ালো ন্যান্সি।

“আমার সাথে নো জবরদস্তি!”

ঘাড় বাঁকালো আফরিদ , ঘাড় ম্যাসাজ করে দাঁতে দাঁত পিষে বলে।
“তোকে যদি রে””””প না করছি আমার নাম আফরিদ এহসান নয় শা’লী মা’তারি কোথাকার।”

এহেন কথায় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল মেয়েটা।
“বেয়াদব কোথাকার। বের হন এখুনি!”

রাগে শরীর জ্ব’লছে আফরিদের ,তেড়ে আসতে নিলে কর্কশ শব্দে ফোনটা বেজে উঠলো তার।
প্রচন্ড বিরক্তিতে চোখ দুটো বুঁজে নিল।

“হ্যালো?”

“গোডাউনের ট্রাক আটকে রাখা হয়েছে বড় স্যার।”

কথাটা শোনা মাত্রই মস্তিস্কের নিউরনে নিউরনে টনটনে রাগ অনুভব করলো আফরিদ।

“মাদারচো””” তোদের কিসের জন্য রাখা হইছিল হ্যাঁ? খান”””কির পোলারা যদি কিছু হয় তাহলে তোরা গেলি!”

বিশ্রী ভাষায় গা’লিগালাজ করে রুম থেকে বেরিয়ে গেল আফরিদ। সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ন্যান্সি , বিড়বিড় করে বলল।

“কার উপর এত রাগ দেখাচ্ছে?আর কোথায় যাচ্ছে এই লোক?”

খট শব্দ করে দরজাটা ঠেলে আবারো রুমে ফিরে এলো আফরিদ। আফরিদের আগমনে হকচকিয়ে গেল ন্যান্সি ,সবে তো বেরিয়ে গেল আবার ফিরে এলো কেন?

আফরিদ ধুমধাম পা ফেলে এগিয়ে এসে পরণের শার্ট টা খুলে ফেলল। শার্টে লিপস্টিকের দাগ লেগে আছে সে চায় না এটা কেউ দেখুন। একান্ত ব্যক্তিগত মানুষের কিছু চিহ্ন ব্যক্তিগত থাকা উচিত।

আড় চোখে তাকাচ্ছে ন্যান্সি ,বোঝার চেষ্টা করছে লোকটা কি করছে?
হঠাৎ করে শার্ট চেঞ্জ করে ন্যান্সির অনেক টা কাছে এসে ওষ্ঠো যোগল কপালে স্পর্শ করে ওভাবে রেখে বলল।

“একটা ধাঁধা জিজ্ঞেস করি? উত্তর দিতে পারবি?”

ন্যান্সি চোখ ছোট করে শুধোয়।
“কী ধাঁধা?”

আফরিদ বাঁকা হেসে বলল।
“আন্ধার ঘরে বান্দর নাচে,না না করলেও আরো নাচে। আপাতত উত্তর বের করেন, না পারলে বাকিটা পরে এসে আপনারে বুঝাবো। জানকি বাচ্চা। ততক্ষনের জন্য আল্লাহ হাফেজ।”

ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে ন্যান্সি। কি বুঝিয়ে গেল এই লোক?এটা আবার কেমন ধাঁধা?

ন্যান্সি অপেক্ষা করলো না এটাই সুযোগ তার আফরিদের পিছু নেওয়া , সে দেখতে চায় আফরিদ যাচ্ছে টা কোথায়?

🌿____🌿

ল্যাম্বগিনির চকচকে শরীরটা বাইরের আলোয় যেন হিং’স্র জন্তুর মতো দাঁড়িয়ে ছিল।
পিছনের দিক দিয়ে নিঃশব্দে বেরিয়ে এলো ন্যান্সি। হৃদস্পন্দন যেন কানফাটা শব্দ তুলছে বুকের ভেতর, তবুও সাহস জোগাড় করে গাড়ির দরজা টেনে ভেতরে ঢুকে পড়ল। অন্ধকারের সঙ্গী হয়ে ঘাপটি মে’রে বসে রইল পিছনের সিটে, শরীরটা যতটা সম্ভব ঝুঁকিয়ে রাখল একটুও যেন দৃষ্টিগোচর না হয়।

ওদিকে আফরিদ ফোনালাপ শেষ করে ছুটে এলো। গাড়ির দরজা জোরে বন্ধ হতেই ভেতরের নীরবতা আরও ভারী হয়ে উঠল। স্টিয়ারিং ধরতেই তার চোখে অদ্ভুত এক দৃঢ়তা গন্তব্যের দিকে যেন ঝড়ের বেগে ছুটতে চায়।
ইঞ্জিন গর্জে উঠল, গাড়ি ধূমকেতুর মতো ছুটে চলল শহরের অন্ধকার ভেদ করে।

ন্যান্সির কপাল বেয়ে নেমে এলো ঘামের ফোঁটা। নিশ্বাস ভারী, বুক কাঁপছে। যদি আফরিদ এহসান হঠাৎ পিছনে তাকায় তাহলে ধরা পড়ে যাওয়া নিশ্চিত। এই অদৃশ্য লুকোচুরি খেলাটাই এখন তার একমাত্র ভরসা।

প্রায় আধঘণ্টার দৌড়ঝাঁপ শেষে ল্যাম্বগিনি থামল এক নির্জন গোডাউনের সামনে। ইঞ্জিন নিভতেই চারদিকের নিস্তব্ধতায় ভেসে উঠল এক অদ্ভুত গুমোট ভাব। আফরিদ গাড়ি থেকে নেমে ভেতরে প্রবেশ করতেই নিঃশ্বাস আটকে রইল ন্যান্সি। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে যখন নিশ্চিত হলো যে আশেপাশে পুরুষ নেই, তখনই নিঃশব্দে দরজা খুলে পিছনের সিট থেকে বেরিয়ে এলো সে।

“এটা তো আফরিদের গোডাউন , কিন্তু এত রাতে এখানে কি করছে সে?”

মাথাটা উঁচিয়ে বের হতেই চমকে উঠল চারপাশে অগণিত গার্ড। কালো পোশাক, কাঁধে ঝোলানো অ’স্ত্র, সতর্ক চোখ যেন প্রতিটি ইঞ্চি জমি পাহারা দিচ্ছে। তাদের নজর এড়ানো প্রায় অসম্ভব। মাত্র কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়েই বুঝতে পারল এক পা বাড়ালেই ধরা পড়ে যাবে। অগত্যা আবারো পিছনে ফিরে তড়িঘড়ি করে গাড়ির ভেতরে আশ্রয় নিল।

তার ভেতরটা তখন দাউ দাউ করে জ্বলছে অস্থিরতায়। এভাবে ছায়ার মতো পিছু নেওয়া সম্ভব নয়। দিনের আলো চাই, মানুষের ভিড় চাই, যাতে নিজেকে আড়াল করা সহজ হয়।
রাতের অন্ধকারে বা পাহারাদারদের চোখে ধরা পড়া মানেই বিপদের শেষ সীমানা।
সে জানতে চায় আফরিদ এহসান কে ,ওই মঞ্জিলে বন্দি অবস্থায় থাকলে কখনোই সবটা জানতে পারবে না। সে জানতে চায় কে মে’রেছে তার পরিবার কে?
🌿🌿
গোডাউনের অন্ধকার ঘরটা কাঁপিয়ে উঠল আফরিদের আগ্রাসী পদচারণায়।
হঠাৎই সপাটে লা’থি বসাল চেয়ারে, ধাতব আওয়াজে চারপাশের স্তব্ধতা ভেঙে গেল। মুহূর্তেই ঝাঁপিয়ে পড়ে নীলাদ্রির কলার চেপে ধরল সে, চোখে যেন আগুন জ্বলছে।

“কেন আটকেছে ট্রলার? হোয়াই?”

গর্জন করা কণ্ঠে শিরদাঁড়া পর্যন্ত কেঁপে উঠল উপস্থিত সকলে।

ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে নীলাদ্রির ঠোঁট থেকে বেরোল অস্পষ্ট স্বর।

“ভাই ইদ্রান সব করেছে!”

ইদ্রান। আবারো সেই একই নাম। বারবার ভেসে ওঠা সেই বিশ্বাসঘা’তক যেন আফরিদের সমস্ত র’ক্ত গরম করে তুলল। তীব্র ক্ষোভে হাত উড়ে এলো বিদ্যুতের মতো সপাটে থাপ্পর খেল নীলাদ্রি।

গোডাউনের ভেতর হঠাৎ নীরবতা নেমে এলো। আতাউল থেকে শুরু করে শৌধ, এমনকি একেকটা কর্মচারীর দমও যেন আটকে গেছে। সবাই তাকিয়ে আছে শুধু তার দিকেই কারণ এই রুদ্ররূপ কেউ আগে দেখেনি।

“তোর মতো বলদের দ্বারা কোনো কাজ হয় না!”

আত্মাহুতি দেওয়া আ’গুনের মতো গর্জে উঠল সে, গালি ছুঁড়ল ঝড়ের বেগে‌

“ছে শাউ’য়্যা কোথাকার!”

ঘরের সবাই আঁতকে উঠল, দেয়ালের প্রতিটি ইট যেন সাক্ষী হলো আফরিদের উ’ন্মত্ত রোষের। ফটাফট ফোন বের করে কল লাগালো স্পেনের ইদ্রান নামক পুরুষের নাম্বারে।
ওপাশে ফোন রিসিভ করতেই বিশ্রী গালিটা ছুঁড়ে দিলো।

“ব্লাডি মা’দারফা’কার কোন সাহসে তুই ট্রলার আটকেছিস? হাউ ডেয়ার ইউ ইদ্রান?”

রকিং চেয়ারে বসে থাকা পুরুষটি ভাবলেশহীন ভাবে বলল।

“তুই বেটা বাসর নিয়ে পড়ে থাকিস তাহলে আমার কি করার? ভাবলাম একটু বিরক্ত করি।”

ফোঁস ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো আফরিদ , দাঁতে দাঁত পিষে অকাট্য ভঙিতে বলল।

“ট্রলার টা পাঠা চুপচাপ।”

ইদ্রান হাসলো।
“ওকে ফাইন।”

আফরিদ রুষ্ট কন্ঠে আওড়াল।
“একটু বেশি করে ফেললি না?”

ইদ্রান শব্দ করে হেসে উঠলো। খোঁচা মে রে বলল।
“কিন্তু এটা ট্রুথ। তুই নাকি সারাদিন বউ বউ করিস?”

মুখের উপর ফোনটা কেটে চুপচাপ গোডাউন থেকে বেরিয়ে পড়লো আফরিদ এহসান। গাড়ির কাছে যেতেই মেয়েলি একটা ঘ্রাণ পেলো। তাথ পরাণের মিঠা মিঠা সেই ঘ্রাণ। ধূর্ত শিকারির ন্যায় দৃষ্টি বুলায় এদিক সেদিক।
সামথিং রং! পিছনের সিটে এখনো চেপে বসে আছে ন্যান্সি , আল্লাহ আল্লাহ করছে আফরিদ যাতে তাকে দেখতে না পায়। গাড়িতে উঠেই দ্রুত স্পিডে গাড়ি চালাতে লাগল আফরিদ। পুরোটা রাস্তা তটস্থ থাকতে হয়েছে ন্যান্সি কে। বারংবার মনে হচ্ছিল এই বুঝি আফরিদ এহসান পিছনে ফিরে তাকে চেপে ধরলো।

🌿_🌿

ঘুম ঘুম চোখ খুলে তাকাতেই চিৎকার করে উঠে ঈশান।
“ভূততততত। বসসসস!”

“আরে আরে চুপ করেন চুপ করেন এত চিৎকার করার কি আছে?”

নিজের রুমে অপরিচিত এক অন্য কে দেখে গায়ের লোমকূপ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে গেছে ঈশানের।
তড়িঘড়ি করে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো নিচে।
হলুদ রঙের একটা গোল জামা পড়েছে মেয়েটা , সাথে বড় একটা ওড়না জড়ানো। কেমন করে তাকিয়ে আছে ঈশানের দিকে।

“এই মেয়ে কে তুমি?”

মেয়েটা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ দাঁত বের করে হেসে ফেলল।

“ওরে বাবা রে ভূতনি।”

এক দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে ডিরেক্ট এহসান মঞ্জিলের ভেতরে প্রবেশ করলো ঈশান।

“বস বস বস বাঁচান আমাকে বস!”

সকাল সকাল চিৎকার চেঁচামেচি শুনে সবাই বেরিয়ে আসতে বাধ্য হলো। ঈশান আফরিদ কে দেখা মাত্রই হামলে পড়ে।

“বসসস ভুতনি।”

নাক মুখ কুঁচকে নিল আফরিদ।
“সর শা’লা গে কোথাকার!”

ঈশানের পিছু পিছু মেয়েটা ভেতরে চলে এলো।
ওদিকে কাইট্যান কে কোলে নিয়ে নিচে নেমে এলো ন্যান্সি।

অপরিচিত মেয়েটাকে দেখে ভ্রু কুঞ্চিত করে শুধোয়।

“আপনি কে?”

ঈশান ফিসফিসিয়ে বললো।
“ম্যাম প্লিজ ভেতরে যান এটা ভূত।”

বিরক্ত হলো ন্যান্সি , নিচে নামতে নামতে বলল।
“উফ্ থামুন আপনি ঈশান ভাইয়া। উনি একজন মানুষ দেখতে পাচ্ছেন না? আচ্ছা আপনি বলুন তো কে আপনি?”

এইবারে মেয়েটা মুখ খুলল।
“আমি তিতলি। অস’ভ্য লোক চিনেও বলছে আমি নাকি ভূত।”

ন্যান্সি কে দেখে মুচকি হাসলো তিতলি ,এই নারীর জন্য সে বেঁচে গেছে। নইলে আজ তিতলি বেঁচে থাকতো না।

ওষ্ঠো জোড়া ফাঁক হয়ে এলো ঈশানের।
“এই তিতলি উড়ে যাওয়ার বদলে এখান কি করছো?”

আফরিদ ধমকের সুরে বলল।
“চুপ কর বেয়াদব জা’উরা কোথাকার ,ও তোর হবু বউ উড়ে গেলে পাবি কই?”

“কী?”

বিস্মিত নয়নে একে অপরের দিকে মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো ঈশান আর ন্যান্সি।

“আফরিদ এহসান আপনি ওর সাথে ঈশান ভাইয়ার বিয়ে দিবেন?”

ন্যান্সি প্রশ্ন করতেই হাসলো আফরিদ ‌
“হুঁ হুঁ কেন জানকি বাচ্চা তোমার পছন্দ হয়নি ওরে?”

ন্যান্সি পা থেকে মাথা পর্যন্ত পরখ করে দেখে বলল।
“ভীষণ পছন্দ হয়েছে। চলে এসো আমার কাছে।”

ঈশান এক প্রকার চিৎকার করে উঠল।
“বস আপনি এটা করতে পারেন না আমি এই মাইয়ারে বিয়ে করব না।”

তার কথায় পাত্তা দিলো না আফরিদ , চেয়ার টেনে বসতেই পিছন থেকে তিতলি বলে উঠে।

“আপনাকে বিয়ে করার জন্য আমার ডান পায়ে নাচে।
নির্লজ্জ লোক কোথাকার। শুধু আফরিদ ভাইয়া নিয়ে এসেছে বলে এসেছি নয়তো আপনার মতো লোকের মুখ দর্শন করতাম না।”

কটাক্ষ করে বলা কথা গুলো শুনে তেতে উঠল ঈশান।
গতবার রংপুরে এই মেয়েটাকে দেখেছিল , মারাত্মক ঝগড়ুটে মেয়ে। এখন তো ডিরেক্ট এখানে চলে এসেছে!

ন্যান্সি খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো , হাসিটা বড় তৃপ্তি নিয়ে দেখলো আফরিদ। কোলে কাইট্যান কে নিয়ে উপরে যেতে যেতে বলল।

“ভাগ্যক্রমে বউ পাচ্ছেন ঈশান ভাইয়া নয়তো খচ্চ’র লোকটার চক্করে জীবনেও বউ জুটত না।”

খোঁচাটা যে আফরিদ কে মে’রেছে সেটা বুঝতে বাকি নেই আফরিদের।

“মাতারি রেএএ ইন্সাল্ট করলি?”

“না অপমান করেছি।”

ন্যান্সি তিতলি কে নিয়ে উপরে দুতলায় চলে গেল। ঈশান অসহায় মুখ করে তাকালো আফরিদের দিকে। আফরিদ একটা আপেলে কা’মড় দিলো।

“বল তো ঈশান তিতলি কে দেখার পর কি মনে হলো?”

ঈশান বিড়বিড় করে বলল।
“রংপুরে যাইয়া দেখি রঙেরও মেলা
জানালা খুইলা দেখি দুধ আর কলা
পাগল কইরাছে আমায় রংপুরের মাইয়া।”

অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল আফরিদ ,ভাগ্য করে এক জা’উরা পেয়েছে নিজের দলে।


রুমে পায়চারি করছে ন্যান্সি ,ভয় লাগছে খুব। সে কখন যাবে গোডাউনে? কখন আফরিদ বেরুবে আর সে যাবে?
ভাবতে ভাবতে টেবিলের উপর থেকে ফল নিয়ে ছু’রি দিয়ে কা’টতে লাগল ন্যান্সি।
কোঁকড়ানো চুল গুলোতে টানতে টানতে ভেতরে এলো আফরিদ। চোখ গেল ন্যান্সির দিকে।
আনমনা ন্যান্সি ফল কাটতে গিয়ে আঙ্গুল কে টে ফেলল।

“আহ্!”

শব্দ করে চেঁচিয়ে উঠলো ন্যান্সি। ভীষণ ব্যথা পেলো সে। র’ক্ত গড়গড় করে বেরিয়ে আসছে। আফরিদ স্থির হয়ে গেল। ন্যান্সির আঙ্গুল থেকে র’ক্ত বেরুতে দেখে চমকে উঠে। দপদপ করে জ্ব’লে ওঠে মস্তিষ্ক।

“এই এই কি করলি এটা? এই মেয়ে তুই পাগল? চোখ অন্ধ তোর?”

ন্যান্সি থমকালো , আফরিদ ফলের ফাঁকা বাটিটা টেনে নিলো। র’ক্ত টুকু সেই বাটিতে পড়ছে।
“একদম নড়বি না। আমি আসছি তুই দাঁড়া।”

ন্যান্সি কে রেখে দ্রুত ফাস্ট এইড বক্স এনে ব্যান্ডেজ করতে লাগলো।
“বলদ। তুই আস্ত বলদ। তোকে খোদা তায়ালা বানানোর সময় নিশ্চয়ই ব্রেইনের জায়গায় গোবর ঢুকিয়ে দিছে।”

ন্যান্সি ঠোঁট উল্টে কেঁদে ফেলল , ব্যাথায় আঙ্গুল টনটন করছে।
“খুব ব্যথা করছে!”

আফরিদ অসহায় চোখে তাকায় ন্যান্সির দিকে। ব্যান্ডেজ টা করে দিলো ত্রস্ত হাতে। বাটিতে ইতিমধ্যেই র’ক্তের ফোঁটা ভরে উঠেছে। ন্যান্সির পরণের হোয়াইট টপসটা র’ক্তে ভিজে গেছে।
হাত ছেড়ে মুখটা আঁজলায় তুলে আদুরে গলায় বলল।
“কমে যাবে। তুই আসলে না আস্ত পাগল। শান্তি দিচ্ছিস না। কে বলেছে ফল কাটতে? খেতে ইচ্ছে করছিল আমাকে বলতি! এখন লাগল তো ব্যথা?”

বলতে বলতে পুরো মুখে চুমু এঁকে দিলো। ন্যান্সি স্থির নেত্রে তাকিয়ে আছে আফরিদের দিকে। আফরিদ তাকে এত ভালোবাসে। ন্যান্সি কবে এত ভালোবাসবে? কবে কাছে টানবে তাকে?
ব্যস একবার সত্যটা জেনে নিক তারপর আফরিদকে বলে দেবে মনের কথা।

ভাবনায় ব্যা’ঘাত ঘটিয়ে বলল।
“যা ফ্রেশ হয়ে আয়। দ্রুত চেঞ্জ করে আয়।”

ন্যান্সি উঠে দাঁড়ালো ,কাটা হাতটা নিয়ে এগিয়ে গেল ওয়াশ রুমের দিকে। আফরিদ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল ততক্ষন যতক্ষন না ন্যান্সি ওয়াশ রুমে যায়।
সে চলে যেতেই বাটিতে থাকা রক্তের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করলো।

ন্যান্সির র’ক্ত ,তার দেহ থেকে নির্গত হওয়া তরল পদার্থ টুকু গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখলো আফরিদ! তার জানকি বাচ্চা ,অথচ আজকে তার র’ক্ত বাটিতে নিয়ে বসে আছে আফরিদ।
এক লহমায় দিকবিদিক ভুলে গিয়ে বাটিটা নিয়ে মুখ উঁচিয়ে র’ক্ত টুকু খেয়ে ফেল ঢকঢক করে।
একটুও ছাড়লো না , প্রয়োজন নেই ছাড়ার। বড় তৃপ্তি নিয়েই সম্পূর্ণ র’ক্ত খেয়ে নিল।
“আমার জানকি বাচ্চার র’ক্ত এতটা ইয়াম্মি কেন?ইয়াম্মি ইয়াম্মি ইয়াম্মি! সরি জান বাচ্চা।

ক্ষীণ হাসলো আফরিদ।
“আমি তোর র’ক্তে প্রাণ ফিরে পাই। I find life again in your blood”

ন্যান্সি চেঞ্জ করে বেরিয়ে আসতেই আফরিদ উঠে দাঁড়ালো।
বাটিটা খালি দেখে ভ্রু উঁচিয়ে তাকালো ন্যান্সি। বিস্ময়কর কন্ঠে শুধোয়।
“একি এটা ফাঁকা কেন? এখানে না র’ক্ত ছিলো?”

আফরিদ বিনা বাক্যব্যয়ে ফাস্ট এইড বক্স থেকে একটা ওষুধ বের করে দিলো ন্যান্সির দিকে।
“খেয়ে নে বান্দি, ব্যথা কমে যাবে।”

ন্যান্সি আফরিদের অদ্ভুত আচরণে হতবাক। কি হলো ব্যাপারটা?
“কিন্তু ওটা..

আফরিদ মুখ নামিয়ে থুতনিতে চুমু খেলো , শিরশির করে উঠলো ন্যান্সি।
আফরিদ ন্যান্সির দিকে ঝুঁকে রইলো। স্নিগ্ধ আদলে ফু দিয়ে ভয়ংকর গলায় বলল।
“তোকে কতটা ভয়ঙ্কর ভাবে ভালোবাসি তা যদি বুঝতে পারতি!”

ন্যান্সি নীলাক্ষী জোড়ায় দৃষ্টি স্থির রেখে আফরিদের শার্টের বোতাম ছুঁয়ে বলে।
“জানোয়ার!”

“হ্যাঁ।”

“আপনি কি র’ক্ত খেয়ে ফেলছেন?”

আফরিদ ন্যান্সি কে অবাক করে দিয়ে মিটিমিটি হেসে বলল।
“যদি বলি হ্যাঁ?

পাহাড়ের মতো শক্ত বুকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো ন্যান্সি। বিড়বিড় করে গালি ছুঁড়ে।
“মিথ্যুক একটা। কত মিথ্যে বলে। ফাজিল লোক! আমার মুখে লেখা আছে ইলহাম তুই বোকা তাই তো এই লোক তোকে বোকা বানাচ্ছে! মিথ্যুক!”

আফরিদ ঘর কাঁপিয়ে হেসে উঠলো। পরপরই বুড়ো আঙ্গুল থুতনিতে ঘষে। তারপর নাক ঘষে। ভয়ংকর তার চাহনি , ভয়ংকর তার অনূভুতি! তাকে সহ্য করার ক্ষমতা প্রয়োজন এই মেয়ের।খোদা তায়ালা ওর হেফাজত করুক ,ওকে শক্তি দিক। আফরিদ ফের বাঁকা হাসলো , ইশ্ যদি জানতে পারতো তার অনূভুতির তোলপাড়ে আফরিদ কি কি করছে! তাহলে বোধহয় জ্ঞান হারিয়ে ফেলতো!

চলবে…………।🌿

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply