Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩২(প্রথমাংশ +শেষাংশ +বোনাস)


অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ৩২](প্রথম অর্ধেক)

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫এই গল্পের কোনো দৃশ্য, সংলাপ, প্লট অনুপ্রাণিত হয়ে কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)

কাইট্যান কে নিয়ে বসে বসে নুডুলস খাচ্ছে ন্যান্সি। চোখ দুটো তার সামনের বড় টিভির স্ক্রিনে স্থির হয়ে আছে।
কটেজে ঢুকেই স্যুট খুলে ন্যান্সির মুখের উপর ফেলল আফরিদ। নাক মুখ কুঁচকে নিল ন্যান্সি। ছিহ্ কি ঘামের গন্ধ!

“ইয়াক! আপনার স্যুটে ঘামের গন্ধ!‌ আল্লাহ মালুম শরীরে কত গন্ধ হবে!”

কথাটা বোধহয় পছন্দ হলো না আফরিদের। নিরুদ্বেগ ভাবে এগিয়ে এসে ন্যান্সির মুখটা নিচের পেটের সাথে চেপে ধরলো। ন্যান্সি যেহেতু বসে ছিলো তার সামনে লম্বাটে লোকটা এসে দাঁড়ায়।
নাক মুখ কুঁচকে নিল ন্যান্সি। আফরিদ ঠোঁট কামড়ে হেসে ফেলল।

“একদিন তোর শরীর থেকে আমার জন্যেই ঘাম বেরুবে, আর আমার ঘামে ভিজে জবুথবু হবি সেই জন্য অভ্যাস কর।”

ন্যান্সি খামচে দিলো আফরিদের পেটে। বেয়াদব লোক।
আফরিদ দুই আঙ্গুল দিয়ে কাইট্যান কে তুলে নিচে ফেলল। বিড়বিড় করে বলল।
“শালা লুইচ্চা সবসময় আমার বউয়ের সাথে চিপকে থাকে!”

ন্যান্সি আর নুডুলস খেলো না, সেগুলো টেবিলের উপর রাখতে যায়। ততক্ষনে কাইট্যান কে অগ্নিদগ্ধ দৃষ্টিতে পরোখ করে আফরিদ। শাসানোর সহিত বলে উঠে।

“এই তোর লজ্জা করে না আমার বউয়ের আশেপাশে ঘুরতে? এত কথা বলি তবুও লজ্জার ল অবধি নেই! একদিন তোকে বিষ খাইয়ে দেব এরপর মজা বুঝবি!‌ শালা বিলাইয়ের বাচ্চা!”

আফরিদ পরক্ষণেই আফসোসের সুরে বলল।
“তোকে বলে কি লাভ! বউয়ের ঘরের বউ তো আমার তিন কেজি ওজনের বাচ্চার বদলে তোকে নিয়ে বসে থাকে। আফসোস আফরিদ এহসানের লাভ লস কিছুই নাই।”

কাইট্যান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো আফরিদের দিকে, আফরিদ চোখ রাঙ্গায় চুপসে গেল মূহুর্তে।

ন্যান্সি বাটি রেখে এসেই কাইট্যান কে তুলে নিল।
আফরিদ টিভির দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে বলল।

“অ্যাঞ্জু, ড্রেস বের কর শাওয়ার নেব আমি।”

ন্যান্সি যেতে গিয়েও দাঁড়িয়ে গেল, আফরিদ ওর দিকে তাকাতেই মুখ ভেংচে দিল। আফরিদ নিরুদ্বেগ ভাবে তাকিয়ে আছে।
এত বেয়াদব হলো কবে থেকে?

🌿

“প্যাকিং ডান?”

নিজের জামাকাপড় গুলো ভাঁজ করে ল্যাকেজে তুলছে ন্যান্সি। এমন সময় আফরিদের কন্ঠস্বর শুনে দরজার দিকে তাকালো। ফর্মাল লুকে দাঁড়িয়ে আছে সে। চমৎকার দেখাচ্ছে! স্বভাব সুলভ শার্টের প্রথম দু’টো বোতাম খুলে রাখা রয়েছে।

ন্যান্সি মিনমিনে গলায় বলল।
“আমরা কি ফ্লাইটে যাবো?”

আফরিদ অধর বাঁকিয়ে হাত উঁচিয়ে দেখালো।
“প্রাইভেট জেট।”

ন্যান্সি ভেবে পায় না আফরিদ সত্যি কি এত বড়লোক? হয়তো না হলে কি কারো প্রাইভেট জেট থাকতে পারে? থাইল্যান্ডে আসার সময়ও প্রাইভেট জেট করেই এসেছে। কিন্তু কাল যে বলল ফ্লাইট রেডি করতে!

ন্যান্সি উঠে দাঁড়ালো,সে আগে থেকেই তৈরি, কয়েকটা জিনিস ছিলো সেগুলোই গুছিয়ে নিয়েছে, বাকিগুলো কেয়ারটেকার কে দিয়ে গুছিয়ে ইতিমধ্যেই গাড়িতে তুলে দিয়েছে আফরিদ।

ন্যান্সি ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। মুখ টানছে তার, সকাল থেকে একটুখানি ক্রিম অব্দি লাগায় নি। হাতের তালুতে ক্রিম নিয়ে আলগোছে মুখে মেখে ফেলল। ততক্ষনে আফরিদ চলে এলো তার অতিব নিকটে। কিন্তু তার পূর্বেই ফোনটা বেজে উঠলো কর্কশ শব্দে। বিরক্তে কপালে ভাঁজ পড়লো আফরিদের। ওপর পাশে মানুষটি কি বলল জানা নেই তবে তার প্রত্যুত্তরে আফরিদ বিড়বিড় করে বলল।

“পুরো রাজ্য কন্ট্রোল করি আমি…

বাকিটা বলার পূর্বেই ন্যান্সি কথার পিঠে বলে উঠলো।
“আর আপনাকে কন্ট্রোল করি আমি ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা।”

আফরিদ আশ্চর্য হলো বটে,ফোনটা নামিয়ে রাখল কথাটা চালানোর প্রয়োজন বোধ করলো না। প্রসন্ন কন্ঠে বলল।
“নাইস।”

আফরিদ হেঁটে হেঁটে ঠিক ড্রেসিং টেবিলের সামনে আসে । ন্যান্সি আপাতদৃষ্টিতে তাকালো তার দিকে। আফরিদ কোমড় পেঁচিয়ে নিজের খুব কাছে টেনে আনলো তাকে। গলার ভাঁজে নাক গুঁজে লম্বা একটা নিঃশ্বাস টেনে নিল। জড়ানো কন্ঠে ফিসফিস করে বলল।

“আমার তোকে রে***প করতে ইচ্ছে করছে!”

ন্যান্সি নির্বোধ হলো, থতমত খেয়ে আফরিদ কে ঠেলে দিলো। কেউ বুঝি এতটা খারাপ হয়? এই লোকটার মুখ এত খারাপ কেন? সবসময় এসব বলতেই থাকে কেন? ইশ্ কি নির্লজ্জ!

ন্যান্সি রাগে ফুসফুস করে বলল।
“আপনি ভীষণ খারাপ,লাগাম নেই মুখে।”

আফরিদ হাসলো,বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে ন্যান্সির নিচের ঠোঁটে চাপ প্রয়োগ করলো।
“তোর কি মনে হয় বান্দি আমার কি এটা করা উচিত?”

ন্যান্সি শুকনো ঢোক গিলে বলল।
“আমি জানি আপনি কখনোই এমন করবেন না!”

আফরিদ আশ্চর্য ভঙ্গিতে ভ্রু উঁচিয়ে শুধোয়।
“এত বিশ্বাস?”

ন্যান্সি উপর নিচে মাথা দোলায়, আফরিদ মুখ নামিয়ে আনে ন্যান্সির ঠোঁটের কাছে। ওই নীলাভ মনি জোড়ায় দৃষ্টি নিবদ্ধ হলেই বশীভূত হয় ন্যান্সি। আজকেও তাই হলো। ঠোঁট ছুঁই–ছুঁই দূরত্বে থমকে ছিল মুহূর্তটা। ন্যান্সির গাল বেয়ে উষ্ণ নিঃশ্বাসের ঢেউ নরম কুয়াশার মতো ছড়িয়ে পড়ছে। পিটপিটে দৃষ্টিতে সে তাকিয়ে আছে আফরিদের মুখের দিকে সিগারেট পোড়া কঠিন ঠোঁট, তবুও অদ্ভুত আকর্ষণী।

ফিসফিসে, ঘোর মাখা স্বরে আফরিদ ঝুঁকে এসে জিজ্ঞেস করল।
“শ্যাল আই?”

ন্যান্সির দৃষ্টি একবার তার ঠোঁটে গিয়ে থেমে গেল। বাধা দেওয়া উচিত এই ভেবে সে সামান্য পিছু হটতেই, আফরিদের বলিষ্ঠ বাহু তার কোমর জড়িয়ে নিল। শরীরটা হালকা দুলে উঠে আবার নিখুঁতভাবে আশ্রয় পেল তার বুকে।

“অ্যাঞ্জু, ক্যান আই টেস্ট ইউর লিপস?”

তার কণ্ঠে যেন দহন আর কোমলতার অদ্ভুত মিশেল।
ন্যান্সির চোখের পাতা কাঁপতে লাগল। শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে এলো শীতল কাঁপন, হাতের তালু ভিজে উঠলো অকারণ উত্তেজনায়। শুকনো ঢোঁক গিলে সে কোনোমতে উচ্চারণ করতে চাইল।
“আ..আমাদের..দেরি হচ্..

বাকিটুকু উচ্চারণের আগেই আফরিদের ঠোঁট তার ঠোঁটকে পুরোপুরি গ্রাস করল।
ন্যান্সির চোখ হালকা বুঁজে এলো। শ্বাস থমকে গেল।
আফরিদ যেন নিজের সমস্ত অস্থিরতা, সমস্ত আকুলতা ঢেলে দিচ্ছে সেই চুম্বনে একবার উপরের ঠোঁট, আর একবার নিচেরটিকে গভীর আদরে চুষে নিচ্ছে। অন্য হাতটি আলতো করে নেমে এলো ন্যান্সির উদরের কাছে, তার শার্টের কাপড় মুঠো করে ধরল মেয়েটা নিয়ন্ত্রণহীন অনুভূতিতে।

চুম্বন ধীরে ধীরে গাঢ় হচ্ছে, নিশ্বাস জড়িয়ে যাচ্ছে, ন্যান্সির বুক উঠানামা করছে প্রবল টানে।
লজ্জায় চোখ মেলতে পারছে না সে আফরিদের উন্মত্ত , স্নেহমাখা আলিঙ্গনে যেন নিজেকে গলে যেতে অনুভব করছে। এ বেলায় লজ্জায় হাঁসফাঁস করছে ন্যান্সি। চুম্বনের উষ্ণতা এখনো ঠোঁটে লেগে আছে। ঠিক তখনই আফরিদ তার ঠোঁট ছেড়ে মুখ নামিয়ে আনল ন্যান্সির গলদেশে উন্মাদ প্রেমিকের মতোন ক্ষুধার্ত স্পর্শ, তীব্র আর কোমল দু’টোরই নিখুঁত মিশেল।

আরো একটুখানি এগোতেই‌ ঠকঠকঠক!

দরজায় হঠাৎ কড়া নাড়ার শব্দ।সেই সাথে ঈশানের চিরচেনা চিৎকার।

“বস, গাড়ি রেডি চলুউউউউউ

বাকিটা শেষ করার আগেই ঈশান থমকে গেল।
সামনের দৃশ্য দেখে তার চোখ প্রায় হাঁ হয়ে উঠল!
এবারেও হায় এবারেও সে দেখে ফেলেছে।

মুহূর্তেই মুখের রঙ পাল্টে গেল তার। মনের মধ্যে যেন স্বর্গ-নরক একাকার।
শেষ! বস এবার আমার আত্মার মাগফেরাতই শুরু করে দেবে।

ঈশানের হঠাৎ আগমনে ন্যান্সি চমকে দূরে সরে গেল। বুক উঠানামা করছে তার লজ্জা, আর অদ্ভুত স্পর্শের পরোয়া মিলেমিশে কাঁপছে সমগ্র দেহ।

আফরিদ প্রচণ্ড বিরক্ত। এক মুহূর্ত দেরি না করে পা থেকে জুতো খুলে সরাসরি ছুঁড়ে মারল ঈশানের পিঠে।

রাগে দাঁত চেপে বলল।
“তুই দাঁড়া আ’বা’ল, তোরে আমি…

ঈশান হাত তুলে কাঁপা গলায়,
“আই’ম সরি, বস! ইট ওয়াজ আ মিস্টেক!

“নিজে বিয়ে করতে পারিস নি বলে ঠিক করেছিস আমাকে বাসর করতে দিবি না তাই তো? আমি তোকে চিরকুমার রাখবো রে শাউ’য়্যার নাতি!”

আর দেরি নয় পিঠ বাঁচাতে এক দৌড়ে নিচে পালাল সে।

ন্যান্সি দাঁড়াতে পারল না আর। চোখ নিচু করে ধুমধাম পা ফেলে সিঁড়ির দিকে নেমে যেতে লাগল, যেন নিজের শ্বাসটাকেও বিশ্বাস করতে পারছে না।

আফরিদ কিছুক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে রইল। তারপর ধীরে হাত তুলে নিজের ঠোঁট ছুঁল। হালকা হাসি টেনে ফিসফিস করে বলল।

“ইশ্… একটু আগেই তো এই ঠোঁটের ভাঁজে ছিলো আমার জানকি বাচ্চার লিপস।”

আফরিদ ভাবুক হলো, বিড়বিড় করে আওড়ালো।
“না এবার মনে হচ্ছে মেয়েটার হাত-পা বেঁধে রে”” করে ফেলতে হবে। শুধু হাত-পা নয় সাথে মুখও। ওর চিৎকার শুনলে ইহজীবনে বাসর হবে না। দরকার হলে নিজের কানেও তুলো ঢুকিয়ে ফেলব। তবুও আসল কাজ করতেই হবে। তুই মাফিয়া কিং আফরিদ এহসান রে আফরিদ এহসান। একটু তো লজ্জা কর বউ কাঁদবে বলে আদর করবি না? ছিহ্ ছিহ্। এই কথাটা মারকো জানতে পারলে নিশ্চয়ই মুখের উপর হাসবে!”

আফরিদ নিজেকে কিছুক্ষণ ধিক্কার জানালো। অতঃপর সেও রুম থেকে বেরিয়ে গেল।


🌿বাংলাদেশ……
(হল রুম ০১)

বিশাল রিসার্চ সেন্টারের ভবনের টপ ফ্লোর যেন অদৃশ্য অন্ধকারে মোড়ানো ছিল। লিফটের দরজা খুলতেই লম্বা করিডোর জুড়ে শূন্য নীরবতা, কেবলমাত্র বুটের চাপা শব্দ প্রতিধ্বনির মতো বেজে উঠছিল চারপাশে। ভারী অস্ত্র হাতে গার্ডদের মুখে ছিল না কোনো অভিব্যক্তি, যেন তারা মানুষ নয় কোনো যান্ত্রিক ছায়া।

দু’জন সায়েন্টিস্ট , মিস্টার আলবার্ট এবং মিস্টার কামাল আঁকড়ে ধরে গার্ডরা নিয়ে গেল কাঁচে ঘেরা বিশাল কেবিনের সামনে। দরজা খুলতেই শীতল হিমেল বাতাস যেন ভিতরে লুকিয়ে থাকা ভয়ের গন্ধ ছড়িয়ে দিল।

চোখের পলকে স্থির হয়ে গেল বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি। সামনের চেয়ারে বসে আছে আগ’ন্তুক একই পোশাক, একই অচেনা সেই লোক। মাথা থেকে মুখ পুরোপুরি ঢাকা, সেই মুখচ্ছবি দেখা যায় না। অথচ তার নিঃশব্দ উপস্থিতিই কাঁপিয়ে দিচ্ছিল পরিবেশ।

কেবিনের প্রতিটি কোণ থেকে যেন শীতল চাপা অন্ধকার বেরিয়ে এসে তাদের বুকের ভেতর ঢুকে পড়ছে। আগন্তুক একটিও শব্দ উচ্চারণ করলো না, শুধু নিথর হয়ে বসে থাকল। তবু মনে হচ্ছিল, তার অদৃশ্য দৃষ্টি দু’জনের মনের গভীরতা ভেদ করে যাচ্ছেযেন কোনো নিষ্ঠুর পরীক্ষার আগে শিকারকে পর্যবেক্ষণ করছে।

বিজ্ঞানীদের শরীরে কাঁপুনি বয়ে গেল, হাত-পা অবশ হয়ে এল। কেবল বুকের ভেতর তীব্র শ্বাস আর আতঙ্কের বজ্রাঘাত।
ওই নীরব বসে থাকা ছায়াটাই যেন পুরো টপ ফ্লোরকে রক্তহীন মৃ’তশীতল মরুভূমিতে পরিণত করে ফেলেছে।

“জেন্টলম্যান তোমাদের কাজ শেষ তাই..

ভারিক্কি কন্ঠে কথাটা অর্ধ মাঝেই থেমে গেল।
মিস্টার কামাল ভয়ার্ত কন্ঠে বলে উঠেন ‌।

“এবার তো আমাদের যাওয়ার পালা।”

হেসে ফেলল আগুন্তক ,তার ভ’য়ানক হাসিখানা কেবিনের কাঁচের দেয়ালে ভারি খেয়ে বারংবার কর্ণ স্পর্শ করছে।

“যাওয়ার কথা এ জন্মে আর নয় সায়েন্টিস্ট! তোমাদের কাজ একটু একটু করে যেভাবে আগাচ্ছিল? তোমারও ঠিক তেমন করে একটু একটু মৃ’ত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলে। এখন পুরোপুরি মৃত্যুর মুখে চলে এসেছো।”

মিস্টার আলবার্ট আর নিজেকে শান্ত রাখতে পারলেন না , তীব্র ক্ষোভ নিয়ে বলেন।

“কিন্তু তুমি বলেছিলে আমাদের কাজ শেষে মুক্তি। শুধু আমাদের নয় বাকি সবাই কে ছেড়ে দেবে।”

আবারো হেসে উঠলো আগুন্তক। কিছুটা ব্যঙ্গ করে বলে।
“মিস্টার আলবার্ট বাংলা বলছে? দ্যাটস্ গ্রেট ,আই লাইক ইট।”

চমকে উঠলেন মিস্টার আলবার্ট। মিস্টার কামাল অবাক নেত্রে উনাকেই দেখছেন।
“মিস্টার আলবার্ট আপনি বাঙালি?”

খানিকটা ইতস্তত বোধ করলেন মিস্টার আলবার্ট। আগুন্তক বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো ,তাদের দিকে ফিরতেই চোখ দুটো আটকে যায় সায়েন্টিস্টের । নিজেকে এমন ভাবে আবৃত করে এসেছে যেনো কাকপক্ষীতে তাকে দেখতে না পায়।

“মিস্টার আলবার্ট তুমি কি ভেবেছিলে আমি জানি না তুমি বাঙালি? ইউ স্টুপিড সায়েন্টিস্ট।”

মিস্টার আলবার্ট নিজেকে ধাতস্থ করলেন , সূক্ষ্ম নিঃশ্বাস ছেড়ে বললেন।
“প্লিজ তুমি বাকি সবাই ছেড়ে দাও। তুমি কথা দিয়েছিলে!”

মাস্কের আড়ালে লোকটা হাসলো নাকি রাগলো
“আমি কাউকে কথা দেইনি , বলেছিলাম যদি কাজ না হয় তবে তাদের কিছু না কিছু হবেই। বাট আমি কথা দেইনি তোমাদের মুক্তি দেব।”

মিস্টার আলবার্ট আর শান্ত থাকতে পারলেন না , সর্বোচ্চ ক্ষোভ প্রকাশ করে চিৎকার করে উঠলেন।

“হাউ ডেয়ার ইউ? তুমি আমাদের মিথ্যে বলেছো এত বছর ধরে। আই উইল কি’ল ইউ।”

সহসা একটা গুলি এসে বিঁধল বাহুতে , চিৎকার করে মিস্টার কামাল ওনাকে চেপে ধরলেন।
“মিস্টার আলবার্ট! কি করলেন এটা?”

আগুন্তক নিরুত্তর। গোলাম মোস্তফার উদ্দেশ্যে বললেন।
“নিয়ে যাও ওদের। আর হ্যাঁ বন্দি করে দেও সেলে।”

“ওকে বস।”

গোলাম মোস্তফা আর মন্টু দাস দুজনেই টেনে ধরলো মিস্টার আলবার্ট কে। চিৎকার করে উঠল মিস্টার কামাল।
“প্লিজ ছেড়ে দাও আমাদের। আমাদের ছেড়ে দাও।”

গার্ড গুলো মিস্টার কামাল কে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যেতে লাগল সাথে মিস্টার আলবার্ট কে।

আগুন্তক নির্বিকার দৃষ্টিতে আবারো গিয়ে নিজের চেয়ারে বসলো। টেবিলের উপর থেকে মার্বেল বল টা নিয়ে নিল হাতে। মুষ্টিবদ্ধ করে চেপে ধরে।

চলবে………..।🌿

(📌 আফরিদ চুমু খেয়ে ফেলল বিনা বাঁধায় 🫣👀)

অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ৩২](শেষ অর্ধেক)

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫এই গল্পের কোনো দৃশ্য, সংলাপ, প্লট অনুপ্রাণিত হয়ে কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)

আফরিদ এয়ার পোর্ট থেকে কোথাও একটা গিয়েছিল। এদিকে ন্যান্সি কে পাঠিয়ে দিয়েছিল এহসান মঞ্জিলের উদ্দেশ্যে।
যখন আফরিদ ফিরলো তখন ন্যান্সি গভীর ঘুমে ডুবে আছে। রুমের নরম অন্ধকার ভেদ করে যখন আফরিদ প্রবেশ করল, প্রথমেই তার দৃষ্টি আটকে গেল বিছানার ওপারে নিথর ফুলের মতো ঘুমিয়ে থাকা রমণীর মুখে। মুহূর্তেই চোখের কোণ ঢিলে হয়ে এলো তার এক অদ্ভুত প্রশান্তি বুকের গভীরে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ল। যেন সারাদিনের সব ক্লান্তি ভিজে কাপড়ের মতো গলে নেমে গেল সেই নিষ্পাপ, নিরাভরণ মুখটা দেখতেই।

কিন্তু শান্তির ছায়া বেশিক্ষণ টিকল না। পরক্ষণেই আফরিদের ভ্রু হালকা কুঁচকে উঠল।
এই ঠান্ডা! এসির তাপমাত্রা কে এতটা নামিয়ে রেখেছে? পুরো রুমটা তো যেন বরফে মোড়া!

রুমে ঢুকেই আফরিদ ধীরে দরজাটা পাসওয়ার্ড দিয়ে লক করে দিল। নিরাপত্তার ক্ষুদ্র শব্দটুকুও যেন ঘুমন্ত রমণীর নিঃশ্বাসে মিশে গেল। ওদিকে সে কম্ফোর্টারে নিজেকে জড়িয়ে শিশুর মতো নিশ্চিন্ত ঘুমে আচ্ছন্ন।

স্যুটের বোতাম খুলতে খুলতে আফরিদের দৃষ্টি আবার ফিরে গেল রমণীর দিকে। ঠোঁটের কোণে অজান্তেই এক চেনা হাসি ফুটে উঠল সেই নরম, অধিকারবোধে ভরা হাসি যেটা পৃথিবীর আর কারো জন্য নয়, শুধু তার জন্যই বরাদ্দ।

অবশেষে টাওয়েল তুলে নিয়ে সে ধীরপায়ে বাথরুমের দিকে এগিয়ে গেল। দীর্ঘ শাওয়ারের পর যখন ফিরে এলো, তখনো ঘরটা ঠান্ডা, নিস্তব্ধ, আর সে? সে যেন আরও কিছুটা নরম হয়ে গেছে ভিতরে ভিতরে। আলমারি খুলে ট্রাউজার আর সাদা একটি টিশার্ট পরে নিলো ধীরে ধীরে, যেন ঘুমন্ত মানুষটার স্বপ্নের স্নিগ্ধতা নষ্ট না হয়।

অবশেষে এসির পাওয়ার বাড়িয়ে দিল আফরিদ।
হালকা বিরক্তির স্বরে ফিসফিস করে উঠল এই আদুরে বউটাকে কি আর মনে থাকে কিছু? ঠান্ডায় জমে যাবে তবু এসি নামিয়ে রেখে দিব্যি ঘুমোবে! সে অসুস্থ হলে বুকে যে তার ব্যথা হবে সে খেয়াল কি রাখে?

নগ্ন পায়ে ধীরে এগিয়ে এসে বিছানায় উঠতেই কম্ফোর্টারের নরম ভাঁজে জায়গা করে নিল সে।
ঠান্ডা দু’হাত যখন ন্যান্সির উষ্ণ উদর ছুঁয়ে গেল, ঘুমে ডোবা শরীরটা কেঁপে উঠল হাল্কা শিহরণে।
ঘুম জড়ানো, নিভু নিভু কণ্ঠে ন্যান্সির অস্পষ্টকরে বলে উঠল।
“উমম ,,সরেন ঘুমাতে দিন…”

আফরিদ কোনো জবাব না দিয়ে আরও কাছে সরে এল, যেন ঐ ঘুমন্ত শরীরের পাশে নিজের অস্তিত্বটুকু গলিয়ে দিতে চায়। ন্যান্সি বুঝল এই মানুষটা নড়বে না। বিরক্তিতে ঠোঁট ফুলিয়ে বলল
“ইশ্ ,,এত বড় বিছানা তবুও কেন এমন করেন? সরেন তো!”

সরল না আফরিদ। বরং তার বুকের কাছাকাছি মুখটা এনে ফিসফিস করে বলল।
“ইউ নো বান্দি তোকে দেখলেই আদর করতে ইচ্ছে করে।”

এই কথাটাই ন্যান্সির রাগ বাড়িয়ে দিল।
সে হঠাৎ ধাক্কা দিয়ে উঠে বসল, রাগে চোখ দু’টো লালচে হয়ে উঠল আর আফরিদ নিচ থেকে তাকিয়ে শুধু দুষ্টু হাসিটা ফুটিয়ে তুলল ঠোঁটে।
ঘুম জড়ানো সেই আদুরে মুখটা দেখে ওর মনে হল
এখনই যদি জোরে একটা চুমু খেয়ে ফেলে! একদম অশ্লীল চুমু।

কিন্তু ন্যান্সি তার কাছে আর থাকতে রাজি নয়। এক মুহূর্তে বেড ছেড়ে নেমে গেল নিচে।
কার্পেটের উপর তোশক বিছিয়ে নিল মন খারাপ করা অভিমানী ভঙ্গিতে। আফরিদের দিক থেকে এক ঝটকায় পুরো কম্ফোর্টারটাও কেড়ে নিল, আর সঙ্গে নিজের বালিশটাও।

ন্যান্সি তোশকের উপর গা এলিয়ে দিতে না দিতেই পাশেই এসে নিঃশব্দে শুয়ে পড়ল আফরিদ। সে কি ছাড়বে তার বউকে?
বড় বিছানাটা ফাঁকা পড়ে আছে, তবু দু’জনই যেন অভিমানভরা কাছে থাকা ছাড়া আর কিছুই জানে না একই ফ্লোরে, একই কম্ফোর্টারের তলে।

আগের মতোই কোমর জড়িয়ে ধরল আফরিদ। তার সদ্য শাওয়ার নিয়ে আসা ঠান্ডা হাত দুটো ছুঁয়েছে ন্যান্সি কে।
ন্যান্সির নিঃশ্বাস হালকা কেঁপে উঠল, ঘুমে ডোবা চোখ দুটি যেন কিছুই না দেখে শুধু অনুভব করছে।
ন্যান্সি ঘুমজড়ানো কণ্ঠে ফিসফিস করল।
“আপনি অস…ভ্য, সবসময় এমন করেন।”

আফরিদ তার কাঁধে মুখ গুঁজে গভীর নিঃশ্বাস টেনে নিল।
মখমলের মতো কোমল কণ্ঠে বলল।
“মিঠা.. খুব মিঠা ঘ্রাণ।”

ন্যান্সি খুব করে চোখ খুলতে চাইল, খুলল না।
শরীরটা ঘুরিয়ে একটু আড়ষ্ট ভঙ্গিতে শুয়ে থাকল কেবলই।
ততক্ষণে আফরিদ আলতো করে তার পায়ে পা জড়িয়ে নিল।
শরীরে শরীরের উষ্ণতা নরম ঢেউয়ের মতো ছড়িয়ে গেল মেয়েটার ভেতর। দুজনে খুব কাছাকাছি।

উদরে স্পর্শ করা মাত্রই রমণীর দেহ কেঁপে উঠল ক্ষীণ কম্পনে।
কিন্তু প্রতিবাদ করার শক্তি নেই ঘুম তাকে টেনে নিচে নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বারবার।
আলগোছে আফরিদের হাতটা তুলে নিজের বুকের কাছে টেনে রাখল, যেন সেই উষ্ণতা বাঁচিয়ে রাখতে চায়।

পিঠ দিয়ে শুয়ে থাকা ন্যান্সি কে পিছন থেকে জড়িয়ে রাখল আফরিদ।
তার হাত রমণীর কোমল বক্ষভাগ স্পর্শ করতেই আফরিদের নিশ্বাস এলোমেলো হয়ে গেল। দুর্বল হলো পুরুষালী মন।
থেমে থেমে সে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল।

“তোর কি মনে হয় আমাদের সম্পর্কটা আরেকটু এগোনো উচিত?”

ন্যান্সি চোখের পাতা ভারী রেখেই বলল।
“যেমন?”

আফরিদের কণ্ঠ গাঢ় হলো।
“আমি তোর কি?”

“হাসব্যান্ড।”
“তুই আমার কি?”
“ওয়াইফ।”

দ্বিধাহীন, ছোট্ট, ঘুমে ভেজা কণ্ঠ।
আফরিদ মৃদু হাসল একটা উষ্ণ, আবদ্ধ করা হাসি।
আফরিদ অত্যন্ত ধীর স্বরে বলল
“তাহলে আমাদের একটু অন্যরকম সম্পর্কও হওয়া উচিত। একটু দুষ্টুমি মেশানো। আমার তোকে মারাত্মক আদর করতে ইচ্ছে করে।’

ন্যান্সি ঘুমের মধ্যেই হেসে ফেলল।
সেই ক্ষণেই আফরিদ ঝুঁকে তার কানের পাতায় আলতো কামড় বসাল। ন্যান্সি অস্ফুট স্বরে দীর্ঘ এক নিশ্বাস ছাড়ল।
আফরিদ বড়সড় ঢোক গিললো একটা। ফিসফিস করল।
“জ্বা’লিয়ে দিচ্ছিস। একেবারে ছারখার হয়ে যাচ্ছি আমাকে কাছে আসতে দিবি না?”

এবার ন্যান্সি ধীরে ঘুরে তার দিকে মুখোমুখি হলো। ঘুরে আফরিদের দিকে শোয়।
দু’চোখ বন্ধ, তবুও মুখখানা আফরিদের বুকে গুঁজে দেয়,আফরিদ কিঞ্চিৎ কাঁপল। তার মতো শক্তপোক্ত দেহের লোকটা কেঁপে উঠলো। ন্যান্সি ঘুম কাতুরে গলায় বলল।
“কাছে এলে কি হবে বলেন?”

আফরিদ ঠোঁট নামিয়ে ন্যান্সির মুখটা দেখে ঠোঁট জোড়া ভিজিয়ে নিলো।
“তখন আমি অভদ্র হবো।তোর সব অভিযোগ সত্য প্রমাণ করব। খুব খারাপ হবো,একটু একটু কাঁদাবো। ব্যথা দেব আবার আমিই সারিয়ে দেব।”

ন্যান্সি লম্বা নিঃশ্বাস ছাড়লো। মুখ টা জোরপূর্বক কম্ফোর্ট দ্বারা ঢেকে বলল।
“দেব কাছে আসতে। এখন ঘুমাই।

এক মুহূর্তের মধ্যেই আবার গভীর নিদ্রায় তলিয়ে গেল ন্যান্সি। আর আফরিদ তাকে আগলে ধরে শুয়ে রইল মনে মনে কেবল ভাবল,
এই মেয়েটাকে নিয়ে এত আদর, এত টান, এত আকুলতা।আচ্ছা কবে কাছে যাবে আর কবে বংশধর আসবে তার হুঁ?
“এই শালীর ঘরের মাইয়া উঠ এখুনি।‌ কবে আসবো কাছে হ্যাঁ? যখন আমার বয়স ষাট হবে তখন কাছে আসবো? আমার বংশধর কবে আসবে হ্যাঁ? এত লেইট হচ্ছে!”

ন্যান্সি ধড়ফড়িয়ে উঠে বসলো। এত জোরে চিৎকার করছে কেন পাগল লোক?
“কুত্তার বাচ্চা তুই বিলাই মানুষ করবি হ্যাঁ? তাহলে আমার বাচ্চা কখন মানুষ করবি?”

ন্যান্সির ক্রুদ্ধ নয়নে তাকালো আফরিদের মুখ পানে। বেয়াদব লোক তাকে ঘুমোতে দিচ্ছে না।
খ্যাঁকিয়ে উঠল ন্যান্সি।
“নষ্ট পুরুষ সমস্যা কি হ্যা? এত পাগল হচ্ছেন কেন? এখুনি বুড়ো হয়ে যাচ্ছেন নাকি?”

আফরিদ ভ্রু বাঁকালো।
“আই অ্যাম অলরেডি থার্টি-ওয়ান ইয়ার্স ওল্ড।”

আফরিদের কথায় চোয়াল ঝুলে এলো ন্যান্সির। ছোটখাটো বজ্রপাত হল মস্তকের উপর যেনো। একত্রিশ বছর? মানে আফরিদ এহসান একত্রিশ বছরের?
ন্যান্সি আহাম্মক বনে গেল, ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে আফরিদের দিকে অবিশ্বাস্য নয়নে। তার বয়স তো মাত্র ঊনিশ! এই ছোট্ট জীবনে অনেক সাফার করতে হয়েছে। পড়াশোনা সবকিছু ছেড়ে বেকারিতে চাকরি করেছে।
এই লোকটা তো তার আঙ্কেলের বয়সী। কিন্তু স্বামী হলো কেমনে। হিসেব মিলছে না তো!
“এই আপনি কি সত্যি বলছেন?”

আফরিদ ভাবলেশহীন ভাবে শুয়ে পড়ল, ন্যান্সি মাথা চুলকাচ্ছে।এখন তো আর ঘুম আসবে না তার। এটা কি হলো? শেষমেষ একটা বুড়ো লোকের সাথে বিয়ে হলো?
ন্যান্সির কি হলো কে জানে ঠোঁট ফুলিয়ে কেঁদে উঠলো। আফরিদ হতবিহ্বল!
“কাঁদছিস কেন?”

ন্যান্সি অগ্নিগিরির লাভার ন্যায় জ্বলে উঠছে।
“আপনি বুড়ো? এই বয়সে মেয়ে পাবেন না বলেই আমাকে জোরপূর্বক বিয়ে করেছেন! ছিহ্!”

দৃষ্টি সুঁচালো হলো আফরিদের,চিড়বিড়িয়ে উঠলো সে।
“অ্যাঞ্জেলিনাআআআ!”

চলবে……..✨🌿।

অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[বোনাস পার্ট]

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫এই গল্পের কোনো দৃশ্য, সংলাপ, প্লট অনুপ্রাণিত হয়ে কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)

“আম্মা।”

নাজমা মহিলা আজকেও নিজের ছেলের কবরের পাশে বসে আছেন। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা এই মা নিজের ছোট ছেলের মৃত্যু কিছুতেই মানতে পারছেন না।
কবরের পাশে এসে হাজির হয়েছে এক যুবক। যাকে দেখে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন নাজমা।

“এই যাও এইখান থাইকা,দেখতেছো না আমার পোলা ঘুমাইতেছে!”

সেই অন্ধকার ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা যুবক নিজের মায়ের এমনতর অবস্থা মেনে নিতে পারছে না। হাত টেনে ধরলো তার।
“আম্মা আমি তো বড় পোলা। তুমি দেখো আমারে। চিনতে পারতাছো না?”

নাজমা মহিলা ঠেলে সরিয়ে দিলেন সেই অচেনা যুবক কে।
প্রলাপ করতে লাগলো।
“না ওই যে আমার পোলা ঘুমাইতেছে।যাও তো এইখান থাইকা!”

হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে এলো তার। আজকে যাদের জন্য তার ভাই মারা গেছে; যাদের জন্য আজ তার মা পাগল হয়েছে তাদের ছাড়বে না সে। মেরে ফেলবে, ধ্বংস করবে সবকিছু!


পুরো রাত ঘুম হয়নি ন্যান্সির। এই ভেবে যে আফরিদ এহসান বুড়ো, তাকে বুড়ো লোক বিয়ে করে নিয়েছে। কিন্তু আশ্চর্য তার পরেও এতটা ফিট কিভাবে হুঁ? ও হ্যাঁ সে তো আবার ওয়ার্ক আউট করা জানোয়ার। ফিট তো থাকবেই। সকাল সকাল উঠেই ন্যান্সি শাওয়ার নিয়েছে।চুল গুলো ভেজা, ছেড়ে দেওয়া আছে।
কাল বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে ন্যান্সি,আফরিদ এবং ঈশান।
ন্যান্সি এখনো বুঝে উঠতে পারলো না কেনো তারা থাইল্যান্ডে গিয়েছিল আর ফিরেই বা এলো কেন?
এমন নয় আফরিদ তাকে নিয়ে ঘুরতে গিয়েছে। ন্যান্সির মস্তিষ্ক এখনো ভেবে চলেছে সেই কয়েক ঘন্টার কথা ,আফরিদ কোথায় ছিলো সেই ঘন্টা খানেক?

ভাবতে ভাবতে নিচে ড্রয়িং রুমে এলো ন্যান্সি। নিচে আসতেই দেখতে পেলো সাব্বির এবং নীলাদ্রি কোনো একটা বিষয়ে আলোচনা করছে। আশ্চর্যের বিষয় ওরা একই ধরনের শার্ট প্যান্ট পড়েছে। পিছু ঘুরে দাঁড়ালে বুঝাই যাবে না কে কোনটা। ওদের হাইটও প্রায় সেইম।

“গুড মর্নিং ভাবি।”

সাব্বিরের হাস্যোজ্জ্বল কন্ঠস্বর ভেসে এলো শুভেচ্ছা বার্তা। ন্যান্সি মৃদু হাসার চেষ্টা করে বলল।
“গুড মর্নিং।”

মাঝ পথে নীলাদ্রি বলে উঠে।
“তারপর থাইল্যান্ডে ট্রিপ কেমন ছিলো ভাবি?”

ন্যান্সি ক্ষীণ স্বরে বলল।
“ভালো।”

সাব্বির ঘাড় বাঁকালো , নীলাদ্রি ভ্রু কুঁচকে বলল।
“বলছিলাম যে তাহলে পালালেন কেনো ভাবি?”

ন্যান্সি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো ,কড়া কটা কথা শুনিয়ে দিতে ইচ্ছে করলো। কিন্তু চুপ থাকলো ন্যান্সি । নীলাদ্রি যে তাকে খোঁচা দিচ্ছে তা বুঝতে বাকি নেই।ওই যে প্রথম দিনেই পালিয়ে দশ ঘন্টা ঘুমিয়েছিল জানোয়ার কে। সেদিনের কথা মনে আসতেই গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে।

“গুড মর্নিং মা’তারি।”

কানের কাছে শব্দটা আচানক ভারি খেতেই হকচকিয়ে সরতে গিয়ে হোঁচট খেলো ন্যান্সি। পড়তে নিলে বাহু টেনে ধরে আফরিদ এহসান। ন্যান্সির ভেজা চুল গুলো হাত ভিজিয়ে দিলো আফরিদের ‌

“উফ্ মেরি বা’ন্দি এমনে চমকালে হবে? পড়ে ম’রে যাবি তো!”

ন্যান্সি নিজেকে খানিকটা ধাতস্থ করে বলল।
“ভূতের মতো এভাবে কেন এসে পিছনে দাঁড়ান হুঁ?”

এক গাল হাসলো আফরিদ ,তার হাসি এসে বুকে বিঁধে ন্যান্সির।
“তারপর বল সকাল সকাল কে তোর সর্বনাশ করে দিলো যে শাওয়ার নিতে হয়েছে?”

চোখ পাকিয়ে তাকালো ন্যান্সি। আফরিদ ফিসফিসিয়ে বললো।
“এভাবে সকালে শাওয়ার নিবি জানলে অবশ্যই শাওয়ার নেওয়ার রিজন দিতাম।”

ন্যান্সি তপ্ত নিঃশ্বাস ছাড়লো,খবিশ লোক একটা।
পাশ কাটিয়ে নিচে নেমে এলো ন্যান্সি। আফরিদ নিজেও নিচে এসেছে , কল্পনা কফি নিয়ে এলো সবার জন্য। বিরক্ত হলো কফি দেখে আফরিদ , বড় বিতৃষ্ণা নিয়ে বলল।

“কি কল্পনা? কফি? ইস্। এই বউ দূরে দাঁড়িয়ে আছো কেন? যাও স্বামীর জন্য গ্রিন টি নিয়ে এসো।”

আফরিদের কথায় ভ্রুক্ষেপ নেই ন্যান্সির , দাঁত কটমট করে তাকালো আফরিদ। ওমন তাকানোতে হতাশ হলো ন্যান্সি।
চুপচাপ কিচেনে গিয়ে তার জন্য গ্রিন টি বানিয়ে ফেলল। আশ্চর্য ব্যাপার ড্রয়িং রুমে এসে দেখে আফরিদ নেই।

“উনি কোথায় আপু?”

সম্পর্কের দিক থেকে ছোট হলেও বয়সে বড়। তাই তাকে আপু বলে সম্বোধন করতেই পছন্দ করে ন্যান্সি।

কল্পনা মৃদু স্বরে বলল।
“ভাইয়া রুমে চলে গেছেন।”

ন্যান্সি বিতৃষ্ণা নিয়ে উপরে দিক যেতে লাগলো। না আজকে বলতেই হবে আফরিদ কে ,সে দেখা করতে চায় পালিত মা বাবার সাথে। তারা কোথায় আছে কি করছে কিছু জানে না ন্যান্সি। আশ্চর্যজনক বিষয় তারা একটি বার কেন খোঁজ করলো না ন্যান্সির?
হতেও পারে খোঁজ করেছে কিন্তু আফরিদ তা জানতে দেয়নি। ভাবতে ভাবতে রুমের কাছে এগিয়ে গেল ন্যান্সি। শিথিল ভ্রুদ্বয় কুঞ্চিত করে নিল,ওই যে একটা হুইস্কির বোতল নিয়ে খাচ্ছে আফরিদ। শুধু হুইস্কি নয়,অপর হাতে একটা সিগারেট রয়েছে।

“এই যে মিস্টার এহসান আপনার টি।”

আফরিদ হুইস্কির বোতল রেখে দিল, সিগারেট নিভিয়ে দিল। অতঃপর কাপটা নিয়ে নিল , চমৎকার ভাবে চুমুক বসালো। ন্যান্সি উসখুস করছে কিছু একটা বলবে বলে। আফরিদ মাঝখান থেকে বলে উঠে।

“আহা জানকি বাচ্চা কি দারুন গ্রিন টি খাওয়ালে। এই খুশিতে তুমি যা চাইবে তাই পাবে।”

এই সুযোগে আফরিদ একটু নাকানিচোবানি খাওয়াতে ইচ্ছে করলো ন্যান্সির। টুক করে গিয়ে কলম খাতা নিয়ে কিছু একটা লিখে আবার ফিরে এলো।
আদেশ স্বরূপ বলল।

“আপাতত এগুলো চাই আমার।”

অসহায় মুখ করে বাচ্চাদের মতো ঠোঁট উল্টায় আফরিদ। ফোঁস ফোঁস করতে করতে বলল।

“নিষ্ঠুর মাতারি জিনিস পত্র চাইলো ,তবুও আমার স্পেশাল ডিএনএ চাইলো না।”

নাক মুখ কুঁচকে এলো ন্যান্সির ,বেহায়া পুরুষ এর আগে দেখেনি সে।
আফরির দৃষ্টি সরিয়ে কাগজটার দিকে তাকালো , চক্ষুদ্বয় তীক্ষ্ণ হলো। ভারিক্কি কন্ঠে বলে উঠে।

“ছিহ অ্যাঞ্জেলিনা তুই বহু চালাক মাইরি।”

ভিমড়ি খেল ন্যান্সি , দৃষ্টি হয়ে এলো সুঁচালো। কি এমন লিখেছে যেটা দেখে এই নষ্ট পুরুষ এরকম উগ্র আচরণ করছে?

“কি হয়েছে?”

“বান্দির বাচ্চা আমি কাছে আসলেই দূরে যাওয়ার ফন্দি করিস আর এখন কি না ক্লোজ আপ আনতে বলছিস?”

ওষ্ঠো জোড়া ফাঁক হয়ে এলো রমণীর , দ্বিধায় পড়ে গেল সে। কি বলল এই পুরুষ?
আফরিদ রুষ্ট কন্ঠে বলল।

“তুই কি ভাবিস আমি বুঝি না ক্লোজ আপ দিয়ে দাঁত ব্রাশ করে বলবি কাছে এসো ,কাছে এসো, কাছে এসো না হাআআআ।”

মাথাটা কেমন ভনভন করছে ন্যান্সির,এই বুঝি জ্ঞান হারাবে। নরম কবুতরি পেলব খানা লুটিয়ে পড়বে ফ্লোরে।

“উফ্ মাথাটা ধরিয়ে দিলেন।‌ যান এখান থেকে সারাদিন বাজে কথা বলবে।”

আফরিদ দুষ্টু ভঙ্গিতে বলল।
“ইশ্ এক কাজ করব দুটো ক্লোজ আপ নিয়ে আসবো। একটা দিয়ে দাঁত ব্রাশ করবি তুই আরেকটা দিয়ে আমি করব এরপর দুজন মিলে একসাথে বলব। কাছে এসো কাছে এসো।”

ন্যান্সি আর নিতে পারছে না, তর্জনী তুলে ধমকানোর সহিত আওড়ালো।
“বেরুবেন আপনি? নাকি মাইর খাবেন?

আফরিদ ভ্রু কুঁচকে নিল , প্রচুর হাসি পাচ্ছে তার। এই মেয়ে বলে কি তাকে মা’রবে? ঠিকই আছে। মাফিয়া বউয়ের হাতে মা’র খাবে।
“আমার ডায়লগ আমাকেই রিটার্ন? নাইস।”

বেরিয়ে গেল রুম থেকে। আফরিদ বেরিয়ে যেতেই কপাল চাপড়াতে লাগল ন্যান্সি ,কি যেনো বলতে এসেছিল সে কিন্তু এই বেয়াদব পুরুষের চক্করে সব ভুলে বসেছে।

সন্ধ্যার দিকে ফিরে এসেছে আফরিদ , আজকে তার একটা বোর্ড মিটিং ছিলো। সেটাও ট্রলার নিয়ে। আর সবজির বস্তার অস্ত্র গুলো চালান করতে হয়েছে তাকে। ছোট থেকে বড় সব রকমের ডিল রয়েছে তার। আশ্চর্যের কথা আছকে মিস্টার অ্যালেক্সের এক্সক্লুসিভ ডিল নাকি ক্যানসেল করে দিয়েছে মাফিয়া কিং। অথচ এই ডিলটা পাওয়ার জন্য কত হাপিত্যেশ করেছে নীলাদ্রি।

ঈশান কিঞ্চিৎ বিস্ময় নিয়ে প্রশ্ন করলো।
“বস আপনি ডিল টা ক্যানসেল করলেন এটা কি ঠিক হলো?”

আফরিদ কাউকে কৈফিয়ত দিতে পছন্দ করে না একমাত্র অ্যাঞ্জেলিনা ছাড়া। তবুও ঈশানের উদ্দেশ্যে বলল।

“পরে জানতে পারবি।”

ঈশান আর কিছু জিজ্ঞেস করার সাহস পেলো না , আফরিদ সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো।
ঈশানের উদ্দেশ্যে বলল।

“যা গিয়ে রেস্ট কর তোর প্রয়োজন আছে।”

ঈশান এক মূহুর্ত অপেক্ষা করলো না ,আফরিদ উপরে রুমের দিকে এগুতে লাগলো। মাঝখানে দেখা হলো ফাহমিদার সাথে। ফাহমিদার হাতে ফোন রয়েছে যা, ফোন টা খুব সন্তর্পণে লুকিয়ে নিলো।

“ভাইয়া কিছু লাগবে তোমার?”

আফরিদ ছোট্ট করে জবাব দিলো।
“প্রয়োজন হলে ডেকে নেব।”

ফাহমিদা পাল্টা প্রশ্ন করার সাহস পেলো না , চুপচাপ জায়গা ত্যাগ করলো।
আফরিদ ক্লান্ত শরীর টা টেনে নিয়ে রুমের দিকে এগুতে লাগলো। দরজাটা খোলাই আছে , ভেতরে পা রাখতেই পুরুষ্ট বক্ষঃস্থল কম্পিত হলো। হৃদয় বেগতিক ছুটে চলেছে। বিছানার সাদা চাদরের ভাঁজে এলোমেলো ভঙ্গিতে ছড়িয়ে আছে রমণীর দেহ। যেনো কোনো শিল্পীর অদেখা তুলি থেকে ঝরে পড়া অনবদ্য রূপকল্প। মৃদু আলোয় তার দেহের বাঁকগুলো আরো স্পষ্ট, আর মুখখানি অস্ফুট স্বপ্নে ডুবে থাকা এক স্বর্গীয় রূপসী।
আফরিদ চোখে হাসে , এগিয়ে যায় পা টিপে টিপে। দরজাটা আলগোছে বন্ধ করে দিলো।
দরজার কাছে থেমে পুরুষের ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠলো অচেনা মৃদু হাসি। তার দৃষ্টি ধীরে ধীরে গিয়ে থামলো সেই এলোমেলো কেশরাশির কাছে। এক পা, দু’পা এগিয়ে সে থামলো বিছানার ধারে। নিঃশব্দে খুলে ফেললো হাতের ওভারকোট, রাখলো পাশে, যেনো অজান্তেই সময় থমকে দাঁড়াল।

চুলগুলো আলগা হয়ে কাঁধে, বুকে ছড়িয়ে আছে মাফিয়া কিং আঙ্গুল বাড়িয়ে স্পর্শ করতেই এক অদ্ভুত স্নিগ্ধতা নেমে এলো অন্তঃস্থলে। সেই ছোঁয়া যেনো অগ্নির মতো উত্তপ্ত নয়, বরং ঝরনার মতো কোমল তাকে নিঃশব্দে গ্রাস করলো।
মুহূর্তে সমস্ত ক্লান্তি, সমস্ত অস্থিরতা গলে গিয়ে মনটা অদ্ভুত শান্তির তরঙ্গে ভেসে উঠলো। সে যেনো বুঝলো, এই এলোমেলো রূপই তার জগতের সবচেয়ে নিখুঁত সৌন্দর্য।

❝তোকে ভালোবেসে যদি আমার পাপ আরো এক গুন বেড়ে যায়, তাহলে বলছি আমি প্রতি পদে পদে তোকে ভালোবাসবো , জানকি বাচ্চা।❞
~আফরিদ এহসান

চলবে……….।✨

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply