অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ২৮]
লেখিকাফারহানানিঝুম
(🚫 এই গল্পের কোনো দৃশ্য, সংলাপ, প্লট অনুপ্রাণিত হয়ে কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)
নতুন সবজির বস্তা গুলো আজকে ট্রালারে তোলা হয়েছে , সেগুলো যাবে বর্ডারের দিকে। ওখানে আবার কড়া পাহারা চলেছে। সবাই কে ম্যানেজ করে ওপারে পাঠাতে পারলেই কেল্লা ফতে।
আজকে লোক গুলো একে অপরের সাথে আলোচনা করছে। আলিফ নামের ছেলেটাকে মে রে নদীর ধারে নাকি ফেলা হয়েছিল। তাদের গ্রামের লোকজন তাকে ধরে নিয়ে গেছে বাড়িতে। তার মায়ের আহাজারি সবটা এখনো কানে বাজে।
সদ্য গোডাউনে পা রেখেছিল নীলাদ্রি। আলিফ নামটা কানে যেতেই বাজপাখির দৃষ্টিতে তাকালো তাদের দিকে। লোক গুলো নীলাদ্রি কে দেখা মাত্রই নিজের কাজে চলে গেল একে একে।
রহস্যময় কন্ঠে আওড়াল।
“বেশী বাড় বাড়লে এভাবেই শেষ হয়ে যেতে হয়। কথায় আছে না পিপীলিকার পাখা গজায় ম’রিবার তরে।”
ওষ্ঠো বাঁকিয়ে হাসলো নীলাদ্রি।
🌿____🌿
(হল রং ২)
জারা বো’ম্বা
ধূসর ঘরে নিস্তব্ধতার গাঢ় চাদরে ঢাকা পড়ে আছে এক অমোঘ সৃষ্টি। মানুষের বুদ্ধি, অবিরাম পরিশ্রম আর অদম্য একগুঁয়েমির পরিণতি জারা বো’ম্বা।
এ যেন নিছক ধাতুর দেহ নয়, যেন অগ্নি তিলক। অদৃশ্য শক্তির অবারিত বিস্ফোরণকে নিজের ভেতরে বেঁধে রেখেছে সে।
বছরের পর বছর জ্বা’লামুখের মতো চিন্তা অগ্নিতে পোড়া সায়েন্টিস্ট মিস্টার আলবার্ট এবং মিস্টার কামাল এর পরিশ্রম ভুল বললাম , শুধু তাদের জন্য আরো অনেক গুলো বিজ্ঞানী রয়েছে হলে। যারা মিলে সবটা করেছে। যাদের বাধ্য করা হয়েছে এটা করতে। চোখে আজ স্বস্তি ও শিহরণ মেশানো এক অদ্ভুত অনুভূতি। তাদের শ্রম, যন্ত্রণা, অবিরাম রাতজাগা ঘাম ও নিস্তরঙ্গ আত্মত্যাগ মিলেমিশে যেন এ এক ভয়াল মহাকাব্যের রূপ নিয়েছে।
দৈর্ঘ্য: প্রায় ৮ মিটার (২৬ ফুটের মতো)
ব্যাস: প্রায় ২.১ মিটার (৭ ফুটের মতো)
ওজন: প্রায় ২৭ টন
জারা বো’ম্বা এই তো পড়ে আছে কোণের একপাশে। কিন্তু তার সেই নীরবতা আর স্থিরতা ভ্রান্তিমাত্র সে নিস্তব্ধ আগ্নেয়গিরি, যে জানে, একবার জেগে উঠলেই আলোকে ছাপিয়ে অন্ধকারের সাম্রাজ্য গড়ে তুলবে। তারা করতো না এত কিছু ,বাধ্য করা হয়েছে তাদের।
“অ্যাট লাস্ট, আওয়ার ওয়ার্ক হ্যাজ কাম টু অ্যান এন্ড, মিস্টার অ্যালবার্ট।”
মিস্টার আলবার্ট মলিন আদতেও কি কাজ শেষ হয়েছে? নাকি নিতান্তই ভ্রান্ত ধারণা সেটা! খুব সহজে তো অপরিচিত লোকটা তাদের ছাড়বে না?
“আই ডোন্ট নো, কামাল, হ্যাজ আওয়ার রেসপন্সিবিলিটি রিয়েলি কাম টু অ্যান এন্ড?”
মিস্টার কামাল আতঙ্কিত হলেন। কম্পিত স্বরে বললেন।
“আফটার দিস, হি ইজ সাপোজড টু লেট আস গো।”
ম্লান হাসছেন মিস্টার আলবার্ট , কখনো কি দেখা গেছে এই আত’ঙ্কবাধি লোক গুলো কাউকে ছেড়ে দিয়েছে? হয়তো তাদের কে ছাড়বে না।
মন্টু দাস এবং গোলাম মোস্তফা হল নাম্বার এক থেকে ধীর পায়ে হল রুম দুইয়ে গেল।
তাদের সাথে আরো কিছু গার্ড।
“কি রে বৈজ্ঞানিকরা কেবা আছো তোমরা?”
মন্টু দাসের বিশ্রী কন্ঠে কথা টা শুনে বিতৃষ্ণা নিয়ে তাকালেন মিস্টার আলবার্ট , সবাই বোধহয় মনে করে তিনি বাংলা জানেনা। কিন্তু মিস্টার আলবার্ট খুব ভালো ভাবেই বাংলা বুঝেন।
মন্টু দাসের খিকখিক হাসি যেন খড়খড়ে বাঁশির মতো ঘরের শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে এলো। তার চোখের কোণে ঝিলিক মারা নিষ্ঠুরতা দেখে চারদিকের দেয়াল মুহূর্তেই ভারী হয়ে উঠলো।
“তোগো কাজ তো শেষ রে বৈজ্ঞানিকরা এবার তোদের যাওনের পালা।”
শব্দগুলো যেন শীতল ছু’রির ফলার মতো গেঁথে গেলো মিস্টার কামালের বুকে।
কামাল প্রশ্নবিদ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো, অথচ মুখে কোনো শব্দ ফুটলো না। তার পাশে দাঁড়ানো গোলাম মোস্তফা ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত বাঁকা হাসি টেনে নিয়ে ভুঁইয়াকে উদ্দেশ্য করে হুকুম দিলো।
“ওরে ভুঁইয়া, সায়েন্টিস্টদের জন্য খাবার রেডি কর। আজকে ওদের খাতির যত্নের দিন।”
কিন্তু সেই কথার ভেতরে মিশে ছিল এক অদৃশ্য বিষ খাতির যত্নের আড়ালে মনে হলো মৃ’ত্যুর ভোজের আহ্বান।
মিস্টার আলবার্ট আর মিস্টার কামালের কপালে অদ্ভুত ভাঁজ পড়লো। অশরীরী অশনি সংকেতের মতো বুকের ভেতর ধপধপ করে বাজতে লাগলো আতঙ্কের দা’মামা। তারা দু’জনই বুঝতে পারলো এখানে কিছু ভয়ানক ঘটতে যাচ্ছে।
মিস্টার আলবার্ট লম্বা নিঃশ্বাস টেনে শুধান।
“ওয়্যার ইজ ইয়োর বস?”
গোলাম মোস্তফা ক্ষীণ হেসে বলল।
“হি উইল কাম, হি উইল কাম, দ্য বস উইল কাম ভেরি সুন।”
মিস্টার আলবার্ট প্রত্যুত্তরে কিছু বললেন না ,এক পলক তাকালেন মিস্টার কামালের ভয়ার্ত মুখ পানে। লোকটা ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকে সর্বক্ষণ। বাঁচতে চায় একটুখানি প্রাণ খুলে বাঁচতে চায়।
🌿——————–🌿
সকাল সকাল খাওয়া শেষে ব্যাগ নিয়ে বাইরে বেরিয়েছে ফাহমিদা। ওই তো গাড়ি রাখা , কিন্তু আজকে মোটেও ইচ্ছে করছে না গাড়ি নিয়ে যেতে। কিন্তু গাড়ি ছাড়া, গার্ড ছাড়া যাওয়ার উপায় নেই। যে করেই হোক তাদের সাথে রাখতেই হবে এটা তার ভাইয়ের আদেশ। আর আফরিদের আদেশ মানে মান্য করতে বাধ্য।
ফাহমিদা বরাবরের মতো গাড়িতে উঠে বসলো। ড্রাইভার তাকে কলেজের থেকে কিছুটা দূরে নামিয়ে দিলো।
ফাহমিদা ড্রাইভারের উদ্দেশ্যে বলল।
“আপনি বিকেলের দিকে আসবেন , আমার ক্লাস আছে অনেক গুলো।”
বয়স্ক ড্রাইভার মৃদু স্বরে বলল।
“ওকে ম্যাম।”
ড্রাইভার গাড়ি ঘুরাতেই ফাহমিদা উল্টো পথ ধরলো। তার মোটেও ইচ্ছে নেই কলেজে যাওয়ার। আজকে একটু ক্লাবে যাবে সে ,তার ফ্রেন্ড গুলো কে ডেকেছে ক্লাবে।
কিছুটা দূরেই গোলাপী আকাশের নিচে গুলশান-২-এর কেমাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের এক কোণে অবস্থিত SKYe Lounge Bar। এটি একটি আধুনিক ও চমৎকার রুফটপ লাউঞ্জ, যেখানে ঢাকার আকাশের নিচে বসে শহরের রূপালি আলোয় ডুবে যাওয়া যায়। ফাহমিদা ওদিকটায় চলে গেল। তার বন্ধু মহল ওখানেই থাকবে। অবশ্য বলে আসলে ক্ষতি হতো না , কিন্তু ফাহমিদা চায় না তার সাথে গার্ড আসুক আজকে।
লাইটিংয়ের নরম আভা, সুরেলা সঙ্গীতের মূর্চ্ছনা, এবং সুস্বাদু ককটেল ও খাবারের মিশ্রণে সবটা অন্যরকম হয়ে উঠেছে। এখানে বসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো, অথবা একা একা শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। লাইভ মিউজিকের সুরে ক্লাবটি জীবন্ত হয়ে ওঠেছে এবং মাঝে মাঝে থিম-নাইটের আয়োজন হয়, যা রাতের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
ফাহমিদা ঢুকতেই আশেপাশে তাকিয়ে দেখে এখনো পাগল গুলো আসেনি। বড় বিরক্ত দেখালো তাকে। আচানক একটা অপরিচিত লোকের সঙ্গে ধাক্কা খেলো ফাহমিদা। পড়তে পড়তে বেঁচে গেল সে ,বাহু আঁকড়ে ধরেছে লোকটা। হাঁসফাঁস করলো ফাহমিদা। সুদর্শন যুবক । ফাহমিদা লোকটাকে চিনে না ,সোজা হয়ে দাঁড়ালো সে। মৃদু হাসার চেষ্টা করে বলল।
“থ্যাংক ইউ সো মাচ। আপনি না ধরলে এখুনি পড়ে যেতাম।”
লোকটা হাসলো। হাত বাড়িয়ে দিলো হ্যান্ডশেক করতে।
“হাই আমি পৃথ্বী।”
ফাহমিদা স্বল্প হেসে বলল।
“আমি ফাহমিদা এহসান।”
🌿_______🌿
কাইট্যান ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছে , একমাত্র আফরিদের জন্য। ন্যান্সি প্রচন্ড রেগে আছে এই নষ্ট পুরুষের উপর। আচ্ছা কেউ কি কখনো শুনেছে আদতেও কোনো মানুষ বিড়ালের উপর জেলাস হয়?
অবশ্যই হয় সেটা আফরিদ এহসান কে না দেখলে বোঝা যেতো না।
সদ্য শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে এসেছে ন্যান্সি ,চুল গুলো মুছে বিছানায় গেল। কাইট্যান বিছানায় রয়েছে ,কাছে গিয়ে বসতেই ম্যাও ম্যাও করতে করতে তার কোলে চলে এলো। ম্যাও ম্যাও করে বোধহয় বলতে চাইছে।
“আম্মা খচ্চ’র আব্বা আমারে মেরে ফেলার ধান্দা করছে। তুমি কিন্তু মোটেও ওই বেডার ধারেকাছে যাবে না।”
ন্যান্সি বুঝলো না অবলা প্রাণীর কথা। মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে ঝুঁকে চুমু খেলো।
কাইট্যান কে রেখে ড্রেসিং টেবিলের সামনে গেল ন্যান্সি ,সকাল থেকে পা দু’টো ব্যথায় ছিঁড়ে যাচ্ছে। হাঁটাহাঁটি করলেও তো আগে পা ব্যথা করতো না। আগে কেক ডেলিভারি করতে যেতো কত দূরে। কিন্তু এখানে বসে থেকে থেকে পায়ে ব্যথা করছে তার। ড্রয়ার হাতড়ে কোনো রকম বাম পেলো না। রাগ লাগছে তার। শরীরে কোনো রকম ব্যথা স’হ্য করতে পারে না। বিশেষ করে মাথা, হাত পা ব্যথা। পা দুটো ছিঁড়ে যাচ্ছে রীতিমতো।
নিশুতে স্টাডি রুমের নীরবতা, বাতাসের নরম নড়াচড়া আর দূরের শহরের ক্লান্ত আলো সব মিলিয়ে যেন এক অভ্যন্তরীণ পৃথিবী গড়ে তুলেছে। ল্যাপটপের নীল আলোতে মৃদু ঝলমল করছে আফরিদের নীলাভ চোখ। তার কপাল কুঁচকে, মুখের ভাঁজে ছোট ছোট চিন্তার রেখা স্পষ্ট। এক হাতে নরম গ্রিন টি কাপ ধরা, অন্য হাতে কীবোর্ডে দ্রুত হাত চলাচল করছে প্রতি ক্লিকে সেই ঘন্টা দু’য়ের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কথা প্রতিফলিত হচ্ছে।
কাঁচের দরজাটা হালকা শব্দে আফরিদ ঘুরে তাকায় না। কিন্তু স্টাডি রুমের পাশে দাঁড়ানো রমণীর চোখে প্রতিটি ছোটো মুহূর্তকে নীরবে পর্যবেক্ষণ করছে। তার কৌতূহল, ধৈর্য আর সামান্য অবিশ্বাস সব মিলিয়ে এই দুই ঘন্টা ধরে কনফারেন্সের গুরুত্বকে ছাপিয়ে যায়। সে বের হতেই চায় না, যেন আফরিদ তার উপস্থিতি বুঝতেই পারছে না। কপাল কুঞ্চন করে ভেতরে প্রবেশ করলো ন্যান্সি। পরণে লেইস টপ আর স্কিনি কালারের প্যান্ট পড়েছে ন্যান্সি।
ন্যান্সি ছোট ছোট পা ফেলে ভেতরে গিয়ে আফরিদের পাশের কাউচের উপর বসলো। আফরিদের পরণে একটা সাদা রঙের শার্ট , উপরের দু’টো বোতাম খুলে রেখেছে উঁকি দিচ্ছে ট্যাটু টা। আর একটা প্যান্ট। ক্ষণিকের জন্য বাইরে গিয়েছিল কিন্তু এসে ফ্রেশ হয়নি পর্যন্ত। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ল্যাপটপের দিকে। সেন্টার টেবিলের উপর রাখা ল্যাপটপের দিকে তাকালো ন্যান্সি। নিজের হাতে নিজের পায়ে ঘষতে লাগলো। ব্যথায় ম’রে যাচ্ছে সে।
গ্রিন টি কাপে চুমুক দিয়ে পাশে রেখে দিল আফরিদ। ল্যাপটপ টা সরিয়ে দিলো। ন্যান্সি লম্বা ভাবে পা মেলে দিলো। আফরিদ টেবিলের উপর থেকে পা টেনে নিজের কোলে টেনে নেয়। একটু একটু করে মালিশ করতে লাগলো। কখনো এই পা তো কখনো ওই পা টিপে দিচ্ছে। ন্যান্সি আশ্চর্য চোখে দেখছে ফর্সা সুন্দর লোকটাকে। সে তো বলেনি পায়ে ব্যাথা করছে? আর লোকটা তো তার দিকে তাকায়নি পর্যন্ত একটিবার।
আফরিদ ল্যাপটপে বাঁ হাত চালাতে চালাতে ডান হাতে টিপে চলেছে ন্যান্সির পা। আফরিদের একটা দারুন গুন রয়েছে। লোকটা দু হাতেই কাজ করতে পারে। ন্যান্সি কাউচে মাথা এলিয়ে দিয়েছে।
খুব ইচ্ছে করছে বলতে আমাকে মামুন হায়দারের সাথে দেখা করান। আমি আমার পালিত মা বাবা কে মিস করছি।
কিন্তু ভয়ের চোটে বলতে পারলো না। বললেই রেগে যাবে।
দীর্ঘ সময়ের কনফারেন্স শেষ হলো তার। ল্যাপটপের শাটার অফ করে পাশে রেখে দিলো। এবারে দুহাতে টিপে দেয় ন্যান্সির পা জোড়া। ন্যান্সি উঠে বসলো ঠিক করে। আরেকটু এগিয়ে গিয়ে ,আফরিদ আর ন্যান্সির দুরত্ব এক হাতের হবে। আফরিদ মুখ নিচু করে পায়ের পাতায় চুমু খেলো
শিউরে উঠে ন্যান্সি অনাঙ্ক্ষিত স্পর্শে মুচড়ে যায়। যা বাবা কেউ কিভাবে অনায়াসে পায়ে চুমু খেতে পারে? আচ্ছা খারাপ লাগছে না?
আফরিদ মৃদু স্বরে শুধোয়।
“খুব ব্যাথা?”
ন্যান্সি উপর নিচে মাথা দোলায় , তবে ব্যাথা টা কমে এতক্ষণ ধরে টিপে দিয়েছে লোকটা।
আফরিদ একটানে কোলে নিয়ে এলো ন্যান্সি কে। ঘটনার আকস্মিকতায় চমকে উঠে ন্যান্সি। বুকের ভেতর অপ্রতিরোধ্য দামামা বাজছে। গোল গোল করে তাকালো আফরিদের দিকে।
“এত আদর আদর কেন?”
আচ্ছা কেউ কিভাবে আদর আদর হতে পারে? মাঝে মধ্যে বলবে মিঠা মিঠা ঘ্রাণ। আচ্ছা আদতেও কি ঘ্রাণ কখনো মিঠা হয়? ন্যান্সির কি হলো আফরিদের কোঁকড়ানো চুল গুলো মুঠো করে ধরে।
“আমরা এখানে কতদিন থাকব?”
আফরিদ চমৎকার হাসলো। ন্যান্সির নাকে নাক ঘষে বলে।
“কাজ আছে,আরো কিছুদিন।”
ন্যান্সি হাসে ,আফরিদ কে শান্ত ভালো লাগছে না। একটুখানি জ্বালাতন করা যাক।
“আপনি আবার আমার পা মালিশ করুন আমি ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেই।”
আফরিদ ঠোঁট কামড়ে হাসে , রসিকতা করে বলে।
“ওরে মাতারি আগে বলবি না পায়ের সাথে সাথে অনেক কিছুই মালিশ করমু সেটাও ভিডিও কর তারপর ভাইরাল।”
লজ্জায় ফোঁস ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো ন্যান্সি। জব্দ করতে গিয়ে নিজেই জব্দ হয়ে গেল।
“এ কোনো সাধারণ আফরিদ নয় লা, এটা ঠোঁটকাটা গালিবাজ আফরিদ এহসান।”
আফরিদ ন্যান্সির হাতে অসংখ্য চুমু খায় , চুমুতে চুমুতে ভরিয়ে দিল তার হাত।
ন্যান্সি আচমকা বলে উঠলো।
“ওই কারেন্টের মেশিন,এত পাওয়ার কোথা থেকে পান?”
আফরিদ ন্যান্সি কে কোলে নিয়েই দাঁড়িয়ে পড়ে।ঘোর লাগা কন্ঠে বলে।
“তোর ভেতরের কারেন্ট র’ক্তে চলে আসছে,তাই তো মিলেমিশে কারেন্ট স্কয়ার হয়ে গেছে তাই এত পাওয়ার। চলেন পাওয়ার কমাই।”
“ছিহ্ অ’শ্লীল।”
আফরিদ তেতে উঠল।
“আমার বউ অ’শ্লীল।”
আফরিদ ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে ন্যান্সি কে অশ্লীল বলে দিলো।
“আমি মোটেও অ’শ্লীল নই, আপনি যে অ’শ্লীল সেটার প্রমাণ এখুনি দিলেন।”
আফরিদ হাসি হাসি চোখ করে তাকালো ন্যান্সির দিকে। মেয়েটা কথা বলার সময় মুখের একেক রকম ভঙ্গিমা তৈরি করে যেগুলো দেখলেই আদুরে লাগে। বুকের অনূভুতির ঝড় উঠেছে, শিহরণ তুললো সর্বাঙ্গে। নজর গেল তার মেয়েলি ওষ্ঠো জোড়ায়। গোলাপী রঙা ওষ্ঠো জোড়া একটুখানি ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে করলো। আফরিদ ন্যান্সি কে সোফায় দাঁড় করিয়ে দিলো, ন্যান্সি প্রশ্নবিদ্ধ নয়নে তাকালো তার দিকে। আফরিদের ঠোঁট বাঁকে। ডান হাতের ছোট আঙ্গুল বাড়িয়ে বলল।
“চল একটা গেইম খেলি। যে আগে আঙ্গুলে আঙ্গুল ছুঁইয়ে স্ট্যাচু বলতে পারবে সে জিতবে আর অপরজন স্ট্যাচু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।”
ন্যান্সি এর আগেও অনেকবার এই গেইম খেলেছে, মুর্তি বানিয়ে অনেকক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখা যায়। মনে মনে ছক কষছে এখুনি আফরিদ কে স্ট্যাচু বানিয়ে পুরো রাত দাঁড় করিয়ে রাখবে।
“ঠিক আছে।”
ন্যান্সি আর আফরিদ আঙ্গুলে আঙ্গুল ছুঁয়ে একে অপরকে স্ট্যাচু বলে অথচ আগে বলল আফরিদ। ন্যান্সি মানলো না, চিটিং হয়েছে বলে আবারো করলো। এবারেও আফরিদ জিতেছে অথচ সে মানলো না। তৃতীয় বারের মতো আঙ্গুল ছোঁয়াতেই আফরিদ স্ট্যাচু বলে ফেলল ফলস্বরূপ স্ট্যাচু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে তাকে। চোখের পাতা ফেলাও নিষেধ। আফরিদ লম্বা দম নিয়ে বলল।
“সামান্য একটা চুমু খাওয়ার জন্য স্ট্যাচু স্ট্যাচু খেলতে হচ্ছে। আফরিদ এহসানের ভাগ্য খারাপ,কই হ্যান্ডসাম আমাকে এসে জড়িয়ে ধরে চুমু খাবি তা না করে তোর সাথে খেলতে হচ্ছে তাও আবার চুমুর জন্য।”
ন্যান্সি আহাম্মক বনে গেল, নড়তে চাইলে, আফরিদ দু’হাতে মাথাটা শক্ত করে চেপে ধরে বলল ।
“স্ট্যাচু না তুই? নড়াচড়া নিষেধ। নড়লে মাইর একটাও নিচে পড়বে না বলে দিচ্ছি।”
চোখ রাঙালো আফরিদ, কথাটা বলেই ওষ্ঠোদ্বয় নিজের আয়ত্তে টেনে নেয়,তাও আবার খুব জলদি। ন্যান্সি নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেছে মনে হয়। তার চারিদিকে যেনো পৃথিবী ঘুরপাক খাচ্ছে। ন্যান্সি স্তব্ধীভূত হয়ে যায়। আফরিদ দুমিনিটের মাথায় সরে এলো,সহসা তাকে ইচ্ছে মতো কিল ঘুষি বসাতে লাগল ন্যান্সি।
“অস’ভ্য লোক, অস’ভ্য আপনি আমাকে মিথ্যে বলে এসব করেছেন। গেইমের নাম করে অসভ্যতামো করছেন?”
আফরিদ হেসে ফেলল, দু’হাতে রাগান্বিত বউটাকে জড়িয়ে ধরে। আদুরে গলায় বলল।
“এত রাগছিস কেন? এমনি চাইলে তো দিতি না? উফ্ এত মেজাজ,হট হট মেজাজ ঠান্ডা করতে কুল কুল আফরিদ আছে তো।”
ন্যান্সি জোরাজুরি করলো কিন্তু আফরিদ ছাড়লো না, দু’হাতে জড়িয়ে ধরে আছে। ন্যান্সি রাগে ফুঁসছে। আফরিদ মজা নিচ্ছে তত তার রাগ বাড়ছে। আফরিদ চুলের ভাঁজে চুমু এঁকে বলে।
“একটু শান্ত থাক,এত নড়ছিস কেন?”
ন্যান্সি রাগে কামড় বসিয়ে দিল তার হাতে, দাঁতে দাঁত পিষে বলে।
“আপনার ঠোঁট দুটো আমি সেলাই করে দেব একদিন। শয়তা’ন। নির্লজ্জ।”
আফরিদ বিড়বিড় করে বলল।
“যা বাবা একটা চুমু খেয়ে শান্তি নেই নির্লজ্জ বলছে,আর কিছু করলে তো বলবে পৃথিবীর সেরা নির্লজ্জ আমি! ধ্যাত বা”।
চলবে………।✨
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৫
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৫(প্রথমাংশ +শেষাংশ)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৯(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২০
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৬
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১০
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩১