Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৪(প্রথমাংশ + মধ্যাংশ + শেষাংশ)


অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ৩৪] ( প্রথম অংশ)

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)

ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে রংপুরের দিকে।
আজ আকাশ বড় মেঘলা। মেঘলা আকাশের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তিতলি নামক রমণী। ভীষণ ভাবে ইচ্ছে করছে বৃষ্টিতে ভিজতে কিন্তু আফসোস তাকে ভেজার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তার পূর্বেই বাড়িতে এলেন মান্নান মিয়া।

“তিতলি? এই তিতলি বাইরে তাড়াতাড়ি আয়।”

তিতলি বৃষ্টিতে ভেজার ইচ্ছে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দ্রুত গেল মান্নান মিয়ার কাছে।
“কি হয়েছে আব্বু?”

মান্নান মিয়া আজ প্রচুর টাকা নিয়ে এসেছেন,তার কাছে এত টাকা দেখে আঁতকে উঠে তিতলি।
“এতগুলো টাকা? এগুলো কথা থেকে পেলে তুমি আব্বু?”

মান্নান মিয়া তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন মেয়ের দিকে, অতঃপর রুষ্ট কন্ঠে বলে উঠেন।
“চুপ কর তুই,যা এখুনি খাবার নিয়ে আয় আমার জন্য।”

তিতলি চমকালো, এতগুলো টাকা সে কোথা থেকে পেলো? কোনো অপরাধ করে আসেনি তো?


“এই যে মিস্টার কোথায় আপনি? আপনি যে বললেন আমাকে পৌঁছে দেবেন?”

ঈশান ফোন ধরিয়ে দিয়েছে ন্যান্সি কে। আফরিদ বলেছিল আজ তাকে বাবা মায়ের সাথে দেখা করাবে, তাহলে লোকটা উধাও হলো কোথায়?

আফরিদ ড্রাইভ করছে নিজে। তার ফেবারিট ল্যাম্বরগিনি অ্যাভেন্তাদর ছুটে চলেছে।
“তুই কোন সেলিব্রিটি তোকে পৌঁছে দিতে আমি আসবো?”

ন্যান্সি ভ্রু উঁচিয়ে শুধোয়।
“তাহলে আপনি কোন মহা মন্ত্রী আমাকে আটকে রাখার?”

“আমি তোর জামাই।”

“তাহলে আমি আপনার বউ ‌।”

“তুমি আমার বা’ল!”

“চুপ করুন অশ্লীল লোক। তার মানে বলছেন আমি আপনার বউ নই তাই তো?”

আফরিদ নিশ্চুপ থেকে কিছুক্ষণ পর বলল।
“তুই আমার জানকি বাচ্চা।”
“কচু!”
“তুই খা কচু।”
“আমি কিন্তু পালিয়ে যাবো। যা তা করতে পারি হুঁ।”

আফরিদ এবেলায় ক্ষেপে গেল। চিবিয়ে চিবিয়ে বলল।
“তুই আমার শাউয়্যা পালাবি, আমি ঘন্টাখানেক মধ্যে আসছি।”

আচানক ন্যান্সি আফরিদ কে ক্ষেপাতে বলে উঠে।
“ও এই বার বুঝতে পারছি আপনি নিশ্চয়ই আমার সতিনের কাছে গেছেন?”

আফরিদ স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে বলল।
“মানে?”

“মানে আর কি নিশ্চয়ই বিড়াল বউয়ের কাছে গেছেন। উত্তেজনা মাথায় উঠে গেছে তাই তো? তাই পরকীয়া করতে আবার বিড়ালের কাছে গেছেন। বিড়ালের বাপ!”

আফরিদ এক প্রকার জোর দিয়ে বলল।
“অ্যাঞ্জেলিনাআআ!”

ঠাস করে কলটা কে কে দিলো ন্যান্সি। ন্যান্সি প্রচন্ড বিরক্ত হলো, ইতিমধ্যেই সে আফরিদের জন্য তিন ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করেছে। সে আসেনি তারপর ঈশান তাকে নিয়ে বেরিয়েছে। ন্যান্সি ঈশানের সাথে গাড়িতে আছে। কিন্তু আফরিদ কোথায়?

🌿_________🌿

“আম্মু, আব্বু, তন্বী। আব্বু আব্বু।”

হাহাকারে ফেটে পড়ছে চারপাশ, কিন্তু সেই আর্তনাদ পৌঁছালো না কারো কানে। ঘর দোর, আসবাব, স্মৃতিরা একাকার হয়ে দাউদাউ আ’গুনে গ্রাস হচ্ছে। অ’গ্নিশিখার লেলিহান জিভ যেন নিষ্ঠুর দা’নব হয়ে সব গিলে খাচ্ছে।

চোখের সামনে আপনজনদের ছটফটানি, আগু’নে দগ্ধ শরীরের অসহায় আ’র্তচিৎকার সবই ন্যান্সির হৃদয় ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে। ক্রন্দনে ভারী হয়ে উঠলো তার বুক, উন্মা’দিনী প্রায় ছুটে যেতে চাইলো সে কিন্তু কী করে পৌঁছাবে? কীভাবে টেনে আনবে তাদের সেই মৃত্যু’র ভয়াল গহ্বর থেকে?

ন্যান্সি অনুভব করলো নেই এখানে আফরিদ , কোথায় গেল সে আবার? কেন এলো না সে? ন্যান্সি ভাবতে পারছে না আবারো দৌড়ালো ভেতরের দিকে।
আগুন নেভানো মাত্র দৌড়ে ভেতরে যেতে চাইলো ন্যান্সি। ঈশান ,ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আটকানোর চেষ্টা করছে।

“প্লিজ , প্লিজ ছেড়ে দিন আমাকে।”

ঈশান বুঝানোর সহিতে বলে উঠে।
“ম্যাম প্লিজ ভেতরের অবস্থা খুব খারাপ, আপনি দয়া করে এখানে থাকুন।”

হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল ন্যান্সি , দু’হাতে মুখ চেপে কেঁদে ফেলল মেয়েটা।
আফরিদ যদি তাকে আরেকটু আগে নিয়ে আসতো তাহলে কখনোই এমন হতো না। কখনোই না। কিন্তু আফরিদ কোথায়? কোথায় সে?

আশেপাশে দৃষ্টি বুলিয়ে খুঁজতে চাইলো আফরিদ কে। কোথাও নেই সে ,এই বিপদের দিনে সে নেই তার পাশে। বলেছিল আসবে তাহলে কোথায় এখন?
ন্যান্সি দ্রুত পায়ে উঠে দাঁড়ালো আশেপাশে তাকাচ্ছে সে। নেই তো সে।

বাড়ির ডান দিকটায় বড় একটা বাঁশ বাগান , এখুনি আ’গুন না নেভালে বোধহয় আ’গুন বাঁশ বাগানের দিকে ছড়িয়ে পড়তো। আঁধারের মধ্যে এক অদ্ভুত মানুষ কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল ন্যান্সি। কে উনি?

হয়তো চোখ দেখতে পায়নি ন্যান্সি কে , পুরো মুখটা ঢেকে রাখা , চোখে একটা চশমা পড়ানো।

“কে ওখানে? কে ওখানে?”

মেয়েলি কণ্ঠস্বরের অভিঘাতে আগু’ন্তক হঠাৎই সুঁচালো দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো তার দিকে। অচেনা সেই চোখের ভেতর লুকিয়ে আছে অদ্ভুত আত’ঙ্কের ঝিলিক। রমণী দৃঢ় পদক্ষেপে এক পা দু’পা করে এগোতেই, লোকটা আচমকা সরে গেল পিছনের অন্ধকারের দিকে। যেন ভয়ংকর কোন সত্য ধরা পড়ে যাবে মুহূর্তেই।
কণ্ঠস্বর কেঁপে উঠলো ন্যান্সির দৃপ্ত আহ্বানে।

“দাঁড়াও বলছি। দাঁড়াও!”

বাগানের ভেতর ঘন ছায়া ভেদ করে ছুট লাগালো আগুন্তক। বাঁশবাগানের আঁধার যেন তাকে গিলে ফেলতে উদ্যত। তবুও ন্যান্সি থামলো না। প্রচণ্ড উদ্দীপনায় হাত বাড়িয়ে টেনে ধরলো তার হুডি। সাথে এক হাত ,মুহূর্তেই ছিঁড়ে এলোমেলো হয়ে গেল কাপড়ের অংশ এবং হাতে থাকা আংটি টা, এবং সেই ছেঁড়া টুকরোটি থেকে এক অদ্ভুত গন্ধ ছড়িয়ে পড়লো।

শ্বাসকষ্টে কাঁপতে থাকা ন্যান্সি অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল হাতে ধরা হুডির দিকে। বুকের ভেতর কেঁপে উঠলো অদ্ভুত এক অনুভব। চোখ মেলে দেখলো এ যে অপরিচিত নয়! এ যে অচেনা নয়! বড়ো পরিচিত এক হুডি, যাকে একদিন খুব কাছে থেকে দেখেছে সে। কিন্তু কোথায়? কবে? আর এই অদ্ভুত ঈগল পাখির মুখ আকৃতির আংটি? এটা এই আগু’ন্তকের!
মনের গহীনে ভেসে উঠতে চাইলো এক অস্বস্তিকর চিত্র। অথচ স্পষ্ট হলো না কিছুই। হুডির ছেঁড়া অংশ , আংটি যেন রহস্যময় এক সাক্ষ্য হয়ে নিঃশব্দে কাঁপতে লাগলো তার আঙুলের ফাঁকে। ন্যান্সি শুকনো ঢোক গিলে। আচানক কাঁধে কারে স্পর্শ পেতেই চমকে উঠে।

“ম্যাম আপনি এখানে কি করছেন? ভেতরে যেকোনো বিপদ হতে পারে প্লিজ বেরিয়ে আসুন।”

ন্যান্সি কে নিয়ে বাগানের ভেতর থেকে বের করিয়ে নিয়ে এলো ন্যান্সি।
তার মনের ভেতর প্রতিধ্বনিত হলো অস্পষ্ট ডাক নিশ্চয়ই তারা তাকে খুঁজেছে, নিশ্চিতই অসহায় কণ্ঠে নাম ধরে ডেকেছে তার আপনজন। অথচ সে কিছুই করতে পারলো না! অসহায়তার এই নির্মম মুহূর্তে তার চোখের জলে যেন এক মহাসমুদ্র উথলে উঠলো, তবু সেই আগুনে ঝ’লসে যাওয়া প্রিয়জনদের আর ফেরানো গেল না।
সেই মূহূর্তে আগমণ ঘটে আফরিদ এহসানের। ন্যান্সি কে ওমন হন্তদন্ত পায়ে আগুনের দিকে ছুটতে দেখে বাহু টেনে আটকে ধরে।

“নিজেকে সামলা ,কি করছিস তুই? পু’ড়ে যাবি তো!”

সব উপেক্ষা করে ভেতরে যেতে চায় ন্যান্সি , দু’হাতে চেপে ধরে আফরিদ তাকে। চিৎকার করে আওড়াতে লাগলো।

“ছাড়ুন বলছি আমাকে। আমি যাবো , আমি আমার আম্মু আব্বুর কাছে যাবো। ছাড়ুন আপনি। আপনার জন্য আসতে দেরী হয়েছে , কোথায় চলে গিয়েছিলেন রাস্তায় আমাকে ফেলে? আরেকটু আগে আসলে ওদের বাঁচাতে পারতাম। আব্বু আব্বু আমার পরিবার আহ্! আমি এতিম হয়ে গেছি আফরিদ,ওরা আমার পরিবার ছিলো। আজকের পর কেউই রইলো না আমার।”

ক্রন্দনরত রমণীর কান্না আটকাতে পারে না আফরিদ। ঈশান ফায়ার সার্ভিসে কল দিয়েছে । চলেও এসেছে তারা , জ্ব’লন্ত বাড়িটার আ’গুন নেভানোর চেষ্টা করছে।

আফরিদ দু’হাতে শক্ত করে ধরে ন্যান্সি কে।
“চুপ চুপ কাঁদিস না,তুই কাঁদিস না।”

ন্যান্সি হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো।
“আমার কেউ নেই, আমি এতিম হয়ে গেলাম। সবশেষ হয়ে গেল। আপনি আমাকে সময় মতো নিয়ে আসেন নি।সব আপনার দোষ।”

আফরিদের বুকের ভেতর কাঁপছে এই মেয়ের কান্না দেখে।

ন্যান্সি কাঁপছে ,সে কাকে দেখলো? কে ছিল ওখানে? ওই লোকটাই তার পরিবার কে শেষ করেছে! সে-ই এই আ’গুন লাগিয়েছে? শেষ করে দিয়েছে তার পুরো পরিবার কে? ভাবতে পারছে না ন্যান্সি ,মাথাটা ভনভন করে ঘুরছে তার। ছেঁড়া অংশ টা প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে নিল ন্যান্সি। আর পারছে না চোখ মেলে তাকিয়ে থাকতে। অতঃপর শীর্ণ বদন খানি লুটিয়ে পড়ে মাটিতে।

🌿__________🌿 আমার পেইজ লিংক https://www.facebook.com/profile.php?id=100087612087977

রাশিয়া…….

মস্কোর এক ব্যস্ত প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা বাড়িটা দেখলেই বোঝা যায় এটা কোনো সাধারণ বিল্ডিং না।
বাইরে তুষারের আস্তরণ, জানালার কাচে জমে থাকা কুয়াশা, আর ভেতর থেকে ছড়িয়ে আসা হলুদ আলো পুরো বিল্ডিংটাকে অন্যরকম একটা আভা দিচ্ছে। বাইরে দাঁড়িয়ে সিকিউরিটি গার্ড পাহারা দিতে ব্যস্ত।

ভেতরে ঢুকলে প্রথমেই চোখে পড়বে ড্রয়িং রুম।
ছিমছাম সাজানো, একপাশে নরম সোফা, কোণায় ফায়ারপ্লেসে আ’গুন দপদপ করে জ্বলছে।
উপরে ঝাড়বাতি থেকে ঝরে পড়া আলো পুরো ঘরটাকে করে তুলেছে আরামদায়ক,সেই ঘরের মাঝখানে বসে আছে একজন লোক যার নাম মিখাইল পেত্রোভিচ নভিকভ।
চুপচাপ, কফির মগ হাতে নিয়ে জানালার দিকে তাকিয়ে আছে। সম্পূর্ণ কফিটা শেষ করে ভেতরে চলে গেলেন। বাইরে থেকে দৃষ্টি সরিয়ে আবারো ভেতরে এসে মুঠোফোন টা তুলে নিল মিস্টার মিখাইল। যে কি না একজন টেরোরিস্ট।

মিখাইল পেত্রোভিচ নভিকভ, রাশিয়ার অন্ধকার ইতিহাসের এক অশুভ দা’নব তার চোখে ঝল’সানো ধ্বংসের আ’গুন নিয়ে বসে আছে।
তার কাজ? দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা চিরতরে ভেঙে ফেলা এবারও সে সেই কাজের জালে নিজেকে আবদ্ধ করেছে।

বাড়ির নীরবতা তার চারপাশে ঘন হয়ে আছে, জানালার বাইরে মস্কোর শীতল বাতাসে তুষার ঝরে পড়ছে। সে ধীরে ধীরে ফোনটা তুলে ধরলো, হাতটা কাঁপছে না একটু হলেও ভয় বা দ্বিধা তার মাঝে নেই।
ডায়াল ঘূর্ণন করে, তিনি এক বাংলাদেশী নাম্বারে কল দিলেন।
নিঃশব্দতা ভেঙে ফোনের ছোট্ট বীপ আওয়াজ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ল।

🌿
বাংলাদেশ…..

রিসার্চ সেন্টার (হল রুম ০১)
সন্ধা ছয়টা….

জারা বো’ম্বায় স্পর্শ করে চলেছে আগুন্তক , এটা দিয়ে সে আমারো নিজের দখলে নেবে রাশিয়ার মিখাইল পেত্রোভিচ নভিকভ কে। তাকে বিক্রি করবে এই জারা বো’ম্বা। এই বোম্বা দ্বারা শেষ করবে সে রাশিয়া!

“হ্যালো মিখাইল পেত্রেভিচ নভিকভ স্পিকিং।”

“হোয়াই ডিড ইউ কল?”

আগুন্তক জারা বো’ম্বার আশেপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
মিখাইল পেত্রেভিচ নভিকভ বাঁকা হাসলো।

“ইউ শিউরলি নো হোয়াই আই কল্ড।

বাঁকা হাসলো আগুন্তক , মুখের মাস্ক টা টেনে খুলে লম্বা দম নিলো।

“ইয়েস আই নো।”

“সো, হোয়েন উইল আই গেট দ্য চার বোম্বা?”

ভ্রুদ্বয় কুঞ্চিত করে নিল আগুন্তক।
“রিল্যাক্স মিখাইল পেত্রেভিচ নভিকভ। ইউ উইল ডেফিনিটলি গেট ইট, জাস্ট আ ফিউ মোর ডেজ।”

মিখাইল পেত্রেভিচ নভিকভ একদমই বিশ্বাস করে না এই স্মাগ’লার কে। যে কিনা এখন পর্যন্ত সামনে আসেনি ,দূর থেকে কাজ করে গেছে। আর নয়তো তার হয়ে কাজ করেছে এল এ বি নামক সিক্রেট লোকটা। যে বেশী দাম দিতে পারবে জারা বো’ম্বার ,তাকেই দেবে এই আগুন্তক। প্রশ্ন এটাই সে এটার ফর্মুলা পেলো কোথা থেকে? লাস্ট বার তো এটা যে বানিয়েছিল তাকে মে’রে ফেলা হয়েছে এবং ফর্মুলা চু’রি করা হয়েছিল!

ফোনটা রাখার সঙ্গে সঙ্গে তার তীক্ষ্ণ, সুঁচালো চোখ দু’টি হঠাৎ জীবন্ত অ’গ্নি হয়ে ফুটে উঠলো। দৃষ্টি স্থির হলো তার তর্জনী আঙ্গুলের দিকে যেখানে থাকা উচিত ছিলো ঈগল আংটিটি, সেই চিহ্নিত প্রতীক কিন্তু তা নেই। মনে হচ্ছে, সমগ্র বিশ্ব আজ তার রাগের কারণে থমকে দাঁড়িয়েছে।

মাথার ভেতর রাগের আ’গুন ঝড়ের মতো ছুটছে, না’খোশ এক অন্ধকারের কল্পনা উলকি মে’রে যাচ্ছে হৃদয়ে। মনে হচ্ছে, ঠিক এই মুহূর্তে সে নিজেই হয়ে উঠবে মৃ’ত্যুর আড়ালে থাকা অশুভ প্রাণী, এবং সেই মেয়েটাকে খুঁজে পেলে, ছিন্নভিন্ন করে, তার লালন করা ঈগল আংটিটি ছি’নিয়ে নিয়ে আসবে। প্রতিটি শ্বাস যেনো বি’ষাক্ত ধোঁয়া, প্রতিটি হৃদস্পন্দন যেনো তীব্র বিদ্যুৎপাত।

🌿___🌿
রাত এগারোটা ছুঁই ছুঁই…

আফরিদের বুকে কেমন লেপ্টে আছে ন্যান্সি।
দু’হাতে জড়িয়ে ধরেছে আফরিদ তাকে। মাথায় আলতো হাত বুলাতে বুলাতে বলল।

“শান্ত হ তুই ,তুই অশান্ত থাকলে আমার বুকে ব্যথা হয়।”

আফরিদের কথায় হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো মেয়েটা।

“আমি সব হারিয়ে ফেলেছি আফরিদ , আমার কেউ নেই। আমি একা হয়ে গেছি আফরিদ। আমি এতিম হয়ে গেছি।”

আবারো কান্নায় ভেঙে পড়ে মেয়েটা। দু’হাতে বুক থেকে তুলে কান্নায় ভেজা মুখটা হাতের আঁজলায় তুলে নিল আফরিদ।

” দেখ আমার দিকে , আমি আছি না তোর জন্য? তুই আমার। আমি তোর।”

হেঁচকি ওঠা শুরু হয়েছে মেয়েটার , কান্নার জন্যে ঠিকঠাক কথা বলতে পারছে না ন্যান্সি। জ্ঞান ফিরেছে সবে দশ মিনিট হলো।
কান্নার হিড়িকে কথা আটকে আসছে। বুকে ব্যথা ধরে নষ্ট পুরুষের। ইচ্ছে হয় সবটুকু চোখের কান্না রুক্ষ ওষ্ঠো দ্বারা চুষে নিতে।
তাই করলো চোখের পাতায় ওষ্ঠো ছোঁয়ায় আফরিদ এহসান। বড় ব্যাকুল ভঙ্গিতে আওড়াতে লাগলো।

“কাঁদিস না তুই , তোর কান্না আমার সহ্য হয় না জানকি বাচ্চা।‌ প্লিজ কাঁদিস না , আমার বুকে ব্যথা হচ্ছে।”

ন্যান্সি ব্যাথিত কন্ঠে বলে উঠে!
“আপনি কেন এত লেইট করলেন? আপনি আমাকে কেন নিয়ে গেলেন না ওদের কাছে?”

আফরিদ আষ্টেপৃষ্ঠে দু’হাতে জড়িয়ে নিল রমণীর কবুতরি পেলব বদন খানি। ইচ্ছে করছে বুকের আবরণে মুড়িয়ে নিতে তাকে , যাতে একটুও কষ্ট অনুভব করতে না পারে।

মিনিট দশেক পর ঘুমিয়ে পড়ল ন্যান্সি।
খেয়াল নেই তার কিছু।


প্রচন্ড জ্বরে ভুগছে ন্যান্সি,কাল রাত থেকে তার জ্বর। আফরিদ এহসান পাগল হয়ে উঠেছে,সে পারলে তার পরাণের সব ব্যথা নিজের মধ্যে নিয়ে নিতো।তার উত্তপ্ত শরীরের সমস্ত উত্তাপ চুষে নিতো। কিন্তু কি করে? বিধাতা তাকে এতটা ক্ষমতা দেয়নি,কেন দেয়নি? যদি এতটা ক্ষমতা থাকতো তাহলে তো তার জানকি বাচ্চা এত ভুগতো না!

চলবে……….।✨

(📌😞ডিয়ার জনগণ পর্বটা এত বড় তাই দুই ভাগে ভাগ করলাম,তবুও লাভ হচ্ছে না। শেষমেষ তিন ভাগে ভাগ করলাম। পরপর একদিন পরে পরে দিয়ে দেব।)

অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

পর্ব ৩৪ মধ্যাংশ

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫এই গল্পের কোনো দৃশ্য, সংলাপ, প্লট অনুপ্রাণিত হয়ে কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)

“তুমি আমার সাথে যাবে তিতলি?”

নওফেলের কথা শুনে চমকে উঠে তিতলি! নওফেল সেই মানুষটা যাকে ভীষণ ভালোবাসে তিতলি। তার এই দুঃখী ভরা জীবনে এই মানুষটা একমাত্র আপন। ছোট থেকেই তো মা নেই আর বাবা থেকেও বাবা নয়। নয়তো নিজের মেয়েকে কেউ বিক্রি করে ফেলতে চায়? ওই যে তার বাবা এতগুলো টাকা নিয়ে এসেছে ওগুলো তার মূল্য ছিলো,তিতলি পালিয়ে এসেছে নওফেলের কাছে। নিশ্চয়ই এতক্ষণে তার বাবা খুঁজছে তাকে।

“আমাকে নিয়ে চলো নওফেল, আমি আর এখানে থাকতে চাই না। আব্বু আমাকে পেলে জবাই করে ফেলবে!”

নওফেল হাত মুঠো করে ধরে তিতলির ‌। মেয়েটা অত্যন্ত সরল সোজা।
“তুমি চিন্তা করো না তিতলি, আমরা আজকে রাতেই যাবো।এই শহরে আর কখনো পা রাখবো না।”


গাড়িটা আপন ছন্দে ছুটে চলছে। রংপুরের সবুজ গাছপালা, ফসলের মাঠ, গাঁয়ের হাওয়ার গন্ধ যেন ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ছে। সামনে শুধু ঢাকার ব্যস্ততার ডাক। সন্ধ্যা ছয়টা ছুঁই ছুঁই আকাশের রঙে লেপ্টে আছে মৃদু কমলা, তার সঙ্গে পথের দু’ধারে জ্বলে উঠতে থাকা আলো।

তিতলির চোখের পাতা বারবার নুয়ে আসছে। যেন ক্লান্তির হাওয়াটা তাকে আলতো করে জড়িয়ে ধরেছে। মাথাটা ভারী লাগছে অসহ্য রকম। সবে লেবুর শরবত খেয়েছে, নওফেলই জোর করেই ধরিয়ে দিয়েছিল।

ক্লান্তির ঢেউ মিশ্রিত কন্ঠে বলে।
“নওফেল আমার মাথাটা ভীষণ ভার লাগছে।”

নওফেল স্টিয়ারিং সামলাতে সামলাতে চোখের কোণে এক ঝলক তাকাল। তার কণ্ঠটা অদ্ভুত নরম ও আশ্বাসবাণী হয়ে উঠল,
“তুমি ঘুমাও তিতলি। আরেকটু হলেই পৌঁছে যাবো। তুমি ঘুমাও। পৌঁছালে আমি নিজেই তোমাকে ডেকে দেব।”

তার কথার ভরসায় তিতলির চোখ ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে আসে। গাড়ির ভেতর নীরবতা নেমে আসে শুধু ইঞ্জিনের ঘূর্ণন আর জানালার বাইরে ছুটে

🌿
মুখের ওপর হঠাৎ ঠান্ডা পানির ছটা পড়তেই তিতলি শিউরে উঠল। ধড়ফড় করে উঠে বসতেই বুঝল‌এটা তার পরিচিত কোনো জায়গা নয়। চোখ দুটো বিস্ফোরিত হয়ে গেল ভয়ে।
চারপাশে লালচে আলো, ঘনীভূত সস্তা সুগন্ধি, আর অদ্ভুত এক ঘোরের গন্ধ। সে যেন নিজের দেহটাই চিনতে পারছে না আগেভাগে।
সামনেই দাঁড়িয়ে আছে দু’টো টলটলে চোখের লোক। পাশে আরো কয়েকজন নারী অর্ধনগ্ন, নোংরা পোশাকে মোড়া, ক্লান্ত মুখে ছাপ।

তিতলির কণ্ঠ কেঁপে উঠল।
“আমি কোথায়? আমি এখানে কীভাবে এলাম?”

একটা লোক ঠোঁট বেঁকিয়ে বিকৃত হাসি হাসল, যেন তিতলির ভয়টাকে গিলে খাচ্ছে।
“লালঘরে এনেছি তোমাকে, মামুনি।”

মুহূর্তেই তিতলির বুকটা জমে গেল। সে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল পা যেন কাঁপছে ভয়ে, মাথা ঝিমঝিম করছে।
“আপনারা কারা? আমাকে এখানে কেন এনেছেন? নওফেল? নওফেল কোথায়?”

এইবার আরেক লোক হো হো করে হেসে উঠল। এগিয়ে এসে তার গালে আঙুল ছুঁইয়ে ঘিনঘিনে কণ্ঠে বলল।

“তোমার নওফেলই তো তোমাকে এখানে বিক্রি করে গেছে। টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে। এখন থেকে তুই আমাদের মাল।”

তিতলির চিৎকারে লালঘরের বাতাস কেঁপে উঠল।
“না! না, আপনারা মিথ্যে বলছেন! ছুঁবেন না আমাকে! নওফেল কোথায়? নওফেল!”

হঠাৎ প্রথম লোকটা ঝাঁপিয়ে এসে এক চড়ে তার মুখ ঘুরিয়ে দিল। তিতলির চোখে পানি আসতেই লোকটা দাঁত বের করে বলল।
“চুপ শা’লী! তোকে আমরা কিনে এনেছি। আজ থেকে তুই একটা পণ্য ,একটা স্ল্যাট মাত্র।”

তিতলি দমবন্ধ হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ল। নওফেল তাকে ঠকিয়েছে?
____আমার পেইজ লিংক https://www.facebook.com/profile.php?id=100087612087977

জ্বর কেটে গেলেও ন্যান্সির শরীরটা এখনো দুর্বল। যেন ভিতরে ভিতরে কোথাও ব্যথা রয়ে গেছে। ভোর থেকে সে পুরো বাড়িটা তন্নতন্ন করে খুঁজেছে কোথাও নেই আফরিদ। এইসব চক্করে ন্যান্সি ভুলে বসেছে সেই আংটি আর হুডির ছেঁড়া অংশের কথা। জামাকাপড় বদলে নিয়েছিল তো রাতেই, সেগুলো বোধহয় ওই জিন্স প্যান্টেই রয়েছে।

আফরিদ গত দুই দিন সে ন্যান্সির জন্য পাগলের মতো ছুটেছে, খাবার খাইয়ে দিয়েছে, চোখ বুজলেই কপালে হাত রেখে থেকেছে।
কিন্তু আজ আজ আফরিদ কোথায় গেল?
আজ সকালে ব্রেকফাস্টের টেবিলটাও ছিল ফাঁকা তার প্রিয় গ্রিন টি মগটা স্পর্শহীন পড়ে ছিল জায়গামতোই।

এই ভর সন্ধ্যা বেলায় বাগানের দোলনায় চুপচাপ বসে আছে ন্যান্সি। দোলনা সামান্য দুলছে হাওয়াকে যেমন তার মন দোলায়, তেমনি নিবিড়, ধীর, ক্লান্ত এক ছন্দে।
এলোমেলো চুলগুলো বাতাসে উড়ে গিয়ে বারবার তার গাল ছুঁয়ে যাচ্ছে। মুখটা কেমন ফ্যাকাশে, চোখ দুটো বসে গেছে জ্বরে গত দু’দিন কটকটে রাত কা’টানোর ক্লান্তিতে।
পুরো বাগানের নীরবতা তাকে আরও নিঃসঙ্গ করে তুলছে।
ন্যান্সির বুকের ভেতর থেকে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেরিয়ে এলো।

“ফাইনালি একটা থাকার জায়গা পেয়ে গেলে তাই তো?”

কল্পনার কটাক্ষ করা কথাগুলো কর্ণ স্পর্শ করতেই উঠে দাঁড়ালো ন্যান্সি।
“মানে?”

কল্পনা তাচ্ছিল্যের হাসি টেনে বলল।
“এই যে তোমার পরিবার মা’রা গেল, এখন তো তুমি পার্মানেন্টলি এখানেই থাকবে, এই এহসান মঞ্জিলে।”

ন্যান্সি বুঝতে পারছে না এই মহিলার সমস্যা কোথায়? সে যত ভালো ব্যবহার করতে চায় তাতে যেনো এই মহিলা আরো বেশি পেয়ে বসে।
“তোমার কি মনে হয় ইলহাম ? আফরিদ এহসান তোমাকে ভালোবাসে? উঁহু মোটেও না।”

ন্যান্সির এবেলায় রাগ লাগল প্রচুর।
“কি বলতে চান আপনি?”

কল্পনা হিসহিসিয়ে বলল।
“তুমি যদি মনে করে থাকো আফরিদ ভাইয়া তোমাকে ভালোবাসে তাহলে ভুল। আফরিদ এহসান তোমাদের মতো মেয়েকে জাস্ট ইউজ করে। এই যে তোমার রূপ? ব্রিটিশদের মতো দেখতে? কিছুদিন পর খায়েশ মিটে গেলে এমনি ছেড়ে দেবে!”

ন্যান্সি তর্জনী তুলে কিছু বলতে গিয়েও বলল না। সত্যি তো? আফরিদ তো শুধু তার কাছে আসতে চায়! তাকে কাছে পেয়ে গেলে আর কি থাকে? তার মতো সাধারণ মেয়েকে সে কেন ভালোবাসবে?

বুকের ভেতর ক্রমশ ভার হয়ে আসছে ন্যান্সির, কষ্ট হচ্ছে হঠাৎ!
🌿________🌿

সবে বাড়িতে ফিরেছে আফরিদ। তার কিছু ইম্পোর্টেন্ট মিটিং ছিলো। রুমে ফিরেই দেখলো ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আছে ন্যান্সি। আফরিদ উপরের স্যুট টা খুলে ফেলল। এখন শুধু ব্লেজার আর সফেদ রঙা শার্টটা পরণে।

“শরীর খারাপ করছে অ্যাঞ্জু?”

আফরিদ এগিয়ে এসে ন্যান্সির কপালে হাত ছোঁয়ায়। ন্যান্সি ক্ষেপে উঠে, ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো আফরিদ কে। একরাশ ক্ষোভ ঢেলে বলল।
“ছুঁবেন না আপনি আমাকে। একদম কাছে আসবেন না!”

আফরিদ কপাল কুঞ্চন করে তাকালো ন্যান্সির দিকে।
“কি হয়েছে তোর? এত রেগে যাচ্ছিস কেনো?”

ন্যান্সি ক্রমশ ফুঁসছে, কল্পনার বলা প্রতিটি বাক্য তার মস্তিষ্ক জুড়ে রাজ করছে।
“আপনি অত্যন্ত খারাপ একটা মানুষ। খুব খুব বাজে। সবসময় আমাকে ছোঁয়ার ধান্দায় থাকেন!”

আফরিদ বিরক্ত হলো ন্যান্সির কথায়, এমনিতেই সে আজ ভীষণ ক্লান্ত। গত দু’টো রাত ঘুমোতে পারেনি এই মেয়ের জন্য। পুরোটা রাত জেগে থেকেছে, কপালে আঙ্গুল ঘেঁষে বলে।
“এবারে তুই বাড়াবাড়ি করছিস!কি উল্টো পাল্টা বলছিস? মাথার ঠিক আছে?”

ন্যান্সি এক পর্যায়ে চেঁচিয়ে উঠলো।
“হ্যা ঠিক নেই আমার মাথা। আমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। যা বলছি সত্যি বলছি।ইউ ওয়ান্ট টু হ্যাভ সে’ক্স উইথ মি!”

“ইলহাম!”

ধমকে উঠে আফরিদ,তার ধমকে সর্বাঙ্গ কেঁপে উঠলো ন্যান্সির। আফরিদ লাথি বসালো কাউচের উপর। পুরুষ্ট রাগটা মাথায় চড়ে বসে।

“এই তুই কিসের বা’ল আমার হ্যা? কিসের সে’ক্স? আমি সে’ক্স করতে চাইলে তোর চৌদ্দ গোষ্ঠী আমাকে আটকাতে পারবে?”

ন্যান্সি পিছিয়ে যাচ্ছে,আফরিদ সমান তালে সামনে এগুচ্ছে। নীলাভ মনি জোড়ায় রাগের আভাস। কার্নিশ লাল হয়ে এসেছে।

“তুই আমাকে আটকাতে পারবি? আমি সে’ক্স করতে চাইলে এতদিন অপেক্ষা করতাম না আর না তোকে টাইম দিতাম। প্রথম দিনেই তুই আমার নিচে থাকতি।”

ন্যান্সি একই তালে চেঁচিয়ে উঠলো।
“ভদ্র ভাবে কথা বলুন। আপনার মতো মানুষ এগুলো ছাড়া আর কি পারেন?”

আফরিদ তাচ্ছিল্যের হাসি টেনে বলল।
“এক্সচুয়েলি ইউ আর রাইট। আমার এটাই করা উচিত। চল সে’ক্স করি, আমি দেখব তুই আমাকে কিভাবে আটকাস!”

ন্যান্সি চমকালো, আফরিদ তার কালো রঙের ব্লেজার টা টেনে খুলে ফেলল। ন্যান্সি কাঁপা গলায় বলল।
“দেখুন আফরিদ খুব খারাপ হবে বলে দিচ্ছি!”

আফরিদ শার্টের বোতামে হাত চালায়, প্রথম দু’টো বোতাম খুলতে খুলতে বলল।
“আটকে দেখা। আমি তোর সাথে রাফলি কিছু করব। আটকে দেখা। তোর মাথার মধ্যে যেহেতু ঢুকেছে আমি সে’ক্স করতে চাই তাহলে এখন তাই করব।”

আফরিদের ক্রমশ এগুতে দেখে ন্যান্সি ভয় পেলো, কন্ঠস্বর ভেঙে আসছে তার।
“আ.. আমি কিন্তু ভ..ভয় পাচ্ছি। প্লিজ।”

আফরিদ কটমট করে বলল।
“শা’লী আমার ভালো আচরণ তোর স’হ্য হয় না তাই না? তোরে তো আমি…

আফরিদ হাত তুলতেই ভয়ে সেঁধিয়ে গেল ন্যান্সি, আঁখি পল্লব বুঁজে আসে ততক্ষণ। ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো মেয়েটা।
ন্যান্সির জ্বরের কথা মাথায় আসতেই মস্তিষ্কে জ্ব’লে ওঠা রাগের স্ফুলিঙ্গ নিভে গেল। সেথায় ভর করলো চিন্তা নামক বস্তু। দৃষ্টি শিথিল হয়ে এলো। আফরিদ অস্থির হয়, চটজলদি গাল স্পর্শ করে ন্যান্সির।

“হেই হেই আই অ্যাম সরি।আই অ্যাম সরি ,পরাণ।”

ন্যান্সি ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো আফরিদ কে।
“দূরে থাকুন, প্রয়োজন নেই আপনার সরি-র।”

ন্যান্সি চলে যেতে চায়, আফরিদ বাহু টেনে ধরে পিছন থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তাকে।
“কাঁদিস না তুই। প্লিজ কাঁদিস না।আই অ্যাম সরি। এই দেখ কান ধরছি আর হবে না, প্লিজ প্লিজ রাগিস না।”

ন্যান্সি জোরাজুরি করে নিজেকে ছাড়াতে, আফরিদ ছাড়লো না। ন্যান্সি কে সহ কাউচের উপর বসে পড়ে, ন্যান্সি তখনো পিঠ দিয়ে আছে আফরিদের দিকে। শান্ত হতে পারছে না কোনো মতেই।
“শোন,শোন জান। তোর রাগ হচ্ছে? মা’র আমাকে, কাম’ড় দে প্লিজ তবুও কাঁদিস না। শাস্তি দিতে ইচ্ছে করছে? দে। আই অ্যাম সরি, আমার তোকে রাগ দেখানো উচিত হয়নি।”

ন্যান্সি নিশ্চুপ। আর জোরাজুরি করলো না, আফরিদ সেই আগের মতই জড়িয়ে আছে তাকে। অস্থির, এলোমেলো ভাবে বলেই চলেছে।

“সরি জানকি বাচ্চা। আমার ভুল হয়েছে। তুই প্লিজ কাঁদিস না। আমার তোকে হার্ট করা উচিত হয়নি বান্দি। তুই বল কি চাস? রাগ দেখাতে ইচ্ছে করছে? দেখা রাগ শুধু কষ্ট পাস না প্লিজ!

ন্যান্সি ফ্যাচফ্যাচ করে কেঁদে ফেলল। এই লোকটা তাকে কেমন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে। ন্যান্সি হিসহিসিয়ে বলল।
“আগামী এক সপ্তাহ আপনি আমার ধারে কাছে আসবেন না। এটাই আপনার শাস্তি।”

আফরিদ শুকনো ঢোক গিলল। এই মেয়েটা নরম। তাকে কষ্ট দেওয়ার মতো ভয়ংকর কাজটা মাফিয়া কিং করতে পারবে না। স্বভাব সুলভ বলে।
“আচ্ছা।”


গাড়ির বনেটের উপর বসে আছে আফরিদ। এক হাতে সিগারেট অন্য হাতে হুইস্কির বোতল।
ঈশান বুঝে উঠতে পারছে না কিছুক্ষণ আগেই মঞ্জিলে ফিরল তাহলে কি এমন হলো যে আবার ফিরে এলো?

“বস! আপনার কি হয়েছে?”

আফরিদ বড় অসহায় কন্ঠে বলে উঠে।
“তোর ভাবীরে ডাক দে ঈশান,দেখ বাসরের অভাবে আমি মা’রা যাচ্ছি। এই জন্মে আমার বাসর হলো না। সবই কপাল রে কপাল। ঈশান রে জীবন টা বাসরহীন রয়ে গেল।”

ঈশানের পোড়া ঠোঁট জোড়া আলাদা হয়ে এলো। বাসরের জন্য তার বস এত আর্তনাদ করছে? না এইবার তাকেই কিছু করতে হবে।
🌿🌿

সবে মাত্র ক্লাবে এসেছে আফরিদ, পুরো ক্লাব বুক করা হয়েছে তার জন্য। কিন্তু আফরিদের অন্য কিছুর প্রতি ইন্টারেস্ট নেই ‌। এখানে আসার কারণ হচ্ছে শুধু ড্রিংক করা। মঞ্জিলে থাকলে রাগ দেখিয়ে ফেলবে আর সেই রাগ স’হ্য করতে পারবে না তার মাতারি।

ঈশান এক কলম বেশি বুঝে তাই তো ক্লাবের সবচেয়ে সুন্দর তিনটে রমণীকে ভেতরে ফার্স্ট ক্লাস রুমে পাঠিয়েছে।
ক্লাবের অনার জানে আফরিদ আসা মানেই টাকার পাহাড় পাবে সে। তাই তো নতুন নিয়ে আসা মেয়েটাকে পাঠিয়েছে,যার নাম তিতলি।

ক্লান্ত ভঙ্গিতে রাজকীয় সোফায় বসে আছে আফরিদ, সামনের সেন্টার টেবিলের উপর রাখা বোতল গুলো বিদেশী ম’দ! আর ড্রা’গস। আফরিদ হাতের উল্টো পিঠে সাদা পাউডার নিলো, নাকের কাছে এনে লম্বা নিঃশ্বাস টানে। এটা তো ন্যান্সিও জানে না আফরিদ ড্রা’গ নেয়। অবশ্য আফরিদ ওর সামনে কখনোই ড্রা’গ নেয়নি! আফরিদ একটু পরপর গ্লাসে চুমুক বসাচ্ছে।
ঈশানের তন্মধ্যে দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করলো তিন রমণী।
তিতলি থরথর করে কাঁপছে। খুব কেঁদেছিল সে, পায়ে অবধি ধরেছে ওই নরপশু গুলোর অথচ তাকে ছাড় দেওয়া হয়নি!

আফরিদ ঝাপসা ঝাপসা চোখে তাকায় মেয়েগুলোর দিকে।‌ অর্ধ নগ্ন অবস্থায় তারা,খুব ছোট পোশাক পরেছে!

চলবে…………..।🌿✨

(📌এখন একদল এসে বলবে আফরিদ চরিত্রহীন আর তাদের কথা শুনে আমার রিয়্যাকশন হবে এমন 😒।আরো একটা অংশ আছে ওইটা ৩৪ এর শেষ অংশ)

(📌সবাই বেশি বেশি রেসপন্স করবেন, আপনাদের রেসপন্স নেই, কিন্তু তবুও গল্প দিচ্ছি। আপনারা দিনকে দিন রেসপন্স কমিয়ে ফেলেছেন।আর হ্যাঁ গল্প নিয়ে আলোচনা সমালোচনা করতে আপনাদের জন্য গ্রুপ খোলা হয়েছে, সেখানে আমার ভুল গুলো ধরিয়ে দেবেন এবং অনূভুতি জানাবেন।)

অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ৩৪] ( শেষ অংশ)

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫এই গল্পের কোনো দৃশ্য, সংলাপ, প্লট অনুপ্রাণিত হয়ে কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)

“তোমার কি মন খারাপ ভাবী?”

ফাহমিদা কে দেখে কিঞ্চিৎ ভড়কালো ন্যান্সি, মেয়েটা এখনো জেগে আছে। ন্যান্সি এই বাড়িতে এসে একজনকে পেয়েছে সে হচ্ছে ফাহমিদা।যে সর্বক্ষণ নিজের পড়াশোনা, নিজের জীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকে। মাঝে মাঝে ন্যান্সি ভীষণ অবাক হয় ফাহমিদা কি করে আফরিদের বোন হলো?

“না আসলে আমি..

ন্যান্সি কে তোতলাতে দেখে মুচকি হাসলো ফাহমিদা।মিহি স্বরে বলল।
“নিশ্চয়ই ভাইয়া তোমাকে বিরক্ত করেছে!”

ন্যান্সি হতাশ হলো, মনটা খারাপ তার।হুট করেই মনে হচ্ছে সে অন্যায় করেছে । আফরিদ তো তাকে কষ্ট দেয়না, তাহলে সে কেন কষ্ট দিচ্ছে? কথার আ’ঘাত হচ্ছে হাতের আ’ঘাতের চেয়ে বেশি।

ফাহমিদা ন্যান্সির হাতটা মুঠো করে ধরে।
“তুমি জানো আমি ভেবেছিলাম আমার এই এলোমেলো ভাইয়া কখনো বিয়ে করবে না। কিন্তু দেখো ভাইয়া তোমাকে বিয়ে করেছে। তোমাকে ভীষণ ভালোবাসে।”

ন্যান্সি শুকনো হাসলো। সন্দিগ্ধ কন্ঠে শুধোয়।
“সত্যি কী?”

ফাহমিদা চোখে আশ্বস্ত করে।
“তুমি শুধু একবার মুচকি হেসে তার দিকে তাকিয়ে দেখো,সে ঠিক কতটা ভালোবাসে তা এমনি বুঝতে পারবে।”


অর্ধনগ্ন তিন তরুণী স্থির দাঁড়িয়ে আছে ম্লান আলোয়। পরিবেশে এক অদ্ভুত টানটান উত্তাপ।
প্রথম মেয়েটি একজন বিদেশিনী। ধীরে, অত্যন্ত নিশ্চুপ ভঙ্গিতে এগিয়ে এল আফরিদের দিকে। তার চোখে এক ধরনের কৌতূহল আর প্রলোভনের মিশেল।
আফরিদ বিরক্তির ছাপ মুখে নিয়ে ডানদিকে মুখ ফিরিয়ে নিলো। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল এ আগ্রাসন তার একদম পছন্দ হচ্ছে না। সিগারেট টানতে ব্যস্ত। আফরিদ ভাবছে এই বোকা বউটাকে কে বলল সে তার সাথে সে””” করতে চায়? বউটা কি বুঝতেই পারছে না সে তাকে ভালোবাসে?

কিন্তু বিদেশিনী থামলো না। কাছে গিয়ে তার খোলা শার্টের বোতাম ছুঁয়ে দেখল, যেনো চেক করে নিতে চাইছে তার সীমারেখা কতদূর। হাত নামিয়ে আনতেই বিদ্যুতের মতো চেপে ধরল তার হাতটি। আফরিদের চোখ রাঙিয়ে না বুঝালো । এক মুহূর্তে হাতটা সরিয়ে দিলো সে নির্বাক চোখের ইশারায় জানিয়ে দিলো। তাকে ছোঁয়া যাবে না।

তবুও মেয়েটি যেনো মরিয়া হয়ে উঠেছে একটু স্পর্শ পাওয়ার লোভে। সেই মুহূর্তে রাগে তার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল আফরিদ ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো তাকে। গতির তীব্রতায় বোঝা গেল তার কাছে এসবের একফোঁটাও মূল্য নেই।
সে নির্বিকার ভঙ্গিতে সিগারেট ধরালো, যেনো পুরো দৃশ্যটাই তার কাছে অপচয় মাত্র। আফরিদ নৈঃশব্দ্যে সিগারেট ফুঁকে চলেছে। ধোঁয়া ছাড়ছে শূন্যে।

এক কোণে গুটিসুটি মেরে দাঁড়িয়ে আছে তিতলি চোখ দুটো জলের দাগে ভেজা। লাজুক মেয়েটা। এদের মতো নির্লজ্জ সাহস তার নেই এমন বিচ্ছিরে পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়েই তার বুকটা ভেঙে আসছে কান্নায়।

দ্বিতীয় মেয়েটি একজন বাঙালি।
বিদেশিনীর দিকে তাকিয়ে তার চোখে তীব্র তাচ্ছিল্য। মুখের অভিব্যক্তিতে যেনো বিদ্রূপ মিশে আছে।
তোকে নিয়ে আফরিদের কোনো আগ্রহই নেই। এখন দেখ, আমি কী করি। এমন একটা ভাব ভঙ্গি প্রকাশ করছে।

বাঙালি মেয়েটা আফরিদের সামনে এসে দাড়ালো, অনায়াসে নিজের পোশাক খুলে ফেলল। পরণে শুধু ভেতরের দু টুকরো কাপড়। আফরিদের তবুও ভাবান্তর নেই।

তিতলি দু’হাতে মুখ চেপে চোখ খিঁচিয়ে নেয়। এতটা খারাপ? সে যে নারী সে খেয়াল কি নেই তার?

“আমার দিকে তাকাও না তুমি? দেখো একবার।”

জোরপূর্বক আফরিদের মুখটা নিজের দিকে ঘুরিয়ে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করলো মেয়েটা। আফরিদ তাকালো না তার দেহের দিকে, দৃষ্টি গেল ওই পুরুষ লোভী চোখে।
আফরিদ বিরক্তিকর কন্ঠে আওড়ালো।
“ডোন্ট টাচ।”

মেয়েগুলো কথাই শুনলো না। আফরিদ ঘাড় বাঁকিয়ে বললো।
“এই তোদের কে পাঠিয়েছে হ্যা? যা বের হ সবগুলো, একদম বিরক্ত করবি না। আউট। স্ল্যাট কোথাকার!”

মেয়েটা থেমে নেই উল্টো নির্লজ্জের মতো হাসলো, আফরিদের পিছনে গিয়ে তার দু কাঁধে হাত রাখলো, আলগোছে ঝুঁকে কানের কাছে ফিসফিস করে বলল।

“লুক অ্যাট মি। আই ক্যান মেক ইউ ফিল রিয়েলি গুড।আই ওয়ান্ট টু বি ইন্টিমেট উইথ ইউ।”

মেয়েটার নরম বক্ষভাজ আফরিদের কাঁধে স্পর্শ করতেই বিদ্যুৎ বেগে উঠে দাঁড়ালো সে। দেহের র’ক্ত টগবগ করে ফুটছে যেনো। কষিয়ে একটা থাপ্পর বসালো তার গালে। ছিটকে গিয়ে পড়ল মেয়েটা। বিদেশী আর তিতলি দুজনেই আঁতকে উঠে।

আফরিদ মেয়েটার চুল খামচে ধরে, রুষ্ট কন্ঠে আওড়াল।
“ইউ বিচ, হাউ ডেয়ার ইউ টাচ মি?টাচ করলি কেন?”

আফরিদ চুল ছেড়ে লাথি দিয়ে মেয়েটাকে নিচে ফেলে দিলো,গলায় পা দিয়ে চেপে ধরে। মেয়েটা ঝটপট করে উঠে ওমন দানবীয় পায়ের নিচে পড়ে।
“আই হ্যাভ নো ইন্টারেস্ট ইন স্লাটস লাইক ইউ! দেন হাউ ডিড ইউ ডেয়ার টু টাচ মি?”

মেয়েটা নিঃশ্বাস নিতে পারছে না, আফরিদ যেনো পাগলাটে হয়ে উঠেছে। এই মেয়ের সাহস হয় কি করে তাকে ছোঁয়ার? তার বউ তো তাকে ছুঁয়ে দেখেনি? তার বউয়ের হক নিয়ে টানাটানি করার সাহস দেয় কে?
কি করে সাহস হয় নিজের স্পর্শকাতর অঙ্গ তার কাঁধে স্পর্শ করার? আফরিদ আশেপাশে দৃষ্টি বুলায়,কিছুই যেনো খুঁজে পাচ্ছে না। শেষমেষ নিজের প্যান্টের বেল্ট টেনে খুলে।গলা পেঁচিয়ে ধরে মেয়েটার।

“তুই আমাকে ছুঁয়েছিস কোন সাহসে? তোকে আমি আজকে কি যে করব!”

আফরিদ উন্মাদ হয়! জুতোয় গুঁজে রাখা ছোট্ট ছুরিটা বের করে আনে। সহসা বুক বরাবর টান দেয় ‌ গলগল করে র’ক্ত বেরিয়ে এলো। আফরিদ মেয়েটার বক্ষঃস্থল কেটে ছিন্নভিন্ন করে ফেলল। র’ক্তের ছিটে ফোঁটা মুখশ্রী জুড়ে। বিদেশী মেয়েটা জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ে। তিতলি বিস্মিত নয়নে তাকালো।

আফরিদ চেঁচিয়ে উঠলো।
“আমি আমার বউ ছাড়া কারো স্পর্শ স’হ্য করতে পারি না। তোর সাহস হলো কি করে আমাকে ছোঁয়ার?”

আফরিদ কুপিয়ে কুপিয়ে হ’ত্যা করলো সেই লোভনীয় রমণীকে। আফরিদ উঠে দাঁড়ালো, আবারো এগিয়ে গিয়ে টেবিলের দিকে,এই মূহুর্তে কাউকে সে খু’ন করেছে তা যেনো তার কাছে দুধ ভাত ছিলো।
সিগারেটে টান দিয়ে তাকালো তিতলির দিকে। তিতলি ডুকরে কেঁদে উঠলো।
“এই বের হ! যা যা বের হয় নয়তো তোকে শেষ করতে দুমিনিট লাগবে।”

তিতলি বহু কষ্টে একফোঁটা সাহস সঞ্চয় করে বলল।
“ভাইয়া, আমাকে নিয়ে যাবেন এখান থেকে? প্লিজ।”

আফরিদ যেনো শুনেও শুনলো না, ঘুরে দাঁড়ালো বেরুনোর জন্য। তিতলি দিকবিদিক না পেয়ে হামলে পড়ে তার পায়ের কাছে। পা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলল।

“দয়া করুন। আমি তো একটা মেয়ে। আপনার স্ত্রীও একটা মেয়ে। আমাকে এখান থেকে বের করুন।”

আফরিদ তপ্ত নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল।
“নিজেকে আমার পবিত্র নারীর সাথে তুলনা করা বন্ধ কর। ছাড় আমায়। এখানে আসার আগে ভাবা উচিত ছিলো।”

তিতলি ডুকরে কেঁদে ফেলল।
“আমাকে জোর করে নিয়ে আসা হয়েছে। দয়া করুন। আমাকে শুধু এখান থেকে বের করে নিয়ে যান।”

“এই তুই কি ছাড়বি আমার পা? না হলে লাথি খাবি!”

তিতলি তবুও ছাড়ে না আরো বেশি আষ্টেপৃষ্ঠে ধরে।
“প্লিজ প্লিজ আমাকে এখান থেকে বের করুন।”

আফরিদ বিরক্তিকর কন্ঠে বলে।
“এখানে যারা আসে নিজের ইচ্ছায় আসে,ছাড় আমাকে!”

তিতলি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।
“আমি নিজের ইচ্ছায় আসিনি, আমাকে ঠকানো হয়েছে। প্লিজ ভাইয়া..

“চুপ, একদম ভাইয়া ডাকবি না। ভাইয়া থেকে ছাইয়া বানানোর ধান্দা থাকলে মাথা থেকে বের কর!”

__আমার পেইজ লিংক https://www.facebook.com/share/17PdE9s7yt/

“এই এই কেউ আসবে না বলে দিচ্ছি নয়তো মা’র খাবে।”

ঈশানের কথা তোয়াক্কা না করে একটা মেয়ে এগিয়ে এসে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে তাকে। তার খিল্লি উড়িয়ে বলল।
“চুপ ব্যাডা তোমার কাজই হচ্ছে আমাদের সাথে লুতুপুতু করা।”

ঈশান মেয়েটাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বলল।
“তওবা তওবা, আমার না হওয়া বউ তোকে কেলানি দেবে রে লুই’চ্চা মহিলা। সর বলছি!’

বন্ধ রুমে অর্ধ নগ্ন পাঁচটা মেয়ে রয়েছে। সকলেই চোখে মুখে উপছে পড়া লালসা। ঈশানের আত্মা কেঁপে উঠলো এই মেয়ে গুলোকে দেখে।
“বস বস বস আমার মান সম্মান এই মেয়ে গুলো লুটে নিবে।”

“ওরে আমার বা**ল পাকনা তাল গাছ, এতক্ষণে মনে পড়লো তোর ইজ্জত লুটে নিবে? তাহলে তুই কোন সাহসে ওই মেয়েগুলো কে পাঠিয়েছিস হুঁ? আমার বউয়ের ধন সম্পদ লুটিয়ে দিতে?”

ঈশান কে পাঁচটা মেয়ের সাথে একই রুমে আটকে দিয়েছে আফরিদ এহসান। ঈশান তো দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেনি এমন কিছু হবে!

“বস আমি তো আপনার হেল্প করছিলাম। আপনি তো বাসরের জন্য মা’রা যাচ্ছিলেন!”

আফরিদ রাগে অঙ্গার হয়ে উঠেছে।
“ওরে মাঙ্গের নাতী! আমি তোরে বলছি মেয়ে নিয়ে আয়? আনলে তো তোর ভাবীরে আনতি,শা’লা জাউরা!”

ঈশান কি সত্যি ভুল করলো? ইতিমধ্যেই অশ্লীল পোশাক পরা মেয়ে গুলো হামলে পড়েছে ঈশানের উপর। ঈশান এক প্রকার চেঁচিয়ে উঠলো।

“বসসসসস আমার না হওয়া বউটার কথা ভেবে অন্তত বাঁচিয়ে নিন। আমি আর ভুল করব না খোদার কসম!”

আফরিদ মাত্রারিক্ত বিরক্ত! দরজাটা খুলে দিতেই ঈশান হন্তদন্ত হয়ে ছুটে বাইরে এলো। এযাত্রায় তার ইজ্জত লুটতে লুটতে বেঁচে গেছে।

আফরিদ নাক ঘষে,ড্রাগসের প্রভাব এখনো যায়নি।
আফরিদ আদেশ স্বরুপ আওড়াল।
“একটা বাড়ি ঠিক কর,একটা মেয়ে কে রাখতে হবে।”

ঈশানের চক্ষুদ্বয় সুঁচালো হয়ে এলো।
“ওহ্ তাহলে আপনি নতুন একজন নারী নিয়ে আলাদা থাকবেন ভাবছেন? আগে বলবেন তো!”

সপাটে একটা চাটি বসালো আফরিদ ঈশানের মাথায়।
“বলদ! তুই আমার ডান হাত হলি কিভাবে? তোর তো বাঁ হাত হওয়া উচিত ছিলো,পাছা ধোয়ার কাজেই আসতি। বুদ্ধি বলতে কিছুই নাই!”

ঈশান নাক মুখ কুঁচকে নিল,মনে মনে বমি বমি ঢঙ করে।
“কিন্তু আপনি তো বললেন?”

আফরিদ চোখ রাঙ্গায়, ঈশান আর একটা পছন্দও করার সাহস করলো না। কিন্তু ঈশান বুঝে উঠতে পারছে না কাকে রাখার জন্য বাড়ির ব্যবস্থা করবে আফরিদ?

🌿____🌿

ভোরের প্রথম আলোটা যেনো আঙুল ছুঁয়ে ছুঁয়ে পৃথিবীকে জাগিয়ে তুলছে। কমলা রঙা কোমল আভা নিঃশব্দে ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে, যেনো আকাশের কোল থেকে উবে আসা এক মৃদু সোনালি হাসি।
ধীরে ধীরে সকাল এগিয়ে আসছে। রাতের চাদর সরে গিয়ে দিনের উষ্ণতা যেনো নিঃশব্দে মঞ্চে উঠছে। দূরে কোথাও পাখিরা ডাকছে, ভেজা মাটির উপর প্রথম রোদ পড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে অপার্থিব সৌন্দর্য।
ন্যান্সি পুরো রাত ঘুমোতে পারেনি। কেনো যেনো অপরাধ বোধ হচ্ছিল সে আফরিদের সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করেছে।

বাইরে গাড়ির শব্দ হতেই দৌড়ে ব্যালকনিতে গেল ন্যান্সি। আফরিদ চলে এসেছে। দুরু দুরু বুক কাঁপে মেয়েটার। তার সরি বলা উচিত। হ্যা,সাথে এক কাপ গ্রিন টি করে আনলে নিশ্চয়ই খুশি হয়ে যাবে।
ন্যান্সি চটজলদি ছুটে কিচেনে।
আফরিদ ধুমধাম পা ফেলে বেডরুমে এলো। ত্রস্ত হাতে শার্ট খুলে বিছানায় ফেলে ওয়াশ রুমে চলে গেল। ন্যান্সি এসেছে তৎক্ষণাৎ। চায়ের কাপ টা রেখে শার্ট টা তুলে নিল। মেয়েলি ষষ্ট ইন্দ্রিয় জানান দিচ্ছে বিশ্রী কিছু। অপ্রত্যাশিত কিছু। এই শার্টে র’ক্ত লেগে আছে, অদ্ভুত মেয়েলি সুগন্ধি! ন্যান্সির মস্তিষ্ক তড়াক করে জ্ব’লে উঠল। পকেট হাতড়ে বেরিয়ে এলো অনাঙ্ক্ষিত কিছু প্যাকেট।
সহসা ছু মে রে টেনে নিলো আফরিদ।
বেরিয়ে এসেছে ইতিমধ্যে। সে ভুলবশত এটা ফেলে গেছে এখানে। তার সাবধান হওয়া উচিত ছিলো নিষ্পাপ একজনের বসাবাস তার এই অন্ধকারাচ্ছন্ন কক্ষে।

“আপনি কোথায় ছিলেন সারারাত?”

“মেয়েদের সাথে ছিলাম।”

আফরিদের নির্বিকার কন্ঠে জবাব শুনে ন্যান্সি স্তম্ভ!এ কোন আফরিদ কে দেখছে সে? ন্যান্সি ঘৃণা ভরা কন্ঠে বলে।
“এতদিন মনে করতাম আপনি অস’ভ্য, আজকে বুঝলাম আপনি চরিত্রহীন!”

আফরিদ বাঁকা হাসলো, হেসে হেসে ফুরফুরে মেজাজে আওড়ালো।
“রাইট। আমি ভীষণ চরিত্রহীন। সারারাত মেয়েদের সাথে ছিলাম, তাও একজন নয়, তিন তিনজন।”

ন্যান্সির হুট করেই কান্না পাচ্ছে, দৃষ্টি জোড়া ঝাপসা হয়ে আসে। এই অস’ভ্য লোকের জন্য সারারাত অস্থির হয়েছে সে? মনে মনে অপরাধবোধ হচ্ছিল।
আফরিদের কাঁধ চেপে ধরে ন্যান্সি। আফরিদ বাঁকা চোখে তাকায় স্পর্শ করা জায়গাটা ।কে বলবে কিছুক্ষণ আগে এক রমণী তার কাঁধ স্পর্শ করায় তার বক্ষঃস্থল কে টে ফেলেছে! অথচ তার পরাণের ক্ষেত্রে সবটাই ভিন্ন।

“ছিহ্! আপনি এত নিচ?”

“এখন কি খুলাখুলি ভাবে বলব কিভাবে তাদের সাথে শুয়েছি?”

ন্যান্সি ক্ষোভে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো আফরিদ কে। ঘেন্নায় গা গুলিয়ে আসছে তার। দাঁতে দাঁত পিষে বলে।

“ঠিকই করেছি আপনাকে কাছে আসতে দেইনি।‌ চরিত্রহীন ল’ম্পট কোথাকার।”

ন্যান্সি ধুমধাম পা ফেলে বেরিয়ে গেল। আফরিদ ঘর কাঁপিয়ে হেসে উঠলো। রেগে গেল রে রেগে গেল। বান্দি তার ভীষণ জেলাস। আফরিদের দৃষ্টি গেল টেবিলে রাখা গ্রিন টি কাপটায়,সেটা তুলে আয়েশ করে চুমুক বসালো।


শনিবার……

“ম্যাম।”

ন্যান্সি ফিরে তাকালো,আজ দু’দিন হতে চলল ন্যান্সি আফরিদের থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে। ঈশান বিষয়টা খুব ভালো ভাবেই জানে। সে মোটেও তার বসের কষ্ট স’হ্য করতে পারছে না। তাই তো বিশেষ কিছু আয়োজন করেছে। কাল রাতে ভুল করেছে কিন্তু আজকে ঠিকটা করবে। একেবারে ভাবীকে নিয়ে যাবে এবার।

“কেমন আছেন আপনি?”

ন্যান্সি ওষ্ঠো বাঁকিয়ে মিষ্টি হাসি উপহার দিয়ে বলল।
“আমি ভালো আছি ঈশান ভাইয়া। আপনি কেমন আছেন?”

ঈশান মৃদু স্বরে বলল।
“আমিও ভালো আছি।”

ঈশান উশখুশ করছে কিছু একটা বলার জন্য। ন্যান্সি প্রশ্নবিদ্ধ নয়নে তাকালো তার দিকে।
“কিছু বলবেন আপনি ঈশান ভাইয়া?”

ঈশান একটা চকলেটের প্যাকেট বের করে। আশ্চর্যের বিষয় প্যাকেটে কোনো নাম নেই।কোন কোম্পানির সেটাও নেই।

“এটা আপনার জন্য।”

ন্যান্সি হাত বাড়িয়ে চকলেট টা নিলো।
“থ্যাংক ইউ ভাইয়া। কিন্তু আমি তো তেমন চকলেট খাই না, মাঝে মধ্যে ইচ্ছে হলেই খাই। বলতে পারেন ক্রেভিংস উঠলে।”

ঈশান মুচকি হেসে বলল।
“এটা কাস্টমাইজ করে বানিয়ে এনেছি ম্যাম। শুধু আপনার জন্য। আপনি খেয়ে দেখুন ভীষণ ভালো লাগবে।”

ন্যান্সি ঈশানের মন রক্ষার্থে চকলেট বের করে দুটো পিস খেলো। আর খেতে চাইলে ঈশান তা নিয়ে নিলো।
“আর খাবেন না। শেষে হিতে বিপরীত হবে।”

শেষের কথাটা বিড়বিড় করে বলল ঈশান। ন্যান্সি শুনতে পেলো না। ঈশান ফুরফুরে মেজাজে বেরিয়ে গেল। আজকে তো মজা এসে যাবে, যখন ইলহাম স্বেচ্ছায় আফরিদের কাছে যাবে। ঈশান মিটিমিটি হাসছে।


নিষিদ্ধ চকলেটের ছোঁয়া ন্যান্সির র’ক্তে মিশে গেছে, অথচ সে ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি। আচমকা সারা দেহে অদ্ভুত এক শিরশিরানি ছড়িয়ে পড়ছে চামড়া কাঁপছে, বুকের ভেতর ঢেউ তুলছে অস্থিরতা। যেন কারো সামান্য ছোঁয়া পেলেই বাঁচবে, এমন মরিয়া আকাঙ্ক্ষায় ভেঙে পড়ছে সে। দু’হাত দিয়ে ঠোঁট চেপে ধরতেই চোখ দুটো ভিজে উঠল। ঈশান তাকে কি খাইয়েছে? কেন এমন করে প্রতারণা করল সে? এখন সে কোথায় যাবে কেমন করে বাঁচবে?

মস্তিষ্কের অন্ধকার ভেদ করে একটিমাত্র নাম জ্বলে উঠল আফরিদ এহসান।

হঠাৎই যেন এক অদৃশ্য শক্তি ন্যান্সিকে টেনে নিয়ে গেল সিঁড়ির দিকে। তাড়াহুড়ো করে নেমে এলো নিচতলায়। সেখানে সাব্বির দাঁড়িয়ে আছে, আর তার পাশে ফোনে ডুবে থাকা মাইমুনা এহসান। ন্যান্সির কপাল বেয়ে ঘাম গড়িয়ে পড়ছে, নিঃশ্বাসও এলোমেলো।
কাঁপা গলায় সে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল।
“সাব্বির, আফরিদ কোথায়?”

সাব্বির একদম নির্বিকার ভঙ্গিতে তাকিয়ে বলল।
“আর কোথায় অফিসেই।”

এক মুহূর্ত দেরি না করে ন্যান্সি ছুটে বেরিয়ে গেল। তার পায়ের শব্দ যেন আতঙ্কের সুর তোলে।
মাইমুনা এহসান ভ্রু কুঁচকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকালেন তার ছুটে যাওয়া পিঠের দিকে।
“কি আশ্চর্য এখন কি সে অফিসে যাবে নাকি?”

গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেছে ন্যান্সি। গাড়ি ড্রাইভ করছে ড্রাইভার,তার পিছনে আসছে আরো দুটো গাড়ি। সামনে রয়েছে একটা। সবগুলো গার্ড।

চলবে……….।✨🌿

(📌😞 ঈশানের না হওয়া বউয়ের সম্মান লুটতে লুটতে বেঁচে গেছিল, কিন্তু এবার যা করলো মনে হয় না আর বাঁচবে!

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply