Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩


অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ০৩]

লেখিকাফারহানানিঝুম

(📌প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)
(📌কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)
(বেশী বেশী রেসপন্স করবেন আর হ্যাঁ দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটি নয়)

হাতে ব্যাগ পত্র নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এসেছে ন্যান্সি। না এই বাড়িতে আর থাকা যায় না , সারাদিনের ক্লান্তিতে বেঘোরে ঘুমাচ্ছে সবাই। ন্যান্সি ব্যাগ নিয়ে চুপচাপ সদর দরজা টা খুলে বাইরে বেরিয়ে এলো ‌। গেটের সামনে সিকিউরিটি গার্ড দাঁড়িয়ে আছে। লোকটা ঝিমুচ্ছে! ঠোঁট টিপে হেসে ফেলল ন্যান্সি। যাক এখন তার পালাতে সুবিধা হবে।

🌿
মাথা ঝিমঝিম করছে আফরিদের। কারো অদ্ভুত কন্ঠস্বর কর্ণ স্পর্শ করছে বারংবার।
“ভাইয়া? ভাইয়া উঠো।”

ঘুম কাটিয়ে উঠে বসলো আফরিদ , তৎক্ষণাৎ সজাগ হলো তার মস্তিষ্ক। বিছানায় দৃষ্টি বুলিয়ে ন্যান্সি কে দেখতে না পেয়ে ক্ষেপে গেল আফরিদ।

“অ্যাঞ্জেলিনা কোথায়? কোথায় সেএএ?”

আফরিদের চিৎকারে কেঁপে উঠলো ফাহমিদা।
“ভাইয়া ভাবি পালিয়েছে!”

“হোয়্যাট?”

🌿

বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছে ন্যান্সি ,এখান থেকে ডিরেক্ট চট্টগ্রাম যাবে। সেখানে গিয়ে ভাববে কি করা যায়! মানুষের ভিড় অনেক , কিন্তু আচানক ন্যান্সি অনুভব করলো আশেপাশে মানুষ নেই। ভিড় কমে এসেছে। এদিকে যেন হঠাৎ করেই শান্ত হয়ে উঠেছে। শুকনো ঢোক গিললো ন্যান্সি। আকস্মিক ভাবেই একটা কালো রঙের গাড়ি সামনে চলে এলো ন্যান্সির। এই বুঝি তাকে উড়িয়ে দিয়ে চলে যাবে গাড়িটা , দু’হাতে কান চেপে ধরল ন্যান্সি। এক দুই করে তিন মিনিট পেরিয়ে গেল অথচ কিছু হলো না। ধীরে ধীরে বুঁজে রাখা আঁখি জোড়া মেলে তাকাতেই চেঁচিয়ে উঠলো।

“আহহহহহহহহ

নিজের সামনে গাড়ির ডেস্কে হেলান দিয়ে দাঁড়ানো আফরিদ কে দেখে চমকে উঠে সে! ভয়ে আতঙ্কে সেঁটিয়ে যাচ্ছে মেয়েটা।

“হাই অ্যাঞ্জু বেইবি।”

আফরিদের গাল ভর্তি হাসি,আর অদ্ভুত ভঙ্গিতে কথা গুলো শরীরে কাঁটা দিচ্ছে ন্যান্সির।

এক পা দু পা করে পিছুতে লাগল ন্যান্সি। আফরিদ চেয়ে চেয়ে দেখছে তার কর্ম কান্ড। নির্বিকার কন্ঠে শুধোয়।

“ওই মা’তারি তুই গাড়িতে আসবি নাকি আমি আসবো?”

ন্যান্সি শুনলো না এক দৌড় দিলো যেতে যেতে চেঁচিয়ে উঠলো।
“তুই মাতারি,তোর চৌদ্দ গুষ্টি মাতারি, জানোয়ার জানোয়ার।”

আফরিদ নিশ্চুপ। ঈশান আহাম্মক বনে গেল ন্যান্সির গালিতে! ঈশান আফরিদের উদ্দেশ্যে বলল।

“বস ম্যাম পালিয়ে যাচ্ছে,ধরবো?”

ঘাড় বাঁকালো আফরিদ , দাঁতে দাঁত চেপে বলল।
“না দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নৃত্য কর!”

ঈশান থতমত খেয়ে গেল, এই মাঝরাস্তায় নৃত্য করবে?

ন্যান্সি অপেক্ষা করলো না এক ছুট লাগালো ,আফরিদ পরপরই তার পিছু দৌড়ে। হাঁপায় না ন্যান্সি প্রাণপণে পালাতে চায়। ডান হাতে প্যান্টের পিছন থেকে রিভলবার বের করে হাওয়ায় ফায়ার করতে লাগলো আফরিদ। থেমে গেল ন্যান্সি । ভয়ে কাঁপছে তার সর্বাঙ্গ।

ন্যান্সির ঠিক সামনে এসে থামলো আফরিদ ,ঘাড় ম্যাসাজ করে সন্দিহান কন্ঠে শুধোয়।

“এই জানকি বাচ্চা তোমার প্রতিবেশী বাপ কি ছোট বেলায় হরলিক্স খাওয়ানি? এত দূর্বল হলে চলবে? এখনো তো বাসর বাকি, অনেক শক্তির প্রয়োজন তোমার। তবে টেনশন নট আমি তোমাকে অবশ্যই হরলিক্স খাওয়াবো তাও আবার বড়দের হরলিক্স।”

আফরিদ আর কিছু বলবে তার পূর্বেই মাথা ঘুরে পড়ে গেল ন্যান্সি। ঈশান দ্রুত গাড়ি নিয়ে আসে। চিন্তিত কন্ঠে বলল।

“বস,ম্যাম তো আপনার ভয়ে জ্ঞান হারিয়েছে!”

বাঁকা হাসলো আফরিদ। অসম্মতি জানায় সে।
“উমম আমার ভয়ে না,বাসরের ভয়ে!”

❝এক মাস পূর্বে❞

সফেদ রঙা সালোয়ার স্যুট পড়েছে ন্যান্সি। ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা।

“সাবধানে ভাই গাড়ি আসছে দেখ।”

কথাটা উচ্চ স্বরে বলল তার খুব কাছের বান্ধবী ইতি। আশেপাশে দৃষ্টি বুলিয়ে নিল ন্যান্সি। বড় রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে সে। রাস্তা পার হতে হবে তাকে। তাড়াহুড়ো করলে চলবে না। বেশীরভাগ সময় এই রাস্তার মোড়ে এক্সিডেন্ট হয়ে থাকে।
ন্যান্সি খুব সাবধানে রাস্তার পার করে ওপাশে চলে গেল। ভিতু মেয়েটা এতক্ষণে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। ঘেমে যাওয়া মুখখানি দেখে খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো ইতি।

“ভিতু ন্যান্সি অবশেষে একা একা রাস্তা পার করেছে আহারে।”

বিদ্রুপ করে বলা কথাটা মোটেও কানে নিল ন্যান্সি। ভিতু সে , ভয় পায় সব কিছুতে। তবে এই ভয় কে জয় করতে হবে তাকে।

“কটা বাজে এখন?”

হাত ঘড়ি টা এক নজরে দেখে নিল ইতি।
“এখন সাত পঁয়ত্রিশ ,আটকা বাজতে ডের দেরী।”

আরো একবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো ন্যান্সি। যাক সবে সাড়ে সাতটা বাজে , সে তো ভেবেছিল আটটা বোধহয় বেজে গেছে!
আরেকটু এগুতেই কেক বেকারি রয়েছে। ইতি আর ন্যান্সি দুজনেই সেখানে শেফ হিসেবে কাজ করে। দুজনেই কেক বানায়।

ইতি মুখ ভার করে বলল।
” আমার না মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে জব টা ছেড়ে দিতে। ভীষণ রাগ হয় ইলিয়াসের উপর।”

ইলিয়াস হোসেন লোকটা কেক বেকারির মালিক। ন্যান্সি নিজেও ভীষণ হতাশ লোকটার উপর। কথায় আছে না অতি সুখ অভাব অনটন না থাকলে মানুষ হিতাহীত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে! ইলিয়াসের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছে। লোকটা অহংকারী , প্রত্যেক শেফের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। এবং কি রীতিমতো ছোট লোক বলে অপমান করে দেয়।

“আমারো ভালো লাগে না। কিন্তু জবটা ছেড়ে দিলে যে বড্ড সমস্যায় পড়ে যাবো।”

ইতি ন্যান্সির সম্পর্কে জানে,তার পালিত আব্বু আম্মু যে তার উপরেই ভরসা করে আছে। তাদের যে বড্ড অভাব।
কথা বলতে বলতে কখন যে বেকারিতে পৌঁছে গেল খেয়াল নেই দুজনেই। ভেতরে যেতেই সম্মুখীন হলো ইলিয়াস হোসেনের সাথে।

“গুড মর্নিং স্যার।”

“গুড মর্নিং গার্লস।এখন সময় হলো আপনাদের আসার।”

ইলিয়াসের কটাক্ষ করে বলা কথাটা শুনে একে অপরের দিকে মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো ইতি আর ন্যান্সি।
ন্যান্সি ভীত নয়নে তাকালো ইলিয়াসের দিকে মিনমিনে গলায় বলল।

“স্যার আমরা আজকে আটটা বাজার আগেই চলে এসেছি।”

“হ্যাঁ উদ্ধার করেছো এসে। ওদিকে কাস্টমার আটটার দিকে বলেছে পার্সেল ডেলিভারি চায়। তোমরা এখন এসেছো আর এখন কেক নিয়ে যাবে?”

ইতি আ’তঙ্কগ্রস্তে পড়ে গেল।‌কথা বলার সাহস পাচ্ছে না সে। অথচ ভিতু মেয়েটা ঠিকই কথা বলছে।

“স্যার কেক তৈরি আছে,জাস্ট ডেলিভারি করে দেব। আপনি প্লিজ টেনশন করবেন না। আমি এখুনি ডেলিভারি করে দিচ্ছি।”

ইলিয়াস হোসেন তিরিক্ষি মেজাজে বলে।
“যদি এই অর্ডার টা ক্যানসেল হয় তাহলে তুমি নিজের রাস্তা অন্য কোথাও দেখে নিও।”

ইলিয়াস হোসেন হনহনিয়ে চলে গেলেন। ন্যান্সি অপেক্ষা করলো না , দ্রুত গেল কিচেনে। ইতি ফটাফট কেক টা ফ্রিজ থেকে বের করে প্যাক করে ফেলল। স্কুটার নিয়ে তৈরি হলো ন্যান্সি। ইতি তার হেলমেট টা হাতে দিয়ে বলল।

“সিস্টার সামনে। প্লিজ তাড়াতাড়ি ডেলিভারি করে দিস। না হলে আমাদের কপালে দুঃখ আছে।”

ইতির অসহায় মুখখানি দেখে অস্থির হলো ন্যান্সি। এই কাজটা চলে গেলে সব কিছু শেষ হয়ে যাবে তার! যে করেই হোক কেকটা ডেলিভারি করতে হবে।


দুপুরের কড়া রোদে চারপাশ ঝলমল করছে। বাতাস ভারী, যেন এক অদৃশ্য অলসতা সবকিছু ঢেকে রেখেছে। রাস্তায় খুব বেশি লোকজন নেই, গাছের পাতাগুলো নীরব, রোদে চকচক করছে।এমন সময় ধুলো উড়িয়ে ছুটে চলেছে ন্যান্সির স্কুটার টা, বসে আছে ন্যান্সি। গরম বাতাসের মধ্যে তার স্কুটারের গর্জন স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। কালো রঙের টায়ারগুলো পিচের রাস্তায় ঘ’র্ষণ সৃষ্টি করছে, মাঝে মাঝে ছোট ছোট পাথর ছিটকে যাচ্ছে তার গতির চাপে।
হাঁসফাঁস করছে ন্যান্সি।‌ আটটা বাজার আর মাত্র দশ মিনিট বাকি আছে। তাড়াতাড়ি পৌঁছাতে হবে। মাত্র পনেরো মিনিটের দূরত্ব আর। এ যাত্রায় তার চাকরি টা বেঁচে যাক, তারপর থেকে আরো সতর্ক থাকার চেষ্টা করবে ন্যান্সি।

ঠাস করে কিছু একটা উল্টে পড়লো রাস্তার ওপাশে। চিৎকার করে উঠল ন্যান্সি। চোখের সামনে একটা কালো রঙের গাড়ির সাথে সংঘর্ষে উল্টে পড়ে। তারপরেই একজন লোক বাইকে চেপে এসে ঠাস ঠাস করে দু’টো গু’লি করে ছুঁড়ে দিল।

অনেক টা দূরে থাকায় সবটা দেখে পাথরের মুর্তি বনে গেছে ন্যান্সি। দু’হাতে মুখ চেপে নিজের চিৎকার আটকানোর চেষ্টা করলো সে।

লোক গুলো চলে গেছে অনেকক্ষণ হলো। ন্যান্সির মস্তিষ্ক কাজ করেছে না। কি করবে এখন? না না তাকে বাঁচাতে হবে। ন্যান্সি স্কুটার ফেলে ছুটে এলো গাড়িটার কাছে। গাড়িটা থেকে ধোঁয়া বেরিয়ে আসছে।‌খুক খুক করে কেশে উঠলো ন্যান্সি। গাড়িটা উল্টে আছে। যদি ভেতরে কেউ থাকে তাহলে বাঁচার সম্ভাবনা নেই একদম!

এদিক ওদিক সন্ধানী দৃষ্টি বুলায় ন্যান্সি। ভিতু মেয়েটা কাঁপছে। ভেতরে কাউকে দেখতে পেল সে।

নড়ছে লোকটা।
“ভেতরে মানুষ আছে , ওনাকে বাঁচাতে হবে।”

কথাটা বলেই গাড়ির উল্টো হয়ে থাকা দরজাটা টেনে খুললো ন্যান্সি। বুকের পাশে আর পায়ে দু’টো গু’লি লেগেছে।
“শুনতে পাচ্ছেন আমার কথা? শুনুন! চোখ খুলুন আপনি!”

অপরিচিত ছেলেটা হাঁপাচ্ছে। বুক দিয়ে গলগল করে রক্ত বেরিয়ে আসছে। হাত জোড়া কাঁপছে ন্যান্সির। কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না সে। কান্নায় ভিজে আসছে চোখের নাজুক পাপড়ি যোগল। দু’হাতে চেপে ধরলো ছেলেটার বুকের উপর। রক্ত বন্ধ করতে চায় কিন্তু বোকা মেয়ে টা বুঝতেই পারছে না এভাবে সম্ভব নয়।

“না উনাকে হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে।”

এতক্ষণে লুকিং গ্লাসের দিকে দৃষ্টি ফেলতেই আরো এক দফা আতঙ্ক ছড়িয়ে গেল ন্যান্সির মধ্যে। পিছনে ধীরে ধীরে আগুন লেগে গেছে।‌ যেকোনো সময় গাড়িটা ব্লাস্ট করবে! ন্যান্সি হিতাহীত জ্ঞানশূন্য। মস্তিষ্ক যেন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। ছেলেটা সুঠামদেহী, দানবীয় দেহটা টেনে আনতে কষ্ট হচ্ছে ন্যান্সির। লোকটা র’ক্তে মাখো মাখো হয়ে গেছে তার।
ছেলেটা অস্ফুট স্বরে মৃদু আওয়াজ করলো। ন্যান্সি ভরসা দিতে বলল।

“একটু চেষ্টা করুন , প্লিজ আসুন।”

ছেলেটা কে কোনো রকমে টেনে গাড়ির বাইরে নিয়ে এলো ন্যান্সি। দ্রুত গতিতে সরে এলো ,ঠিক সেই মূহূর্তে গাড়িটা ব্লা’স্ট করে। ছিটকে গিয়ে দুজনেই পড়ল নরম ঘাসের উপর। ফলস্বরূপ ছেলেটার রক্ত সম্পূর্ণ টা লেগে গেল সফেদ কামিজে।
ছেলেটার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে , ন্যান্সি পারছে না একটা মানুষকে এভাবে ছটপট করতে দেখতে। আর না তাকে ফেলে যেতে পারছে। দৌড়ে গেল রোডের কাছে এখানে গাড়ি খাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। নির্জন এলাকায় গাড়ি পাওয়া টা বড্ড মুশকিল। হঠাৎ নজরে এলো একটা গাড়ি এগিয়ে আসছে। ন্যান্সি যেন আশাল আলো খুঁজে পেয়েছে।

“হেল্প করুন , প্লিজ থামুন। নিড হেল্প।”

গাড়িটা থামলো। ভেতরে থাকা ড্রাইভার ন্যান্সি কে ভালো করে দেখে বলল।
“এত র’ক্ত কিসের? আর কি হয়েছে?”

ন্যান্সি অস্থির কন্ঠে বলে।
“আমার সাথে একজন আছে উনি আ’ঘাত পেয়েছে।
প্লিজ আমাকে সাহায্য করুন। ওনাকে একটু হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে।”

লোকটা প্রথমে অমত করলো না। তবে খানিকটা বিরক্তি ভাব নিয়ে বলল।
“ঠিক আছে নিয়ে এসো তাকে।”

ন্যান্সি দৌড়ে গেল দূরে পড়ে থাকা ছেলেটার কাছে। টেনে তুলল তাকে। এগিয়ে এলো গাড়ির কাছে ,এবারে ড্রাইভার ছেলেটাকে দেখে আঁতকে উঠে। সে চিনে তাকে ,যে কিনা সবার জান কেড়ে নেয় আজকে তার জান নেওয়ার চেষ্টা করলো কে?

“এই মেয়ে তুমি কি পাগল? উনাকে নিয়ে এসেছো কেন? পালাও।”

কথাটা শুনে খটকা লাগলো ন্যান্সির।
“কি বলছেন এসব? ওনাকে হসপিটালে নিতে হবে।”

“আরে কেনো নিজের বিপদ ডেকে আনছো? যাকে বাঁচাতে চাইছো সেই দেখবে তোমার জান নিয়ে নিবে।”

ন্যান্সি ভাবতে পারলো না কিছু, তবে ভিতু মেয়েটা আজ সাহস নিয়ে ধমক দিয়ে উঠল।
“বাই এনি চান্স উনি যদি বেঁচে যায় আর জানতে পারে আপনি উনাকে হসপিটালে নিয়ে আসেন নি,তখন? তখন কি ছেড়ে দেবে? তাই ভালোয় ভালোয় বলছি উনাকে হসপিটালে নিয়ে চলুন।”

আহত ছেলেটা ঝাপসা ঝাপসা দৃষ্টিতে তাকাতে চাইলো , কিন্তু পারলো না। সব কিছু ঝাঁপসা লাগছে। তাদের কথা গুলো কেমন ভেঙ্গে ভেঙ্গে আসছে তার কানে। ঠিক তখনই ড্রাইভার ন্যান্সির উদ্দেশ্যে শুধায়।

“নাম বলো আগে তোমার , আমি ফাঁ’সলে তুমিও ফাঁ’সবে।”

ন্যান্সি ভাবতে পারলো না কিছু ,তবে তড়িঘড়ি করে বলল।

“ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা আমি।”

নামের প্রতিটি শব্দ তীব্র ভাবে ছেলেটার কর্ণে‌ প্রবেশ করলো। অতঃপর জ্ঞান হারালো সে।


হসপিটালে রয়েছে ন্যান্সি। মুখ ভার করে বসে আছে সে।‌ ছেলেটার ফোনটা হাতে নিল তার। তাই তো লাস্ট নাম্বারে কল করে বসেছে। ওপর প্রান্তে যখন লোকটা বলল কে বা কি করে ফোন পেয়েছে সেটা?
ন্যান্সি স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছে, সে তাকে হসপিটালে নিয়ে এসেছে। পরক্ষণেই ভীষণ ভেঙে পড়ল সে। চাকরি টা আর থাকলো না তার। এতক্ষণে বোধহয় কাস্টমার ফোন করে বলে দিয়েছে তার কেক ডেলিভারি হয়নি। পায়নি সে।

হনহনিয়ে এক দল গার্ড হসপিটালে প্রবেশ করলো। তাদেরকে দেখে প্রতিটি মানুষ অস্থির হয়ে উঠে। এবং কি ডক্টর পর্যন্ত তটস্থ ভঙ্গিতে এগিয়ে এলো। ডক্টরেট সাথে সাদা শার্ট পরা লোকটা কি যেন কথা বলছে। তারপরেই ডক্টর পিছন ঘুরে ন্যান্সি কে দেখিয়ে দিল। লোকটা হন্তদন্ত হয়ে নিকটে এলো ন্যান্সির।

“আপনিই সে ,যে আমাদের বস কে হসপিটালে নিয়ে এসেছেন?”

ন্যান্সি মিনমিনে গলায় বলল।
“আমি কিছু করিনি সত্যি , উনি গাড়িতে.. আমি শুধু..

বাকি কথা সম্পূর্ণ করতে পারলো না তার পূর্বেই ডক্টর চিৎকার করে বলল।

“নেগেটিভ ব্লাড লাগবে ইমিডিয়েটলি।”

কথাটা শুনেই সবাই ছুটে গেল রক্ত আনতে।‌ কিন্তু হসপিটালে রক্ত নেই। এতটা সময় নেই বাইরে থেকে রক্ত আনার। সাদা শার্টে ঈশান চেঁচিয়ে বলল।

“বসের কিছু হলে এই হসপিটাল আর থাকবে না বুঝলেন ডক্টর?”ন্যান্সি বেশ বুঝতে পারলো হয়তো ওরা কোনো বড় মাপের লোক। তারপরেও সাহস যোগায় মনে। শীতল কন্ঠে বলে।

“আ.. আমার ব্লাড নেগেটিভ।”

কথাটা শুনে বিদ্যুৎ বেগে ছুটে এলো ঈশান।
“এখুনি চলুন, র’ক্ত লাগবে আমাদের বসের।”

ন্যান্সি ভাবলো না ,ছুটে গেল রক্ত দিতে।
র’ক্ত দিয়ে আর অপেক্ষা করলো না ন্যান্সি। দ্রুত পৌঁছাতে হবে কেক বেকারিতে।


“শাউয়্যার না’তিরা কই তোরা? এসব বা’ল চাল কি সব লাগিয়েছে হাতে? খুল এগুলো।”

জ্ঞান ফিরেছে সবে দশ মিনিট হলো। তাতেই অস্থির হয়ে উঠেছে দ্য গ্রেট মাফিয়া কিং আফরিদ এহসান।আফরিদ কে চিৎকার করতে শুনে ডক্টর সাব্বির কেবিনে এলেন। তটস্থ ভঙ্গিতে বললেন।

“প্লিজ স্যার এগুলো খুলবেন না। আপনি অসুস্থ! আপনার রেস্ট প্রয়োজন।”

“চুপ শা’লার ডক্টর, আমি অসুস্থ? যদি আমি উঠি তাহলে তুই অসুস্থ হয়ে পড়বি।”

চলবে…………।✨

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply