Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৯(প্রথমাংশ+শেষাংশ)


অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ২৯](প্রথম অর্ধেক)

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫এই গল্পের কোনো দৃশ্য, সংলাপ, প্লট অনুপ্রাণিত হয়ে কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)

🌿 থাইল্যান্ড…..

“ওই,তাকা আমার দিকে। তাকা না।”

চাপা স্বরে ডাকতে লাগল আফরিদ,অথচ তার ডাকে সাড়া দিচ্ছে না মেয়েটা।সেই চুমুর রেশ ধরে বিছানায় এককোণে চুপটি করে শুয়ে আছে। এই মূহুর্তে আফরিদ কে কেউ দেখলে বলবে বউয়ের সাথে লুচ্চামি করতেছে অদ্ভুত অদ্ভুত আওয়াজ দিচ্ছে।
“ওই বান্দির বাচ্চা তাকা না।”

ন্যান্সি ঘাপটি মে’রে শুয়ে থাকতে থাকতে এই মূহুর্তে বিরক্ত হচ্ছে।একটা মানুষ এতটা অসভ্য হয় কি করে হুঁ? হতেই পারে অসম্ভব বলে তো কিছুই নেই না হলে আফরিদ তার জলজ্যান্ত প্রমাণ।
“সমস্যা কি আপনার ঘুমোতে দিচ্ছেন না কেন? বিশ্রী বিশ্রী আওয়াজ করছেন কেন হুঁ?”

আফরিদ ঠোঁটে ঠোঁট চেপে হেসে ফেলল। অস্থির কন্ঠে বলে উঠে।
“কখন থেকে বলছি তাকাতে? এখন যদি না তাকাস তাহলে কামড় দেব।”

ন্যান্সি তাকালো না,বউটা হয়েছে তার মতো ঘাড় ত্যাড়া, সবকিছুতে ঘাড় ত্যাড়ামো করবেই করবে। এটা কেমন কথা!কোন ধরণের কথা? তুই বউ বউয়ের মতো জড়িয়ে ধরে ঘুমাবি,তুই কেন কোলবালিশ জড়িয়ে শুতে যাবি?
আফরিদের রাগ লাগল,সে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে একটানে ন্যান্সি কে নিজের কাছে নিয়ে এলো। বাহুতে টান পড়তেই শিউরে ওঠে মেয়েটা।
ন্যান্সি কিছু বলতে যাবে তার পূর্বেই আফরিদ চোখ রাঙ্গালো। অতঃপর দুই হাতে শক্ত করে নিজের সাথে চেপে ধরে চোখ বুঁজে। এবারে তার শান্তি, এদিকে যে আরেকজন শক্তপোক্ত বাহু বন্ধনে আটকে আছে সেটার কোনো ধ্যান জ্ঞান নেই তার।


মধ্যরাতের নিস্তব্ধতায় ঘড়ির কাঁটা যেন একা একা কথোপকথন চালিয়ে যাচ্ছে টিকটিক, টিকটিক।
ন্যান্সির পেটের ভেতর ইঁদুরেরা যেন বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। খিদেতে অস্থির লাগছে তার। ইদানীং খিদেটা যেন অকারণেই বেড়ে গেছে যেন শরীর নয়, মনও কিছু খুঁজছে।
অনেকক্ষণ এপাশ ওপাশ করার পর শেষমেশ বিছানা ছেড়ে উঠেই বসল ন্যান্সি। পাশে ছড়িয়ে ঘুমিয়ে আছে তার নষ্ট পুরুষ’ আফরিদ যার ঘুমন্ত মুখে এমন এক শান্তি লেগে আছে, যেন পৃথিবীর কোনো দুঃখই তাকে স্পর্শ করতে পারে না। ন্যান্সি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো। এই মানুষটাকে ঘৃণা করে, আবার ঠিক এই মানুষটার দিকেই টান অনুভব করে দুটো বিপরীত অনুভূতি যেন বুকে খেলা করছে।
তার পরনে ছিলো একজোড়া প্লাজো আর একটা ঢিলা ওভারসাইজ টিশার্ট, সাথে কেমন যেন মানিয়ে না যাওয়া একটা সিল্কি ওড়না। ওড়নাটা ইচ্ছে করে নয়, তবুও পড়ে নিয়েছিল সে।
কিন্তু আফরিদ, সেই দুষ্ট লোকটা, ঘুমের মধ্যে ওড়নাটা নিজের গায়ে পেঁচিয়ে রেখেছে যেন অবচেতনে ন্যান্সির গন্ধটুকু আঁকড়ে ধরতে চায়।

ন্যান্সি চুপচাপ উঠে দাঁড়ালো। ঘরের মৃদু আলোয় তার অবয়ব বিছানার কিনারে গিয়ে মিলিয়ে গেল।
ফ্লোরে পা রাখতেই ঠান্ডা টাইলসে হালকা কাঁপুনি খেললো শরীরে।
রাতের এই নিরবতায় রান্নাঘরের পথটা যেন এক অদ্ভুত আকর্ষণে টানছে তাকে সেখানে কিছু একটা আছে, যা তার খিদে মেটাবে, হয়তো শরীরেরও, হয়তো মনেরও।

কিচেনের হালকা আলোয় ঘরটা নরম উজ্জ্বলতায় ভরে উঠেছে। ন্যান্সি ফ্রিজ খুলে ঠান্ডা দুধ, জেলি, আর আইসক্রিম বের করলো। নিজের মতো করে একটু মিষ্টি পাগলামি আজ রাতের জন্য সে বানাচ্ছে ফালুদা।
গ্লাসে স্তর করে সাজিয়ে নিলো জেলি, শেভ করা বরফ, দুধ আর তার ওপর এক চামচ আইসক্রিম। চেরিটা তুলে দিলো শেষে মনে হলো যেন ছোট্ট একটা বিজয়মুকুট।
চোখ বুঁজে একটুখানি ঘ্রাণ নিলো, ফিসফিস করে বললো,
“ইশ্ দেখে মনে হচ্ছে খেতে দারুণ হবে!”

বাইরে কটেজের চারপাশ তখন ঘন অন্ধকারে ডুবে। শুধু জানালা দিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে রান্নাঘরের আলো।
এই দৃশ্যই সতর্ক করলো ঈশানকে এই রাতে আলো জ্বলছে কেন? সে দ্রুত পায়ে হাঁটতে হাঁটতে ভেতরে এলো, ভারী বুটের শব্দে নিস্তব্ধতা ভেঙে গেল।

ভেতরে এসে থমকে গেল ঈশান। আফরিদের দেখা নেই বরং ন্যান্সি দাঁড়িয়ে আছে বাটি হাতে, চোখে একরাশ তৃপ্তি। সন্দিগ্ধ কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো সে।
“কি করছেন আপনি, ম্যাম?”

অপ্রত্যাশিত কণ্ঠে চমকে উঠলো ন্যান্সি। কাঁধে হালকা ঝাঁকুনি খেল, বাটিটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল হাতে।
ঘুরে দাঁড়াতেই চোখে পড়লো ঈশানকে গম্ভীর মুখ, কিন্তু চোখে একরাশ কৌতূহল। দুপা এগিয়ে এসে বাটির ভেতর তাকালো সে, তারপর গলা নরম করে বললো‌

“আপনি বাটি হাতে কী করছেন? এগুলো কি?”

ন্যান্সি হেসে ফেললো চওড়া, খোলামেলা এক হাসি।
“এগুলো ফালুদা, খেতে জাস্ট ইয়াম্মি।”

ঈশানের মুখে কঠিন ভাবটা টিকে থাকলো না। লোভ হলো। ন্যান্সি দুষ্টু হেসে বলল।
“খাবেন ঈশান ভাই?”

ঈশান বলতেই যাবে তখনই ন্যান্সি আওড়াল।
“না আপনাকে দেব না, সেদিন ফাঁসিয়ে দিয়েছিলেন মনে নেই?”

মুখখানা কালো হয়ে যায় ঈশানের। চোখে হালকা দুষ্টুমি ফুটে উঠলো।
“আমাকেও দিন না একচামচ ম্যাম।”

ন্যান্সি বেঁকে বসল,ঈশান গলা নিচু করে বললো সে।
“খুব সুন্দর গন্ধ পাচ্ছি।”

ন্যান্সি হুমকি স্বরূপ বলল।
“দেব এক শর্তে পরের বার আমি যে প্ল্যান যা বলব তাই করতে হবে।”

ঈশানরের টনক নড়ে উঠলো,সে মোটেও আর ন্যান্সির ফাঁদে পা দেবে না। গতবার মরতে মরতে বেঁচেছে সে।
“ঠিক আছে করব, এখন একটু দিন।”

ন্যান্সি নিজের বাটিটা এগিয়ে দিলো, দুজনেই দুচামচ খেলো সবে তখুনি কোথা থেকে আফরিদ এহসান উড়ে এসে চৌ মে রে নিয়ে নিল বাটিটা। চামচ নাড়াতে নাড়াতে ঘুম জড়ানো চোখে তাকায়, অতঃপর জড়ানো কন্ঠে বলল।
“দেখতে কেমন যেনো,তবে জানকি বাচ্চা যখন খাচ্ছে তাহলে নিশ্চয়ই ভালো হবে।”

আফরিদ পরপর অনেক গুলো চামচ খেয়ে নিল। ঈশান আর ন্যান্সি হাঁ করে তাকিয়ে আছে,তারা তো খেতেই পারলো না। আফরিদ প্রায় অর্ধেক টা খেয়ে বাকি অর্ধেক ঈশানের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল।
“বাকিটা তোর।”

ঈশান সম্পূর্ণ টা শেষ করলো, আসলেই টেষ্টি ছিলো।
ন্যান্সির প্রচন্ড রাগ লাগলো তার খাবার সেই পাচ্ছে না।
“এটা কিন্তু ঠিক হচ্ছেনা,আরে আমার জন্য এগুলো।”

ঈশান তৃপ্তির হেসে বলল।
“দারুন হয়েছে ইলহাম ম্যাম।”

ন্যান্সি ধুম করে ঈশানের পিঠে বসিয়ে দিলো।
“আমি আর জীবনেও আপনাকে কিছু দেব না।”

ঈশান আহাম্মক বনে গেল,সে কি একা খেয়েছে নাকি? তার সাথে তো বসও ছিলো। আফরিদের দিকে তাকাতেই আফরিদ চোখে ইশারা করলো,সহসা ঈশান বেরিয়ে গেল। যেতে যেতে সদর দরজা লক করে দিল।
টান টান ভঙ্গিতে দাঁড়ালো আফরিদ। ন্যান্সি হিসহিসিয়ে বলল।

“আমার জন্য আরো আছে, বেহায়া লোক।”

ন্যান্সি আরেকটা বাটি ছিলো, বেশি বানিয়ে ফেলছিল।ভালো হয়েছে অন্তত এখন খেতে তো পারছে।

আফরিদ মুচকি হেসে বলল।
“প্রতিদিন রাতে এমন নাটক করিস কেন? চল ঘুমোতে।”

ন্যান্সি বেঁকে গেল।
“নিজে গিয়ে ঘুমান, আপনার মতো ছুঁকছুঁক করা লোকের সাথে এক বিছানায় ঘুমোবো না।”

চোখ রাঙ্গালো আফরিদ।
“শা’লীর মেয়ে চুপচাপ চল।”

ন্যান্সি গেলো না। আফরিদের ধৈর্য নেই, এবারে বিরক্ত হয়ে বলল।
“ঠিক আছে থাক কিন্তু পরে কিছু ধরলে আমাকে বলতে আসবি না।”

ন্যান্সি ব্যঙ্গাত্মক করে হাসলো।
“এহ আমি যেনো ভয় পাই। যত্তসব।”

আফরিদ যেভাবে এসেছিল সেভাবেই সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগল। যেতে যেতে ম্যাসেজ করলো কাউকে। আফরিদ চলে যেতেই কিচেনের লাইট অফ হয়ে গেল, আঁতকে উঠে ন্যান্সি। বিষয়টা কি হলো? আফরিদ তাকে ভয় দেখাতে লাইট অফ করে দিলো কি কোনো ভাবে?

বেল বেজে উঠল,আরেক দফা চমকে উঠে ন্যান্সি। ঈশান ভাইয়া কি আবার ফিরে এলো? ভাবুক ন্যান্সি দ্রুত দরজার কাছে গিয়ে খুলে দিলো। না কেউ নেই তো,নিচের দিকে দৃষ্টি যেতেই ভ্রুদ্বয় কুঞ্চিত করে নিল। বক্স রাখা। লালচে রঙের বক্স।

বক্সটা খোলার মুহূর্তে যেন সময় থেমে গেল ন্যান্সির নিঃশ্বাস গলায় আটকে গেল, চোখ বড় বড় হয়ে উঠলো।
আর পরক্ষণেই একটা বিকট চিৎকারে পুরো কটেজ কেঁপে উঠলো।

বক্সের ভেতরে পড়ে আছে একটা কাটা মাথা!
র’ক্ত শুকিয়ে বাদামী রঙ নিয়েছে, চুলের গোছায় জমে থাকা দাগগুলো এখনো কেমন আঠালো।
এবং সেই মুখ হ্যা, সেই লোকটারই!
যে একরাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাকে চড় মেরেছিল, তারপর কুৎসিত হাসি হেসে বলেছিল, এক রাতের দাম কত হবে বলো?

ন্যান্সি হুমড়ি খেয়ে মাটিতে পড়ে গেল। পিঠ ঠেকে গেল ঠান্ডা টাইলসে, আর ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে সে হামাগুড়ি দিয়ে পিছু হটতে লাগলো।
মুখ দিয়ে একটার পর একটা চিৎকার বেরিয়ে আসছে,
“আফরিদ! আফরিদ!”

কিন্তু উপর থেকে কোনো সাড়া নেই। শুধু নিজের কণ্ঠের প্রতিধ্বনি কানে বাজছে ন্যান্সির।

দু’হাতে মুখ চেপে ন্যান্সি বসে পড়লো মেঝেতে।
তার শ্বাসপ্রশ্বাস এলোমেলো, বুকের ভেতর দুরুদুরু শব্দ।
ধীরে ধীরে মাথা তুলে আবার তাকালো দরজার দিকে
বাক্সটা নেই!

মাত্র এক মুহূর্ত আগেও যেটা ছিল সেখানে, সেটা হঠাৎ উধাও! ন্যান্সির চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল।

“না।এটা তো এখানেই ছিল।’

ন্যান্সির গলা কেঁপে উঠলো, ঠোঁট শুকিয়ে গেল।

সে এক ঝটকায় উঠে দাঁড়ালো, দুরুদুরু হাতে দরজাটা বন্ধ করে দিল জোরে।
তারপর পাগলের মতো দৌড়ে সিঁড়ির দিকে উঠতে লাগলো।
কান্নায় গলা ভারী, নিঃশ্বাস কাঁপছে, আর হেঁচকি উঠছে পরপর।

ঈশান হেসে কুটি কুটি অবস্থা। বেচারি ইলহাম ম্যামের জন্য খারাপ লাগছে তার। সব দোষ আফরিদের। ঠিকই নিজের বউকে কাঁ’টা মাথা গিফট করে ছাড়লো।

🌿_🌿

রুমে এসে বিছানায় হামলে পড়ে ন্যান্সি, আফরিদ ঘুমোচ্ছে। ভয়ে কম্ফোর্ট টেনে আফরিদের বুকের কাছে চলে গেল। আফরিদ কে ফিসফিসিয়ে ডাকতে লাগল।

“অফ… আফরিদ উঠুন, আফরিদ উঠুন না প্লিজ।”

আফরিদের ঘুমের মধ্যে শব্দ করে উঠে।
“কি হয়েছে তোর হুঁ? ঘুমোতে দে!”

ন্যান্সির কাঁপছে থরথরিয়ে।
“আফরিদ বাইরে কাঁ’টা মাথা!”

আফরিদ ভ্রু উঁচিয়ে তাকালো তার দিকে। শাসানোর সহিত বলে।
“তোর মনের ভুল সবকিছু। বেশি বেশি এসব নিয়ে ভাবলে এমনি হয়।”

ন্যান্সি কেঁদে ফেলল ঠোঁট কামড়ে।
“আমি মিথ্যে বলছি না। সত্যি ছিলো কিছু!”

আফরিদ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ক্রন্দনরত মুখপানে। জড়ানো কন্ঠে বলে।
“চল দেখে আসি।”

ন্যান্সি আফরিদের বাহু খামচে ধরে। সে যাবে না, দ্রুত মাথা নাড়িয়ে অসম্মতি জানায়।

আফরিদ ঠোঁট জোড়া ভিজিয়ে নিলো।
“চোখ বন্ধ কর লম্বা নিঃশ্বাস নে।”

ন্যান্সি চোখ বুঝলো, লম্বা নিঃশ্বাস নিলো। আফরিদ মুচকি হাসলো, হাসিটা দেখলো না তার জানকি বাচ্চা।

“কাছে আয়।’

দু’হাতে কম্ফোর্ট টা দিয়ে ন্যান্সি কে ঢেকে দিলো অতঃপর ন্যান্সি মুখ গুঁজে আফরিদের বুকে। ভয়ে ক্ষণে ক্ষণে কাঁপছে। আফরিদ এসি টা বাড়িয়ে দিলো,খুব কাছাকাছি আছে তবুও ন্যান্সি এমন ভাবে আঁকড়ে ধরছে যেনো পারলে আফরিদের বুকের ভেতর ঢুকে যাবে।
আফরিদ বাঁকা হেসে এক ধাক্কায় ন্যান্সি কে বিছানায় ফেলে ওর উপর চলে আসে, ভয়ার্ত ন্যান্সি বিনা বাক্যব্যয়ে তাকে দু’হাতে আঁকড়ে ধরে। এবারে তার ভয়ের মাত্রা দ্বিগুণ, আফরিদের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর থেকেই সে অদ্ভুত জিনিস গুলো দেখছে। কিন্তু আফরিদ যে বার বার বলে সে ভুল দেখছে। আসলেই কি ভুল দেখলো?
আফরিদ তার কানে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো।

“ভয় টা দারুন ছিল।”

তেতে উঠল ন্যান্সি,কামড় বসালো তার কাঁধে। ন্যান্সি বুঝলোই না কামড়ে ব্যথা না অন্যরকম কিছু অনুভব করছে এই বেয়াদব পুরুষ।

“ইশ্ বহুত ফিল আসছে,তোর ফিল আসে না? আসবে কি করে মুডের তো মায়ের বাপ করতে উস্তাদ তুই। কিন্তু এখন যে এই অবস্থায় আমার অন্য একটুখানি ইটিষপিটিষ করতে ইচ্ছে করছে!”

ন্যান্সি খামোশ হয়ে তার পিঠ আঁকড়ে আছে,এই বুঝি আফরিদ তার উপর থেকে সরলেই সে মাথাটা দেখতে পাবে। বিভৎস সেই দৃশ্য!

ন্যান্সি গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল, আফরিদ ঝুঁকে ওষ্ঠো ছোঁয়ায় তার লালচে গালে। শান্ত হয়ে বলল।
“সরি পরাণ,বাট তোর জানা উচিত তোকে বাজে ভাবে ছুঁতে চাওয়া মানুষটিকে তোর আফরিদ এহসান দুনিয়া থেকে মিটিয়ে দিয়েছে। অ্যাম সরি বান্দি ভয় দেখানোর জন্য।”

চলবে………🌿🫶

অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

পর্ব (২৯) (শেষ অর্ধেক)

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)

🌿🌿
পুরোটা রাত ছটফট করছে ন্যান্সি, ঘুমোতে দেয়নি আফরিদ কে। একটু পর পর উঠে বসেছে,ভয় পেয়েছে মেয়েটা। আফরিদ আর ঘুমোয় নি পরের রাতটুকু জেগেই কাটিয়েছে।
পরের দিন বিকেল বেলা ন্যান্সি ঘুম থেকে উঠেই ঈশান কে নিয়ে কটেজের কোণায় কোণায় তল্লাশি চালিয়েছে রীতিমতো। কিন্তু লাভ হয়নি,কিছুই পেলো না সে। শেষমেষ আফরিদের ধমক খেয়ে সব খোঁজাখুঁজি ছেড়েছে। তার আগে এক চোট তর্ক করেছে।
“আপনি মিথ্যে বলছেন সবসময় আমাকে। “

কথার পিঠে আফরিদ রেগে বলেছে।
“বান্দির বাচ্চা কি মিথ্যে বলছি?‌ কোথায় শাউ’য়্যার কাঁটা মাথা? দেখা?”

কিন্তু দেখাতে পারে না ন্যান্সি।
বিকেলের দিকে আফরিদ নিজেকে তৈরি করতে ব্যস্ত।‌ আচমকা রুমে প্রবেশ করলো ন্যান্সি। চোখ দুটো তার দিকে স্থির হয়ে গেল। ইটালিয়ান কাট ব্ল্যাক টাক্সেডো, সিল্কের হালকা শাইন রয়েছে, কোঁকড়ানো ঢেউ খেলে যাওয়া চুলে যেন তার লম্বা দেহকে আরও সুঠাম করে তোলে।
কালো সাটিন শার্ট, সামান্য আনবাটন করা কলার।পালিশ করা ব্ল্যাক অক্সফোর্ড শু, একেবারে চকচকে। হাতের কব্জিতে সিলভার কালারের ঘড়িটা চকচক করছে। বুক পকেটে সাদা সিল্ক পকেট স্কোয়ার। গায়ে Clive Christian No.1 পারফিউম টা স্প্রে করেছে আফরিদ।
লম্বা নিঃশ্বাস টেনে নিল ন্যান্সি। এই নষ্ট পুরুষ এত সুদর্শন কেন? প্রচন্ড মায়া মায়া লাগে তাকে।

“মাতারি রেএএ এমনে তাকাইস না, পাওয়ার কাট হবে।”

থতমত খেয়ে গেল ন্যান্সি। নির্লজ্জ পুরুষের মুখে একটুও লাগাম নেই। কেন যে এই পুরুষ তার স্বামী হলো?
সম্পূর্ণ রেডি হয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে হাতে ভর দিয়ে উল্টো হয়ে দাঁড়ালো আফরিদ। ঠোঁটের কোণে তার সেই সুন্দর হাসিখানা এখনো খেলা করছে।
ন্যান্সি হাঁসফাঁস করে , ওভাবে তাকাচ্ছে কেন সে?

আফরিদ বাঁকা হেসে বলল।

“কাবার্ড যে ড্রেস টা আছে ওটা নিয়ে পনেরো মিনিটের মধ্যে রেডি হয়ে আয়।”

কপাল কুঞ্চন করে নিল ন্যান্সি। সন্দিহান কন্ঠে শুধোয়।

“আমরা কোথায় যাবো?”

আফরিদ ঠোঁট গোল করে চুমু ছুঁড়ে দেয় ন্যান্সির দিকে।
ফাজলামি করে আওড়ালো।

“তোকে বিক্রি করতে।”

আঁতকে উঠে ন্যান্সি , বুকের ভেতর মোচড় দিলো। ভয়ের কন্ঠনালি কাঁপে।

“আমাকে কিনবে কে?”

এবারেও হাসলো আফরিদ ,হাস্কিটুনে বলে।
“আফরিদ এহসান কিনবে।”

ক্ষোভ হলো ন্যান্সির , মুখশ্রী জুড়ে রাগের আভাস। তিরিক্ষি মেজাজে বলে উঠে।

“নিজের কাছেই বিক্রি করে নিজেই কিনছেন? এটা কেমন লজিক?”

ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো আফরিদ , কৈফিয়ত দিতে প্রচন্ড বিরক্ত লাগে। তারপরেও শালীর বেয়াদব বউ টাকে হাজার টা কথার কৈফিয়ত দেয়।

“তোর মাথার ব্রেইন আর পৌরসভার ড্রেন সমান।”

তেতে উঠল ন্যান্সি , তাঁর ব্রেইন কে শেষমেশ ড্রেন বানিয়ে দিলো?
“তোর চৌদ্দ গুষ্টির ব্রেইন ড্রেনের মতো। খারাপ লোক একটা।”

একপেশে হেসে ফেলল আফরিদ ,ঘাড় ম্যাসাজ করে বলল।
“দেখ দ্রুত রেডি হয়ে আয় নয়তো বিছানায় যেতে হবে। আর আমি এই মূহুর্তে চাচ্ছি না আমার শার্টে তোর লিপস্টিকের দাগ লাগুক।”

আফরিদের শীতল হুমকিতে স্তব্ধ ন্যান্সি , ফাঁকা ঢোক গিলে কাবার্ড থেকে তার দেওয়া ড্রেস টা বের করে ওয়াশ রুমে গেল।

হাতের ফোন টা নিয়ে নিচে ড্রয়িং রুমে গেল আফরিদ। ঈশান প্রথম থেকেই তার অপেক্ষায় ছিলো।
কিঞ্চিৎ ভড়কানো কন্ঠে শুধোয়।

“বস ,ম্যাম কে নিয়ে যাওয়া কি খুব প্রয়োজন? আপনি জানেন ওখানে মারকো , ডেভিল , কিম জং সবাই আসছে। তাহলে কেন ম্যাম কে নিয়ে যাচ্ছেন?”

আফরিদ নিরুত্তর। কিয়ৎক্ষণ পর গগল্স টা চোখ থেকে নামিয়ে নিল। ধূর্ত শিকারির ন্যান্সি দৃষ্টি ফিরিয়ে ভয়ানক কন্ঠে আওড়াল।

“কেউ একজন জানিয়েছে আফরিদ এহসান। দ্য গ্রেট মাফিয়া কিং আফরিদ এহসান কিছু একটা করেছে ,অথচ কেউ জানে না কথা। কিন্তু কিন্তু এখন এটা জেনে গেছে আন্ডার ওয়ার্ল্ডের প্রত্যেকটা মাফিয়া গ্যাং। “

ঈশান একই কন্ঠে শুধোয়।
“হাউ ইজ দিস পসিবিল বস। তবে কি কথা লিক হয়েছে?”

চিরচেনা সেই বাঁকা হাসি পৈশাচিক কায়দায়, আফরিদ প্যান্টের পকেটে দুহাত গুজে টান টান করে দাঁড়ালো।

“আজকে রাতে ন্যান্সি ইভেন্টে যাচ্ছে না। ওকে অন্য কোথাও পাঠাবো।”

ডান ভ্রু বাঁকালো ঈশান।
“কোথায় বস?”

“জাস্ট ওয়েট এন্ড সি।”

ঈশান আর কি বলতে ওষ্ঠো নাড়াবে তার আগেই হিলের ঢকঢক শব্দ তুলে সিঁড়ি বেয়ে নিচে আসতে লাগল ন্যান্সি।

আফরিদ আর ঈশানের দু’জনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়।

আফরিদ শান্ত দৃষ্টিতে তাকালো তার দিকে। পরণে টু পিস ,উপরে রয়েছে সাদা শিফন কাপড়ের ভি নেক বাটনড টপ, হাতার প্রান্তে কালো বর্ডার, কোমরে কালো রিবন বেল্টে বাঁধা একটি সুন্দর বো নট যা পুরো ন্যান্সি কে ফুটিয়ে তুলছে । নিচে রয়েছে কালো ফ্লোই লং ম্যাক্সি স্কার্ট, যা হালকা বাতাসে দুলে উঠে যেন অনায়াস এলিগেন্সের ছাপ ফেলে দিচ্ছে। পিস ওয়েস্টার্ন লং স্কার্ট সেট । ঠোঁট গোল করে নিঃশ্বাস ছাড়লো আফরিদ। বান্দির বাচ্চা এত আদুরে কেন?পায়ে সাদা হাই-হিল, হাতে ট্রান্সপারেন্ট হ্যান্ডব্যাগ। আফরিদের একান্তই ব্যক্তিগত নারী , লাস্যময়ী কতটা লাবণ্যময়ী। আফরিদের শুধু তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। ওই যে গোল গোল চোখ দুটো আইলানের নিখুঁত সৌন্দর্যে আরো বেশী ফুটে উঠেছে। ঠোঁটে লালচে লিপস্টিক। আর তার পছন্দের গাল দুটো বরাবরের মতো লালচে আভায় রঙিন হয়ে আছে।

আফরিদ জানে না কিভাবে কি প্রকাশ করতে হয়? সে ছোঁয়াতে বিশ্বাসী ,একটু খানি ছুঁয়ে ভেতরের সব অনূভুতি বুঝিয়ে দেবে।

“এভাবে তাকাচ্ছেন কেন নষ্ট পুরুষ।”

ফিক করে হেসে ফেলল ঈশান , মোটা ভ্রুদ্বয়ের মধ্যে খানে ভাঁজ পড়ে আফরিদের। বিরক্তিতে চ বর্গীয় শব্দ করে। ন্যান্সি ঈশানের উদ্দেশ্যে বলল।

“ভাইয়া নিজের বস কে বলে দিন এভাবে অ’শ্লীল নজর না দিতে।”

ঈশান সহসা কথা ট্রান্সফার করে।
“বস শুনেছেন? অ’শ্লীল দৃষ্টিতে তাকানো বারণ।”

দাঁতে দাঁত পিষে তাকালো আফরিদ ,দমে গেল ঈশান।
ন্যান্সি ভাবলেশহীন ভাবে বলল।

“চলুন তাড়াতাড়ি আমাকে বিক্রি করে দিন, অন্যের বাড়িতে গিয়ে দেখতে হবে বাড়িটা থাকার যোগ্য কিনা?”

লম্বা সিল্কি চুল গুলো আঙ্গুলে পেঁচিয়ে নিল আফরিদ।
“চুপ শাউ’য়্যার নাতি, বেশী কথা বলিস।”

ঈশান পারে না লুটুপুটি খেয়ে হাসতে। এটা নাকি যাচ্ছে ঘুরতে।
আফরিদ ঈশানের উদ্দেশ্যে বলল।
“আমার না কড়া করে একটু ইন্টুপিন্টু করতে ইচ্ছে করছে,তুই মুখ ঘোরা জা’উরা কোথাকার।”

ঈশান তড়িৎ গতিতে কটেজ থেকে বেরুতে লাগলো।
ন্যান্সি কিছু বলবে তার আগেই বলে।
“বান্দি রেএ কারেন্টের পাওয়ার কম এখুনি পাওয়ার সাপ্লাই দে।”

আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে আফরিদ ন্যান্সি কে।
ন্যান্সি রাগান্বিত স্বরে বলল।
“সবসময় জড়িয়ে ধরার ধান্দা করেন কেন?”

আফরিদ গাল ভর্তি হাসি টেনে বলল।
“ইশ্ আমার নিতা আম্বানি বলে কী!কাল সারারাত এই বান্দার বুকেই ছিলি তুই।”

ন্যান্সি কপাল কুঞ্চন করে বলল।
“ভয় পেয়েছিলাম তাই।”

আফরিদ ঝটপট ন্যান্সির ওষ্ঠো জোড়া আঁকড়ে ধরতে চাইল আফরিদ। হতভম্ব ন্যান্সি মিনিটের মধ্যে সরে এলো, ধাক্কা দিলো আফরিদ কে। ন্যান্সি সজোরে আফরিদের মেইন পয়েন্টে ঘুষি বসিয়ে দিলো। ঠোঁটের ফাঁক হতে আউচ শব্দে কঁকিয়ে উঠলো আফরিদ।

“শা’লী শেষমেষ মেইন পয়েন্ট শিট শিট।”

ন্যান্সি ঠোঁট টিপে হেসে উঠলো।
“কুংফু মাস্টার আমি। সাবধান।”

আফরিদ দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলল।
“আমার বা’লের মাস্টার তুমি , আমার কারিশমা রাত্রে দেখাবো আপনারে।”

মুখ বাঁকালো ন্যান্সি। তার কথায় মোটেও পাত্তা দিলো না।
আফরিদের রোলস-রয়েস লা রোজ নোয়ার ড্রপটেল গাড়িটা দাঁড়িয়ে আছে। সিকিউরিটি গার্ড দরজাটা খুলে দিতেই দুজনে উঠে বসলো।
ন্যান্সি খুঁজে পায় না এই পুরুষ কাজটা কি করে? মুখে শুধু বলে বিজনেস করে। কিসের বিজনেস?

“একটা সত্যি কথা বলবেন?”

আফরিদ ফোনে দৃষ্টি রেখেই বলল।
“কি?”

ন্যান্সি আমতা আমতা করে বলল।

“আপনি কি চো’রাচা’লান করেন নাকি?”

সুঁচালো দৃষ্টিতে তাকালো আফরিদ এই বউ বলে কি তাকে?

“এটা কেন বললি?”

ন্যান্সি সন্দিহান কন্ঠে শুধোয়।
“এই যে এত দামি গাড়ি ,কারি কারি টাকা এগুলো কোথা থেকে পান হুঁ?‌ নিশ্চয়ই চু’রি ডা’কাতি করেন তাই না?”

আফরিদ বাঁকা হাসলো।
“হ্যাঁ তোর প্রতিবেশী বাপ রে ডাকাতি করে মাইয়া গো কাছে বিক্রি করে এগুলো আনছি।”

ধুম করে একটা কিল বসিয়ে দিল আফরিদের পিঠে। তর্জনী দেখিয়ে শাসানোর সহিত বলে।

“এই আপনি কোনো মাফিয়া টাফিয়া নন তো?”

আফরিদ ভাবলেশহীন ভাবে আওড়ালো।
“আমি টাররিস্ট।”

🌿______🌿

থাইল্যান্ডের অন্তর্গত শহর পাতায়ার অদ্ভুত এক অচেনা প্রান্তে আছে এক রহস্যময় ভিলা যেটা মানচিত্রে নেই, অথচ সব বড় বড় সিক্রেট মাফিয়াদের গোপন ইভেন্টের প্রাণকেন্দ্র।

কথিত আছে, ❝হাউস অব শ্যাডোজ❞নামের সেই ভিলাটি পাহাড়ের গায়ে তৈরি, সমুদ্রের গর্জন তার নিচে বাজতে থাকে তালের ঢাকের মতো।

এখানে মাফিয়াদের উপস্থিতি বছরে একবার হয়ে থাকে। কালো স্যুটে মোড়া মানুষগুলো লাল ওয়াইনের গ্লাস হাতে ঘুরে বেড়ায়, কারও হাসি যেন ধারালো ব্লে’ড, কারও নীরবতা যেন বন্দুকের ট্রিগার। গোপন লেনদেন হয় সোনালী সিগারের ধোঁয়ায় ঢেকে থাকা কনফারেন্স হলে। বাইরে পাহারায় থাকে এমন সব লোক, যাদের চোখে পড়লে মনে হয় তারা শুধু দেহ নয়, আ’ত্মাকেও গুলি করে ফেলতে পারে।

আজ রাতটা যেন পুরো থাইল্যান্ডের আকাশ ঝুঁকে পড়েছে ❝হাউস অব শ্যাডোজ❞ ভিলার ওপর। চারপাশে পাহাড় আর সমুদ্রের গর্জন।

ভেতরে ঢুকলেই ঝলমলে ঝাড়বাতির আলোয় চারদিক । গ্লাসের টুংটাং শব্দে মিশে আছে হালকা জ্যাজ মিউজিক, আবার কখনও বেজে উঠছে ধুকপুক করা ইলেকট্রিক বিট, যেন প্রতিটি র’ক্তচলাচলকে আরও তীব্র করে তুলছে। সুইমিং পুলের চারপাশে সারি সারি বরফ ঠান্ডা ককটেল, রঙিন মকটেল সাজানো ট্রেতে, ক্রিস্টাল গ্লাসে ঝিলিক দিচ্ছে রাতের নেশা।

ড্যান্স ফ্লোর যেন আগুনে পরিণত হয়েছে। লাল ও কালো আলোয় নেচে যাচ্ছে মেয়েরা তাদের নাচে আছে এক অদ্ভুত জাদু, যে জাদু পুরুষদের চোখকে বেঁধে রাখে, আর রাতকে করে তোলে অনন্ত। ভিলার প্রতিটি কোনায় গুঞ্জন মাফিয়াদের ফিসফিসানি, গোপন লেনদেন, হাসির আড়ালে ধারালো হুমকি।

মারকো, ডেভিল কিম জং একত্রে বসেছে আজকে।

কিম জং তাদের উদ্দেশ্য আওড়ালো।

“এভরিওন হ্যাজ অ্যারাইভড, বাট হোয়ার ইজ আফরেড এহসান?”

মারকো ককটেলের গ্লাসে চুমুক দিয়ে বলল।
“আই থিঙ্ক হি ইজ হাইডিং আন্ডার হিজ ওয়াইফ’স ভেইল।”

হেসে ফেলল ডেভিল।
“দ্যাট ওয়াজ রিয়েলি ফানি, মার্কো।”

গোল্ডেন প্ল্যাটারে সাজানো খাবারগুলো বিলাসিতা দামী ক্যাভিয়ার থেকে শুরু করে বিরল সামুদ্রিক ডিশ, প্রতিটি কণাই যেন ক্ষমতার স্বাদ। লন জুড়ে লম্বা লিমুজিন পার্ক করা, বাইরে পাহারা দিচ্ছে হায়েনার মতো গার্ড গুলো। তখনই রোলস-রয়েস লা রোজ নোয়ার ড্রপটেল গাড়িটা এসে থামলো। অনেক গুলো গার্ড বেরিয়ে এসেছে বাইরে ,সাথে ঈশানও ‌ বরাবরের মতো এবারেও সবাই কে টেক্কা দিয়ে নিজেকে ভিন্ন ভাবে প্রেজেন্ট করেছে ব্লাডিবিস্ট মাফিয়া কিং।

আফরিদের আগমণ খবরটা ইতিমধ্যেই ভেতরে চলে গেছে।
ইভেন্ট করা কিম লিওন এগিয়ে এসেই হ্যান্ডশেক করে তার সাথে।
মৃদু স্বরে বলল।

“ওয়েলকাম, মাই ফ্রেন্ড। আই ওয়াজ ওরিড ভেদার ইউ উড কাম।”

বাঁকা হাসলো আফরিদ ,তার হাসিটাও যেকারো অন্তর কাঁপিয়ে দিতে পারে।
তাচ্ছিল্যের হাসি টেনে বলে।

“ওরি? রিডিকুলাস, কওয়াইট ফানি।”

কিম লিও ভেতরের উদ্দেশ্যে পা বাড়ায় , ঈশান আফরিদের কানে ফিসফিসিয়ে বললো।

“বস , ম্যাম জায়গা মতো পৌঁছে গেছে।”

স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো আফরিদ। সে কখনোই চায় না ন্যান্সি কে কেউ দেখুক , চিনুক। তারপরেও তো জেনে গেছে মনস্টার গুলো সে বিয়ে করেছে।

ভেতরে প্রবেশ করতেই একে একে সবার সাথেই দেখা হলো আফরিদের।‌ অবশেষে মুখোমুখি হলো আফরিদ এহসান এবং মারকো। মারকো ওষ্ঠো বাঁকিয়ে হেসে হ্যান্ডশেক করতে হাত বাড়িয়ে দিলো। আফরিদ হাতে হাত মেলায়।‌ পরক্ষণেই ঈশানের উদ্দেশ্যে বলল।

“আবে মা’ঙ্গের নাতি হাতে নোংরা লেগে গেছে এখুনি ধুতে হবে ,লাল পানি নিয়ে আয়।”

ঈশান টিটকারী মার্কা হাসিটা টেনে ওয়াইনের বোতল টা এনে হাতে ঢালে আফরিদের। ঘোর অপমানিত হলো মারকো। কিছু বলতে নিলে হাতের ইশারায় থামিয়ে দিলো কিম লিওন।
আফরিদ এহসানের সাথে বড়বড় ডিল রয়েছে তাদের। সেগুলো একবার ক্যানসেল করে দিলে কোটি কোটি টাকার প্রজেক্ট লস হবে। আর এই মারকোর শত্রুতার জন্য নিজেদের লস করবে নাকি?

ডেভিল ওয়াইনের গ্লাসে চুমুক দিয়ে বলল।
“দেন? এভরিওন টুগেদার এগেইন।”

আফরিদ সিগারেট ধরালো , লম্বা টান দিয়ে বলল।
“টাইম ওয়েস্ট।”

কিম জং মাঝখান থেকে আফরিদ কে খোঁচা মে রে বলে।

“ডিড দ্য গ্রেট মাফিয়া কিং ফাইনালি গেট ম্যারিড?”

আফরিদ সুঁচালো দৃষ্টিতে তাকালো। মারকো একটা পৈশাচিক আনন্দ পেলো তাকে দেখে। আফরিদ বিরক্তিকর কন্ঠে বলল।

“অন্যের পাছা না দেখে নিজের পাছায় নজর দিলে উন্নতি করতে পারতি মারকো।”

তীব্র ক্রোধে মস্তিষ্ক ফেটে যাচ্ছে মারকোর।
“দিস ইজ টু মাচ এহসান। মাফিয়ার মুখে শেষমেষ এসব ভাষা?”

আফরিদ বাঁকা হেসে আওড়াল।
“তাহলে তোর ভাষাতেই বলছি। ইউর নেচার ইজ টু গেট ফা’কড বাই এভরিওয়ান।”

রাগান্বিত স্বরে বলে উঠে মারকো।
“ফা’কিং রাবিশ।”

আফরিদ প্রচন্ড বিরক্ত ,একে একে বিজনেস ডিল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আফরিদের হাতে ট্যাব রয়েছে। নিচের দিকে তাকিয়ে আছে আফরিদ , ন্যান্সির হাস্যোজ্জ্বল মুখখানি দেখছে। আশেপাশে অনেক গার্ড।‌ ন্যান্সি কে হাসছে , আশেপাশে ঘুরছে। পাশে অনেক গুলো গার্ড তাকে পাহারা দিচ্ছে।
পাহাড়ি এই জায়গাটা ভীষণ মনে ধরেছে ন্যান্সির।
কিন্তু আফরিদ কে খুঁজে পাচ্ছে না। লোকটা বলেছে মাত্র দু ঘন্টা , এরপর আসবে সে।

একজন গার্ড আইসক্রিম বক্স হাতে এগিয়ে এলো।

“ম্যাম টেক ইট।”

ন্যান্সি এক গাল হেসে আইসক্রিম টা নিয়ে নিল।
“থ্যাংক ইউ।”

এতক্ষণ ধরে ডিসকাশন করেও লাভ হলো না। আফরিদ মাঝখান থেকে বলে উঠে।
“ডিল ক্যানসেল। প্ল্যান টা পুরোই ফালতু।

মারকো তীব্র রাগ নিয়ে বলল।
“মাস্টার প্ল্যান এটা ,আর তুমি বলছো ফালতু?”

আফরিদ বিরক্তিকর কন্ঠে বলল।

“কিম জং আমি যার তার সাথে ডিল করি না।”

প্ল্যান টা যেহেতু মারকো দিয়েছে তাই আফরিদ রিজেক্ট করেছে সেটা বেশ ভালোই বুঝতে পারছে সে।‌

“হোয়্যাট’স দ্য প্রবলেম?”

ঈশান কে ইশারা করতেই ঈশান বলল।
“রাশিয়ায় অলরেডি হাজার টা ট্রলার রয়েছে, তাহলে শুধু শুধু এগুলো কেন রাশিয়ায় নিতে হবে?”

আফরিদ চ বর্গীয় শব্দে বলে।
“এই ট্রলার পাঠাবে কে?”

মারকো থমথমে মুখ করে বলল।
“আমার লেফট হ্যান্ড কার্লোস।”

আফরিদ আচানক ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো।
“ঈশান তুই আমার রাইট হ্যান্ড নাকি লেফট হ্যান্ড?”

ঈশান বিড়বিড় করে আওড়ালো।
“রাইট হ্যান্ড বস।”

আফরিদ খিকখিক করে হেসে বলল।
“ভালো হয়েছে লেফট হ্যান্ড হোসনি, না হলে পাছা ধুয়ার কাজে আসতি।”

হো হো শব্দে ঈশান আর আফরিদ হেসে উঠলো।মারকো কে নিয়ে প্রায় সবাই বেশ মজা উড়ালো।

চলবে……….।✨

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply