অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ৩৬] প্রথম অংশ
লেখিকাফারহানানিঝুম
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)
(🚫এই গল্পের কোনো দৃশ্য, সংলাপ, প্লট অনুপ্রাণিত হয়ে কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
নওফেলের শরীটাকে টেবিলের উপর রেখে খুব সন্তর্পণে পিসপিস করছে আফরিদ। সঙ্গে একটি বুলি আওড়ে চলেছে।
“Twinkle, twinkle, little star,
How I wonder what you are!
Up above the world so high,
Like a diamond in the sky.”
আফরিদ চমৎকার ভঙ্গিতে শরীরটাকে কেটে গেল। দেহ হতে চামড়া আলাদা করে। মাথাটা কে টে ছিন্ন করলো। সেই মাথাটা তুলে নিলো এগিয়ে গেল দেয়ালের দিকে। সারি সারি মানুষের মাথা কে টে পেন্টিং করে রাখা। একেকটা মাথা পেরেকে গেঁথে দেওয়া হয়েছে।
আফরিদের সবচেয়ে চমৎকার দেয়ালে লাগানো পেন্টিং এগুলো। নওফেলের মাথাটা একটা পেরেকে গেঁথে দিল।
ততক্ষণ কাইট্যান ম্যাও ম্যাও করে উঠে।
আফরিদ আঙ্গুল দেখিয়ে চুপ থাকতে বলল।
“পাপাস গুড বয় না কাইট্যান?”
কাইট্যান প্রত্যুত্তরে ফের ম্যাও ম্যাও করে উঠলো। আফরিদ নিচু হয়ে বসলো। কাইট্যানের মাথায় আদুরে হাত বুলিয়ে বলল।
“কাইট্যান, আজকের ঘটনা তোমার মাম্মা কে বলবে না ওকে?”
কাইট্যান আদুরে ভঙ্গিতে পায়ের নিজের লোমশ শরীর টা ঘঁষে।
“তাহলে যাও গিয়ে দেখো তোমার মাম্মা ঘুমোচ্ছে নাকি উঠে পড়েছে!”
কাইট্যান এক মূহুর্ত অপেক্ষা করলো না লেশ দুলিয়ে দুলিয়ে বেরিয়ে গেল।
ঠোঁটে আঙ্গুল চেপে ধারালো দৃষ্টিতে কিয়ৎক্ষণ তাকিয়ে রইল আফরিদ।
আফরিদ হিমশীতল কন্ঠে বলে উঠে।
“মেয়ে মানুষদের সম্মান করতে হয় ব্রো। যারা নিজের ইচ্ছায় খারাপ হয় তাদের সাথে যা ইচ্ছে করো কিন্তু যারা পবিত্র তাদের সাথে নয়। তুই তো শালা ভালোবাসার নাম করে ঠকালি। দিস ইজ ভেরি ব্যাড। এইসব আমি পছন্দ করি না। এই জন্যেই এসব নারী জাতের বিজনেসে এই আফরিদ নাই। কারণ কি জানিস? আমারো মম আছে , আমার একটা লিটল সিস্টার আছে। কিন্তু এখন তো আমার আরো একটা পবিত্র সত্তা আছে।”
নওফেলের মাথাটা ওমনভাবেই দেয়ালে টাঙ্গানো রয়েছে। আফরিদ মাথাটার কাছে গিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো।
“তোর অপরাধ খুব বড় তাই তার শাস্তি হলো মৃ’ত্যুদন্ড। এখন তোর এই শরীর টা আমি খুব যত্ন নিয়ে রান্না করব তার আমার প্রিয় আলিয়াজকে খাওয়াব।”
বেলকনিতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বিকেল টা অনুভব করে চলেছে ন্যান্সি নামক রমণী। চোখের কৌটা থেকে দুফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। এই এহসান মঞ্জিলের কোনো এক সদস্য তার পরিবার কে শেষ করে দিয়েছে! ন্যান্সি ভালো ভাবেই জানে।
কিন্তু তাকে কিভাবে পাকড়াও করবে সে? আচ্ছা সেই আগুন্তক যদি আফরিদ এহসান হয়ে থাকে তাহলে? তাহলে কি করবে ন্যান্সি? আফরিদ কে মে রে ফেলবে? নাকি নিজে ম’রে যাবে? আফরিদের প্রতি অনূভুতি গুলো আচমকা ফিকে হয়ে আসছে তার কাছে!
সে এখনো বুঝে উঠতে পারে না কেন তার পরিবার কে শেষ করে দেওয়া হলো? কেনো এমন হলো?
আর ঘুম হবে না তার! কিন্তু আফরিদ কোথায়? সে এই রাতবিরেতে কোথায় গেল? ন্যান্সি যখন চোখ খুললো তখন নিজেকে রুমের বেডে আবিষ্কার করে। আশেপাশে দৃষ্টি বুলিয়ে শুধু আফরিদ কে খুঁজেছে। কিন্তু আফসোস কোথাও পায়নি!
_____🌿 আমার পেইজ লিংক https://www.facebook.com/profile.php?id=100087612087977
ভোরের আলো আকাশের আঁধার ছিঁড়ে উঁকি দিলো। নিস্তব্ধ রাতের আবরণ ভেদ করে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে এক অনাবিল শান্তি। পূর্ব দিগন্তে রঙ মাখা তুলোর মতো আভা ছড়িয়ে আছে, কোথাও গাঢ় কমলা, কোথাও হালকা লালচে আভায় ভিজে উঠছে আকাশের ক্যানভাস।
শিশিরভেজা ঘাসের গায়ে রোদ্দুরের সোনালি রঙ এসে পড়তেই তারা যেন ঝলমল করে উঠলো অগণিত মুক্তোর মতো। নিদ্রালু পাখিদের কণ্ঠস্বর ধীরে ধীরে ভেসে উঠছে চারপাশে কেউ ডাকছে প্রিয় ভোরকে, কেউ আবার গাইছে নতুন দিনের বার্তা।
এলবাম টা পুরোটাই দেখলো ন্যান্সি , বাচ্চা ছেলের অসংখ্য ছবি। আর সাথে রয়েছে মাইমুনা এহসান।
আশ্চর্য বিষয় আফরিদ কি তবে এই শিশু? হ্যাঁ কারণ তার নীলাভ মনি জোড়া তো এই বাচ্চাটার মতো। আর ওই ডক্টর? উনি কি আফরিদের বাবা? যদি বাবা হয়ে থাকেন তাহলে কোথায় আছেন? এখন পর্যন্ত এই মঞ্জিলে সে এখনো এই লোকটাকে দেখেনি।
আচানক দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করলো আফরিদ এহসান।
“গুড মর্নিং জানকি বাচ্চা।”
আকস্মিক আফরিদের আগমনে আঁতকে উঠে ন্যান্সি , এলবাম টা সন্তর্পণে লুকিয়ে ফেলল বিছানার চাদরের নিচে।
এই মূহুর্তে আফরিদ কে এগুলো দেখাতে চাচ্ছে না ন্যান্সি। দৃষ্টি জোড়া গেল আফরিদের দিকে সে একটা হুডি পরে আছে। একদম কালো রঙের। আশ্চর্য হলো ন্যান্সি ,এই হুডিটা তো কোথাও একটা দেখেছে ন্যান্সি!
মস্তিষ্কে চাপ প্রয়োগ করতেই মনে পড়লো রাতের দৃশ্য। ওই যে বাঁশ বাগানের আগুন্তক তো এরকম কালো হুডি পরেছিল!
“হেই বান্দি তুই ঠিক আছিস?”
ন্যান্সি আমতা আমতা করে বলল।
“আমি ঠিক আছি।”
আফরিদ এক মূহুর্ত অপেক্ষা করলো না ,মুখ এগিয়ে এনে নিজের রুক্ষ ওষ্ঠো জোড়া কপালে চেপে ধরে। বদন খানি কেঁপে উঠলো ন্যান্সির।
“আপনি রাতে কোথায় ছিলেন আফরিদ?”
ন্যান্সির প্রশ্নে তার চোখের দিকে তাকালো আফরিদ। গালে বুড়ো আঙ্গুল ছুঁয়ে ছুঁয়ে বলল।
“একটু কাজে গিয়েছিলাম। কিন্তু তোর কি হয়েছে বলবি? শরীর খারাপ?”
ন্যান্সি দু দিকে মাথা দুলিয়ে অসম্মতি জানায়।
আফরিদ হন্তদন্ত পায়ে কাবার্ড থেকে কিছু একটা নিয়ে রুম থেকে বেরুতে বেরুতে বলল।
“ঘন্টা খানেকের মধ্যে ফিরব তুই রেস্ট কর ,জানকি বাচ্চা।”
আফরিদ রুম থেকে বের হতেই পকেটে হাত দিলো ন্যান্সি ,পকেটে সেই ছেঁড়া কাপড়ের অংশ টা ঘুরি ফিরি দেখলো। ওই হুডিটা তো ছেঁড়ে , আচ্ছা যদি এটা ওই হুডির ছেঁড়া অংশ হয় তাহলে?
বুকের ভেতর মোচড় দিলো তৎক্ষণাৎ। আফরিদ এহসান তার পরিবার কে আ’গুনে জ্বা’লিয়ে শেষ করে দিয়েছে?
“আফরিদ কেন করলেন এটা আপনি? আমি আপনাকে ছাড়ব না আফরিদ। আমি ছাড়ব না আপনাকে।”
বিছানা ছেড়ে ভঙ্গুর হৃদয়ে দৌড়ে রুম থেকে বাইরে বেরিয়ে গেল ন্যান্সি।
ড্রয়িং রুমে বসে আছে নীলাদ্রি , সাব্বির মাইমুনা এহসান সবাই।
সিঁড়ির কাছে আসতেই চিৎকার করে ডাকল ন্যান্সি।
“আফরিদ।”
সামনের দিক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল আফরিদ , ন্যান্সির হাঁকডাক শুনে থামতে হলো তাকে।
ঘাড় বাঁকিয়ে পিছু তাকালো আফরিদ। চোখ দুটো ছানাবড়া হয়ে গেছে ন্যান্সির। হাতে থাকা ছেঁড়া হুডির অংশ যেনো মূল্যহীন তার কাছে।
বিস্ময়ে হতবাক সে , সাব্বির , নীলাদ্রি ,আফরিদ এহসান সবাই একরকম হুডি পরে আছে। কালো হুডি।
ন্যান্সি কথা হারিয়েছে , এতক্ষণ তো মনে করছিল আফরিদ মেইন কালপ্রিট। কিন্তু এখন কাকে সন্দেহ করবে ন্যান্সি?
মাথাটা ভনভন করে ঘুরছে তার ।কিছু বুঝতে পারছে না সে।
আফরিদ ভ্রু উঁচিয়ে শুধোয়।
“হোয়্যাট হ্যাপেন্ড অ্যাঞ্জেলিনা?”
ন্যান্সি আমতা আমতা করে করে নিচের দিক এসেই দুহাতে গলা জড়িয়ে ধরে আফরিদের। কোনো কিছু না ভেবেই বলে উঠে।
“আপনাকে মিস করব এটাই বলার ছিলো।”
বুকের ভেতর চেপে থাকা মাংসপিণ্ড টা কেমন দ্রিম দ্রিম শব্দ করছে। শুকিয়ে এলো কন্ঠনালি।
আফরিদ ফিসফিসিয়ে বলল।
“ইশ্ কাম সারছে। রাতে দশ কাজের এক কাজটা করেই ফেলি কি বলিস মাতা’রি?”
ন্যান্সি এই ফাঁকে হাতড়ে দেখে আফরিদের হুডির কোনো অংশ ছেঁড়া কিনা? কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হুডিটা একদম ঠিকঠাক রয়েছে। তাহলে কি এটা সাব্বির অথবা নীলাদ্রির হুডির অংশ?
নীলাদ্রি বড় বিরক্তিকর কন্ঠে বলে উঠে।
” ভাইয়া আমাদের দেরি হচ্ছে।”
তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো আফরিদ এহসান।
হিসহিসিয়ে বলল।
“তোরা যা, আজকের দিনটা আমার জানকি বাচ্চার জন্য থাক।”
নীলাদ্রি কিছু বলতে গিয়েও বলল না , সাব্বির আর নীলাদ্রি চুপচাপ বেরিয়ে গেল।
মাইমুনা এহসান নৈঃশব্দ্যে ড্রয়িং রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন।
আচানক ন্যান্সি কে অবাক করে দিয়ে পাঁজা কোলে তুলে নিল আফরিদ।নাকে নাক ছুঁইয়ে হাস্কিটুনে বলে।
“চল জানকি একটু আধটু নষ্টামি করি।”
চোখ দুটো ছোট হয়ে এলো ন্যান্সির। ম্লান মুখ করে বলে।
“খিদে পেয়েছে।”
আফরিদ থমকালো , ন্যান্সি ঘুম থেকে উঠেছে অনেক্ষণ। ইতিমধ্যেই সবাই ব্রেকফাস্ট করে ফেলেছে।
“কি খাবে এখুনি বানিয়ে দিচ্ছি।”
বিস্ফোরিত নয়নে তাকালো ন্যান্সি ,আটকে আটকে বলে।
“এমন ভাবে বলছেন যেনো আপনি নিজের হাতে বানিয়ে দিবেন?”
একপেশে হেসে ফেলল আফরিদ , আবারো নাকে নাক ছুঁইয়ে স্ফীত স্বরে বলল।
“তুই শুধু বল কি খাবি?”
“কলিজা ভুনা।”
দুই ভ্রু কুঁচকে নিল আফরিদ। এই সকালে কলিজা ভুনা খাবে?
“সাধে কি বলি তোকে র’ক্তচুষা ডা’ইনি? তুই এই সকালে কলিজা খাবি?”
ন্যান্সি নির্বিকার কন্ঠে বলে উঠে।
“হুঁ খাবো আপনার কলিজা ভুনা।”
নিমোষ্ট কামড়ে ধরে আফিরদ।
“উফ্ তুই বললে তো কলিজা কেন আমার লিভার, কিডনি,সব তোকে ভুনা করে খাইয়ে দেব।”
নাক ছিটকালো ন্যান্সি ,বমি চলে আসবে এখুনি।
“ছিহ্ আপনার পঁচা কিডনি, লিভার এসব আমার লাগবে না আপাতত কলিজা ভুনা করে খাওয়ান।”
আফরিদ চট করে ন্যান্সি কে কোলে নিয়েই নিয়ে গেল ডাইনিং টেবিলের কাছে। ন্যান্সি কে চেয়ারে বসিয়ে দিলো আফরিদ , প্রফেশনাল সেফ দের মতো এপ্রোন টা লাগিয়ে কিচেনে চলে গেলে।
ন্যান্সি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে সবটা শুধু দেখে চলেছে।
আফরিদ একপল তাকালো ন্যান্সির দিকে , ঠোট ভ্রু উঁচিয়ে শুধোয় কি দেখছে?
ন্যান্সি দুদিকে মাথা নেড়ে কিছু না জানায়।
দুষ্টু হেসে চোখ টিপে আফরিদ।
ফাঁকা ঢোক গিলে ন্যান্সি , বুকের ভেতর কাঁপছে তার। কি-না কি বানিয়ে খাওয়াবে এক মাত্র আল্লাহ জানেন।
সিঁড়ির কাছে দাঁড়িয়ে আছে কল্পনা , এদের স্বামী স্ত্রীর আধিক্যেতা মোটেও স’হ্য হয় না তার। এত কিসের ঢঙ? কিন্তু বললেও তো সমস্যা ,আফরিদ তাকে জানেই মে রে ফেলবে দেখা যাবে।
আফরিদের কাছে মাংস রান্না কি খুব কঠিন? সে বুঝি মাংস রান্না করেনি? করেছে তো, মানুষের মাংস রান্না করেছে কাল রাতেও
প্রায় আধ ঘন্টা সময় নিয়ে রান্না শেষ করেছে আফরিদ। গরম গরম কলিজা ভুনা নিয়ে এলো টেবিলের উপর।
বেশ ফুরফুরে মেজাজে বলে উঠে।
“টেস্ট কর ,আর বল কেমন হয়েছে?”
ন্যান্সি চামচ তুলে নিল ,আলতো করে ফু দিয়ে প্রথম বাইট টা করে। গরম গরম খেতে দারুন লাগছে , কিন্তু একটা গন্ডগোল করে বসেছে এই লোক।
আফরিদ উৎকণ্ঠা হয়ে তাকিয়ে আছে ন্যান্সির মুখ পানে। ন্যান্সি এক বার প্লেটের দিকে তো আরেকবার আফরিদের মুখের দিকে তাকাচ্ছে।
আফরিদ এবার ভেতরের উৎকণ্ঠা চেপে রাখতে পারলো না। অস্থির কন্ঠে শুধোয়।
“কেমন হয়েছে?”
“লবণ টা একটু কম হয়েছে!”
জোরপূর্বক একটা হাসি দিলো আফরিদ , ভেতরের আগুন জ্ব’লছে তার! আচানক হিসহিসিয়ে বলল।
“তোরা নারী জাতি বহুত খারাপ। এত কষ্ট করার পরেও কি বললি এটা?
ও মানুষ এমন ও আছে
কলিজা ভুনা কইরা দিলেও
কইবো লবণ কম হইছে।”
আফরিদের অদ্ভুত গান টা শুনে ফিক করে হেসে ফেলল ন্যান্সি। হাসতে হাসতে লুটোপুটি খাচ্ছে রীতিমতো।
“সরি সরি রাগ করবেন না।”
রাগে ফোঁস ফোঁস করছে আফরিদ , জরুরী মিটিং টা ছেড়ে এখানে তার বান্দির জন্য রান্না করলো আর সে কিনা এখন বলছে লবণ কম হয়েছে? লাইক সিরিয়াসলি?
“বসুন এখানে।”
পাশের চেয়ার টা টেনে দিলো ন্যান্সি। আফরিদ বসে পড়ল , ন্যান্সি এক চামচ তুলে তার মুখের কাছে ধরে। আফরিদ হাঁ করলো , প্রথম বাইটেই বুঝতে পারলো আসলেই ভুলটা হয়েছে তার।
ন্যান্সি দুষ্টু হেসে শুধোয়।
“এবার বলুনতো আমি কি মিথ্যে বলেছি?”
ন্যান্সির হাসিতে রাগ লাগছে আফরিদের। টেবিল থেকে লবণের কৌটা টা নিয়ে একটু লবণ ছিটিয়ে দিলো।
“বুদ্ধি থাকলে উপায় আছে। বলদি কোথাকার।”
অবাকের দরুন ওষ্ঠোপুট ফাঁক হয়ে এলো ন্যান্সির।
বেয়াদব কোথাকার।
“আপনি বলদি , আপনার পুরো গুষ্টি বলদি।”
গা দুলিয়ে হেসে উঠলো আফরিদ।
“তুই আসলেই বলদি। লিঙ্গ পর্যন্ত গুলিয়ে ফেললি?”
প্রশ্নবিদ্ধ নয়নে তাকালো ন্যান্সি। আফরিদ ফের বলে উঠে।
“ছেলেদের বলদ ডাকে । কিন্তু তুই তো মাইরি লিঙ্গ চেঞ্জ করে দিলি?”
লজ্জায় কান দুটো দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে রীতিমতো।
বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো ন্যান্সি। এই বেয়াদব পুরুষের সাথে কথা বললে নিজেরই মাথাটা ঘুরে যাবে।
“আমার খ্রিস্টানের বাচ্চা!”
থেমে গেল ন্যান্সি , অগ্নিদগ্ধ দৃষ্টিতে তাকাতেই আফরিদ ঠোঁট উল্টায়।
“না আমার জানকি বাচ্চা , শালী, বউ ,বান্দি , মাতারি , নিষ্পাপ কাইট্যানের আম্মা।”
আফরিদ শব্দ করে হেসে উঠলো, ন্যান্সি আরেক দফা অবাক হয়। এই বাড়ির প্রতিটা লোক ভয় পায় আফরিদ কে। আফরিদের বাকিদের সাথে আচরণ টা বড় অদ্ভুত অথচ তার সাথে? তার সাথে শিশু সুলভ আচরণ করে সর্বদা।
এই পুরুষের দুটো রূপ বুঝে উঠতে পারে না ন্যান্সি।
হাতে করে মস্ত বড় ট্যাডি নিয়ে হাজির হয়েছে ঈশান।
নরম বিকেলের আলোয় ঘরটা তখনো ভিজে আছে ন্যান্সির শাওয়ারের উষ্ণতার রেশে। ভেজা চুলের ডগা বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে তার কাঁধে, তুলোর তোয়ালেটা আলগা করে জড়ানো যেন অল্পতেই খুলে পড়বে এমন এক অস্থিরতা। সিঁড়ির মোড় ঘুরতেই ঈশানকে দেখে থমকে গেল তার সময় হৃদস্পন্দনটা হঠাৎ করেই নিজের তাল হারাল।
“ভাইয়া আপনি? আপনি?”
ঈশান তখন বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে এমন এক হাসি হাসল, যেটা অযথাই বড়, অযথাই উজ্জ্বল। হাতের বিশাল ট্যাডিটা সামনে এগিয়ে ধরে সে বলল,
“সরি ম্যাম, এই দেখুন আমি আপনার জন্য কী নিয়ে এসেছি!”
ট্যাডিটা যেন ঘরের ভেতরেই অতিরিক্ত জায়গা দখল করে নিল নরম তুলোর শরীর, কোণে অস্বস্তির কাঁপুনি।
“না। নেব না আপনার থেকে কিছু। আপনি ভীষণ বাজে একটা মানুষ। আপনার ট্যাডি নিজের কাছেই রাখুন। ভুলে গেছেন সেদিনের ধোঁকার কথা?”
ঈশানের হাসিটা তখন ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে এলো। চোখের উচ্ছ্বাস নেমে গেল।
“সরি ম্যাম। রাগ করবেন না। বস দেখুন না ম্যাম এখনো রেগে আছে।”
ন্যান্সি পিছু ফিরতেই দেখলো আফরিদ কে। আফরিদ হাত বাড়িয়ে চিকন নাকটা টিপে ধরে ন্যান্সির।
“বাচ্চাটার রাগতে নেই।”
ন্যান্সি রাগ লাগল। এক প্রকার চেঁচিয়ে উঠলো।
“ফর গট সেইক আমাকে বাচ্চা বলা বন্ধ করুন। আমি বাচ্চা নই!”
ঈশান আফরিদ একত্রে মাথা দোলায়। ঈশান মিনমিনে গলায় বলল।
“তাহলে বড়দের মতো ক্ষমা করে বড় হওয়ার প্রমাণ দিন।”
ন্যান্সি মুখ বাঁকিয়ে বলে।
“ওকে ওকে,মাফ করে দিলাম।”
আফরিদ ঠোঁট কামড়ে ডান দিকে ফিরে হাসলো ,হাসি দেখলে আবার খ্যাঁক করে উঠবে এই ছেমড়ি।
ন্যান্সি চলে যায়।
ঈশান হতাশ কন্ঠে বলল।
“ম্যাম ট্যাডিটা নিলো না বস! আপনি বললেন বাচ্চা মানুষ ট্যাডি পেলে খুশি হবে,তাই তো এটা নিয়ে এলাম।”
আফরিদ ভ্রু নাচিয়ে বলল।
“বাচ্চা তো তাই ..
বাকিটুকু শেষ করার পূর্বেই ঝড়ের বেগে এসে ট্যাডিটা নিয়ে নিল ন্যান্সি। চোখ মুখ শক্ত করে বলে উঠে।
“টাকা নষ্ট করা মোটেও ঠিক নয় তাই নিয়ে নিলাম।”
যেভাবে এসেছিল ঠিক সেভাবেই এগুচ্ছে। ইয়া বড় ট্যাডি দু’হাতে জড়িয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগল।
আফরিদ আর ঈশান একে অপরের দিকে চেয়ে ফিচলে হাসে।
চলবে…………।🌿
(📌 ইদানিং আমি একটা জিনিস খেয়াল করেছি পাঠকরা গল্প পড়ে চলে যায় অথচ রেসপন্স করে না। তাই আমিও ঠিক করেছি পাঠকরা যেমন রেসপন্স কম করবে ঠিক তেমন ভাবেই আমি গল্প দেব। মানে চার পাঁচ দিন পরপর! আর যারা টিকটকে গল্প নেন তারা দয়া নাম চেঞ্জ করবেন না। আপনাদের পারমিশন দেওয়া সত্ত্বেও লেখকের নাম গল্পের নাম চেঞ্জ করে ফেলেন কেন?)
অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ৩৬](শেষ অংশ)
লেখিকাফারহানানিঝুম
(🚫 এই গল্পের কোনো দৃশ্য, সংলাপ, প্লট অনুপ্রাণিত হয়ে কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)
“বা’ল করবি তুই? এমনিতেই তো স্পেনে বসে বসে বা’ল ছেঁড়া ছাড়া আর কিছুই করতে পারিস না।”
ফোনে কাউকে খুব বিশ্রী ভাষায় গা’লিগালাজ করে চলেছে আফরিদ। তার চিৎকার চেঁচামেচি শুনে রুমে ফিরে এলো ন্যান্সি। নৈঃশব্দ্যে দাঁড়িয়ে আছে আফরিদের ঠিক পিছনে।
ফোনের ওপাশে থাকা লোকটা বলে উঠে।
“জাস্ট শাট আপ আফরিদ। স্টপ ইউর ফা’কিং মাউথ।”
আফরিদ প্রচন্ড বিরক্ত হলো।
“ওরে চো””নির পোলা ইংরেজি তোমার হেডায় রাখো। আর একবার ফোন করলে তোকে পিস পিস করে পিরানহা মাছ কে খাইয়ে দেব।”
ইদ্রান দাঁতে দাঁত পিষে বলে উঠে।
“আমি বুঝতে পারছি না তোর প্রবলেম টা কোথায়?”
আফরিদ হিসহিসিয়ে বলল।
“এত কিছু তোকে বুঝতে হবে না। যেটা বলছি সেটা কর। মার্কোর গার্লফ্রেন্ড চাই আমার। চাই মানেচাই । না হলে তোরনো নো কে টে ফেলব !”
ফোন রেখে পিছনে ঘুরতেই নাক মুখ কুঁচকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো ন্যান্সি কে।
মুখ থেকে অস্ফুট স্বরে বেরিয়ে এলো।
“শিট।”
শব্দটি। শেষমেষ বউয়ের সামনে মুখ খারাপ করতে হলো তাকে?বউটা সদ্য সদ্য তাকে ভালোবাসতে শুরু করেছে।
ন্যান্সি দু’হাতে ভাঁজ করে বুকে গুঁজে।
“কাকে এভাবে গালাগালি করছেন?”
আফরিদ ভাবলেশহীন ভাবে গিয়ে বসলো কাউচের উপর।
“ইদ্রান কে।”
“ইদ্রান?”
আবারো সেই নাম,আফরিদ আগেও দেখেছে ন্যান্সি বারংবার আফরিদ ইদ্রান নামক লোকটার সাথে কথা বলে। কিন্তু কে এই লোকটা কে?
সন্ধ্যা নেমে এসেছে। স্টাডি রুমে বসে আছে আফরিদ। একাই রয়েছে, কারো সাথে ফোনালাপ করতে ব্যস্ত। ফোনালাপ শেষ হতেই হন্তদন্ত পায়ে ছুটে এলো ন্যান্সি।
“আফরিদ আমার আপনার ফোনটা চাই।”
আফরিদ সেন্টার টেবিলের দিকে ইশারা করলো । ন্যান্সি তার সামনে ঝুঁকে টেবিল থেকে ফোনটা নিলো। অপ্রত্যাশিত ভাবেই আফরিদেরও নীলাক্ষী জোড়া চলে গেল নিষিদ্ধ জায়গায়। দৃষ্টি আটকায় সেখানে, পরক্ষণেই দৃষ্টি সরিয়ে নিলো আফরিদ। ন্যান্সি ফোনটা নিয়ে বেরুতে নিলে আফরিদ পিছু ডাকে।
” শোন।”
থেমে গেল ন্যান্সি। তাড়াহুড়ো করে বলে।
“আমি এখুনি ফেরত এনে দেব।”
আফরিদ বাঁকা হেসে বলল।
“আমার তোর ওইটা চাই।’
ন্যান্সি কিঞ্চিৎ ভড়কালো।
“কিসের কথা বলছেন আপনি?”
আফরিদ ঠোঁট কামড়ে হাসলো ,চাপা স্বরে ফিসফিসিয়ে বললো।
“ইশ্ বুঝে না আমার তোর ওইটা চাই।”
ন্যান্সি সত্যি বুঝতে পারছে না নষ্ট লোকটা কি চাইছে?
“আমি সত্যি বুঝতে পারছি না আপনি কি চাইছেন?”
আফরিদ ভারিক্কি কন্ঠে বলে।
“আমার তোর ইনারের ফিতে চাই।”
ন্যান্সি যেনো আকাশ থেকে পড়ল, বিস্মিত নয়নে তাকালো আফরিদের দিকে। দু’হাতে আড়াআড়ি ভাবে নিজের বুকে চেপে অশান্ত হয়ে বলে।
“ছিহ্! পাগল নাকি আপনি? কি সব বলছেন?আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন? কি করবেন ফিতে দিয়ে?”
আফরিদ দু পা এগিয়ে এলো,মুখ নিচু করে বলে।
“তুই দিবি কিনা?”
ন্যান্সি শুকনো ঢোক গিলে। কাঁপা কাঁপা স্বরে বলল।
“না মোটেও না। আগে বলুন কি করবেন ?”
আফরিদ ঠোঁটে ঠোঁট চেপে কিয়ৎক্ষণ চেয়ে রইল তার মুখপানে। অতঃপর ঘোর লাগা কন্ঠে বলে।
“তোর ইনারের ফিতে আমার ফেবারিট ব্রেসলেট।”
ন্যান্সি রীতিমতো আহাম্মক বনে গেল,এই লুই’চ্চা লোকটা এত খারাপ কেন? ন্যান্সি দু’পা পিছিয়ে গিয়ে শাসানোর সহিত বলে।
“খবরদার! আপনি যদি এমন কিছু করেছেন তাহলে আমি কিন্তু? আমি কিন্তু মা কে ডেকে বলে দেব।”
“ফাক!”
আফরিদ ধুমধাম পা ফেলে স্টাডি রুম ছেড়ে বেরিয়ে যায়,গুনে গুনে দুই মিনিট পর একই ভঙ্গিতে চলে এলো।এসেই টেনে ধরে ন্যান্সির জামা।
“অস’ভ্য লোক, ছাড়ুন বলছি। আমার জামাকাপড় নিয়ে পড়েছেন কেন? ছাড়ুন!”
আফরিদ ছাড়লো না, উল্টো গলার দিক দিয়ে টেনে ইনারের ফিতে কাঁচি দিয়ে কেটে দিল। ন্যান্সি দু’হাতে জামা চেপে ধরে। এদিক সেদিক না ভেবে দৌড়ে স্টাডি রুম ছেড়ে বেড রুমের উদ্দেশ্যে দৌড়ায়।
গুনে গুনে দশ মিনিট পর আবারো ফিরে আসে, আফরিদের ডান হাতের কব্জিতে বাঁধা ফিতে দেখে ভিমড়ি খেল। কেশে উঠলো সহসা। আফরিদ নেশাতুর কন্ঠে বলে।
“ফেবারিট ব্রেসলেট জানকি বাচ্চা।”
“অসভ্য লোক, ন্যান্সি গটগট করে যেতে চায় আফরিদ তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে নিজের কোলে বসালো। হতচকিত মেয়েটাকে দেখলো না আফরিদ।
“ওরে আমার খ্রিস্টানের বাচ্চা খালি রাগ করে!”
ন্যান্সি ফুঁসে উঠে। কপটতা দেখিয়ে বলল।
“একদম এসব বলবেন না, আমি কিন্তু খ্রিস্টান নই!”
আফরিদ একপেশে হেসে বলল।
“কিন্তু আমি যে জানি তোর চৌদ্দ গোষ্ঠী খ্রিস্টান!”
রাগে আদুরে মুখটা টকটকে লাল বর্ণ ধারণ করেছে। আফরিদ ঠোঁট কামড়ে ধরে হাসছে।
“আপনি আমার চৌদ্দ গোষ্ঠী চিনেন যে খ্রিস্ট ান থছেন?”
নিজেকে ভাবুক দেখাল আফরিদ। ন্যান্সির উদ্দেশ্যে বলল।
“তাই তো আমি চিনি না!”
ন্যান্সি রাগ টাগ সব সাইডে রেখে শান্ত কন্ঠে শুধোয়।
“একটা কথা বলি?”
কাঁধে থুতনি ঠেকিয়ে আঙ্গুল র ভাঁজে আঙ্গুল গুঁজে আফরিদ।
“একটা কেন হাজার টা বলবি!”
“হাজার টা কথা শোনার সময় আছে বুঝি আপনার?”
আফরিদ আগের ন্যায় আওড়াল।
“বলার কাজ তোর আর কথা গুলো মন দিয়ে শোনার কাজ আমার।”
ন্যান্সি দ্বিধাহীন চিত্তে আওড়াল।
“আপনার বাবা কোথায়?”
সহসা প্রত্যুত্তর করলো আফরিদ।
“ম রে গেছে!”
“কিভাবে?”
“তোর বাপ মেরেছে!”
ভিমড়ি খেল ন্যান্সি,চোখ পাকিয়ে ঘাড় বাঁকিয়ে তাকালো।
“আপনার বাবা কোন মহা জ্ঞানী যে আমার বাবা উনাকে মারবে?”
আফরিদ দুর্বল হেসে বলল।
“সায়েন্টিস্ট ছিলো!”
চক্ষু জোড়া আকারের থেকে বেশ হয় ন্যান্সির। সায়েন্টিস্ট? তার মানে আগুন্তক ছবি দিয়েছিল ডক্টরের ওটাই আফরিদ আর উনার বাবা? কিন্তু একজন সায়েন্টিস্টের ছেলে এমন কেন? আর উনার স্ত্রী বা এমন কেনো? হিসাব মেলাতে পারে না ন্যান্সি!
ন্যান্সি কথা ঘুরিয়ে নেয়, মিনমিনে গলায় বলল।
“আপনাকে আমাকে কতটা ভালোবাসেন?”
আফরিদ চোখে হাসে, মুখশ্রী জুড়ে মায়ামায়া ভাব।
“কতটা ভালোবাসা চাই?”
ন্যান্সি কিঞ্চিৎ ভড়কালো।
“যদি বলি অনেক?”
“তাহলে অনেক ভালোবাসি!”
ভ্রু পাকায় ন্যান্সি,বললো আর হয়ে গেল?
“যদি বলি একটুও ভালোবাসা চাই না তাহলে?”
আফরিদ নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলে।
“তাহলে বাসি না একটুও ভালোবাসি না!”,
ধুম করে একটা কিল বসিয়ে দিলো তার বাহুতে, আফরিদ মিটি মিটি হেসে ঘাড়ে মুখ গুজে লম্বা নিঃশ্বাস টেনে নিল।তার পছন্দের মিঠা মিঠা ঘ্রাণ!
🌿🌿
কাইট্যান কে নিয়ে বসে আছে ন্যান্সি। আদুরে বিড়াল ছানাটা তার ভীষণ পছন্দ।
কল্পনা এলো ন্যান্সির রুমে। দরজায় দাঁড়িয়ে টোকা দিয়ে বলল।
“আসতে পারি?”
ন্যান্সি দরজার দিকে তাকালো। কল্পনা কে দেখে মৃদু হেসে বলল।
“আসুন আপু।”
কল্পনা ভেতরে প্রবেশ করলো। দুহাত ভাঁজ করে স্বভাব সুলভ আওড়াল।
“বলছিলাম যে আফরিদ ভাইয়া বাড়িতে নেই, আমি আর সাব্বির প্ল্যান করেছি একটু বাইরে ঘুরতে যাবো। তুমি কি যাবে আমাদের সাথে?”
বাইরে ঘুরতে যাওয়ার কথা শুনে কিঞ্চিৎ অবাক হলো ন্যান্সি। কিছুদিন আগেই তো কল্পনা তার আর আফরিদের সম্পর্ক নষ্ট করতে কত রকম কথা বলল! আজকে আবার তাকে বাইরে নিয়ে যেতে চাইছে?
“বাইরে? মানে আমার সাথে?”
কল্পনা কপাল কুঁচকে তাকালো।
“যেতে চাও না? না চাইলে নেই থাকো তুমি একা বাড়িতে!”
ন্যান্সির টনক নড়ে উঠলো,সে যদি আফরিদ কে না বলে বাইরে যায় তাহলে খুব খারাপ হয়ে যাবে। এমনিতেই লোকটা তাকে নিয়ে ভীষণ পজেসিভ! কি প্রয়োজন পাগল কে ক্ষ্যাপানোর?
🌿🌿
রুমের এককোণে বসে আছে ক্যাটরিনা। তাকে জোর করে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে! ক্যাটরিনা জানে না কি হচ্ছে এসব? কেনই বা হচ্ছে।
“কেন নিয়ে এসেছো আমাকে এখানে? হোয়াই?”
ক্যাটরিনার কণ্ঠে প্রশ্ন, কিন্তু চোখে জমে আছে স্পষ্ট শঙ্কা।
আফরিদ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। সেই নীরবতা কথার চেয়েও ভারী।
তারপর ধীরে বলে ওঠে।
“বেইবি, তুমি জানো তোমার দেহের প্রতিটি ইঞ্চি ইঞ্চি আমাকে টানছে।”
ক্যাটরিনা কপাল কুঁচকে তাকায়। এই আফরিদকে সে চেনে, কিন্তু আজকের আফরিদ টাকে যেনো আলাদা।
পাশে দাঁড়ানো ঈশান এক মুহূর্তের জন্য থমকে যায়। মনে হয়, যেনো আকাশ থেকে হঠাৎ পড়ে এসেছে সে। আফরিদের মুখে এসব কথা? এখানে? এখন?
ক্যাটরিনা নিজেও ভাবনায় ডুবে যায়। সে মার্কোর মানুষ শুধু মানুষ না, তার দুর্বলতা। এমন দুর্বলতা, যাকে ছাড়া মার্কো একটা রাতও কাটাতে পারে না।
কিন্তু সত্যিটা হলো, মার্কোর কাছে যাওয়ার আগের রাতে সে আফরিদের কাছে যেতে চেয়েছিল। খুব চেয়েছিল। অথচ আফরিদ সেদিন চোখে চোখ রেখে তাকে মুখের ওপর ফিরিয়ে দিয়েছিল।
তাহলে আজ?
আজ কী এমন বদলে গেল যে তাকে স্পেন পর্যন্ত টেনে আনলো?
ক্যাটরিনার গলাটা এবার কঠিন।
“আফরিদ তুমি কি গেইম খেলছো?মার্কো কিন্তু পাগল হয়ে যাবে।”
তার কথায় আফরিদ বাচ্চাদের মতো ঠোঁট উল্টে ফেলে। সেই হাসিতে হালকাভাব আছে, কিন্তু চোখে নেই কোনো খেলাচ্ছল্য।
“আই নো, বেইবি। সে পাগল হয়ে যাবে।”
একটু থেমে যোগ করে কিন্তু আমি যে তোমাকে ছোঁয়ার জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছি?”
ক্যাটরিনা এবার পুরোপুরি নিশ্চিত হয় আফরিদ এমনি এমনি কিছু করছে না। এই মানুষটা সবসময় হিসাব কষেই পা ফেলে। এখানে নিশ্চয়ই অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে, যেটা সে এখনো খুলে বলছে না।
মার্কো প্রায় উন্মাদ। তার চোখের সামনে অন্ধকার নেমে এসেছে। ক্যাটরিনাকে তার নাকের ডগা দিয়েই ইদ্রান কিডন্যাপ করেছে এই সত্যটা বারবার মাথার ভেতর আঘাত করছে। অথচ সে কিছুই টের পায়নি।
ঘরের ভেতর ছড়িয়ে থাকা ভাঙা কাঁচ, উল্টে যাওয়া চেয়ার।
হাতের ফোন বেজে উঠতেই কার্লোস ছুটে এলো।
“বস বস এহসান!”
এহসান কল করেছে শুনেই রাগটা টগবগ করে বাড়ছে। ফোনটা রিসিভ করেই চিৎকার করে উঠল।
“আফরিদ, ক্যাটরিনা কোথায়? আমার ক্যাটরিনা কোথায়?”
মার্কো কে ওমন উন্মাদ দেখে হেসে ফেলল আফরিদ এহসান। ক্যাটরিনার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে বলল।
“তোর ক্যাটরিনা আমার বিছানায়! মার্কো রে!”
চেয়ার ছেড়ে সহসা উঠে দাঁড়ালো মার্কো।
“ইউ ব্লাডি! ক্যাটরিনার কিছু হলে আমি কিন্তু…
“হিসস! রিল্যাক্স বাডি! এত ছ্যাতস ক্যে? আচ্ছা তুই কি এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলি থাইল্যান্ডের ইভেন্টে আমার বউকে কি বলেছিলি? প্রসটিটিউট!”
মার্কো থমকালো,এত দিন আগের কথা এখনো মনে রেখেছে মাফিয়া কিং?
“ইয়েস হিসেব পুরো করতে তোর প্রসটিটিউট কে তুলে আনতে হয়েছে!”
মার্কোর রীতিমতো ঘাম ছুটে গেছে! এখন কি করবে এই পাগল!
“তুই ওকে টাচ করবি না আফরিদ! আমি কিন্তু তোকে শেষ করে দেব!”
আফরিদ অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে।সে তার আদরের বউ রেখে এসব ড্রেনে মুখ দেবে?
“চুপ আবাল। তোর মতো নাকি আমার মেশিন যাকে দেখে তার জনেই ভিজে যায়? আমি তো তোর এই সুইট ক্যাটরিনা কে মারতে চলেছি!”
ক্যাটরিনা আঁতকে উঠে, ভয়ে সেঁধিয়ে যাচ্ছে মেয়েটা।
আফরিদ ঘাড় বাঁকিয়ে বললো।
“আফরিদ এহসান হিসাব বরাবরে বিশ্বাসী! ক্যাটরিনা কে আমি অবশ্যই ছুঁবো কিন্তু আদরে না। ওর শরীরের প্রতিটি অঙ্গ কেটে তোকে পার্সেল করব। মাইন্ড ইট!”
মার্কো পাগল হয়ে যাচ্ছে। চিৎকার করে উঠল।
“আফরিদ না,ওকে কিছু করবি না। আফরিদিইইই…
ফোনের ক্যাটরিনার বিকট চিৎকার শুনতে পাওয়া যাচ্ছে। ছটফট করছে মেয়েটা।
🌿__🌿
“আচ্ছা কখনো কাউকে ভালোবেসেছিলে?”
“হ্যাঁ তোমাকে বেসেছিলাম!”
“তাই বুঝি? যদি ভালোবাসেই থাকতে তাহলে কি আমাকে চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে?”
আলিয়াজ কেঁপে উঠলো, মস্তিষ্ক এলোমেলো হয়ে উঠছে। শিকল পরা হাতটা দিয়ে নিজের চুল খামচে ধরে।
“আমি তোমাকে খেতে চাইনি, কিন্তু বাধ্য হয়ে খেয়ে ফেলেছি! আমার ভীষণ ক্ষুধা লেগেছিল! আমি সত্যি বলছি।”
আলিয়াজ উন্মাদ হয়ে উঠে।
“ওই সবকিছু আফরিদ ইলহামের জন্য হয়েছে! আমি ওদের কাঁচা চিবিয়ে খাবো। ছাড়ব না!”
দরজার কাছে গিয়ে জোরে জোরে শব্দ করতে লাগলো অথচ কেউ শুনে না কার বেসমেন্ট যে সাউন্ড প্রুফ করা!
“আলিয়াজ?”
অপরিচিত কন্ঠস্বর শুনে ফোকর দিকে তাকালো আলিয়াজ।
নীলাদ্রি দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখে লালচে দৃষ্টি জোড়া কেমন অদ্ভুত হয়ে উঠে।
“”তুই? তুই আমাকে চিনিস?”
নীলাদ্রি ভেতরে ঢুকতে পারে না,এটা যে আফরিদ এহসানের জেলখানা! নীলাদ্রি ভারিক্কি কন্ঠে আওড়াল।
“কিছু মনে পড়ে আলিয়াজ? ইশ্ এত গুলো বছর ধরে আফরিদ তোমাকে এখানে আটকে রেখেছে অথচ কিছু জানতেই পারলাম না!”
আলিয়াজ ক্ষুব্ধ কন্ঠে বলে।
“আমাকে বের কর এখান থেকে!”
“উঁহু উঁহু তা তো হবে না। সমস্যা না! তোর নিয়তি তোকে এখানে নিয়ে এসেছে। মাঝে মাঝে ভীষণ ভাবি শালার আফরিদ এহসান একটা চিজ! না হলে ওর ভাই হয়েও এতটা কাছে থেকেও জানতে পারলাম না এত বছরের প্ল্যানের কথা!”
চলবে……….।🌿
অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
(বোনাস পার্ট)
লেখিকাফারহানানিঝুম
(🚫এই গল্পের কোনো দৃশ্য, সংলাপ, প্লট অনুপ্রাণিত হয়ে কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)
ভোরের আকাশে হালকা কুয়াশার চাদর, সূর্যের প্রথম আলোয় ভিজে আছে শিশিরে ভেজা ঘাস। বাতাসে এক ধরনের স্বচ্ছতা, যা নিঃশ্বাসে টেনে নিলে মনে হয় বুক ভরে যাচ্ছে নতুন জীবনের সজীবতায়। পাখিদের কূজন চারপাশে এক নির্মল সংগীতের আবহ তৈরি করেছে যেন প্রকৃতি নিজের হাতে বাজাচ্ছে দিন শুরুর সুর।
বড় ক্লান্ত দেখাচ্ছে ফাহমিদা কে , বাগানের দোলনায় বসে আছে সে। ন্যান্সি এলো বাগানে। ন্যান্সি কে দেখে মৃদু হাসলো ফাহমিদা।
“এসো ভাবি।”
ন্যান্সি মৃদু হেসে গিয়ে দোলনায় বসলো।
“কি ব্যাপার এখানে বসে আছো যে?”
ফাহমিদা কি জবাব দিবে ভেবে পেলো না! সেদিন একটা লোকের সাথে দেখা হয়েছিল তার। নাম তার পৃথ্বী , এরপর দু’দিন কথাও হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় লোকটা হঠাৎ করে উধাও হয়ে গেছে। নেই সেখানে!
“কিছু না এমনি ভালো লাগছিল না তাই বসে আছি।”
ন্যান্সি আমতা আমতা করে শুধোয়।
“ফাহমিদা শুনলাম তুমি নাকি লন্ডনে চলে যাচ্ছো?”
কাল রাতেই আফরিদ আর ফাহমিদা কে কথা বলতে শুনেছে ন্যান্সি। ফাহমিদা আর বাংলাদেশে থাকছে না , লন্ডনে চলে যাচ্ছে।
বুকটা ভার হয়ে এলো ফাহমিদার।
“হ্যাঁ ভাবি ওই আর কি। এখানে থেকে আমার পড়াশোনা হচ্ছে না , আমিও বাংলাদেশে আর থাকতে চাচ্ছি না।”
ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো ন্যান্সি ,এই পরিবারে টা কেমন যেনো! সবাই বড় অদ্ভুত।
🌿_____🌿
শিশিরভেজা পাতার গায়ে আলো পড়ে যেন রূপালি মুক্তোর ঝিলিক ছড়িয়ে দিচ্ছে। দূরে কোথাও কাক ডেকে উঠছে, মাটির গন্ধ মিশে আছে বাতাসে, যা মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতির সঙ্গে জীবনের গভীর বন্ধন। আকাশের নীলচে রঙের ভেতর লাজুক সূর্যটা ধীরে ধীরে উঁকি দিচ্ছে, তার কোমল আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে এক অপার শান্তি।
“ঈশান ভাইয়া একটা সত্যি কথা বলবেন?”
সকাল সকাল ঈশান কে চেপে ধরেছে ন্যান্সি ,পা দুটো থরথরিয়ে কাঁপছে ঈশানের।
উফ্ এবার আমাকে কে বাঁচাবে? বস আপনি কোথায় আপনার বউ সব জেনে ফেলল!
মনে মনে আফরিদ কে ডেকেই চলেছে ঈশান। ভাঙ্গা ভাঙ্গা শব্দে বলে উঠে।
“ক..কি ম্যাম?”
ন্যান্সি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো ঈশানের দিকে।
“সত্যি করে বলুন তো আপনাদের বস কিসের বিজনেস করে?”
হোঁচট খেলো ঈশান। কি বলবে ভেবে পাচ্ছেনা ,ভাবুক মস্তিষ্ক আচানক বলে উঠে ।
“বস তো সবজির ব্যবসা করে ম্যাম।”
চোয়াল রীতিমতো ঝুলে এলো ন্যান্সির। বিস্ময়ে চিৎকার করে উঠল।
“কি?”
“জ্বি।”
“সবজি বিক্রি করে সে এত টাকার মালিক?”
ঈশান বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে হেসে ফেলল।
“শুধু তো আর বস না আমরাও বিক্রি করি এই জন্য বস এত টাকার মালিক।”
রাগে সাপের মতো ফোঁস ফোঁস করছে ন্যান্সি , মিথ্যে বলার তো লিমিট আছে।
“ঈশান ভাইয়া ভালো হয়ে যান নয়তো গার্লফ্রেন্ড জুটবে না কখনো।”
ঈশান অসহায় মুখ করে বলল।
“সেটা তো এমনিতেও জুটবে না ম্যাম। বস তো আমাকে কোনো মেয়েই দিচ্ছে না!”
ন্যান্সি বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো , ঈশান ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। গুটি গুটি পায়ে উপরে আফরিদের জিমিং রুমে চলে গেল। দরজার কাছে দাড়াতেই দেখতে পেলো ট্রেডমিলে রয়েছে আফরিদ।
“চলে আয় জানকি বাচ্চা।”
হকচকিয়ে গেল ন্যান্সি। প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলো সপাটে।
“আপনি কি করে বুঝলেন আমি এসেছি?”
একপেশে হাসলো আফরিদ।
“তোর শরীরের মিঠা মিঠা ঘ্রাণ পাই আমি।”
শুকনো ঢোক গিলে ন্যান্সি ,নাক ঘষে জামাতে। সত্যি কি তার গায়ে এরকম কোনো ঘ্রাণ রয়েছে?
এখানে এসেছে আফরিদের সাথে কথা বলতে। আফরিদ আজ কি করে না করে খোঁজখবর নেবে। একে একে সাব্বির নীলাদ্রি সবাই কে চেপে ধরবে ন্যান্সি। তার আস্ত পরিবার আ’গুনে পু’ড়ে খাক হয়েছে ,সে ভুলবে না এসব।
ভেতরে ঢুকে এলো ন্যান্সি , পরনে নেভি ব্লু কালারের টপস আর জিন্স। আফরিদ উদোম গায়ে রয়েছে ,ফোলা ফোলা পেশীবহুল শরীর টা দেখে সর্বাঙ্গে শিহরণ খেলে গেল তার। আলতো করে শুকিয়ে আসা ওষ্ঠো যোগল ভিজিয়ে নিল। হাতে গ্লাভস, হাতকাটা টিশার্ট! ঘেমে একাকার হয়ে গেছে! কোঁকড়ানো চুল গুলো কপালের সাথে ঘামে ভিজে লেপ্টে আছে। লোকটা ন্যান্সির থেকে অনেকটা লম্বা, কথা বলতে হলে চোখ উঁচিয়ে তাকাতে হয়! ন্যান্সি তার বুক অবধি আসবে।
আফরিদ ইতিমধ্যেই ট্রেডমিল থেকে নেমে এলো , ন্যান্সির মুখোমুখি এসে ঝুকে পড়ে। স্নিগ্ধা সুশ্রী মুখটায় ফু দিতে লাগল। আঁখি পল্লব কেঁপে কেঁপে উঠে মেয়েটার।
“কি ধান্দা হুঁ?”
“আপনাকে পিঠ পিছে ছু’রি মা’রার ধান্দা!”
নির্বিকার ভঙ্গিতে জবাব দেয় ন্যান্সি। নিমোষ্ট কামড়ে হাসে আফরিদ।
“তুই চাইলে সামনে থেকেও ছু’রি মারতে পারিস।”
নিষ্প্রভ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ন্যান্সি , বহুরূপী কি আফরিদ? যদি কখনো আফরিদ এহসান কে মা’রতে হয় তাহলে?
“তার আগে ওয়ার্ক আউট কমপ্লিট করি? এটা শেষে বাসর করব ,তোর আছোঁয়া অঙ্গে আমার ছোঁয়া লাগাবো। তারপর বুকের উপর বসে ছু’রি চালিয়ে দিবি।”
নিছক মস্করায় বড় বিরক্ত দেখালো ন্যান্সি কে। লম্বা হয়ে একের পর এক পুশ আপ করতে লাগলো আফরিদ।তাকে অবাক করে দিয়ে দু’পা ভাঁজ করে একপাশে গিয়ে পিঠের উপর বসে পড়লো ন্যান্সি।
“আমার ওজন নিতে পারবেন তো?”
নৈঃশব্দ্যে হাসলো আফরিদ ,একটা ঢোক গিলে আবারো পুশ আপ করতে লাগলো। তার ওঠানামার তালে তালে দুলছে ন্যান্সি। এই যে পিঠের উপর ছোটখাটো শরীর টা রেখে বসে আছে।
“কর কি প্রশ্ন করতে চাস।”
আরেক দফা চমকে উঠে ন্যান্সি। হতবিহ্বল কন্ঠে শুধোয়।
“আপনি কি করে জানলেন আমি প্রশ্ন করব?”
“তোর তো শান্তি নাই রে র’ক্ত চুষা ডাইনি। এসেছিস ঠিকই আমার র’ক্ত চুষতে।”
চাপা রাগ হলো ন্যান্সির।
“তাহলে বিয়ে করেছেন কেন?”
আফরিদ সাবলীল কন্ঠে বলে।
“বাচ্চার বাবু বানাব বলে?”
“দুনিয়াতে কি মেয়ের অভাব ছিলো?”
“উঁহু ছিলো না কিন্তু তোর মতো লাল গাল ওয়ালির অভাব ছিলো। একদম টমেটো , আমি আবার টমেটো লাভার। আমার ব্যক্তিগত ব্রিটিশ নারী।”
ন্যান্সি কিঞ্চিৎ ভড়কালো , সত্যি কি সে ব্রিটিশদের মতো দেখতে? অবশ্য কল্পনা সেদিন বলেছিল সে নাকি ব্রিটিশদের মতো দেখতে। অতঃপর চলল পিনপতন নীরবতা। ন্যান্সি একই ভাবে বসে আছে ,আফরিদ একের পর এক পুশ আপ করে যাচ্ছে। আচানক আফরিদের দিকে প্রশ্নবাণ ছুঁড়ে দিলো ন্যান্সি।
“আপনি কে আফরিদ এহসান?”
প্রতিটি প্রশ্নের জন্য প্রস্তুত ছিলো আফরিদ , কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তরে কি বলবে আফরিদ? কে সে?
“সত্যি করে বলুন তো কি করেন আপনি? শুধু কি আপনাদের এহসান ইন্ডাস্ট্রি নাকি অন্য কিছু করেন আপনি?”
আফরিদ নিশ্চুপ , ধূর্ত মস্তিষ্ক ভাবতে বড় ব্যস্ত প্রত্যুত্তরে কি বলা যায়? আচানক ঘুরে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ল আফরিদ , ফলস্বরূপ ধুম করে পেটের উপর পড়লো ন্যান্সি।
“আমি একজন কিলার । মানুষ মে রে ফেলি।”
খুব একটা অবাক হলো না ন্যান্সি। তার মেয়েলি ষষ্ট ইন্দ্রিয় প্রথম থেকেই জানতো এরকম কিছু বলবে আফরিদ। আদতেও কি কখনো সত্যি বলবে এই বেয়াদব পুরুষ?
“আর কি করেন?”
হাসলো আফরিদ ,হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে ফেলল ন্যান্সির লালচে গাল। মেয়েটা তার কথা যে একটাও বিশ্বাস করছে না এটা সে ভালো ভাবেই জানে।
“আর সেই মানুষ গুলো কে পিস পিস করে পিরানহা মাছ কে খাইয়ে দেই!”
প্রচন্ড বিরক্ত হলো ন্যান্সি ,এসব শুনলেও শরীরে কাঁ’টা দেয় তার। এত আজগুবি কথা কিভাবে বলতে পারে মানুষ? রোষ কন্ঠে আওড়াল।
“আপনি জানেন আপনার মতো বেহুদা লোক পৃথিবীতে একটাও নেই।”
আফরিদ উঠে বসে , দু’হাতে চেপে ধরে ন্যান্সি কে। কিছুটা হিসহিসিয়ে বলে।
“জানি তো নেই । তাই চাচ্ছি আমার ফটো কপি নিয়ে আসতে। উফ্ মাতারি রেএএ তোকে এখনো ছুঁতেই পারলাম না।”
অনুভূতি শূন্য ন্যান্সি ,আফদির খেয়াল হারায় । ন্যান্সির গোলাপী কাঁপন ধরা অধর দুটির দিকে নিবদ্ধ হলো তার ঘোর লাগা চাহনি।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে উঠতে চাইলো ন্যান্সি , কিন্তু তা আর হলো কই? সাপের মতো পেঁচিয়ে ধরেছে লোকটা। নিজের পুরুষ্ট ওষ্ঠো দ্বারা দখল করে তার তুলতুলে নরম ওষ্ঠো জোড়া।
হাত ছোড়াছুড়ি করেও ছুটতে পারলো না মেয়েটা। ওভাবেই তাকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে আফরিদ , ভেতরের পুরুষালী মনটা উথাল পাতাল ঢেউ তুলেছে। যখন বুঝলো দমটা বন্ধ হয়ে আসছে ঠিক আগ মূহুর্তে ছেড়ে দিলো আফরিদ। নাকে নাক ঠেকিয়ে লম্বা নিঃশ্বাস টেনে ফিসফিসিয়ে বললো।
“ইয়েস এই লিপস্টিক পারফেক্ট , আমি শিওর এটা আমার কিনে দেওয়া বেস্ট লিপস্টিক হবে।”
লজ্জায় নাক ছিটকালো ন্যান্সি , কামড় বসালো তার গালে। সর্ব শক্তি দিয়ে দাগ করে দেয়।
“নষ্টা পুরুষ।”
“তুইও নষ্টা।”
ন্যান্সি ছটফট করতে লাগলো, আফরিদ মিটিমিটি হেসে ধীর গলায় বলল।
“আচ্ছা শান্ত হ। এবার বলতো পরাণ যদি কখনো এমন সময় আসে আমাকে মা’রতে হবে । তাহলে তুই তখন কি করবি?”
ন্যান্সির দমবন্ধ কর অনূভুতি হয় , সত্যি কি মারতে পারবে? চোখের কোল ঘোলাতে হয়ে আসছে! সদ্য সদ্য প্রেমে পড়া রমণীর অন্তঃস্থল কেঁপে উঠে অপ্রিয় থেকে প্রিয় হয়ে উঠা পুরুষের কথায়।
“সত্যি যদি মে রে দেই?”
আফরিদ ঘাড় কাত করে দ্বিতীয় দফায় শুধোয়।
“তাই?”
ন্যান্সি কিছু বলল না , আফরিদ আচানক কোমড়ে সুড়সুড়ি দিতে লাগলো। এহেন কান্ডে হকচকালো মেয়েটা।
“আরে…আরে কি করছেন ছাড়ুন সুড়সুড়ি লাগছে!”
“কিন্তু তুমি যে আমার ভেতরে আ’গুন জ্বা’লিয়ে দিলে সেটা কে নেভাবে সোনা?
তুমি দেখিয়াও দেখলা না
শুনিয়াও শুনলা না
জ্বা’লাইয়া গেলা মনের আ’গুন
নিভাইয়া গেলা না!
আফরিদ ছাড়লো না, ন্যান্সি তার সুড়সুড়িতেও হেসে ফেলল। এ কেমন জ্বা’লা! আফরিদ আষ্টেপৃষ্ঠে নিজের সাথে চেপে রাখলো শিশু সুলভ উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠা কন্যাকে।
🌿____________🌿
(হল রুম ২)
টিমটিমে লাইটের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে গোডাউন। মর্গ থেকে এত এত লাশ এসেছে। এগুলোকে আবারো ব্যবহার করা হবে। কতটা নিষ্ঠুর হলে একটা মানুষ এরকম কিছু করতে পারে!
মন্টু দাস এবং গোলাম মোস্তফা দু’জনেই নিজেদের কাজ করতে বড় ব্যস্ত।
কিয়ৎক্ষণ পর আগমণ ঘটে আগুন্তকের। আগুন্তক কে দেখে সবাই তটস্থ ভঙ্গিতে দাঁড়ালো।
মন্টু তার বরাদ্দকৃত আসন টা ছেড়ে দিলো।
“আসুন স্যার ,আপনে বসেন।”
আগুন্তক গিয়ে বসলো , আজকে সে এক বিশেষ কাজে এসেছে।
মর্গ থেকে বেওয়ারিশ লা’শ গুলো গায়েব হচ্ছে , এই ইনফরমেশন ইতিমধ্যে পুলিশের কাছে চলে গেছে। অবাক করার মতো ব্যাপার এটা এমন একজন লিক করেছে যে কি-না তারই একজন লোক।
বরাবরের মতো একটা হুডি জড়ানো গায়ে,চোখে চশমা এবং মাস্ক পরা।
তর্জনী আঙ্গুলে থাকা ঈগল পাখির আংটিটায় বারংবার আঙ্গুল ছুঁয়ে চলেছে।
“তোমাদের জন্য একটা গুড নিউজ আছে।”
গোলাম মোস্তফা কাঁপা কাঁপা স্বরে শুধোয়।
“কি স্যার?”
মাস্কের আড়ালে লোকটা বোধহয় হাসলো।
“তোমাদের মধ্যে একজন কে আমি আজ পুরুষ্কৃত করব। “
মুখের ভয়টা উবে গিয়ে হাসি টানলো।
আগুন্তক আঙ্গুল বাড়িয়ে দিলো , রাউন্ড রাউন্ড ঘুরাতে ঘুরাতে আচানক এসে থামলো ভূঁইয়ার উপর।
“ইউ , কাম হেয়ার।”
ভূঁইয়া কেঁপে উঠলো। তাকে কেন ডাকছে? ঘামতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই। ভয়ংকর এই বস তাদের,কখন কি করে বোঝার উপায় নেই।
“আ.. আমি স্যার?”
আরো একবার আঙ্গুলের ইশারায় কাছে ডাকলো আগুন্তক ভূঁইয়া কে। ভূঁইয়া কাছে আসা মাত্রই ঈগলের মুখটা তার ঘাড়ে চেপে ধরেই চাপ বসাতেই ভেতরে থাকা পটাশিয়াম সায়ানাইড বি’ষ টা দেহে প্রবেশ করলো।
“ইউ ব্লাডি ইডিয়ট। এতটা সহজ আমার সাথে গাদ্দারি করা? উঁহু উঁহু আমি তো আর ছেড়ে দেব না! বিচ!”
ছটফট করতে করতে নিঃশ্বাস ছাড়লো ভূঁইয়া। গায়ের লোমকূপ দাঁড়িয়ে গেল বাকিদের।
আগুন্তক এক বাক্যে বলল।
“ওর পেট কে কে মাল ভরো ওকেও সাপ্লাই করা হবে।’
আগুন্তক দ্বিতীয় বারের মতো দৃষ্টি ঘুরিয়ে ভূঁইয়া কে দেখে নিয়ে রুষ্ট কন্ঠে বলল।
“সান অফ অ্যা বিচ!”
থরথরিয়ে কাঁপছে সবাই। মন্টু দাস যেনো কথা বলতেই ভুলে গেছেন! গোলাম মোস্তফা আদেশ করতেই একদল এসে ভূঁইয়ার লা’শটা নিয়ে গেল টেবিলের উপর। লম্বা করে পেট টা কেটে ফেলল তার। গল গলিয়ে র’ক্ত বেরিয়ে এলো। কি নৃ’শংস সেই দৃশ্য!
চোখের পলকে তার শরীরে কা’টাছেঁ’ড়া হয়ে গেল , ভেতরে ঢুকানো হলো ড্রা’গের প্যাকেট গুলো।
🌿_______🌿
হঠাৎ করেই অচেনা এক অন্ধকার এক অবয়ব ভর করে এলো ন্যান্সির উপর। অদৃশ্য ঝড়ের মতো দু’হাত শক্ত করে তার মুখ চাপা দিল অজানা পুরুষ। নিঃশ্বাস আটকে আসছে, বুক ধড়ফড় করছে দুরুদুরু পাখির মতো।
চিৎকার করার সাধ্য থাকলেও সুযোগ মেলেনি, তার আগেই শীতল , দহনজ্বা’লা ছুঁয়ে গেল শরীরের প্রতিটি প্রান্ত।
ন্যান্সির ভেতরটা ভয়, লজ্জা আর অচিন শ’ঙ্কায় থরথর করে কাঁপছে। মনে মনে কেবল প্রার্থনা এমুহূর্তে যদি আফরিদ এসে তাকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করতো!
অস্ফুট গোঙানি ভেসে এলো তার ঠোঁট থেকে।
“উমম… উহুম।”
চোখ দু’টো ভিজে উঠলো কান্নার বন্যায়, ঠোঁট ফেটে ব্যথার রেখা ফুটে উঠলো।
কিন্তু যতই সে ছটফট করুক, এলোমেলো সেই আগন্তুক একের পর এক অস্থির চুমু খেয়ে চলল তার মুখমণ্ডলে। আচমকা ভাঙা কণ্ঠে ফিসফিস করে উঠে এলো শব্দগুলো।
“উফ্ বান্দির বাচ্চা আমি বেএএ।”
আফরিদ এহসান , দু’হাতে তার গলাটা প্রচন্ড ভয়ে জড়িয়ে ধরল ন্যান্সি। মূহুর্তের মধ্যে সব ভয় উবে গেল! এক মূহুর্তের জন্য অন্য কিছু ভেবে বসেছিল সে।
“এইইই তুই কি চাচ্ছিস আমি বাসর না করি?”
সজোরে ধাক্কা দিয়ে লোকটাকে নিজের থেকে সরিয়ে ফেলল ন্যান্সি। ক্রোধে কাঁপছে রীতিমতো।
“একদম আমার কাছে আসবেন না বেয়াদব পুরুষ কোথাকার! সবসময় ফাজলামি পেয়েছেন নাকি? এখুনি আমার ভয়ে সব কিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল। আমি তো ভেবেছিলাম অন্য কেউ…
একপেশে হেসে ফেলল আফরিদ।
“আমি ছাড়া তোকে অন্য কেউ ছোঁয়ার সাধ্য নেই জান বাচ্চা।”
হাঁপাচ্ছে মেয়েটা। কয়েক মূহুর্তের জন্য মনে হচ্ছিল হয়তো অন্য কেউ তাকে স্পর্শ করে চলেছে। বুকের কোথাও একটা ভয়ের বাসা বেঁধেছে। অন্যমনস্ক মন যখন বুঝতে পারলো এক জোড়া চোখ তাকে দেখছে ভয়টা আরো খানিকটা বাড়ল।
বাচ্চাদের মতো ঠোঁট উল্টে লোকটা বলে।
“আজকে আমাকে বাসর করা থেকে কেউ আটকাতে পারবে না হুঁ হুঁ হুঁ…
চলবে………..।✨
(📌 আজকে আমি রিচ দেখব। দেখব পাঠক কতটা রেসপন্স করে! পেইজে সব লালবাতি জ্বলছে! তাই বলি বারবার সবাই একটু কষ্ট করে রেসপন্স করবেন,অথচ রেসপন্স করেন না। এই পর্বে আশানুরূপ সাড়া চাই।)
লেখিকাফারহানানিঝুম
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪০
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৭
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১০